ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ৬:৪২ 

Home Blog Page 112

ছাগলকে জরিমানা করা বগুড়ার সেই ইউএনও সীমা শারমিন বদলি

0

ফুলগাছের পাতা খাওয়ায় ছাগলের মালিককে দুই হাজার টাকা জরিমানা ও ছাগল আটক রাখার ঘটনায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার আলোচিত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমিনকে স্থানীয় সরকার বিভাগে বদলি করা হয়েছে। বুধবার সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বদলির আদেশ-সংক্রান্ত একটি চিঠি মঙ্গলবার তিনি পেয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
গত ১৭ মে উপজেলা চত্বরে ফুলগাছ খাওয়ার অভিযোগে ইউএনও সীমা শারমিন ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ছাগলকে আটক করে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা করার ৯ দিন পর মালিক সাহারা বেগমকে না জানিয়ে সেটি বিক্রি করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ২৭ মে জরিমানার টাকা ইউএনও নিজে পরিশোধ করেন এবং ছাগল সাহারা বেগমের কাছে ফিরিয়ে দেন।

ছাগল ফেরত দেওয়ার সময় তখন ইউএনও বলেছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে জরিমানার টাকা আমি দিয়েছি। তাকে সংশোধনের জন্য জরিমানা করেছিলাম, শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়। আর সেই নারীর ছাগল বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কোনো বিষয়ে বদলির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বিষয় ঠিক নয়। স্বাভাবিক নিয়মে তাকে স্থানীয় সরকার বিভাগে বদলি করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি মঙ্গলবার এসেছে। এটা নিয়মিত বদলি।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা চত্বরে ফুল গাছের পাতা খাওয়ার অভিযোগে একটি ছাগলের দরিদ্র মালিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন ইউএনও সীমা শারমিন। ছাগলের মালিক সাহারা বেগম জানিয়েছিলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত তার সামনে পরিচালিত হয়নি। এই জরিমানার কথা তিনি জানতে পেরেছেন ইউএনও’র বাড়ির কাজের লোকের মাধ্যমে, সেটিও ছাগলটি আটকের তিন দিন পরে।
ছাগলের মালিক যেহেতু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, সুতরাং তিনি কোনো দোষও স্বীকার করেননি। ফলে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের যে বিধি, সেটা ভঙ্গ হয়েছে এবং এই জরিমানাটা ছাগলের মালিককে নয় বরং সেই ছাগলকেই করা হয়েছে বলে আইনজীবীরা মতামত দেন। সমালোচনার মুখে ২৭ মে স্থানীয় সাংবাদিক এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ইউএনও সেই ছাগলটিকে তার মালিকের কাছে হস্তান্তর করেন।
ইউএনও’র বদলির বিষয়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক জানিয়েছেন, সীমা শারমিনের এই বদলি আসলে রেগুলার (সাধারণ) বদলি। এটা কোনো শাস্তিমূলক বদলি নয়। ছাগলকাণ্ড বা ছাগলের জরিমানার ঘটনার সঙ্গে তার এই বদলির কোনো সম্পর্ক নেই। এখন প্রশ্ন হলো, এই বদলি কি তার শাস্তি না দায়মুক্তি?
ইউএনও সীমা শারমিন আদমদীঘি উপজেলায় যোগ দিয়েছিলেন ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। কেন তার এক বছর না হতেই বদলি করা হলো? ডিসি সেই প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন যে, এটা স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। এটা মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। অর্থাৎ সীমা শারমিনকে কী কারণে এত তাড়াতাড়ি বদলি করার হলো, তার সুনির্দিষ্ট কারণ বলা হলো না।
বগুড়ার ছাগলকাণ্ডের জন্য সীমা শারমিনকে বদলি করে তাকে এক ধরনের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কারণ, এখানকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবে যে, কোনো ছাগল যদি ফুল গাছের পাতা খায়, তবে তাকেও কঠিন শাস্তি দিতে পারেন প্রবল ক্ষমতাধর ইউএনও। সীমা শারমিন যতদিন বগুড়ায় থাকতেন, ততদিন এই ঘটনাটি তার মর্মপীড়ার কারণ হয়ে থাকত। এখন অন্য জায়গায় বদলি হয়ে তিনি প্রকৃতপক্ষে মানসিকভাবেও দায়মুক্তি পেলেন।

জেফ বেজোস, ওয়ারেন বাফেট, ইলন মাস্কের মতো আমেরিকার অতি-ধনীরা ‘কোন আয়করই প্রায় দেন না’ চাঞ্চল্যকর তথ্য

0

আমেরিকার ধনকুবেররা যে কত সামান্য আয়কর দিয়েছেন সে বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে একটি সংবাদ ওয়েবসাইট। তারা দাবি করছে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সেবা ব্যবস্থার নথি থেকে তারা এই তথ্য পেয়েছে।
প্রোপাবলিকা সংবাদ ওয়েবসাইটটি বলছে বিশ্বের কয়েকজন শীর্ষ ধনীর আয়কর রিটার্ন তারা দেখেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন জেফ বেজোস, ওয়ারেন বাফেট এবং ইলন মাস্ক।

এই ওয়েবসাইটে অভিযোগ করা হয়েছে অ্যামাজনের জেফ বেজোস ২০০৭ এবং ২০১১ সালে কোনই আয়কর দেননি। আর টেসলার মালিক ধনকুবের ইলন মাস্ক কোন আয়কর দেননি ২০১৮ সালে।
হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র এই তথ্য ফাঁস করাকে “অবৈধ” বলে বর্ণনা করেছেন এবং এফবিআই ও কর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
প্রোপাবলিকা বলছে কোটিপতি ধনকুবেরদের দেয়া আয়কর বিষয়ে তাদের বর্ণনায় “রাজস্ব বিষয়ক অভ্যন্তরীণ বিপুল তথ্য ভাণ্ডার” তারা বিশ্লেষণ করে দেখেছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও বিস্তারিত তথ্য তারা প্রকাশ করবে।
বিবিসি এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে এই অভিযোগ ফাঁস করা হয়েছে এমন একটা সময়ে যখন বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের কর দেবার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে এবং বিশ্বে ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রোপাবলিকা বলেছে আমেরিকার ২৫জন সবচেয়ে বিত্তশালী কর দেন খুবই কম- গড় হিসাবে তাদের মোট আয়ের মাত্র প্রায় ১৫.৮%। আমেরিকায় মূলধারার বেশির ভাগ কর্মীর থেকে তাদের দেয়া করের পরিমাণ অনেক কম।
ওয়েবসাইটের সিনিয়র রিপোর্টার এবং সম্পাদক জেস আইসিঙ্গার বিবিসির টুডে প্রোগ্রামকে বলেছেন: “আমরা বিস্মিত হয়েছি দেখে যে, আপনি যদি কোটিপতি হন, তাহলে আপনার করের অঙ্ক কীভাবে শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। সত্যি বলতে কী, একজনের দেয় করের অঙ্ক ‘শূন্য’ হতে পারে এটাতে আমরা হতবুদ্ধি হয়ে গেছি। যারা অতিশয় ধনী ব্যক্তি, তারা পদ্ধতিকে কীভাবে পুরোপুরি আইনি পথে পাশ কাটিয়ে যেতে পারেন।”
জো বাইডেনের পরিকল্পনা
প্রোপাবলিক ওয়েবসাইট বলেছে যে, “পুরো আইনি কর কৌশল ব্যবহার করে বহু বিপুল বিত্তশালীরা তাদের কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয় ট্যাক্সের পরিমাণ হয় একেবারে নগণ্য পরিমাণে নামিয়ে আনছেন অথবা শূন্যের কোঠায় নিয়ে যাচ্ছেন”। অথচ গত কয়েক বছরে তাদের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে বিপুল পরিমাণে।

বহু সাধারণ জনগণের মতই বিত্তশালীরাও দাতব্য কাজে অর্থ দান করার মাধ্যমে করে ছাড় পাচ্ছেন এবং তারা দেখাচ্ছেন তাদের উপার্জনের অর্থ বেতন থেকে আসছে না, আসছে বিনিয়োগ থেকে।
প্রোপাবলিকা ফোর্বস সাময়িকীর সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে বলেছে এই ২৫জন শীর্ষ ধনকুবের আমেরিকানের সম্মিলিত সম্পদের মূল্য ২০১৪ থেকে ২০১৮র মধ্যে বেড়েছে ৪০১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু একই সময় তাদের দেয়া সম্মিলিত করের পরিমাণ মাত্র ১৩.৬ বিলিয়ন ডলার।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রে বৈষম্য দূর করতে এবং তার বিশাল অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিনিয়োগের জন্য দেশটির শীর্ষ ধনীদের কর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ।
তিনি সর্বোচ্চ করের মাত্রা বাড়াতে চান, বিনিয়োগের অর্থ থেকে যাদের আয় খুব বেশি তাদের ওপর দ্বিগুণ হারে করারোপ করতে চান এবং যারা সম্পদের উত্তরাধিকারী হবেন তাদের জন্য করের নিয়ম বদলাতে চান।
তবে প্রোপাবলিকা তাদের বিশ্লেষণের উপসংহার টেনে বলছে: “যদিও বাইডেন প্রশাসনের প্রস্তাবের অধীনে আমেরিকার কিছু ধনী, যেমন হেজ ফান্ড বা বিনিয়োগ তহবিলের ম্যানেজারদের বেশি কর দিতে হবে, কিন্তু শীর্ষ ২৫জন ধনকুবেরের গায়ে এর কোন আঁচ লাগবে না।”
বিলিয়নেয়ারদের তালিকায় আছেন আরেক ধনী জর্জ সোরোস, যিনি অর্থ দান করেন, তিনিও ন্যূনতম ট্যাক্স দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিবিসি তার সাথে কথা বলার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার অফিস থেকে সে বিষয়ে কোন উত্তর দেয়া হয়নি। তবে প্রোপাবলিকাকে দেয়া তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে মি. সোরোসের কয়েক বছর কোন কর দেয় ছিল না, কারণ তিনি বিনিয়োগ থেকে লাভ করেননি, বরং তার লোকসান হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে জর্জ সোরোস যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনীদের উঁচু হারে ট্যাক্স দেবার বিষয়টি অনেক বছর ধরেই সমর্থন করে আসছেন।
‘অবৈধ’
আমেরিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হচ্ছে নিউ ইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ, যার ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্যাদি এই নথিতে রয়েছে, তিনি বলেছেন এই তথ্য প্রকাশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং এই তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করতে তিনি “আইনি পদক্ষেপ” নেবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ব্যবস্থায় বাজেট হ্রাসের কারণে বিত্তশালী ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কর সংক্রান্ত বিধান প্রয়োগ করতে তাদের কীধরনের অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে তা নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ ওয়েবসাইট প্রোপাবলিকা বেশ কিছু নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। এই সংবাদ প্রতিষ্ঠান বলছে সেইসব নিবন্ধের জবাবেই ফাঁস হওয়া নথিগুলো তাদের হাতে এসেছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য সচিব জেন সাকি বলেছেন যে “গোপন সরকারি তথ্য অননুমোদিত ভাবে প্রকাশ করা” অবৈধ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিলি অ্যাডামস্ রয়টার্স সংবাদ সংস্থার কাছে পাঠানো এক ইমেলে বলেছেন যে বিষয়টি এফবিআই, কেন্দ্রীয় কৌঁসুলি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দুটি অভ্যন্তরীণ নজরদারি সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।
“তাদের প্রত্যেকের নিরপেক্ষ তদন্ত চালানোর জন্য সংস্থা রয়েছে,” ইমেলে বলা হয়েছে।
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজস্ব কমিশনার চালর্স রেটিগ বলেছেন: “নির্দিষ্ট করদাতা সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে তদন্ত চলছে। এই নিবন্ধের তথ্যের যে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ব্যবস্থার সূত্রে পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।” সূত্র-বিবিসি বাংলা।

সিলেটের তারাপুর চা বাগান, দখলদার রাগীব আলী সুপ্রিমকোর্টের রায় মানছেন না, ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন না, স্থাপনাও সরাচ্ছেন না

0

গভীর সংকটে পড়েছে সিলেটের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান। আদালতের নির্দেশে ব্যবস্থাপনা কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর আলোচিত এ চা বাগান পরিচালনা নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ মিলছে না, সাবেক দখলদার রাগীব আলীও আদালত নির্দেশিত ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন না। ফলে অর্থ সংকটে পড়েছে ব্যবস্থাপনা কমিটি। অর্থের অভাবে শ্রমিকদের বেতন দেয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে সপ্তাহখানেক বন্ধ ছিল বাগানের উৎপাদন। এখন আবার উৎপাদন শুরু হলেও তা অব্যাহত রাখা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শঙ্কা বাগানের ভবিষ্যৎ নিয়েও।

সিলেট নগরের তারাপুর এলাকার এ চা বাগান প্রতারণার মাধ্যমে দখল করে নিয়েছিলেন বিতর্কিত শিল্পপতি রাগীব আলী। ২০১৬ সালে উচ্চ আদালতের এক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে রাগীব আলীর দখল থেকে চা বাগানের ভূমি উদ্ধার করা হয়। সে সময় আদালত নির্ধারিত সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বাগান বুঝিয়ে দেয়া হয়।
তবে গত বছর উচ্চ আদালতের রিভিউ রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচিত এ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার কর্তৃত্ব হারান পঙ্কজ গুপ্ত। রিভিউ রায়ে এ সম্পত্তি সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়। এ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করেন। এরপর চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ব্যবস্থাপনা কমিটি তারাপুর চা বাগানের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই অর্থ সংকটে পড়ে ব্যবস্থাপনা কমিটি। এতদিন কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাগানের কার্যক্রম চললেও ব্যবস্থাপনা কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর ঋণ দেয়া বন্ধ করে দেয় কৃষি ব্যাংক। ঋণ না পেয়ে গত মাসে শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারেনি কমিটি। আর মজুরি না পাওয়ায় গত ২০ মে থেকে চা পাতা উত্তোলন বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। ফলে বন্ধ হয়ে পড়ে উৎপাদন। ব্যবস্থাপনা কমিটির আশ্বাসে চলতি মাস থেকে আবার কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। তবে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরাই বলছেন, ব্যাংকঋণ বা রাগীব আলীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ না পেলে বাগান পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা জানান, রিভিউ রায়ে চা বাগান ধ্বংসের জন্য শিল্পপতি রাগীব আলীকে সোয়া ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে ও বাগানের ভেতর থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়। তবে এখন পর্যন্ত রাগীব আলী কোনো ক্ষতিপূরণ তো দেননি, স্থাপনাও সরিয়ে নেননি।
বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে গত ২০ মে সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারাপুর চা বাগানের শ্রমিকরা। সেদিন থেকে তারা পাতা উত্তোলন বন্ধ করে দেন। এরপর গত ২৬ মে শ্রমিকদের সঙ্গে বাগান ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের বকেয়া মজুরি দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাস থেকে কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা।
তারাপুর চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি চৈতন্য মোদী বলেন, তারাপুর চা-বাগানের মালিকানা-সংক্রান্ত নানা জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমা থাকায় ঘন ঘন মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে যারা বাগান পরিচালনা করছেন, তারা ঠিকমতো বেতন-ভাতা পরিশোধ করছেন না। শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি বলেন, মাত্র ১২০ টাকা মজুরিতে আমাদের সংসার চলে। এখন এ টাকাও যদি না পাই তবে না খেয়ে মরতে হবে।
চৈতন্য মোদী জানান, গত ২৬ মে বৈঠকের পর ব্যবস্থাপনা কমিটি এক সপ্তাহের বকেয়া মজুরি দিয়েছে। তবে এখনো এক সপ্তাহের মজুরি ও ভাতা বকেয়া রয়েছে। এগুলো না পেলে শ্রমিকরা আবার আন্দোলনে যাবেন।
বর্তমানে তারাপুর চা বাগানে ১৪১ জন শ্রমিক কর্মরত আছেন বলে জানিয়েছেন তারাপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক অপু চক্রবর্তী।
গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তারাপুর চা বাগান নিয়ে উচ্চ আদালতের রিভিউর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এতে বাগান পরিচালনার লক্ষ্যে পাঁচ বছরের জন্য ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে চা বাগানের সম্পত্তি পরিচালনার পাশাপাশি বাগান দখল করে রাগীব আলী ও তার স্ত্রীর নামে গড়ে তোলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সব স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া বাগান ধ্বংস করে স্থাপনা নির্মাণের জন্য রাগীব আলীকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।
আদালতের নির্দেশে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নারায়ণ চন্দ্র সাহাকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিরল শান্তনু দত্ত সন্তু। তিনি বলেন, আমরা গত জানুয়ারিতে বাগানের দায়িত্ব নিই। এর আগে থেকেই কৃষি ব্যংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাগানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। চা পাতা বিক্রি করে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করা হতো।

সন্তু বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বাগানের কার্যক্রম চালিয়ে যাই। ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ায় পর ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু গত ৬ মে কৃষি ব্যাংক থেকে জানানো হয়, যেহেতু এটি দেবোত্তর সম্পত্তি তাই তারা আর ঋণ দিতে পারবে না। ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত জানার পর আমরা বিপাকে পড়েছি।
তিনি আরো বলেন, এক সপ্তাহের বকেয়া মজুরি দেয়ার পর শ্রমিকরা চলতি মাসে আবার কাজ শুরু করেছেন। আমরা নিজেদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এ টাকা দিয়েছি। কিন্তু বাগান পরিচালনার জন্য দ্রুত অর্থের সংস্থান না হলে আমাদের পক্ষ থেকে এভাবে টাকা দিয়ে চালানো সম্ভব নয়। কারণ নিজেদের টাকা দিয়ে বাগান চালানোর সংগতি আমাদের নেই। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আদালতে গিয়ে নিজেদের অপারগতা প্রকাশ করব।
দেবোত্তর সম্পত্তি জেনেও এতদিন ব্যাংকঋণ দিয়েছে, অথচ আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর কেন অস্বীকৃতি জানাচ্ছে এমন প্রশ্ন রেখে শান্তনু দত্ত বলেন, আমার মনে হচ্ছে এটি আমাদের ব্যর্থ প্রমাণ করে আবার তারাপুর চা বাগান দখল করার একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাগানের ভেতর থেকে রাগীব আলীর স্থাপনা সরানো ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশনা প্রসঙ্গে শান্তনু দত্ত বলেন, এগুলো তো আমাদের পক্ষে সম্ভব না। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা কোনো সহায়তা পাচ্ছি না।
এ প্রসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে বলেন, আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটি করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমি তা করে দিয়েছি। এখন বাগান পরিচালনার বিষয়টি ব্যবস্থাপনা কমিটি দেখবে।
রাগীব আলীর স্থাপনা অপসারণ ও ক্ষতিপূরণ আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা কমিটি উদ্যোগ নেবে। তারা আমাদের সহযোগিতা চাইলে সহযোগিতা করব।
সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকার প্রায় ৪২৩ একরের তারাপুর চা বাগান দেবোত্তর সম্পত্তি। প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার এ সম্পত্তি ১৯৯০ সালে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে দখল করে নেন শিল্পপতি রাগীব আলী। এরপর ১৯৯৫ সালে বাগানের ৮দশমিক ২২ একর জায়গার চা গাছ ধ্বংস করে নির্মাণ করেন প্রায় এক হাজার শয্যার জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। মেডিকেল কলেজের পাশে আরো অনেক জায়গাজুড়ে নিজের স্ত্রীর নামে রাবেয়া খাতুন নার্সিং কলেজ, মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের জন্য ছাত্রাবাসসহ বেশকিছু স্থাপনা গড়ে তোলেন রাগীব আলী। এছাড়া বাগান ধ্বংস করে গড়ে উঠেছে আরো অসংখ্য স্থাপনা।
জেলা প্রশাসনের হিসাবে জানা গেছে, চা বাগানের ভেতরে অবৈধভাবে মোট ৩৩৭টি স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এর বেশির ভাগই বহুতল আবাসিক স্থাপনা।
তারাপুর চা বাগানের মালিক বৈকুণ্ঠ চন্দ্র গুপ্ত ১৯১৫ সালের ২ জুলাই তারাপুর চা বাগানসহ তার সব সম্পত্তি শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ জিউর দেবতার নামে রেজিস্ট্রি দানপত্র করে দলিলপত্র করে দেন। বৈকুণ্ঠ গুপ্তের ছেলে রাজেন্দ্র গুপ্ত ও তার তিন ছেলে মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ হন। তার তিন মেয়েকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে পাক সেনারা। ১৯৮২ সালে রাজেন্দ্র গুপ্তের ছেলে পঙ্কজ গুপ্ত ভারতে চলে যান। এ সময় পার্শ্ববর্তী মালনীছড়া চা বাগানের স্বত্বাধিকারী রাগীব আলীকে তারাপুর চা বাগান দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে যান। এরপর পাওয়ার অব অ্যাটর্নি মূলে দেবোত্তর সম্পত্তিটির সেবায়েত বনে যান দেওয়ান মেস্তাক মজিদ, যিনি রাগীব আলীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তিনি রাগীব আলীকে ৯৯ বছরের জন্য বাগানটি লিজ দেন। ১৯৯০ সালে বাগানটির দখল নেন শিল্পপতি রাগীব আলী।
২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তত্কালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে হাইকোর্টের আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান রাগীব আলীর দখল করাকে প্রতারণামূলক আখ্যা দিয়ে পুরো বাগান সেবায়েত পঙ্কজ গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।
এ নির্দেশনার পর ওই বছরের ১৫ মে জেলা প্রশাসন রাগীব আলীর দখল থেকে চা বাগানের ভূমি উদ্ধার করে সেবায়েত পঙ্কজ গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয়। বাগানের ৪২২ দশমিক ৯৬ একর ভূমির মধ্যে ৩২৩ একর ভূমি সেদিন সেবায়েতকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। তবে বাগানের ভেতরে জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নার্সিং কলেজসহ রাগীব আলীর নির্মিত সব স্থাপনা বহাল থাকে। মেডিকেল কলেজসহ স্থাপনাগুলো না সরাতে উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন রাগীব আলী। এ আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। তবে রিভিউ রায়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসাইনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ পংকজ গুপ্তের সেবায়েত দাবিও খারিজ করে দেন। (দেবাশীষ দেবু ,বণিক বার্তা।)

১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এবি ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

0

ভুয়া ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে এবি ব্যাংকের ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের মালিক এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ব্যাংকটির সাবেক বর্তমানসহ ১৬ জন ব্যাংকারকেও আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ দুদকের ঢাকা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা ১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতিবিরোধী আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এরশাদ আলীসহ আরো ১৬ ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের মালিক এরশাদ আলী, এবি ব্যাংক কাকরাইল শাখার সাবেক ম্যানেজার এবিএম আব্দুস সাত্তার, কাকরাইল শাখার সাবেক রিলেশনশিপ ম্যানেজার মোহাম্মদ আবদুর রহিম, কাকরাইল শাখার এসভিপি মো. আনিসুর রহমান, সাবেক ভিপি শহিদুল ইসলাম, এভিপি মো. রুহুল আমিন, ইভিপি ওয়াসিকা আফরোজ, সাবেক ইভিপি মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক এসইভিপি সালমা আক্তার, এভিপি মো. এমারত হোসেন ফকির, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম, এমভিপি শামীম এ মোরশেদ, কাকরাইল শাখার ভিপি খন্দকার রাশেদ আনোয়ার, এভিপি সিরাজুল ইসলাম, সাবেক ভিপি মোহাম্মদ মাহফুজ উল ইসলাম, কাকরাইল শাখার ডিএমডি মশিউর রহমান চৌধুরী ও সাবেক এমডি শামীম আহমেদ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এরশাদ আলী এবি ব্যাংকের কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক শাখা থেকে পদ্মা রেল সেতু প্রকল্পে পাথর সরবরাহের ছয়টি ওয়ার্ক অর্ডার দেখিয়ে ১৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা ঋণ নেন। কাকরাইলের এবি ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা থেকে ২০১৫-১৭ সাল পর্যন্ত ছয় ধাপে এ ঋণ নেয় এরশাদ আলীর প্রতিষ্ঠান।

প্রত্যেক সংসদের জন্য গাড়ির নতুন স্টিকার চায় সংসদীয় কমিটি

0

সাবেক সংসদ সদস্যদের গাড়িতে এখনও স্টিকার থাকায় বর্তমান সংসদের আইনপ্রণেতাদের গাড়ির জন্য নতুন স্টিকারের নকশা করতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদ কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়।
কমিটির সভাপতি চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, “আমরা মনে করি প্রত্যেক সংসদের জন্য স্টিকারের পরিবর্তন হওয়া দরকার। নতুন সংসদের জন্য একটি নতুন ডিজাইনের স্টিকার থাকবে।
“কারণ দেখা যাচ্ছে অনেকে পূর্বের সংসদে সদস্য ছিলেন, এখন তারা এমপি নন। কিন্তু গাড়িতে তাদের স্টিকার থেকে যাচ্ছে। বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা নতুন স্টিকার করার কথা বলেছি।”
ডিজাইনটি দেখে এরপর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান তিনি।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদ সচিবালয়ের সরবরাহ করা গাড়ির স্টিকার নতুন করে ডিজাইন করার সুপারিশ করেছে কমিটি।
সংসদ সদস্যদের আবাসন, নিরাপত্তা, অফিস বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয় তদারক করে এই কমিটি।
এর আগে ২০১৫ সালে সংসদ সদস্যদের গাড়িতে ব্যবহারের জন্য স্টিকার পাল্টে ফেলে সংসদ সচিবালয়। সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য আলাদা স্টিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওই সময়।
এছাড়া সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের গাড়ির জন্যও ওই সময় আলাদা স্টিকার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংসদ অধিবেশনেও আলোচনা হয়।
২০১৯ সালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ফেনী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রহিম উল্লাহর গাড়িতে ‘সংসদ সদস্য’ স্টিকার লাগানো থাকা নিয়ে গণমাধ্যমে খবর বের হয়।
এছাড়া বিভিন্ন সময় আইনপ্রণেতাদের জন্য তৈরি স্টিকার অন্য গাড়িতে ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে।
স্টিকারের অপব্যবহার হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, “এটি অপব্যবহার হয় কিনা, সেটা তো আমরা বলতে পারব না। এটা দেখার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর, তারা বলতে পারবে।”
এদিকে বৈঠকে জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ সদস্য ভবন ও এর আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন সেবার কাজের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সীমানা নির্ধারণ করে একটি প্রতিবেদন পরের বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়।
কমিটি জাতীয় সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ সদস্য ভবনের আশেপাশের সাইনবোর্ড ও ব্যানার এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের জন্যও সিটি করপোরেশনকে সুপারিশ করেছে।
এছাড়া বৈঠকে মানিক মিয়া অ্যভিনিউতে যাতে কোনো দোকানপাট বসতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে সংসদ সদস্য ভবন এলাকায় অননুমোদিতভাবে বিভিন্ন কক্ষে ও স্থানে বসবাসরতদের দ্রুত উচ্ছেদের সুপারিশ করে।
প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ব্ঠৈকে কমিটির সদস্য এ বি তাজুল ইসলাম, হুইপ ইকবালুর রহিম, ফজলে হোসেন বাদশা, কাজী ফিরোজ রশীদ, মাহবুব আরা বেগম গিনি, মনজুর হোসেন, আশেক উল্লাহ রফিক, শওকত হাচানুর রহমান (রিমন), মো. হারুনুর রশীদ, সামশুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির আহবায়ক সাইফুজ্জামান, সংসদ সদস্য ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক নাহিদ ইজহার খান ও নার্গিস রহমান অংশ নেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

কুয়েতে দণ্ডিত পাপুলের এমপি পদ রাখার রিট সরাসরি খারিজ করলো হাইকোর্ট

0

সংসদ সদস্য পদ বহাল রাখতে কুয়েতের আদালতে দণ্ডিত কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের পক্ষে করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।
গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে রিট আবেদনটির কোনো সারবত্তা নেই উল্লেখ করে মঙ্গলবার এ খারিজের আদেশ দেয় বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ।   

ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডের কারণে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের বৈধতা, লক্ষ্মীপুর-২ নির্বাচনী আসন শূন্য ঘোষণা এবং উপনির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করেছিলেন তার বোন নুরুন্নাহার বেগম এবং পাপুলের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী শাহাদাত হোসেন।

গত মার্চে ওই রিট আবেদনটি করলেও সোমবার এর ওপর শুনানির পর আদেশের জন্য রাখে আদালত।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, আমাদের রিট আবেদনটি ‘সামারালি (সরাসরি) খারিজ করা হয়েছে। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ আছে। তবে এখন পর্যন্ত মক্কেলদের কাছ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা পাইনি।”

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন পাপুল। পরে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করিয়ে আনেন।

অর্থ ও মানবপাচার এবং ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গত বছর জুনে কুয়েতে গ্রেপ্তার হন পাপুল। ওই মামলার বিচার শেষে গত ২৮ জানুয়ারি তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয় কুয়েতের একটি আদালত।
সেদিন থেকেই পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে পরে গেজেট জারি করে সংসদ সচিবালয়। ওই আসনে উপনির্বাচনের জন্য ২১ জুন তারিখ ঘোষণা করে তফসিলও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বাংলাদেশের কোনো আইনপ্রণেতার এভাবে বিদেশে দণ্ডিত হওয়া এবং সাজার কারণে পদ বাতিলের এটাই প্রথম ঘটনা।
পাপুলের পক্ষে রিট আবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছিল, বাংলাদেশের আদালতে দণ্ড না হওয়ায় বাংলাদেশের সংবিধানের বিধি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি ছিল, সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ)অনুচ্ছদে দেশ বা বিদেশের আদালতের কথা সুনির্দিষ্ট করে বলা নেই। সেখানে ‘নৈতিক স্খলনজনিত’ কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্তের কথা বলা হয়েছে। ফলে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট এই অনুচ্ছেদ পাপুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

এছাড়া পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে দুদকে মামলার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে বলেছিল, কোনো পলাতক বা ফেরারী আসামি আইনি প্রতিকার পেতে পারে না। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যা: মিউটিনির বিচার প্রশ্নবিদ্ধ, হত্যা মামলার বিচার হয়নি, রায় বাতিল করে রিভিউ চেয়েছিলেন এডভোকেট সিরাজুল হক

0

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ হত্যার মূল রহস্য যেমন উদঘাটিত হয়নি, তেমনি জিয়া হত্যার বিচারও হয়নি। সামরিক আদালতে যে বিচার হয়েছিলো তা ছিলো সেনা অভ্যুত্থান তথা মিউটিনির। সেই বিচার নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। কিন্তু বেসামরিক আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় জিয়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কে বা কারা ছিলো তা রহস্যঘেরাই রয়ে গেছে।

জিয়া হত্যার মূল রহস্য কী ছিল, সেই হত্যার বিচার নিয়ে কেনো কোনো উদ্যোগই নেয়নি বিএনপি? অথচ দলটি ক্ষমতায় ছিলো কয়েকবার। বিএনপির এই অনীহা কেন? এ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন নানা রহস্য। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতায় ছিলো বিএনপিই। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। তিনি ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়ার বিশ্বস্থ। কিন্তু তিনিও উদ্যোগ নেননি দেশের রাষ্ট্রপতি হত্যার। বরং সেনাপ্রধান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের নির্দেশে তড়িঘড়ি করে সামরিক আদালত গঠন করে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা সেনাকর্মকর্তাকে ফাঁসি দেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে মিউটিনির অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু জিয়াউর রহমান যখন নিহত হন তখন তিনি সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন না।
১৩ সেনাকর্মকর্তাকে সামরিক আদালতে বিচারের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এই রিটের শুনানিতে আসামী পক্ষে ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী সিরাজুল হক, ড.কামাল হোসেন, এডভোকেট খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহম্মদ, ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড.এম জহির, এডভোকেট আমিনুল হক প্রমুখ। শুনানিতে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে তাদের সব যুক্তি খারিজ করে দিয়ে সামরিক আদালতের রায় বহাল রাখে। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং ১৩ সেনাকর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ডের পর এ নিয়ে কথা বলছিলেন আইনজীবীরা। তাদেরই একজন প্রখ্যাত আইনজীবী সিরাজুল হক। যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ছিলেন। লেখক গবেষক আনোয়ার কবির লিখিত “ফাঁসির মঞ্চে তেরজন” গ্রন্থে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার হয়নি। হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মিউটিনির চার্জ গঠন করা ঠিক হয়নি। তৎকালিন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের হত্যাকাণ্ডের আইনেই সাধারণ আদালতে এঁদের বিচার করা উচিত ছিলো। “আইন আদালত” পত্রিকার পাঠকদের জন্য বিশিষ্ট আইনজীবীরা সেদিন কি বলেছিলেন তা তুলে ধরা হবে। এ পর্বে রয়েছে প্রখ্যাত আইনজীবী প্রয়াত সিরাজুল হক যা বলেছিলেন তার বিস্তারিত।


এডভোকেট সিরাজুল হক স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার হয়নি। হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মিউটিনির চার্জ গঠন করা ঠিক হয়নি। তৎকালিন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের হত্যাকাণ্ডের আইনেই সাধারণ আদালতে এঁদের বিচার করা উচিত ছিলো।
আদালতে তাঁর মতামত ছিলো ,চট্টগ্রাম সেনাবিদ্রোহ মামলার নামে ১৩ জনের ব্যাপারে সামরিক আদালতে যে বিচার হয়েছে সেটি আর্মি আ্যক্ট অনুযায়ী ঠিক হয়নি। এঁদের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে মিউটিনির চার্জে বিচার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় What is mutiny?
মিলিটারি অ্যাক্টে বলা হয়েছে-
The term mutiny implies collective insubordination, or a combination of two or more persons to resist, or to induce other to resist, military authority.
দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো-Is murder as such mutiny?
তৃতীয় প্রশ্ন হলো-Is murder of a President of a country mutiny?
এ ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডটি মিউটিনির পর্যায়ে পড়ে কি নি? এখানে বলা যায় রাষ্ট্রপতির হত্যাকাণ্ডটি একটি হত্যাকাণ্ডই। মিউটিনি নয়। হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মিউটিনির চার্জ গঠন করা ঠিক হয়নি। তৎকালীন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের হত্যাকাণ্ডের আইনেই সাধারণ আদালতে এঁদের বিচার করা উচিত ছিলো।
এডভোকেট সিরাজুল হক বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যাপারে তৎকালিন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের সঠিক তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের সেনাবাহিনী থেকে বহিস্কার করে সাধারণ আদালতের কাছে সোপর্দ করা উচত ছিলো। আমার মতে আইনত এটিই ছিলো শুদ্ধ পদ্ধতি। তা না করে কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডটিকে মিউটিনির পর্যায়ে ফেলে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিচার করেছেন ।এটি আইনত শুদ্ধ বলে আমি মনে করি না।
এ ছাড়াও জিয়া হত্যাকাণ্ডের সামরিক আদালতের চার্জ গঠন সম্পর্কে বলা যায় ,আর্মি আ্যক্টের ৫৯(২) ধারাতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি খুন হয়েছেন তিনি যদি মিলিটারী আ্যক্টের আওতায় না পড়েন তা হলে তার বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল করা যায় না। Army act 59(2)-A Person subject to this Act (Army act) who commits an offence of murder against a Person not subject to this Act or to the Indian Air force Act 1932,or to the Pakistan Navy ordinance ,1961 and Pakistan Air force act 1953 or of Culpable homicide not amounting to murder against such a Person or of rape in relation to such a Person, shall not be deemed to be guilty of an offence against this Act and shall not be dealt with under this Act unless he commits any of the said offences while on active service).
এখন বিবেচ্য বিষয় যে ব্যক্তি নিহত হয়েছেন তিনি আর্মি আ্যক্টের আওতাভূক্ত কি না। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি একজন সিভিল ব্যক্তি ছিলেন। তার কর্তব্য আর্মি আ্যক্টের দ্বারা পরিচালিত নয়। তিনি সংবিধান কর্তৃক গঠিত ও পরিচালিত ব্যক্তি। তিনি কমান্ডার ইন চীফ হলেও আর্মির আ্যক্টিভ সার্ভিসে পড়েন না। সুতরাং মার্ডার অব এ প্রেসিডেন্ট ইজ নট এ মিউটিনি এন্ড সাচ মার্ডার কেননট বি ট্রায়াল্ড বাই কোর্ট মার্শাল আন্ডার দি আর্মি আ্যক্ট।
সিরাজুল হক বলেন, সেদিন ১৯৮১ সালে আমরা যখন উচ্চ আদালতে তেরজনের মামলার ব্যাপারে যে বক্তব্য পেশ করেছিলাম এবং আমি যে আর্গুমেন্ট করেছিলাম সেখানে বলেছিলাম, It was Contended that this was no trial because there was no mutiny and the murder of the President being a civil offence as opposed to military offence was not Cognizable by Court Martial.- সেদিন আদালত আমার বক্তব্যটি শুধু রেকর্ডই করেছেন কিন্তু সুচিন্তিতভাবে বিবেচনায় আনেন নি। তবে আদালত তার প্রদত্ত রায়ের ফাইন্ডিং এ বলেছিলেন যদি মামলাটি কোরাম নন জুডিশ হয় কিংবা মেলাফাইডি হয় তবেই কোর্ট মার্শালের ওপর হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করতে পারে,নতুবা পারে না। এ মন্তব্যের উপরই আদালত আসামিদের আবেদন খারিজ করে দেন। সেদিন আমার বক্তব্যে এটিও ছিলো মার্শাল ‘ল’ কোর্টের এই বিচারটিতে কোরাম নন জুডিস এবং মেলাফাইডি ছিলো।

বর্তমানে যদি আবারো এই বিচারটির সঠিক ট্রায়াল করতে হয় তবে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের দেয়া আগের রায়টি রিভিউ করতে পারে। রিভিউর এই প্রক্রিয়ায় আমাদের সকল আইনজীবীর বক্তব্য গ্রহণ করলে ওই রায়টি বাতিল হতে পারে। রায়টি বাতিল হলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামিদের আত্মীয় স্বজনদের জন্য সরকার ইচ্ছে করলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে পারেন। এই প্রক্রিয়াতেই সত্যিকারের খুনীদেরকে তদন্তপূর্বক বিচার করা যেতে পারে। আমার মতে এটিই হবে প্রকৃত ন্যায় বিচার। এ প্রক্রিয়ায় দেশের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন সমুন্নত থাকবে। এতে দেশ একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনকে পূরণ করবে।

মানবপাচারের অপরাধে কুয়েতে দণ্ডিত সাবেক এমপি পাপুলের পক্ষে হাইকোর্টে রিট, মঙ্গলবার আদেশ

0

কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত লক্ষীপুর -২ আসনের সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলের সদস্যপদ শূন্য ঘোষণা করে গেজেট জারি ও উপনির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য্য করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের ওপর শুনানি গ্রহণ করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। পরে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান গণমাধ্যমকে বলেন, সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে। সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও সংশ্লিষ্ট সাংসদের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসন শূন্য ঘোষণা করা যায় না। সংসদের কার্যবিধি অনুসারে সংশ্লিষ্ট আদালত হতে দণ্ড সম্পর্কে অবহিত হয়ে স্পিকার আসন শূন্য ঘোষণার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারেন।
তবে শহিদ ইসলাম পাপুলের ক্ষেত্রে কুয়েতের আদালত থেকে এমন কোনো চিঠি বা তথ্য স্পিকারের কাছে আসেনি বলে রিট আবেদনকারীরা জানিয়েছেন। তাই আসনটি শূন্য ঘোষণা এবং উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা আইনসম্মত হয়নি। এসব যুক্তিতে রিটটি করা হয়।
রিটে ওই আসন শূন্য ঘোষণার প্রজ্ঞাপন এবং আসনটিতে উপনির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিল অবৈধ ঘোষণার আরজি জানানো হয়েছে বলে জানান মোস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের সংসদ বিষয়ক সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও নির্বাচন কমিশনকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে। অপরদিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী বলেন, আসন শূন্য ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন রেখেছেন।
এর আগে গত মার্চ মাসে এই আসন শূন্য ঘোষণা ও উপনির্বাচন তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শহিদ ইসলামের বোন নুরুন্নাহার বেগম এবং ওই আসনের বাসিন্দা শহিদ ইসলামের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী শাহাদাত হোসেন ওই রিট করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের সংসদ বিষয়ক সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও নির্বাচন কমিশনকে রিটে বিবাদী করা হয়।
গত ২২শে ফেব্রুয়ারি শহিদ ইসলাম পাপুলর আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। নির্বাচন কমিশন ওই আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ৪ঠা মার্চ। ঘোষিত তফসিল অনুসারে ১১ই এপ্রিল ওই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে আগামী ২১শে জুন নির্ধারণ করা হয়। গেজেটে বলা হয়, কুয়েতের ফৌজদারি আদালতে ঘোষিত রায়ে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে ৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন শহিদ ইসলাম। এ কারণে বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সাংসদ থাকার যোগ্য নন তিনি। সে কারণে সংবিধানের ৬৭(১)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ (গত ২৮ জানুয়ারি) থেকে তার আসন শূন্য হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঘুষ লেনদেনের মামলায় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ শহিদ ইসলামকে গত ২৮শে জানুয়ারি সাজা দেন কুয়েতের ফৌজদারি আদালত। বিচারক রায়ে এই সাংসদকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার বা ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সাংসদের বিদেশের মাটিতে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। গত বছরের ৬ই জুন রাতে কুয়েতের বাসা থেকে আটক করা হয় শহিদকে। আটকের সাড়ে ৭ মাস আর বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সাড়ে ৩ মাসের মাথায় দণ্ডিত হন তিনি।

কাশিমপুর কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

0

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ আব্দুল আহাদ (৪০) নামের এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর কারাগারের জেলার মো. আবু সায়েম।
আব্দুল আহাদ সিলেট বিশ্বনাথ উপজেলার নদার মালপাড়া গ্রামের জমির আলীর ছেলে। তার কয়েদি নম্বর ১২৪/১৭।
জেলার আবু সায়েম জানান, রাজধানীর কাফরুল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২০১৭ সাল থেকে এ কারাগারে বন্দি ছিলেন আহাদ। সোমবার ভোরে হঠাৎ কারাগারের ভেতর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় প্রথমে তাকে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আহাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
জেলার আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কয়েদি আহাদ স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

গ্রাহকের গ্যাস বিলের ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সেই ওমর ফারুক গ্রেফতার

0

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দুই বছরে দেড়হাজার গ্রাহকের গ্যাস ও পানির বিল সংগ্রহ করে তা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন ওমর ফারুক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পালিয়ে যান ফারুক। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাকে ধরা পড়তেই হলো র‍্যাবের গোয়েন্দা জালে। রোববার তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার বিকেলে রাজধানীর কাওরান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো.মোজাম্মেল হক জানান, মিরপুরে তিতাসের দেড় হাজার গ্রাহকের গ্যাস বিলের ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের মূলহোতা মো. ওমর ফারুককে (৩২) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, র‌্যাব-৪ এর একটি দল র‌্যাব-৭ এর সহযোগিতায় গতকাল রোববার মো. ওমর ফারুককে (৩২) চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ফারুক ২০১৮ সালে রাজধানীর মিরপুর-২’র ৬০ ফিট এলাকায় ‘ইন্টার্ণ ব্যাংকিং এন্ড কমার্স’ নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে এবং এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিলের টাকা সংগ্রহ করতেন।
কিন্তু গত দুই বছর ধরে ফারুক গ্রাহকের গ্যাস বিলের ১০ কোটি টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। গত জানুয়ারিতে মিরপুর এলাকায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে বকেয়া বিলের জন্য প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রচারণা চালায়। মাইকিংয়ের পরপরই ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ফারুক ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাস্তায় আন্দোলনে নামেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে গত ২৩ জানুয়ারি ‘ইন্টার্ণ ব্যাংকিং এন্ড কমার্স’সহ তিনটি অফিস তালাবদ্ধ করে ফারুক ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান।
র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এ বিষয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী মিরপুর মডেল থানায় গত ২ ফেব্রয়ারি ফারুকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরপরই র‌্যাব-৪’র গোয়েন্দা দল ওই মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং জালিয়াতির মূলহোতা ফারুকের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
র‌্যাব জানায়, ওমর ফারুকে বাড়ি নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার সাগরপুর গ্রামে। তিনি স্থানীয় একটি স্কুল থেকে ২০০৯ সালে এসএসসি পাশ করে ২০১৪ সালে ঢাকায় মগবাজার এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে কাজ শুরু করেন। ২০১৫ সালে মিরপুরের আহম্মেদনগর এলাকায় নিজে বিকাশের ব্যবসা শুরু করেন। প্রতারণার উদ্দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকে পাঁচটির বেশি অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে তিনি ২০১৮ সালে মিরপুর-২’র ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৬০ ফিট এলাকায় ‘ইন্টার্ণ ব্যাংকিং এন্ড কমার্স’ নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেন। ওমর ফারুক তার এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার গ্রাহকের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতেন।
র‌্যাব আরও জানায়, ফারুক ২০১৮ সাল থেকে তিতাস গ্যাস, ওয়াসা ও ডেসকোর গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল সংগ্রহ করে জমা না দিয়ে বিলের টাকা আত্মসাৎ করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। তিনি বিল সংগ্রহের সময় গ্রাহককে ব্যাংকের সিলসহ সংশ্লিষ্ট বিলের রশিদ সরবরাহ করায় ধীরে ধীরে গ্রাহকদের বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। এভাবে দেড় হাজার গ্রাহকের তিতাস গ্যাস, ওয়াসা ও ডেসকোর বিল সংগ্রহ করে জমা না দিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
এ ছাড়াও, তিনি ‘অটুট বন্ধন’ নামে একটি এমএলএম সমিতি প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ জনগণকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ফারুক এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে। ফারুকের অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।