ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ৯:৩৭ 

Home Blog Page 110

হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায়

0

নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে রাজধানীর হাজারীবাগ ও যাত্রাবাড়ী থানার দায়ের করা দুই মামলায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (১৬ জুন) বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুন অর রশিদ।
গত ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতালের দিন রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকা থেকে নিপুণ রায়কে আটক করে সাদা পোশাকের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে নিপুণ রায় গাড়িতে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন— সে সময় এমন একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তাকে আটক করা হয়। এরপর নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় মামলা হয়।
এছাড়া রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দায়ের করা বেআইনি সমাবেশ, গুরুতর আঘাত ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা অপর মামলায় নিপুণ রায় চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই দুই মামলায় তাকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন কারাভোগে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নিপুণ রায়। তার মুক্তির দাবি জানিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সভা-সমাবেশ করে আসছে বিএনপি।

আবুধাবিতে হয়রানি: দুই বাংলাদেশি যাত্রিকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে ইতিহাদ এয়ারওয়েজকে হাইকোর্টের নির্দেশ

0

আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথি ও মেয়ে তানজিন বৃষ্টিকে হয়রানির অভিযোগে ইতিহাদ এয়ারওয়েজকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পরবর্তী মাস থেকে ২০ কিস্তিতে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। নারী যাত্রীদের সঙ্গে অধিকতর সতর্কতার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে রায়ে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের বেঞ্চ বুধবার ১৯২ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশিত হয়। রিটকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত বছরের ৮ অক্টোবর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল আংশিক মঞ্জুর করে হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত বলেন, দুজন নারীকে আবুধাবি এয়ারপোর্টে যে ধরনের হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছে, তা অর্থদণ্ড দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। আদালত ‘নেগলিজেন্স গেস টর্ট’ আইনের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের রায় প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া আদালত ইতিহাদ এয়ারওয়েজকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেন, যেন জেন্ডার বা শরীরের রং বিবেচনায় ভবিষ্যতে কোনো যাত্রীর সঙ্গে এ রকম আচরণ করা না হয়।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ। ইতিহাদের কান্ট্রি ম্যানেজারের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আজমালুল হোসেন কিউসি ও মো. আজিজ উল্লাহ ইমন।
২০১১ সালের ২৮ জুন আবুধাবি এয়ারপোর্টে এ দুই নারীকে হয়রানি/নির্যাতন/আটকের ঘটনা ঘটে। এরপর একই বছর ইতিহাদ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেন বাংলাদেশি যাত্রী তানজিন বৃষ্টি। রিটে বিবাদীরা হলেন পররাষ্ট্র সচিব, সিভিল এভিয়েশন সচিব ও চেয়ারম্যান, এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ইতিহাদের অপারেশন ম্যানেজার, কান্ট্রি ম্যানেজারসহ সাতজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১৪ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সহধর্মিণী।

পরীমনির ঘটনা; মাদকের মামলায় নাসির-অমিসহ তিন নারী রিমান্ডে

0

ঢালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ (৬৫) ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে (৩৩) রাজধানীর বিমানবন্দরে দায়ের হওয়া মামলায় ৭ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি নাসিরের তিন নারীকে ৩ দিন করে রিমান্ডে দেওয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আসামিদের রিমান্ডে নিতে আদালতে তুলে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসি শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি গুলশান জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক উদয় কুমার মন্ডল আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু রিমান্ড আবেদনের পক্ষে এবং আসামি পক্ষে ঢাকা বার সভাপতি আব্দুল বাতেন, সেক্রেটারি খোন্দকার হযরত আলী, এ এইচ এম ইমরুল কায়সারসহ আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার অন্য আসামিরা হলেন লিপি আক্তার (১৮), সুমি আক্তার (১৯) ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধা (২৪)। তারা নাসিরের রক্ষিতা হিসেবে কাজ করতেন। মঙ্গলবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে তোলা হয়।
গত সোমবার দুপুরে ওই পাঁচজনকে রাজধানীর উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরের-১২ নম্বর রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ওইদিন সকালে ব্যবসায়ী নাসির মাহমুদসহ ছয়জনকে আসামি করে সাভার থানায় মামলা দায়ের করেন পরীমনি।
অভিযান শেষে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশীদ সাংবাদিকদের জানান, এটা পরীমনির কস্টিউম ডিজাইনার অমির বাসা। পরীমনির সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে ওই তিন নারীকে নিয়ে এ বাসায় পালিয়ে ছিলেন নাসির। মাদক রাখার অভিযোগে সেই তিন নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে, রোববার (১৩ জুন) রাত পৌনে ১১টার দিকে বনানীর নিজ বাসায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন পরীমনি। তার আগে পরীমনির একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে মুহূর্তেই তোলপাড় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যেখানে তিনি তাকে বাঁচানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন।

পরীমণির মামলায় প্রধান আসামি নাসির, অমিসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার, মাদক উদ্ধার

0

ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমণির করা মামলার প্রধান আসামি নাসির ইউ মাহমুদ, অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা তিনটার দিকে তাঁদের উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বাকি তিনজন হলেন লিপি, সুমি ও স্নিগ্ধা।
আসামিদের গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার মশিউর রহমান।

পরীমণির করা মামলায় মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকিরা অজ্ঞাতনামা।
চিত্রনায়িকা পরীমনি ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ, অমিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন। পুলিশ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরীমণির মামলার ঘটনাটি ঢাকা জেলা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগও (ডিবি) ছায়া তদন্ত করছে।
পরীমণি রোববার রাতে বনানীর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের জানান, গত ৮ জুন রাতে পারিবারিক বন্ধু অমি ও ব্যক্তিগত রূপসজ্জাশিল্পী জিমির সঙ্গে বাইরে বের হন। বন্ধুটি তাঁদের নিয়ে যান আশুলিয়ার একটি ক্লাবে। সেখানে মদ্যপানরত কয়েকজনের সঙ্গে পরীমণির পরিচয় করিয়ে দেন অমি। ওই ব্যক্তিদেরই একজন হঠাৎ জোর করে তাঁর মুখে পানীয়র গ্লাস চেপে ধরেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় মারধর করা হয় পরীর সঙ্গে থাকা জিমিকেও।

চিত্রনায়িকা পরীমণির অভিযোগ, ঘটনার পরপরই বনানী থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে সে সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা তাঁর অভিযোগ রেকর্ড করেননি। বরং সকালে এসে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। এ সময় পুলিশের সাহায্যে পরীমণি হাসপাতাল পর্যন্ত গিয়েও আতঙ্কবশত চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান। এ ঘটনায় মারাত্মক ভেঙে পড়েছেন পরীমনি। ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
রোববার সন্ধ্যার সময় ফেসবুক পোস্টে পরীমণি অভিযোগ করেন, তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে এ অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার দাবি করেন তিনি।

ব্যবসায়ী নাসির মাহমুদসহ ৬ জনকে আসামি করে সাভার থানায় নায়িকা পরীমণির মামলা

0

চিত্রনায়িকা পরীমণিকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সাভার থানায় মামলা হয়েছে।
মামলায় ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও আবাসন ব্যবসায়ী নাসির ইউ. মাহমুদ ও অমির নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার জনকে আসামি করা হয়েছে। 
সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মাইনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মোট ছয় জনের নামে এই মামলাটি হয়েছে।

পরীমণি জানিয়েছেন, তিনি লিখিত একটি অভিযোগ রুপনগর ও সাভার থানায় দিয়েছিলেন।রূপনগর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বলেন, পরীমণি রুপনগর থানা ও সাভার থানায় গতকাল রাতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি যেহেতু সাভার থানার অন্তর্গত তাই আমরা রুপনগরের অভিযোগটিও সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছি।
রোববার রাতে পরীমণি বনানীতে নিজ বাসায় শারীরিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করেছেন। রাত ১১টায় তিনি দুজনের নাম উল্লেখসহ ঘটনার কিছু বিবরণ দেন।
পরীমণি বলেন, ‘আমাকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টাকারীদের একজন রাজধানীর উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসির ইউ. মাহমুদ এবং অন্যজন অমি নামের এক ব্যবসায়ী।’
তবে, তাদের বিস্তারিত পরিচয় দেননি তিনি।
পরীমণি বলেন, ‘গত বুধবার রাত ১২টার দিকে আমাকে বিরুলিয়ার একটি ক্লাবে নিয়ে যায় । সেসময় নাসির ইউ. মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন।’
‘সেখানে নাসির ইউ. মাহমুদ আমাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা করেন। অমিও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত,’ বলেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাসির ইউ. মাহমুদের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
রোববার প্রথমে ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে অভিযোগ তোলার পর রাতে সাংবাদিকদের বনানীর বাসায় ডেকে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে পরীমণি দুজনের নাম প্রকাশ করে জানান, একজনের নাম নাসির ইউ. মাহমুদ এবং অন্যজন তার (পরীমণি) কস্টিউম ডিজাইনার জেমীর স্কুলবন্ধু অমি নামের এক ব্যবসায়ী। এসময় পরীমণি আরও জানান, নাসির ইউ. মাহমুদ নিজেকে উত্তরা বোট ক্লাবের (ঢাকা বোট ক্লাব) সাবেক সভাপতি বলে নিজেকে দাবি করেন। পরীমণি বলেন, ‘গত বুধবার (৯ জুন) রাত ১২টায় আমাকে বিরুলিয়ায় নাসির ইউ. মাহমুদের কাছে নিয়ে যায় অমি। সেখানে নাসির ইউ. মাহমুদ আমাকে মদ খেতে অফার করেন। আমি রাজি না হলে আমাকে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। তারপর আমাকে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করেন। অমিও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।’

এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে বনানী থানায় গিয়েছিলেন দাবি করে পরীমণি বলেন, ‘থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার অভিযোগ শুনলেও লিখিত কোনো কাগজপত্র নেয়নি। থানা থেকে তেমন কোনো সাড়া না পেয়ে চলে আসি।’

তবে পরীমণির এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া। তিনি জানান, ‘বুধবার (৯ জুন) মধ্যরাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে পরীমণি বনানী থানায় এসেছিলেন। ওই সময় তিনি বেসামাল ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় কারও অভিযোগ নেওয়া যায় না।’
ওসি আরও বলেন, সেদিন মধ্যরাতে থানার দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার আমাকে জানান, ‘পরীমণি মদ্যপ অবস্থায় বলেছিল যে তাকে জোর করে মদ খাওয়ানো হয়েছে। তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছে। তবে পরীমণির কথায় নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তাই ডিউটি অফিসার পরীমণিকে প্রথমে চিকিৎসা নিতে বলেন। চিকিৎসার পর অভিযোগ শোনার আশ্বাস দিয়েছিলেন।’
ওসি জানান, ‘এরপর পুলিশের একটি দল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে (অ্যাপোলো হাসপাতাল) নিয়ে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে পরীমণি আর অভিযোগ করেননি।’ তিনি বলেন, ‘বেসামাল অবস্থায় অভিযোগ নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা রবিবার রাত পর্যন্ত তাকে বেশ কয়েকবার লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তিনি মধ্যরাত পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেননি।’
বিচার চেয়ে শিল্পী সমিতির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন জানিয়ে পরীমণি দাবি করেন, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক (অভিনেতা) জায়েদ খান তাকে আশ্বস্ত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন।

দেশের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি। ২০১৫ সালে ভালোবাসা সীমাহীন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক হয়। এরপর দাপিয়ে অভিনয় করেছেন। সম্প্রতি দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই অভিনেত্রী। সেই সব ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় হরদম পোস্ট করে যাচ্ছেন তিনি।

মডেলিং এর মাধ্যমে তার কর্ম জীবন শুরু করেন পরীমণি। তিনি বিভিন্ন নৃত্যানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং টিভি নাটকে অভিনয় করেন। মডেলিং থেকে ছোটপর্দায় এবং তারপর রূপালী পর্দায় অভিনয় শুরু করেন পরীমণি। অভিনয় জীবন শুরু করেন টিভি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। সেকেন্ড ইনিংস, এক্সক্লুসিভ, এক্সট্রা ব্যাচেলর, নারী ও নবনীতা তোমার জন্য এ চারটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছেন। এর মধ্যে জাকারিয়া শৌখিন রচিত নারী ও নবনীতা তোমার জন্য নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন পরীমণি। এতে চিত্রনায়ক আমিন খান, চিত্রনায়িকা পপি এবং ঈশানাও অভিনয় করেছিলেন। প্রথম অভিনীত নাটকেই তিনি ইলিয়াস কাঞ্চন এবং চম্পার সঙ্গে অভিনয় করেন।

 

খালেদা জিয়ার জন্মদিন বিতর্ক গড়ালো আদালতে; সব নথি চেয়েছে হাই কোর্ট

0

খালেদা জিয়ার জন্মদিন বিতর্ক গড়ালো আদালতে; সব নথি চেয়েছে হাই কোর্ট

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে যে বিতর্ক আর সন্দেহ রয়েছে তা নিস্পত্তির জন্য শেষ পর্যন্ত আদালতেই যেতে হলো। খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্মতারিখ জানতে এক রিট আবেদন গ্রহণ করে এ সংক্রান্ত সকল নথি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেয়।
দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, পররাষ্ট্র সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শোক দিবসের ভাব-গাম্ভীর্যকে ‘বিকৃত ও ক্ষুন্ন করায়’ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন হিসেবে বিভিন্ন তারিখের উল্লেখ থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের নিস্ক্রিয়তা কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি’ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ও গুলশান থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। এ ছাড়া বিএনপির যুগ্মমহাসচিব আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানিতে অংশ নেন।
আদেশের সময় বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রিট আবেদনটি করা হয়েছে, এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এম ইনায়েতুর রহিম তখন বলেন, “এটা রুল শুনানির সময় আমরা দেখব।”
গত আড়াই দশক ধরে খালেদা জিয়া ১৫ অগাস্ট তার জন্মদিন পালন করে আসছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা রয়েছে।
বিভিন্ন নথিতে তার আরো জন্মদিনের হদিস পাওয়ায় কোনটি খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্মদিন তা নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। তার জন্মসাল নিয়েও দুই রকম তথ্য মিলেছে এর আগে।
হাই কোর্টে শুনানি শেষে ডিএজি বিপুল বাগমার সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিন হিসেবে পাঁচটি তারিখ ব্যবহার করার কথা রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, তার এসএসসির নম্বরপত্রে জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬। বিবাহ নিবন্ধনে জন্ম তারিখ লেখা রয়েছে ৯ অগাস্ট ১৯৪৪। ২০০১ সালে নেওয়া তার মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে জন্ম তারিখ ৫ অগাস্ট ১৯৪৬। চলতি বছরের মে মাসে তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রতিবেদনে জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ৮ মে ১৯৪৬। আর তিনি জন্মদিন পালন করেন ১৫ অগাস্ট, জাতীয় শোক দিবসে।
“ফলে আদালত খালেদা জিয়ার জন্মদিন সংক্রান্ত সব রেকর্ড চেয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তা দাখিল করতে বলা হয়েছে বিবাদীদের,”
খালেদা জিয়ার বিভিন্ন জন্মতারিখ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে গত ৩১ মে হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী মামুনুর রশিদ।
উল্লেখ্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন ১৫ আগষ্ট খালেদা জিয়া জন্মদিন পালন করছেন গত ২৫ বছর ধরে। এর আগে তিনি এ দিনে জন্মদিন পালন করতেন না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই জাতির শোকের দিন বিএনপি ও সমমনারা জন্মদিন পালন করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ধর্ষণ মামলায় শিশু আসামি; জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ হাইকোর্টের

0

বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশুকে গ্রেফতার পরে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ওসিসহ ৩ পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ও দুই এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই চার শিশুকে প্রিজনভ্যানে তোলার অপরাধে আরও চার পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত মামলার রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার (১৩ জনু) এ রায় দেন। আদালতের এই আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল হালিম।
রায়ে চার শিশুকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. এনায়েতউল্লাহর ফৌজদারি মামলার বিচারিক এখতিয়ার প্রত্যাহার করে নিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জিএ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে তাকে দেওয়ানি মামলা পরিচালনার এখতিয়ার প্রদান করতে বলা হয়েছে।
আদালত বলেছে, শিশু আইনে পুলিশ কর্মকর্তা ও বিচারকদের শিশুর অধিকার রক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য যে নির্দেশনা রয়েছে তারা তা পালন করেননি। যদি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে এ ধরনের ঘটনা বাড়তেই থাকবে। তাই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও তিন পুলিশ সদস্যের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন নাকচ করে এই নির্দেশনা দেওয়া হলো।
রায়ে হাইকোর্ট শিশুদের গ্রেফতার ও তাদের আটকাদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।

রায়ে হাইকোর্ট দেশের সকল থানায় শিশুবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ, শিশু ডেস্ক স্থাপন এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় যে ধরণের নির্দেশনা রয়েছে তা সকল থানায় টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা: কার্টুনিস্ট কিশোর-সামিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

0

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সামিউল ইসলাম খান ওরফে সায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি এবং কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও রাষ্ট্রচিন্তার মো. দিদারুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিটিসি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আফসার আহমেদ গত ১০ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এ চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছেন। আদালতের রমনা জেনারেল রেকডিং (জিআর) শাখা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নিজাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার্জশিটের অপর আসামিরা হলেন সুইডিশ-বাংলাদেশের সাংবাদিক নেত্র নিউজ সম্পাদক তাসনীম খলিল, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ব্লগার আশিক মোহাম্মাদ ইমরান ও মো. ওয়াহিদুন-নবী।
অন্যদিকে কারাগারে থাকা অবস্থায় লেখক মোস্তাক আহম্মেদ মৃত্যুবরণ করায় এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ আলম, ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় ও ফেসবুক আইডি ফিলিপ শুমাখার নাম ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি মামলাটির আগের তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানা পুলিশের এসআই মহসীন সর্দার প্রথম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সেখানে কার্টুনিস্ট কিশোর ও রাষ্ট্রচিন্তার দিদারুল এবং লেখক মোস্তাককে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে সায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি ও মিনহাজ মান্নান, আশিক মোহাম্মাদ ইমরান, তাসনীম খলিল ও মো. ওয়াহিদুন-নবীসহ আটজনকে অব্যাহতি চাওয়া হয়েছিল।
চার্জশিটে আল-জাজিরা টেলিভিশনে সরকারপ্রধান এবং সেনাপ্রধানকে নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদনে প্রধান চরিত্র হিসেবে সামিউল ইসলাম খান ওরফে সায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি অব্যাহতি পাওয়া নিয়ে সংবাদপত্রে আলোচনা-সমালোচনা হওয়ায় মামলাটি পরে অধিকতর তদন্তে পাঠানো হয়। অধিকতর তদন্ত শেষে এবার সাতজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হলো।
আসামিদের মধ্যে সায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি অবসর প্রাপ্ত লে. কর্নেল আব্দুল বাসেত খানের ছেলে। ২০০৬ সালের ২০ জুলাই র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের এ জে টেলিকমিউনিকেশন থেকে ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার মোবাইল ফোন কিনে একটি ভুয়া চেক দেন সামিউল। একইভাবে প্রাইজ ক্লাব নামক একটি কম্পিউটার ফার্ম থেকে ল্যাপটপ কেনা নিয়েও প্রতারণা করেন। চেক ডিজঅনারের অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনার পর অনিয়ন্ত্রিত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য সামিউলকে ত্যাজ্য করেন তার বাবা লে. কর্নেল (অব.) আবদুল বাসেত। ঠিক এর পরদিন কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসার পথে ২০০৬ সালের ২৩ জুলাই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন বাসেত। সামির প্রকৃত নাম সামিউল আহমেদ খান। তবে তথ্য গোপন করে সামিউল তার নামে যে পাসপোর্ট করেন, সেখানে তার নাম দেওয়া হয় জুলকার সায়ের খান। এমনকি পাসপোর্টে বাবার নামও বদলে কর্নেল ওয়াসিত খান করেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৫ মে র‌্যাব-৩-এর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক রমনা থানায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, মোস্তাক আহমেদ, দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, মিনহাজ মান্নানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, মহামারি করোনাভাইরাস সম্পর্কে গুজব, রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তারা রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন মর্মে অভিযোগ আনা হয়।
কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, মুস্তাক আহমেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে I AM BANGLADESHI নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট, মহামারি করোনা, সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতার কার্টুন দিয়ে গুজব ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির’ অভিযোগ আনা হয়। মামলার পর গ্রেপ্তার হয়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মিনহাজ মান্নান ও দিদারুল ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পান। কার্টুনিস্ট কিশোর ও লেখক মোস্তাক কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ২৫ মে মোস্তাক কাশিমপুর কারাগারে মারা যান।

সিরিয়ায় ‘যুদ্ধ করে’ দেশে ফিরে গ্রেপ্তার, জঙ্গি সাখাওয়াত রিমান্ডে, মিলছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

0

সিরিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় ‘জিহাদী কার্যক্রম’ চালিয়ে ফিরে আসা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য সাখাওয়াত হোসেন লালুকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
শনিবার বিকেলে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে মহানগর হাকিম হোসেন মোহাম্মদ রেজা ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুক্রবার নগরীর দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকার আহলে হাদিস জামে মসজিদ এলাকা থেকে নগরীর দামপাড়া এম এম আলী রোড এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াতকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে তুরস্ক হয়ে সিরিয়া যান সাখাওয়াত হোসনে। সেখানে প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধ শেষে ইন্দোনেশিয়া গিয়ে ‘জিহাদী’ কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন। ২২ মার্চ ইন্দোনেশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন।
গত ২২ মার্চ ইন্দোনেশিয়া থেকে দেশে ফেরার তিন মাস পর শুক্রবার নগরীর খুলশী এলাকা থেকে সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৪০ বছর বয়সী সাখাওয়াতের বাসা নগরীর দামপাড়া এমএম আলী রোড এলাকায়।
১৯৯৭ সালে মাধ্যমিক পাস করা সাখাওয়াত উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন ভারতের ব্যাঙ্গালুরের জহরলাল নেহেরু প্রি ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে।
২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কম্পিউটার ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার বিষয়ক বিভিন্ন কোর্স করেন এবং ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখান থেকে ২০১১ সালে দেশে ফিরে আসেন।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এসআই রাসিব খান বলেন, ২০১২ সালে ভায়রা মো. আরিফ ও মামুনদের অনুপ্রেরণায় নিষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল ইসলামে যুক্ত হন সাখাওয়াত। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ ও প্রচারের কাজ করতেন তিনি।
“সাখাওয়াত ইন্টারনেটে বিভিন্ন জিহাদী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংগঠনটির আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।”
আনসার আল ইসলামের পলাতক নেতা, সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত মেজর জিয়াউল হকের সঙ্গেও সাখাওয়াতের দেখা হয়েছিল বলে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান।
রাসিব খান জানায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে তুরস্ক গিয়ে সেখান থেকে অবৈধভাবে সিরিয়া ঢুকেছিলেন সাখাওয়াত। সেখানে ‘হায়াত তাহরীর আরশাম’ নামে একটি সংগঠনে থেকে ভারী অস্ত্রচালনার প্রশিক্ষণ নিয়ে সিরিয়ার ইদলিব শহরে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, সিরিয়া থেকে পুনরায় তুরস্ক ফিরতে ১০ বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন সাখাওয়াত। একাদশ বার তিনি সফল হন।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট কর্মকর্তা রাসিব বলেন, তুরস্কে কিছু দিন থেকে সাখাওয়াত ২০১৯ ইন্দোনেশিয়াতে চলে যান। সেখানে স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি, সন্তানদের নিয়ে যান।
শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকার কেন্দ্রীয় আহলে হাদিস জামে মসজিদ এলাকা থেকে সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ট্যাব, নোটবুক, জিহাদী কাগজপত্র ও একটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বাবুল আক্তারের সন্তানদের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হাজির করার নির্দেশ, মা’ হত্যার গরুত্বপূর্ণ সাক্ষী তারা

0

স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলার আসামি পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের দুই সন্তানকে তদন্ত কর্মকর্তার সামনে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমান এই আদেশ দেন। কারাগারে আটক বাবুলের বাবা ও ভাইকে ১৫ দিনের মধ্যে এই নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমার মিতুর দুই সন্তানকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী’ উল্লেখ করে আদালতে করা আবেদনে বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন। কিন্তু বারবার উদ্যোগ নিয়েও তা সম্ভব হয়নি।
বাবুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তার ১২ বছরের ছেলে এবং আট বছরের মেয়েটি তার পরিবারের কাছে রয়েছে।
মাতৃহীনা শিশু দুটিকে নিজেদের কাছে নিতে গত মাসে ঢাকার আদালতে আবেদন করেন মিতুর বাবা ও হত্যা মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন। তবে তিনিও এখনও পর্যন্ত নাতি-নাতনীর দেখা পান নি।
পিবিআই কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, “মাহমুদা আক্তার মিতুর বড় ছেলে হত্যাকাণ্ডের একজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ছোট মেয়ে পরিবারের সদস্য হিসেবে এ মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। সঙ্গত কারণে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন। “চেষ্টা করেও তাদের হাজির করতে না পেরে আমরা আদালতের কাছে আবেদন করেছি। আদালত আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সাক্ষীদের হাজির করতে তাদের দাদা ও চাচাকে নির্দেশ দিয়েছেন।”
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় মিতুকে।
পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে যোগ দিতে ওই সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল। তার ঠিক আগেই চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশে ছিলেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পর অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছিলেন বাবুল। পরে নানা গুঞ্জনের মধ্যে পুলিশের চাকরি ছাড়তে হয় তাকে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পর পিবিআই স্ত্রী হত্যাকাণ্ডে বাবুলের জড়িত থাকার কথা জানালে ১২ মে নতুন মামলা করেন মিতুর বাবা। ওই মামলায় এখন বাবুল কারাগারে আছেন।
আদালতে করা পিবিআই’র আবেদনে বলা হয়, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির করতে বাবুল আক্তারের বাবা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া এবং চাচা হাবিবুর রহমান লাবুকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও তারা সাড়া দিচ্ছেন না।
নাতি-নাতনীদের ‘খোঁজ না পেয়ে’ মিতুর বাবার আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়, “এতে প্রতীয়মান যে, সাক্ষীদের দাদা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া ও চাচা হাবিবুর রহমান লাবু সাক্ষীরা যাতে তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দিতে না পারে সেজন্য অন্য কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন।”
এদিকে বাবুল আক্তারের আইনজীবী আরিফুর রহমান বলেন, “আদালতে তদন্তকারী সংস্থার আবেদনের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমরা মামলার পক্ষভুক্ত। আদালত কোনো আদেশ দিয়ে থাকলে সে বিষয়ে জেনে পদক্ষেপ নেব।”
তিনি বলেন, “এর আগেও ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বাবুল আক্তারের সন্তানদের বিষয়ে জানতে চেয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল। ওই বিষয়ে ৩১ মে উপস্থিতির দিন ধার্য থাকলেও আমরা জানতে পেরেছিলাম পরের দিন। সেখানে আমরা আইনগতভাবে অগ্রসর হয়েছি। এখানেও হব।”
মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন জানান, “নাতি-নাতনীর কোনো খোঁজ আজ পর্যন্ত আমরা পাইনি। তাই গত মাসে ঢাকার আদালতে আবেদন করেছিলাম। সেখানে ৩১ মে এবং ৮ জুন ধার্য দিন থাকলেও আমার নাতি-নাতনীদের হাজির করা হয়নি। আগামী ১৫ জুন পরবর্তী দিন আছে।”
“আমরা নাতি-নাতনীদের কাছে রাখতে চাই,” বলেন তিনি।
মিতুর বাবা মোশাররফ যেমন একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক, তেমনি বাবুলের বাবা ওয়াদুদও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক। বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকম।