ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ৩:৩৫ 

Home Blog Page 114

রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমারের বিরোধী দলগুলোর ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ হঠাৎ কেন রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দিল

0

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফ থেকে অনেক চাপ সত্ত্বেও মিয়ানমারের যে রাজনীতিকরা রোহিঙ্গাদের অধিকারের বিন্দুমাত্র স্বীকৃতি দিতে রাজী হয়নি, হঠাৎ করে তাদের অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন বেশ বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো অং সান সুচির দল এনএলডি-সহ বিরোধী দলগুলোর একটি জাতীয় মোর্চা থেকে গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে এই নাটকীয় ঘোষণাটি দেয়া হয়। এতে রোহিঙ্গাদের অধিকারের স্বীকৃতি শুধু নয়, ১৯৮২ সালের যে নাগরিকত্ব আইনের বলে তাদের অধিকার হরণ করা হয়, সেটি বিলোপের অঙ্গীকারও রয়েছে।

গণতন্ত্রের দাবিতে রক্তাক্ত সংগ্রামে লিপ্ত মিয়ানমারের বিরোধী দলগুলো এখন গড়ে তুলেছে একটি সমান্তরাল সরকার, যেটি ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট বা এনইউজি নামে পরিচিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভের জন্য এই এনইউজি এখন সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে ঘোষণাটি দেয়া হয়েছে এই এনইউজির তরফ থেকে। ঘোষণাটিকে বেশ ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার বিভিন্ন সংগঠনও এটিকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তাদের অবস্থান কতটা আন্তরিক অথবা রোহিঙ্গাদের অধিকারের পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি এই ঘোষণায় আছে কিনা- তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।

এনইউজি’র ঘোষণায় কী আছে
গত ৩রা জুন এনইউজি রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে যে নীতি ঘোষণা করেছে, তাতে বেশ কয়েকটি অঙ্গীকার করেছে তারা।
প্রথমত, এতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে রোহিঙ্গারা যে হত্যা-নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তার স্বীকৃতির পাশাপাশি যারা এর জন্য দায়ী, তাদের বিচারের কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের বিচারের এখতিয়ার দেয়ার প্রক্রিয়া শুরুর অঙ্গীকার করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: এতে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন/বিলোপের অঙ্গীকার করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব হরণের ক্ষেত্রে এই আইনটিকে ব্যবহার করে মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষ।
তৃতীয়ত: এই ঘোষণায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে করা চুক্তি মেনে চলার অঙ্গীকার আছে।
২০১৭ সালে সর্বশেষ রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট শুরু হওয়ার পর এতটা খোলাখুলি মিয়ানমারের রাজনীতিকদের এভাবে রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে দেখা যায়নি।

এই ঘোষণার গুরুত্ব কতটা?
“এটি আসলে মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্যের সরকারের তরফ হতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয়ের স্বীকৃতি,” বলছেন মিয়ানমার বিষয়ক বিশ্লেষক ল্যারি জ্যাগান।
বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে এনইউজি স্পষ্টতই মিয়ানমারের সামরিক সরকারের চাইতে একটা পরিষ্কার ভিন্ন অবস্থান নিতে চেয়েছে। কারণ সামরিক বাহিনী এখনো পর্যন্ত বলে যাচ্ছে ‘রোহিঙ্গা’ বলে কিছু নেই।
তিনি বলেন, “মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী দলগুলোর অবস্থানে যে একটা পরিবর্তন ঘটেছে এটা তারই ইঙ্গিত। কারণ আমরা দেখেছি অং সান সুচি এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি এর আগে ‘রোহিঙ্গা’ কথাটির উল্লেখ পর্যন্ত এড়িয়ে গেছে, তারা এদেরকে ‘আরাকানি মুসলিম’ বলে বর্ণনা করতো।
ল্যারি জ্যাগানের মতে, এই ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক দুটি। প্রথমত, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বিলোপের অঙ্গীকার। কারণ এই আইনটাই অনেক সমস্যার মূলে।
আর দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের স্বীকৃতি এবং তাদের ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার।
এনইউজি’র এই ঘোষণা মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে সক্রিয় গ্রুপগুলোর মধ্যেও আশাবাদ তৈরি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনও একে স্বাগত জানিয়েছে।
তবে রোহিঙ্গা নেতাদের অনেকে মনে করেন, এই ঘোষণায় কিছু অস্পষ্টতা এখনো রয়ে গেছে।
যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক একটি সংগঠন বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট টুন খিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “তারা একদম পুরোপুরি সঠিক নীতি এবং অবস্থান নিয়েছে এটা আমি বলবো না। তাদের দিক থেকে আরও অনেক কিছু পরিষ্কার করে বলার দরকার আছে। তবে একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা একে স্বাগত জানাই।”
টুন খিনের মতে, এই ঘোষণায় অনেক কিছু বলা হলেও রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারেরই এথনিক গোষ্ঠী এবং অন্যান্য এথনিক গোষ্ঠীর মতো তাদেরও যে সমান অধিকার আছে- সেটা স্পষ্ট করে বলা নেই।
“এর প্রকাশ্য স্বীকৃতি আমরা চাই। আমরা আগের মতো আচরণ চাই না। তাই আমরা এনইউজির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে একটি প্রকাশ্য নীতি ঘোষণা করতে।”
কিন্তু একটি বিদ্রোহী সরকারের স্বীকৃতির মূল্য কী?
মিয়ানমারের প্রায় সব প্রধান বিরোধী দলগুলোর রাজনীতিকদের নিয়ে এনইউজি গঠিত হয় গত ১৬ই এপ্রিল। ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানো এনএলডির নির্বাচিত পার্লামেন্টারিয়ানরা আছেন এই সরকারে। আছেন আরও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং দলের রাজনীতিকরা।
ল্যারি জ্যাগানের মতে, এনইউজি যে মিয়ানমারের মূলধারার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। সেদিক থেকে এই স্বীকৃতির একটা মূল্য অবশ্যই আছে।
“এনইউজি তাদের মোর্চাটা অনেক বড় এবং ব্যাপক রাখতে চায়। এখানে অন্য দলগুলোকেও রাখা হয়েছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব আছে, সিভিল সোসাইটি এর সঙ্গে আছে। এটি মিয়ানমারের মূল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে, কিন্তু এটি যতটা প্রতিনিধিত্বমূলক হওয়া উচিৎ, ততটা নয়। যেমন রোহিঙ্গাদের কাউকে রাখা হয়নি এই সরকারে।”
ল্যারি জ্যাগান বলেন, “কিন্তু মনে রাখতে হবে, এটা একটা সমান্তরাল সরকার, এরা ক্ষমতায় নেই। কাজেই এসব নীতি বাস্তবায়নের কোন ক্ষমতা তাদের নেই। আর এটাও বোঝা কষ্টকর, এই সিদ্ধান্তে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নীতির প্রতিফলন কতটা আছে। বিশেষ করে অং সান সুচি এবং অন্যান্যরা এই নীতি কতটা অনুমোদন করেন। যদিও এনইউজির সঙ্গে এনএলডির অনেকে যুক্ত।”
অং সান সুচি যতদিন ক্ষমতায় ছিলেন, ততদিন শুধু রোহিঙ্গাদের অধিকারের বিপক্ষে একটি অনমনীয় কঠোর অবস্থানই শুধু নেননি, আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে মিয়ানমারের জেনারেলদের রক্ষা করতে সশরীরে সেখানে গিয়েছিলেন তাদের পক্ষে কথা বলতে। হঠাৎ করে রোহিঙ্গা প্রশ্নে এভাবে ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান বদলানোর এই সিদ্ধান্তের পেছনে তার সায় কতটা আছে?
বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট টুন খিন বলেন, “অং সান সুচি যেহেতু এখনো গৃহবন্দী, সেটা বলা খুব মুশকিল। তবে এনইউজি তো তার দলের লোকজনেরই সরকার। সেটা স্পষ্ট।”
ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর যখন নির্বাচিত পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়া হয়, তারপর হতেই অং সান সুচি এবং এনএলডির শীর্ষ নেতাদের বন্দী করা হয়। তখন এনএলডির নির্বাচিত এমপিরা অন্যান্য দলের এমপিদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন সিআরপি নামে একটি সংগঠন। সেই সংগঠন হতেই পরে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট বা এনইউজি’র জন্ম হয়।
ল্যারি জাগান বলেন, “অং সান সুচি এবং এনএলডির কারাবন্দী নেতারা তাদের দলের প্রতিনিধিদের কাছে কী বার্তা পাঠিয়েছেন, তা জানা দুষ্কর। কিন্তু আমার ধারণা, অং সা সুচি চেয়েছেন এরকম একটা কিছু হোক। ১৯৯০ সালেও তারা এটা করেছিলেন, তখন বৃহত্তর জোট গড়েছিলেন সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়তে।”
কিন্তু হঠাৎ কেন মিয়ানমারের রাজনীতিকদের অবস্থানে এই পরিবর্তন
মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্যের সরকার এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতির জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গা প্রশ্নে তাদের অবস্থান পরিষ্কার না করে সেটা পাওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় ছিল।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ফরেন এফেয়ার্স কমিটির এক শুনানিতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই শুনানিতে এনইউজির এক দূতকে কংগ্রেসম্যান ব্রাড শেরম্যান প্রশ্ন করেছিলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তাদের অবস্থান কী, যার কোন সদুত্তর দিতে তিনি ব্যর্থ হন।
এনইউজি যে রোহিঙ্গা প্রশ্ন তাদের অবস্থান বদলেছে, আন্তর্জাতিক চাপ সেখানে বড় ভূমিকা রাখছে বলে অনেকে মনে করছেন।
ল্যারি জ্যাগান বলেন, “তারা নিজেরা যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি চায়, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে স্বীকৃতি পেতে হলে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে অবস্থান বদল করতে হবে। নইলে তারা সহানুভূতি পাবে না।”
তবে ল্যারি জ্যাগান বলেন, শুধু আন্তর্জাতিক চাপ নয়, সামরিক অভ্যুত্থানের পর রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মিয়ানমারের রাজনীতিকদের চিন্তা-ভাবনায়ও একটা নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে।
“সামরিক অভ্যুত্থান জনগণকে এটা উপলব্ধি করতে বাধ্য করেছে যে, সামরিক বাহিনীর নিপীড়ন যেটা রাখাইনে ঘটেছিল, সেটাই এখন অন্য সব জায়গায় ঘটছে। কাজেই দৃষ্টিভঙ্গিতে একটা মৌলিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আমার মতে এটা একটা আন্তরিক পরিবর্তন।
ল্যারি জ্যাগানের মতে আরেকটি বিষয়ও এখানে কাজ করছে, সেটি হচ্ছে, মিয়ানমারের জেনারেলদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা।
“এনইউজি চায়, সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যে মামলা, তাতে সাহায্য করতে, যাতে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর সংগঠিত অপরাধের বিচার করা যায়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তারা নিজেদের নীতি পরিবর্তন না করে তো এটা করতে পারবে না। সেজন্যেই হয়তো তারা অবস্থান পরিবর্তন করেছে।”
মিয়ানমারের রাজনীতিকরা এবার যে তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করবেন সে ভরসা কোথায়?
বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট টুন খিন অতটা নৈরাশ্যবাদী হতে চান না।
“আগের তুলনায় এবার তারা অনেক বেশি ইতিবাচক, এটাই আমি বিশ্বাস করতে চাই। এর আগেরবার আমরা কেবলমাত্র অং সান সুচির ওপর ভরসা করেছিলাম। কিন্তু এবার আমরা একটা পুরো জাতীয় ঐক্যের সরকারের ওপর এই আস্থা রাখছি। বার্মার মানুষের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কিছু সমর্থন এবং সহানুভূতি আমরা দেখছি। কাজেই আমি আশাবাদী।”(সৌজন্যে- মোয়াজ্জেম হোসেন ,বিবিসি বাংলা, লন্ডন।)

আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টার থেকে ঢাবি ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

0

রাজধানীর আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের একটি ভবনের বাথরুম থেকে ইসরাত জাহান তুষ্টি (২১) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
রোববার (৬ জুন) সকাল সোয়া ৭টার দিকে তাকে উদ্ধার করে পরে ঢাকা মেডিকেল নিয়ে গেলে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। পরে মৃতদেহটি মর্গে পাঠানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের পলাশী ব্যারাক ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সকাল সোয়া ৭টার দিকে খবর পেয়ে আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার ইউনিট ২-এর ১৮ নম্বর ভবনের নিচতলায় একটি রুমের বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ইসরাত জাহানকে। এরপর দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, দুজন শিক্ষার্থীর মিলে স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলায় একটি বাসায় সাবলেট ভাড়া থাকতেন। সকালে তার রুমমেট ঘুম থেকে উঠে বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে লাগানো দেখতে পায়। তবে ভেতরে কলের পানি পড়ছিল। এরপর ওই রুমমেট ৯৯৯-এর মাধ্যমে আমাদের খবর দিলে পরে ওই বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অসুস্থতাজনিত কারণে সে বাথরুমের ভেতরে পড়ে মারা যেতে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেয়েছি। সে গতকাল বৃষ্টিতে ভিজেছিল, এ ছাড়া তার ঠান্ডার সমস্যা ছিল বলে জানতে পেরেছি।

এদিকে মৃতের সহপাঠী শাফায়েত আহমেদ জানান, ইসরাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। থাকতেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে। তবে হল বন্ধ থাকায় সে আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে সাবলেট থাকতেন। আর তার বাড়ি নেত্রকোনা আটপাড়া উপজেলার। তার বাবার নাম আলতু মিয়া

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ২০ জন নিহত

0

মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন। দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, মিয়ানমারের এইয়ারওয়াদি নদীর ব-দ্বীপ অঞ্চলে অস্ত্র উদ্ধারের নামে অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয়দের ওপর নির্যাতন চালানো হলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয়দের এই সংঘর্ষ হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির প্রধান শহর ইয়াংগুন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে হালায়াসওয়ে এলাকায় শনিবার ভোরে সংঘর্ষ শুরু হয়। অঞ্চলটির একজন বাসিন্দা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, গ্রামবাসীরা শুধুমাত্র তীর হাতে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সংঘর্ষে অনেক গ্রামবাসী হতাহত হয়েছেন।
স্থানীয় খিত থিত মিডিয়া ও বার্তা সংস্থা ডেল্টা জানিয়েছে, সংঘর্ষে ২০ জন নিহত ও আরও বহু লোক আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের দবি, কথিত অস্ত্র উদ্ধারের নামে সৈন্যরা গ্রামবাসীদের লাঞ্ছিত করলে তারা গুলতি নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ সহিংসতার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি এবং স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোও যাচাই করতে পারেনি।
এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। তারপর চার মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো জান্তাবাহিনী দেশটির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি।
সেনা অভ্যুত্থানের পরপর বাণিজ্যিক নগরী ইয়াংগুন এবং রাজধানী নেপিডোতে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই বিক্ষোভ এখন ছোট ছোট শহর এবং গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। টানা বিক্ষোভে মিয়ানমার অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে।

উপ-রাষ্ট্রদূত বলছেন টিকা নিয়ে চীন সরকারের সঙ্গে চুক্তিই হয় নি, রহস্য কি ?

0

টিকা আমদানী নিয়ে চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তিই হয় নি, এমন কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের উপরাষ্ট্রদূত হুয়ালং ইয়ান। শনিবার তার ফেসবুক আ্যকউন্ডে দেয়া পোস্টে এই তথ্য জানান। ফলে চীনের সঙ্গে টিকার চুক্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিলো।
উপরাষ্ট্রদূত হুয়ালং ইয়ান পোস্ট দিয়ে বলেছেন, ‘আবাক হচ্ছি কেন সব সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিথ্যা তথ্য ,যদি মিডিয়ার প্রতিবেদন সঠিক হয়।
প্রথমত সিনোফার্ম ও বাংলাদেশী পক্ষের মধ্যে কোন ডিল করা হয় নি আজ পর্যন্ত।
দ্বিতীয়ত এটি ছিল চীন সরকারের সাথে না বরং বাংলাদেশ সরকার এবং সিনোফার্মের মধ্যে আলোচনা।
আন্তরিকভাবে আশা করছি আমাদের বাংলাদেশী ভাই ও বোনেরা আগের দিনে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনপাবেন।“
উল্লেখ্য চীনের সিনোফার্মের টিকার দাম প্রকাশ করা নিয়ে বাংলাদেশকে দোষারূপ করছে চীন এমন একটি খবর প্রকাশের পর এ নিয়েও নানামুখি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের ভেতরের একটি অংশের দাবি অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি শর্ত লঙ্ঘন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আক্তার জানিয়ে দেন,প্রতিডোজ ১০ মার্কিন ডলারে বাংলাদেশকে দেড় কোটি করোনা টিকা দেওয়ার চুক্তি করেছে চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ- সিনোফার্ম।
এতে চীনের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় । পরে চীনের কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে হয় বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একেএম আবদুল মোমেন বলেন, চীন বাংলাদেশকে জানিয়েছে বিষয়টি। আর আমরা বলেছি, ভবিষ্যতে এ রকম আর হবে না।
কিন্তু বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের ডেপুটি চিফ অব মিশন হুয়ালং ইয়ান নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে জানান, চীন সরকার তো দূরের কথা, সিনোফার্মের সঙ্গেই এখনো টিকা কেনার কোনো চুক্তি হয়নি বাংলাদেশের।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে বাংলাদেশ চুক্তি করলো কার সঙ্গে আর টিকার ডোজের মূল্য প্রকাশ করায় চীনের পক্ষে প্রতিক্রিয়াই বা জানালো কে? চুক্তিই যেখানে হয় নি সেখানে প্রতিক্রিয়াই জানানোর কথা না। তাহলে এখানে কী অন্য কোনো মধ্যসত্বভোগি আছে? যারা বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতায় টিকা আমদানিতে বারবার হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশ। করোনা সংকট মোকাবিলায় চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের সঙ্গে টিকা আনার আলোচনা শুরু হয় বেশ কয়েক মাস আগে। বাংলাদেশ-চীনের টিকা কূটনীতির প্রক্রিয়ার মাঝেই বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং দাবি করেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে না পারা ও সময়ক্ষেপণের কারণে টিকা কিনতে দেরি হয়েছে বাংলাদেশের। এরপরে টিকা নেয়ার প্রক্রিয়ায় আলোচনায় আসে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি। যার জন্য চীনা ভাষায় লেখার জায়গায় সই করে ফেলা একধরনের চাহিদাপত্র দিয়ে পরে তা কমানোসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক নানা দুর্বলতার কথাও উঠে আসে জনসম্মুখে।
এ অবস্থায় আবারও টিকা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আর এ পরিস্থিতির জন্য কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনকে মোকাবেলা করতে বঙ্গোপসাগরে সামরিক ঘাঁটি বসাতে চায় আমেরিকা ?

0

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। চীনের উত্থান ঠেকাতে অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অঞ্চলে চীনকে মোকাবেলা করা নিয়ে এরই মধ্যে উচ্চাভিলাষী এক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বাইডেন প্রশাসন। এছাড়াও এ অঞ্চলে নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পাশাপাশি পুরনো ঘাঁটি নতুন জায়গায় সরিয়ে আনার কথাও ভাবা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ বহরের (সারফেস শিপ) ৬০ শতাংশই ইন্দো-প্যাসিফিকে মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে বিশালায়তনের এ নৌবহর পরিচালনার জন্য ঘাঁটি স্থাপনের পাশাপাশি রিফুয়েলিং ও লজিস্টিক সহায়তারও প্রয়োজন হবে। এজন্য সংলগ্ন আরব সাগর, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং বঙ্গোপসাগরে নিরাপদ স্থানের খোঁজে রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।
ইউরেশিয়া টাইমস জানাচ্ছে, ২০০৪ সালে গ্লোবাল ডিফেন্স পোসচার রিভিউ (জিডিপিআর) পরিকল্পনা গ্রহণের পর থেকেই ইন্দো-প্যাসিফিকে ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ খুঁজছে পেন্টাগন। জিডিপিআরে স্নায়ুযুদ্ধকালে জার্মানি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থাপিত ঘাঁটিগুলোকে আরো শক্তিশালী করা বা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে এ পরিকল্পনায় নতুন নতুন ঘাঁটি স্থাপনেরও কথা বলা হয়।
জিডিপিআরে পুরনো সামরিক ঘাঁটিগুলো প্রতিস্থাপন বা শক্তিশালীকরণের ক্ষেত্রে কয়েক ধরনের ফ্যাসিলিটি ব্যবহারের কথা বলা হয়। এর মধ্যে একটি হলো এফওএস। এগুলো হলো ছোট ও দ্রুত নির্মাণযোগ্য সামরিক স্থাপনা। আরেকটি হলো কোঅপারেটিভ সিকিউরিটি লোকেশনস (সিএসএল)। এসব ফ্যাসিলিটি মূলত ঘাঁটি স্থাপন করতে দেয়া স্বাগতিক দেশই স্থাপন করে। তবে তাতে কিছুসংখ্যক মার্কিন সামরিক সদস্য নিয়োজিত থাকে। এসব সিএসএলে প্রধানত ভারী যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিক সুবিধার দিকেই বেশি নজর দেয়া হয়। পরিকল্পনায় প্রয়োজনের ভিত্তিতে দুই ধরনের ফ্যাসিলিটিই সক্রিয় করে তোলার কথা বলা হয়। জিডিপিআরে বলা হয়, ‘আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার’ উৎস মোকাবেলা করতে প্রধানত এ দুই ধরনের ফ্যাসিলিটিই ব্যবহার করা হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চীনের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইলের ভাণ্ডার এখন অনেক সমৃদ্ধ। আওতা ও নির্ভুলতার দিক থেকেও এসব মিসাইল বেশ উন্নত। ফলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিদ্যমান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও এক ধরনের শঙ্কা তৈরির অবকাশ রয়েছে। পেন্টাগনের ইন্দো-প্যাসিফিকে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চাওয়ার পেছনে এ শঙ্কাও কাজ করতে পারে। এ কারণে বর্তমানে চীনের কাছাকাছি এলাকাগুলোয় একাধিক নতুন ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সম্পদকেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা সম্ভব হবে। একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা চীনের জন্যও বেশ কঠিন হবে।
সামগ্রিকভাবে ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনকে সামরিকভাবে মোকাবেলা করতে যাওয়ার কিছু অসুবিধাও রয়েছে। জটিল ভৌগোলিক গঠনের ইন্দো-প্যাসিফিকে উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব একটা সহজ নয়। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অধিকাংশই নিজ ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি স্থাপন করতে দিতে নারাজ। এক্ষেত্রে সংঘাত এড়িয়ে চলার প্রবণতা যেমন ক্রিয়াশীল, তেমনি রয়েছে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির জটিল হিসাব-নিকাশও। এছাড়া রসদ-সংক্রান্ত জটিলতাও এক্ষেত্রে বড় একটি বিষয়। সামরিক ও ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিকে দক্ষিণ এশীয় পরিমণ্ডলে নৌঘাঁটি স্থাপনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থান হলো বঙ্গোপসাগর বা সংলগ্ন এলাকা। গত বছর এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বড় একটি সুযোগও তৈরি হয়। চীনের সঙ্গে ভারতের সামরিক সংঘাত নয়াদিল্লিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি ঠেলে দেয়। ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে সঙ্গে নিয়ে কোয়াড জোটকে সক্রিয় করে তোলে যুক্তরাষ্ট্র। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে বেশকিছু সামরিক মহড়াও আয়োজন করে।
কিন্তু এর পরও কোনো কোনো পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এ অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতি নয়াদিল্লির জন্য অনেক বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে উষ্ণতা পেলেও এক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থহানির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এর মধ্য দিয়ে ভারতের আঞ্চলিক আধিপত্যে ভাগ বসাবে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যত জোরালো হবে, ভারতের আধিপত্য ততটাই খর্ব হবে।
অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়ও ঘাঁটি স্থাপন নিয়ে সমস্যায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইন্দো-প্যাসিফিকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বৈরিতার আরেকটি বড় ক্ষেত্র হলো তাইওয়ান। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনকে মোকাবেলা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্কিন থিংকট্যাংক আরএএনডি জানিয়েছে, চীন তাইওয়ানে হামলা চালালে তা মোকাবেলার জন্য তাইপের আনরিফুয়েলড কমব্যাট রেডিয়াসের (যেটুকু এলাকার মধ্যে হামলা চালিয়ে ফিরে আসতে যুদ্ধবিমানের পুনরায় জ্বালানি গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না, এক হাজার কিলোমিটারের কিছু কম এলাকা) মধ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটি রয়েছে মোটে দুটি। অন্যদিকে তাইপে থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে চীনা বিমানঘাঁটি রয়েছে ৩৯টি। ফলে এ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের চীনের আক্রমণ মোকাবেলার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এসব দিক বিবেচনায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ঘাঁটি করতে দেয়ার মতো সহযোগী দেশ খুঁজছে পেন্টাগন। এক্ষেত্রে সামরিক ও কূটনৈতিক সব চ্যানেলকেই কাজে লাগানো হচ্ছে বলে ইউরেশিয়া টাইমসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইন্দো-প্যাসিফিকে বিদ্যমান ঘাঁটিগুলো নিয়েও সমস্যায় রয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো ঘাঁটির অবস্থানস্থলের স্থানীয় বাসিন্দারাই সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র টোকিও। জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে বড় একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই জনবহুল ওকিনাওয়া দ্বীপ থেকে মেরিন সৈন্যদের এয়ার স্টেশন সরিয়ে নেয়ার দাবি রয়েছে। দ্বীপটির স্থানীয় সরকারও সেখান থেকে ঘাঁটি সরিয়ে অন্যত্র প্রতিস্থাপনের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন ও টোকিও এক ধরনের ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। কিন্তু সে ঐকমত্যের পর আড়াই দশকেও ঘাঁটিটি সরিয়ে নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ঘাঁটি সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি অনেক সময়সাপেক্ষ ও কঠিন। সূত্র -ইউরেশিয়া টাইমস,বণিক বার্তা।

রিমান্ড শেষে মামুনুল কারাগারে

0

৬ মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ড শেষে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার সকালে পৃথক ছয় মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ড ভোগ শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামুনুল হকের বিরুদ্ধে করা ছয় মামলার মধ্যে তিনটি করেছে জেলা পুলিশ, দুটি করেছে সিআইডি এবং একটি করেছে পিবিআই। পিবিআইয়ের করা মামলায় গত বুধবার সর্বশেষ মামুনুল হককে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৮ই এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

দুই বছরের জন্য ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে নিষিদ্ধ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

0

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৩ সাল পর্যন্ত ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট ব্যবহার করতে পারবেন না।
এই সময় পর্যন্ত এই দুইটি মাধ্যমে তাকে নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় উস্কানিমূলক পোস্ট দেয়ার কারণে গত জানুয়ারি মাসে তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ফেসবুক। সংস্থাটির ওভারসাইট বোর্ড সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলেও ‘চিরতরে নিষিদ্ধের’ শাস্তির সমালোচনা করে। তারা বলেন, এমন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যা সাধারণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।
যৌক্তিক শাস্তি নির্ধারণ করতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে ছয় মাস সময় দিয়েছিল ওভারসাইট বোর্ড, কিন্তু একমাসের মধ্যেই ফেসবুক তাদের সিদ্ধান্ত জানাল।
ফেসবুকের বক্তব্য, মি. ট্রাম্পের আচরণ ছিল সংস্থাটির নিয়মকানুনের চরম লঙ্ঘন।
তবে মি. ট্রাম্প দাবি করেন, ফেসবুকের এই পদক্ষেপ সেই কোটি কোটি মানুষকে অপমান করা, যারা তাকে গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
এরই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমের এই বিশাল প্রতিষ্ঠানটিতে মন্তব্য যাচাই বাছাইয়ে রাজনীতিবিদরা যে ছাড় পেতেন, সেই নীতি থেকেও সরে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘সংবাদ মূল্য রয়েছে,’ এই যুক্তিতে উস্কানিমূলক বা আপত্তিজনক বক্তব্য দিয়ে রাজনীতিবিদরা যে ছাড় পেতেন, সেটি আর দেয়া হবে না।
ফেসবুকের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক ভাইস-প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগ একটি পোস্টে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামের এই নিষেধাজ্ঞা সাতই জানুয়ারি থেকে কার্যকর বলে ধরে নেয়া হবে, যেদিন তার একাউন্ট স্থগিত করা হয়েছিল।
”যেসব ঘটনাপ্রবাহের কারণে মি. ট্রাম্পের একাউন্ট স্থগিত করা হয়েছিল, সেগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা মনে করছি, তিনি আমাদের নিয়মনীতির গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন, যা সর্বোচ্চ শাস্তির প্রাপ্য।”
”যদি আমরা দেখতে পাই যে, এখনো জননিরাপত্তার গুরুতর ঝুঁকি আছে, তাহলে আমরা আরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াবো এবং ঝুঁকি না কমা পর্যন্ত এভাবে পর্যালোচনা করে যাবো।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প কি জবাব দিয়েছেন?
ফেসবুকের এই নিষেধাজ্ঞার পর সেভ আমেরিকা পলিটিকাল অ্যাকশন কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিতে মি. ট্রাম্প বলেছেন, ”ফেসবুকের এই আদেশ আমাদের দেশের সাড়ে সাতকোটি মানুষ, অন্য আরও যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাদের সবার জন্য অপমান….”
”এভাবে সেন্সর করে আর চুপ করিয়ে দেয়ার কর্মকাণ্ড করে তাদের পার পেতে দেয়া ঠিক হবে না। শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতবো। আমাদের দেশ আর কোন নিপীড়ন সহ্য করবে না।” তিনি বলেছেন।
দ্বিতীয় আরেকটি বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতাকে আক্রমণ করেন।
”এরপর আবার যখন আমি হোয়াইট হাউজে থাকবো, মার্ক জুকারবার্গ এবং তার স্ত্রীর অনুরোধে আর কোন ডিনার হবে না।” বলছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।
ফেসবুকের এই সিদ্ধান্তে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আবার ফেসবুকে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
জানুয়ারি মাসের দাঙ্গায় উস্কানি দেয়ার অভিযোগে ফেসবুকের বাইরে ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটার, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট, টুইচ এবং আরও কয়েকটি সামাজিক মাধ্যমে নিষিদ্ধ রয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে নিষিদ্ধ থাকার কারণে নিজস্ব যে সামাজিক মাধ্যম তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন মি. ট্রাম্প, এই সপ্তাহের শুরুতে জানা গেছে যে, সেই প্রকল্প স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বিবিসি বাংলা।

পরকিয়া: আইনজীবী স্বামীকে হত্যার ১০ দিনের মাথায় খালাতো ভাইকে বিয়ে

0

পরকিয়ার টানে আইনজীবী স্বামীকে হত্যা করে ১০ দিন যেতে না যেতেই প্রেমিক খালাতো ভাইকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেছিলেন শিপা বেগম (৩৫)। কিন্তু তার এই সুখ বেশিদিন টিকলো না। পুলিশ তদন্ত করে ঠিকই বের করে ফেলেছে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা রহস্য। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটে।
জানা যায়, সিলেট জেলা বারের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন (৪২) সঙ্গে বিয়ে হয় সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী গ্রামের আজমল আলীর মেয়ে শিপা বেগমের (৩৫)। বিয়ের পর খালাতো ভাই শাহজাহান চৌধুরী মাহির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান শিপা। এই সম্পর্ককে বাস্তবে রূপ দিতে স্বামীকে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনার ১০ দিন পর মাহির সঙ্গে বিয়ের পিড়িতে বসেন শিপা। স্বামী হত্যার অভিযোগে তাকে গত বুধবার রাত ৩টার দিকে নগরের তালতলা এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
নিহত আনোয়ার হোসেনের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায়। বাবার নাম রেসালত হোসেন (মৃত)। আনোয়ারের ছোট ভাই মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে বুধবার সিলেটের আদালতে তার ভাবির বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় শিপা বেগম ও বর্তমান স্বামী শাহজাহান চৌধুরী মাহিকে আসামি করা হয়েছে। মাহিকে প্রথম ও শিপাকে দ্বিতীয় আসামিসহ আটজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর শিপা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াছিন আলী। অপর এক আবেদনে নিহতের মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের অনুমতিও চেয়েছেন তিনি। এ দুটি আবেদনের ওপর আগামী রোববার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, নিহত আনোয়ার হোসেন সিলেট নগরের তালতলা এলাকায় নিজ বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। গত ৩০ এপ্রিল সেহেরি খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েন অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন। এদিন অভিযুক্ত নাইমারসহ কয়েকজন বাসায় আসে। পরদিন বিকেল ৩টার দিকে স্ত্রী শিপা বেগম নিহতের স্বজনদের জানান, আনোয়ার হোসেন ডায়াবেটিক কমে গিয়ে মারা গেছেন। পরে তাকে নিজ গ্রামের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার শিবেরবাজারের দীঘিরপার গ্রামে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে আনোয়ার হোসেনের পরিবার জানতে পারে, পরকীয়ার জেরে আনোয়ার হোসেনকে হত্যা করেন স্ত্রীসহ কয়েকজন মিলে। এ ঘটনায় সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হত্যার অভিযোগে দরখাস্ত মামলা করলে শুনানি শেষে কোতোয়ালি থানার ওসিকে ৩০২/১০৯/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াছিন আলী জানান, আনোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় শিপা বেগম তার খালাতো ভাই শাহজাহান চৌধুরী মাহিকে বিয়ে করেন। তার বাড়ি কানাইঘাট এবং বর্তমানে নগরের উপশহর এলাকায় বসবাস করেন। বিয়ের পর থেকে আনোয়ারের পরিবারের সঙ্গেও শিপা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ থেকে তাকে সন্দেহ করছে অ্যাডভোকেট আনোয়ারের পরিবার।
মামলার বরাত দিয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহান বলেন, খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে শিপা বেগমের পরকীয়া ছিল। এরই জেরে গত ৩০ এপ্রিল স্বামীকে হত্যার পর স্বজনদের জানায় ডায়বেটিস কমে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু দাফনের ১০ দিনের মাথায় ওই নারী তার খালাতো ভাই শাহজাহান চৌধুরীকে বিয়ে করে নগরের তালতলায় সংসার করছিলেন। এতে স্বজনদের সন্দেহ হয় আইনজীবী আনোয়ার হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিলেটে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারের সমালোচনা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়, জানালো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

0

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে জানিয়ে দিলো যে, সরকারের সমালোচনা করা মানেই দেশদ্রোহীতা নয়। সরকারের সমালোচনা করার জন্যে সাংবাদিকদের রক্ষাকবচের দরকার আছে।
দেশের নামী সাংবাদিক, পদ্মশ্রী বিনোদ দুয়াকে হিমাচল প্রদেশের একটি মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ইউ ললিতের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন। দিল্লির দাঙ্গার সময় মোদি সরকারের সমালোচনা করে ইউ টিউব চ্যানেলে একটি সম্প্রচারের জন্যে হিমাচল প্রদেশে একটি মামলায় বিনোদ দুয়াকে সোপর্দ করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট হিমাচল প্রদেশের পুলিশকে এক আদেশবলে বিনোদ দুয়াকে গ্রেপ্তারে নিরস্ত করেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ১৯৬২ সালে একটি মামলায় তদানীন্তন বিচারপতি কেদার নাথ সিং এর একটি রুলিং এর উল্লেখ করেন। সেই রুলিংটিতে বিচারপতি সিং বলেছিলেন, দেশ এবং সরকার সমার্থক নয়। দেশ চালানোর জন্যে সরকার নিযুক্ত হয়।
তাই, সরকারের সমালোচনা কখনোই দেশ বিরোধিতা হতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারপতিরা রাজনীতিবিদদের আর একটু সাহিষ্ণু হতে বলেছেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪ এ ধারাটি বিভিন্ন রাজ্যের সরকার অপপ্রয়োগ করছেন। উল্লেখ্য, সাংবাদিক বিনোদ দুয়া সংবিধানের ১৯ ধারা অনুযায়ী তার স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার খর্ব হচ্ছে বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল।

দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কাঠামোর মূল দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে :আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আধুনিক দুর্নীতি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি দমন কাঠামোর মূল দুর্বলতা এবং ফাঁক-ফোকরগুলোকে অবশ্যই চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধে নতুন ও উদ্ভাবনী পন্থা অবলম্বন করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সিস্টেমের মধ্যে একটি বিস্তৃত সমন্বিত পদ্ধতির দরকার বলেও মনে করেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) রাতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে দুর্নীতি বিরোধী সাধারণ আলোচনায় সম্প্রচারিত প্রি-রেকর্ডেড ভিডিও বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ।
জাতিসংঘের সদরদপ্তর নিউইয়র্কে তিনদিনব্যাপী (২-৪ জুন) দুর্নীতি বিরোধী এ আলোচনা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং আমাদের টেকসই ভবিষ্যতের জন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নারী ও যুবক-যুবতীসহ সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে পুরো সমাজে একটি সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।তিনি বলেন, অবৈধ আর্থিক প্রবাহসমূহ রোধ এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদগুলো পুনরুদ্ধার ও ফিরিয়ে আনা গেলে তা কার্যকর সম্পদ সংস্থান এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অবদান রাখতে পারে। কিন্তু অতীতে হতাশার সাথে পর্যবেক্ষণ করা গেছে যে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন (ইউএনসিএসি) এর সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও সম্পদ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াগুলোতে বাড়তি কিছু বাধা রয়েছে। এসব বাধা দূর হওয়া উচিত। প্রয়োজনে, এই কনভেনশনের অধীনে সম্পদ পুনরুদ্ধার বিষয়ক একটি অতিরিক্ত প্রোটোকলের সম্ভাবনা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।
ইউএনসিএসি-র কার্যকর বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে আনিসুল হক বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, ফৌজদারি আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য অধিকার, হুইসেল ব্লোয়ার সুরক্ষা, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধ, ফৌজদারি বিষয়গুলোতে পারস্পরিক আইনি সহায়তা, বহিঃসমর্পন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ও ট্রান্সন্যাশনাল অপরাধ প্রতিরোধ সহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সরকার জাতীয়ভাবে আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ দুর্নীতি প্রতিরোধে সুশাসন ও জনসচেতনতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও সম্প্রদায় ভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছি, যার মধ্যে রয়েছে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় বর্ধিতকরণ, ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উন্নততর নিয়ন্ত্রণমূলক ও তদারকি কাঠামো, বিভিন্ন স্তরে জাতীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা ও স্বচ্ছতা ইউনিট, স্কুলে সততা স্টোর, সরকারি কর্মকর্তাদের গণ শুনানির ব্যবস্থা ইত্যাদি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মচারী এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে দুর্নীতি সম্পর্কিত তদন্ত এবং বিচারের মুখোমুখি করে সমাজে দুর্নীতি দমনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিভিন্ন স্তরে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আলোকপাত করতে সরকার সুশীল সমাজ ও মিডিয়াকে অংশীদার হিসাবে বিবেচনা করছে।