ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ১১:০৭ 

Home Blog Page 109

উত্তরায় মাদকের কারখানায় র‍্যাবের অভিযান, অস্ত্র,মাদকসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

0

রাজধানীর উত্তরায় বায়িং হাউসের নামে অফিস ভাড়া নিয়ে রীতিমত মাদকের গবেষণাগার খুলে বসেছিল একটি চক্র। ওই গবেষণাগারে বিভিন্ন ধরণের মাদক নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করা হতো। সেখানে মাদক আইসের সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে পরিমাণ বাড়ানো, ইয়াবার রং পরিবর্তন কিংবা ইয়াবা-আইস-ঘুমের ওষুধের সমন্বয়ে ঝাক্কি বা ককটেল বানানো হতো। শুধু মাদক প্রক্রিয়াজাতকরণই নয়; কথিত ওই ল্যাবে নিয়মিত আনাগোনা ছিল মাদকসেবী তরুণ-তরুণীদের। তারা সেখানে মাদক সেবন এবং পরবর্তিতে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো। চক্রটি কৌশলে সেসব কার্যকলাপ ভিডিও করে রাখত। যা দিয়ে পরবর্তিতে তাদের করা হতো ব্ল্যাকমেইলিং। এ চক্রে ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য রয়েছে। তারা মাদক আইস ও ঝাক্কি সেবন-কেনাবেচায় জড়িত। এর বাইরেও ৪০ থেকে ৫০ জন রয়েছেন, যারা নিয়মিত এই চক্রের মাদকের ক্রেতা। র‍্যাব এই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ‘বিপুল’ পরিমাণ আইস, ইয়াবা, বিদেশি মদ, গাঁজা এবং ১৩টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র, মাদক তৈরি উপাদান এবং ল্যাবরেটরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।

শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চক্রটি সেখানে মাদকের কারখানা খুলে বসেছিল। সেই কারখানায় মেথামফিটামিন মাদক ‘আইস’ বা ‘ক্রিস্টাল মেথ’ ছাড়াও ‘ইয়াবা’ মোড়কজাত করা হত, তৈরি করা হত ‘ঝাক্কি’ নামের এক ধরনের ককটেল মাদক।
কমান্ডার মঈন বলেন, ওই কারখানা ঘিরে ১০-১২ জন ব্যবসায়ীসহ ৪০-৫০ জনের একটি সিন্ডিকেটকে র‌্যাব চিহ্নিত করেছে, যাদের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
“উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা এসব মাদকের নিয়মিত গ্রাহক এবং তাদের অনেকে এই সিন্ডিকেটের সদস্য।”
গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী তৌফিক হোসাইন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করেছেন, যাকে এই চক্রের ‘অন্যতম হোতা’ বলছে র‌্যব।

বাকিদের মধ্যে জামিরুল চৌধুরী ওরফে জুবেইন (৩৭) লন্ডনে বিবিএ পড়েছেন, খালেদ ইকবাল (৩৫) ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। রাকিব বাসার খান (৩০) একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। আর আরাফাত আবেদীন ওরফে রুদ্র (৩৫) এবং সাইফুল ইসলাম সবুজ (২৭) এসএসসি পাস করে আর পড়ালেখা করেননি। এদের মধ্যে রুদ্র ওই সিন্ডিকেটে ‘কেমিস্ট রুদ্র’ নামে পরিচিত। তিনিই ইয়াবার রং বদল করার এবং ‘ঝাক্কি’ নামে ককটেল মাদক তৈরির মূল কারিগর।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের বড়ি, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক মিশিয়ে এই ঝাক্কি তৈরি করত রুদ্র। তিনিই ল্যাবটি পরিচালনা করতেন। সেজন্য ওই সিন্ডিকেট থেকে তাকে একটি বাসাও ভাড়া করে দেওয়া হয়েছিল।
কমান্ডার মঈন বলেন, “গ্রেপ্তার জুবেইন ও খালেদ উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। তারা অর্থ বিনিয়োগ করত, বাকিরা ব্যবসা চালাত। তৌফিক হলেন তাদের সমন্বয়কারী। রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা তাদের টার্গেট। এরকম ৪০ থেকে ৫০ জন গ্রাহক আছে এই সিন্ডিকেটের।”
উত্তরায় জুবেইনের বাসায় এবং বায়িং হাউজ নাম দিয়ে তৌফিকের ভাড়া করা অফিসে এরা নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। ওই চক্রের সদস্যরাও সবাই ইয়াবা ও আইসে আসক্ত বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
‘আইস’ মেথামফিটামিন জাতীয় মাদক। অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীনে এর ব্যবহার বেশি। ১০ গ্রাম আইস লাখ টাকাতেও বিক্রি হয় চোরা বাজারে।
সেবু, ক্রিস্টাল মেথ কিংবা ডি মেথ নামেও এ মাদক পরিচিত। এ নেশায় আসক্ত হলে অনিদ্রা, অতি উত্তেজনা, স্মৃতিভ্রম, মানসিক অবসাদ ও বিষণ্নতা তৈরি হতে পারে, বাড়তে পারে স্ট্রোক, হৃদরোগ, কিডনি ও লিভার জটিলতার ঝুঁকি।
দেশে প্রায় দুই দশক হল ফেনসিডিলের জায়গা দখল করেছে ইয়াবা। ফেনসিডিল মূলত আসত ভারত থেকে, আর ইয়াবা আসছে মিয়ানমার থেকে। গত তিন বছরে আইসসহ বেশ কয়েকজন ধরা পড়ার পর এ মাদকের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার মঈন বলেন, ইয়াবার মত আইসও মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের এসব সিন্ডিকেটের কাছে পৌঁছায় বলে তারা জানতে পেরেছেন। উত্তরার ওই চক্রটি অন্তত পাঁচ বছর ধরে আইস এবং দুই বছর ধরে ঝাক্কির ব্যবসা চালিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছে।

প্রথম স্ত্রীর বাড়ি থেকে উদ্ধার আবু ত্ব-হাকে আদালতে জবানবন্দির পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর

0

আদালতে জবানবন্দির পর আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান ও তার দুই সঙ্গীকে নিজ নিজ পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয় থেকে তাদের মহানগর আমলি আদালতে (কোতোয়ালি) নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কেএম হাফিজুর রহমান এ নির্দেশ দেন।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আবু ত্ব-হা নিখোঁজের ঘটনায় দুটি জিডি হয়েছিল। তার মা একটি জিডি করেন এবং তার সঙ্গে নিখোঁজ থাকা আমিরুদ্দিনের ভাই ফয়সাল আরেকটি জিডি করেন। শুক্রবার আমরা গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি, ত্ব-হা তার প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে আছেন। সেখান থেকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানান আবু ত্ব-হা। পরে তার সঙ্গীরাও বিষয়টি স্বীকার করেন। প্রাথমিক এই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত সোয়া ৯টার দিকে তাদেরকে ডিবি কার্যালয় থেকে আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের আত্মগোপন উদ্দেশ্যমূলক এবং সরকারকে বা দেশের মানুষকে বিব্রত করতে নয় বলে জানায় রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বিকেল ৫টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন রংপুর মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ক্রাইম ডিভিশনের উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন।
মারুফ হোসেন বলেন, এটা উদ্দেশ্যমূলক না। সরকারকে বা দেশের মানুষকে বিব্রত করতে এটা করেনি। এখন পর্যন্ত এটা মনে হয়নি। এত কিছু ভেবে তারা করেনি। আবু ত্ব-হা শিক্ষিত ছেলে। তাই সে ফোন বন্ধ করে রেখেছিল। সে জানে তার ফোন যদি অন করা হয় তাহলে তাকে শনাক্ত করা যাবে। তাই সে ফোন সুইচড অফ করে রেখেছিল। তারা সবাই একসঙ্গে ছিলেন। একই বাড়িতে ছিলেন। ড্রাইভার আমিন উদ্দিনকে মডিফাইয়েড করে বলেছিল, আমাকে একটু সহায়তা করো। তাহলে আমার জন্য ভালো হবে। আমাকে এ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হলে আমাকে একটু হেল্প করো। আমারা একটু গোপনে থাকি। সামাজিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি থেকে বাঁচতেই আত্মগোপন করেন ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে বন্ধুর বাসায় আত্মগোপনের পর শুক্রবার ভোরে ত্ব-হাকে তার প্রথম স্ত্রীর বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। তার সঙ্গীদেরও উদ্ধার করে পুলিশ। বিকেল পৌনে পাঁচটার সংবাদ সম্মেলনে আরএমপি ক্রাইম ডিভিশনের উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন আরও বলেন, মা ও ভাইয়ের জিডির সূত্রে আমরা (ত্ব-হার) অনুসন্ধান করতে থাকি। আমরা গোপন সূত্রে জানতে পারি ত্ব-হা তার (রংপুর নগরের) চারতলার মসজিদে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আছেন। সেই সংবাদ পেয়ে আমরা তাকে নিয়ে আসি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আমরা অপর সঙ্গীদেরও সন্ধান পাই। গাইবান্ধায় বন্ধু সিয়ামের বাসায় ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন চারজনই। বন্ধু বাসায় না থাকলেও তার মায়ের কাছে ছিলেন এরা। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে ত্ব-হা আত্মগোপনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সফরসঙ্গীরাও তাদের ফোন বন্ধ করে ত্ব-হার কাছে রেখে দেন। তাকে রংপুরে তার প্রথম স্ত্রীর বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয় আবু ত্ব-হাকে। খোকন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি নগরীর মাস্টারপাড়ায় আবু ত্ব-হাকে দেখেন। কিন্তু ত্ব-হা সে সময় কোনো কথা বলেননি। বরং, মুখে আঙুল দিয়ে চুপ থাকতে বলেন। পরে তাকে রংপুর নগরের আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন মাস্টার পাড়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এসব বিষয়ে কথা বলতে ত্ব–হার শ্বশুরবাড়িতে গেলে তার শ্বশুর আজহারুল মণ্ডল এ বিষয়ে কোনো কথা না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। ত্ব–হার নানাবাড়িতে গেলেও কেউ এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি।
গত ১০ জুন দিবাগত রাত থেকে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের। নিখোঁজের সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার দুই সঙ্গী আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দিন। সেদিন বিকেল ৪টার দিকে ওই তিনজনসহ আবু ত্ব-হা রংপুর থেকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে ঢাকার পথে রওনা দেন। রাতে মোবাইল ফোনে সর্বশেষ কথা হলে তিনি সাভারে যাচ্ছেন বলে তার মাকে জানান। এরপর রাত ২টা ৩৬ মিনিটে স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় আদনানের। তাকেও সাভার যাচ্ছেন বলেন জানান ত্ব-হা। তারপর থেকেই তার ফোন বন্ধ থাকায় আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গত ১১ জুন বিকেলে ছেলের সন্ধানে রংপুর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন ত্ব-হার মা আজেদা বেগম।

আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

0

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে গুলশানের হোলি আর্টিজান হামলা নিয়ে আলোচনা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। রাষ্ট্রদূত নিজেই একথা নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার এক টুইটে দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের দুটি ছবি সংযুক্ত করে রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি লিখেছেনঃ

এই সপ্তাহে আমাদের অংশীদারিত্বের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। একটি ছিল আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে। আর অন্যটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে। আমরা করুণ হোলি আর্টিজান হামলা নিয়ে কথা বলেছি। পহেলা জুলাই যার পঞ্চম বার্ষিকী।

রোববার থেকে ভার্চুয়ালি বসছে হাইকোর্টের সব বেঞ্চ

0

আগামী রবিবার ২০ জুন থেকে হাইকোর্ট বিভাগের সব বেঞ্চ বসছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ৩৪টি দ্বৈত বেঞ্চ আর ১৯টি একক বেঞ্চ বসছে। তবে সব কটি বেঞ্চই ভার্চুয়ালি বসবেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের স্বাক্ষরে আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে প্রধান বিচারপতি এসব বেঞ্চ গঠন এবং এসব বেঞ্চের বিচারিক এখতিয়ার নির্ধারণ করেছেন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে স্বাভাবিক বিচার কাজ বন্ধ থাকায় জরুরী মামলার শুনানির জন্য গত ১০ জুন হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চের সংখ্যা ২১টি থেকে বাড়িয়ে ৩০টি করা হয়। গত এক সপ্তাহ হাইকোর্ট বিভাগে ৩০টি বেঞ্চ বসে। আর বুধবার আরো ২৩টি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৩টি। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টে আগাম জামিন শুনানি বন্ধ থাকছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে সারা দেশে আদালতে স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে জরুরী বিষয় শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগে মাত্র চারটি বেঞ্চ গঠন করা হয়। তবে এসব আদালতে ভার্চুয়ালি শুনানির সুযোগ রাখা হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এই বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে ৪টি বেঞ্চ দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর থেকে আইনজীবীরা বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বার বার দাবি জানিয়ে আসছিলেন আইনজীবীরা।
দাবি জানালেও প্রধান বিচারপতি একবারে বেঞ্চের সংখ্যা বাড়াননি। পর্যায়ক্রমে বেঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়েছেন। সর্বশেষ বুধবার ২৩টি বেঞ্চ বাড়ানোর কারণে এখন বেঞ্চের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৩টি। ফলে হাইকোর্ট বিভাগের সব কটি বেঞ্চই খুলে দেওয়া হলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও খাবার নিয়ে সমালোচনা করলে আইনি পদক্ষেপ

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করলে আইনি পদক্ষেপ নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাফেটারিয়ার স্বল্পমূল্যের খাবার নিয়ে উপাচার্যের মন্তব্য ও কোভিড-১৯ টেস্ট কার্যক্রমে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা নিয়ে ফেইসবুকে তুমুল সমালোচনা ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের জেরে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাবি।
বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা হেয় প্রতিপন্ন না হয় সেজন্য আলোচ্য বিষয়টির স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন হয়েছে।
খাবার ও কোভিড টেস্ট কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা ব্যঙ্গবিদ্রুপ সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।
ঢাবি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যে, সম্প্রতি দায়িত্বশীল মহল বিভিন্নভাবে সেসব যথেচ্ছাভবে ব্যবহার করছেন, যা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।বস্তুত কিছু অসাধু চক্র কোনো অপতথ্য বারবার ব্যবহার করে সেটিকে তথ্যে পরিণত করতে চায়, যা জনমনে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, ‘গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শ্রদ্ধাশীল। একইসঙ্গে, কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমালোচনার রীতিনীতি ও মূল্যবোধ উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের মানহানি ঘটায় তাহলে দেশের আইন যে তার প্রতিকার দেয় সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ন ওয়াকিবহাল।’
বিভ্রান্তিকর ও খণ্ডিত তথ্য ব্যবহার করে কোনো বিশেষ মহল যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে এবং মানহানি না ঘটাতে পারে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।
অতি সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্পমূল্যের খাবার নিয়ে উপাচার্যের বক্তব্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা টেস্টের জন্য স্থাপিত পিসিআর ল্যাব নিয়ে ‘খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পত্রিকায় প্রকাশিত ‘খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের স্পষ্টীকরণ’ করে এতে বলা হয়, সম্প্রতি দুটি বিষয় বিশেষভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। বিষয়গুলো ইতোপূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ ‘ব্যঙ্গ বিদ্রূপ’ রূপে উপস্থাপন করেছেন। তখন সেটিকে বৃহত্তর সমাজের কিছু মানুষের ভিন্ন রুচি ও ভিন্ন মূল্যবোধ হিসেবে ধরে আমলে নেওয়া হয়নি।
স্বল্পমূল্যের খাবারের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে টিএসসিতে নবীন শিক্ষার্থীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানস্থল টিএসসির গৌরবময় ভূমিকাও প্রসঙ্গক্রমে চলে আসে।
তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাস্যরসে ক্যাফেটেরিয়ার সাধারণ, স্বল্পমূল্যের খাবার মেন্যু ও সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধার অবারিত সেবা কার্যক্রমের কথাগুলোও বলেন। পরে জানা গেল, যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাবিহীন এক সাংবাদিক অনাহূতভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উপাচার্যের বক্তব্যের মূল অংশ কাটছাট করে এবং ক্ষেত্রবিশেষে বাক্য ও শব্দ অবলোপন করে ক্যাফেটেরিয়ার বিভিন্ন খাবার আইটেমের মূল্যমান সংক্রান্ত বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে ১৫-২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল করে।
সেই সাংবাদিক অবশ্য পরে সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে উপাচার্য বিষয়টিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন।
ঢাবি কর্তৃপক্ষ বলছে, টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার খাবার মেন্যুর নজিরবিহীন স্বল্পমূল্য বিষয়ে উপাচার্যের মন্তব্য ‘বিবিসি বাংলা’ পরিচালিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সত্য প্রমাণিত হয়।
পিসিআর ল্যাবের বিষয়ে বলা হয়, ‘দ্বিতীয় বিভ্রান্তিকর তথ্য’টি হলো – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়নি।
কোভিড-১৯ টেস্টিং কার্যক্রম শুরু করে বেশ বিলম্বে; কিছুদিন পর আবার ল্যাব বন্ধ করে দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ডজনেরও অধিক আরটি-পিসিআর মেশিন থাকা সত্ত্বেও সেসব দিয়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা না করে বসে আছে। এ বক্তব্যটি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছিল।
প্রকৃত ঘটনা হলো কোনো বিলম্ব ছাড়াই গত বছরের ১৯ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞানী, জিন প্রকৌশলী ও প্রাণরসায়নবিদদের নিয়ে প্রথম ‘কোভিড-১৯ (প্যানডেমিক) রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি; গঠন করে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করে কোভিড মহামারি প্রতিরোধে কতিপয় সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পারস্পারিক সহযোগিতার প্রস্তাবনা দেয়।
কোভিড-১৯ টেস্ট এর জন্য হাসপাতাল বা ডেডিকেটেড ল্যাবের ন্যায় কোনো ল্যাব ও প্রশিক্ষিত জনবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না।
তিনটি বিভাগের ল্যাবে পঠন-পাঠন ও নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি করে মোট তিনটি আরটি-পিসিআর মেশিন ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যগুলো কনভেনশনাল পিসিআর মেশিন; সেগুলো কোভিড টেস্ট করার উপযোগী নয়।
উল্লেখিত কমিটির মাধ্যমে বিভাগগুলো থেকে তিনটি আরটি-পিসিআর মেশিন এনে উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে বায়োসেফ্‌টি নিশ্চিত করে তিন সপ্তাহে তৈরি করা হয় কোভিড-১৯ টেস্টিং ল্যাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার পর তা ৫ মে উদ্বোধন করা হয়। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন শিক্ষক দ্বারা এটি পরিচালিত হতে থাকে।
মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঈদের ছুটির সময়ে ল্যাব পরিচালনায় লোকবলের ঘাটতি পড়ে গেল; কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবক করোনা সংক্রমিত হলেন এবং আরএনএ কনটামিনেশন নিরসনে ল্যাব জীবাণুমুক্ত করা প্রয়োজন হলো।
এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়ে টেস্টিং কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল; ল্যাব বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। দশ দিন পর যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে, জনবল সংগ্রহ করে পুনরায় টেস্টিং সেবা কার্যক্রম শুরু হয়; যা এখনো চলমান।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ঘটনাক্রমে, টেস্টিং কার্যক্রমের সাময়িক স্থগিতের কারণ হিসেবে ল্যাব পরিচালনায় স্বেচ্ছাসেবক-লোকবল ঘাটতি ও আরএনএ কনটামিনেশন নিরসন সংক্রান্ত মূল কারণ চাপা পড়ে যায়; অর্থ সংশ্লেষণের বিষয়টি শীর্ষে উঠে আসে।
বর্তমানে এ ল্যাবটিকে ভাইরোলজি বিষয়ে উচ্চতর গবেষণনার জন্য বায়োলজিক্যাল হ্যাজার্ড অ্যানালাইসিস এ্যান্ড হেল্থ রিসার্চ ল্যাবরেটরি নামে একটি স্বতন্ত্র ল্যাবে রূপান্তর করা হয়েছে। এ ল্যাবে টেস্টিং এর পাশাপাশি ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিংও করা হয়েছিল।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিতে সুপারিশ, ৩ পুলিশের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

0

কক্সবাজারের একটি রোহিঙ্গা পরিবারের ১০ সদস্যকে পাসপোর্ট দেওয়ার সুপারিশ করায় তিন পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
ওই রোহিঙ্গা পরিবারের সদস্যরা অবৈধভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ায় ও স্মার্ট কার্ড পাওয়ায় সাবেক জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
পাশাপাশি পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট ও স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করায় রোহিঙ্গা পরিবারটির ১৩ সদস্যকেও আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এ মামলাটি করেন সংস্থার উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার সাবেক পরিদর্শক এসএম মিজানুর রহমান, রুহুল আমিন, প্রভাষ চন্দ্র ধর ও কক্সবাজার জেলার সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেনকে।
তারা বর্তমানে কেউ কক্সবাজারে নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা বর্তমানে কর্মরত আছেন।
আসামি রোহিঙ্গা নাগরিকরা হলেন- মো. তৈয়ব, তার তিন ভাই মোহাম্মদ ওয়াসেস, মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, মোহাম্মদ রহিম, স্ত্রী নূর হামিদা, সন্তান আব্দুর রহমান, আব্দুস শাকুর, নূর হাবিবা, বোন আমাতুর রহিম, ভগ্নিপতি নুরুল আলম ও বোনের তিন ছেলে মেয়ে আসমাউল হুসনা, আমাতুর রহমান ও মো. ওসামা।
মামলার বাদী শরীফ উদ্দিন জানান, কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এ পরিবারটি রোহিঙ্গা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
“তাদের পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশি পাসপোর্ট, স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করে অনেকেই প্রবাস জীবন যাপনও করছেন। তারা মায়ানমার থেকে পরিচিত লোকজনদের নিয়ে এসে পরিবারের সদস্য পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেতেও সহায়তা করেন বলে আমাদের তদন্তে এসেছে।”
এই পরিবারের অনেক সদস্য বাংলাদেশে অবস্থান করে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি।
দুদক কর্মকর্তা শরীফ বলেন, পরিবারটির সদস্যদের পাসপোর্ট পেতে পুলিশ জনপ্রতনিধিসহ অনেকেই সহায়তা করেছেন। তারা নির্বাচন কমিশনের অনিবন্ধিত ল্যাপটপের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, তৈয়বের পরিবারের আট সদস্যের পাসপোর্ট আবেদনে পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের পাসপোর্ট প্রাপ্তির সপক্ষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন। আর সেটি যাচাই বাছাই না করে একমত পোষণ করে অন্য পরিদর্শক প্রভাষ চন্দ্র ধর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলেন।
অপরদিকে তৈয়ব ও আমাতুর রহিমের পাসাপোর্ট আবেদনে পুলিশ পরিদর্শক রুহুল আমিন পাসপোর্ট প্রাপ্তির সপক্ষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় তারাও পাসপোর্ট পেয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের রোহিঙ্গা জন্মনিবন্ধন বইয়ের চারটি পৃষ্টা এবং জাতীয়তা সনদের বালাম বই ‘গায়েব’ করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা সেগুলো যাচাই বাছাই করলে সহজেই তা ধরতে পারতেন। কিন্তু তারা তা করেননি।
মামলার এক পর্যায়ে বলা হয়, নূর মোহাম্মদ আনছারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি আসামিদের রোহিঙ্গা উল্লেখ করে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিলের আবেদন করেছিলেন।
নির্বাচন কমিশন থেকে তা যাচাই করতে বলা হলে তৎকালীন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন অভিযুক্তদের পক্ষে ‘শক্তিশালী নথিপত্র’ আছে বলে মতামত দেন।
এছাড়াও আসামিদের ভোটর তালিকা নিবন্ধন ফরম-২ নির্বাচন কার্যালয়ে সংরক্ষিত না নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে দুদকের মামলায়।
শরীফ উদ্দিন বলেন, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে দুদক রোহিঙ্গাদের হাতে পাসপোর্টের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তখনই পুলিশ অভিযুক্ত রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বাতিলের জন্য প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল।
তিনি বলেন, আসামিদের পাসপোর্ট পেতে ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর সিদ্দিক ও কক্সবাজার আদালতের এক আইনজীবী তাদের পাসপোর্ট আবেদনে প্রত্যয়ন করেছিলেন।
এ মামলার তদন্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আরও আনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে বলেও জানান দুদক কর্মকর্তা শরীফ। সূত্র-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

প্রজেক্ট হিলসায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, মিললো নানা গুরুতর অনিয়ম

0

প্রজেক্ট হিলসা। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়াঘাটে আলোচিত রেস্টুরেন্ট। চালু করার মাসখানেক যেতে না যেতেই স্যোসাল মিডিয়ার কল্যাণে পেয়ে যায় ব্যাপক পরিচিতি। রাজধানী থেকে দলে দলে লোকজন পদ্মাপাড়ে বেড়াতে এসে হিলসায় ঢু মারেন। আর এ সুযোগেই তারা জড়িয়ে পড়ে অনাচারে।অনেকটা ‘বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট’এর মতো অবস্থাটা। আকাশচুম্বি দাম নিলেও মান আর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ওঠেছে প্রশ্ন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের লোকজন অভিযান চালিয়ে রেঁস্তোরাটিতে পেয়েছে নানা অনিয়মের চিত্র। রান্নার বাবুর্চিদের নোংরা অবস্থান, ফ্রিজে কাঁচামাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার রাখা, বিএসটিআইর অনুমোদনহীন বিভিন্ন খাদ্যপণ্যও পাওয়া গেছে।

ব্যতিক্রমী স্থাপত্য নকশার কারণে সবার নজরে আসলেও শুরুতেই খাবারের মানের চেয়ে দাম বেশি, সার্ভিস চার্জ নিয়ে অসন্তোষসহ নানা অভিযোগ রয়েছে ‘প্রজেক্ট হিলসা’ রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে। বুধবার শিমুলিয়াঘাটের অদূরে ইলিশ মাছের আদলে নির্মিত এই রেঁস্তোরায় অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তাদের অভিযানে উঠে এসেছে রেঁস্তোরাটির গুরুতর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র। কিচেন পরিষ্কার থাকলেও ফ্রিজে কাঁচামাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবারও মজুত রাখা হয়েছিল।’
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ জানান ‘রেঁস্তোরাটিতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণের সস ও নুডলসও পাওয়া গেছে। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন লাগবে। এক-দেড় হাজার মানুষের জন্য রান্না করার মতো খাবার মজুত ছিল। অর্থাৎ, এসব খাবারের মধ্যে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন সস, নুডলস ছিল।’এ ছাড়া, রেস্তোরাঁটির বাবুর্চি ও কর্মচারীদের টয়লেটের পর সাবান ব্যবহার না করার প্রমাণসহ বেশকিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে।
আসিফ আল আজাদ বলেন, ‘অভিযানে রেঁস্তোরাটিতে অতিথিদের টয়লেটে সাবানের ব্যবস্থা থাকলেও বাবুর্চি ও স্টাফদের টয়লেটে কোনো সাবান পাওয়া যায়নি। টয়লেটের পর বাবুর্চিরা সাবান ব্যবহার করছিলেন না। শুধু পানি দিয়েই হাত পরিষ্কার করছিলেন। এ ছাড়া যে স্যান্ডেল পরে টয়লেটে যাওয়া হয় সেই স্যান্ডেল কিচেনেও ব্যবহার করা হয়। কিচেন পরিষ্কার থাকলেও ফ্রিজে কাঁচামাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবারও মজুত রাখা হয়েছিল, যা ঠিক নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘রেস্তোরাঁটিতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন বিপুল পরিমাণের সস ও নুডলসও পাওয়া গেছে। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন লাগবে। এক-দেড় হাজার মানুষের জন্য রান্না করার মতো খাবার মজুত ছিল। অর্থাৎ, এসব খাবারের মধ্যে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন সস, নুডলস ছিল।’
রেস্তোরাঁটির বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আসিফ আল আজাদ বলেন, ‘যেহেতু রেস্তোরাঁটি অল্প কিছু দিন আগে চালু হয়েছে, তাই আইনকানুন সম্পর্কে ভালোভাবে জানে না। তাদেরকে নিয়ম-কানুন জানানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো তাদের সতর্ক করা হয়েছে। মূলত ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ সম্পর্কে অবহিত করা ও কিভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে সেই নিয়ম-কানুন সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করা হয়েছে। এ ছাড়া সংশোধন হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে নিয়ম অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সুপ্রিমকোর্ট পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিলই রাখলো, লক্ষীপুরে উপনির্বাচনে বাধা নেই

0

অর্থ ও মানব পাচারের মামলায় কুয়েতের আদালতে দণ্ডিত লক্ষীপুর-২ আসনের সাংসদ কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল রাখার রিট আবেদন খারিজ করে দেয়া হাই কোর্টের আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।
এছাড়া সংসদ সদস্য পদ বাতিলের পর লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপ নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের রিট আবেদন খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনটিতে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
সংসদ সদস্য পদ বহাল রাখতে পাপুলের পক্ষে করা রিট আবেদন গত ৮ জুন সরাসরি খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।
ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডের কারণে পাপুলের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের বৈধতা, লক্ষ্মীপুর-২ নির্বাচনী আসন শূন্য ঘোষণা এবং উপনির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করেছিলেন তার বোন নুরুন্নাহার বেগম এবং পাপুলের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী শাহাদাত হোসেন।
হাই কোর্টে প্রাথমিক শুনানি শেষে আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেয়া হয়। এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হয়ে আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আসে। সেখানে প্রধানবিচারপতির নেতৃত্বে বেঞ্চে শুনানি শেষে তা খারিজ করে দেয়া হয়।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন করেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া। শুনানি নিয়ে গত ১৪ জুন হাই কোর্ট এই রিট আবেদন খারিজ করে দেয়।
এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আবুল খায়ের। এর শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ ‘নো অর্ডার’ দেয়।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যার্টনি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
আবুল খায়েরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, অ্যার্টনি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “দুটি আবেদনের একটি আবেদন খারিজ করেছে, আরেকটিতে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে লক্ষ্মীপুর-২ আসন শূন্য ঘোষণা ও উপনির্বাচনের তফসিল বৈধ এবং বহাল থাকল। ধার্য তারিখে নির্বাচন হতে বাধা নেই।”
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন পাপুল। পরে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করিয়ে আনেন।
অর্থ ও মানবপাচার এবং ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গত বছর জুনে কুয়েতে গ্রেপ্তার হন পাপুল। ওই মামলার বিচার শেষে গত ২৮ জানুয়ারি তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয় কুয়েতের একটি আদালত।
সেদিন থেকেই পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে পরে গেজেট জারি করে সংসদ সচিবালয়। ওই আসনে উপনির্বাচনের জন্য ২১ জুন তারিখ ঘোষণা করে তফসিলও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বাংলাদেশের কোনো আইনপ্রণেতার এভাবে বিদেশে দণ্ডিত হওয়া এবং সাজার কারণে পদ বাতিলের এটাই প্রথম ঘটনা।

পরীমণি, মদ ও ক্লাব নিয়ে আলোচনায় উত্তপ্ত সংসদ

0

ক্লাব ও মদ নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠলো সংসদ। সরকারি ও বিরোধিদলীয় সদস্যরা এ নিয়ে পডরস্পরকে ঘায়েলের চেষ্টাও করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠকের শুরুতে এই অনির্ধারিত আলোচনায় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও তরিকত ফেডারেশনের পাঁচ সাংসদের বক্তব্যর পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বৈঠকের শুরুতে এই অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করেন জাতীয় পার্টির সাংসদ মুজিবুল হক। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে একজন চিত্রনায়িকার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা বোট ক্লাব। কে করল এই ক্লাব? এই ক্লাবের সদস্য কারা হয়? শুনেছি, ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা দিয়ে এ ক্লাবের সদস্য হতে হয়। এত টাকা দিয়ে কারা ক্লাবের সদস্য হন? আমরা তো ভাবতেই পারি না।’
রাজধানীর কয়েকটি ক্লাবের নাম উল্লেখ করে মুজিবুল হক বলেন, `এসব ক্লাবে মদ খাওয়া হয়। জুয়া খেলা হয়। বাংলাদেশে মদ খেতে হলে লাইসেন্স লাগে। সেখানে গ্যালন–গ্যালন মদ বিক্রি হয়। লাইসেন্স নিয়ে খেতে হলে এত মদ তো বিক্রি হওয়ার কথা নয়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সরকারি কর্মকর্তারা কীভাবে এসব ক্লাবের সদস্য হন? এত টাকা কোথা থেকে আসে?’ এসময় মুজিবুল হক আরও বলেন, ‘গুলশান-বারিধারা এলাকায় ডিজে পার্টি হয়। সেখানে ড্যান্স হয়। নেশা করা হয়। মদ খাওয়া হয়। এসব আমাদের আইনে নেই, সংস্কৃতিতে নেই, ধর্মে নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন, কেন এসব হচ্ছে? কেন এগুলো বন্ধ করা হবে না? ওইসব ক্লাবের সদস্য কারা হয়?’
মুজিবুল হকের বক্তব্যের পর সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘এ তো বোট ক্লাব। জিয়াউর রহমান স্টিমার ক্লাব করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু মদ-জুয়ার লাইসেন্স বন্ধ করে দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান আবার দিয়েছিলেন। হিজবুল বাহার করেছিলেন। যারা অপরাধের শুরু করেছেন, তাদের আগে বিচার করা উচিত। ওখান থেকে ধরতে হবে।’
শেখ সেলিমের বক্তব্যের জবাবে বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের বিরোধীদলের এক সংসদ সদস্য (মুজিবুল হক) একটা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু সিনিয়র এক সদস্য (শেখ সেলিম) কোথায় চলে গেলেন?’
হারুন আরও বলেন, ‘বিদেশি কূটনীতিক, ডোম ও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য জিয়াউর রহমান মদের বৈধতা দিয়েছিলেন। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে জিয়াউর রহমান মুসলমানদের জন্য মদের লাইসেন্স দিয়েছেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।’
হারুনের বক্তব্যের জবাবে আবার সংসদে শেখ সেলিম বলেন, ‘লাকী খানের নাচের কথা কি ভুলে গেলেন? হিজবুল বাহার? জিয়াউর রহমান এগুলো করেছিলেন। এসবের জন্য বিএনপি দায়ী। সত্যকে স্বীকার করে নিতে হবে।’
এরপর তরিকত ফেডারেশনের সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘হারুন সাহেবের সদস্যপদ আজই ছেড়ে দেওয়া উচিত। উনি বললেন, জিয়াউর রহমান মুসলমানদের মদ খাওয়ার পারমিশন দেননি। উনি দেখাক, আইনে কোথায় বলা আছে, মুসলমানরা মদ খেতে পারবেন না। আইন এখানে এনে দেখাক। পদ ছেড়ে দিক।’
এরপর জাতীয় পার্টির সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু লাইসেন্স দেননি। তারপর আইনটার অপব্যবহার হচ্ছে। একজন চিকিৎসক দিয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে নেয়, জীবন বাঁচানোর জন্য প্রতিদিন মদ খেতে হবে। তারপর লাইসেন্স নেওয়া হয়। বিএনপি এই লাইসেন্স দিয়েছিল।’ এসময় ইসলামিক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানকে খুঁজে বের করার দাবি জানান মশিউর রহমান।

পরীমণির বিরুদ্ধে দলবল নিয়ে গুলশানে ক্লাবে উশৃঙ্খলতা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

0

বোট ক্লাব থেকে অল কমিউনিটি ক্লাব। বিতর্ক যেনো পিছুই ছাড়ছেনা নায়িকা পরীমণির । মধ্যরাতে বোটক্লাবে গিয়ে যৌন হয়রানীর শিকার হন। এ নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে দেশজুড়ে। আর বুধবার জানা গেলো আরেক ঘটনা। বলা হচ্ছে বোটক্লাব কেলঙ্কারির আগের রাতে পরীমণি তার দলবলসহ মধ্যরাতে হাজির হন গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে। সেখানে তিনি উশৃঙ্খল আচরণ করেন। ভাংচুর পর্যন্ত করেন। বিষয়টি এতোদিন চাপাই ছিলো। কিন্তু বোটক্লাব কেলঙ্কারির ঘটনায় পরীমণিরও বিভিন্ন অঘটনের খবর প্রকাশ পেতে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে পরীমণি বিভিন্ন বারে গিয়ে মাদক গ্রহণ করেন এবং উশৃঙ্খল আচরণ করেন। তিনি একাই নন সঙ্গে নিয়ে যান দলবল।

তবে ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমণির ওপর হামলা ও যৌন নির্যাতন ,এ ঘটনায় মামলা, ক্লাবের প্রভাবশালীসদস্যসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ফলে মনে হচ্ছে এখানে পক্ষ থেকে নানা প্রতিপক্ষের সৃষ্টি হচ্ছে।
পরীমণির বিরুদ্ধে ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগে গুলশান থানায় একটি জিডি দায়ের করেছে অল কমিউনিটি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে ঢাকা বোট ক্লাবকাণ্ডের পর আরও কিছু বিষয় খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে তারা। বিশেষ করে নিয়ম ভেঙে কয়েকটি ক্লাবে মধ্যরাতে এই নায়িকার যাতায়াত ও মদ্যপানের খোঁজ-খবর করছে পুলিশ।

ইতিমধ্যে গুলশান ও বনানী থানার পুলিশ বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি ক্লাবের কর্মকর্তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, হঠাৎ করে মধ্যরাতে পরীমণি এসে হাজির হন। অনেক সময় নিয়ম ভেঙে পরীমণির জন্য বার খোলা রাখতে হয়। তিনি কিছু শুনতেও চান না। উশৃঙ্খল আচরণ করেন।

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ৭ জুন গভীর রাতে ৯৯৯–এর একটি কলে গুলশান থানা-পুলিশের একটি দল অল কমিউনিটি ক্লাবে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কথা-কাটাকাটির জেরে ক্লাবে গ্লাস ভাঙচুর করেছেন পরীমণি। পরে আর এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেননি। আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা (পুলিশ) ক্লাবে আবারও পরিদর্শনে যাব।’

এদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে অল কমিউনিটি ক্লাবের সভাপতি কে এম আলমগীর ইকবাল বেসরকারি‘সময় টেলিভিশন’কে বলেছেন, ঘটনার দিন পরীমণি একজন সদস্যের মাধ্যমে কয়েকজনকে নিয়ে ক্লাবে আসেন। তার পোশাক দেখে ক্লাবের একজন সদস্য আপত্তি তোলেন। তাঁকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু পরীমণি তার কথা না শোনায়, তিনি নিজেই চলে যান। পরীমণি যে সদস্যের মাধ্যমে এসেছিলেন তিনিও পরীমণিকে চলে যেতে বলেন। পরিমণি কথা না শোনায় এক পর্যায়ে ওই সদস্যও চলে যান।

আলমগীর ইকবাল বলেন, পরীমণি তখন চিৎকার চেচামেচি শুরু করেন। ক্ষিপ্ত হয়ে গ্লাস, ছাইদানী ছুড়ে মারতে থাকেন। এ সময় ক্লাবের লোকজন ৯৯৯ –এ কল করেন। পুলিশ আসার পরও তিনি এগুলো ছুড়তে থাকেন। তখন ক্লাবের দুজন ওয়েটার ছিল। এ সময় পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের অভিযোগ শোনেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশের অনুরোধে পরীমণি ও অন্যরা চলে যান। এরপর আর কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, পরীমণি যে সদস্যের সঙ্গে ক্লাবে এসেছিলেন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ৮ জুন বুধবার রাতে বোট ক্লাব কাণ্ডের তদন্তে নেমে কেচো খুঁড়তে সাপ বেরুচ্ছে। তার ব্যাপারে জানাতে ঢাকার একাধিক ক্লাবের কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

তারা পুলিশ ও গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, পরীমণি তার কস্টিউম ডিজাইনার জিমিসহ কয়েকজন যুবক-যুবতী নিয়ে প্রায়রাতেই অভিজাত ক্লাব ও তারকা হোটেলে ঘুরে বেড়াতেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে মদ পান করতেন মধ্যরাত পর্যন্ত। এক্ষেত্রে প্রায় রাতেই তার কারণে ক্লাবের আইন ভাঙা হতো। বিশেষ করে হাফপ্যান্ট পরে তার সঙ্গী হওয়া জিমি ড্রেসকোডের তোয়াক্কা করতেন না কখনোই। এক ক্লাবে সময় কাটিয়ে তিনি যেতেন আরেক ক্লাবে।
গুলশান পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত ৩ জুন রাত ১২টার পর পরীমণি, তার সাবেক প্রেমিক তামিম হাসান ও দু’টি বেসরকারি টেলিভিশনের দু’জন কর্মকর্তা পরিচয়ধারীকে নিয়ে গুলশানের একটি অভিজাত ক্লাবে যান। তখন তারা মদ্যপ ছিলেন। ক্লাবে ঢুকে পরীমণি ও অন্যরা বার ব্যবহার করতে চান। বার বয় জালাল এতে অসম্মতি জানালে পরীমণি তার গালে চড় মারেন। ক্লাব কর্মকর্তারা বেসামাল আচারণের প্রতিবাদ করলে তিনি নিজেই পুলিশে কল করেন। গুলশান থানা পুলিশের দু’টি পিকআপ ভ্যান সেখানে যায়।
পরে তারা বুঝিয়ে পরীমণিকে বাসায় পাঠান। এ খবর পুলিশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসার পর বনানী থানা পুলিশ ওই ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বার বয় জালালের কাছ থেকে সেই রাতের ঘটনা জানতে চায়। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এজন্য পুলিশের কাছে সময় চেয়েছেন বলে জানা গেছে।