ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ৮:২১ 

Home Blog Page 111

নায়িকা পরীমণিকে ‘ধর্ষণ ও হত্যা’ চেষ্টা’র অভিযোগ; বিচার চাইলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে

0

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে।বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। আর এ ঘটনায় এখন তোলপাড় চলছে চলচ্চিত্র অঙ্গণে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে কে বা কারা কেনো এ হুমকি দিয়েছে তা প্রকাশ করেন নি পরীমণি।
রোববার সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভ্যারিফায়েড পেজে নিজেই এ কথা জানিয়েছেন পরীমণি। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে একটি আবেদনও করেছেন। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়েছেন।
ফেসবুকে কি পোস্ট করেছেন পরীমণি ?

বরাবর,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আমি পরীমণি। এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র।
আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি।
আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আমি এর বিচার চাই।
এই বিচার কই চাইবো আমি? কোথায় চাইবো? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু, আমি কাউকে পাই না মা।
যাদেরকে পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনা বিস্তারিত জেনে, দেখছি বলে চুপ হয়ে যায়!
আমি মেয়ে, আমি নায়িকা, তার আগে আমি মানুষ। আমি চুপ করে থাকতে পারি না। আজ আমার সাথে যা হয়েছে তা যদি আমি কেবল মেয়ে বলে, লোকে কি বলবে এই গেলানো বাক্য মেনে নিয়ে চুপ হয়ে যাই, তাহলে অনেকের মত (যাদের অনেক নাম এক্ষুণি মনে পড়ে গেল) তাদের মত আমিও কেবল তাদের দল ভারী করতে চলেছি হয়তো।
আফসোস ছাড়া কারোর কি করবার থাকবে তখন!
আমি তাদের মত চুপ কি করে থাকতে পারি মা?
আমি তো আপনাকে দেখিনি চুপ থেকে কোনো অন্যায় মেনে নিতে!
আমার মা যখন মারা যান তখন আমার বয়স আড়াই বছর। এতদিনে কখনো আমার এক মুহূর্ত মাকে খুব দরকার এখন,
মনে হয়নি এটা। আজ মনে হচ্ছে , ভীষণ রকম মনে হচ্ছে মাকে দরকার, একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরার জন্যে দরকার।
আমার আপনাকে দরকার মা। আমার এখন বেঁচে থাকার জন্যে আপনাকে দরকার মা।
মা আমি বাচঁতে চাই।
আমাকে বাঁচিয়ে নাও মা।

উল্লেখ্য ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা বেশ কয়েকবার বিয়ের পিঁড়িতে বসলেও কোনো সংসারই টিকে নি। সর্বশেষ মিডিয়া অঙ্গণের যার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিলো সেটিও কয়েকমাসের মধ্যে ভেঙ্গে যায়। ২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পরীমনির। সে বছর ‘রানা প্লাজা’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি, যদিও এখনো মুক্তি পায়নি ছবিটি। পরীমনি অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ভালোবাসব তোমায়’, ‘মহুয়া সুন্দরী’, ‘রক্ত’ ও ‘স্বপ্নজ

বিমানবন্দরের সীমানার ভেতর রেস্টুরেন্টে, জবাই করার সময় ১২০টি মরা মুরগিসহ ৭ জন আটক

0

অখ্যাত কোনো রেস্টুরেন্ট নয়, গোপনীয় কোনো স্থানেও নয়, খোদ রাজধানীতে, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সীমান ভেতরে খাবার হোটেলে মরা মুরগি জবাই করার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী।
পুলিশ জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরে অবস্থিত ‘এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট’। এখানেই শনিবার বিকেলে মরা মুরগি জবাই করার সময় ৭ জনকে আটক করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। গোপনসূত্রে খবর পেয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী আফরোজের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ১২০টি মরা মুরগি উদ্ধার করা হয়। যেগুলো জবাই করার জন্য রাখা হয়েছিলো।
বিমানবন্দর এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (১২ জুন) বিকেল ৩টার দিকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কাস্টমস হাউসের পার্শ্ববর্তী এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট-এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় হোটেল থেকে ২০০টি মুরগি উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মধ্যে ৮০টি মুরগি জীবিত ছিল, বাকি ১২০টি মৃত। মুরগি জবাই করার সময় হোটেলটির ম্যানেজার, স্টাফ ও মরা মুরগি বহন করা গাড়ির চালকসহ ৭ জনকে আটক করে এপিবিএন সদস্যরা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক মুরগি ভাইরাসজনিত কারণে মারা যায়। সেই মুরগি রান্না করে খেলে অন্ত্রে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। আর কেমিকেল যুক্ত মরা মুরগি খেলে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ৯৫ ভাগ। ওই খাবার অন্ত্রে গিয়ে ক্যানসার কিংবা কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিনই শত শত মরা মুরগি ঢুকছে রাজধানীতে। একাধিক সিন্ডিকেট জীবিত মুরগির চেয়ে তুলনামূলক অনেক কম দামে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট এবং পথের পাশে ভ্রাম্যমাণ ভাজা-পোড়া দোকানে এসব মুরগি বিক্রি করছে। ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে প্রতিরাতে যেসব মরা মুরগি আসে সেসব একটি সিন্ডিকেটের কাছে ঠিকা হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে ওইসব মুরগি ক্রেতাদের কাছে বস্তা বন্দী করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আবার ক্রেতারাও এসে নিয়ে যায় মরা মুরগি। সব কিছুই হয় ভোর রাতের দিকে।
এদিকে ঢাকার বিভিন্ন বাজারেও প্রকাশ্যে ভাগা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে মরা মুরগি। অসাধু দোকানিরা রাতভর বিভিন্ন মুরগির দোকান থেকে মরা মুরগি সংগ্রহ করে। পরে এসব মুরগি কেটে নাড়িভুড়ি পরিষ্কার করে তা কেজি দরে বিক্রি করে। রেস্টেুরেন্টে জীবিত মুরগির দামে মরা মুরগি বিক্রি করা গেলেও রাস্তার পাশের দোকানগুলো থেকে মরা মুরগি বিক্রি হয় তুলনামূলক কম দামেই। আর এসব মুরগির বেশিরভাগ ক্রেতাই হলো দরিদ্র পেশাজীবী মানুষ।

ভারতে নারী পাচার: দেশে ফিরে স্বামীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আরেক নারীর মামলা

0

ভারতে পাচার হওয়ার পর সেখান থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে আসা আরও এক নারী তার স্বামীসহ পাচারকারী চক্রের নয় জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় বৃহস্পতিবার এই নারী মানবপাচার ও বিদেশে যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগ এনেছেন মামলায়।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী গত ৩ মে পালিয়ে দেশে ফিরেন। তার স্বামী জাহিদুল ইসলাম রনি (২৭) তাকে ৪০ হাজার টাকায় পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে তার অভিযোগ।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ভালো বেতনে চাকরির কথা বলে রনি এ বছরের ৭ জানুয়ারি ওই তরুণীকে ‘নদী ম্যাডামের’ পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেন। নদী তাকে ভারতের পাচারকারী চক্রের সদস্যদের কাছে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে সীমান্ত পার করে ওই তরুণীকে ভারতের চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চার মাস আটকে রেখে তার ওপর যৌন নির্যাতন করেন চক্রের সদস্যরা। গত ৩ মে তিনি পালিয়ে ফিরতে সক্ষম হন।
পুলিশ জানায়, ‘তরুণীর স্বামীসহ দেশে অবস্থানকারী মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
এর আগে, ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে দেশে পালিয়ে আসা আরেক তরুণী গত ১ জুন রাতে হাতিরঝিল থানায় রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে হৃদয় বাবুসহ (২৬) পাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত ৭ মে দেশে ফিরেছেন তিনি।
৩ মে ফিরে আসা তরুণীকে পাচারের সঙ্গেও টিকটক হৃদয়ের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এক তরুণীকে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের ভিডিও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গত ২৭ মে ভারতের পুলিশ হৃদয়সহ আর পাঁচ বাংলাদেশিকে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় ৫০ সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের সন্ধান পায়।

হবিগঞ্জের ‘জঙ্গি নেতা’ বাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রেপ্তার

0

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলামের’ এক নেতা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মুফতি জসিমউদ্দীন তানভীরকে জঙ্গি সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলার শীর্ষ স্থানীয় নেতা বলে জিনিয়েছে র‌্যাব।
তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের ঘনশ্যামপুর দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র‌্যাব-৪ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, তানভীর হবিগঞ্জের স্থানীয় মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেসরকারি মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চরমপন্থার উসকানি দেওয়ার প্লাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করে আসছিল।
তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ের ৮০ ভাগ ইঞ্জিনের আয়ুশেষ, ৬৫ বছরের পুরোনো ইঞ্জিন দিয়ে গতি পাচ্ছে না ট্রেন, বিপর্যয়ের আশঙ্কা

0

রেলের ৮০ ভাগ ইঞ্জিনেরই আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। মেকানিক্যাল কোড অনুযায়ী রেলের একটি ইঞ্জিনের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ধরা হয় ২০ বছর। কিন্তু সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের বেশিরভাগ ইঞ্জিনের বয়স ৬০ থেকে ৬৬ বছর। এসব ইঞ্জিন দিয়ে ঠেলিয়ে ধাক্কিয়ে চলছে রেল। এতে করে রেল চলাচলের যেমন গতি পাচ্ছে না তেমনি এসব ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণের নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে রেলকে লোকসানি প্রতিষ্ঠান থেকে টেনে তোলা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন রেল সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন ৬৫ বছরের পুরোনো ইঞ্জিন দিয়ে কাঙ্খিত সেবা পাওয়া যাবে না।
রেল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বর্তমান সরকারের আমলে অন্তত ৪শ অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করা হয়েছে, যেগুলো ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতিতে চালানো সম্ভব ছিল। অথচ কেবল নতুন ইঞ্জিনের অভাবে অত্যাধুনিক এসব কোচ দিয়ে দ্রুতগতিতে ট্রেন চালানো যাচ্ছে না। পুরোনো ইঞ্জিন দিয়ে নতুন অত্যাধুনিক কোচের ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশী গতি তোলা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রেল চালকরা। এতে অত্যাধুনিক কোচগুলোও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রেলসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৬৫ বছর আগে ১৯৫৩ সালে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ের বহরে জিএমবি-১২ মডেলের ৪০টি ইঞ্জিন আসে। এর পর ৬৬ বছর ধরে এসব ইঞ্জিন এখনো দেশের রেলপথে চলছে। নিয়ম অনুযায়ি এসব ইঞ্জিনের মেয়াদ ১৯৭৩ সালেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এর পর থেকে জোড়াতালি দিয়ে চলছে। সূত্রটি জানিয়েছে ২৭৩টি ইঞ্জিনের মধ্যে ১৯৫টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। মেয়াদ আছে মাত্র ৭৮ টি ইঞ্জিনের। অনুসন্ধানে জানা যায়, রেলকে গতিশীল করতে সরকার ৩২৩ কোটি টাকা খরচ করে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০টি ইঞ্জিন কিনলেও এগুলো কেনায় গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ইঞ্জিন না দিয়ে নিম্নমানের ইঞ্জিন সরবরাহ করেছে দক্ষিণকোরিয়ার হুন্দাই কোম্পানী। এর সঙ্গে রেলওয়ের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত।এ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে, লোকোমোটিভগুলোর দরপত্রের কারিগরি স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান (ক্যাপিটাল কম্পোনেন্ট) ইঞ্জিন, অলটারনেটর ও ট্রাকশন মোটর সংযোজিত হয়নি। এছাড়া লোড বক্স টেস্টিং প্ল্যান্টের আওতায় ১১ ধরনের যন্ত্রাংশ সরবরাহের চুক্তি থাকলেও তা দেয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, রেলওয়ের একটি অসাধু চক্রের অদৃশ্য সহযোগিতায় চুক্তি ভঙ্গ করে ইঞ্জিনগুলো দেশে আনা হয়েছে। এসব ইঞ্জিন ব্যবহারের জন্য রেলের ভেতর থেকেই আপত্তি ওঠে। আবার আরেকটি গ্রুপ, সংযোজন-বিয়োজন করে ইঞ্জিনগুলো কাজে লাগানো যায় কিনা এ প্রস্তাব দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তারাই জয়ী হয়। নিম্নমানের ইঞ্জিনগুলোই চালানো শুরু করেছে রেলকর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক- এডিবি’র অর্থায়নে প্রায় ৩২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি রেল ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) কেনার জন্য ২০১৮ সালের ১৭ মে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চুক্তি অনুযায়ী ১০টি মিটার গেজ ইঞ্জিন সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তির পর অগ্রিম পরিশোধ করা হয় ২৫ শতাংশ অর্থ। ইঞ্জিনগুলো দেশে আনার পর ৬৫ শতাংশ এবং গুণগত মান যাচাই শেষে বাকি ১০ শতাংশ অর্থ পরিশোধের কথা। কিন্তু দেশে আসার পর ইঞ্জিনগুলো নিম্নমানের বলে ধরা পড়ে। এ অবস্থায় সাবেক প্রকল্প পরিচালক নূর আহমেদ হোসেন চুক্তিমূল্যের ৬৫ শতাংশ অর্থ আটকে দেন। ওই অর্থ ছাড় না দেওয়ার জন্য সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ও এডিবিকে চিঠি দেন। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রেলওয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখিতভাবেও উপস্থাপন করেন তিনি। কিন্তু এসব অভিযোগ নিস্পত্তি না করেই ত্রুটিযুক্ত ইঞ্জিন দিয়ে রেল চলাচলের কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ খাতে বড় ধরণের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ হলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেল কর্তৃপক্ষ ‘বৈদ্যুতিক’, ‘বুলেট’সহ বিভিন্ন দ্রুতগতির ট্রেন চালুর ‘মহাপরিকল্পনা’ গ্রহণ করলেও বাস্তবতা হচ্ছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনের কারণে ট্রেনচলাচলে অচলাবস্থায় পড়ছে। গন্তব্যে পৌঁছতে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। হঠাৎ ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাচ্ছে,লাইনচ্যুত হচ্ছে ট্রেন। যদিও করোনাভাইরাসের কারণে গত দেড়বছর ধরে লকডাউনের কারণে রেল চলাচল অনেক ক্ষেত্রেই বন্ধ থাকছে। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রেল চলাচলে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০টি ইঞ্জিন কেনায় গুরুতর আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রেলের সাধারণ কর্মচারীরা। একই সঙ্গে দ্রুত মান সম্পন্ন ইঞ্জিন আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি রেলে বিরাজমান দুর্নীতি রোধ করে ‘প্রায় অচল’ রেলে গতিসঞ্চারে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সচল হবে না রেল, এমনটাই মনে করছেন তারা।

বিদেশগামী যাত্রীদের করোনার ভূয়া সনদ দেয়ায় রাজধানীতে ৪ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৮ দফা নির্দেশনা

0

বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড- ১৯ পরীক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো রাজধানীর চারটি প্রতিষ্ঠানকে। কিছুদিন তারা ভালো চালিয়েছিলো। কিন্তু এর পরই জড়িয়ে পড়ে দুর্নীতি ও অনিয়মে। তারা দিতে থাকে ভূয়া সনদ। বিদেশগামী যাত্রীরা এ নিয়ে পড়েন বিপদে। টাকা দিয়ে অনেকেই কিনে নেন নেগেটিভ রিপোর্ট। এমন ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগে চারটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে বিদেশগামী যাত্রীদের আরটি-পিসিআর টেস্ট ও নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রতিষ্ঠান চারটি হলো- রাজধানীর পুরানা পল্টনের আল জামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাংলামোটরের রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত স্টিমজ হেলথ কেয়ার (বিডি), বিজয় স্মরণীর সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার এবং মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস সেন্টারের মিরপুর ব্রাঞ্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে, সম্প্রতি এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশগামী করোনা পজিটিভ যাত্রীকে নেগেটিভ সনদ দিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে।
এছাড়া নমুনা সংগ্রহের নামে বুথে দালাল নিয়োগের মতো অনৈতিক কর্মে যুক্ত হয়েছে এ চার প্রতিষ্ঠান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিএইচআইএস-২ এর ডাটাবেজ যাচাইয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ চার প্রতিষ্ঠানের এসব অপকর্মের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বৈশ্বিক মহামারিতে তাদের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড অনাকাঙ্ক্ষিত ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। যা দেশের ভাবমূর্তি ভয়ঙ্কররূপে ক্ষুন্ন করেছে। ফলে এ চার প্রতিষ্ঠানের ও তাদের আওতাধীন সব বুথের নমুনা সংগ্রহসহ বিদেশগামী যাত্রীদের আরটি–পিসিআর টেস্ট কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হলো।
বিদেশগামী যাত্রীদের অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়ে ভুয়া করোনা সনদ সংগ্রহ করছেন। এতে করে তারা প্রতারিত হচ্ছেন। বিদেশগামীদের প্রতারণা থেকে বাঁচতে করোনা টেস্ট করার ক্ষেত্রে আটটি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আরটি-পিসিআর পরীক্ষার অনুমোদন পাওয়া দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবগুলোকে আটটি নির্দেশনা মানতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এসব নির্দেশনার অমান্য করলে বা এর ব্যত্যয় ঘটলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
নির্দেশনাগুলো হলো—
১. পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহের জন্য ল্যাবসমূহের নিজস্ব ভবনের বাইরে স্থাপিত সব ধরনের নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
২. বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা কোনো অবস্থাতেই বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা যাবে না।
৩. বিদেশগামী যাত্রীদের নমুনা সংগ্রহের সময় মূল পাসপোর্ট যাচাই করে পাসপোর্ট নাম্বার উল্লেখপূর্বক নমুনা সংগ্রহ ফর্ম পূরণ করতে হবে। কোনোক্রমেই পাসপোর্টের ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হবে না।
৪. বিমানবন্দরে বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা সনদ, পাসপোর্ট নাম্বার দ্বারা যাচাই করা হবে। শুধু টেলিফোন/মোবাইল নাম্বার প্রমাণক হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।
৫. সাত দিনের মধ্যে কোনো পজিটিভ রিপোর্ট থাকলে ওই যাত্রীকে দেশত্যাগের অনুমতি দেওয়া যাবে না।
৬. কোনো বিদেশগামী যাত্রী কোভিড-১৯ পজিটিভি হলে, সে কমপক্ষে সাত দিন পর শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষা করাবেন এবং পরবর্তী সময় যদি নেগেটিভ সনদপ্রাপ্ত হন, সে ক্ষেত্রে দেশত্যাগ করতে পারবেন।
৭. কোনো আরটি-পিসিআর ল্যাবের ব্যাপারে কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হলে ল্যাবটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
৮. কোনো বিদেশগামী যাত্রীর কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি উভয় স্থানে প্রথমে পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে যাচাই করে দেখতে হবে যে, সে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্য কোথাও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করেছে কিনা। করে থাকলে এবং পজিটিভ হলে তাকে সাত দিন পর্যন্ত পুনরায় আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ১৭ চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার , গ্রেফতার ৮

0

রাজধানী ও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- আবুল কালাম আজাদ, রুবেল, সাগর মিয়া ওরফে ভাষানী, বাবু,আফজাল হোসেন,রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাসেল, ফারুক হোসেন ও হেলাল হোসেন। গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত হতে ১৭ টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ লালবাগ বিভাগের সহকারী কমিশনার মধুসূদন দাস জানান, হাতিরঝিল মধুবাগ এলাকায় গাড়ি চোর চক্রের কয়েকজন সদস্য চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার জন্যে অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (৮ জুন) বিকেলে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল কালাম, রুবেল, সাগর, বাবু, আফজাল ও রাশেদুলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত হতে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্য মতে ধারাবাহিক অভিযানে কুমিল্লা জেলার মুজাফফরগঞ্জ এলাকা হতে ফারুক ও হেলালকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত হতে ১২ টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, গ্রেফতারকৃতরা জানায় তারা চোরাই মোটর সাইকেল কেনাবেচার সিন্ডিকেড চক্রের সদস্য। তারা চোরাই গাড়ি নিজেরা ড্রাইভিং করে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তী এলাকায় দিয়ে আসে। এরপর এ চক্রের দলনেতা গ্রেফতারকৃত ফারুক চোরাই মোটরসাইকেলের আকৃতি প্রকৃতি পরিবর্তন করে চাঁদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় বিক্রি করে।
উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলোর ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর হলো:
(১) লাল রংয়ের একটি এপাচি আরটি আর ১৫০ সিসি রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MD624HC10G2N44263,
(২) লাল রংয়ের একটি পালসার ১৫০ সিসি মোটর সাইকেল। যার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেটে বগুড়া-ল-১২-১২৫২ এবং চেসিস নং- MD2A11CZ0FWE94588,
(৩) নীল রংয়ের একটি পালসার এনএস রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং-MD2A820Z2GCK02990,
(৪) নীল রংয়ের একটি পালসার ১৫০ সিসি রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল। যার চেসিস নং-MD2A11CY5HWA89112,
(৫) কালো রংয়ের একটি সুজকি ১৫০ সিসি রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল। যার চেসিস নং- NG4BW-110426, যা ঝালাই এর কারণে অস্পষ্ট। ইঞ্জিন নং- BGA1-662080
(৭) লাল রংয়ের একটি হিরো গ্লামার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MBLJA06EZCGK00162,
(৮) নীল ও কালো রংয়ের একটি বাজাজ ডিসকভার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MD2A14AZ8EWK05490
(৯) নীল রংয়ের একটি হিরো হোন্ডা গ্লামার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MBLJA06ANGGM10575
(১০) কালো রংয়ের একটি সুজকি জিক্সার ১৫০ সিসি রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MB8NG4BAAF8130356,
(১১) লাল ও কালো রংয়ের একটি বাজাজ ভিসকভার ১২৫ সিসি রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- PSUB44BY3LTM58623,
(১২) সাদা রংয়ের একটি ইয়ামাহা ফেজার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং-2CL31404889,
(১৩) কালো রংয়ের একটি বাজাজ প্লাটিনা রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MD2A18AZ4FWK78896,
(১৪) কালো রংয়ের একটি ইয়ামাহা ভারসন-৩ আর-ওয়ান-১৫ (R-15) রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MH3RG4710LK142730 ,
(১৫) কালো ও সাদা রংয়ের একটি আরটিআর টিভিএস এপ্যাচি রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- MD634KE47F2F52838,
(১৬) কালো ও লাল রংয়ের একটি বাজাজ পালসার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, যার চেসিস নং- PSUA11CY8MTA88687,
(১৭) একটি টিভিএস এপ্যাচি আরটিআর রেজিষ্ট্রেশন নম্বর প্লেট বিহীন মোটর সাইকেল, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর পাঞ্চিং।

বিয়ে করলেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, কনে দিনাজপুরের শাম্মী আকতার মনি

0

রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বিয়ে করেছেন। কনে দিনাজপুরের বিরামপুরের মেয়ে শাম্মী আকতার মনি। গত শনিবার (০৫ জুন) ঢাকার উত্তরায় কনের বাসায় তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পারিবারিক ছোট পরিসরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছে। কনে ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশাসন বিভাগে চাকরি করেন। এ ছাড়া ‘ল’ পাস করে হাইকোর্টে এক সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে প্র্যাকটিস করছেন। এসব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাম্মী আকতার মনির বড় ভাই মো. মিলন হোসেন।
তবে জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বলেন, সবকিছু চূড়ান্ত হলে তিনিই আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানাবেন। ইতিমধ্যে বিয়ের ব্যাপারটি কিছু দূর এগিয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

অবশ্য মন্ত্রী সরাসরি স্বীকার না করলেও তাঁর ঘনিষ্ট লোকজন বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর বিয়ে করলেন নুরুল ইসলাম সুজন। প্রথম স্ত্রী নিলুফার জাহান ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মারা যান। তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে এবং তিন সন্তানেরই বিয়ে হয়েছে।
রেল মন্ত্রীর নতুন স্ত্রীর বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর নতুন বাজারে। তাঁর বাবা মৃত আব্দুর রহিম। তিনি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি) লাইনম্যান পদে চাকরি করতেন। তাদের মূল বাড়ি পাবনা। চাকরির সুবাদে তিনি বিরামপুর আসেন এবং নতুন বাজার এলাকায় জায়গা কিনে বাড়ি করে স্থায়ী হন। রেলমন্ত্রীর স্ত্রীরা দুই ভাই এক বোন। দুই ভাই বর্তমানে বিরামপুরের বাড়িতে থাকেন এবং তারা ব্যবসা করেন।
মিলন হোসেন বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ঘরোয়াভাবে গত শনিবার আমার বোনের সঙ্গে রেলমন্ত্রীর বিয়ে হয়েছে। বিয়েতে বরপক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিরামপুরের বাসিন্দা হাইকোর্টের বিচারপতি ইজারুল হক ও তার স্ত্রী। কনেপক্ষে আমি ও আমার ভাই উপস্থিত ছিলাম।
মিলন হোসেন বলেন, আমার বোন বর্তমানে উত্তরার বাসায় আছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্বামী রেলমন্ত্রী সুজনের বাড়িতে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন এবং মন্ত্রীকে ফোনে বলেছেন, দেখেন আপনার বিয়েতে উপস্থিত থাকতাম। কিন্তু করোনার কারণে থাকতে পারলাম না। আপনি বিয়ে করে ফেলেন। আমি পরবর্তী সময়ে বউকে বরণ করবো। এজন্য আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠান করে স্ত্রীকে বাসায় নেবেন রেলমন্ত্রী। এখন প্রায়ই বোনের উত্তরার বাসায় যান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজুন।
তিনি আরও বলেন, আমার বোনের এর আগে কুষ্টিয়ায় বিয়ে হয়েছিলো। পারিবারিক সমস্যার কারণে ২০১১ সালে ডিভোর্স হয়ে যায়। ওই ঘরে একটি মেয়ে রয়েছে। এরপর থেকে মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় থাকে আমার বোন। ঈদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিরামপুরের বাড়িতে বেড়াতে আসতো; মাঝেমধ্যে আমরাও যাই।
বিয়ের বিষয়ে জানতে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনকে একাধিকবার ফোন দিলেও ধরেননি। তবে রেলমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) রাশেদ প্রধান সাংবাদিকদের বলেছেন, বিয়ের বিষয়টি আমরা শুনেছি। যা বলার মন্ত্রী নিজেই বলবেন। আমাদের কাছে এখনও ধোঁয়াশা। পরিষ্কার করে কিছুই বলতে পারছি না।
পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, রেলমন্ত্রী বিয়ে করেছেন এটি সঠিক। বিষয়টি আমি তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে শুনেছি। তবে তার পরিবারের অনেকেই এখনও বিষয়টি জানেন না। এমনকি জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরাও বিষয়টি জানেন না। বিয়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রী নিজেই জানাবেন। ৬৫ বছর বয়সী নূরুল ইসলাম ১৯৫৬ সালের ৫ জানুয়ারি পঞ্চগড়ে জন্মগ্রহণ করেন।
পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসন থেকে নবম, দশম এবং একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর রেলমন্ত্রী হন সুজন।

নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন শফিউদ্দিন আহমেদ

0

লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদকে জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আগামী ২৪ জুন সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন।
বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ওয়াহিদা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিএ -২৪৯৬ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল-কে আগামী ২৪ জুন অপরাহ্ন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে জেনারেল পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক প্রতিরক্ষা বাহিনী-সমূহের প্রধানদের (নিয়োগ, ভাতা, এবং অন্যান্য সুবিধা) আইন ২০১৮ অনুসারে উক্ত তারিখ অপরাহ্ন থেকে তিন বছরের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

সৌদিতে যৌন নিপীড়ন, ৬ মাসের সন্তান নিয়ে দেশে ফিরলেন আরও এক নারী শ্রমিক

0

যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে সৌদি আরব থেকে ছয় মাসের সন্তান নিয়ে দেশে ফিরেছেন ৩২ বছরের প্রবাসী আরও এক নারী শ্রমিক। মঙ্গলবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছেন তিনি। ওই নারীর অভিযোগ, সৌদি আরবে যে বাড়িতে তিনি কাজ করতেন, সেই গৃহকর্তা তার ছেলের বাবা। তিনি জানান, নিয়োগকর্তার দ্বারা তিনি ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সন্তানসহ বাড়িতে ফেরা নিয়ে উদ্বিগ্ন ওই নারী এখন আশকোনার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে আশ্রয় নিয়েছেন।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ২০১৯ সালের নভেম্বরে তিনি সৌদি আরবে যান। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিনিয়ত তিনি নির্যাতনের শিকার হতেন। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানেই জন্ম হয় এই শিশুটির।
ওই নারীর বরাতে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তার পরিবারের কেউ বিষয়টি জানে না। সন্তানকে নিয়ে তিনি পরিবারের কাছে ফিরতে পারছেন না। এটা সমাজের লোকেরা ভালোভাবে নেবে না।’শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার পর কোনো উপায় না পেয়ে ওই নারী বিমানবন্দর আর্মড পুলিশকে তার দুর্দশার কথা জানান। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ওই নারীকে পরে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক। এটি সৌদিতে আমাদের নারী কর্মীদের উপর চরম নির্যাতনের আরেকটি উদাহরণ।’
এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের কোন বাড়িতে ওই নারী কাজ করতে গিয়েছিলেন, তার নিয়োগকর্তা কে, এগুলো তদন্ত হওয়া উচিত। প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করে সন্তানের পিতৃপরিচয় বের করা উচিত।’
তিনি আরও জানান, এখন তাদের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাচ্চাটিকে সুস্থ রাখা এবং ওই নারীকে মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়া। এরপর আমরা তাকে তার বাড়িতে দিয়ে আসার চেষ্টা করব।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২৬ মার্চ সৌদি আরব থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সন্তান নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার এক নারী। তিনি সৌদি আরবের মক্কায় কেন্দ্রীয় কারাগারে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছেলে সন্তান জন্ম দেন।
গত ২ এপ্রিল নিজের আট মাসের সন্তানকে বিমানবন্দরে ফেলে চলে যান সৌদি আরব ফেরত আরেক মা। ২৪ ফেব্রুয়ারি চার মাসের মেয়েকে নিয়ে ওমান থেকে দেশে ফিরতে বাধ্য হন আরেক নারী গৃহকর্মী। বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ অফিসে গিয়ে জানান, তার সন্তানের বাবা একজন ওমানি নাগরিক। নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে ওমান পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় সন্তানের জন্ম হয়।
এর আগে ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওমান থেকে হবিগঞ্জের এক নারী তিন মাসের সন্তানসহ দেশে ফিরতে বাধ্য হন।
শরিফুল হাসান বলেন, ‘এর আগে আমরা এ ধরনের ১২টি ঘটনা দেখেছি। তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে আমাদের সোচ্চার ও নীতিনির্ধারকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।’ সূত্র- ডেইলি স্টার।