ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে কারও প্ররোচণায় হয়রানী করা হচ্ছে না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাধীনভাবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এর অংশ হিসেবেই মি.খোকনসহ তার পরিবারের সদস্যদের ৮টি ব্যাংক হিসাব আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে এই দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন “দুদক স্বাধীন সংস্থা, তারা কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাজ করে না, নিজের প্রয়োজনে অনুযায়ী কাজ করে।“
দুদকের আবেদনে আদালতের আদেশে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) হওয়ার পর সাঈদ খোকন এজন্য বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে দুষেছেন। দুদকের মাধ্যমে ‘হয়রানি’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন খোকন।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসে সাবেক মেয়র খোকন অভিযোগ করেন, “মেয়র তাপস নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তাকে হয়রানি করছেন।“
এরপর বিকেলে এই বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে দুদক সচিব বলেন, “এই রকম কোনো বিষয় নেই।“
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দুদক সব সময় সবার স্বার্থ রক্ষা করে কাজ করে। প্রয়োজন হলে তার স্বার্থ রক্ষা করবে।
“দুদক মানুষকে অযথা বা একচেটিয়া, একদিক থেকে কোনো কিছু করে না।”
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের শুরু থেকেই অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। এই অভিযোগে ইতোমধ্যে মেয়র থাকাকালীন সময়ে তার পিএস ও এপিএসকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।
সাঈদ খোকনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা আছে কিনা, এমন প্রশ্নে দুদক সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, “তদন্তকারী অফিসার প্রয়োজন মনে করলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।”
সাবেক মেয়রের অবরুদ্ধ আটটি ব্যাংক হিসাবে কত টাকা রয়েছে সেই বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি।
দুদক সচিব বলেন, “আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হল- শাহানা হানিফের নামে দুটি, একটি সিটি ব্যাংক, একটি এক্সিম ব্যাংক লিমিটেডে। ফারহানা আলমের নামে একটি, তারপর সাঈদ খোকন প্রপার্টিজ লিমিটেড নামে সিটি ব্যাংকে, ফোর এ প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ন্যাশনাল ব্যাংকে, মেসার্স এইচ এম এস করপোরেশনের নামে সিটি ব্যাংক বনানী শাখা এবং ফাতেমা খাতুনের নামে ব্যাংক এশিয়া বনানী শাখায় একটি। এই আট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।“
দুদুকের আবেদনে আদালত এগুলো অবরুদ্ধ করেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “একাউন্টগুলো ফ্রিজ থাকবে। মনে করা হচ্ছে যে, অতীতে বেশ টাকা পয়সার অস্বাভাবিক লেনদেন আছে। ভবিষতে সেখান থেকে টাকা-পয়সা.. ইয়ে হয়ে যেতে পারে বিভিন্নভাবে।
“অনুসন্ধানের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদন করেছেন এবং আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।”
কারও প্ররোচণায় নয়, সাবেক মেয়র খোকনের বিষয়ে দুদক স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করছে, জানিয়েছেন সংস্থাটির সচিব
ব্যাংক হিসাব জব্দ: তাপসের বিরুদ্ধে ‘প্ররোচনার’ অভিযোগ তুললেন সাঈদ খোকন
দুদকের আবেদনে আদালত ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়ার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন সংবাদ সম্মেলন করে দুষলেন বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে।
খোকনের অভিযোগ, মেয়র তাপস নিজের ‘ব্যর্থতা ঢাকতে’ দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তাকে ‘হয়রানি’ করছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসে সাবেক মেয়র বলেন, “দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের এক আদেশ বলে আমার এবং আমার পরিবারের আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। যে আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আমার এবং আমার পরিবারের সাত কোটি ৬২ লক্ষ ৭৪ হাজার ৬০৩ টাকা রক্ষিত রয়েছে।
“আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই, দুদক আমার এবং আমার পরিবারের কোনো সদস্যকে কোনোরূপ নেটিস প্রদান না করে, কোনোরূপ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আদালতের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে।”
খোকন বলেন, “আমি মনে করি, এহেন কর্মকাণ্ডে আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনের মেয়র তাপস নগর পরিচালনায় তার সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতে আমার প্রতি বিভিন্ন হয়রানিমূলক এবং বিদ্বেষমূলক আচরণ করে আসছে। আমি ও আমার প্রাণপ্রিয় ঢাকাবাসী এবং প্রিয় দেশবাসী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দুদকের এহেন কর্মকাণ্ড তাপসের প্ররোচনায় সংঘটিত হয়েছে।”
দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের একজন উপপরিচালক গত রোববার খোকন ও তার পরিবারের কয়েকজন সমস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করার আবেদন করেছিলেন। ঢাকা মহানগরের একজন জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ ওইদিনই তা মঞ্জুর করেন।
এর মধ্যে সাঈদ খোকনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তিনটি তার মা ফাতেমা হানিফের একটি, বোন শাহানা হানিফের দুটি এবং স্ত্রী ফারহানা আলমের দুটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, ওই ব্যাংক হিসাবগুলোতে ‘অস্বাভাবিক ও বিপুল অংকের অর্থ লেনদেন করা হয়েছে, যা ‘সন্দেহজনক’।
“তাই সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা হস্তান্তর বন্ধ রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।”
ওই ব্যাংক হিসাবের অর্থ এরইমধ্যে ‘স্থানান্তরের চেষ্টা হয়েছে’ দুদকের আবেদনে আদালতে জানানো হয়েছে। তবে সেখানে টাকার কোনো অংক উল্লেখ করা হয়নি।
খোকন তার সংবাদ সম্মেলনে অবরুদ্ধ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে দুদকের প্রতি অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, “বর্তমান করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে আমার এবং আমার পরিবারের ব্যংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকলে আমার ও আমার পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পাওনা বন্ধ হয়ে যাবে। আমার সংসার পরিচালনা দুরূহ হয়ে পড়বে। বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু আমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।
“আমি দুদককে অনুরোধ করব, আপনারা আদালতের মাধ্যমে আমার জব্দকৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়ে আমাকে স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ করে দেবেন, যেটা আমার এবং আমার পরিবারের সাংবিধানিক অধিকার।”
আমাকে মেরে বড় হতে হবে?’
তাপসকে কীভাবে ব্যর্থ মেয়র বলছেন- এমন প্রশ্ন সাংবাদিকরা রেখেছিলেন সাবেক মেয়র খোকনের সামনে।
উত্তরে তিনি বলেন, “এই তাপস কতটুকু ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন এই শহরের মানুষ জানে। কত পার্সেন্ট ভোট পেয়েছেন এই শহরের মানুষ জানে। যাই হোক, ক্ষমতায় আছেন। মানুষের কাজ করেন।
“ঢাকার মরা লাশটার ওপরও ট্যাক্স বসিয়ে দিয়েছে এই মেয়র। ঢাকার মরা মানুষের উপর ট্যাক্স বসিয়ে দিয়েছে। আপনি কীভাবে ভালোবাসা আশা করেন। আপনার ব্যর্থতার দায় ঢাকার জন্য আর মানুষ পান না? বারবার শুধু আমার উপরেই? কেন? কেন? আমার ঢাকাবাসী দাফনের পয়সাটুকু দিতে পারে না। আমি দাফন ফ্রি করে দিয়েছিলাম।
“আজকে আজিমপুরে গিয়ে দেখেন একটা লাশ নামানোর আগে টিকেট লাগে। ব্যর্থ বলব না তো কি বলব? আজকে এই শহরের মোড়ে মোড়ে একটা স্লিপ নিয়ে লোকজন চাঁদা তোলার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। নেয় কি নেয় না?”
বর্তমান মেয়রের সমালোচনা করে সাবেক মেয়র বলেন, “মানুষের কথা শুনে আমি লক্ষ লক্ষ ব্যানার ফেস্টুন ফেলে দিয়েছিলাম। আর সিটি করপোরেশন নিজের নামে ব্যনার ফেসটুন লাগাচ্ছে। নগর পরিচালনা করতে পরেন না, আরো বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখ? আরে তোমার বড় হওয়ার পথে সাঈদ খোকন বাধা নাকি? তুমি বড় হও, তাতে আমার কী? আমাকে মেরে বড় হতে হবে নাকি?
দুদক কীভাবে চলছে, প্রশ্ন খোকনের
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাঈদ খোকন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুদক কীভাবে চলছে তা দেশবাসী ‘জানে’।
“তদন্ত করতে আমার কিংবা আমার পরিবারের কোনো আপত্তি নেই। দুদক তদন্ত করতেই পারে। কিন্তু কারও প্ররোচনায় কোনো দলাদলিতে নিজেকে দুদক জড়াবে, একজন নাগরিক হিসোবে আমি এটা প্রত্যাশা করি না। একজন নাগরিক হিসেবে আমি কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখতে চাই।
“এই শহরের যেমন লক্ষ নাগরিক রয়েছে, কোটি নাগরিক রয়েছে, আমিও একজন সাধারণ নাগরিক। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে যে প্রাপ্য অধিকারটুকু রয়েছে, আমি সেই প্রাপ্য অধিকারটুকু ফিরে পেতে চাই।
দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাবেক মেয়র বলেন, “আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কী সন্দেহ স্পষ্টভাবে বলতে হবে। আরে ভাই, এই শহরে কী হচ্ছে মানুষ কি জানে না? দেখে না? দুর্নীতি দমন কমিশনে কী হচ্ছে মানুষ কি দেখে না? জানে না? কী দিয়ে কী করতে চান? শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চান? এটা এই শহরের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না।”
সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে খোকন বলেন, “আপনারা জানেন, আমার পরিবার এই শহর, এই নগরী সেবা করে আসছি প্রায় এক শতাব্দি ধরে। প্রায় ৭০ বছরের উপরে হবে, ঢাকার শেষ সরদার মাজেদ সরকার, তার মেয়ে আমার মা ফাতেমা হানিফের অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। আমার বৃদ্ধ মাকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়।
“ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র হানিফের স্ত্রী লাঞ্ছিত হবে? এটা ঢাকাবাসী মেনে নেবে না। আমরা যদি ব্যবসা বাণিজ্য করতাম, এই শহরের ধনাঢ্য ব্যক্তি হতাম। ৩৩ বছরের রাজনীতিতে এই শহরের মানুষের জন্য আমার নেত্রীর জন্য মামলা হামলার শিকার হয়ছি। চরম সংগ্রামে রাজপথ ছেড়ে যাইনি। আজকে এই সময় দেখবার জন্য? আজকের এই অবস্থা দেখবার জন্য?
প্রয়োজনে ‘আন্দোলনের পথ’ বেছে নেওয়ার হুমকি দিয়ে খোকন বলেন, “কারও ব্যর্থতা ঢাকবার জন্য আরেক জনের মাথায় কালিমা লেপন করে দেবেন? আমরা এটা মেনে নিতে পারি না।… আইনি মোকাবেলা করব, সাথে সাথে ঢাকাবাসীকে নিয়ে প্রয়োজন হলে আরেকবার সংগ্রাম হবে।”
প্রেক্ষাপট
অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে খোকন ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের মে পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।
২০২০ সালের নির্বাচনেও তিনি মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে তার জায়গায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মনির ছেলে শেখ ফজলে নূর তাপসকে প্রার্থী করে আওয়ামী লীগ। তিনিই এখন দক্ষিণের মেয়র।
গত বছরের শেষ দিকে গুলিস্তান এলাকার বিভিন্ন মার্কেটের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ নিয়ে সাবেক ও বর্তমান মেয়রের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
দোকান উচ্ছেদ শুরু হলে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলে মালিকরা। প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খোকনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
এরপর ফুলবাড়িয়া মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের এক মানববন্ধনে যোগ দিয়ে মেয়র তাপসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন সাবেক মেয়র খোকন।
ক্ষমতাসীন দলের এই দুই নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে তাপসের সমর্থক দুই ব্যক্তি সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার আবেদন করেন আদালতে।
মেয়র তাপস সে সময় বলেছিলেন, ‘অতি উৎসাহীদের‘ ওই মামলায় তার সায় নেই। পরে একটি মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, অন্যটি খারিজ করে দেয় আদালত। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
রাজনীতিবিদদের কর্তৃত্ব ম্নান হয়ে যাচ্ছে, সংসদে দূ:খের কথা জানালেন তোফায়েল আহমেদ
করোনাভাইরাসে জেলাওয়ারি স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি কার্যক্রম সমন্বয় করতে সচিবদের দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের প্রবীণ সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ। এতে রাজনীতিবিদের কর্তৃত্ব ম্লান হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। অবশ্য দায়িত্ব দেওয়া হলেও সচিবদের অনেকেই সংশ্লিষ্ট জেলায় যাননি বলেও তোফায়েল আহমেদ উল্লেখ করেন।
সোমবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবকিছু দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। যারা জাতীয় সংসদ সদস্য এখানে উপস্থিত, এমন একজনও নাই যিনি নিজস্ব অর্থায়নে বা যেকোনোভাবে গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াননি। সবাই দাঁড়িয়েছে, আমরাও দাঁড়িয়েছি।
তিনি বলেন, এখন আমাদের জেলায় জেলায় দেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা। মানুষ মনে করে আমরা যা দেই এগুলো দেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। অথচ প্রশাসনিক কর্মকর্তা কিন্তু দেননি। অনেকেই যায়নি। আমার নিজের জেলা ভোলায় যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি এখন পর্যন্ত যাননি। এটা কিন্তু ঠিক না! এটা একটা রাজনৈতিক সরকার। রাজনীতিবিদদের যে একটা কর্তৃত্ব বা কাজ সেটা কিন্তু ম্লান হয়ে যায়।
সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল বলেন, আমাদের পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন ফেরাউনের সময়েও আমলা ছিল। তিনিও একজন আমলা ছিলেন। আমরা যেসব কথাবার্তা বলি মানুষ এসব পছন্দ করে না। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম)-এ এমপিরা সচিবদের ওপরে। বিষয়টি খেয়াল করতে হবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা থাকবে। বিএনপির বন্ধুরা আছেন, দুঃখ পাবেন না। জাতির পিতার হত্যার পরে জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, আমি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে দেবো। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেটি করেছিলেন। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকার। যারা নির্বাচিত প্রতিনিধি তাদের জন্য নির্ধারিত স্থান যেখানে আছে সেখানে থাকা উচিত। আমাদের জেলায় একজন সচিব যাবেন। তাকে গ্রহণ করবো, বরণ করে নেবো এটা ঠিক আছে। কিন্তু যারা একদিনের জন্যও যায় না, তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত। আর আমাদের মতো লোক আমরা.. তারা যাবে ফোন করবে তারপর ইত্যাদি.. এগুলো আমি বললাম না।
নিজের মন্ত্রিত্বকালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরাও মন্ত্রী ছিলাম। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরে আমি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলাম। আমারও দায়িত্ব ছিল একটি জেলায়। তখন মন্ত্রীরা জেলার দায়িত্ব পালন করতো। একটি জেলায় মন্ত্রীরা গেলে নেতাকর্মীরা আসতো। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা হতো। আমরা গ্রামে-ইউনিয়নে সব জায়গায় যেতাম। কোথায় যেন সেই দিনগুলো হারিয়ে গেছে।
এমপি হিসেবে শপথ নিলেন নুর উদ্দিন চৌধুরী
জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনে লক্ষীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন শপথ নিয়েছেন।
সোমবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে শপথ বাক্য পাঠ করান সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিম, হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আনোয়ার হোসেন খান এমপি এবং এ কে এম শাহাজাহান কামাল এমপি উপস্থিত ছিলেন।
শপথ গ্রহণ শেষে নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন রীতি অনুযায়ী শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
দেশ চালাচ্ছে আমলারা, রাজনীতির নামে পালাগান হচ্ছে, সংসদে কাজী ফিরোজ রশীদ
দেশে বর্তমানে কোনো রাজনীতি নেই বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। রাজনীতির নামে আওয়ামী লীগের সাধারণ ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পালা গান শুনতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ফিরোজ রশিদ এ মন্তব্য করেন।
কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘আজকে দেশে কোনো রাজনীতি নেই। রাজনীতির নামে এখন পালাগানের অনুষ্ঠান হয়। সন্ধ্যার সময় ওবায়দুল কাদের সাহেব এক পালাগান। বিএনপি ওই গান শুনে। এর একটু পরেই টেলিভিশনে ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আরেক পালা গান। আমরা রাজনীতিবিদরা ঘরে বসে টেলিভিশনে পালা গানের রাজনীতি দেখছি। এ পালা গান চলছে দেড় বছর। রাজনীতি শূন্য, কোথাও রাজনীতি নেই। ডান, বাম, মধ্যপন্থী সব এক হয়ে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতা থেকে নামিয়েছিল। এ সময় তিনি জাসদের হাসানুল হক ইনুকে দেখিয়ে বলেন, ওনারা মধ্যস্থতা করে বুদ্ধি দিয়েছিলেন ৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে, ৫ বছর বিএনপি ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ পরে দেখলো এভাবে করতে গেলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা যাবে না। আওয়ামী লীগের বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। ’
তিনি বলেন, ‘তোফায়েল আহমেদ সাহেব ঠিকই বলেছেন। প্রত্যেকটা জেলার রাজনীতি দেওয়া হয়েছে সচিবদের। প্রধানমন্ত্রী ডিসি সাহেবদের সঙ্গে কথা বলেন, আর এমপিরা পাশে বসে থাকেন দূরে। তারা বলেন, ‘ডিসি সাহেব আমি একটু কথা বলবো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে’। এ হচ্ছে রাজনীতিবিদদের অবস্থা। প্রধানমন্ত্রী যখন ডিসিদের সঙ্গে কথা বলেন, তখন এমপিদের কোনো দাম থাকে না। রাজনীতি না থাকায় রাজনীতির মঞ্চগুলো আস্তে আস্তে ব্যবসায়ীরা দখল করেছেন। ব্যবসায়ীদের হাতে তো ব্যবসার চালিকা শক্তি ছিলই। অর্থনীতির চালিকা শক্তি তাদের কাছে। এখন রাজনীতিও তাদের হাতে। এখন দেশ চালাচ্ছে জগৎ শেঠরা, দেশ চালাচ্ছে আমলারা। আমরা রাজনীতিবিদরা এখন তৃতীয় লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এ হচ্ছে আমাদের দুর্ভাগ্য। অথচ রাজনীতিবিদরা দেশটা স্বাধীন করেছে। রাজনীতিবিদ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট থাকে না। ’
কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘এ বাজেটটা আগাগোড়া ধনীদের স্বার্থে ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে এ সংসদে রাজনীতিবিদদের সংখ্যা ছিল ৯৫ পারসেন্ট, আর ৫ পারসেন্ট ছিল ব্যবসায়ী। আর আজকে ২০২১ সালে ৭৫ পারসেন্ট ব্যবসায়ী আর ২৫ পারসেন্ট রাজনীতিবিদ। এ হচ্ছে অবস্থা বাজেটের। অর্থমন্ত্রী একজন ধর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী। স্বভাবত কারণেই তাদের স্বার্থেই এবং তাদের জন্যই বাজেট প্রণয়ন করা হবে। এখানে বৈষম্যের কোনো রূপরেখা থাকবে না। এ বাজেট দেওয়ার ফলেই ধনী আরো ধনী হবে, গরিব আরো গরিব হবে। ’
জঙ্গি সংগঠন হেফাজতকে নিষিদ্ধ করার দাবি শেখ সেলিমের
হেফাজতে ইসলামকে স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গি সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
সোমবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২১-২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বিএনপি, জামাত, হেফাজত দেশের বিভিন্নস্থানে তাণ্ডব চালিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সরকার পতন। স্বাধীনতা দিবস ওরা সহ্য করতে পারে না, ওদের বুকে ব্যথা লাগে। কথা নাই বার্তা নাই বায়তুল মোকাররমে জমা হয়ে তাণ্ডব চালায়। সেখানে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে পারেন না। বায়তুল মোকাররমে এ ধরণের সমাবেশ নিষিদ্ধ করা উচিত। তারা বায়তুল মোকাররমকে প্লাটফর্ম বানিয়েছেন। কোরান শরিফ পুড়িয়েছে, মানুষ পুড়িয়েছে। এই হেফাজতে ইসলাম এরা ছিল স্বাধীনতা বিরোধী নেজামে ইসলামি। মানুষ মেরে এরা ইসলামকে হেফাজত করবে কিভাবে। এটা জঙ্গি সংগঠন, এ সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হোক। যেভাবে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হয়েছে সেভাবে।
শেখ সেলিম বলেন, আমাদের প্রধান শত্রু সাম্প্রদায়িকতা। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করা, সম্প্রাদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। জিয়াউর রহমান এসে এদের রাজনীতি করার অনুমতি দেন, সম্প্রদায়িক রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেছেন যার বাংলা করলে দাঁড়ায় বি মানে বাংলাদেশ, এন মানে না এবং পি মানে পাকিস্তান। অর্থাৎ বাংলাদেশ না পাকিস্তান। জিয়া জঙ্গি সন্ত্রাসীদের স্থান করে দিয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের শেষ করা।
কারাগারে বায়োমেট্রিক ডেটা ব্যবস্থাপনা চালু করতে কেনো নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট
কয়েদি শনাক্তে অঙুলের ছাপ, হাতের তালুর ছাপ, চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি যুক্ত করে দেশের কারাগারগুলোতে বায়োমেট্রিক ডেটা ব্যবস্থাপনা চালু করতে কেনো নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।
দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব ও কারা মহাপরিদর্শককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ।
চট্টগ্রামে এক হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজায় দণ্ডিত কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীর পরিবর্তে মিনু আক্তার নামের এক বিধবার প্রায় তিনবছর সাজা খাটার মামলার শুনানিতে সোমবার এই রুল আসে।
তিন সন্তানের ভরণ-পোষণের আশ্বাসে অন্যের হয়ে সাজা খাটতে রাজি হয়েছিলেন মিনু আক্তার। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় তিনি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে সব ঘটনা খুলে বলেন। পরে হাই কোর্টের আদেশে গত ৭ জুন চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
হাই কোর্টের সেই আদেশে কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীকেও দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া বিচারিক আদালতে কুলসুমীর পরিবর্তে মিনু আক্তারের আত্মসমর্পণ এবং পরে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে কুলসুমীর আপিল দায়েরের প্রক্রিয়ায় প্রতরণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে কিনা, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয় সংশ্লিষ্ট তিন আইনজীবী ও এক আইনজীবী সহকারীর কাছে।
তারা হলেন, আইনজীবী এম এ নাসের, নুরুল আনোয়ার, বিবেকানন্দ এবং আইনজীবীর সহকারী সৌরভ।
এর মধ্যে নুরুল আনোয়ার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর।
আদেশ অনুযায়ী তিন আইনজীবী ও আইনজীবীর সহকারী সোমবার আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে ব্যাখ্যা দাখিল করে।
তাদের আইনজীবী ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল।
ঘটনার পূর্বাপর
মোবাইল ফোন নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ২০০৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পোশাককর্মী কোহিনুর আক্তার ওরফে বেবিকে হত্যা করা হয়।
ওই ঘটনায় কতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ওই বছরের ২৬ অক্টোবর কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কুলসুমীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু তার পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুলসুমী জামিনে বের হয়ে আসেন।
কুলসুমী জামিন পাওয়ার প্রায় আট বছর পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলার রায় দেয়। রায়ে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ের দিন কুলসুমী আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এরপর ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুমী সেজে মিনু আক্তার সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।
২০১৯ সালের ২৩ কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমী রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেন। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল হাই কোর্ট আপিল গ্রহণ করে। পরে দণ্ডিত কুলসুমী জামিন আবেদন করলে চলতি বছর ১১ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট তার জামিন আবেদনটি বাতিল করে দেয়।
এদিকে গত ২১ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার চট্টগ্রামে জজ আদালতকে চিঠি দিয়ে জানান, কারাগারে থাকা নারী দণ্ডিত কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমী নন।
এরপর ২২ মার্চ আদালত কারাগারের নিবন্ধন দেখে হাজতী আসামি কুলসুমী ও সাজাভোগকারীর মধ্যে অমিল খুঁজে পায়। তখন আদালত কারাগারের নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট কিছু নথি হাই কোর্টে কুলসুমীর করা আপিলের সাথে যুক্ত করার জন্য পাঠায়।
এ ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে আইনজীবী মো. শিশির মনির তা আপিল সংশ্লিষ্ট হাই কোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন। পরে ১ এপ্রিল এ বিষয়ে শুনানির পর ৫ এপ্রিল আদেশের জন্য রাখে।
কিন্তু আদেশের আগে এই বেঞ্চের এখতিয়ার পরিবর্তন হলে তা হাই কোর্টের এই বেঞ্চে (যে বেঞ্চ থেকে আদেশ হল) উপস্থাপন করা হয়। দুইদিন শুনানির পর গত ৭ মার্চ আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।
শুনানিতে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, “কুলসুমীর পরিবর্তে মিনু আক্তারের জেল খাটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি সমাজের নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়।”
শুনানিতে তিনি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আদালতে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান তুল ধরেন।
সেখানে তিনি ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে গত বছর ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ধরনের ২৬টি ঘটনা তুলে ধরেন।
এ আইনজীবী সেদিন দাবি করেন, আসামি শনাক্তে উন্নত ব্যবস্থার ঘাটতি এবং তদন্তকারী সংস্থার অবহেলার কারণে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে নিরাপরাধ বা অন্য ব্যক্তিরা এ ধরনের হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সালিশ করতে গিয়ে কিশোরীকে বিয়ে: সেই ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন বরখাস্ত
সালিশে গিয়ে এক কিশোরীকে বিয়ে করলেও তা টেকাতে পারেননি ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার; এখন চেয়ারম্যান পদও খোয়ালেন তিনি
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারকে বরখাস্ত করে সোমবার আদেশ হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে।
শহীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেরও সাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. হায়দার আলী জানিয়েছেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’র কারণে এ চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাহীন হাওলাদার সালিশ করতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করেছেন।
সাময়িক বরখাস্তের কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কেন তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না, তা পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তার জবাব সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
ওই কিশোরী গত বৃহস্পতিবার প্রেমের টানে এক কিশোরের সঙ্গে বাড়ি ছাড়লে তার বাবার নালিশ পেয়ে চেয়ারম্যান শাহীন শুক্রবার সালিশ ডাকেন বলে স্থানীয়রা জানায়।
সেই সালিশে বসার পর মেয়েটিকে পছন্দ হয়ে যায় ৬০ বছর বয়সী চেয়ারম্যানের। তখন তিনি ওই কিশোরীকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন।
এই ঘটনা তুমুল আলোচনা সৃষ্টি করায় পরদিন চেয়ারম্যানকে তালাক দিয়ে ওই কিশোরী বাড়িতে ফিরে যান। তালাকের ব্যবস্থা নিজেই করেছিলেন বলে শাহীন দাবি করেন।
এদিকে গণমাধ্যমে ঘটনা দেখে হাই কোর্ট এক আদেশে চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে কিনা, তা তদন্ত করতে রোববার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়।
একই সঙ্গে ওই কিশোরীকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে ‘বাল্য বিবাহ’ ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করতে জেলা নিবন্ধককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সাঈদ খোকন ও তার পরিবারের ৮ ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ আদালতের
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন ও তার পরিবারের তিন সদস্যের আটটি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রোববার দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ নির্দেশ দেন।
আটটি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে সাঈদ খোকনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৩টি অ্যাকাউন্ট আছে। এছাড়া তার মা ফাতেমা হানিফের একটি, বোন শাহানা হানিফের দুটি ও স্ত্রী ফারহানা আলমের দুটি অ্যাকাউন্ট আছে।
এর আগে, রোববার (২৭ জুন) তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদ ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দের আবেদন করেন। পরে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা তার আবেদনে বলেন, ওই ব্যাংক হিসাবগুলোতে অস্বাভাবিক বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। অভিযোগটি সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে যেন অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা হস্তান্তর করা না যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ব্যাংক হিসাবগুলো জরুরিভিত্তিতে জব্দ করা প্রয়োজন।
আবেদনে তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তরা ওই ব্যাংক হিসাবের অর্থ স্থানান্তর করার চেষ্টা করেছেন; যা তদন্তে উঠে এসেছে।
বিচারের নামে সালিশে কিশোরীকে বিয়ে করা সেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ
প্রেমের টানে বাড়ি ছেড়েছিলেন পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়নের এক তরুণ ও কিশোরী। ঘটনাটির সুরাহায় ডাকা সালিশে গিয়ে কিশোরীকে দেখে পছন্দ হওয়ায় খোদ চেয়ারম্যানই বিয়ে করে ফেললেন। এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। নেটিজনরা সমালোচনায় নামেন। খবর হয় সংবাদ মাধ্যমেও।নজরে আসে স্থানীয় প্রশাসনের। নানা সমালোচনার মুখে পরদিনই ৬০ বছর বয়েসী চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার ১৪ বছরের মেয়েটিকে তালাক দেন। কিন্তু দায় এড়াতে পারছেন না। হাইকোর্টের নজরে আসায় ঘটনা তদন্ত করে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত কনকদিয়া ইউনিয়নের নির্বাচনে দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শাহিন হাওলাদারের (৬০)। তিনি আবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেরও সভাপতি।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, জেলা নিবন্ধক ও পিবিআইকে বিষয়টি তদন্ত করে পৃথক প্রতিবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে দাখিল করতে বলেছে হাইকোর্ট।
রোববার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ জারি করেন। রুলে ক্ষমতার অপব্যবহার করায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া আরেক আদেশে ওই কিশোরীকে নিরাপত্তা দিতে এসপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সালিশে কিশোরী বিয়ে নিয়ে শনিবার সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরমধ্যে একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম ও ইকরামুল হক টুটুল। পরে আদালত আদেশের পাশাপাশি এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সুত্রে জানা যায়, কনকদিয়া ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে একই ইউনিয়নের নারায়ণপাশা গ্রামের রমজান নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে তারা দুজন পালিয়ে যান। বিষয়টি কিশোরীর বাবা কনকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানান। পরে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে শুক্রবার কনকদিয়া ইউপি কার্যালয়ে ছেলে ও মেয়ের পরিবারকে যেতে বলেন। সে অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে দুই পরিবারের সদস্যরা ইউপি কার্যালয়ে যান। সেখানে কিশোরী মেয়েটিকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চেয়ারম্যানের। তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করার আগ্রহ দেখান এবং দুপুরেই বিয়ে করে ফেলেন।
এদিকে বিয়ের পর তা জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে যায় মুহূর্তেই। এ কারণে পরদিন শনিবার ওই একই কাজীর মাধ্যমেই তাদের তালাক সম্পন্ন হয়। পরে মেয়েটি তার প্রেমিকের ঘরে ফিরে যায় এবং রোববার আবার তাদের মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।









