পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়া ফোনটি দুদিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। উল্লেখ্য গত রোববার সন্ধ্যায় নিজ দফতর থেকে বাসায় ফেরার পথে ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা অবস্থায় রাজধানীর বিজয় সরণি সিগন্যালে মন্ত্রীর হাত থেকে ছুঁ মেরে ফোনটি ছিনিয়ে নেয় এক ছিনতাইকারী। মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী নিজেই বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
মন্ত্রী জানান, আইফোন মোবাইলটি তার ছেলের দেওয়া উপহার ছিলো। তিনি নতুন সিম উঠিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে গানম্যানকে বিষয়টি জানান। কিন্তু গানম্যান বের হয়ে আর ছিনতাইকারীকে ধরতে পারেননি। কাফরুল থানায় এই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তা উদ্ধারে নামে। তবে শেষ খবর(মঙ্গলবার রাত ১০টা) পাওয়া পর্যন্ত ফোনটি উদ্ধারকরা সম্ভব হয় নি। কাফরুল থানার ওসি (তদন্ত) আজিজ জানান, ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে, এখনো পাওয়া যায়নি।
পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ফোন ছিনতাই, দুদিনেও উদ্ধার করা যায় নি
চীনে এবার মানুষের শরীরে মিলল বার্ড ফ্লুর এইচটেনএনথ্রি
চীনে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে বার্ড ফ্লুর এইচ১০এন৩ এর ধরন শনাক্ত হয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ জিয়াংসুতে এই ধরন শনাক্ত হয়। মঙ্গলবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স থেকে এ খবর জানা গেছে।
রয়টার্স জানায়, বার্ড ফ্লুর এইচ১০এন৩ এ যে ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন তার বয়স ৪১ বছর। তিনি জিনজিয়াং শহরের বাসিন্দা। গত ২৮ এপ্রিল তিনি জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত ২৮ মে তার শরীরে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এইচ১০এন৩ স্ট্রেইন শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তবে কীভাবে তিনি ভাইরাসে আক্রান্ত হন, সে সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের (এনএইচসি) বিবৃতিতে বলা হয়, আক্রান্তের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে পারবেন। তার সংস্পর্শে আসা অন্যদের চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তবে আর কারও শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে এনএইচসি।
এইচ১০এন৩ একটি লো প্যাথোজেনিক বা তুলনামূলকভাবে কম মারাত্মক ধরন। এনএইচসি জানায়, ভাইরাসের এই ধরনটি মূলত পোল্ট্রিতে সংক্রমিত হয়। এটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ইমার্জেন্সি সেন্টার ফর ট্রান্সবাউন্ডারি অ্যানিমেল ডিজিজের আঞ্চলিক গবেষণাগার সমন্বয়ক ফিলিপ ক্লেস জানান, এই স্ট্রেইনটি তেমন পরিচিত না। ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ বছর ধরে ভাইরাসটির মাত্র ১৬০টি সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার কিছু সীমিত অংশে মূলত বন্য বা জলচর পাখির মধ্যে এটি শনাক্ত হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মুরগির মধ্যেও এটি শনাক্ত হয়নি।
বর্তমানে চীনে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার বিভিন্ন স্ট্রেইন আছে। এর মধ্যে কয়েকটি কখনো কখনো মানুষকে সংক্রমিত করে। বিশেষত সাধারণত যারা পোলট্রি খাতে কাজ করেন। তাদের শরীরে শনাক্ত হয়। ২০১৬-২০১৭ সালে ৩০০ মানুষ এইচ৭এন৯ স্ট্রেইনে মারা যাওয়ার পর মানবদেহে আর কোনো বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ তেমন একটা দেখা যায়নি।
নিবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে, তদন্তে কমিটি
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের প্রকাশিত নিবন্ধে (আর্টিকেল) চৌর্যবৃত্তির (প্ল্যাজিয়ারিজম) অভিযোগ উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, তাঁদের প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে চৌর্যবৃত্তি করেছেন এই দুই শিক্ষক।
অভিযুক্ত শিক্ষকেরা হলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আওয়াল কবির এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইয়াহিয়া বেপারী। অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম রোস্তম আলী গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই শিক্ষক আওয়াল কবির ও ইয়াহিয়া বেপারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক একটি জার্নালে সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন। এরপর মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রকিব চৌধুরী ও মাহবুব রহমান অভিযোগ করেন, শিক্ষা বিষয়ে তাঁদের লেখা একটি নিবন্ধ থেকে বেশির ভাগ অংশই চৌর্যবৃত্তি করা হয়েছে। এরপর তাঁরা বিষয়টি নিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে অভিযোগ করেন।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের প্রকাশিত নিবন্ধে চৌর্যবৃত্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত ও পরিবেশ রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির শিক্ষক এম শামীম কায়সার। এই কমিটি অভিযোগের বিষয়ে যাচাই করবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তার আলোকে সুপারিশ করবেন। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকদের একজন মো. ইয়াহিয়া বেপারী গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি ওই নিবন্ধের সহলেখক। মূল লেখক আওয়াল কবির। তিনি শুধু নিবন্ধের গ্রামাটিক্যাল ও মেথডোলজি বিষয়টি দেখেছেন। তারপরও অভিযোগ পাওয়ার পর তাঁদের প্রকাশিত নিবন্ধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানিয়েছেন,ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়ে ইউজিসিকে জানাতে বলেছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে অ্যান্টি-প্ল্যাজিয়ারিজম সফটওয়্যার ‘টার্নিটিন’ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গত রোববার ইউজিসির এক সভায় গবেষণাপত্রে চৌর্যবৃত্তি মোকাবিলায় শিগগির টার্নিটিন সফটওয়্যার ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ৩০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই সফটওয়্যারের সেবা সরবরাহ করা হবে।
পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে গবেষণার স্বত্ব সংরক্ষণ ও মৌলিকত্ব নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে ইউজিসি। সম্প্রতি একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে ইউজিসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অভিনেত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী গ্রেফ্তার
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগ। কয়েকবার করানো হয়েছে গর্ভপাত। কিন্তু বিয়ে করতে রাজি হননি প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী। চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এই নারী শেষ পর্যন্ত মামলা ঠুকলেন থানায়। আর এই মামলায় গ্রেফতার করা হলো সাবেক মন্ত্রীকে। ঘটনাটি ভারতের তামিলনাড়ুতে। সাবেক মন্ত্রীর নাম এম মাণিকনন্দন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, তামিল চলচ্চিত্র জগতের এক অভিনেত্রী সাবেক মন্ত্রী এম মাণিকন্দনের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। পাশাপাশি জোর করে গর্ভপাত করানো, ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা ও খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগপত্রে ওই অভিনেত্রী উল্লেখ করেন, পাঁচ বছর ধরে সম্পর্ক ছিলো তাদের।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন মাণিকন্দন। এরপর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জোর করে গর্ভপাত ঘটানো হয়। এভাবে পাঁচ বছরে তিনবার জোর করে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেছিলেন সাবেক মন্ত্রী। তামিলনাড়ুর সাবেক এই মন্ত্রী তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিয়ের পর তাদের সন্তান পৃথিবীর আলো দেখবে।
অভিনেত্রীর আরও অভিযোগ, এম মাণিকন্দনের সহকারীরা তার পরিবারকে হেনস্তা করেছে। এমনকি তাকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। দেশ না ছাড়লে তার ব্যক্তিগত ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ভাড়া করা খুনির সাহায্যে অভিনেত্রীকে খুন করার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে তামিলনাড়ুর সাবেক মন্ত্রী গোটা বিষয়টিই অস্বীকার করে বলেছেন, ওই অভিনেত্রীকে তিনি চেনেন না।
রাজধানীতে নারী চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার, শরীরে আঘাতের চিহ্ন
রাজধানীর কলাবাগান থানা এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রীন লাইফ হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার কলাবাগানের ৫০/১ ফার্স্ট লেনের নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের চিকিৎসকের নাম কাজী সাবিরা রহমান লিপি (৪৭)। তিনি গ্রীন লাইফ হাসপাতালের রেডিওলোজি বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন। কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ওই বাড়িতে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ উপস্থিত হয়েছেন। তারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসকের পিঠে দুটি ও গলায় একটি ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আজিমুল হক ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহত সাবিরার গলায় ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পিঠেও দুটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে না।’
ডিসি আজিমুল আরও বলেন, ‘ডা. সাবিরা কলাবাগানের ৫০/১ ফার্স্ট লেনের বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তিনি ফ্ল্যাটের দুটি রুম দুই তরুণীকে সাবলেট হিসেবে ভাড়া দেন। সকালে সাবলেটে থাকা এক তরুণী হাঁটতে বের হয়েছিলেন। হেঁটে আসার পর তিনি বাসায় ফিরে দেখেন চিকিৎসক সাবিরার রুম বন্ধ। রুমের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। পরে তিনি দারোয়ানকে ডেকে চাবি এনে রুমের তালা খুলে দেখতে পান চিকিৎসক সাবিরা ফ্লোরে পড়ে আছেন।’ পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তদন্ত করছি। আশা করছি দ্রুত রহস্য উদঘাটন হবে।’
স্বজনেরা জানিয়েছেন, সাবিরা চট্টগ্রামের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএসটিসি) থেকে এমবিবিএস পাস করেন। তাঁর প্রথম স্বামী ২০০৩ সালে দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর ২০০৫ সালে বর্তমান স্বামী শামসুদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিয়ে হয়। সাবেক এই ব্যাংকারের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় তিনি আলাদা থাকছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলাবাগানের এ বাসায় ওঠেন তিনি। পাশেই তাঁর মা–বাবার বাসা। সাবিরার ২১ বছর বয়সী ছেলে নানা-নানির সঙ্গে থাকেন। আর ১৩ বছরের মেয়ে কখনো তাঁর সঙ্গে, কখনো নানা-নানির সঙ্গে থাকে। রোববার রাতে সাবিরা বাসায় নিজের কক্ষে একাই ছিলেন।
সাবিরার ফ্ল্যাটে তিনটি কক্ষ। একটি কক্ষে তিনি থাকতেন। বাকি দুটি কক্ষে দুই তরুণী থাকতেন। তাঁর ঠিক পাশের কক্ষে থাকা কানিজ ফাতেমা মডেলিং করেন। আরেকটি কক্ষে যে তরুণী থাকেন, তিনি ঈদের পর বাড়ি থেকে ফেরেননি। ওই তরুণী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়েন। পুলিশের কাছে সাবিরার বাসার সাবলেট থাকা তরুণী দাবি করেছেন, সকাল ছয়টায় তিনি হাঁটতে বেরিয়ে যান। তখন সাবিরার কক্ষের দরজা বন্ধ ছিল। সাড়ে নয়টায় ফিরে এসে তিনি ওই কক্ষ থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন। তখন তিনি দারোয়ানকে ডেকে আনেন। দারোয়ান ডেকে আনেন আরেক নারীকে। এরপর মিস্ত্রি ডেকে এনে দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তাঁরা। তখন কক্ষটিতে আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে ফোন দেন। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভানোর পর সাবিরার দেহ বিছানার ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখে। আগুন নিভিয়ে একটি চাদর দিয়ে দেহটি তারা ঢেকে যায়। এরপর কানিজ ফাতেমা কলাবাগান থানা–পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে সাবিরার লাশ উল্টে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়।
সিআইডির পরিদর্শক শেখ রাসেল কবির ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, সাবিরার গলার বাঁ পাশের নিচে দুটি গভীর কাটা রয়েছে। এতে তাঁর শ্বাসনালি কেটে গেছে। দুটি কাটা চিহ্ন রয়েছে পিঠের দিকে। আগুনে সাবিরার শরীরের পিঠের দিক পুড়ে গেছে। মারার পর তাঁকে পুড়িয়ে ফেলার একটা চেষ্টা ছিল। এটা ‘ক্লিয়ার মার্ডার’। মধ্যরাতে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগুন লাগার কোনো উৎস তাঁরা পাননি।
দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সাবিরা সবার ছোট। তাঁর এক ভাইয়ের স্ত্রী সুমনা হক ঘটনাস্থলে জানান,রোববার বিকেলে সাবিরা তাঁর মায়ের বাসায় গিয়েছিলেন। মেয়ের জন্য রান্নাবান্না করে সন্ধ্যায় তিনি বেরিয়ে আসেন। কাউকে তিনি অস্বাভাবিক কিছু বলেননি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আজিমুল হক বলেন, ‘সবাই ভেবেছিলেন সাবিরা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। পরে ডিবি পুলিশ এসে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পায়। আমরা তদন্ত করছি। চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারব।
ফেনীতে পুলিশ কর্মকর্তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
ফেনীতে শফিকুল আজম (৪৩) নামে এক ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে বাসার দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, শফিকুল আজমের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার আউটপাড়ায়। ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা সদরে কর্মস্থল হলেও তিনি ফেনী শহরের মধ্যম চাড়িপুর পাগলা মিয়া সড়ক (হাজারী রোড) লাগোয়া মনির আহম্মদের আশিক মঞ্জিলে ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন।
পুলিশ জানায়, শফিকুল আজম গত বৃহস্পতিবার পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে ফেনী শহরের বাসায় ফেরেন। তারপর তাকে আর দেখা যায়নি। তিনি বাসাতেই ছিলেন। দুই-তিন দিন বাসা থেকে বের না হওয়ায় এবং বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় বাড়ির মালিক মনির আহম্মদ সোমবার বিকেলে বাইরে থেকে অনেক ডাকাডাকি করেন। কিন্তু বাসার ভেতর থেকে কোনো ধরনের সাড়া না পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে খাটের উপর তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেনীর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি-ডিএসবি) খালেদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শফিকুল আজম হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি আসে ইউরোপ থেকে: বিকিকিনি অনলাইনে, জড়িত ১৫টি গ্রুপ
দেশে এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডায়েথিলামাইড) মাদকের চালান আসে ইউরোপ থেকে। অনলাইনে কুরিয়ার ও লাগেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশে এলএসডি আসে। আর বিকিকিনিও হয় অনলাইনে। দেশে অন্তত ১৫টি গ্রুপ ভয়ঙ্কর এ মাদক বিক্রিতে সক্রিয় রয়েছে।
রোববার রাতে পল্টন থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আব্দুল আহাদ।

রাজধানীর শাহজাহানপুর, রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গ্রুপের পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা সবাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের কাছ থেকে ভয়ংকর মাদক ২ হাজার মাইক্রোগ্রাম এলসডি, আইস ও গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।
তারা হলেন, সাইফুল ইসলাম সাইফ (২০), এসএম মনওয়ার আকিব (২০), নাজমুস সাকিব (২০), নাজমুল ইসলাম (২৪) ও বিএম সিরাজুস সালেকীন (২৪)।
ডিসি আহাদ বলেন, গ্রেফতাররা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, তারা সবাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত এক বছর ধরে এলএসডি সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত তারা। অনলাইনে ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা আসক্ত হয়ে এলএসডি সেবন শুরু করে। মূলত বিদেশ থেকে এলএসডি মাদক সংগ্রহ করে তারা। রাজধানীতে ১৫টি গ্রুপ রয়েছে যারা এলএসডি বিক্রি করে আসছে। গ্রুপগুলো গত এক বছর ধরেই এই এলএসডি বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত।
১৫টি গ্রুপকে শনাক্ত করা গেছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তারা সরাসরি ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। অনলাইনের মাধ্যমে এলএসডি মাদক নিয়ে আসতো। তবে তাদের শনাক্তকরণ ও গ্রেফতারে কাজ চলছে।
তারা কোন দেশ থেকে এলএসডি নিয়ে আসতো—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, মূলত ইউরোপ থেকে এলএসডি নিয়ে আসতো। ১৯৩৮ সালে সুইজারল্যান্ডের একজন বিজ্ঞানী ওষুধ হিসেবে এলএসডি আবিষ্কার করে। পরে এটি অপব্যবহার হয়ে মাদক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
দেশে এলএসডি কীভাবে আসে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, কুরিয়ার ও লাগেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশে এলএসডি আসে। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ১৪ থেকে ১৫টি গ্রুপ দেশে এলএসডি আনার সঙ্গে জিড়িত।
এর আগে রাজধানী থেকে এলএসডি নামক মাদক উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছে।
তিন শিক্ষার্থী হলেন সাদমান সাকিব ওরফে রুপল (২৫), অসহাব ওয়াদুদ ওরফে তূর্য (২২) ও আদিব আশরাফ (২৩)। তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসনে (বিবিএ) পড়েন।
এলএসডি বেচাকেনায় জড়িত অভিযোগে গত বুধবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি ও লালমাটিয়া থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তাদের হেফাজত থেকে ২০০ ব্লট এলএসডি উদ্ধার করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১৫ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুরকে কার্জন হল এলাকায় তার তিন বন্ধু এলএসডি সেবন করান। এর প্রতিক্রিয়া শুরু হলে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এক ডাব বিক্রেতার ভ্যানে রাখা দা নিয়ে তিনি নিজের গলায় আঘাত করেন। তিনি পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর আট দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে তার লাশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে পড়ে ছিল। পরে তার ভাই লাশ শনাক্ত করেন। এরপর থেকেই এলএসডির বিষয়টি আলোচনায় আসে।
দানের টাকা মেরে হেফাজত নেতাদের ভোগ বিলাসিতা, গাড়ী বাড়ির মালিক,তদন্তে নেমে বিষ্মিত পুলিশ
মাদ্রাসা, এতিমখানা কিংবা রোহিঙ্গাদের জন্য বিদেশ থেকে পাঠানো দানের টাকা হেফাজত নেতারা কীভাবে ‘আত্মসাৎ করে নিজেদের বিলাসিতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ ব্যবহার করেছেন, সেসব তথ্য এখন মিলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মাহবুব আলম বলেছেন, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মামুনুল হকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই গত এক বছরে ‘৬ কোটি টাকা’ লেনদেন হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতি তাণ্ডবের পর থেকে সম্প্রতিক বিভিন্ন নাশকতার মামলায় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটির অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
এর মধ্যে মামুনুল হকসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতকর্মীদের নাশকতার ঘটনার পর।
তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্তে বেশ ‘অগ্রগতি’ হয়েছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম রোববার সাংবাদিকদের বলেন, “তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে, বিদেশ থেকে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাঠানো টাকা, যা পাঠানো হয়েছে মাদ্রাসা, এতিমখানা তৈরিতে এবং রোহিঙ্গাদের জন্য, কিন্তু হেফাজত নেতারা তা নিজস্ব ভোগ বিলাসে, বাড়ি-গাড়ি তৈরিতে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করেছেন, সেসব প্রমাণ আমরা পেয়েছি।”
তিনি জানান, হেফাজতের অর্থ সম্পাদক মনির হোসেন কাশেমীকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে দেখা যায়, এ সংগঠনে যে অর্থায়ন আসে, তার একটি বড় অংশ আসে বিদেশ থেকে।

“মূলত রোহিঙ্গা, মাদ্রাসা, এতিমদের জন্য আসে। তাছাড়া কিছু টাকা আসে যা শুধু হেফাজতের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। তবে এই টাকাগুলো তাদের হিসেবে সঠিকভাবে রাখা হয় না। হিসেবে আমরা স্বচ্ছতা পাইনি। ক্ষেত্র বিশেষে দেখা যায়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা হেফাজতের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ওই টাকা ব্যবহার করা হচ্ছে।”
যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, “মামুনুল হকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গত এক বছরে ৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, আরও বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট আমরা পেয়েছি। আমরা গভীরভাবে মামলাগুলো তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ করছি।”
তদন্তে ‘বিপুল পরিমাণ টাকা তসরুফের’ তথ্য মিলেছে জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “ওই টাকা তারা শান-শওকত বাড়ি-গাড়িসহ আভিজাত্য বাড়াতে ব্যবহার করেছেন। যারা এইসব অর্থ ব্যবহার ও তসরুফ করছেন, তারা কিন্তু নিজেরা যেমন টাকার মালিক হচ্ছে, তেমনি সিন্ডিকেট গড়ে অন্যদের কোনঠাসা করেছেন।”
রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো দানের টাকা হেফাজত নেতারা কীভাবে ‘তসরুফ’ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিদেশ থেকে আসা টাকার হিসেবে নেই গ্রেপ্তার হওয়া হেফাজত নেতাদের কাছে। আমরা বিদেশি অর্থের হিসাবেরও স্বচ্ছতা পাইনি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বেশি টাকা এসেছে। টাকাগুলো কীভাবে এসেছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি।
“রোহিঙ্গা ক্রাইসিসের পরও ফান্ড কালেকশন করা হয়েছে। অনেকে টাকা দিয়েছেন। কী পরিমাণ টাকা এসেছে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না, তবে সেটা বিপুল পরিমাণ টাকা।”

নারী উন্নয়ন নীতি ও শিক্ষা নীতির বিরোধিতা করে ২০১০ সালে গড়ে উঠেছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। তবে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ আন্দোলনের পাল্টায় আট বছর আগে রাজপথে নেমে সংগঠনটি বেশি পরিচিতি পায়।
শাহবাগের আন্দোলনের বিপরীতে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডেকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় সংগঠনটি। পরে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের মতিঝিল থেকে সরাতে হয়।
ওই ঘটনায় কেবল ঢাকাতেই ৫৩টি মামলা হয়েছিল সে সময়। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন থানায় হয়েছিল আরও অন্তত ৩০টি মামলা।
হেফাজতের অর্থ সম্পাদক মনির হোসেন কাশেমীকে গ্রেপ্তারের পর এ সংগঠনে অর্থায়ন নিয়ে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছে পুলিশ
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব মামলার মধ্যে তদন্ত শেষ করে ২৯টির অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং আসামি না পেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে চারটির।
বেশ কয়েক বছর নিষ্ক্রিয় থাকা হেফাজতের নেতারা গত বছরের শেষ দিকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতায় সরব হতে থাকে। এরপর গত মার্চ মাসের শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিরোধিতায় কর্মসূচি নিয়ে নামে রাজপথে।
তাদের বিক্ষোভ ও হরতালের কর্মসূচি থেকে কয়েকদিনে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে সংঘাত-সহিংসতায় ডজন খানেক প্রাণহানি ঘটে। হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, পুলিশ ফাঁড়ি, রেল স্টেশন ভাংচুর ও আগুন ধরানো হয়।
এবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ১৫১টি মামলা হয়েছে, তাতে ৩ হাজার ২৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, শাপলা চত্বরে তাণ্ডবের ঘটনার ১৪টি মামলার তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। পাশাপাশি নতুন মামলার তদন্তভারও পেয়েছে। পুলিশের অন্য কয়েকটি সংস্থাও বিভিন্ন মামলার তদন্ত করছে।“আমরা তথ্য শেয়ার করে কাজ করছি। সুনির্দিষ্টভাবে সময় বলা না গেলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাগুলো চার্জশিট দাখিল করা হবে।” সূত্র -বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
জিয়া হত্যার বিচার বিএনপি করেও নি চায়ও নি; তদন্তই হয়নি হত্যা মামলার; কোর্ট মার্শালে বিচারের নামে ফাঁসি দেয়া হয়েছে ১৩ মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাকে
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হন। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ হত্যার মূল রহস্য যেমন উদঘাটিত হয়নি, তেমনি জিয়া হত্যার বিচারও হয়নি। সামরিক আদালতে যে বিচার হয়েছিলো তা ছিলো সেনা অভ্যুত্থান তথা মিউটিনির। সেই বিচার নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। কিন্তু বেসামরিক আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় জিয়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কে বা কারা ছিলো তা রহস্যঘেরাই রয়ে গেলো।
জিয়া হত্যার মূল রহস্য কী ছিল, সেই হত্যার বিচার নিয়ে কেনো কোনো উদ্যোগই নেয়নি বিএনপি? অথচ দলটি ক্ষমতায় ছিলো কয়েকবার। বিএনপির এই অনীহা কেন? এ নিয়ে রয়েছে নানা রহস্য।

(ছবি-সংগৃহীত)
১৯৮১ সালে ৩০ মে জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সময় সেনাপ্রধান ছিলেন হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। জেনারেল এরশাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে। এরশাদের নির্দেশে জিয়াউর রহমানের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সেনাবিদ্রোহ বা মিউটিনির অভিযোগ এনে বিচারের নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনায় ত্বরিৎ গতিতে সামরিক আদালত গঠন করে মুক্তিযোদ্ধা ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগেই তৎকালীন চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে আটক করে সেনাহেফাজতে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
জিয়াউর রহমানের হত্যার পর তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন,জিয়াউর রহমানের হত্যার সুষ্টু তদন্ত করতে হবে এবং বেসামরিক আদালতে হত্যার বিচার করতে হবে। কিন্তু সেটা হয়ে ওঠেনি ৪০ বছরেও। এমন কি বেগম খালেদা জিয়া তিন তিনবার ক্ষমতায় থেকেও তাঁর স্বামী হত্যার বিচার করেন নি। বরং খালেদা জিয়ার শাসনামলেই হত্যা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিয়াউর রহমান যখন নিহত হন তখন তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন না। তার সঙ্গে বেসামরিক লোকও নিহত হন। দেশের প্রেসিডেন্টসহ বেসামরিক লোকদের হত্যার জন্য অবশ্যই প্রচলিত ফৌজদারি আইনে বিচার হওয়া দরকার ছিলো। কিন্তু বিএনপি কয়েকবার ক্ষমতায় থেকেও কেনো তা করলো না তা রহস্যঘেরাই থাকলো।

(ছবি-জিয়া হত্যার ঘটনায় সামরিক আদালতে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণকারী ১৩ মুক্তিযোদ্ধা সেনাকর্মকর্তা)
জিয়াউর রহমান যখন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নিহত হন, সেসময় সার্কিট হাউজে বিএনপির হেভিওয়েট নেতারাও উপস্থিত ছিলেন, তাদের গায়ে আঁচড়টি পর্যন্ত লাগেনি কেন? তা হলে এই হত্যাকাণ্ডটি কি শুধুই কিছু সংক্ষুব্ধ সামরিক কর্মকর্তার হঠকারিতা ছিল? নাকি এর পেছনে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছিল?
বিশ্লেষকরা মনে করেন, জিয়া হত্যার পর বিএনপির যে রাজনৈতিক ধারা, সেই রাজনৈতিক ধারায় হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যারা যুক্ত তারা বিভিন্নভাবে সুবিধা পেয়েছেন। আর এ কারণেই এই হত্যাকাণ্ডে কার কি ভূমিকা ছিল তা জানা দরকার। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এই হত্যাকাণ্ডে কেবল ফায়দা লুটতে চেয়েছে তারা হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে চায়নি। এমন কি জিয়ার পরিবারও এ হত্যাকাণ্ডের বিচায় চায় নি।
বিএনপির আমলেই শেষ হত্যা মামলা:
সামরিক আদালতে বিদ্রোহের বিতর্কিত বিচার হলেও বিএনপি নেতাদের অবহেলায় আলোর মুখ দেখেনি জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের ঘটনায় ফৌজদারি আইনে থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি। বিএনপি কয়েকদফায় ক্ষমতায় এলেও নিজ দলের প্রতিষ্ঠাতার হত্যা মামলাটির কোন কুলকিনারা করেনি তারা।
বছরের পর বছর ধরে তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণের পর ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলেই মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে সেটিকে পুরোপুরি ধামাচাপা দিয়ে দেয়া হয়।
ফলে জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের নেপথ্যের ইন্ধনদাতা, পরিকল্পনাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীর মুখোশ উন্মোচিত হয়নি।
প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য হত্যাকান্ডের নেপথ্যের সব রহস্য উন্মোচনে তদন্ত কমিশন গঠনের কথা বিএনপির বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা দাবি করলেও দলের নীতিনির্ধারকরা তা আমলে নেননি।
বিশ্লেষকরা বলছেন জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় দেশে সামরিক আইন ছিলোনা। তিনি ছিলেন সিভিল রাষ্ট্রপতি। আর হত্যাকাণ্ডটিও হয়েছে সিভিলিয়ান এরিয়া বা বেসামরিক এলাকা সার্কিট হাউজে। বেসামরিক এলাকায় দেশের রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হলে সেই হত্যার বিচার বেসামরিক আদালতে না হয়ে কেনো সামরিক আইনে ও আদালতে হবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন সেনা আইনের এ বিচার ছিলো সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ছাড়া জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কয়েকজন বেসামরিক লোকও নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন দু’জন দু’জন পুলিশ সদস্য ও গাড়ী চালক। তাদের হত্যার বিচার হলো না কেনো?
অনুসন্ধানে দেখা যায়, জিয়া হত্যার ঘটনায় তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মোকাররম হোসেন বাদি হয়ে ১৯৮১ সালের ১ জুন নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। (কোতোয়ালি থানার মামলা নং-২(৬)৮১,ধারা- ১২০ বি/১৩১/১৩২/১৪৮/১৪৯/১২১এ/১২৪/(এ)/৩০২/৩৩৩/৩০৭/২০১/১০৯/৩৪ দ:বি: )।
মামলায় চট্টগ্রামের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরসহ ১০ জনকে আসামী করা হয়। বাকি আসামিরা হলেন, কর্ণেল দেলোয়ার হোসেন, লে.কর্ণেল ফজলে হোসেন, মেজর মনির, মেজর দোস্ত মোহাম্মদ, মেজর মোজাফফর, মেজর রেজাউল করিম, ক্যাপ্টেন রফিক, ক্যাপ্টেন ইলিয়াছ এবং ক্যাপ্টেন জামিউল হক।
মামলা দায়েরের পর সেটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন নগর পুলিশের কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন সহকারী কমিশনার আব্দুল হাকিম খান। এরপর কয়েকবার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি ছিলোনা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৩ সালের ১০ এপ্রিল মামলাটি বিচারিক নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই দিন থেকে ১৯৯৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য ১৪৩ বার তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার পর মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এসময় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছিলো চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারকে। কিন্তু প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম খান কোনো নথিপত্র রেখে যাননি উল্লেখ করে ১৯৯৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে জবাব পাঠানো হয়।
১৯৯৭ সালের ৩১ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে মামলাটি স্থগিত রাখার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, সেনা কর্তৃপক্ষ যেহেতু মামলাটির তদন্ত করেছে, তাই পুলিশের আর তদন্তের দরকার নেই।
কিন্তু আদালত ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুলিশ মহাপরিদর্শককে শোকজ করেন। এতে বলা হয়,জিয়া হত্যার ঘটনার সময় সেনা সদস্য ছাড়া পুলিশ ও বেসামরিক ব্যক্তি নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘটনার সময় বেসামরিক লোক উপস্থিত ছিল। তাই সামরিক কর্তৃপক্ষ এককভাবে তদন্ত ও বিচার করা আইনবহির্ভূত বিধায় পুলিশ দিয়ে কেনো মামলার তদন্ত পরিচালনা করা যাবে না তা জানতে চাওয়া হয়।
আদালতের এ আদেশের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ১৮/০২/ ১৯৯৯ তারিখে সিআইডির মাধ্যমে মামলাটি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল কাদের খান তদন্তের দায়িত্ব নেন। তিনি কয়েক দফা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যারা জিয়ার সফরসঙ্গী ছিলেন এবং সেই রাতে একসঙ্গে সার্কিট হাউজে ছিলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিঠি ইস্যু করেন। কিন্তু বিএনপির কোনো নেতা এবং দলের পক্ষে কেউ এতে সাড়া দেননি। এক পর্যায়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকায় গিয়েও বিএনপি নেতাদের সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় আব্দুল কাদের খান ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ সময় দেশে ছিলো বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্বাধায়ক সরকার।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর ওই বছরের ২৪ অক্টোবর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গৃহীত হয়। চট্টগ্রাম মূখ্য মহানগর হাকিম মো:আব্দুল মালেক চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের মত চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা কখনোই চাননি জিয়া হত্যার রহস্য উন্মোচিত হোক কিংবা এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেসামরিক লোকদের মধ্যে কারা জড়িত ছিল, তাদের নাম তদন্তে বেরিয়ে আসুক। বিএনপি যদি জিয়া হত্যা মামলার বিচার করতে আন্তরিক হতো তাহলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের উপর নারাজি দিলো না কেনো এমন প্রশ্ন রাখছেন অনেকেই।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,যদিও ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারা অনুযায়ী একই ঘটনার দু’বার বিচার হতে পারেনা। কিন্তু এ মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। তদন্তই হয় নি। আর সামরিক আইনে যে বিচার হয়েছে সেটি ছিলো ভিন্ন। সেখানে হত্যা মামলার বিচার হয়নি, হয়েছে সেনা অভ্যুত্থানের জন্য মিউটিনির অপরাধে। যা ফৌজদারি আইনে গণ্য হবেনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ চাইলে জিয়া হত্যার মামলাটি আবারও পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব।
জেনারেল ইব্রাহীম যা বললেন:
জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক আদালতে সেনা অফিসাররা ন্যায় বিচার পাননি এমন কথা বলেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মুহাম্মদ ইব্রাহীম। যিনি জিয়া হত্যার পর গঠিত সামরিক আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। জেনারেল ইব্রাহীম ২০১৮ সালের ৩০ মে বিবিসি বাংলায় এক সাক্ষাতকার দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছিলেন। বিবিসিকে সেদিন কি বলেছিলেন জেনারেল ইব্রাহীম?
তিনি বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর যে সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছিল, সেখানে শুধু অভ্যুত্থানের বিচার হয়েছিল।
সেই অভ্যুত্থানের পর গঠিত সামরিক আদালতে ১৩ জন সেনা অফিসারকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল।
বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মি: ইব্রাহীম দাবি করেছেন যে, তৎকালীন কর্তৃপক্ষ ওই সেনা আদালতকে যথাযথভাবে কাজ করতে দেয়নি, ফলে অভিযুক্তরা ন্যায় বিচার পাননি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইনের ৩১ ধারায় সে বিচার হয়েছিল। সেখানে বিদ্রোহের বিচার হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি।
সে বিচারে যেসব সেনা কর্মকর্তাদের ফাঁসি হয়েছিল তাদের পরিবারের অনেক সদস্য অভিযোগ করেন যে সেখানে ন্যায় বিচার হয়নি।
বিবিসির প্রশ্নের জবাবে জেনারেল ইব্রাহিম বলেন, “আমি সাক্ষী দিচ্ছি যে তাঁরা ন্যায় বিচার পায় নাই। ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে যতদিন কোর্ট মার্শাল চলা উচিত ছিল, সেটা চলতে দেয়া হয় নাই।যেসব সাক্ষী-প্রমাণ হাজির করার জন্য আমরা চেয়েছি, সেগুলো হাজির করতে আমাদের দেওয়া হয় নাই।”
যদি সব সাক্ষী-প্রমাণ হাজির করা সম্ভব হতো তাহলে আরো অনেক ব্যক্তি খালাস পেতো বলে মনে করেন সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা।
সেনা বিদ্রোহের মূল চালিকাশক্তি এবং নেপথ্যের নায়ককে চিহ্নিত না করে কিছু লোককে বাধ্যতামূলক ফাঁসি দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সে সামরিক আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি বলে মনে করেন মি: ইব্রাহীম।
যারা সেসময় ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের পরিবার চাইলে এখন কোন প্রতিকার আশা করতে পারেন ?
এমন প্রশ্নে মি: ইব্রাহীম বলেন, বাংলাদেশে এমন কোন আইন নেই যার মাধ্যমে কোর্ট মার্শালের রায় রিভিউ বা পুনরায় পর্যালোচনা করা যায়।
মি: ইব্রাহীম বলেন, জিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য ১৯৮১ সালের রাজনৈতিক সরকার কোনো চেষ্টা করেনি।
গুলিস্তানে ২৬ কেজি গাঁজাসহ ৩ জন গ্রেফতার
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে গাঁজাসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ মাসুদ রানা (২৫), মোঃ মেহেদী হাসান (২৩) ও মোঃ ইউনুছ আলী (৪২)। এসময় তাদের হেফাজত হতে ২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
২৯ মে, (শনিবার) বিকেলে পল্টন মডেল থানার গোলাপশাহ্ মাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার শামসুল ইসলাম জানান,কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী গুলিস্তান এলাকায় মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে গোপনসূত্রে খবর পেয় অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।











