ঢাকা   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ১:৫৭ 

Home Blog Page 115

বাজেটে আইন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ১৮১৩ কোটি আর সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২২৫ কোটি টাকা; ডিজিটালাইজড হবে বিচার ব্যবস্থা

0

বিচার কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়াতে তথ্যপ্রযুক্তি ও দরকারি অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আর এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আইন এ বিচার মন্ত্রণালয় এবং সুপ্রিমকোর্টের জন্য বাজেট বাড়ানো হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা ২০২০-২১ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১৮৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় নতুন অর্থবছরে সর্বোচ্চ আদালতের জন্য বরাদ্দ থাকছে ৩৮ কোটি টাকারও বেশি। আর বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য পরিচালন ও উন্নয়ন খাত মিলিয়ে এক হাজার ৮১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট বক্তৃতায় এই প্রস্তাব পেশ করেন। মহামারির বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে অর্থনীতির ক্ষত সারানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে নতুন অর্থবছরের জন্য ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য পরিচালন ও উন্নয়ন খাত মিলিয়ে এক হাজার ৮১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে এক হাজার ৪৬৪ কোটি এবং উন্নয়ন খাতে ৩৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য পরিচালন ও উন্নয়ন খাত মিলিয়ে মোট এক হাজার ৭১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ছিল এক হাজার ৩১৩ কোটি এবং উন্নয়ন খাতে ৪০৩ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, বিচার কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য তথ্য-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্পের আওতায় এটি ডিজিটালাইজড হবে। দেশের প্রতিটি আদালতকে ই-কোর্টে পরিণত করা হবে। আটককৃত দুধর্ষ আসামিদের আদালতে হাজির না করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনা করা হবে। সুপ্রিম কোর্টসহ অধস্তন আদালতের কার্যক্রম অটোম্যাশন এবং নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলার তথ্য নিয়মিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিচারপ্রার্থীরা শিগগির এর সুফল পাবেন।
গত তিন বছরের বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল একহাজার ৬শ ৩২ কোটি টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল এক হাজার ৭শ ৩৯ কোটি টাকা। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৮১৩ কোটি টাকা।
২০২০-২০২১ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২২২ কোটি টাকা। পক্ষান্তরে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২৫ কোটি টাকা।

সুপ্রিম কোর্ট বার ক্যান্টিনে ‘গরুর মাংস’ বিতর্ক; পেছনে রয়েছে রাজনীতি ও করোনা ভাইরাসের প্রভাব,বিব্রত সাধারণ আইনজীবীরা

0

বিষয়টা অনেকটা ‘নেই কাজ তো খই ভাজ’ এর মতো অবস্থা। মহামারি করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত পৃথিবী। হাজারে হাজারে মানুষ মরে যাচ্ছে, আক্রান্ত হচ্ছে। অফিস, আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে মানুষ। দেশের অর্থনীতি পর্যুদস্ত। জীবনের নিশ্চয়তা নেই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে কে কখন মারা যাবেন তারও ঠিক ঠিকানা নেই। দিনের পর দিন লকডাউন চলছে। আদালত পাড়া বন্ধ। মামলা মোকদ্দমার শুনানি হচ্ছে না। উচ্চ আদালতে ভার্চুয়াল বেঞ্চ বসে। তাতে সীমিত সংখ্যক মামলার শুনানি হলেও, নিম্ন আদালত একেবারেই বন্ধ। বেশিরভাগ আইনজীবীই আর্থিক টানাপড়েনে আছেন। অনেককে কাটাতে হচ্ছে অলস সময়। এই যখন সার্বিক অবস্থা তখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের একটি অংশ এক ‘অদ্ভুত ইস্যু’ নিয়ে সরগরম করতে মাঠে নেমেছেন। আর এই ইস্যুটি হলো, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ক্যান্টিনে ‘গরুর মাংস’ রান্না হবে কি হবে না সে প্রশ্ন। কিছু আইনজীবীর ‘অদ্ভুত’ এ ইস্যু ও আচরণ নিয়ে বিব্রত দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা। তারা বলছেন, মামলা মোকদ্দমা না থাকায় অলস সময়ে কিছু আইনজীবী অযথাই সর্বোচ্চ আদালত অঙ্গনটিকে বিতর্কিত করতে চাচ্ছেন, হেয় করতে চাচ্ছেন। এতে সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত,আইনজীবী সমিতির চারজন সনাতন ধর্মাবলম্বী সদস্য আইনজীবী ঐক্য পরিষদ নামে একটি সংগঠনের পক্ষে ৩০ মে সমিতির সম্পাদকের কাছে এক আবেদন দিয়ে জানান, গত ২৯ মে রাতে সুপ্রিম কোর্ট বার ক্যান্টিনে গো মাংস রান্না করা হয়, রাতে তা খাবারের জন্য পরিবেশন করা হয়। পরদিন ৩০ মে সকালেও গোমাংস রান্না করা হয় এবং তা খাবারের জন্য পরিবেশন করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ঐতিহ্যগতভাবেই এর সৃষ্টিলগ্ন হতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকায় কখনোই গো মাংস রান্না ও পরিবেশন করা হয় নাই। তাই সুপ্রিম কোর্ট ক্যান্টিনে গরুর মাংস রান্না বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চান তারা। যে চারজন আইনজীবী এ আবেদন জানান তারা হলেন, আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি বিভাস চন্দ্র বিশ্বাস,পরিষদের সম্পাদক অনুপ কুমার সাহা, আইনজীবী সমিতির বিজয়া পুনর্মিলনী ও বাণী অর্চনা পরিষদের আহবায়ক জয়া ভট্টাচার্য্য এবং সদস্য সচিব মিন্টু চন্দ্র দাস ।
এ ঘটনায় বিব্রত সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীরা। নেটিজনদের মধ্যেও চলছে এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনা। একপক্ষ বলছেন, সুপ্রিমকোর্ট বারে ৭৩ বছরের ঐতিহ্য অনুযায়ী গরুর মাংস রান্না বা পরিবেশন করা হয় না। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এটা করা হয়। কিন্তু এখন এমন কি হলো যে এ শ্রদ্ধাবোধ ওঠে যাবে? এ ছাড়া বারের ক্যান্টিন ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধিন ক্যান্টিন রয়েছে, সেগুলোতে গরুর মাংস পরিবেশনে কোনো বাধা নেই। কেউ গরুর মাংস খেতে চাইলে সেখানে গিয়েও খেতে পারেন। বার পরিচালিত ক্যান্টিনেই কেনো রীতি ভাংতে হবে? বিষয়টি সহজ নয় এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক হীনমন্যতা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। আবার অনেকেই বলছেন, যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ট আইনজীবীই মুসলমান এবং তারা গরুর মাংস খেতে পছন্দ করেন ফলে, গরুর মাংস রান্না হতেই পারে। যার পছন্দ হয় খাবে যার পছন্দ হয়না খাবে না। কিন্তু আরেকজনের খাবার তো বন্ধ করার কথা বলতে পারেন না।পাল্টাপাল্টি এমন যুক্তিতে সরগরম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও।

এদিকে সমিতির ক্যান্টিনে গরুর মাংস রান্না বন্ধ করার আবেদন জানানোর এই বিতর্কের মধ্যেই মাহমুদুল হাসান নামে এক আইনজীবী গরুর মাংস রান্নার নির্দেশনা চেয়ে পাল্টা আবেদন জানিয়েছেন। বুধবার আইনজীবী সমিতির সম্পাদক বরাবর আবেদন করেন ওই আইনজীবী। এতে তিনি বলেন, গরুর মাংস বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বৈধ একটি খাবার। বাংলাদেশের কোনো আইনে এই গরুর মাংসকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। স্বাস্থ্যগত দিক দিয়েও এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর। গরুর মাংসে পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে এবং দেশের জনগণের প্রোটিন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ৪কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে “আধুনিক পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্ট করণ” প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। আবেদনে আইনজীবী বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, কোনো খাবার খাওয়া বা না-খাওয়া মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও রুচির বিষয়। স্বাস্থ্যগত কারণে বা বিশ্বাসজনিত কারণে কেউ গরুর মাংস অপছন্দ বা নাও খেতে পারেন। তাই বলে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে ক্যান্টিনগুলোতে গরুর মাংস রান্না বা বিক্রি হবে না, এ বিষয়গুলো অত্যন্ত অমানবিক। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক পরিশ্রম করেন। তাই আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিতে বার অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে সব ক্যান্টিনে গরুর মাংস রান্না ও বিক্রি হওয়া আবশ্যক। পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত কারণে বা বিশ্বাসজনিত কারণে যারা গরুর মাংস খেতে চান না, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা উচিত।

অবশ্য আইনজীবীদের অনেকেই বলছেন, যুক্তি তর্ক যে দিকেই যাক, আসল কথা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের কারণে আদালত বন্ধ থাকায় সর্বোচ্চ আদালতে এখন আইনজীবীদের ব্যস্ততা নেই। যে কয়েকজন আইনজীবী বারে যান তারা গল্পগুজব করে সময় কাটান। জরুরী দরকার ছাড়া কেউ সেখানে যাচ্ছেনও না। আইনজীবী ভবন থাকে সুনশান নীরবতা। ক্যান্টিনেও ভীড় নেই। তারপরও কেনো হঠাৎ করে গরুর মাংস রান্নার ইস্যুটি আসলো তা নিয়ে সন্দিহান অনেক আইনজীবী। তারা বলছেন, এটার পেছনে বারের রাজনীতিও কাজ করছে হয়তো। নবনির্বাচত সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু করোনাভাইরাসে মারা যাওয়ার পর সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্যরা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সমিতির সদ্যসাবেক সভাপতি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এটি মানতে পারছেন না বিএনপি ও জামাতপন্থী আইনজীবীদের একাংশ। যার নেতৃত্বে রয়েছেন বারের সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ নিয়ে দুপক্ষের বিরোধ এখন প্রকাশ্যে রূপলাভ করেছে। মঙ্গলবারও এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়।
ক্যান্টিনের গরুর মাংস রান্না ও পরিবেশনের পেছনে কোনো উকালাতি প্যাচ কিংবা এমন রাজনীতি্ কাজ করছে কী না তা নিয়ে সন্দেহমুক্ত নন অনেক আইনজীবী। কারণ এ নিয়ে নানাভাবেই বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে, যা থেকে সুযোগ নিতে চায় হয়তো কেউ কেউ।

এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরকে সংবিধান লংঘন বলছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার

0

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি অনুবিভাগ জনবলসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে নির্দেশ দিয়েছে, তা নির্বাচনের কফিনে সর্বশেষ পেরেক বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। বুধবার সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি অনুবিভাগ জনবলসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে নির্দেশ দিয়েছে, তা নির্বাচনের কফিনে সর্বশেষ পেরেক। কী উদ্দেশ্যে এই আত্মঘাতি ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। এটি সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমি তাদের সঙ্গে একাত্মাতা ঘোষণা করছি।’
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদের যুগ্মসচিব স্মাক্ষরিত ২৪ মের পত্রে এনআইডি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় “নির্বাচন কমিশন”র বদলে “সরকার” শব্দটি প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এনআইডির বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবল সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের নির্দেশ প্রদান কতটা যৌক্তিক, তা বিবেচ্য। ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এর ফলে নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ নির্ভর ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণে জটিলতার সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া এতে নির্বাচন ব্যবস্থা ও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র ভূলণ্ঠিত হবে। এটি করা হলে সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন সম্ভব হবে না বলে মনে করি।’
মাহবুব তালুকদার আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এনআইডি স্থানান্তরের নির্দেশ কমিশনের অঙ্গচ্ছেদের নামান্তর। এ বিষয়ে কমিশনকে না জানানো নির্বাচন কমিশনের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশের সামিল। নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে এ যাবৎকালে এমন ঘোরতর দুর্দিন আর আসেনি। সংবিধানের ১০৮ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন”। এটি কমিশনের জন্য রক্ষাকবচ হলেও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এখন কোথায়? আমি আশঙ্কা করি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ অন্যত্র স্থানান্তর সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার অন্তিমযাত্রার আয়োজন।’

বঙ্গবন্ধুর পলাতক চার খুনির মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

0

বঙ্গবন্ধুর পলাতক চার খুনি শরীফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন, রাশেদ চৌধুরী ও এবিএমএইচ নূর চৌধুরীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া বীরত্বের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার।
আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ওই সিদ্ধান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
বুধবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের এক সভায় খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল বলেন, “নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এখন আমরা গেজেট আকারে প্রকাশ করব, প্রকাশ করলে আপনারা পাবেন। এর আগে দয়া করে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
কতদিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হতে পারে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা হয়ত দুই-চার-পাঁচ দিন লাগতে পারে।”
খেতাব বাতিল হলে তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য আর কোনো রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দণ্ডিত চার পলাতক খুনির খেতাব স্থগিতের জন্য হাই কোর্ট একটি আদেশ দিয়েছিল গতবছরের শেষ দিকে। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে জামুকার বৈঠকে চারজনের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য।
‘সংবিধান লঙ্ঘন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশত্যাগে সহায়তা এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের’ কারণে সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ‘বীর উত্তম’ খেতাবও বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছিল জামুকার ওই সভায়।
তবে জিয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা, যদিও এর পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা আওয়ামী লীগ নেতারা বরাবরই বলে আসছেন।
বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার দশ দিনের মাথায় সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া জিয়াও ওই হত্যাকাণ্ডে ‘পুরোপুরি’ জড়িত ছিলেন বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতির পিতার খুনিদের রক্ষায় সে সময় একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন তখনকার ‘স্বঘোষিত’ রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমেদ। পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিয়ে সংবিধান সংশোধন করে খুনিদের রক্ষার পথটি স্থায়ী করার প্রয়াস চালান। হত্যাকারীদের নানা পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।
১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় ফেরার পর ইতিহাসে চিহ্নিত কালো ওই অধ্যাদেশ বাতিলের পর জাতির পিতার খুনের বিচারের পথ খোলে।
এরপর বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালতের চূড়ান্ত রায় অনুযায়ী ছয় খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে পাঁচজন এখনও রয়েছেন পলাতক।
তাদের মধ্যে নূর চৌধুরী ‘বীর বিক্রম, শরিফুল হক ডালিম ‘বীর উত্তম’, রাশেদ চৌধুরী ‘বীর প্রতীক’ এবং মোসলেহ উদ্দিন খান‘বীর প্রতীক’ খেতাবধারী।
এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ওই চারজনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া বীরত্বের খেতাব স্থগিতের নির্দেশ দেয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রীপরিষদ সচিবকে ওই নির্দেশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি রুল জারি করে হাই কোর্ট।
সেই প্রেক্ষাপটে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) বৈঠকে খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত হয় বলে কর্মকর্তারা জানান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

এমসি কলেজে ধর্ষণ: অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হাই কোর্টের নির্দেশ

0

স্বামীর সঙ্গে সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে যাওয়া এক নববধূকে ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ সালেহ আহমদ ও ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক জীবন কৃষ্ণ আচার্যের বিরুদ্ধে সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
আইন সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সাময়িক বরখাস্ত বা আইন অনুসারে যেটি প্রযোজ্য, সেই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে তাদের।
এ বিষয়ে এর আগে জারি করা রুল আংশিকভাবে যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। আর রুলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী বলেন, “এ ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের দায় পেয়েছে আদালতের গঠন করে দেওয়া তদন্ত কমিটি। যে কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা বা তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃত করে রায়ে আদালত বলেছে, “সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের পেছনে হোস্টেল সুপার ও প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল। প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে ওই কলেজের অধ্যক্ষও কোনোভাবে ওই ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না।”
গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এক তরুণীকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করেন কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী।
পরদিন সকালে ওই নারীর স্বামী শাহ পরান থানায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ধর্ষণের ঘটনায় মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আর ধর্ষণের ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদ-প্রতিবেদন নজরে এনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন হাই কোর্টের কাছে প্রয়োজনীয় আদেশের আরজি জানান।
পরে গতবছর ২৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত এ ঘটনা অনুসন্ধানে কমিটি করে দেয়। সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, মুখ্য মহানগর হাকিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সাধারণ) কমিটিতে রাখা হয়।
কলেজের ছাত্রাবাসে ওই তরুণীকে ধর্ষণ থেকে রক্ষায় অবহেলা ও কলেজ ক্যাম্পাসে অছাত্রদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কলেজ অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের নীরবতায় তাদের বিরুদ্ধে যথযথ আইগত ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সেদিন রুল জারি করে হাই কোর্ট।
শিক্ষা সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, এমসি কলেজের হোস্টেল সুপারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

৫ বছরে ৫’শ তরুণী ভারতে পাচার, ‘মূল হোতা’ ‘বস রাফি’সহ ৪জন গ্রেফতার

0

গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক তরুণীকে ভারতে পাচার করেছে আন্তর্জাতিক নারী পাচারচক্র। এই চক্রে দুই দেশের প্রায় ৫০ জন সদস্য রয়েছে। পাচার করে তাদের পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়া হয় এবং জোরপূর্বক যৌনকর্মে বাধ্য করা হয়। এমন একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাব জানায়, চক্রের অন্যতম ‘মূল হোতা’ ঝিনাইদহের আশরাফুল মণ্ডল ওরফে ‘বস রাফি’ (৩০)।
রাফি গত পাঁচ বছর ধরে নারীপাচারের সঙ্গে জড়িত। দুই বছর আগে তার সঙ্গে টিকটক হৃদয়ের পরিচয় হয়। রাফি টিকটক হৃদয়ের মাধ্যমে অন্তত অর্ধশতাধিক তরুণীকে ভারতে পাচার করেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর কাওরানবাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
সম্প্রতি ২২ বছরের এক তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গত ২৭ মে ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে টিকটক হৃদয়সহ ছয় জনকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ।
এ ঘটনার পর গত দুই দিনে অভিযান চালিয়ে রাফিসহ চার জনকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। অন্য তিন জন হলেন, যশোরের সাহিদা বেগম ওরফে ম্যাডাম সাহিদা (৪৬), ইসমাইল সরদার (৩৮) ও আবদুর রহমান শেখ ওরফে আরমান শেখ (২৬)। ঝিনাইদহ ও যশোরের অভয়নগর ও বেনাপোল এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব জানায়, ভারতে গ্রেপ্তারকৃত টিকটক হৃদয় রাফির অন্যতম সরবরাহকারী বা এজেন্ট। টিকটক হৃদয় অনলাইনে টিকটক ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের তরুণীদের টিকটক মডেল বানানো ও অন্যান্য প্রলোভন দেখিয়ে উশৃঙ্খল জীবনে আকৃষ্ট ও অভ্যস্ত করতেন। পরবর্তীতে তাদেরকে পার্শ্ববর্তী দেশ বা উন্নত দেশে বিভিন্ন মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাফির মাধ্যমে ভারতে পাচার করতো। মূলত যৌনবৃত্তিতে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যেই পার্শ্ববর্তী দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে তাদের পাচার করা হতো বলে জানায় র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, রাফির শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। আট বছর আগে থেকে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে তার যাতায়াত আছে। তিনি সেখানে ট্যাক্সি ড্রাইভার, হোটেলে রিসোর্ট কর্মচারী ও কাপড়ের ব্যবসা করতেন। রাফি তামিল ভাষা রপ্ত করেছিলেন, এক্ষেত্রে তার ভাষাগত দক্ষতা ব্যাপক ভূমিকা রাখে। একপর্যায়ে তিনি রিং লিডার হয়ে যান। সেখানকার এজেন্ট তাকে খদ্দের প্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা কমিশন দিতেন বলেও জানায় র‌্যাব। র‌্যাব আরও জানায়, বেঙ্গালুরুতে রাফির বেশ কয়েকটি সেফ হাউস আছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তার সেফ হাউস রয়েছে।

প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা; এস আলম গ্রুপ ও বাঁশখালীর ওসির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ

0

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে স্থানীয় এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করায় এস আলম গ্রুপ ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার ছয়টি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে এই নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে এস আলম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও বাঁশখালী থানার ওসি মো. শফিকুল কবীরকে আগামী ৩ জুনের মধ্যে প্রকোশলী শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, ৩ জুনের মধ্যে প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে না নিলে, মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও মো. শফিকুল কবীরের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে।
সংগঠনগুলো হলো–বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নিজেরা করি, সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি, অ্যাসোসিয়েশন ফরা ল্যান্ড রিফর্মস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
সংগঠনগুলোর এক রিট আবেদনের পর গত ৪ মে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং এস আলম গ্রুপকে হাইকোর্ট ওই এলাকার কোনো শ্রমিক অথবা কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে নির্দেশ দেন।
কিন্তু, এস আলম গ্রুপ হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে গত ২৭ মে প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে, যা স্পষ্টত আদালত অবমাননার শামিল।
নোটিশে হাইকোর্টের আদেশ মেনে এস আলম গ্রুপ ও পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন ওই এলাকার কোনো ব্যক্তি ও শ্রমিককে কোনোভাবে হয়রানি না করা হয়।
বেলার আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবির জানান, ওই এলাকার অবস্থা নিয়ে প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ চৌধুরীর দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে এস আলম গ্রুপের সমন্বয়ক ফারুক আহমেদ গত ২৭ মে বাঁশখালী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল এস আলম গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হওয়া এসএস পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশ গুলি ছুঁড়লে অন্তত সাত জন নিহত ও ১৯ জন আহত হন। তথ্য সূত্র-দ্য ডেইলি স্টার।

তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিম্ন আদালতের কার্যক্রম চালু করতে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা

0

তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে অধস্তন দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহে সকল প্রকার দেওয়ানী ও ফৌজদারী আপিল রিভিশন শুনানি ও নিস্পত্তি এবং দেওয়ানী মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি ও রায় প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।
প্রধান বিচারপতির আদেশে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোঃ আলী আকবর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত বিস্তারিত মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অধস্তন দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহ “আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০” এবং এ সংক্রান্ত জারীকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণপূর্বক ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে সকল প্রকার দেওয়ানী ও ফৌজদারী আপিল, ডিভিশন মামলা শুনানি ও নিস্পত্তি করবেন। এবং পক্ষগ্রহণের উপস্থিতি বা সাক্ষ্যগ্রহণের আবশ্যকতা নেই এরূপ দেওয়ানী আপিল, রিভিশন, রিভিউ এবং দেওয়ানী মোকদ্দমা, বিবিধ মামলা নিস্পত্তি করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ইতিমধ্যে যে সকল দেওয়ানী মোকদ্দমায় যুক্তিতর্ক শুনানি বা রায় প্রচারের জন্য ধার্য তারিখ অতিক্রান্ত হয়েছে সে সকল মামলায় পুনরায় তারিখ ধার্য করে দ্রুত নিস্পত্তি করবেন। সংশ্লিষ্ট আদালত পুনঃধার্যকৃত তারিখ সংবলিত মামলাসমূহের তালিকার কপি আদালত ও আইনজীবী সমিতির নোটিশ বোর্ডে প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বীমার ফাঁদে ফেলে প্রতারণা; স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বোনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

0

শত শত গ্রাহকের বীমা দাবির টাকা পরিশোধ না করায় সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বোন অধ্যাপক রুবিনা হামিদসহ সাতজনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার আদালতে একাধিক প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ৯ মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৩০ কোটি টাকার বেশি পাওনা হয়েছে গ্রাহকদের। কুষ্টিয়া ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নড়াইলসহ আরো কয়েকটি জেলায় কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেসব মামলার কয়েকটিতে ওয়ারেন্টও জারি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকে তাদের বীমা দাবি টাকা পরিশোধ না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলা দায়ের হলেও বীমা কোম্পানিটির মালিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
অভিযোগ উঠেছে, বছরের পর বছর ধর্না দিয়েও গ্রাহকরা বীমার টাকা আদায় করতে পারছেন না। উল্টো গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে।
সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ১০ বছর মেয়াদি জীবনবীমা পলিসি করেছেন এমন একজন হলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মনিরুজ্জামান ডাবলু। মেয়াদপূর্তির পর এক টাকাও পাননি তিনি। আদালত ও বীমা কোম্পানিতে ঘুরতে ঘুরতে চার বছর পার হয়েছে। তার মতো আরেক ভুক্তভোগী দৌলতপুর উপজেলারই মুক্তার হোসেন।
তিনি জানান, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সে ১০ বছর মেয়াদি জীবনবীমা পলিসি করেছিলাম। মেয়াদপূর্তির পর তারা টাকা দিচ্ছে না। কথা ছিল মেয়াদপূর্তি হলে একবারে ডাবল (দ্বিগুণ) টাকা দেবে। কিন্তু এখনো কোনো টাকা দেয়নি, উল্টো হয়রানি করছে। তাদের কাছে ঘুরতে ঘুরতে যখন কোনো কাজ হলো না তখন বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।’
অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রায় সাত বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো এক টাকাও পাইনি। ডাবল টাকা তো দূরের কথা, আসল টাকাই ফিরে পাচ্ছি না’।
‘বাংলাদেশের অনেক বীমা কোম্পানি ভুয়া। ভেবেছিলাম স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিবারের সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স হয়তো নিরাপদ হবে। কারণ, তিনি সরকারের মন্ত্রী। এজন্য কোম্পানির অফিসারদের সাথে কথা বলে বীমা করেছিলাম। কোম্পানির কর্মীরাও আমাদের বুঝিয়েছিল যে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এখানে কোনো সমস্যা হবে না। পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হলেই পাওয়া যাবে ডাবল টাকা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হলে এখন টাকার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। অনেক সময় হুমকির সম্মুখীনও হতে হচ্ছে,’ যোগ করেন ওই ভুক্তভোগী।
এ নিয়ে কুষ্টিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দৌলতপুর) আদালতে দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের হাকিম জোয়ার্দ্দারের ছেলে বশির আহমেদ, একই ইউনিয়নের মো: শামসুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান ও মনিরুজ্জামান ডাবলু বিভিন্ন সময় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। এসব মামলার আসামিরা হচ্ছেন- সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রুবিনা হামিদ (স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বোন), প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো: নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আসলাম রেজা, অডিট অফিসার মো: সাইদুর রহমান খান ও কোম্পানি সচিব মো: রবিউল ইসলামসহ আরো দুজনকে আসামি করা হয়েছে।
ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের অফিস রাজধানীর বনানীতে। কুষ্টিয়া থেকে বনানী থানায় ওয়ারেন্ট গেলেও একটিরও তামিল হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মতিন খন্দকার।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মতিন খন্দকার বলেন, ‘গ্রাহক প্রতারণায় কোম্পানির চেয়ারম্যান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বোন অধ্যাপক রুবিনা হামিদসহ সাতজনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এখন পর্যন্ত আমার কাছে এ সংক্রান্ত মোট ১১টি মামলা আছে। মোট গ্রাহক ৪৯৭ জন। মোট অর্থের পরিমাণ ৯০ লাখ ৬২ হাজার ৯২৬ টাকা। ৯টি মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে। দুটি মামলা লকডাউনের জন্য স্থগিত আছে। এরমধ্যে ছয়টি মামলার ওয়ারেন্ট সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘কুষ্টিয়ার মামলার বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। করোনার কারণে কিছু ল্যাকিং (ঘাটতি) তৈরি হয়েছিল। আশা করি আগামী (জুন) মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান করে ফেলব।’
তিনি দাবি করেন, ‘কোম্পানির আগের কিছু কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে বেশকিছু বীমা দাবি আটকে ছিল। আমরা ইতোমধ্যে ৩-৪টি মামলার দাবিগুলো পরিশোধ করেছি। লকডাউনের কারণে কিছু মামলার দাবি পরিশোধ করতে পারিনি। শুনেছি, আমাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আমরা দ্রুত এ বীমা দাবিগুলো পরিশোধ করব।’
এদিকে, শত শত গ্রাহকের দাবি করা অর্থ পরিশোধ না করায় চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন বীমা কোম্পানিটির মাঠকর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোম্পানিটির কয়েকজন কর্মী বলেন, এ এলাকায় শত শত গ্রাহক বছরের পর বছর টাকা পাচ্ছেন না। গ্রাহকরা দলবেঁধে কখনো অফিস ঘেরাও করছেন, কখনো আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন। কখনোবা টাকা আদায়ে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী বা প্রভাবশালীদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন। অবস্থা এমন, পাওনাদার গ্রাহকদের সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন ব্রাঞ্চ ইনচার্জ ও সার্ভিস সেল ইনচার্জরা। প্রতিদিনই অফিসে ভিড় করছেন শত শত গ্রাহক।
‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বললে তারা বলেন, সামলান। নতুন প্রিমিয়াম নেন, গ্রাহকদের টাকা দেন। প্রধান কার্যালয়ে গ্রাহকদের তালিকা নিয়ে দিনের পর দিন ধর্না দিয়েও কোনো কাজ হয় না। আমরা তো মালিকদের কাছে যেতে পারি না। কী করব, আমরা এর কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছি না,’ যোগ করেন তারা।

বুধবার শুরু সংসদের বাজেট অধিবেশন, সদস্যদের মানতে হবে কড়া স্বাস্থ্যবিধি

0

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে বুধবার। বিকেল ৫টায় এই অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানে প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ি এ অধিবেশন আহবান করেছেন।
এ অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্য দিবস ৩ জুন বৃহস্পতিবার ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। ওই দিন বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তাফা কামাল তার দায়িত্বকালের তৃতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ২১তম এবং বাংলাদেশের ৫০তম বাজেট।
গত বছর ১০ জুন করোনা মহামারীর মধ্যে চলতি অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। ১১ জুন ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করা হয়।
এদিকে সংসদ সচিবালয় থেকে বাজেট অধিবেশনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। করোনা মহামারীর এসময়ে এবারো এ অধিবেশনের মেয়াদ স্বল্প সময়ের হওয়ার কথা রয়েছে। ২জুন শুরু হয়ে মুলতবি দিয়ে দিয়ে ৩ জুলাই অধিবেশন শেষ হতে পারে। আর সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর বাজেট নিয়ম অনুযায়ি ৩০ জুনের মধ্যে পাস করা হবে। এবার বাজেটের আকার হতে পারে ৬ লাখ কোটি টাকার উপরে।
চলতি (২০২০-২০২১) অর্থ বছরের বাজেট ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার। আর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট অর্থাৎ ১৯৭২-৭৩ সালে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। দেশের প্রথম বাজেট উত্থাপন করেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
এদিকে চলতি অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা হয়েছিল গত বছরের ১১ জুন। এর পর মাত্র ৯ দিনের বাজেট আলোচনা শেষে তা পাস করা হয়। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন। এবারো করোনা পরিস্থিতির কারণে অল্প দিনে আলোচনা শেষ করে বাজেট পাস হবে।
করোনা মহামারীর মধ্যে এবারো কঠোর স্বাস্থ্য বিধি মেনে বাজেট অধিবেশন চালানো হবে।
অধিবেশনের প্রথম দিন প্রয়াত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের ওপর আনীত শোক প্রস্তাবের আলোচনা শেষে অধিবেশনের মুলতবি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
এছাড়া বাজেট পেশের পর ৪ ও ৫ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ৬ জুন রোববারের কার্য দিবসে সংসদে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হবে। সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে ৭ জুন সম্পূরক বাজেট পাস করার কথা রয়েছে। এরপর বিরতি দিয়ে প্রস্তাবিত ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের ওপর আলোচনা শুরু করা হবে। আর তা ৩০ জুন বুধবার পাস হতে পারে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবারো কোভিড টেস্টের নেগেটিভ সনদ নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে প্রবেশ করতে হবে। প্রতি ৭২ ঘণ্টা পর পুনরায় নেগেটিভ সনদ মিললেই সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে যোগদান করতে পারবেন। যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তাদেরও কোভিড নেগেটিভ সনদ লাগবে।
সংসদ সচিবালয় থেকে জানা গেছে প্রতিদিন ১১০ থেকে ১২০ জন সংসদ সদস্যকে অধিবেশনে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দূরত্বে বসে সংসদ অধিবেশন চলবে।
এবারো গণমাধ্যমকর্মীদের সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার থেকে সংসদ অধিবেশন কাভার করতে হবে। তবে বাজেট পেশের দিন এবং অধিবেশন শেষ হওয়ার দিন সংসদে সাংবাদিক লাউঞ্জে প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে করোনা নেগেটিভ সনদ লাগবে। এজন্য মঙ্গলবার থেকে সংসদ মেডিক্যাল সেন্টারের পরিচালনায় কোভিড টেস্ট শুরু হয়েছে।