ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ১১:২০ 

Home Blog Page 125

আরও ৭ দিনের রিমান্ডে মামুনুল, ছিল পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা

0

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে আরো দুই মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। পল্টন ও মতিঝিল থানার নাশকতার দুই মামলায় রিমান্ডের জন্য সোমবার তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরীর আদালতে তাকে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন জানায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে মামুনুলের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ২০০৫ সালে মামুনুল হক পাকিস্তানে যান। সেখান থেকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সংহিতার ঘটনা ঘটান। এছাড়া হেফাজতের এই নেতা সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও দাবি পুলিশের।

রবিবার বিকালে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডে থাকা মামুনুল হকের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মামুনুল হকের ভগ্নিপতি মুফতি নেয়ামতউল্লাহর সঙ্গে ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় অভিযুক্ত তাজউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। নেয়ামতউল্লাহ দীর্ঘদিন পাকিস্তানে ছিলেন। সেখান থেকে এসে জামিয়া রাহমানিয়ার শিক্ষক হন। এরপর মামুনুল হকের বোনকে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে এই হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেয়ামতউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে মামুনুল হকের বাবা দেনদরবার করে তাকে ছাড়িয়ে আনেন।’
হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘নেয়ামতউল্লাহ ও মামুনুল হক একসঙ্গে ৪৫ দিন পাকিস্তানে ছিলেন। সেখানে একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠনকে মডেল হিসেবে বাংলাদেশে এনে সালাফি, মওদুদি, হানাফি, কওমি, দেওবন্দসহ সকল মতাদর্শের লোকদের একত্রিত করেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা টাকা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াতের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। সেই যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামুনুল হকের আপন ভায়রা রয়েছেন জামায়াতপন্থী। তার নাম কামরুল ইসলাম আনসারি। তার বাড়ি টেকেরহাটে। তিনি জামায়াতের নেতা। তার মাধ্যমে মামুনুল হক জামায়াতের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেন।’

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজনৈতিক মতাদর্শকে মডেল এনে হেফাজতকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেন মামুনুল হক। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কওমি মাদ্রাসার ধর্মভীরু মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়ে এমন একটি অবস্থা তৈরি করেছে। তিনি সংসদ ভবন, গণভবন, বঙ্গভবন, বড় বড় সংসদ সদস্য, মন্ত্রীদের তোয়াক্কা করতেন না। তিনি এমনও বলতেন যে, প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কেউ কটূক্তি করলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গুম হয়ে যায়। কে গুম হয়েছে জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিতে পারেননি। তিনি শাহরিয়ার কবিরকে মুরগী চোর বলেছেন, বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপিদের বলেছেন, তার দিকে তাকালে চোখ উপরে ফেলবেন। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো উত্তর দিতে পারেননি মামুনুল হক।’

দক্ষিণ কোরিয়ার পাকিস্তান দূতাবাসের ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ

0

এবার দক্ষিণ কোরিয়ার পাকিস্তান দূতাবাসের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দোকান থেকে পণ্য চুরির অভিযোগ ওঠেছে। দেশটির রাজধানী সিউলের একটি স্টোর থেকে ওই দুই কর্মকর্তা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পণ্য চুরি করেন। দোকানির কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পাকিস্তানি দূতাবাসের দুই কর্মকর্তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ এপ্রিল) দ্য কোরিয়া টাইমসের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
খবরে বলা হয়, শনিবার (২৪ এপ্রিল) পুলিশ জানিয়েছে, কোরিয়ায় পাকিস্তান দূতাবাসের দুজন কূটনীতিকের বিরুদ্ধে সিওলের একটি দোকান থেকে পণ্য চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইওংসান পুলিশ স্টেশন থেকে বলা হয়েছে, ওই দুই কর্মকর্তা ইওংসানের একটি স্টোর থেকে ভিন্ন ভিন্ন দিন ১১ হাজার উয়ন (১০ মার্কিন ডলার) এবং ১ হাজার ৯০০ উয়ন (১.৭০ মার্কিন ডলার) দামের পণ্য চুরি করেন। তাদের একজনের বিরুদ্ধে চকলেট এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে হ্যাট চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়।
হ্যাট চুরি হওয়ার পর ওই স্টোরের এক কর্মচারী পুলিশে অভিযোগ জানায়। পরে পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয় সন্দেহভাজন ব্যক্তি পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তা।
দূতাবাসের ওই কর্মকর্তার কূটনৈতিক দায়মুক্তি সুবিধা থাকার কারণে পুলিশ মামলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
পুলিশ জানায়, কূটনৈতিক দায়মুক্তি সুবিধার আওতায় থাকা অপর কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।

একমাসেই করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, জানিয়েছে ‘হু’; মানতে হবে বিধিনিষেধ, নিতে হবে টিকা

0

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। প্রতিদিনই ভাঙছে আক্রান্তের রেকর্ড। এই পরিস্থিতিতে ক্রমেই বাড়ছে আতঙ্ক। ইতিমধ্যেই লকডাউনের রাস্তায় হেঁটেছে বাংলাদেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশ। বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যেই এবার আশার কথা শোনালেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’র প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রিয়েসুস (Tedros Adhanom Ghebreyesus)। তাঁর দাবি, মারণ ভাইরাসের এই অতিমারীকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ঠিকমতো ব্যবস্থা নিতে পারলে মাস খানেকের মধ্যেই এটা করা যাবে বলেই আশাবাদী তিনি।
সম্প্রতি এক সাংবাদ সম্মেলনে এবিষয়ে মুখ খোলেন ঘেব্রিয়েসুস। তবে ‘হু’ প্রধানের গলায় এদিন কার্যতই ছিল উদ্বেগের সুর। যেভাবে সারা বিশ্বেই ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সিদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করেছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ঘেব্রিয়েসুস। তিনি জানান, যেখানে অতিমারী শুরু হওয়ার পরে প্রথম ৯ মাসে ১০ লাখ মানুষ মারা যায়, সেখানে পরবর্তী ৪ মাসেই তা পৌঁছে যায় ১০ লাখে। এদিকে পরবর্তী ৩ মাসেই তা পেরিয়ে গিয়েছে ৩০ লাখের গণ্ডি। করোনার মৃত্যুছোবলের এই দ্রুত বাড়তে থাকা ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তবে সেই সঙ্গে আশার বাণীও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। ‘হু’ প্রধানের কথায়, ‘‘এই অতিমারীকে মাস খানেকের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনার উপায় রয়েছে আমাদের কাছে। তবে সেটা ধারাবাহিক ভাবে ও সমান ভাবে প্রয়োগ করতে হবে।’’
এদিকে এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে অতিথি হিসেবে সুইডেন থেকে যোগ দিয়েছিলেন পরিবেশবিদ গ্রেটা থুনবার্গ (Greta Thunberg)। টিকা নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ তুলে সরব হতে দেখা যায় তাঁকে। তিনি বলেন, ধনী দেশগুলি তাদের তরুণ প্রজন্মের টিকাকরণের ব্যবস্থা করতে পেরেছে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মানুষরা টিকা পাচ্ছেন না।
গ্রেটার কথায়, ‘‘এই পরিস্থিতিতে যে মানুষদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাঁদেরই টিকাকরণে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। সে তাঁরা ধনী কিংবা দরিদ্র যে দেশেরই বাসিন্দা হোন না কেন।’’ তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ধনী দেশগুলিতে এক চতুর্থাংশ মানুষদের টিকাকরণ হয়ে গিয়েছে। সেখানে দরিদ্র দেশগুলিতে এই পরিসংখ্যান একেবারেই আলাদা। সেখানে প্রতি ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মধ্যে একজনের টিকাকরণ হয়েছে। এই ধরনের অসাম্যের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তীব্র প্রতিবাদ করেন এই পরিবেশবিদ।

যুক্তরাষ্ট্রে আত্মঘাতি বিস্ফোরণের মামলায় বাংলাদেশি যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

0

নিউ ইয়র্কে বাস টার্মিনালে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের চেষ্টার সময় আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি যুবক আকায়েদ উল্লাহর দণ্ড ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত।
রয়টার্স বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ম্যানহাটনের ফেডারেল জজ ৩১ বছর বয়সী আকায়েদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরও ৩০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ মোটামুটি ২৫ বছর; আকায়েদকে তার সঙ্গে আরও ৩০ বছর কারাভোগ করতে হবে। অর্থাৎ তার বাকি প্রায় গোটা জীবনটা কারাগারেই কাটবে।
আকায়েদ দাবি করেছিলেন, তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশে ওই তৎপরতা চালিয়েছিলেন। তার সঙ্গে আইএস কিংবা কোনো জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র ছিল না।
তবে দণ্ড ঘোষণার সময় বিচারক রিচার্ড সুলিভান বলেন, এই হামলা ছিল বর্বরোচিত এবং ভয়ানক অপরাধ।
২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর সকালে অফিসগামী যাত্রীদের ব্যস্ততার মধ্যে টাইম স্কয়ার সাবওয়ে স্টেশন থেকে ম্যানহাটনের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে যাওয়ার সংকীর্ণ ভূগর্ভস্থ পথে নিজের শরীরে বাঁধা ‘পাইপ বোমায়’ বিস্ফোরণ ঘটান আকায়েদ।
বোমাটি ঠিকমত বিস্ফোরিত না হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন আকায়েদ। তার বিস্ফোরণে আহত হন তিন পুলিশ সদস্য।
তাকে গ্রেপ্তারের পর নিউ ইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি হামলা চালানোর চেষ্টা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
আকায়েদ ব্রুকলিনে তার মা, বোন ও দুই ভাইর সঙ্গে থাকতেন। গ্রিনকার্ডধারী আকায়েদের স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে রয়েছে বাংলাদেশে।
চট্টগ্রামের আকায়েদ বড় হয়েছেন ঢাকার হাজারীবাগে। আট বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর প্রথমে ট্যাক্সিক্যাব চালালেও পরে একটি আবাসন নির্মাতা কোম্পানিতে বিদ্যুৎ মিস্ত্রির কাজ নেন।

আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যা: শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিন দোষী সাব্যস্ত

0

মিনেয়াপোলিসের রাস্তায় গত বছর আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে মার্কিন আদালত।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, গত বছর মে মাসে মি. ফ্লয়েডকে গ্রেফতারের সময় তার গলার উপর ৯ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে হাঁটু গেড়ে বসে ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী পুলিশ অফিসার ডেরেক চাওভিন।
এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে বিশ্বজুড়ে।
চৌভিনকে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়: সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার, থার্ড ডিগ্রি মার্ডার এবং নরহত্যা।
শাস্তি ঘোষণা না করা পর্যন্ত তিনি পুলিশি হেফাজতে থাকবেন। সাজা হিসেবে কয়েক দশক জেল খাটতে হতে পারে তাকে।

এই রায়ে পৌঁছাতে ১২ সদস্যের বিচারকের প্যানেল পুরো একদিন সময় নেন। এর আগে তিন সপ্তাহ ধরে বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
রায় ঘোষণার পর উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আদালতের বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক শত মানুষ রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
ফ্লয়েড পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প বলেন, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মতো একটি ঘটনা।
এক টুইটে তিনি বলেন, “কষ্ট দিয়ে অর্জিত ন্যায়বিচার অবশেষে হাতে এলো।”
“আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও যে জবাবদিহিতা থাকা দরকার সেটিই এই রায়ের মাধ্যমে পাওয়া গেলো।”
রায় ঘোষণার পর পরই ফ্লয়েড পরিবারকে টেলিফোন করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস।
মি. বাইডেনকে বলতে শোনা যায়, “অবশেষে ন্যায়বিচার হলো।”
“আমাদের আরো অনেক কিছু করতে হবে। পদ্ধতিগত বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এটি ছিল প্রথম পদক্ষেপ,” প্রেসিডেন্ট বলেন।
টেলিভিশনে দেয়া জাতীর উদ্দেশ্যে ভাষণে মি. বাইডেন বলেন: “পদ্ধতিগত বর্ণবাদ পুরো জাতীয় আত্মার উপর একটি কলঙ্ক।”
এরইমধ্যে মিস হ্যারিস আইনপ্রণেতাদের জর্জ ফ্লয়েড নামে একটি বিল পাসের নির্দেশ দিয়েছেন যা যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশিং ব্যবস্থায় সংস্কার আনবে। তিনি বলেন, “এই বিল জর্জ ফ্লয়েডের লিগ্যাসির অংশ। এটি দীর্ঘদিন ধরে সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় ছিল।”
মিনেয়াপোলিসের পুলিশ ফেডারেশন নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যারা পুলিশের প্রতিনিধিত্ব করে তারা জুরিদের তাদের “নিবেদিত কাজ সম্পন্ন করায়” এবং “বিশাল একটি বোঝা” বহনে সহায়তা করার জন্য ধন্যবাদ জানায়।
ফেডারেশন বলে, “আমরা ওই ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে আমাদের দুঃখিত হওয়ার বিষয়টি জানাতে চাই যা আমরা প্রতিনিয়ত অনুভব করেছি। এই মামলায় কেউই আসলে বিজয়ী নয়, সেই সাথে জুরিদের সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে।”
মার্কিন মিডিয়াগুলো বলছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন চাওভিন।
বিবিসির হোয়াইট হাউস বিশেষক প্রতিবেদক তারা ম্যাককেলভি তার বিশ্লেষণে বলেন, রায় ঘোষণার দিন মানুষ চিৎকার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল এবং গোলাপি রঙের জামা পরা ছোট একটি মেয়ে শিশু খুশিতে ছোট মুঠি শক্ত করে ধরে ছিল।
২১ বছর বয়সী কেনেথ নয়াচি বলেন, “মিনেয়াপোলিসে আজ একটি শুভ দিন।” “এটা একটা আশীর্বাদ।”
অধিকারকর্মীরা বলছেন, ন্যায়বিচার সাধিত হয়েছে এবং তাদের কাঁধ থেকে একটি বোঝা নেমে গেছে।
তাদের এই তুষ্টি শহরের আরো অনেকেই ভাগ করে নেন যেখানে মানুষ গত কয়েক মাস ধরে এটি বয়ে বেড়াচ্ছিল। কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগের ক্ষেত্রে এই মামলা উল্লেখযোগ্য এবং এই রায় অতীতের প্রথাকে ভেঙ্গে ফেলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।
এর আগে খুব কম সংখ্যক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নরহত্যার অভিযোগ এসেছে এবং এদের মধ্যে আরো কম সংখ্যককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
তবে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এই রায় ঘোষণার সাথে সাথেই জর্জ ফ্লয়েডের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা শেষ হয়ে যায় না।

জর্জ ফ্লয়েডের কী হয়েছিল?
২০২০ সালের ২৫শে মে মিনেয়াপোলিসের একটি দোকান থেকে এক প্যাকেট সিগারেট কিনেছিলেন ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েড।

দোকানের এক সহায়তাকর্মী মনে করেছিলেন যে, তিনি ২০ ডলার মূল্যের একটি নকল বিল ব্যবহার করছিলেন এবং মি. ফ্লয়েড যখন সিগারেটের প্যাকেটটি ফেরত দিতে চাননি তখন তিনি পুলিশ ডাকেন।
পুলিশ পৌঁছানোর পর তারা মি. ফ্লয়েডকে তার পার্ক করে রাখা গাড়ি থেকে নামতে বলেন এবং তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেয়া হয়।
পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় মি. ফ্লয়েড চিৎকার করার চেষ্টা করলে ধ্বস্তাধস্তি হয়। তারা তাকে জোর করে মাটিতে ফেলে দেহের ওজন দিয়ে চেপে ধরেন।
চাওভিন তার হাঁটু মি. ফ্লয়েডের পিছনের ঘাড়ের উপর ৯ মিনিট ধরে চেপে ধরে বসে থাকে। এসময় ফ্লয়েড অন্তত কুড়িবার বলেছিলেন যে ,তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না। ফ্লয়েড বলছিলেন, “দয়া করুন, দয়া করুন, দয়া করুন”।
যখন অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছায় ততক্ষণে মি. ফ্লয়েড নিথর হয়ে গেছেন। এর এক ঘণ্টা পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বিচারে কী হয়?

চৌভিনের বিচারের সময় বিচারকেরা ৪৫ জন প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দী শোনেন এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে ভিডিও ফুটেজ দেখেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে অনেকেই ঘটনাটির নিখুঁত বর্ণনা দেন। অনেকেই ভিডিও ফুটেজটি দেখার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং সেসময় তারা “অসহায়” বোধ করার কথা জানান।
মি. ফ্লয়েডের প্রেমিকা কোর্টনি রস এবং তার ছোট ভাই ফিলোনিস ফ্লয়েড মিলে মৃত মি. ফ্লয়েডের অতীত জীবন বর্ণনা করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, মি. ফ্লয়েড অক্সিজেন না পেয়েই মারা গেছেন এবং এটা হয়েছে চাওভিন ও তার সহকর্মীদের কারণে।
শুনানিতে কোন বক্তব্য না দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মি. চাওভিন।

অভিযোগগুলো কী?

নরহত্যা হচ্ছে যখন কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্য আরেক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হয়।

সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি ইচ্ছেকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত ছিল। এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা ৪০ বছর।

থার্ড ডিগ্রি মার্ডার মানে হচ্ছে, কোন ব্যক্তি এমন কোন কাজ করেছে যার কারণে অন্য এক বা একাধিক ব্যক্তির প্রাণনাশ হয়েছে।

পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা বিরল। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ঘটনাও কম। তবে ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনার ক্ষেত্রে মার্কিন বিচার ব্যবস্থা কিভাবে নেবে তার একটি উদাহরণ হিসেবে এই রায়কে দেখা হচ্ছে।

জুরিরা কিভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন?

চাওভিন কারাগারে যাবেন নাকি তাকে মুক্তি দেয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ১২ জন জুরিকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

কোন জুরিরই পরিচয় প্রকাশ হয়নি এবং পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় তারা কেউ সামনেও আসেননি, তবে বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বলতে গেলে এদের মধ্যে তরুণ, শ্বেতাঙ্গের আধিক্য এবং নারী বিচারক বেশি ছিলেন।

সোমবার দুপক্ষই যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ করার পর, জুরিরা একটি হোটেলে অন্য সবার থেকে আলাদা হয়ে একটি রায় প্রদান করেন।

বিচারকেরা সবাই সর্বসম্মতভাবে এই রায়ে পৌঁছান এবং এর আগ পর্যন্ত তারা কেউ ঘরে ফিরতে পারবেন না বলেও জানানো হয়।

“সব দোষ ওই সাংবাদিকের “

0

ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নুরু ফেসবুকে লাইভ করে আওয়ামী লীগকে গালাগালি করলো, কোনো প্রকৃত মুসলমান আওয়ামী লীগ করতে পারেনা বলেও জানালো। ঘটনার তিন দিন পর থেকে নূরুর বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ,পল্টনথানাসহ ঢাকার বাইরেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলো। কিন্তু নুরু রয়েছে বহাল তবিয়তেই। তাকে গ্রেপ্তার করা হয় নি। বরং পল্টন থানার মামলটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আদালত ৬ জুন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে খুলনার সাংবাদিক আবু তৈয়ব মুন্সী ( একটি টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান) ফেসবুকে খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সম্পর্কে কি একটা লিখেছেন যাতে মেয়র মহোদয়ের সম্মানহানি ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। আর মামলা দায়েরের কয়েকঘন্টার মধ্যেই রাত সাড়ে ১০ টায় সাংবাদিককে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অপরাধ কোনটা বড় বুঝতে পারলাম না। তবে এক যাত্রায় যে পৃথক ফল তা বুঝতে পেরেছি। আইনের প্রয়োগও যে সমানভাবে বা সবার জন্য আইন সমান নয় তাও বুঝতে পেরেছি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় অন্যেরা যা কিছুই বলুক সাংবাদিক বললে রক্ষা নেই। তাকে মামলা দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করতে হবে, এটাই হচ্ছে নীতিগত সিদ্ধান্ত ।
“সব মিথ্যা, গুজব ছড়ায় সাংবাদিকরা। সবার সব ভালো কাজে জল ঢেলে দেয় সাংবাদিকরা।” এমন খেদোক্তি অনেক আমলা কামলার মুখে শুনেছি। জনসভা, মিটিং এ সেমিনারে প্রকাশ্যে কথা বললেন সেই কথা সাংবাদিক লিখলে, প্রচার করলে তা যদি ওই ব্যক্তির মনপুত না হয় তা হলেই বলেন, উনার কথা বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে, যা বলেননি তা প্রচার করে এডিটেড করে প্রচার করা হয়েছে। কথা বলে অস্বীকার করা এ ক্ষেত্রে নেতা, আমলা সবাই সিদ্ধহস্ত।
এর সর্বশেষ নজির বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাস। অনলাইন মিটিংয়ে প্রকাশ্যে তিনি বললেন, তার দলের নেতা ইলিয়াস আলীকে সরকার নয়, বিএনপির লোকজনই গুম করেছে। এমন কী, কি কারণে তাকে গুম করা হয়েছে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সব বললেন। গুম হওয়ার আগের দিন দলীয় কার্যালয়ে কার সঙ্গে ইলিয়াস আলীর ঝগড়া হয়েছে তাও জানালেন। বিচার চাইলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে। এ নিয়ে যখন তোলপাড়, বিএনপির থলের বিড়াল যখন বের হয়ে গেলো তখন মির্জা আব্বাস সবকিছু অস্বীকার করে সুর পাল্টিয়ে তার দায় চাপালেন সাংবাদিকদের ঘাড়ে। বললেন, তিনি এসব বলেন নি, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
অথচ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ মির্জা আব্বাসের অনলাইন মিটিংয়ে দেয়া বক্তব্য শুনেছেন। আমরাও স্পষ্ট শুনতে পেয়েছি মির্জা আব্বাসের বক্তব্য।
আরও একটা নজির। লকডাউনে বের হওয়া নিয়ে রাস্তায় পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও ডাক্তারের ‘বড়ত্ব” নিয়ে বিতণ্ডার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। এই ভিডিওর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম, কথিত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের শ্রেণি দ্বন্দ্ব আর মানসিকতার অবস্থাটি। এলিফ্যান্ট রোডের এই ভিডিও প্রচার না হলে কেউই হয়তো জানতে পারতেন না দেশের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের মনোজগতের খবর। দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় তাদের পড়িয়ে, এখন চাকরির বেতন পর্যন্ত জনগণের ট্যাক্সের টাকায় হয়। সেই খবর তাদের নেই, তারা কে কার চেয়ে বড় এ নিয়ে রাস্তায় প্রকাশ্যে ঝগড়া করেন। সেই ঝগড়ার ভিডিও সাংবাদিক কেনো ধারণ করলো, প্রচার করলো এ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, নৈতিকতা শেখাচ্ছেন। কোথায় সেই সাংবাদিককে ধন্যবাদ দেয়ার কথা, সমাজের কদর্য চিত্রটি তুলে ধরার জন্য, তা না করে উল্টো সাংবাদিককে শূলে চড়ানোর চেষ্টা চলছে। সুযোগ থাকলে হয়তো এই সাংবাদিককেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হতো।
তাই বলছিলাম, যতো দোষ সব সাংবাদিকদের। চুরি করেন, ডাকাতি করেন, মানবিক বিয়ে করেন, বলৎকার করেন কোনো সমস্যা নেই। খালি সাংবাদিক কিছু লিখুক, সোজা মামলা। আর বেশী ক্ষমতা থাকলে পিটিয়ে হাড়গোড় ভেঙ্গে দেয়া।
সাংবাদিকের পক্ষে আসলে কেউ নেই। সত্য আর বিশ্বাসযোগ্যতা ছাড়া কেউ নেই। দেশের আম জনতা ছাড়া কেউ নেই। এমনও দেখেছি, নেতার কাছে বিচার পায় নি, পুলিশের কাছে বিচার পায়নি, কোথাও বিচার না পেয়ে শেষে আসা হয় সাংবাদিকের কাছে, প্রেসক্লাবে, সংবাদ সম্মেলনে। মনে হয় শেষ ভরসা সাংবাদিক। এর আগ পর্যন্ত সবাই গালি দেয় সাংবাদিককে।
মাঝে মাঝে ভাবি, দেশের রাজনীতি, সংসদের যে অবস্থা তাতে যদি সাংবাদিকরাও লেখা বন্ধ করে দেয় তা হলে আমলা- কামলারা পিসে মেরে ফেলবে সাধারণ মানুষকে। কেউ খবরই পাবে না। ঈশ্বরের কাছে শুকরিয়া আদায় করেন, ভালো হোক খারাপ হোক এখনও এই সাংবাদিকদের কল্যাণেই অন্যায় অনিয়মের কিছু খবরাখবর পান। সাংবাদিকদের পথ রুদ্ধ করে দিয়েন না। এর ফল দেশের জন্য ভালো হবে না।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য ঘোষণা এবং টিকা তৈরিতে অন্য দেশকেও সহায়তা দেওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী

0

যেসব দেশ করোনাভাইরাসের টিকা তৈরি করে না, তাদেরকে সহায়তা দিতে উৎপাদক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার সকালে ‘বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার’ (বিএএফ) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধারণকৃত ভাষণে এই আহ্বান জানান তিনি।
কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় পারস্পরিক শক্তিশালী অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। সার্বজনীন ভ্যাকসিন কাভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশগুলোর উচিত অন্য দেশগুলোকে ভ্যাকসিন উৎপাদনে সহায়তা করা।”
তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন এবং অন্যান্য চিকিৎসা উপকরণের চাহিদা মেটাতে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কার্যকর করতে সকল দেশের এক সঙ্গে কাজ করা দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জিএভিআই এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলোকে অবশ্যই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অধিকার, সাম্য এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারী আমাদেরকে ইতিহাসের এক চূড়ান্ত পথে নিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত আমাদের সময়ের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মহামারীর আর্থ-সামাজিক প্রভাব ব্যাপক এবং এই প্রভাব এখনও বাড়ছে। সুতরাং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জীবন ও জীবিকার ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ মহামারীর বিরূপ প্রভাব কাটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যা আমাদের জিডিপির চার দশমিক চার শতাংশ।
“কেউ যাতে পেছনে না থাকে, এমনকি মহামারী সংকটেও যাতে কেউ পেছনে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক গভর্নেন্সের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের প্রাধান্যে বিশ্বাস করে।”
সংকটময় সময় কাটিয়ে উঠতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “এই সংকটময় সময়ে উন্নয়শীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর তহবিল হতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আরও বেশি সহায়তা প্রয়োজন।
“সার্ক, বিমসটেক, এসএএসসি, বিবিআইএন এবং বিসিআইএমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন আঞ্চলিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং এর বাইরেও বহু মাল্টি মডেল লিংকেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বাংলাদেশ বিশ্বাস করে বৈশ্বিক গভর্নেন্স শক্তিশালী করায় এবং অ্যাডভান্স বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
ঐক্যবদ্ধভাবে প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই মহাদেশে বিপুল জনসংখ্যা, বিশাল বাজার এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আমরা একসঙ্গে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারি। এটি আমাদের প্রতিশ্রুত এসডিজি অর্জনেও সহায়তা করবে।”
প্রযুক্তি সহযোগিতা বিনিময় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা বাড়ানো দরকার। হাই-টেক পার্ক, ব্রডব্যান্ড এবং স্যাটেলাইট সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য কাঠামো তৈরি করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমরা আমাদের তরুণদের উদ্ভাবনের জন্য প্রস্তুত করছি। এক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সুবিধাগুলো বিনিময়ের মাধ্যমে পাশাপাশি আমরা সাইবার অপরাধসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারি।”

করোনাকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচবেন কী করে? প্রতিরোধ করবেন কী ভাবে? জেনে নিন

0

প্রথমে মনে হয়েছিল ঘরে থাকলে ও খুব করে নিয়ম মানলে করোনা ঘেঁষতে পারবে না কাছে। এক জন থেকে অন্য জনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে যাবে। কমবে মহামারির প্রকোপ। তত দিনে গরম এসে যাবে, কিছু ভাইরাস মরবে দাবদাহে। আর বিজ্ঞানীদের গবেষণা তো চলছেই। ওষুধ বা টিকা কিছু একটা বেরুলে সমস্যা মিটবে পুরোপুরি।
কিন্তু কোনওটাই হল না। কিছু মানুষ লকডাউন মানলেন, কিছু মানলেন না। কেউ কেউ মানতে পারলেন না। ফলে সংক্রমণের গ্রাফ ঊর্ধমুখী রইল। গরম ও গবেষণা কোনও সুখবর নিয়ে এল না। শেষমেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েই দিল, এ বার ধীরে ধীরে অদৃশ্য এই শত্রুর সঙ্গে বসবাসের কৌশল শিখে নিতে হবে। যেমন ভাবে ডেঙ্গু, এইডসের সঙ্গে মিলেমিশে আছেন, সে ভাবে।
অর্থাৎ এ বার বাড়িতে পরিচারিকা ঢুকবেন। ধরাচুড়ো পরে অফিস যেতে হবে। উঠতে হবে গণপরিবহণে। কাজেই আগে যেমন সপ্তাহে এক বার মাত্র বাজার যেতেন, প্লাস্টিকের চটি পরে, চোখে রোদচশমা ও নাকে এন-৯৫ এঁটে, ফিরে এসে জামা-জুতো-ব্যাগ থেকে শুরু করে নিজেকেও আপাদমস্তক সাবান-জলে রগড়ে ধুয়ে নিতেন, সবার ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলতেন, ঘণ্টায় ঘণ্টায় হাত ধুতেন, সে সব আর হবে না। তার উপর ‘করোনা সামলাতে’ যে সব দাওয়াই চলত নিমেষে নিমেষে— গরম জল, আদা-তুলসী-লবঙ্গ-লেবু-জল, চা, ভিনিগার, কমলালেবু, রান্নায় আদা-রসুন-জিরে-হলুদ দিতেন আচ্ছা করে, ভাবতেন এই পথেই বাড়বে ইমিউনিটি, বিদায় নেবে করোনা, সময়ের অভাবে অত খুঁটিনাটি করতে পারবেন না। চড়া রোদে ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে ভাইরাস ও নিজেকে পুড়িয়ে ঝামা করার যে কৌশল নিয়েছিলেন, তা-ও হবে না। বরং অফিসে কাজের ফাঁকে অন্যের হাতে বানানো এক-আধ কাপ চা-কফি খেতে হবে। টিফিন না বানাতে পারলে বাজারের ঝালমুড়ি বা ধোকলা খেতে হতে পারে কখনও। দামি জামা-কাপড়, চটি-জুতো, বেল্ট ইত্যাদি রোজ ধুতে ধুতে তাদের হাল খারাপ হবে। এমনকি, বাড়ি ফিরে চুল ভিজিয়ে শ্যাম্পু করে স্নানও করে উঠতে পারবেন না সবাই। ফলে যা হবে, তা হল প্রবল মানসিক অশান্তি, এই বুঝি রোগ ঢুকে পড়ল, আর বয়কট করল সবাই। এ ভাবে বাঁচা যাবে!

তা হলে বাঁচার পথ কী?
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নন্দী বললেন, “নিয়ম মানলে তো ভাল। কিন্তু যা হচ্ছে তা কোনও নিয়ম নয়। অবৈজ্ঞানিক সব ব্যাপার। এই যে গরমের মধ্যে ঘণ্টায় ঘণ্টায় গরম জল খাচ্ছেন, চা খাচ্ছেন, কী এর কারণ? ভাইরাস মরবে? ভাইরাসকে মারতে গেলে জলের তাপমাত্রা যা হতে হবে, তাতে তো মানুষই মরে যাবে! অত চা খেলে অম্বল বাড়বে না!’’ অমিতাভবাবু বলছেন, কেউ আবার রোদে দাঁড়িয়ে থাকছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কারণ তাতে ভিটামিন ডি তৈরি হবে, করোনা পালাবে! ভিটামিন ডি দরকার। এখন বলে নয়, সব সময়েই দরকার। কিন্তু বাড়াবাড়ি করলে তো বিপদ। তাঁর অভিমত: ‘‘আসলে মানুষকে ভাল করে বোঝানো হচ্ছে না। স্রেফ বলে দেওয়া হচ্ছে এটা করো, ওটা করো। কেন করতে হবে, না করলে কী হবে তা না বুঝলে যা হয়। কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কেউ বাড়াবাড়ি করছেন। আর রোগ থেকে যাচ্ছে রোগের মতো। অতিমারির মোকাবিলা এ ভাবে হয় না।’’ তাঁর পরামর্শ, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হয়। ট্রেনিং দিতে হয় লাগাতার। তারপর সবাই যখন বোঝেন এই পথে চললে ভাল হবে, তাঁরা নিজেরাই ঠিকঠাক নিয়ম মানেন, উপর থেকে চাপিয়ে দিতে হয় না।”
ঠিকঠাক নিয়মগুলি কী কী
• ‘‘রোগ ঠেকানোর ৮০ শতাংশ চাবিকাঠি আছে হাত ধোওয়ার মধ্যে।” বলছেন জনস্বাস্থ্য বিষয়ক চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী, “কিন্তু তার মানে এই নয় যে ঘণ্টায় ঘণ্টায় হাত ধুতে হবে। আপনি যদি এমন জায়গায় হাত দেন যেখানে জীবাণু থাকার আশঙ্কা আছে, যেমন গণপরিবহণে উঠলে, ভিড় কাটিয়ে বেরলে, লিফটের বোতাম-দরজার হাতল বা সিঁড়ির রেলিং ধরলে, পাঁচ জন ব্যবহার এমন কিছুতে হাত দিলে, টাকা দেওয়া-নেওয়া করলে ইত্যাদি, সেই হাত নাকে-মুখে-চোখে বা অন্য কোথাও লাগার আগেই ভাল করে ধুয়ে নিতে হয়। ধুতে হয় খাওয়ার আগে, টয়লেট থেকে এসে। কাজেই বাইরে বেরুনোর সময় সঙ্গে ছোট একটা সাবান ও ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল আছে এমন স্যানিটাইজার নিন। কিছু টিস্যু পেপার বা পরিষ্কার রুমাল রাখুন। হাত ধোওয়ার সুযোগ থাকলে সাবান জলে হাত ধুয়ে নিন। না হলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। সাধারণ সাবান হলেই হবে। অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল সাবানের কোনও দরকার নেই। তার আলাদা কোনও ভূমিকা নেই। তা ছাড়া আপনার লড়াই তো ব্যাক্টিরিয়ার বিরুদ্ধে নয়, ভাইরাসের বিরুদ্ধে।”

• সাধারণ মানুষের গ্লাভস পরার দরকার নেই। নিয়ম মেনে না পরলে উল্টে বিপদের আশঙ্কা বেশি। তার চেয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া অনেক নিরাপদ।
• রাস্তায় বেরলে মাস্ক বাধ্যতামূলক। অফিসেও পরে থাকবেন। কাপড়ের ট্রিপল লেয়ার মাস্ক সবচেয়ে ভাল। তবে গরমে অসুবিধে হলে ডাবল লেয়ারই পরুন। বেশ বড় মাপের। নাকের উপর থেকে চিবুকের নীচ ও কান পর্যন্ত গালের পুরোটাই ঢাকা থাকতে হবে। আপনার ৬ ফুটের মধ্যে কেউ যেন মাস্ক না পরে আসেন, সে দিকে খেয়াল রাখবেন। বাড়ি ফিরে সাবান জলে মাস্ক ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। বা যদি ৫টা মাস্ক থাকে ও আলাদা করে রাখার জায়গা থাকে, পর পর ৫ দিন আলাদা আলাদা মাস্ক পরে আবার ষষ্ঠ দিন আবার এক নম্বর মাস্ক দিয়ে শুরু করতে পারেন। রোগ ঠেকানোর ২০ শতাংশ দায়িত্ব আছে মাস্কের উপর।
• মাস্ক পরছেন বলে মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখবেন না, এমন যেন না হয়। ৬ ফুটের বেশি দূরত্ব রাখতে পারলে সবচেয়ে ভাল। নয়তো কম করে ৩ ফুট।
• চোখে চশমা থাকলে আর কোনও সাবধানতা লাগবে না। না থাকলে রোদচশমা পরে বেরুন। কারণ চোখ দিয়েও কিন্তু জীবাণু ঢুকতে পারে।

• বড় চুল হলে চুল ভাল করে বেঁধে স্কার্ফ বা ওড়নায় মাথা ঢেকে নেবেন। কারণ বাসে-ট্রামে খোলা চুল অন্যের নাকে-মুখে উড়ে লাগতে পারে। তাঁদের রোগ আছে কি না তা তো জানেন না। সেই চুল আপনার নাকে-মুখে লাগলে বিপদ হতে পারে। তা ছাড়া বড় চুলে রোজ শ্যাম্পুও করা যায় না। বিপদ বাড়ে তা থেকে।

• নিয়মিত ধোওয়া যায় এমন চটি বা জুতো পরে বেরুবেন।

• গয়নাগাটি পরে বেরুবেন না। কারণ ধাতুর উপর প্রায় পাঁচ দিন থেকে যেতে পারে জীবাণু। ঘড়ি পরারও দরকার নেই।

• অফিসে নিজস্ব কাপ রেখে দেবেন। সাবান-জলে ধুয়ে সেই কাপে চা বা কফি খাবেন। ক্যান্টিন থেকে যে পাত্রেই আসুক, চা-কফির তাপে সেখানে জীবাণু থাকবে না। ভয় নেই।

• বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে যাবেন। নয়তো খোসা ছাড়িয়ে খেতে হয় এমন ফল খাবেন। প্যাকেটের বিস্কুট বা বাদাম খেতে পারেন মাঝেমধ্যে। প্যাকেট খুলে পরিষ্কার করে ধোওয়া পাত্রে ঢেলে তারপর হাত ধুয়ে খাবেন।
• রাস্তার কিছু খাওয়া এ সময় ঠিক নয়। বড় রেস্তরাঁয় যদি সব নিয়ম মেনে খাবার বানানো হয়, এক-আধ বার খেতে পারেন। তবে সে সবও যত এড়িয়ে যেতে পারবেন তত ভাল। খাবার বাড়িতে এনে গরম করে খেলে অবশ্য অসুবিধে নেই।
• জুতো বাইরে খুলে ঘরে ঢুকবেন। পাঁচ জোড়া জুতো থাকলে এক এক দিন এক একটা পরতে পারেন। ষষ্ঠ দিনে আবার প্রথম জোড়াটা পরবেন। কারণ ৫ দিন পর্যন্ত ভাইরাস লেগে থাকতে পারে জুতোয়। না থাকলে সাবান-জলে জুতো ধুয়ে তবে ঘরে ঢোকাতে পারবেন। এর পর নির্দিষ্ট কাবার্ড বা ঝোলায় ব্যাগ রেখে বাথরুমে গিয়ে জামাকাপড়, চশমা সাবান-জলে ধুয়ে, তুলোয় স্যানিটাইজার ভিজিয়ে মোবাইল পরিষ্কার করে ভাল করে সাবান মেখে, শ্যাম্পু করে স্নান করবেন।

• বাড়িতে কাজের লোক বা অন্য কেউ এলে ঘরে ঢোকার আগে হাত এবং পা ভাল করে সাবান জলে ধুয়ে নিতে হবে। ধোওয়া মাস্ক পরতে হবে। স্নান করে জামাকাপড় বদলে নিতে পারলে আরও ভাল।
• খাওয়াদাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। বাহুল্য বর্জিত হালকা খাবারই ভাল এই সময়। ঘরে বানানো সাধারণ বাঙালি খাবার। ভাজা-মিষ্টি একটু কম খাওয়া ভাল। ফল খাবেন সুবিধেমতো। মাছ-মাংস-ডিম, যাঁর যেমন সুবিধে।

বাসে-ট্রেনে ওঠার সময় নিয়ম মেনে চলতে হবে।

• প্রচুর জল খাওয়ার কোনও দরকার নেই। শরীর যতটুকু চায় ততটুকু খেলেই হবে।

• ভেষজ উপাদান খেতে ইচ্ছে হলে খাবেন। না খেলেও ক্ষতি নেই। কারণ আদা, ভিনিগার ইত্যাদিরা ভাইরাস মারতে পারে না। পুষ্টিকর সহজপাচ্য খাবার খেলে, অল্প ব্যায়াম করলে ও ভাল করে ঘুমোলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিই ঠিক থাকবে।
• গায়ে হালকা রোদ লাগানো খুবই দরকার। সকালের দিকে একটু মর্নিং ওয়াকে গেলে ব্যায়ামও হবে, রোদও লাগবে গায়ে। ভাইরাস বাতাসে ভেসে বেরায় না। কাজেই ভয় নেই। সময় থাকলে একটু বেলার দিকেও বেরতে পারেন। চড়া রোদ ঠেকাতে ছাতা নিয়ে নেবেন। মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখাও সহজ হবে।
• অনেকের ধারণা সান বাথ নিলে ভাইরাস মরে। ভুল ধারণা। গরমের মধ্যে ও সব করার দরকার নেই।

• জিম বা বিউটি পার্লারেও এখনই যাওয়ার দরকার নেই।
শেষ কথা
যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন। নিয়ম মানুন। অতিরিক্ত কিছু করার দরকার নেই। করে লাভও নেই। কারণ কিসে ভাইরাস মরবে, তা কেউ জানে না। কাজেই তার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
(ভারতীয় পত্রিকা আনন্দবাজার অবলম্বনে)

মামুনুল এক মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে

0

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হককে এক মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। তাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ডের আবেদন জানালে তা মঞ্জুর করেন আদালত।
সোমবার সকালে মামুনুলকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এদিন ২০২০ সালের মোহাম্মদপুর থানার একটি নাশকতার মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
অপরদিকে মামুনুলের আইনজীবী তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেছেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ডিসি তেজগাঁও জানান, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলা রয়েছে। 
মামুনুলের বিরুদ্ধে অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে। নাশকতা,সহিংসতা, ভাংচুর অগ্নিসংযোগের এসব মামলা। এছাড়া সাম্প্রতিক মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময়ও সহিংসতা করায় একাধিক মামলায় মামুনুল হকের নাম রয়েছে। প্রথমে তাকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। পরে একে একে সব মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গোমর ফাঁস করলেন মির্জা আব্বাস, ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে বিএনপির কেউ,সরকার নয়

0

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে নতুন এক তথ্য দিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
দীর্ঘ ৯ বছর পর এ ঘটনার বিষয়ে শনিবার এক আলোচনা সভায় তিনি এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা সরকার জড়িত নয় বলে মন্তব্য করেন। ‘গুমের’ পেছনে নিজ দলের কারো সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেন।
শনিবার বিকালে সিলেট বিভাগ জাতীয়তাবাদী সংহতি সম্মিলনীর উদ্যোগ এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় মির্জা আব্বাস এসব কথা বলেন।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। বিএনপি অভিযোগ করে আসছে, তাকে সরকারই ‘গুম’ করে রেখেছে।
ভার্চুয়াল এই আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্য দেন।
কারো নাম উল্লেখ না করে মির্জা আব্বাস বলেন, “ইলিয়াস গুম হওয়ার আগের রাতে দলীয় অফিসে কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বাকবিতন্ডা হয় মারাত্মক রকমের। ইলিয়াস তাদের খুব গালিগালাজ করেছিল। সেই যে পেছন থেকে দংশন করা সাপগুলো আমাদের দলে এখনো রয়ে গেছে।”
মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্যে করে তিনি আরও বলেন, “যদি এদেরকে দল থেকে বিতাড়িত না করেন, তাহলে কোনো পরিস্থিতিতেই দল সামনে এগুতে পারবে না।”
“বাংলাদেশের স্বাধীন-সার্বভৌমত্ব যে ভুলন্ঠিত হতে যাচ্ছে এটার জ্বলন্ত প্রমাণ হলো ইলিয়াস আলীর গুম। আমি জানি, বাংলাদেশ সরকার বা আওয়ামী লীগ সরকার ইলিয়াসকে গুম করে নাই। কিন্তু গুমটা করলো কে? এই সরকারের কাছে আমি এটা জানতে চাই।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, “একজন জলজ্যান্ত তাজা রাজনৈতিক নেতা গুম হয়ে গেলো দেশের অভ্যন্তর থেকে, আমাদের একজন নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশ থেকে পাচার করে নিয়ে গেল, আমাদের চৌধুরী আলমকে গুম করে দেয়া হলো, আমাদের কত ছেলেকে গুম করে দেয়া হলো-আমি বুঝলাম এই সরকার করে না। করলো কারা? আমি বলতে চাই, যারা করেছে তারা এদেশের স্বাধীনতা চায় না, তারা এদেশটাকে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব থাকতে দেবে না।“
ইলিয়াস আলীকে বেশি স্নেহ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইলিয়াস ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা দেশপ্রেমিক নেতা। আমি তাকে একুট বেশি স্নেহ করতাম।”
জাতীয়তাবাদী যুব দলের সাবেক সহ-সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, জহিরউদ্দিন স্বপন, কামরুজ্জামান রতন, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল এবং নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বক্তব্য দেন।