বৈশ্বিক মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) মোকাবলা করে জীবন-জীবিকার ওপর প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ শ্লোগান সম্বলিত ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট সংসদে পাস হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল গত ৩ জুন জাতীয় সংসদে এ বাজেট পেশ করেন। তিনি সেদিন পাওয়ার পয়েন্টে প্রস্তাবিত বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ দিক, সরকারের পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব তুলে ধরেন।
বুধবার বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীগণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।
এসব মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধীদলের ১২ জন সংসদ সদস্য মোট ৬২৫টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খাতের ৩টি মঞ্জুরী দাবিতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।
ছাঁটাই প্রস্তাবে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, রুস্তম আলী ফরাজী, পীর ফজলুর রহমান, মজবিুল হক, রওশন আরা মান্নান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিএনপির হারুনুর রশীদ, মোশাররফ হোসেন, রুমীন ফারহানা এবং গণফোরামের মোক্কাবির খান।
এরপর সংসদ সদস্যগণ টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২১ পাসের মাধ্যমে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন।
বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। কর বহির্ভুত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। শিল্পে, রাষ্টায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকে আর্থিক বিনিয়োগ সহায়তা, ভর্তুকি খাতে ৩৪ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা, সুদ পরিশোধ বাবত ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।
এছাড়া বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ ১ লাখ ৭০ হাজার ৫১০ কোটি টাকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে ১ লাখ ৮৪৭ কোটি টাকা, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো খাতের মধ্যে কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৭৪ হাজার ১০২ কোটি টাকা, যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ৬৯ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ২৭ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর বাইরে সাধারণ সেবা খাতে ১ লাখ ৪৫ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেটে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬.২শতাংশ। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা আহরণ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ৩৭ হাজার ১ কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫.৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের এ মেয়াদের তৃতীয় বাজেট। আর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালেরও তৃতীয় বাজেট। বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে এবার সংক্ষিপ্ত পরিসরে বাজেট পেশ এবং পাস করা হয়। বাজেট পাসের সময় সংসদ সচিবালয়ের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক সংসদ সদস্য বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশন কক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আসন বিন্যাস করা হয়।
বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে মোট বাজেটের ১৫.৭ শতাংশ, পরিবহন-যোগাযোগ খাতে ১১.৯ শতাংশ, সুদ খাতে ১১.৪ শতাংশ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৭ শতাংশ, জনপ্রশাসন খাতে ১৮.৭ শতাংশ, প্রতিরক্ষা খাতে ৬.২ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে ৫.৪ শতাংশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৫.৭ শতাংশ, জনশৃঙ্খখলা ও নিরাপত্তা খাতে ৪.৮ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪.৫ শতাংশ, কৃষি খাতে ৫.৩ শতাংশ, গৃহায়ন খাতে ১.১ শতাংশ, বিনোদন, সংস্কৃতি ও ধর্ম খাতে ০.৮ শতাংশ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস খাতে ০.৭ শতাংশ এবং বিবিধ খাতে ০.৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বাজেটে বৈশ্বিক মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) মোকাবেলার লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ সার্বিক সেবা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।বাসস।
২০২১-২২ অর্থবছরের ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট পাস
শিশু আইন মেনে মাগুরায় মিতু-বাবুল দম্পতির দুই সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ
মাহমুদা আক্তার মিতু ও সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার দম্পতির দুই সন্তানকে শিশু আইন মেনে মাগুরায় জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার ( ৩০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ফেরদৌস আরার আদালত এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন মামলার তদন্তের জন্য মিতু-বাবুল দম্পত্তির দুই সন্তানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতে আবেদন করেন। তখন আদালত ১৫ দিনের মধ্যে তাদের আইওর কাছে হাজির করতে বাবুলের বাবা আব্দুল ওয়াদুদু মিয়া ও ভাই হাবিবুর রহমান লাবুকে নির্দেশ দেন। বাবুল আক্তারের ভাই, মাগুরার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান লাবু করোনার এ সময়ে বাচ্চাদের চট্টগ্রাম আদালতে নিয়ে যাওয়া কঠিন উল্লেখ করে শিশু আইনের বিধান অনুসরণ পূর্বক তাদের মাগুরায় জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশনা চেয়ে চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আবেদন করেন। মিতু-বাবুলের দুই সন্তান মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো ট্রমাটাইজড (আতঙ্কগ্রস্ত)। ঘটনার সময় তাদের বয়স ছিল ৭ বছর ও ৩ বছর। পরে তা শুনানির জন্য চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এ পাঠানো হয়। গত সোমবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ফেরদৌস আরা এ বিষয়ে আংশিক শুনানি শেষে বুধবার তারিখ নির্ধারণ করেন।
শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, শিশু আইনে নির্দেশিত বিধান মোতাবেক তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মাগুরাতে গিয়ে প্রবেশনাল অফিসারের উপস্থিতিতে মাহমুদা আক্তার ও সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার দম্পতির দুই সন্তানের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। অন্য কারো সহয়োগিতা প্রয়োজন হলে নিতে পারবেন। লকডাউনের মধ্যে যদি না পারেন, তাহলে পরে থানার সহযোগিতায় শিশু আইনের নির্দেশিত বিধান মোতাবেক জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সুবিধামতো সময়ে করতে পারবেন। আদালত কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেননি।
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরের পাঁচলাইশ থানার জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় মিতুকে। হত্যাকাণ্ডের পর নগরের পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়, যার বাদী ছিলেন বাবুল আক্তার নিজেই। গত ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন।
পরীমনি কেলেঙ্কারি; মাদক মামলাতেও জামিন পেলেন নাসির
ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পরীমনির করা ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিনের পর এবার বিমানবন্দর থানার মাদক মামলায় জামিন পেলেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ।
বুধবার (৩০ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসীম তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এ মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা রইল না বলে জানান তার আইনজীবী ইমরুল কাউসার।
এর আগে ২৯ জুন সাভার মডেল থানায় করা ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় নাসির উদ্দিন মাহমুদ এবং তুহিন সিদ্দিকী অমির জামিন মঞ্জুর করেন সিজেএম আদালতের বিচারিক হাকিম শাহজাদী তাহমিদা।
গত ১৪ জুন দুপুরে রাজধানীর উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরের-১২ নম্বর রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় ওই বাসায় অভিযানকালে বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এরপর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
সেই মামলায় গত ১৫ জুন নাসির-অমির বিরুদ্ধে মাদক মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন ঢাকার সিএমএম আদাদালতের বিচারক নিভানা খায়ের জেসি।
এর আগে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ১৪ জুন বেলা ১২টার দিকে সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। এতে নাসির উদ্দিন ও অমির নাম উল্লেখসহ আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
অনলাইন কেনাকাটায় সরকারের নির্দেশিকা চূড়ান্ত ; মজুদ ছাড়া আগাম অর্ডার নেয়া যাবে না, পণ্য পাওয়ার পর টাকা পরিশোধ
পণ্যের মজুদ ছাড়া কোন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পণ্য বিক্রির অগ্রীম অর্ডার নিতে পারবে না। এছাড়া ক্রেতা ও বিক্রয়কারি প্রতিষ্ঠান একই শহরের হলে অর্ডার নেয়া পণ্য পরবর্তী ৫ দিন এবং ভিন্ন শহর হলে পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে ডেলিভারি নিশ্চিত করতে হবে।
এসব নির্দেশিকা সংযুক্ত করে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বুধবার ডিজিটাল বাণিজ্য পরিচালনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এটি চূড়ান্ত করা হয়।
বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,বাংলাদেশ ব্যাংক,ই-ক্যাবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকশেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বাসসকে বলেন,‘অনলাইন কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও গ্রাহক প্রতারণা এড়াতে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা নীতিমালায় রাখা হচ্ছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে পণ্যের মজুদ আগে ঘোষণা করতে হবে এবং মজুদ থাকা সাপেক্ষে কেবলমাত্র পণ্য বিক্রির অগ্রীম অর্ডার নেয়া যাবে।’
তিনি জানান, কোন পণ্যের অর্ডার নিলে গ্রাহক একই শহরের হলে ৫ দিন এবং ভিন্ন শহরের হলে পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে ডেলিভারি নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। পণ্য ডেলিভারির আগে বিক্রয়কারি টাকা পাবেন না, বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
হাফিজুর রহমান আরও জানান, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ভেটিংয়ের জন্য বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন,‘অনলাইন পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে কোন বিক্রয়কারি প্রতিষ্ঠানের লটারি করার সুযোগ থাকবে না। সব ধরনের ডিজিটাল ওয়ালেট, গিফট কার্ড, ক্যাশ ভাউচার বা অন্য কোনো মাধ্যম, যা অর্থের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেই সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে করতে হবে।’
ই-কমার্স নীতিমালা ২০২১ এ ডিজিটাল কমার্সের মাধ্যমে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং বা নেটওয়ার্ক ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। ডিজিটাল মাধ্যমে নেশাসামগ্রী, বিস্ফোরক দ্রব্য বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। ডিজিটাল মাধ্যমে ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া বিক্রয়কারি আগেভাগে টাকা পাবেন না। অর্ডার করা পণ্য গ্রাহক হাতে পাওয়ার পরই কেবলমাত্র বিক্রয়কারির একাউন্টে টাকা জমা হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটওয়ে সিস্টেম ব্যবহার করা হবে।
দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে পারবেন না, সংসদে বললেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দেখছেন নেই বলে জানীয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বুধবার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদন মঞ্জুর করে সরকার তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে মুক্তি দিয়েছে। সেখানে বিদেশে না যাওয়ার শর্ত রয়েছে। এখন তা বদলানোর সুযোগ নেই।

“কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে মুক্তি দিতে হলে সেটা আইনের মাধ্যমেই করতে হবে, অন্যভাবে কারো..। এক্ষেত্রে একটা উপায় আছে, তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চাইতে পারে বা ৪০১ ধারায় সরকারের কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন।
“ক্ষমা চাইলে উনারা বিবেচনা করলে ক্ষমা করতে পারেন। আর সেই ক্ষমা চাইতে গেলে অবশ্যই দোষ স্বীকার করে চাইতে হবে।”
বুধবার সংসদ অধিবেশনে বাজেট পাসের আলোচনায় বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদ ও মোশাররফ হোসেন ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবি তোলেন।
পরে সে প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, “উনার পরিবারের সদস্যরা দরখাস্ত করলেন। উনারা দরখাস্তে বলেছিলেন উনাকে বিদেশ নিয়ে যেতে হবে। তাদের আবেদনে আইনের ধারার কথা উল্লেখ ছিল না। ওই আবেদনকে আমরা ৪০১ হিসেবে ট্রিট করে দুটো শর্ত দিয়ে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে মুক্তি দিয়েছি।

“শর্ত দুটি হচ্ছে তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং তিনি দেশে থেকে চিকিৎসা নেবেন। তারা (খালেদা জিয়ার পরিবার) এটা গ্রহণ করেছিলেন। গ্রহণ করে তারা বেগম জিয়াকে জেলখানা থেকে বাসায় নিয়ে যায়।”
বিএনপির নেতারা ‘কথায় কথায় বিদেশ পাঠানোর কথা বলেন’ মন্তব্য করে আইনমন্ত্রী বলেন, “একটি দরখাস্ত যখন নিষ্পত্তি হয়ে যায়, সেটা কী আবার পুর্নবিবেচনা করা যায়? উনারা তো দরখাস্ত করে শর্ত মেনে মুক্ত করে এনেছেন। তারপর এখন বলছেন বিদেশে যেতে হবে। আবার দরখাস্ত করলেন। এটা কী রকম কথা!
“ওই দরখাস্ত তো শেষ (নিষ্পত্তি)। সেটার ওপর তো আর কেউ কিছু করতে পারবে না। ৪০১ এর যে দরখাস্ত হিসেবে সেটা নিষ্পন্ন হয়ে গেছে। ওটা তো মঞ্জুর হয়েছে।”
মন্ত্রী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আইনে ৬টি সাব-সেকশন আছে। এর মধ্যে কোথাও যদি দেখাতে পারেন আবার দরখাস্ত করতে পারবেন, আবার পুনর্বিবেচনা করতে পারবেন, তাহলে আমি আইন পেশায় থাকব না।”
সংসদে বক্তৃতা দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে খালেদাকে মুক্ত করার সুযোগ নেই মন্তব্য করে বিএনপি নেতাদের আইন পড়ে দেখার পরামর্শ দেন আনিসুল হক।
তিনি বলেন, “উনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তো চিকিৎসা পাননি কোথায়? … উনারা এমন নজির দেখাতে পারবেন না যে আমরা বাধাগ্রস্ত করেছি। তাহলে চিকিৎসা পাননি এই কথা বলেন কেন? নিরর্থক পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি করলে তো হবে না।”
আমেরিকা-চায়নার বিখ্যাত ব্রান্ডের হার্ট, কিডনি, যৌনশক্তিবর্ধকের নকল ওষুধ তৈরী হতো কারখানায়, গোয়েন্দাদের অভিযান, আটক ৫
রাজধানীতেই আমেরিকা-চায়নার নামিদামি ব্রান্ডের নকল ওষুধ তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। ভেজাল এই কারাখানায় অভিযান চালিয়ে নকল ওষুধ তৈরির সঙ্গে জড়িত চক্রের একনারীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। এসব কারখানায় এই চক্র আমেরিকাসহ বিখ্যাত ওষুধ কোম্পানীর নামিদামি ওষুধের লেভেল লাগিয়ে হার্ট ,লিভার ,কিডনি রোগের ওষুধ তৈরী করতো। যৌনশক্তি বর্ধকের ওষুধও তৈরী হতো এবং এগুলো আবার বাজারজাতও হতো আমদানি করা পণ্য পরিচয়ে। গোয়েন্দা পুলিশ ভেজাল এই কারখানায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে লুবনা আক্তার (২৬), আনোয়ার কাজী (২৭), রাম চন্দ্র বসাক (৬২), এসএম তাজমুল তারিক (৬৩) ও কনক কুমার শাহা (৫২)সহ ৫ জনকে। উদ্ধার করেছে বিপুল পরিমান ভেজাল ওষুধ।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে Motive Xtra Made in USA, J- Plus Made in USA, Desire S Aksim Lab Bangladesh, Issy R Omega3 Made in Guangzhou China, Cibacal D Made in Guangzhou China, Neogel Max TM Made in Guangzhou China, Neixit TM Made in Guangzhou China, Orcal TM Made in Guangzhou China, Orkid TM Made in Guangzhou China, Impale TM Made in Guangzhou China, Procare Probiotic4 Made in Guangzhou China. নকল ভেজাল ওষুধ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায় ২৮ জুন (সোমবার) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুল, রামপুরা ও মালিবাগে ধারাবাহিক অভিযানে তাদেরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ গুলশান বিভাগের গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম এবং গুলশান জোনাল টিম।
গোয়েন্দারা জানায়,রাজধানীতেই আমেরিকা-চায়না ব্রান্ডের জীবনরক্ষাকারী নকল ওষুধ তৈরি হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে হাতিরপুল, রামপুরা ও মালিবাগে অভিযান চালানো হয়। অনুমোদনহীন এসব কারখানায় নারায়ণগঞ্জ জালকুড়িতে অবস্থিত আয়ুর্বেদিক দাওয়াইখানা থেকে তৈরি বিভিন্ন ট্যাবলেট ও ক্যাপসুলকে কেজি দরে অথবা হাজার পিস ধরে কিনেআনা হয়। পরে তাদের ইচ্ছেমতো জেনেরিক নেইম/ ট্রেড নেইম দিয়ে কখনও হার্টের ওষুধ, কখনো লিভারের ওষুধ, কখনো হাড়ের ওষুধ এবং বেশিরভাগ সময় সেক্সের ওষুধ হিসেবে আমেরিকা অথবা চায়না থেকে আমদানি করা হয়েছে বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা ঢাকার চকবাজার, মিডফোর্ড এলাকা থেকে বস্তা ভরা প্লাস্টিকের সাদা লাল সবুজ রঙের বোতল, সিপি, সিলিকন সংগ্রহ করে। হাতিরপুল, নীলক্ষেত, ফকিরাপুল ও মালিবাগের বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকান থেকে ইংরেজিতে এ্যাম্বুস করে লেখা বিভিন্ন হলোগ্রাম, মনোগ্রাম সম্বলিত ঝকঝকে রঙিন স্টিকার ও লেবেল তৈরি করে। উক্ত লেবেলে (Allex International, Remedy Trade International, Organon Health Care, Ciba International, Corporation Frequient International, S.K.Trade International. SAN Corporation) বিভিন্ন ট্রেড কোম্পানির নামে ইমপোর্ট এবং মার্কেটিং করা হয় মর্মে লেখা থাকে। যার কোন অস্তিত্বই নেই। তৈরিকৃত স্টিকার ও লেবেলগুলোকে ঘরে বসে প্লাস্টিকের বোতলে সেটে দিয়ে কলেজে পড়ুয়া মেয়েদের মাধ্যমে এই সমস্ত তৈরিকৃত ভেজাল ওষুধ গুলশান-বনানী, কাকরাইল, ধানমন্ডি, উত্তরা ও মিরপুরের বিভিন্ন নামিদামি এবং পরিচিত ডিসপেন্সারিতে বিদেশী ওষুধ হিসেবে মার্কেটিং করে থাকে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, দেশের ‘কিছু নীতিহীন ডাক্তার’ উপহার, কমিশন প্রাপ্তির লোভে অথবা রিকুয়েস্টেড হয়ে এসব ভেজাল ওষুধকেই রোগীদেরকে প্রেসক্রাইব করেন।
ভেজাল এসব ওষুধ একটি সিন্ডিকেট ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কক্সবাজার,সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে। এ ঘটনার সসঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযাচন চালাচ্ছে পুলিশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন আমেরিকা এ চায়নার নামিদামি ব্রাণ্ডের ভেজাল এসব ওষুধ খেয়ে অনেকেই শারীরীকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। হার্ট, কিডনি,লিভার নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকেই হারিয়ে ফেলেছেন চোখের দৃষ্টি, যৌনশক্তি।
লক্ষীপুরে পিআইও’র আলমারি থেকে ঘুষের কয়েক লাখ টাকা খোয়া; অভিযোগ, ঠিকাদারদের কমিশনের টাকা ছিলো এগুলো
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপেজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিসের আলমারি থেকে কয়েক লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই টাকার উৎস নিয়ে যেমন প্রশ্ন ওঠেছে তেমনি কতোটাকা খোয়া গেছে তাও পরিস্কার নয়। তবে টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনায় পিআইও তার অফিস সহকারির বাড়ি গিয়ে তল্লাশী ও ভাঙচুর করেছেন। পুলিশ দিয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিয়েছেন। তবে তিনি থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নি। ফলে এই টাকা নিয়ে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। বলা হচ্ছে পিআইও তার আলমিরায় ঘুষের টাকা রেখেছিলেন আর এই টাকাই কেউ হাতিয়ে নিয়েছে। অনেকটা চোরের ওপর বাটপারির মতো।
পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে রামগতির উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কমলনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়মসহ রয়েছে নানা অভিযোগ। গত সোমবার রাতে টাকা চুরির অভিযোগে তার কার্যালয়ের চার কর্মচারীকে থানায় নিয়ে যান। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিলেও মঙ্গলবার সকালে আবার চারজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কত টাকা খোয়া গেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি পিআইও। অর্থের উৎস সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি। ওসি জানান, পিআইও রিয়াদ তার অফিস সহকারী আবদুল বাকেরসহ চারজনকে নিয়ে সোমবার রাত ৯টার দিকে থানায় হাজির হন। তিনি অভিযোগ করেন, কার্যালয়ে তার কক্ষের আলমারি থেকে কয়েক লাখ টাকা গায়েব হয়েছে। এই চার কর্মচারী টাকা চুরি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘রিয়াদ বলেছেন, ঠিক কত টাকা ছিল সে হিসাব তার নেই। কখনো বলেন, ৭ লাখ টাকা, কখনো ১০ লাখ টাকা। রিয়াদ ও চার কর্মচারীকে আলাদাভাবে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর কেউই পরিষ্কার কোনো তথ্য দেননি। কারও সঙ্গে কারও কথাও মেলেনি। এ কারণে চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবার তাদের থানায় আনা হয়।’
ওসি মোসলেহ উদ্দিন আরও বলেন, ‘টাকা চুরির অভিযোগ করলেও রিয়াদ হোসেন কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দেননি। এত নগদ টাকা কোথা থেকে এলো জানতে চাইলে রিয়াদ দাবি করেন, এগুলো বিভিন্ন লাইসেন্স ও কালেকশনের টাকা। তবে সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য তিনি দেননি।’
এসব বিষয়ে জানতে পিআইও রিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে, পিআইওর অফিস সহকারী আবদুল বাকেরের স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, সোমবার বিকেলে রিয়াদ হোসেন নিজেই তাদের বাড়ি গিয়ে টাকা খোঁজার নামে তল্লাশি চালান। এ সময় ঘরের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। এরপর জানতে পারেন যে, তার স্বামীকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
তবে ঠিকাদাররা জানান, টেন্ডারের পে-অর্ডার হয় চেকের মাধ্যমে। ঠিকাদারের সঙ্গে সব লেনদেন হয় চেকে। তার সঙ্গে নগদ লেনদেন হয় না। তবে বিলের চেক সই করতে তিনি যে কমিশন নেন এই নগদ টাকাই খোয়া গেছে। এগুলো ঘুষের টাকা। ঠিকাদারদের অভিযোগ, পিআইও রিয়াদ ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল বা বিলের চেকে সই করেন না। কয়েক দিন আগে কয়েকটি কাজের বিলের চেকে সই করার জন্য কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। তার মূল কর্মস্থল রামগতি উপজেলায়। এখন কমলনগরের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। দুই উপজেলার ঠিকাদার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তার কাছে জিম্মি।
ঠিকাদারদের একজন জানান, বিভিন্ন প্রকল্পের জুন ক্লোজিং-এ প্রকল্প সভাপতি, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যেদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন পিআইও। এসব টাকা তার হয়ে কালেকশন করতেন তার অফিস সহকারী আবদুল বাকের। পরে বাকেরের সঙ্গে ঘুষের টাকা নিয়েই পিআইওর মনোমালিন্য হয়। এর জেরে টাকা গায়েবের ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘পিআইওর অফিসের আলমারি থেকে টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। চারজনকে থানায় ডাকা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি কী, সেটা জানার চেষ্টা করছি। আসলে কিসের টাকা বা কত টাকা সেটাও জানি না।’
পরীমণিকে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টা : নাসির ও অমির জামিন, তবে মুক্তি পাচ্ছেন না
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় জামিন পেয়েছেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু তুহিন সিদ্দিকী অমি।
মঙ্গলবার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার থানার পুলিশ পরিদর্শক কামাল হোসেন।
অন্যদিকে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাদী তাহমীদা তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

তবে নাসির ও অমি দুজনেই বিমানবন্দর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার আছেন এবং অমি মানব পাচার ও পাসপোর্ট জালিয়াতির আরেক মামলায় গ্রেফতার আছেন। ফলে পরীমণির মামলায় জামিন পেলেও তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে গত ২৩ জুন তাদেরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছিলেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসান।
গত ১৪ জুন ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন ও অমির নাম উল্লেখ করে এবং চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে সাভার থানায় মামলা করেন পরীমণি।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরায় তুহিন সিদ্দিকী অমির বাসায় অভিযান চালিয়ে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে ডিবি। অমির বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা, বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়।
সে রাতে ডিবির গুলশান জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার সিকদার বাদি হয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় নাসির, অমিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গত ১৫ জুন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি নাসির ও অমির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১৩ জুন রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার বিচার চান পরীমণি। এরপর বিষয়টি নিয়ে রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরীমনি অভিযোগ করেন, ‘আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। পরে তিনি মামলা করেন।
দুদকের আবেদন; আদালতের নির্দেশে ওসি প্রদীপের সব সম্পত্তি থাকবে ডিসির জিম্মায়
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার আসামি টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রীর জব্দ করা সম্পত্তি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ডিসির জিম্মায় থাকবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ শেখ আসফাকুর রহমান দুই জেলা প্রশাসককে ‘জিম্মাদার’ নিয়োগের আদেশ দেন।
দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এজাহারভুক্ত এসব সম্পত্তি জব্দ করতে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর আদেশ দিয়েছিল একই আদালত।
দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক মাহমুদ বলেন, “দুদকের মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে। ওই মামলায় আগে সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেসব সম্পত্তিতে রিসিভার নিয়োগের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।”
তিনি জানান, চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের জমি, পাথরঘাটার একটি বাড়ি ও দুটি গাড়ি আদালতের আগের আদেশের পরই জব্দ করা হয়। সেসবের ‘রিসিভার’ হিসেবে থাকবেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। আর কক্সবাজারের একটি ফ্ল্যাটের ‘রিসিভার’ থাকবেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক।
সিনহ হত্যা মামলায় প্রদীপ গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত বছরের ২৩ অগাস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায় ওসি প্রদীপের সঙ্গে তার স্ত্রী চুমকি কারণকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রদীপ কুমার দাশ ‘ঘুষ ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গোপন করার জন্য নগরীর কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকার একটি ছয়তলা বাড়ি শ্বশুরের নামে নির্মাণ করেন।
পরবর্তীতে ওই বাড়িটি প্রদীপ দাশের শ্বশুর তার মেয়ে চুমকি কারণের নামে দান করেন। দানপত্র দলিল হলেও বাড়িটি প্রদীপ দাশ ও স্ত্রী চুমকি কারণ কর্তৃক অর্জিত বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা প্রদীপ গ্রেপ্তার হলেও তার স্ত্রী চুমকি এখনও পলাতক।
কক্সবাজারের টেকনাফের কাছে বাহারছড়া চেকপোস্টে গত ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
ওই ঘটনার পর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস গত ৫ অগাস্ট কক্সবাজারের হাকিম আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেখানে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলিকে ১ নম্বর এবং টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।
মামলা হওয়ার পর ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য ৬ অগাস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর প্রদীপকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর হত্যা মামলায় ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় র্যাব। গত ২৭ জুন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।
হুমায়ূন আহমেদের চিত্রকর্ম আত্মসাৎ: দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা করলেন শাওন
জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের চিত্রকর্ম আত্মসাতের অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার স্ত্রী’ মেহের আফরোজ শাওন।
মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি মামলাটি করেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে ২৯ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মেহের আফরোজ শাওন জানান, এ মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে রুমা চৌধুরী ও তার স্বামী মঞ্জুরুল আজিম পলাশকে। মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য আমেরিকার নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় গিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। সেখানে তিনি তার পুত্র নিষাদকে নিয়ে বেশকিছু ছবি এঁকেছিলেন। ওই সময়ে রুমা চৌধুরী ও তার সাবেক স্বামী বই ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ সাহার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সে সূত্রে হুমায়ূন আহমেদ তার আঁকা ২৪টি ছবি তাদেরকে দেন প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য।
যেগুলো ২০১২ সালের জুন মাসে রুমা চৌধুরী জিম্মায় দেওয়া হয়। শর্ত ছিল প্রদর্শনী শেষে তারা ছবিগুলো হু’মায়ূন আহমেদের কাছে ফেরত দিবেন। প্রদর্শনীর দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে রুমা চৌধুরী ও বিশ্বজিৎ সাহার উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিকভাবে ছবিগুলো বিক্রি করে কমিশন লাভ করা এবং পরবর্তীতে ছবিগুলো আত্মসাৎ করে। এভাবে তারা বারবার হুমায়ূন আহমেদকে প্রস্তাব দিলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ছবিগুলো তিনি এঁকেছেন তার নিজের এবং পুত্র নিষাদের আনন্দের জন্য। বিক্রি করে অর্থ লাভের জন্য নয়। এ সময়ে রুমা চৌধুরী গুজব রটান প্রদর্শনীর ২৪টি ছবির মধ্যে ৪টি ছবি হারানো গেছে।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর শাওন দেশে ফিরে আসেন। তিনি রুমা চৌধুরী ও বিশ্বজিৎ সাহার কাছে ছবিগুলো ফেরত চান। বারবার চাওয়া সত্ত্বেও তারা ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করে। পরবর্তীতে অভিনেতা ও তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তির সহায়তায় তারা ২০টি ছবি ফেরত দেন হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজের জিম্মায়। এ ঘটনা ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের। মঞ্জুরুল আজিম পলাশ গত ৩১ মার্চ তার ফেসবুকে কুমিল্লায় লিংকবাংলা শিল্প প্রদর্শনীর বিজ্ঞাপন দেন। ১ থেকে ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে একটি ছবি হুমায়ূন আহমেদের আঁকা ছবি ছিলো। যে ছবিটি হুমায়ূন আহমেদের আঁকা হারিয়ে যাওয়া চারটি ছবির একটি বলে প্রতীয়মান হয়। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় রুমা চৌধুরীর যোগসাজশে মঞ্জুরুল আজিম পলাশ ছবিগুলো অসাধুভাবে আত্মসাৎ করেছেন। যা দন্ডবিধির ৪০৬/৪১১/৪২০/৩৪ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
২০১৫ সালে বিশ্বজিৎ সাহার সাথে বিচ্ছেদের পর দেশে ফিরে রুমা চৌধুরী কুমিল্লায় মঞ্জুরুল আলম পলাশের সাথে থাকতে শুরু করেন। রুমার সাবেক স্বামী বিশ্বজিৎ সাহা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা বইয়ের পাইকারী সরবরাহকারী এবং নিউইয়র্ক বই মেলার আয়োজক।











