ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   ভোর ৫:০২ 

Home Blog Page 113

সরকারি চাকুরেদের ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি নয়, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

0

কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে রাখার বিধান অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি করে রাখা যাবে না। এছাড়াও ওএসডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত কাজ অবশ্যই ১৫০ দিনের মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের স্বাক্ষরের পর সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ওই রায়ের ২১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি করা রাখা যাবে না, এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আর রায়ে সহমত প্রকাশ করেছেন বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার।
হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, কোনো কর্মকর্তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে পদায়ন করা হলে অকারণে দেরি না করে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা নিরুপণের জন্য সরকারকে অবশ্যই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্ত কমিটি যদি অভিযোগের সারবত্তা খুঁজে পায় তাহলে সরকারের উচিত হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত কাজ অবশ্যই নির্ধারিত ১৫০ দিনের মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে।
রায়ে আরও বলা হয়, এই বিষয়টি আদালতের সামনে আরও অনেকে আগেই উত্থাপন করা আবশ্যক ছিল।
এ প্রসঙ্গে আদালত একটি প্রাচীন প্রবাদের কথা উল্লেখ করেন, ‘একেবারে না হওয়ার চেয়ে দেরি করে হওয়া ভাল।’
পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রেক্টর বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এর আগে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ রায় দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অনীক আর হক। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্তকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
যারা ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি আছেন, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বপদে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বার জজ আদালত আট সপ্তাহের জন্য রায়টি স্থগিত করে আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল করতে বলা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করা হবে।
২০১২ সালের জুন মাসে ওএসডি-সংক্রান্ত জনস্বার্থে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের জুনে হাইকোর্টের জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত বছরের ৮ জানুয়ারি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়। রায়ে সরকারি কোনো কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি করে রাখা যাবে না বলা হয়।
একইসঙ্গে যেসব সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি করে রাখা হয়েছে তাদের স্ব স্ব পদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনা ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের এই রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
ওএসডির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না— এমন যুক্তিতে ২০১২ সালের ৩১ মে সাবেক সচিব আসাফ উদ-দৌলা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯১ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কী কী কারণে ওএসডি করে রাখা যায়, সে বিষয় ও সময়সীমার কথা বলা রয়েছে। ওএসডি ও সুপারনিউমারি পদ সংক্রান্ত ওই প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়।
‘এখন থেকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদ (ওএসডি) শুধুমাত্র নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সৃষ্টি করা হবে।
ক. দু’মাসের বেশি ছুটি ভোগকারী। প্রশিক্ষণরত কর্মকর্তা।
খ. পুরাতন পদ/বৈদেশিক চাকরি থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত/বৈদেশিক প্রশিক্ষণ থেকে প্রত্যাগত এবং নতুন পদে যোগদানের জন্য অপেক্ষমান কর্মকর্তা (অনুর্ধ্ব ১ মাস ১৫ দিন)।
গ. বৈদেশিক চাকরিতে যোগদানের জন্য/বৈদেশিক প্রশিক্ষণে যোগদানের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক ভাষা শিক্ষা লাভের জন্য অপেক্ষমান কর্মকর্তা (অনুর্ধ্ব ৩ মাস)।
ঘ. দুর্নীতি, শৃঙ্খলাজনিত কারণ, অসদচারণ ও অযোগ্যতার জন্য প্রাত্যহিক কর্মকর্তা (অনুর্ধ্ব ১৫০ দিন)।
ঙ. প্রশাসনিক/অনিবার্য কারণে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের কর্মকর্তাগণকে (আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় ছাড়া) সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত করা যাবে। তবে এ ধরনের কর্মকর্তাদের তালিকা মাসিক প্রতিবেদন হিসাবে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে প্রেরণ করতে হবে।’
কিন্তু অনির্দিষ্টকালের জন্য ওএসডি করে রাখা হচ্ছে, যা বেআইনি ও অসাংবিধানিক। সংবিধানের ২০ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে অনুপার্জিত আয় কোনো ব্যক্তি ভোগ করতে পারবে না। কিন্তু যাদের ওএসডি করে রাখা হচ্ছে, তারা কোনো দায়িত্ব ছাড়াই সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা ভোগ করছেন। জনগণের ট্যাক্সের অর্থ থেকে তাদের বেতন দেওয়া জনস্বার্থ ও সংবিধান পরিপন্থি।
ওই রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৪ জুন মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেছিল।
রুলে নির্ধারিত কারণ ও সময়ের বাইরে সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করে রাখা এবং তাদের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন-ভাতা দেওয়া কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
পাশাপাশি ওএসডি করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা কেন করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া । সৌজন্যে-সারাবাংলা ডটকম।

অর্থপাচার নিয়ে সংসদে সরকার দলের সদস্যের ক্ষোভ

0

বিদেশে অর্থ পাচার হওয়ায় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলী আশরাফ। রোববার সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বাজেট তো দিচ্ছি আমরা। কিন্তু বাস্তবায়নের জন্য সদিচ্ছা থাকতে হবে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচার কিছু কিছু লোক এখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন, যাদের সামনে রেখে বলতে পারি। জীবনের মায়া নিয়ে আমরা যুদ্ধ করি নাই। কিছু পাবার, খাবার বা প্রত্যাশার জন্য যুদ্ধ করিনি। লড়াই করেছিলাম বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। সেই দেশে আজকে ঘৃণা, লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়।
এত বড় বড় কিছু চোর, যাদের নাম ওঠে। অথচ প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’। অথচ অর্থপাচারকারী আমার মনে হয় এসবরে বিরুদ্ধে যথেষ্ঠ শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তিনি বলেন, কর প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে। আমাদের মুহিত সাহেব যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, ২০১০ সালে তিনি বলেছিলেন উপজেলা পর্যায়ে কর প্রশাসন। ২৫ লাখ লোক কর দেয়। এটা গৌরবের কথা। ট্যাক্সের নেট আরও বাড়াতে হবে। দক্ষতা বাড়াতে হবে। কর প্রশাসনের সামর্থ্য আছে। কর প্রশাসনের দক্ষতা, স্বচ্ছতা, সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা যদি আমরা না বাড়াতে পারি তাহলে বাজেটে ইপ্সিত লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাতে পারব না।
তিনি বলেন, কোভিডের তৃতীয় ঢেউ যদি আসে, আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আছেন। কোভিড-১৯ এর প্রথম ধাপ, দ্বিতীয় ধাপ এখন তৃতীয় ধাপ উঁকি দিচ্ছে। এর মধ্যে এই জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করা হয়েছে। এটা ভালো বাজেট। সম্ভাবনার বাজেট। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বাজেটের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই অর্থবছরে সিপিডি-বিএনপির নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়ার কারণ অন্য। মেগা প্রজেক্টগুলো শেষ হয়ে এসেছে। তা দেখে তারা আবোল-তাবোল বকছে।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমদ সব বিক্রি করে স্থায়ী হয়েছেন আমেরিকায়, পাচার করে নিয়েছেন ৩০০ কোটি টাকা

0

তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড: ফখরুদ্দিন আহমদ, দেশে থাকা স্থাবর অস্থাবর সব সম্পত্তি বিক্রি করে নিয়ে গেছেন। মুন্সিগঞ্জে পৈত্রিক বাড়ি, জমি, গুলশানের বাড়ি বিক্রি করে তিনি স্থিতু হয়েছেন আমেরিকায়। ড.আহমদ দেশ থেকে সবকিছু বিক্রি করে অন্তত ৩শ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। তবে এই টাকা তিনি বৈধ পথে অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে নিতে পারেন নি। অবৈধ ভাবে নিয়েছেন যা অর্থপাচারের মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে ড.ফখরুদ্দিন বৈধভাবে কোনো টাকা বিদেশে নেন নি এবং এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমদ বাংলাদেশে বহুল আলোচিত নাম। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারীর ওয়ান ইলেভেনের সরকার বললেই চোখের সামনে ভেসে আসে ড: ফখরুদ্দিন আহমদের চেহারা, জেনারেল মঈন ইউ আহমদের চেহারা। বিএনপি জামাতের চারদলীয় জোট সরকারের অপশাসনে অতিষ্ট হয়ে দেশের রাজনীতি যখন টালমাটাল অবস্থা ঠিক সেই সময়ে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব নেন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহমদ। কিন্তু আওয়ামীলীগসহ বিরোধি রাজনৈতিক দলগুলো ড.ইয়াজউদ্দিনের ক্ষমতা গ্রহণ মেনে নেয়নি। দেশজুড়ে চলতে থাকে আন্দোলন। একপর্যায়ে ক্ষমতার দৃশ্যপটে আসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ড.ফখরুদ্দিন আহমদ। সেনাবাহিনীর সমর্থনে প্রধান উপেদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান ড.ফখরুদ্দিন। প্রধান উপদেষ্টা ড.ফখরুদ্দিন আহমদ আর সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদের যৌথ শাসনে দেশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। আধা সিভিল আধা সামরিক শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগে সব দলের শীর্ষ নেতাই কারাগারে নিক্ষেপ হন। বাদ যাননি আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও। শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হয় দুর্নীতির মামলা। এসব মামলায় ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে অনেকের বিচার সম্পন্ন হয়, জেল জরিমানা হয়। মোটকথা দেশের রাজনীতি নবরূপ লাভ করে। দুই বছর দৌর্দণ্ড প্রতাপে রাষ্ট্রক্ষমতা চালিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ট আসনে জয়লাভ করে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে। আর এর মাধ্যমে অবসান হয় ফখরুদ্দিন -মঈনউদ্দিনের তত্বাবধায়ক সরকারের শাসন।
আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর পরই অনেকটা নিরবে দেশ ছেড়ে চলে যান ফখরুদ্দিন আহমেদ ও মঈনউদ্দিন আহমেদ। দুজনের গন্তব্যই হয় আমেরিকা। কিন্তু আমেরিকায় এখন কি করছেন তারা? দেশের দৌর্দণ্ড প্রতাপশালী এই দুই ব্যাক্তি কেনো একবারেই চুপ হয়ে গেলেন? এ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন, নানা জিজ্ঞাসা।‘ আইন-আদালত’ পাঠকদের জন্য এ পর্বে ড.ফখরুদ্দিন আহমদের কথা তুলে ধরা হচ্ছে।
আইন আদালতের অনুসন্ধানে একটা বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে ড.ফখরুদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ থেকে তার স্থাবর অস্থাবর সব সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা পয়সা নিয়ে চলে গেছেন। দেশে তার এখন আর কিছুই নেই।

অবশ্য বাংলাদেশের সঙ্গে ড.ফখরুদ্দিন আহমদের নাড়ির টান ছিন্ন করেন ১৯৭৮ সালে। এর আগ পর্যন্ত তিনি সরকারি কর্মকমিশনে চাকরি করতেন। ১৯৭৮ সালে বিশ্বব্যাংকে চাকরি নিয়ে চলে যান আমেরিকায়। বিশ্বব্যাংকে চাকরীর সূত্রে অবস্থান করেন ওয়াশিংটনে। ২০০০ সালে তিনি প্রথম বাড়ী কেনেন কানাডার টরন্টোতে। বিশ্বব্যাংকের চাকরী শেষ করে তার কানাডায় স্থায়ী ভাবে বসবাসের কথা ছিলো।
কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় এলে তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়া হয়। উড়ে আসেন বাংলাদেশে। ২৯ নভেম্বর ২০০১ সালে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে, ওয়াশিংটনে স্ত্রীর নামে একটি এপার্টমেন্ট কেনেন ড: ফখরুদ্দিন আহমেদ। গভর্নরের দায়িত্ব শেষ করেই, তিনি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফে) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু আমেরিকা ফেরার আগেই ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ফখরুদ্দিন আহমেদ সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দুবছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৯ সালে তিনি আবার চলে আসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । সর্বশেষ সেখানেই স্থায়ী ভাবে অবস্থান করছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে দীর্ঘদিন দেশে সরকারি চাকরী করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন, ছিলেন তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। কিন্তু দেশে কোনো সম্পদ তিনি করেন নি। মুন্সীগঞ্জে তার যে পৈত্রিক সম্পত্তি ছিলো সেই জায়গা জমিও বিক্রি করে দিয়েছেন। অবসরের পর পেনশনের টাকা একসঙ্গে তুলে নিয়ে গেছেন। সেটা করেছেন তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালেই। সূত্রগুলো জানিয়েছে তার গুলশানের বাসভবন, মুন্সীগঞ্জের পৈত্রিক বাড়ী এবং জমি, পুরান ঢাকায় একটি বাড়ী বিক্রি করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পাচার করে নিয়ে গেছেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে ফখরুদ্দিন আহমদের ম্যারিল্যান্ডে দুটি বাড়ী আছে। কানাডায়ও তার বাড়ী আছে। বছরে একবার কানাডায় গিয়ে থাকেন। তবে তিনি আর দেশে আসবেন না এবং দেশের কথা ভাবেনও না। যে ব্যক্তি উড়ে এসে জুড়ে বসে দেশের শাসনভার গ্রহন করেছিলেন,দৌর্দণ্ড প্রতাপে দেশ চালিয়েছেন সেই ব্যক্তি এখন বিদেশবিভূইয়ে আত্মগোপনের মতো জীবন যাপন করছেন।

টঙ্গির আতঙ্ক কিশোর গ্যাং ‘ডি কোম্পানির’ নেতা লন্ডন বাপ্পী দলবলসহ গ্রেফতার

0

পাঁচ দিন আগে (১ জুন) রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের টঙ্গির আরিচপুর এলাকায় একটি ফুচকার দোকানে খেতে আসেন টঙ্গির আতঙ্ক কিশোর গ্যাং ডি কোম্পানির কয়েকজন সদস্য। সে সময় ওই ফুচকা দোকানের সব কটি চেয়ারে অন্য লোকজন বসা ছিলেন। তখন ডি কোম্পানির সদস্যরা চেয়ার ছেড়ে দিতে বলেন। চেয়ার ছেড়ে না দেওয়ায় অতর্কিত তুহিন আহম্মেদ ও তুষার আহম্মেদকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন তারা। এ ঘটনায় তুহিন আহম্মেদ টঙ্গী পূর্ব থানায় ডি কোম্পানির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলা করার পরদিন ৩ জুন ডি কোম্পানির সদস্যরা আরিচপুর এলাকার একটি দর্জি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। আরজু মিয়া নামের এক ব্যক্তিসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম করেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে এই খবর আসার পর র‍্যাব–১ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
র‍্যাব গোয়েন্দাদের তদন্তে উঠে আসে, গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার মুর্তিমান আতঙ্ক ডি কোম্পানির কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে দিচ্ছেন রাজিব চৌধুরী। পাঁচ বছর আগে ফেসবুকে এই ডি কোম্পানি নামের গ্যাংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এই গ্যাংয়ের সদস্যসংখ্যা ৫০। তাদের বয়স ১৮ বছর থেকে ২৫ বছর। এলাকার মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন ডি কোম্পানির সদস্যরা। গ্রেপ্তার ডি কোম্পানির ১২ জন হলেন রাজিব চৌধুরী বাপ্পী ওরফে লন্ডন বাপ্পী (৩৫), মইন আহমেদ নীরব ওরফে ডন নীরব (২৪), তানভীর হোসেন ওরফে ব্যাটারি তানভীর (২৪), পারভেজ ওরফে ছোট পারভেজ (১৯), তুহিন ওরফে তারকাঁটা তুহিন (২১), রাজিব আহমেদ নীরব (৩০), সাইফুল ইসলাম ওরফে শাওন (২৩), রবিউল হাসান (২০), শাকিল ওরফে বাঘা শাকিল (২৮), ইয়াছিন আরাফাত ওরফে বিস্কুট ইয়াছিন (১৮), মাহফুজুর রহমান ফাহিম (২২) ও ইয়াছিন মিয়া (১৯)।
টঙ্গী পূর্ব থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় শনিবার রাজিব চৌধুরী বাপ্পী ওরফে লন্ডন বাপ্পীসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তারা সকলেই টঙ্গীর কিশোর গ্যাং ‘ডেয়ারিং কোম্পানি’ বা ‘ডি কোম্পানির’ সদস্য। এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল তারা। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলত না। রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায় কিশোরগ্যাং ‘ডি কোম্পানির’ প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন লন্ডনে লেখাপড়া করা রাজিব চৌধুরী বাপ্পী ওরফে লন্ডন বাপ্পী।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, চার বছর আগে অস্ত্রসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন টঙ্গীর রাজিব চৌধুরী বাপ্পী। ছয় মাসের মাথায় জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন রাজিব। পাঁচ বছর আগে শুরু হওয়া টঙ্গীর কিশোর গ্যাং ‘ডেয়ারিং কোম্পানি’ বা ‘ডি কোম্পানির’ প্রধান পৃষ্ঠপোষক তিনি। প্রতি মাসে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আসত রাজিবের হাতে। প্রতি সপ্তাহে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ৩০০-৫০০ টাকা করে দিতেন তিনি।
র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ১২ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রধান আসামি রাজিব চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী।
র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, বর্তমানে উঠতি বয়সের ছেলেদের ক্ষমতার দাপট দেখানো নিয়ে বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে মারামারি আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকায় নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করার জন্য উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায়। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালায়। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়ে খুনোখুনিও করে।
র‍্যাব আগে থেকে কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। বর্তমানে সারা দেশে কিশোর গ্যাং সদস্যদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট র‍্যাব কোম্পানি এসব কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালাবে। বাংলাদেশে কোনো কিশোর গ্যাং থাকবে না। যেসব ব্যক্তি কিশোর গ্যাংকে প্রশ্রয় দেবে এবং যারা সদস্য হবে, তাদের প্রত্যেককে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবদুল মোত্তাকিম, র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান উপস্থিত ছিলেন।

হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ

0

হেফাজত ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। ওই নারীকে ‘শরিয়ত মতো বিয়ে করার বিষয়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণাদি দিতে পারেননি মামুনুল হক। কোন কাজি তাঁর বিয়ে পড়িয়েছেন, সেটি তিনি সঠিকভাবে বলতে পারেননি। তিনি যেগুলো বলেছেন, সেগুলো বাস্তবিক অর্থে কোনো বিয়ে নয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যেটা আছে, কাউকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক করা ধর্ষণের আইনের মধ্যে পড়ে।
রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৬ মামলায় ১৮ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য গণমাধ্যমকে জানান।
তিনি বলেন, দুই বছর ধরে ওই নারীকে ধর্ষণ করে আসছেন মামুনুল। ধর্ষণের যে অভিযোগ ওই নারী করেছেন, সেটির প্রাথমিকভাবে প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আমরা আশা করছি, ওই নারী সুবিচার পাবেন। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের যে সময় আছে, ওই সময়ের মধ্যে আমরা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব বলে আশা করছি।’
এ ছাড়া দেশি-বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রাথমিক প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ।

পাকিস্তানকেন্দ্রিক জঙ্গি সংগঠন ও দেশীয় জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলই ছিল মামুনুল হকের মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, আমির খসরু, শফিউল ইসলাম, জাহেদ পারভেজ চৌধুরী প্রমুখ।
পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, মামুনুল হক একাধিক মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। এসব মাদ্রাসার নামে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। কিন্তু সংগ্রহ করা বেশির ভাগ অর্থই মাদ্রাসার ছাত্রদের পেছনে ব্যয় না করে তিনি নিজেই ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন উগ্র ধর্মীয় সংগঠনের কাজে অর্থ ব্যয় করতেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের উচ্চাভিলাষ থেকে ধর্মভিত্তিক দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তিনি বলেন, তাঁর অর্থনৈতিক লেনদেনের বেশির ভাগ আইনসিদ্ধ নয়, আইনগত বৈধতা নেই।

পিবিআই পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, মামুনুল হক হরতালের তিন দিন গত ২৫ মার্চ নারায়ণগঞ্জে এসে নেতা–কর্মীদের উজ্জীবিত করে যান। হরতালের নাশকতার তিন দিন পর ৩১ মার্চ তিনি আবার নারায়ণগঞ্জে একটি মাদ্রাসায় এসেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নারায়ণগঞ্জের আসার কথা স্বীকার করেছেন এবং প্রযুক্তির মাধ্যমেও বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তিনি বলেন, হরতালের সহিংসতার পেছনে উসকানিমূলক বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি জড়িত ছিলেন তিনি।
মামুনুল হক এখন কাশিমপুর কারাগারে।

বঙ্গবন্ধুর পলাতক চার খুনির মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিল,জিয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি

0

বঙ্গবন্ধুর পলাতক চার খুনি শরীফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন খান, এ এম রাশেদ চৌধুরী ও এসএইচএমএইচএমবি নূর চৌধুরীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া বীরত্বের খেতাব বাতিল করেছে সরকার।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ওই চারজনের খেতাব বাতিল করে রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
তাদের মধ্যে নূর চৌধুরী ‘বীর বিক্রম, শরিফুল হক ডালিম ‘বীর উত্তম’, রাশেদ চৌধুরী ‘বীর প্রতীক’ এবং মোসলেহ উদ্দিন খান ‘বীর প্রতীক’ খেতাবধারী ছিলেন।
খেতাব বাতিল হওয়ায় তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য আর কোনো রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এর আগে গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভায় ওই চারজনের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দণ্ডিত চার পলাতক খুনির খেতাব স্থগিতের জন্য হাই কোর্ট একটি আদেশ দিয়েছিল গতবছরের শেষ দিকে। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে জামুকার বৈঠকে চারজনের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য।
‘সংবিধান লঙ্ঘন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের’ কারণে সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ‘বীর উত্তম’ খেতাবও বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছিল জামুকার ওই সভায়।
তবে জিয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা, যদিও এর পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা আওয়ামী লীগ নেতারা বরাবরই বলে আসছেন।
বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার দশ দিনের মাথায় সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া জিয়াও ওই হত্যাকাণ্ডে ‘পুরোপুরি’ জড়িত ছিলেন বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতির পিতার খুনিদের রক্ষায় সে সময় একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন তখনকার ‘স্বঘোষিত’ রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমেদ। পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিয়ে সংবিধান সংশোধন করে খুনিদের রক্ষার পথটি স্থায়ী করার প্রয়াস চালান। হত্যাকারীদের নানা পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।
১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় ফেরার পর ইতিহাসে চিহ্নিত কালো ওই অধ্যাদেশ বাতিলের পর জাতির পিতার খুনের বিচারের পথ খোলে।
এরপর বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালতের চূড়ান্ত রায় অনুযায়ী ছয় খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে পাঁচজন এখনও রয়েছেন পলাতক।
এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ওই চারজনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া বীরত্বের খেতাব স্থগিতের নির্দেশ দেয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রীপরিষদ সচিবকে ওই নির্দেশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি রুল জারি করে হাই কোর্ট।
সেই প্রেক্ষাপটে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) বৈঠকে খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত হয় বলে কর্মকর্তারা জানান।

চীনের সিনোভ্যাকের টিকা প্রয়োগের জরুরি অনুমোদন দিল সরকার, স্থানীয় এজেন্ট ইনসেপ্টা

0

বাংলাদেশে জরুরি ব্যবহারের জন্য চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের তৈরি টিকা করোনাভ্যাকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি দেশে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পাওয়া করোনাভাইরাসের পঞ্চম টিকা।
রোববার ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমানের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, চীনের সিনোভ্যাক লাইফ সায়েন্স কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদিত এই টিকা জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদনের জন্য আবেদন করে ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বাংলাদেশে সিনোভ্যাকের স্থানীয় এজেন্ট।
ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ওষুধ প্রশাসন সিনোভ্যাকের টিকাটি জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।
ওষুধ প্রশাসনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চীনে ফেব্রুয়ারির নয় তারিখে ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সিনোভ্যাকের তৈরি এই টিকা বাংলাদেশ ছাড়া আরো ২২টি দেশে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে।
সিনোভ্যাকের এই টিকা দিতে পারবেন ১৮ বছরের বেশি বয়সী যে কোন ব্যক্তি।
প্রত্যেককে এই টিকার দুই ডোজ নিতে হবে, দুই বা চার সপ্তাহ পর এই দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে হবে।
ওষুধ প্রশাসনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিনোভ্যাকের টিকা সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত তাপমাত্রা দুই থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বাংলাদেশে এর আগে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া টিকা গুলো হচ্ছে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, রাশিয়ার উৎপাদিত স্পুটনিক ভি, চীনের সিনোফার্ম এবং ফাইজারের টিকা।
এর আগে ১২ই মে বাংলাদেশকে পাঁচ লাখ টিকা উপহার হিসেবে দিয়েছিল চীন।
৫টি ভ্যাকসিন প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে শুধুমাত্র অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকাই প্রয়োগ করা হয়েছে, যেটির স্থানীয় এজেন্ট বেক্সিমকো।
এই টিকাটি তৈরি করা হয় ভারতের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউটে। ভারত এই টিকা রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কারণে বাংলাদেশের আর এই টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়েছে।

বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর জামিন আপিল বিভাগে স্থগিত

0

নাশকতা ও গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি ও শাহবাগ থানার দুই মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়েরের নির্দেশ দেন। পরবর্তী শুনানি ২০ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভার্চ্যুয়াল আপিল বিভাগ রোববার এই আদেশ দেন। ওই দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেওয়া হয়।
গত ৩০ মে হাইকোর্ট ওই দুই মামলায় আসলাম চৌধুরীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে, যা চেম্বার আদালত হয়ে আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল ও মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান।
আসলাম চৌধুরীর আইনজীবীর তথ্যমতে, অন্য মামলায় ২০১৬ সাল থেকে আসলাম চৌধুরী কারাগারে আছেন। নাশকতার অভিযোগে ২০১৩ সালে করা ওই দুই মামলায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ফৌজদারি কার্যবিধির (সন্দেহজনক) ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর একই বছরের ২৬ মে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। মামলায় আসলামের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘বাংলাদেশের সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ’ আনা হয়। এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পেয়েছেন। সূত্র -প্রথম আলো।

সাতক্ষীরার সীমান্তে অবৈধভাবে ভারত থেকে আসা নারী-শিশুসহ পাঁচজন আটক

0

সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে অবৈধপথে ভারত থেকে আসা শিশু-নারীসহ পাঁচজনকে আটক করে সীমান্তের হিজলদী বিজিবি ক্যাম্পে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। পরে বিজিবির তত্ত্বাবধায়নে তাদের সোনাবাড়িয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতদের বাড়ি বরিশাল ও চট্টগ্রামে। শনিবার সকালে উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন বরিশালের আগলঝাড়া থানার বাশাইলের গোয়াইন গ্রামের বিনয় হালদার (৩৫), তার স্ত্রী পারুল হালদার (৩০), তাদের দুই ছেলে বিজন (৭) ও বিক্রম (৫) এবং চট্টগ্রামের পুটিয়া থানার সুমননন্দীর লাউয়ারবিল গ্রামের ফুল মাহমুদের স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন (৩০)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি জানান, সকাল ৮টার দিকে হিজলদী বাজারে সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করে। একপর্যায়ে তারা অবৈধপথে ভারত থেকে এসেছেন বলে স্বীকার করে জানান, ভারতের মুম্বাই শহর থেকে চোরাকারবারীদের সহায়তায় গভীর রাতে অবৈধপথে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে (বাংলাদেশ) প্রবেশ করেছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, তিনি ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক তাদেরকে পার্শ্ববর্তী হিজলদী বিওপির ক্যাম্প কমান্ডারকে অবহিত করেন। এরপর তাদেরকে বিজিবির নিকট সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে হিজলদী বিজিবি ক্যাম্পের এক সদস্য জানান, আটকদের পাশের সোনাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন শেষে করোনা পরীক্ষাও করা হবে। করোনামুক্ত থাকলে ১৪ দিন পর তাদের থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হবে।

আফ্রিকার বুরকিনা ফাসোতে জঙ্গিদের হামলায় নিহত ১৩২

0

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর উত্তরাঞ্চলীয় একটি গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গী হামলায় ১৩২ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এই হামলাকে ভয়াবহতম বলছে দেশটির সরকার। হামলার পর সে দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে । খবর বিবিসি।
এরই মধ্যে জঙ্গিদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এক বিবৃতিতে বুরকিনা ফাসো সরকার জানিয়েছে, জঙ্গিরা হঠাৎ করেই নাইজার দেশসংলগ্ন ইয়াগহা প্রদেশের সোলহান গ্রামে হামলা চালায়। রাতের অন্ধকারে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই হামলা চলে। এরপর গ্রামের বাড়িঘর ও বাজার জ্বালিয়ে দেয় জঙ্গিরা। যার ফলে ঘুমন্ত অবস্থাতেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পালানোর সুযোগ পায়নি কেউ। এ ঘটনায় বুরকিনা ফাসো সরকার তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। অর্ধনমিত রয়েছে সে দেশের পতাকা।
আলজাজিরার জানায় একটা সময় পশ্চিম আফ্রিকার এসব অঞ্চলে বোকো হারামের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোর ক্ষমতা অনেক বেশি ছিল। কিন্তু একাধিক দেশের সঙ্গে জোট বেঁধে লাগাতার বোকো হারামের ওপর চলে হামলা। তাতে কিছুটা হলেও দুর্বল হয়ে পড়ে বোকো হারাম। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে আফ্রিকার বুরকিনা ফাসো, মালি এবং নাইজার এলাকায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী—আল কায়েদা ও আইএস নতুন করে শক্তি বাড়িয়েছে। তাতে যোগ দিয়েছে বোকো হারামের মতো সংগঠন। তাতে শক্তি বেড়েছে। আর সেই শক্তির জানান দিতেই বুরকিনার ফাসোর এই হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুরকিনা ফাসো পশ্চিম আফ্রিকার একটি ল্যান্ডলকড (চারপাশে স্থলভূমি) দেশ। অত্যন্ত দরিদ্র এবং নিরক্ষতায় সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া দেশের মধ্যে বুরকিনা ফাসো অন্যতম।
বার বার জঙ্গিদের নিশানা হয়েছে দেশটি। তথ্য বলছে, গত দুই বছরে একের পর এক জঙ্গি হামলার জেরে দেশটির ১৪ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে কয়েক লাখ মানুষের। বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সে দেশে পাঠানো হয়েছে শান্তিরক্ষা বাহিনী। কিন্তু তাতেও থামেনি সহিংসতার ঘটনা।