ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   দুপুর ২:৪০ 

Home Blog Page 106

রাজধানীতে ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি ও ডিএমটিসহ ৪জন গ্রেপ্তার

0

রাজধানীর তেজগাঁও থানা এলাকা থেকে নতুন মাদক এলএসডি ও ডিএমটিসহ চারজনকে আটক করেছে র‍্যাব। রোববার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক খন্দকার সাইফুল আলম।
আটক চারজন হলেন সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ ওরফে শাদাব (২৯), মো. আব্রাহাম জোনায়েদ তাহের (২৫), স্বপ্নীল হোসেন (২২) ও সিমিয়ন খন্দকার (২৩)।
র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, গত ২৬ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-২-এর একটি বিশেষ দল রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার লাভ রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নতুন মাদক ৪০ ব্লট এলএসডি, ৬০০ মিলিগ্রাম ডিএমটি, ৬২ গ্রাম আমেরিকান ক্যানাবিজ এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এলএসডি সম্বন্ধে ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি। এটি মূলত বিদেশ থেকে পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে দেশে আনা হয়। এর উচ্চমূল্য হওয়ায় এটি মূলত উচ্চবিত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘অভিযানে আরেকটি নতুন ধরনের মাদক পাওয়া গেছে, যার নাম ডিএমটি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি হ্যালুসিনোজেনিক ট্রিপটামাইন ড্রাগ। মূলত এটি এলএসডি সেবনের মতো। এটি সেবনের পরে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট গভীর আসক্তি তৈরি করে।’
আটককৃতদের বরাতে র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক বলেন, ‘এটি সেবনের পর খুব দ্রুত হ্যালুসিনেশন হয় এবং তারা কল্পনার জগতে প্রবেশ করে। মূলত এ থেকে মারাত্মক দুর্ঘটনা হতে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।’
তিনি জানান, ‘গ্রেপ্তার সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ ওরফে শাদাব রাজধানীর উত্তরার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হতে ও লেভেল শেষ করে ভারতের দার্জিলিংয়ে ২০১৩ সালে এ লেভেল পড়েন। এরপর তিনি ২০১৫ সালে পড়ালেখা করতে থাইল্যান্ডে যান। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সঙ্গে এলএসডি ও ডিএমটি গ্রহণে আসক্ত হয়ে পড়েন। বাংলাদেশে এসেও ওই মাদক গ্রহণ অব্যহত রাখেন। তিনি এই মাদক বিদেশ থেকে বিভিন্ন পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে দেশে এনে নিজে গ্রহণ ও বিক্রি করেন। ’
অপর দিকে মো. আব্রাহাম জোনায়েদ তাহের রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ও লেভেল শেষ করে মালেয়েশিয়া যান এবং ২০১৫-২০১৬ সাল পর্যন্ত পড়ালেখার জন্য অবস্থান করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ড যান এবং সেখানে নিয়মিত এলএসডি ও ডিএমটি গ্রহণ করেন। ২০২০ সালে দেশে ফিরে আসেন ও এলএসডি-ডিএমটি সেবন ও বিক্রি করেন।
এ ছাড়া স্বপ্নীল হোসেন এবং সিমিয়ন খন্দকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। গ্রেপ্তার চারজন মাদক সেবন ও বিক্রি করতেন। এসব মাদকের উৎস এবং এর সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক খন্দকার সাইফুল আলম।

আদালতের নির্দেশ ছাড়া দুদক কারও ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে পারে না, হাইকোর্টের রায়

0

কোনো নাগরিকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার ক্ষমতা দুদকের নেই। আইন অনুযায়ি এই এখতিয়ার আদালতের। কক্সবাজারের এক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত কর্মকর্তার দেয়া নির্দেশ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাকিবুল হাসান। দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শাহীন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। পরে আইনজীবী রাকিবুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো নাগরিকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে আদেশ দেয়ার এখতিয়ার সিনিয়র স্পেশাল আদালত বা স্পেশাল জজ আদালতের। এ ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন ছাড়া দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী কোনো নাগরিকের ব্যাংক হিসাব জব্দে নির্দেশ দিতে পারেন না। আইন অনুসারে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে আদালতের আদেশে কোনো ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা যাবে।
তবে বেলায়েতের ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। তাই তাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার নির্দেশ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এর আগে, দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের কক্সবাজার শাখার ব্যবস্থাপককে বেলায়েত হোসেন নামের এক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফার্মেসি ব্যবসায়ী বেলায়েত কক্সবাজারের বাসিন্দা। ব্যাংক হিসাব জব্দের ওই নির্দেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেলায়েত হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। ২৩ জুন রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ের জন্য ২৭ জুন তারিখ ধার্য করেন। সে অনুসারে রায় দেয়া হলো।

সীমিত পরিসরে লকডাউন; নির্দেশনা জারি, জেনে নিন কী কী খোলা থাকবে

0

সীমিত পরিসের লকডাউকে কী কী খোলা থাকবে রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই বিধি-নিষেধের মেয়াদ শেষে ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা রয়েছে।

উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার থেকে সারাদেশে ‘কঠোর লকডাউন’ জারির ঘোষণা শুক্রবার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার জানানো হয়, সেই লকডাউন ১ জুলাই থেকে শুরু হবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আগের তিন দিনের বিষয়ে নির্দেশনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানাল।

নির্দেশনা অনুযায়ী

>> সোমবার থেকে পণ্যবাহী গাড়ি ও রিকশা ছাড়া সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।

>> সব শপিং মল, মার্কেট, পর্যটন  কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

>> খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা নাগাদ শুধু খাবার বিক্রি করতে পারবে।

>> সরকারি-বেসরকারি সব অফিস খোলা থাকবে সীমিত জনবল নিয়ে। সেই সব কর্মচারীদের অফিসের ব্যবস্থাপনায় আনতে হবে।

এরপর কঠোর লকডাউন প্রাথমিকভাবে সাত দিনের জন্য জারি করা হলেও প্রয়োজনে এর মেয়াদ বাড়তে পারে বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

বিধি-নিষেধ মানাতে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মাঠে থাকবে বলে জানান তিনি।

বাজেটের কাজে সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক শাখা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ কয়েকটি অফিস আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে আগেই জানানো হয়।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর গত বছর মার্চের শেষ দিকে সরকার সাধারণ ছুটির আদলে লকডাউন জারি করে, যা মে মাস পর্যন্ত ছিল।

এর মধ্যে সংক্রমণের হার কমে যাওয়ায় বিধি-নিষেধও শিথিলতা আসে।

২০২১ সালের শুরুতে সংক্রমণের নিম্নগতিতে বিধি-নিষেধ ছিল না বললেও চলে। এই সময় স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া পরিকল্পনাও সরকার করেছিল।

কিন্তু মার্চ মাসের শেষে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ পরিস্থিতি নাজুক করে তুললে এপ্রিলে সারাদেশে লকডাউনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা ছিল আগের বছরের তুলনায় শিথিল।

পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতিতে সেই বিধি-নিষেধ শিথিল করা হলেও করোনাভাইরাসের ভারতে উদ্ভুত ডেল্টা ধরনের সংক্রমণে সীমান্ত জেলাগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় পর্যায়ে লকডাউন দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশে একটানা ১৪ দিন ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ ঘোষণার সুপারিশ করে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি। তার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে কঠোর লকডাউন এসেছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

 

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার বিচার শুরু, ওসি প্রদীপ,লিয়াকতসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

0

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে।
রোববার সকালে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হয়; একই সঙ্গে আদালত ছয় আসামির জামিন আবেদন বাতিল করে আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই স্বাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।

এর মাধ্যমে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হলো বলে জানিয়েছেন আদালত সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটির শুনানি করেন। তিনি জানিয়েছেন, ফৌজদারী দন্ডবিধির ৩০২/২০১/১০৯/ ১১৪/১২০-খ এবং ৩৪ ধারায় মামলাটির চার্জ গঠন করা হয়েছে। মামলায় আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই পরপর ৩ দিন সাক্ষ্য গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

পিপি ফরিদুল আলম জানান, এই মামলার আসামি প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী, নন্দদুলাল রক্ষিত, সাগর দেব, আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ছয় আসামির জামিন আবেদন করা হয়। বিচারক শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। এছাড়া সাত আসামিকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদনও শুনানি শেষে নাকচ করে দেন আদালত।

গত বছরের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

হত্যার পাঁচ দিনের মাথায় ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ সহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে। ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশকে করা হয় দুই নম্বর আসামি। মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয় টেকনাফ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিতকে। আদালত থেকে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় র‌্যাব-১৫ কে।

মামলার তদন্তের সময় আসামি পুলিশের ৭ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ৩ জন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্য সহ আরো মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গত ২৪ জুন মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি কনস্টেবল সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামির সবাই এখন আইনের আওতায় কারাগারে রয়েছেন।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর চাজশীট দাখিল করেন র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। ১৫ জনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় কারাগারে থাকা ১৫ আসামি হলেন- বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, তার দেহরক্ষী বলে পরিচিত কনস্টেবল রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

রোববার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি অ্যাডডভোকেট ফরিদুল আলম, বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফা। অন্যদিকে আাসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, অ্যাডভোকেট দিলীপ দাস, অ্যাডভোকেট প্রতিভা দাশ, অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ, শহীদুল আলম, শফিউল আলম সহ ২১ থেকে ২২ জন আইনজীবী।
আদালতে শুনানিকালে চার্জশীটভুক্ত ১৫ আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। চাঞ্চল্যকর এই মামলার ধার্য দিন উপলক্ষে সব আসামিকে আদালতে আনায় এদিন সকাল থেকেই আদালত অঙ্গণে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হয়।

তালাক নোটিসে নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ শব্দ নিয়ে হাই কোর্টের প্রশ্ন, রুল জারি

0

তালাক নোটিসে নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর, অমানবিক ও অযৌক্তিক’ শব্দের ব্যবহার কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল নোমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান “প্রচলিত রীতি অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে পাঠানো তালাক নোটিসে এ ধরনের শব্দের ব্যবহার একজন নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর; যা পারিবারিক জীবনে এবং পরবর্তীতে বিয়ে করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে ফেলে।

“রিট আবেদনকারীই এ ধরনের অসম্মানজনক, বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখী হয়েছেন। যে কারণে তিনি রিট আবেদন করেন। সে আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছে।”

২০১১ সালে পরিচয়ের পর ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বরে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় কানাডার উইনজা ইউনিভার্সিটির অডেট স্কুল অব বিসনেসে কর্মরত রিট আবেদনকারীর। দুই বছরের মাথায় ২০১৭ সালের অক্টোবরে আবেদনকারীকে তালাক নোটিস পাঠান তার স্বামী।

সে নোটিসে তালাক দেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয় “স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য– যাহা শরিয়তের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তাহার উক্ত চাল-চলন পরিবর্তন করার জন্য আমি নিজেই বহুবার চেষ্টা করিয়াছি। কিন্তু অদ্যবধি তাহার কোনো পরিবর্তন সাধিত হয় নাই।”

তালাকের পর আবেদনকারী নারী ফের বিয়ে করতে গেলে তালাক নোটিসে ব্যবহৃত শব্দের কারণে তাকে বিব্রত ও অবমাননাকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে তালাক নোটিসে ব্যবহৃত ‘স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য’, ‘শরিয়তের সম্পূর্ণ পরিপন্থি’ এ ধরনের শব্দকে ‘অবমাননাকর, অমানবিক, অযৌক্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করে গত ২ জুন হাই কোর্টে এই রিট করেন সেই নারী। 

রুলের পাশাপাশি তালাক নোটিস থেকে নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর, অমানবিক এবং অযৌক্তিক’ শব্দের অপসারণের নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।

তাতে বলা হয়, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন এবং ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিয়ে এবং তালাক (নিবন্ধন) আইন অনুযায়ী তালাক নোটিসে ‘অবমাননাকর, অমানবিক, অযৌক্তিক’ শব্দের ব্যবহার স্পষ্টভাবে নারীর ‘মানবাধিকার ও তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে’, যা একই সঙ্গে সংবিধানের ২৭, ২৮ এবং ৩২ অনুচ্ছেদেরও ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।

“নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে পাঠানো এ ধরনের তালাক নোটিস কেবল অইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূতই না আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, নাগরিক এবং রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত ১৯৬৬ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং ১৯৮১ সালের সিডও সনদ অনুযায়ী তা মৌলিক ও মানবাধিকারেরও চরম লঙ্ঘন।

“আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং সিডও সনদে সাক্ষর করে সরকার নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য বিলোপের নীতি গ্রহণ করেছে। ফলে সংবিধান, আইন, চুক্তি ও সনদের শর্ত রক্ষায় সর্বোপরি নারীর মানবিক মৌলিক অধিকার তালাকের নোটিসে এ ধরনের শব্দের ব্যবহার বন্ধ করা সরকারের আইনগত দায়িত্ব।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

বঙ্গবন্ধুর দর্শনের আলোকে আইন প্রণয়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব- আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কোন জাতির স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন ও মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার লক্ষ্যমূলে সক্রিয় থাকে রাষ্ট্রদর্শন যা নতুন রাষ্ট্রের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বুনিয়াদ রচনা করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় তৈরি করা হয়েছিল যা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি নির্মাণ করেছে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশের মূল সংবিধানসহ তাঁর আমলে প্রণীত আইনসমূহের সাথে ঐতিহাসিকভাবে সম্পৃক্ত। বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে না থাকলেও সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর দর্শনের আলোকে আইন প্রণয়ন করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ আয়োজিত লেজিসলেটিভ ডেস্কবুকের খসড়া উপস্থাপন বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব ও প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন বক্তব্য রাখেন। কর্মশালায় লেজিসলেটিভ ডেস্কবুকের খসড়া উপস্থাপন করেন ডেস্কবুকের খসড়া প্রস্তুতকারী টিমের টিম লিডার এ.কে. মোহাম্মদ হোসেন।
বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম স্লোগান হচ্ছে, ‘আইনের মাধ্যমে উন্নয়ন, জনগণের ক্ষমতায়ন’। সরকারের এ স্লোগানকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলার লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয় দ্রুত মানসম্পন্ন ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সময় প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সময়ের সাথে সাথে মানুষের চাহিদা, আচার- আচরণ, দাবি-দাওয়াসহ সকল বিষয়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে, বিনিয়োগ পরিবেশ পরিবর্তন হচ্ছে, নতুন শিল্প বিপ্লব ঘটছে, কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরাধের ধরণ বদলে যাচ্ছে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে। বিশ্বায়ন হচ্ছে। এসবকে এড্রেস করার জন্য সরকার নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করছে, পুরাতন আইনগুলো সংশোধন করে সময় উপযোগী করছে। সময়ের চাহিদার প্রেক্ষিতেই সরকার করোনার প্যান্ডেমিক পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করার জন্য আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ সহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে।
মন্ত্রী বলেন, আইনের খসড়া প্রস্তুত ও ভেটিং এর কাজ সহজ বিষয় নয়। এ ক্ষেত্রে বিশেষ ধরণের নীতি ও কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। আইনের প্রত্যেকটি শব্দের অর্থ এবং গুরুত্ব আছে। তাই আইনের বাক্যে শব্দ ব্যবহার করার ব্যাপারে পদ্ধতিগত অভিজ্ঞতা এবং অনুশীলনের প্রয়োজন। লেজিসলেটিভ ভাষা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চর্চা, বিভিন্ন লিগ্যাল সিস্টেম যেমন- কমন ল, সিভিল ল, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও ইসলামিক লিগ্যাল সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয়। লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং টেকনিক, টুলস্, লেজিসলেটিভ ব্যাখ্যা, চুক্তি সম্পাদন পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হয়। এ ধারণা যতবেশি গভীর ও বিস্তৃত হয় আইনের গুণগত মান ও গ্রহণযোগ্যতা তত ভাল হয়। তাই উল্লিখিত নীতি, কর্মপদ্ধতি, চুক্তি সম্পাদন পদ্ধতি ইত্যাদি সুলিখিত ও সুবিন্যস্ত আকারে হাতের কাছে থাকা প্রয়োজন। থাকলে আইনের খসড়া প্রস্তুত ও ভেটিং কার্য দ্রুত ও দক্ষতার সাথে করা যায়।
আইনমন্ত্রী জানান, আইন প্রণয়ন কার্যক্রমকে আরো গতিশীল, পরিশীলিত ও সময়োপযোগী করার জন্য আইন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘আইনি গবেষণার মাধ্যমে তারতম্যমূলক আইন ও নীতি চিহিৃতকরণপূর্বক উহা সংস্কার বিষয়ক একটি প্রকল্প’ প্রকল্পের মাধ্যমে একটি লেজিসলেটিভ ডেস্কবুক তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ডেস্কবুক অনুসরণ করে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তাগণ সরকারের আইন, বিধিমালা, প্রবিধানমালা, প্রজ্ঞাপন, চুক্তি ইত্যাদির খসড়া প্রস্তুত এবং ভেটিং কার্য দক্ষতার সঙ্গে ও স্বল্প সময়ের মধ্যে করতে সক্ষম হবেন।

আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম আর নেই

0

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ মালুম আর নেই। শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান তিনি।
গত ২৫ মে রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে জেয়াদ আল মালুমকে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২ জুন তাকে সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়।
বাম রাজনীতিতে সক্রিয় এই আইনজীবীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য জেয়াদ আল মালুম প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান। সেই থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আজম ও মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে করা মামলার বিচারে রাষ্ট্রপক্ষে ভূমিকা রাখেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জেয়াদ আল মালুম ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরে তিনি বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সংশ্লিষ্ট শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
টাঙ্গাইল সদরের করোটিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই আইনজীবী গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি পদে ছিলেন।

‘কঠোর লকডাউন’ ১ জুলাই থেকে, সোমবার থেকে সীমিত

0

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে এবং আগামী ১ জুলাই থেকে সাত দিন সারাদেশে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ ঘোষণা করছে সরকার।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার শনিবার রাতে জানান, সোমবার থেকে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করার কথা থাকলেও তা আগামী ১ জুলাই থেকে ৭ দিন ঘোষণা করা হবে।
“সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে লকডাউন ঘোষণা করা হবে।“
শনিবার সন্ধ্যায় লকডাউন বিষয়ে এক ভার্চুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই বিষয়ে বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।“
এর আগে কোভিড বিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটির দেশজুড়ে পুরোপুরি ‘শাটডাউনের’ সুপারিশের পর শুক্রবার সরকারি ঘোষণায় সোমবার থেকে কঠোর লকডাউনের কথা বলা হয়।
এর আগে শুক্রবার রাতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছিলেন, “সোমবার থেকে ৭ দিন এই কঠোর লকডাউন চলবে। এরপর প্রয়োজন মনে করলে বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করা হবে।”
এবারের লকডাউনের মধ্যে জরুরি কারণ ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, “মানুষ যাতে বিধিনিষেধ মানে, সেজন্য কাজ করবে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী।”
বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সকল সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।
তবে বাজেটের কাজে সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক শাখা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ কয়েকটি অফিস আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী।
লকডাউনের সময়ে জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং গণমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।
মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর গত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকেই সারাদেশে ধাপে ধাপে মেয়াদ বাড়িয়ে লকডাউনের বিধিনিষেধ চালু রাখা হয়েছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শিথিল করা হয়েছে বেশ কিছু নিয়ম।
এর মধ্যে করোনাভাইরাসের অতিসংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় জুনের শুরু থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে বাড়তে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শনিবার ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, শনাক্ত হয়েছে আরও ৪ হাজার ৩৩৪ জন নতুন রোগী।
গত কয়েকদিন থেকে সংক্রমণ বৃদ্ধির এমন পরিসংখ্যানের মধ্যে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে দেশে একটানা ১৪ দিন ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ ঘোষণার সুপারিশ করে কোভিড ১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি।
জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় তাদের সুপারিশে।
বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর গত বছর মার্চের শেষ দিকে সরকার সাধারণ ছুটির আদলে লকডাউন জারি করে, যা মে মাস পর্যন্ত ছিল।
এর মধ্যে সংক্রমণের হার কমে যাওয়ায় বিধি-নিষেধও শিথিলতা আসে।
২০২১ সালের শুরুতে সংক্রমণের নিম্নগতিতে বিধি-নিষেধ ছিল না বললেও চলে। এই সময় স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া পরিকল্পনাও সরকার করেছিল।
কিন্তু মার্চ মাসের শেষে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ পরিস্থিতি নাজুক করে তুললে এপ্রিলে সারাদেশে লকডাউনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা ছিল আগের বছরের তুলনায় শিথিল।
পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতিতে সেই বিধি-নিষেধ শিথিল করা হলেও করোনাভাইরাসের ভারতে উদ্ভুত ডেল্টা ধরনের সংক্রমণে সীমান্ত জেলাগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় কমিটি শাটডাউনের সুপারিশ করলে সরকার ওই পরামর্শ সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় নেবে বলে জানিয়েছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

নতুন প্রজাতির মানবের সন্ধান, দেড় লাখ বছর আগে বাস করতো পূর্ব এশিয়ায়

0

চীনা গবেষকরা অত্যন্ত প্রাচীন একটি মাথার খুলির সন্ধান পেয়েছেন যা সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির মানবের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের এই দলটি দাবি করছে মানব বিবর্তন প্রক্রিয়ায় নিয়েন্ডারথাল এবং হোমো ইরেকটাসের মতো এই প্রজাতির মানব আমাদের সবচেয়ে নিকটতম আত্মীয়।
এই মানব প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে ড্রাগন ম্যান।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই নমুনাটি এমন এক মানব গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে যা অন্তত এক লাখ ৪৬ হাজার বছর আগে পূর্ব এশিয়ায় বসবাস করতো।
উত্তর-পূর্ব চীনের হারবিন শহরে এই খুলি পাওয়া গেছে ১৯৩৩ সালে, তবে খুব সম্প্রতি এটি বিজ্ঞানীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
মাথার এই খুলির একটি বিশ্লেষণ সম্প্রতি ‘দ্য ইনোভেশন’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

বলা হচ্ছে, নতুন এই আবিষ্কার – হোমো স্যাপিয়েন্সের কোথা থেকে ও কিভাবে উদ্ভব হয়েছিল সে সম্পর্কে বর্তমান ধারণা বদলে দিতে পারে।
মানব বিবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যে শীর্ষস্থানীয় একজন বিজ্ঞানী ও গবেষক, লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের প্রফেসর ক্রিস স্ট্রিঙ্গার এই গবেষণা দলের একজন সদস্য ছিলেন।
বিবিসিকে তিনি বলেন, “বিগত সহস্রাব্দগুলোতে যেসব জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার।”
“এটি মানবতার ভিন্ন একটি শাখা যা হোমো স্যাপিয়েন্স (আমাদের প্রজাতি) হওয়ার পথে ছিল না। তবে এটি এই অঞ্চলে কয়েক লাখ বছর ধরে বিবর্তিত হওয়া এক প্রজাতির প্রতিনিধিত্ব করে যা পরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে,” বলেন তিনি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কারের ফলে মানব বিবর্তনের ইতিহাস নতুন করে লিখতে হতে পারে।
তাদের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই প্রজাতির মানব নিয়েন্ডারথালের চেয়েও হোমো স্যাপিয়েন্সের অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ।
গবেষকরা বলছেন, এই নতুন প্রজাতির মানব হচ্ছে হোমো লোঙ্গি। এই লোঙ্গি শব্দটি এসেছে চীনা শব্দ “লং” থেকে যার অর্থ ড্রাগন।
চায়নিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস এবং শিজিয়াঝুয়াঙ প্রদেশে হেবেই জিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিজুন নি বলেন, এই আবিষ্কারের মাধ্যমে “আমরা বহু আগে হারিয়ে যাওয়া এক বংশধরকে আমরা খুঁজে পেয়েছি।
বিবিসিকে তিনি বলেন, “এটা যে এতো ভালোভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে সেটা আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। এই খুলির সবকিছু দেখা যাচ্ছে। এটা সত্যিই দারুণ এক আবিষ্কার!”
আমাদেরসহ অন্যান্য মানব প্রজাতির মাথার খুলির সঙ্গে তুলনা করলে এই খুলিটি আকারে বেশ বড়। তবে মস্তিষ্কের আকার প্রায় একই ধরনের।
বলা হচ্ছে, এই খুলিটি প্রাপ্তবয়স্ক এক পুরুষের।

খুলি দেখে বোঝা যায় ড্রাগন ম্যানের চোখের কোটর বিশাল ও চতুর্ভুজ আকৃতির, ভ্রুর খাঁজ বিশাল আকারের, প্রশস্ত মুখ এবং বড় আকারের দাঁত।
হেবেই জিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কিয়াং জি বলেন, এখনও পর্যন্ত মানুষের মাথার খুলির যতো জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে সম্পূর্ণ।
“অন্যান্য সব মানব প্রজাতির চেয়ে এটি একেবারেই আলাদা,” বলেন তিনি।
বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, ড্রাগন ম্যান ছিল খুব শক্ত সামর্থ্য মানুষ এবং কর্কশ। তবে তারা কিভাবে ও কেমন করে বসবাস করতো সে বিষয়ে খুব কমই জানা গেছে। কারণ যে এলাকায় এই খুলিটি পাওয়া গিয়েছিল সেখান থেকে এটিকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
এর অর্থ এই খুলি যেখানে পাওয়া গিয়েছিল সেখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক দিক সম্পর্কে কিছু জানা যায় নি। যেমন- সেখানে পাথরের তৈরি কী ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করা হতো এবং ওই এলাকায় সাংস্কৃতিক আরো কী ধরনের উপাদান ছিল সেসব বিষয় অজ্ঞাত রয়ে গেছে।
নতুন প্রজাতির মানবের এই খুলিটি পাওয়া গেছে ১৯৩৩ সালে। হারবিনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত সঙ্গুয়া নদীর উপর একটি সেতু তৈরির সময় একজন নির্মাণ শ্রমিক এর সন্ধান পান।
যে সময় এই খুলিটি পাওয়া যায় সে সময়ে এই শহরটি ছিল জাপানের অধীনে।
চীনা শ্রমিকটি মনে করেছিলেন, এই খুলির সাংস্কৃতিক মূল্য অনেক এবং একারণে তিনি এটিকে লুকিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান যাতে খুলিটি জাপানিদের হাতে চলে না যায়।

নিজের বাড়ির কূপের একেবারে তলায় তিনি খুলিটি লুকিয়ে রাখেন। সেখানে এটি ছিল প্রায় ৮০ বছর। লোকটি মারা যাওয়ার আগে তার পরিবারের সদস্যদের এই খুলির কথা বলে যান এবং পরে তাদের মাধ্যমেই এটি বিজ্ঞানীদের হাতে এসে পৌঁছায়।
এর আগেও চীনে প্রাচীন কালের আরো কিছু মানব দেহাবশেষের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। ড্রাগন ম্যান এরকমই সবশেষ আবিষ্কার।
আগে যেসব জীবাশ্ম পাওয়া গেছে সেগুলোকে আলাদা করে শ্রেণীভূক্ত করা কঠিন ছিল।
এর আগে যেসব জীবাশ্ম পাওয়া গেছে সেগুলি দালি, জিন্নিওশান, হুয়ালংডং এবং তিব্বতীয় অঞ্চলের।
এসব দেহাবশেষ হোমো স্যাপিয়েন্স, নিয়েন্ডারথালস কিম্বা ডেনিসোভান্স অথবা একেবারেই ভিন্ন কোন প্রজাতির মানবের কীনা সে বিষয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছে।
রাশিয়ার ডেনিসোভা গুহায় ৩০/৫০ হাজার বছর পুরনো একটি আঙ্গুল পাওয়া গিয়েছিল। সেই আঙ্গুলের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এই ডেনিসোভান্স প্রজাতি সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যায়।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মার্তা মিরাজন লাহর বিশ্বাস করেন এই ড্রাগন ম্যানই আসলে ডেনিসোভান।
“অতীতের সবচেয়ে রহস্যময় জনগোষ্ঠী এই ডেনিসোভান্স। তিব্বতীয় মালভূমিতে যে চোয়ালের হাড় পাওয়া গেছে তার ডিএনএ থেকে মনে হয় সেটিও ছিল একজন ডেনিসোভানের,” বলেন তিনি।
“আর এখন চোয়ালের হাড় যেহেতু তিব্বতের এবং ড্রাগন ম্যানকে একই রকমের বলে মনে হচ্ছে- আমরা হয়তো এই প্রথমবারের মতো ডেনিসোভানের মুখ পেয়ে গেলাম।”

সম্প্রতি ইসরায়েলেও নিয়েন্ডারথালের সম্ভাব্য পূর্বসূরির কিছু দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। ওই জীবাশ্মটি নিয়ে যারা গবেষণা করছেন তারা বলছেন, লেভান্ত অঞ্চলের প্রথম মানবগোষ্ঠী থেকে এই ড্রাগন ম্যানের আবির্ভাব ঘটতে পারে।
তবে চীনা গবেষকরা বলছেন, পূর্ব এশিয়ায় যেসব জীবাশ্ম পাওয়া গেছে সেগুলো শ্রেণীভুক্ত করা কঠিন, কিন্তু এসব জীবাশ্ম থেকে নতুন প্রজাতির মানবের ক্রমবিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
প্রফেসর নি বলেন, “এই ফলাফল প্রচুর বিতর্কের জন্ম দিবে এবং আমি নিশ্চিত যে অনেকেই আমাদের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করবেন। তবেই এটাই বিজ্ঞান এবং এই মত-বিভেদের কারণেই বিজ্ঞান সামনের দিকে অগ্রসর হয়।” বিবিসি বাংলা।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে নতুন সেনাপ্রধানের শ্রদ্ধা

0

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নতুন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন
শনিবার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন সেনাবাহিনী প্রধান।
আইএসপিআর শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
তিনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। সেখানে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
পরে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দেন।
এরপর তিনি বীর শহীদদের সম্মানে সালাম প্রদান করেন। বিউগলের সুরে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল ‘গার্ড অব অনার’ দেয়। সেখানে তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
সেনাপ্রধান এরপরেই টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তাকে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল ‘গার্ড অব অনার’ দেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সেনাবাহিনী প্রধান বঙ্গবন্ধুসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট শাহাদাতবরণকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন। মোনাজাত শেষে তিনি বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।”
গত বৃহস্পতিবার জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।