ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ৮:৩৭ 

Home Blog Page 127

জিয়া হত্যার ঘটনায় কোর্টমার্শালে অভিযুক্ত সেনাকর্মকর্তাদের রিটের শুনানিতে ভীত ছিলেন বিচারপতিরা, ভয়ে রাতে মেঝেতে শুইতেন বিচারপতি লতিফুর রহমান

0

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ১৯৮১ সালের ৩০ মে সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান। এ মামলাটি কোর্ট মার্শালে বিচার হয় এবং ১২ সেনা কর্মকর্তার ফাঁসির আদেশ হয়। কোর্ট মার্শালের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে সাজাপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। ওই রিট পিটিশন মামলা শুনানি হয় বিচারপতি ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি লতিফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে। কিন্তু ওই মামলার শুনানিতে তখনকার সেনাপ্রধান হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদের ভয়ে সন্তস্ত্র ছিলেন বিচারপতিরা। ক্যান্টনমেন্ট থেকে রাতে-বিরাতে তাদের ফোন করা হতো। নিরাপত্তার কারণে তাদের বাড়িতে পুলিশ প্রহরা বসানো হয়। কিন্তু তারপরও ভয় কাটেনি বিচারপতিদের। ভয়ে রাতে তারা ঘুমোতে পারতেন না। বেডরুম ছেড়ে ঘুমোতেন অন্যঘরের মেঝেতে। এমনই এক ভীত সন্তস্ত্র পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকদের মনে। বিচারপতি লতিফুর রহমান পরে প্রধানবিচারপতি ও পরবর্তীতে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন।

বিচারপতি লতিফুর রহমান তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, তত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলো ও আমার কথা’বইয়ে এ নিয়ে বিষদ লিখেছেন। সেখানে লিখেছেন,” আমি তখন লালমাটিয়ায় আমার নিজের বাড়িতে থাকি। হঠাৎ ঢাকার পুলিশ হেড কোয়ার্টাস থেকে ফোন করে আমাকে বলা হয় যে, আজ মধ্যরাত থেকে আমার বাসায় পুলিশ প্রহরা মোতায়েন করা হবে। সরকারের তরফ থেকে নিরাপত্তার জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমি একজন অস্থায়ী বিচারক হিসেবে একটু বিব্রতবোধ করতে লাগলাম। প্রত্যেক আসামির জন্য একজন করে উকিল নিয়োগ করায় শুনানি দীর্ঘায়িত হতে থাকল। ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড: জহির, সিরাজুল হক, আরও অনেকেই মামলার আইনজীবী নিযুক্ত ছিলেন। মামলা দুদিন চলার পর হঠাৎ বিচারপতি এ টি এম আফজাল এ মামলার অগ্রগতি জানার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করলেন এবং মত প্রকাশ করলেন যে, মামলাটি একটু দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করলে ভাল হয়। এতগুলো লোকের জীবন মরণের বিষয় এবং এতো আইনজীবী নিয়োজিত হয়েছে এ মামলায় স্বাভাবিকভাবে তার শুনানি একটু বিলম্বিত হবে। বিচারপতি আফজালের কথাতে আমি বুঝতে পারলাম যে, মেজর জেনারেল হোসেন মো: এরশাদ , যিনি সেনা প্রধান ছিলেন ,তিনি এ মামলাটি ত্বরান্বিত করার জন্য আফজালকে অনুরোধ করেছিলেন এবং আফজাল তার মনোভাব আমাকে জানালেন। বিচারপতি আফজাল বিশেষ ভদ্রলোক। তিনি সাধারণত এসব ব্যাপারে কাউকে অনুরোধ করার ব্যক্তি নন। তবে পরিস্থিতি নিশ্চয় খারাপ ছিল। বিশেষ করে আমার ব্যাপারে বিশেষ কোনো অসুবিধা ছিল। সেজন্য বন্ধু হিসেবে তিনি শুধু মামলাটি সত্বর নিস্পত্তি করার জন্য অনুরোধ করেন। তা ছাড়া রাত্রে ২/১টি টেলিফোন আসত। আমাকে ভয় দেখিয়ে বলা হত, মামলা দ্রুত করার জন্য। ইংরেজিতে আমাকে টেলিফোনে যেভাবে বলা হত, তাতে এ কথাগুলো ক্যান্টনমেন্টের কোনো সেনাকর্মকর্তা বলছেন বলে আমার ধারণা হল। আমি লালমাটিয়ায় আমার বাসায় সাধারণত যে বেডরুমে ঘুমাতাম, সে বেডরুম পরিবর্তন করে অন্য ঘরের মেঝেতে শুয়ে থাকতাম। আমি ও আমার বাসার সকলেরই একটু ভয় ভয় লাগত। সিনিয়র বিচারপতি ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী আমাকে জানান যে, তিনিও এরকম ফোন পেতেন। মামলা দ্রুত নিস্পত্তি করার জন্য ছুটির দিনেও আমরা কোর্ট করতাম।

এ মামলায় ফিল্ড জেনারেল কোর্ট মার্শালে ১২ জন সেনাকর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এ রিট মামলার মোটামুটি বক্তব্য ছিল যে, সেনাকর্মকর্তাদের মানবাধিকার লংঘন করে কোর্ট মার্শালে অন্যায়ভাবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু কোর্টমার্শাল আইনগতভাবে গঠিত হয়েছে বলে এটর্নি জেনারেল কে. বাকের আমাদের সামনে বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বক্তব্য উপস্থাপন করেন যে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের ৫ উপঅনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোর্টমার্শাল প্রতিরক্ষা শৃংখলা বাহিনী সংক্রান্ত আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রিট মামলা দাখিল করার কোনো এখতিয়ার নেই। তা ছাড়া এটর্নি জেনারেল বক্তব্য পেশ করেন যে, জেনারেল কোর্ট মার্শাল সঠিকভাবে গঠিত হওয়ায় আইনগত ও কার্যবিধিগত কোনো দোষ বিচার করার ক্ষমতা আমাদের নেই। দুপক্ষের বক্তব্য শ্রবণ করে আমরা মামলার রায় প্রদান করলাম যে ,ফিল্ড জেনারেল কোর্ট মার্শালের বিচার আমাদের কোর্টের এখতিয়ার বিহর্ভূত। আমার সিনিয়র জজ বিচারপতি ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী আমাকে এ মামলার রায় লেখার জন্য বললেন এবং আমার লেখা ছোট রায়টি উনি কোর্টে পড়ে শুনান । এভাবে মামলাটি খারিজ করলাম। পরবর্তীতে সুপ্রিমকোর্ট আমাদের রায় বহাল রাখে।

রমজানে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ

0

পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালতের কোর্ট ও অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (১১ এপ্রিল) এ বিষয়ে তিনটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। আপিল বিভাগের সূচিতে বলা হয়, পবিত্র রমজানে সাপ্তাহিক ও সরকার ঘোষিত ছুটির দিন ব্যতীত রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অফিসের কার্যক্রম সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত চলবে। তবে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিরতি থাকবে।
অপরদিকে আদালতের সময়সূচিতে বলা হয়, সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে। হাইকোর্ট বিভাগের সূচিতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল তিনটা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। তবে দুপুর একটা ১৫ মিনিট থেকে দুইটা পর্যন্ত যোহর নামাজের বিরতি থাকবে।
অফিসের সময়সূচিতে বলা হয়, সকাল নয়টা ১৫ মিনিট থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত অফিস চলবে। তবে দুপুর একটা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত যোহর নামাজের বিরতি থাকবে।
অধস্তন আদালতের সূচিতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত চলবে। তবে দুপুর একটা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত যোহর নামাজের বিরতি থাকবে।
অপরদিকে অফিসের সময়সূচিতে বলা হয়েছে, সকাল নয়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে। তবে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।

গৃহকর্মীর মৃত্যু, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্কুলের শিক্ষিকা ফারজানা ৪ দিনের রিমান্ডে

0

রাজধানীর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আবাসিক ভবন থেকে এক গৃহকর্মীর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা ফারজানা ইসলাম কাকলীকে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
রোববার মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার এসআই আতিকুল বিশ্বাস ওই শিক্ষিকাকে আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
গত শনিবার (১০ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে কলেজের শিক্ষিকার আবাসিক ভবনের চতুর্থতলা থেকে লাইলি আক্তারের (১৬) মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় একটি মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে শিক্ষক আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে লাইলী (১৬) নামের ওই গৃহকর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার সমস্ত শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়েছে , নিহতের চোখ, মুখ, কোমর,হাঁটুসহ পায়ের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত,পোড়া, ঝলসানো আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে শারীরিক নির্যাতনেই মৃত্যু হয়েছে গৃহপরিচারিকা লাইলীর।
লাইলীর বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায়। তার বাবার নাম সিরাজ মিয়া। ছয় মাস ধরে সে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ফারজানা ইসলামের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো।

মামুনুলের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণার খোঁজে সন্তানের জিডি, আরেক বান্ধবীর সন্ধান গোয়েন্দাদের

0

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার সন্ধান চেয়ে থানায় জিডি করেছেন ঝর্ণার বড় ছেলে। শনিবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় এই জিডি করা হয়। এতে বলা হয় তার মা পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করছেন না, মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার মায়ের কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না।
জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ জানান, ‘পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’
জিডিতে ঝর্ণার ছেলে উল্লেখ করেন গত ৪-৫ দিন ধরে তিনি ও তার পরিবারের কেউ মায়ের (ঝর্ণা) সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। তাদের মায়ের মোবাইল ফোন নম্বরটিও বন্ধ। সর্বশেষ যখন মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিল, তখন তার মা তার অবস্থান বলেননি।
পল্টন থানার ৫৪৫ নম্বর জিডিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি আমি আমার মায়ের ঘটনায় ফেসবুকে একটি লাইভ করি। এরপর থেকেই আমাকে নানা মহল থেকে ফোন দিয়ে হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই।
উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে গত ৩ এপ্রিল এক নারীর (ঝর্ণা) সঙ্গে অবস্থান করার সময় স্থানীয় লোকজন তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। ওই দিন তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, সঙ্গে থাকা ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেছেন। কিন্তু পরে কয়েকটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় বিয়ে করার বিষয়টি মামুনুল হকের প্রথম স্ত্রী জানতেন না। দ্বিতীয় বিয়েটিও তিনি শরিয়ত মতো করেন নি।
মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার দুই সন্তান আবদুর রহমান ও তামিম তাদের বাবার সঙ্গে খুলনায় থাকে। আবদুর রহমান কয়েক দিন আগে ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুল হক সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার বিচার দাবি করে। পাশাপাশি আবদুর রহমান তার মা-বাবার বিচ্ছেদ ও তাদের পরিবার ধ্বংসের জন্য সরাসরি মামুনুল হককে দায়ী করে।
মামুনুল হক হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব। রয়েল রিসোর্টে তিনি ঘেরাও থাকা অবস্থায় স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। পরে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।
আরেক বান্ধবির সন্ধানঃ
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের একের পর এক নারী কেলেঙ্কারির তথ্য বের হয়ে আসছে। এবার গাজীপুরে আরেক নারীর সন্ধান পাওয়া গেছে যার সঙ্গে মামুনুলের ছিলো অবৈধ সম্পর্ক। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা মামুনুলের নতুন এই বান্ধবীর সব তথ্য উদঘাটন করেছে। তার পুরো নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। এই নারীকে এতদিন মামুনুলের প্রথম স্ত্রী ধারণা করলেও গত দুইদিন আগে বেরিয়ে এসেছে নতুন এক তথ্য। মামুনুলের ঘনিষ্ঠ অনেকের কাছে এই নারীর সম্পর্কে যাচাই-বাছাই শেষে গোয়েন্দারা আরও নিশ্চিত হয়। তবে মামুনুল হকের আগের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্না হওয়ার কারণে এই জান্নাতের পরিচয় নিশ্চিত করতে দারুণ বেগ পেতে হয়। তবে মামুনুল এবং জান্নাতের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বর্তমানে গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন’এ প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে , জান্নাতুল ফেরদৌসের নতুন স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ড অনুযায়ী তার বাবার নাম জামাল। মা আকলিমা বেগম। ঠিকানা- গাজীপুর কাপাসিয়ার বানার হাওলা’য়। জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৯০।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের জান্নাতুল বায়াত মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন মামুনুলের এই বান্ধবী। মাদ্রাসার পাশেই একটি বাসা ভাড়া করে থাকেন। এই বাসাতেই মাওলানা মামুনুল হক মাঝে-মধ্যেই যাতায়াত করতেন। নিয়মিত যোগাযোগও ছিল।
পাশাপাশি একান্তে সময় কাটানোর অনেক উপকরণও হাতে পেয়েছে গোয়েন্দারা। অনেক তথ্য প্রমাণও এসেছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে। জান্নাতুল বায়াত মহিলা মাদ্রাসার প্রধান উপদেষ্টা হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক।

বিয়ে না করেই ঝর্ণার সঙ্গে মিশতেন মামুনুল, কারও কেলেঙ্কারির দায় নেবেন না আলেমরা

0

বিয়ে না করেই জান্নাত আরা ঝর্নার সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করতেন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। তার এমন আচরণ ঝর্ণা মেনে নিতে পারেননি। পরে এ জন্য অনুশোচনাও করেন। ঝর্ণার লেখা তিনটি ডাইরি থেকে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। শুক্রবার ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের রয়্যাল রিসোর্টে গত শনিবার হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নারীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও যুবলীগ, ছাত্রলীগ দুই নেতার বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের করার ঘটনায় শুক্রবার (৯ এপ্রিল) তিনটি মামলা করা হয়।
অন্যদিকে মামুনুলের নানা কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর থেকে হেফাজত ইসলামের মধ্যে তাকে নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠছে। প্রথম অবস্থায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা তার পক্ষ নিলেও প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসায় এখন ক্রমেই তারা দূরে সরে যাচ্ছেন। আলেমরা বলছেন কারও ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি ও অপরাধের দায় হেফাজত নেবে না। মামুনুলকে কেন্দ্র করে দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে হেফাজত।
সোনাগাঁও থানায় দায়ের করা একটি মামলায় মামুনুল হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করার ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক নাসির উদ্দীন বাদী হয়ে স্থানীয় হেফাজতে ইসলাম ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ ১১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে হেফাজতে ইসলাম ও বিএনপির ১১৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এছাড়া অপর মামলাটি দায়ের করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি সোহাগ রনির বাবা শাহ জামাল তোতা। এ মামলায় বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামের ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শুক্রবার জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হেফাজতে ইসলামের কর্মী খালেদ সাইফুল্লাহ (৩৪), কাজী সমির (৩২), অহিদুল ইসলাম (৩৬), আব্দুল আউয়াল (৩৯) কে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের শান্তিনগর দারুণ নাজাত নুরানি মাদরাসায় সরকারবিরোধী গোপন বৈঠক করার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ৭ জন হেফাজতে ইসলামের কর্মীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী রবিবার রিমান্ডের ওপর শুনানি হবে
যা আছে ঝর্ণার ডায়রিতেঃ
বিয়ে না করেই জান্নাত আরা ঝর্নার সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করতেন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। তার এমন আচরণ ঝর্ণা মেনে নিতে পারেননি। পরে এ জন্য অনুশোচনাও করেন। ঝর্ণার লেখা দুইশ পৃষ্ঠার তিনটি ডাইরি থেকে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রচারিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
হেফাজত নেতা মানুনুলের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণা। তাকে নিয়ে মামুনুল নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে গিয়েছিলেন অবসর কাটাতে। আর সেখানেই স্থানীয় জনগনের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। সে সময় মামুনুল দাবি করেন তিনি দুই বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, ঝর্ণা তার স্ত্রী। তবে এর আগে কেউ তার দ্বিতীয় বিয়ের কথা জানতো না। দেশজুড়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা সমালোচনা।
রয়েল বিসোর্টের ঘটনা নিয়ে মামুনুল তার প্রথম স্ত্রীর কাছেও সত্য গোপন করেন। পরে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে খুশি করতে সীমিত পরিসরে মিথ্যে বলার অবকাশ আছে দাবি করে নিজের পক্ষে সাফাইও গান। এবং নিজের ফোনালাপ ফাঁসের কথাও বলেন। যা থেকে প্রমাণ হয়, প্রথম স্ত্রী আমেনা তৈয়্যইবা ও কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণার সঙ্গে কথোপকথনের ফোন রেকর্ড ফাঁস হওয়ার ঘটনা সত্য। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেই ভিডিও মুছে ফেলেন তিনি।
এদিকে শুক্রবার ঝর্ণার তিনটি ডাইরি সামনে আসায় অনেক কিছুই খোলাসা হয়েছে। সেখানে লেখা, দীর্ঘদিন ধরেই মনোরঞ্জন করেছেন মামুনুল হক। বিয়ে বর্হিভূত মেলামেশার জন্য অনুশোচনার কথাও লেখা রয়েছে ডাইরিতে। বিয়ে না করেও ঝর্ণার নিয়মিত ভরণপোষণ দিতেন মামুনুল। কিন্তু এর বিনিময়ে ঝর্ণাকে যে মাশুল দিতে হয়েছে তার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। সেখানে লেখা রয়েছে, আমার দাবিদার নেই, আমার শরীরের দাবিদার রয়েছে। এ জীবন শেষ করে দিতে চাই। আল্লাহ আমি কী করবো? আমার কী করা উচিত? কী করলে পাপমুক্ত হবো? ডাইরির পাতায় পাতায় লেখা রয়েছে মামুনুলের প্রতিশ্রুতি ভঙের বিরবণ আর সে কারণে ঝর্ণার আর্তনাদে ভরা কথাবার্তা।

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জিহাদ ও সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, হুশিয়ারি আইনমন্ত্রীর

0

দেশে অরাজকতা, জনগণের সম্পদ বা জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামকে প্রতিরোধের জন্য কার্যকর আইন আছে। আইন অনুযায়িই সবকিছু হবে৷ শনিবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কোভিড-১৯ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, আবারও স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কেউ যদি দেশে অরাজকতা, জনগণের সম্পদ বা জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন, এই সরকার তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নিবে। আমাদেরকে, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে সেবা করার দায়িত্ব দিয়েছেন জনগণ। সেখানে যদি কেউ ব্যঘাত ঘটনোর চেষ্টা করে অবশ্যই আইনানুগভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিকা নেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজের মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য দেখিনি। আমি ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে ইনজেকশনটা দিয়েছেন। কারণ আমি কোনো ব্যথা বোধ করিনি। আগেও আপনাদের একথা বলেছি যে, ইনজেকশন নেওয়ার ব্যাপারে আমার এলার্জি আছে। আমি খুব ভয় পাই। দু’বারই আমি অত্যন্ত স্বাচ্ছ্যন্দে এই ইনজেকশনটা নিতে পেরেছি। সেজন্য কর্তৃপক্ষকে আমি ধন্যবাদ জানাই।
আইনমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বে ভয়াবহভাবে বেড়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ডোজ নিলে আমি মনে করি অন্ততপক্ষে আক্রান্তটা কমে যাবে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে নেওয়ার জন্য।

ধর্ষণের কারণ নারীর পোষাক, এমন বক্তব্য দিয়ে তোপের মুখে ইমরান খান, সাবেক দুই স্ত্রীও ক্ষুব্ধ

0

ধর্ষণের কারণ হিসেবে নারীর অশ্লীল পোশাককে দায়ী করায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পরামর্শ দিলেন তার সাবেক প্রথম স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ ও দ্বিতীয় স্ত্রী, বিবিসির সাবেক উপস্থাপিকা রেহাম খান। এ বিষয়ে প্রথম মুখ খোলেন প্রথম স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ। এমন মন্তব্যে মানবাধিকার কর্মীরাও ইমরান খানের সমালোচনা করেন। এক্ষেত্রে ইমরান খানকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রেহাম খান পরামর্শ দিয়েছেন, তিনি যত কম কথা বলবেন ততই সবার জন্য মঙ্গল।
ধর্ষণের জন্য নারীদের দায়ী করে ইমরান খানের মন্তব্যের জবাবে প্রথম স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে টুইট করেছেন। লিখেছেন, এর দায় বর্তায় পুরুষদের ওপর। ‘তোমরা যারা বিশ্বাসী তারা নিজেদের চোখকে নিবৃত করো এবং গোপন অঙ্গগুলোর হেফাজত করো’।
ইমরান খানের মন্তব্য বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হওয়ার পর তার পক্ষ নিয়েছে তার অফিস। সেখান থেকে বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ৬৮ বছর বয়সী ইমরান খান রোববার এক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে ক্রমবর্ধমান যৌন হামলার জন্য নারীদের অশালীনতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ধর্ষণের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে নারীদের উচিত শালীন ও মার্জিত পোশাক পরা।
এ সময় ইমরান খান ভারতের বলিউডি সিনেমার কথা তুলে ধরেন। বলেন, ৭০ এর দশকে ইংল্যান্ডের যৌনতা, মাদক, রক অ্যান্ড রোল কালচার ঢুকে পড়েছে। এর ফলে নৈতিকতার অবনমন ঘটেছে। এর ফলে যৌন হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পরেই তিনি ইসলামের পর্দা প্রথার কথা তুলে ধরেন।
ওদিকে ইমরান খানের বিবৃতিকে ত্রুটিপূর্ণ, বিপজ্জনক ও সংবেদনশীল বলে অনলাইনে এক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন কয়েক শত মানুষ। এই বিবতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের নিরপেক্ষ অধিকার বিষয়ক পর্যবেক্ষক হিউম্যান রাইটস কমিশন মঙ্গলবার বলেছে, তারা ইমরান খানের বক্তব্যে হতাশ হয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনের ৫০ বছর পূর্ণ হলো আজ, যাদের নেতৃত্বে অর্জিত হয় স্বাধীনতা

0

আজ ১০ এপ্রিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এদিনে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায় এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করেন ‘মুজিব নগর’। সেই থেকে কলকাতায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার ‘মুজিবনগর’ সরকার নামে পরিচিত হয়। এই সরকারের নেতৃত্বে পুরো মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার আগে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। পরে একই বছরের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়। একই সাথে প্রবাসী সরকারের এক অধ্যাদেশে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়।
১০ এপ্রিল পাকিস্তানের নির্বাচিত জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি গোপন স্থানে মিলিত হয়ে প্রবাসী সরকার গঠন করেন। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) নির্বাচিত করা হয়। সৈয়দ নজরুল ইসলাম পরে তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন।
১০ এপ্রিল সরকার গঠনের পর ১১ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তাজউদ্দিন আহমদ একটি বেতার ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি দেশব্যাপী পরিচালিত প্রতিরোধ যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। এছাড়াও ১৭ এপ্রিল মন্ত্রী সভার শপথ গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয় ।
মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী গ্রাম বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। শপথ গ্রহণের পরই তাজউদ্দিন আহমদ এ স্থানের নাম দেন ‘মুজিবনগর’। পরবর্তী সময়ে প্রবাসী সরকার মুজিবনগর সরকার হিসেবেই পরিচিতি লাভ করে।

ছবির উৎস – গুগল।
এদিকে ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর সরকারের মন্ত্রীরা শপথ নিলেও ১৮ এপ্রিল মন্ত্রী পরিষদের প্রথম সভায় মন্ত্রীদের দপ্তর বন্টন করা হয়। মুজিবনগর সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। শুধু তাই নয়, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের এই প্রথম সরকারের কুটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ এর ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।
যারা ছিলেন মন্ত্রিপরিষদেঃ
মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর। মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
সরকার গঠন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তথা প্রধান নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলায় সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ। নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন  ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল সরকার গঠন এবং ১৭ এপ্রিল সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন হয় ১৮ এপ্রিল। এদিন সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ:
মুজিবনগর সরকারকে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভাগ করা হয়। এছাড়া কয়েকটি বিভাগ মন্ত্রিপরিষদের কর্তৃত্বাধীনে থাকে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম নিম্নরূপ:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত) তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমদ পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, এম মনসুর আলী মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এ এইচ এম কামরুজ্জামান মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এস.এ সামাদ প্রতিরক্ষা সচিব। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম.এ.জি ওসমানী, চীফ অব স্টাফ কর্নেল আবদুর রব, উপ-সেনাপতি এ.কে খন্দকার, এবং ডি.জি মেডিকেল সার্ভিস ও বিভিন্ন পদবীর স্টাফ অফিসার এ দপ্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যুদ্ধরত অঞ্চলকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে প্রতিটিতে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়। তবে ১০নং বা নৌ সেক্টরে কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না, কমান্ডোরা যখন যে এলাকায় অভিযান করত সে সেক্টরের কমান্ডারের অধীনে থাকত। এ ছাড়াও জেড ফোর্স, কে ফোর্স ও এস ফোর্স নামে তিনটি ব্রিগেড গঠন করা হয়। ব্রিগেডগুলির কমান্ডার হলেন যথাক্রমে মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর খালেদ মোশাররফ এবং মেজর কে.এম সফিউল্লাহ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  যুদ্ধের সময় বিদেশে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করে এবং বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল প্রেরণ করে বহির্বিশ্বের সরকার ও জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে এ মন্ত্রণালয়। এ লক্ষে কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম প্রভৃতি স্থানে কূটনৈতিক মিশন স্থাপন করা হয় এবং জাতিসংঘ, আফগানিস্তান, সিরিয়া-লেবানন, নেপাল, শ্রীলংকা, বার্মা, থাইল্যান্ড, জাপান প্রভৃতি দেশের সমর্থন আদায়ের জন্য কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল প্রেরণ করে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির জন্য বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে এ মন্ত্রণালয় থেকে পত্র প্রেরিত হয়। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর প্রধান ছিলেন কলকাতায় হোসেন আলী, দিল্লিতে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, ইউরোপে বিশেষ প্রতিনিধি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, ওয়াশিংটনে এম আর সিদ্দিকী। স্টকহোমে আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিত্ব করেন।
বাংলাদেশ সরকার প্রেরিত কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সিরিয়া-লেবাননে মোল্লা জালাল উদ্দীন এমএনএ ও ড. মাহমুদ শাহ কোরেশী, আফগানিস্তানে আবদুস সামাদ আজাদ, আশরাফ আলী চৌধুরী এমএনএ, মওলানা খায়রুল ইসলাম যশোরী ও এডভোকেট নূরুল কাদের। নেপালে প্রেরিত হন আবদুল মালেক উকিল, সুবোধচন্দ্র মিত্র ও আবদুল মোমিন তালুকদার। এডভোকেট ফকির শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে শামসুল হক ও জ্যোতিপাল মহাথেরো শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও জাপান গমন করেন। মাহবুব আলম চাষী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পররাষ্ট্র দপ্তর অবস্থিত ছিল কলকাতার ৯ সার্কাস এভিনিউতে।

ছবির উৎস – গুগল
অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়  এম মনসুর আলী এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও খন্দকার আসাদুজ্জামান ছিলেন সচিব। যুদ্ধের সময় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য কোন কাজ ছিল না। তবে অর্থ বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করে: সরকারের আয়-ব্যয়ের বাজেট প্রণয়ন; বাংলাদেশের অভ্যন্তর ও অন্যান্য উৎস হতে প্রাপ্ত সম্পদের হিসাব তৈরি; বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গকে অর্থ প্রদানের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন; আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা; রাজস্ব ও শুল্ক আদায়; এবং যেকোন আর্থিক অনিয়ম রোধের জন্য কমিটি গঠন।
বাংলাদেশ সরকার তার আয়ের উৎস ও ব্যয়ের খাত নির্ধারণ করে প্রথমে ছয় মাসের জন্য একটি বাজেট তৈরি করে। বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত অর্থ সংরক্ষণের জন্য ট্রেজারি স্থাপন করে এবং প্রবাসী বাঙালি ও বিভিন্ন বিদেশী নাগরিক ও সংস্থার তরফ থেকে প্রাপ্ত অর্থ বাংলাদেশ ফান্ড নামের একটি তহবিলে জমা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের বেতন-ভাতা ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়ের প্রস্তাব প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত হত এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে সে অর্থ পৌঁছাত। সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়  মন্ত্রিপরিষদের সভায় বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন, সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ এবং এসব বিষয়াদি লিপিবদ্ধকরণ মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়ের আওতাভুক্ত ছিল। মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হবার পর পরিষদের প্রথম দুই মাসের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকাংশই তাজউদ্দীন আহমদ নিজ হাতে লিপিবদ্ধ করেন। এরপর এইচ টি ইমাম সচিব হিসেবে যোগ দেবার পর অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের সমনতয়ে সচিবালয় গড়ে ওঠে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের সমন্বয় সাধনে মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাধারণ প্রশাসন বিভাগ  নিয়োগ, বদলী, পদোন্নতি ও চাকরির বিধি প্রণয়নের নিমিত্তে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের আওতায় সাধারণ প্রশাসন বিভাগ সৃষ্টি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রধানত দ্বিতীয় শ্রেণীর বিভিন্ন নিয়োগ এ বিভাগের আওতাধীন ছিল। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তালিকা বহির্ভূত ব্যক্তিবর্গকে চিহ্নিতকরণ এবং বিভিন্ন নিয়োগের জন্য প্যানেল তৈরি করাও ছিল এ বিভাগের দায়িত্ব। নুরুল কাদের সংস্থাপন সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

জোনাল প্রশাসনিক কাউন্সিল  সাধারণ প্রশাসন বিভাগের আওতায় এ কাউন্সিল গঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনের পক্ষে দেশের অভ্যন্তরে প্রতিটি জেলায় সরাসরি কাজ করা অসম্ভব বিধায় কয়েকটি জেলার সমন্বয়ে একটি করে প্রশাসনিক জোন গঠন করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৯টি জোন এবং পরবর্তী সময়ে আরও দু’টি জোন প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিটি জোনের একটি হেডকোয়ার্টার ছিল এবং একজন চেয়ারম্যান (এমএনএ বা এমপিএ) ও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জোনের দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট জোনের চেয়ারম্যান, সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারীদের সমন্বয়ে প্রশাসনিক কাউন্সিল গঠিত হয়।

দায়িত্ব ও কর্তব্য মন্ত্রিসভা কর্তৃক জোনাল প্রশাসনিক কাউন্সিলের জন্য গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, জোনের ওপর রাজনৈতিক কর্তৃত্ব তথা জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, উদ্বাস্ত্তদের ত্রাণ সহায়তা প্রদান, বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ত্রাণ প্রদানের বিষয়টির সমন্বয় সাধন, যুবক্যাম্পগুলোকে সাধ্যমত সহায়তা প্রদান এবং সেক্টর কমান্ডকে সহায়তা করা জোনাল প্রশাসনিক কাউন্সিলের প্রধান কাজ ছিল। মুক্তাঞ্চলে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন যে কার্যকর রয়েছে তা জনগণকে বোঝানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করাও জোনাল প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে ৫ দিনের নোটিশে প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা সচিবকে মাসে কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হত।

স্বাস্থ্য ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়  এ মন্ত্রণালয় একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে প্রথম কাজ শুরু করে। পরবর্তী সময়ে মহাপরিচালককে সচিবের মর্যাদা দেয়া হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ দুভাগে বিভক্ত ছিল: (ক) সেনাবাহিনী তথা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা ও (খ) বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ বা সরাসরি অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করে নি এমন জনগণকে চিকিৎসা প্রদান। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল, চিকিৎসক নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ, ঔষধ-পথ্য সংগ্রহ, মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসক দল প্রেরণ, শল্য চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, এবং আহত ও নিহতদের জন্য পরিবহণের ব্যবস্থা করা। ডা. টি হোসেন প্রথমে স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক এবং পরে স্বাস্থ্য ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব নিযুক্ত হন।

তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়   মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে বসবাসরত বাঙালিদের মনোবল উজ্জীবিত রাখার প্রয়োজনে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এ মন্ত্রণালয় প্রধানত চারটি মাধ্যমে এর কর্মকান্ড পরিচালনা করত: (ক) বেতার (স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র), (খ) চলচ্চিত্র, (গ) প্রকাশনা, (ঘ) চারুকলা ও ডিজাইন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  মুক্তাঞ্চল, শরণার্থী ক্যাম্প ও ট্রেনিং ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এ মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব ছিল। মুক্তাঞ্চলে প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির ব্যাপারে সরকারকে সহায়তা এবং যুদ্ধ এলাকা ও মুক্তাঞ্চলে গোয়েন্দা তৎপরতা পরিচালনার জন্য গোয়েন্দা বিভাগ গঠন করা হয়। এ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক, ব্যাজ ও মনোগ্রাম নির্ধারণ করে। আবদুল খালেককে প্রথমে পুলিশের আই.জি ও পরে স্বরাষ্ট্র সচিব নিয়োগ দেয়া হয়। যুদ্ধের শেষদিকে বাংলাদেশকে ৪টি রেঞ্জে ভাগ করে চারজন ডিআইজি ও প্রত্যেক জেলায় এসপি নিয়োগ করা হয়। ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশী জনগণের ভ্রমণ ডকুমেন্ট ইস্যু করাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ ভারতে আশ্রয়প্রাপ্ত শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য স্বরাষ্ট্র ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। শরণার্থীদের আবেদন বিবেচনা করে তাদের সাধ্যমত সহায়তা প্রদান করা হত। ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগকে আবার দুটি ভাগে ভাগ করা হয়: (ক) ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটি এবং (খ) উদ্বাস্ত্ত কল্যাণ বোর্ড।

সংসদ বিষয়ক বিভাগ  পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ বিভাগ কাজ করে। প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং তাদের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করা এ বিভাগের প্রধান দায়িত্ব ছিল। মুক্তিযোদ্ধা বাছাই, শরণার্থীদের আবাসন ও যুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে পরিষদ সদস্যগণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এসব কর্মকান্ডের জন্য তাদের ভাতা প্রদান করা হত।

কৃষি বিভাগ  যুদ্ধপরবর্তী সময়ে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতির বিবেচনায় কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে কিভাবে খাদ্য সংকট কাটিয়ে উঠা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেবার জন্য এ বিভাগ কাজ করে। নুরুদ্দিন আহমদ কৃষি সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রকৌশল বিভাগ  যুদ্ধে সেক্টরগুলোতে প্রকৌশল বিষয়ক সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ করে দ্রুত রাস্তা নির্মাণ ও মেরামত এবং সেতু মেরামতের জন্য কিছুসংখ্যক প্রকৌশলীকে এ বিভাগের অধীনে নিয়োগ করা হয়। এমদাদ আলী প্রধান প্রকৌশলী নিযুক্ত হন।

পরিকল্পনা সেল  আওয়ামী লীগের ছয়দফা এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনে এ দলের ইশতেহারের পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে দেশকে গড়ে তোলার জন্য, বিশেষ করে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কিভাবে দ্রুত কাটিয়ে উঠা যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সরকার এ সেল গঠন করে। পাকিস্তান শাসনামলে উন্নয়নবঞ্চিত এলাকা চিহ্নিতকরণ ও প্রশাসনিক পুনর্গঠন বিষয়ে পরামর্শ দেয়াও এর কাজ ছিল। প্রাথমিকভাবে বাস্ত্তহারাদের পুনর্বাসন, খাদ্য সরবরাহ, স্বাস্থ্য, পানি-বিদ্যুৎ ও বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালুর বিষয়ে এ সেল সরকারকে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দান করে। এ সেলই পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনা কমিশনে রূপান্তরিত হয়। ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরী চেয়ারম্যন এবং ড. খান সারোয়ার মুর্শেদ, ড. মোশাররফ হোসেন, ড. এস.আর বোস ও  ড. আনিসুজ্জামান পরিকল্পনা সেলের সদস্য ছিলেন।

যুব ও অভ্যর্থনা শিবির নিয়ন্ত্রণ বোর্ড  মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে আগ্রহী যুবকদের প্রথমে অভ্যর্থনা ক্যাম্পে এবং পরে সেখান থেকে যুবক্যাম্পে ট্রেনিংয়ের জন্য পাঠানো হত। জোনাল প্রশাসনিক কাউন্সিলগুলোর আওতায় উভয় ক্যাম্প পরিচালিত হত। এ বোর্ডের চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাহায্যে কর্মকান্ড পরিচালনা করতেন। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও আসাম রাজ্যে মোট ১০৬টি যুব ক্যাম্প ও ১১২টি অভ্যর্থনা ক্যাম্প ছিল। বোর্ডের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকারের বাজেটেই উভয় ক্যাম্প পরিচালিত হয়। অধ্যাপক ইউসুফ আলী যুব ও অভ্যর্থনা শিবির নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া প্রতিটি ক্যাম্প পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন একজন করে এমএনএ বা এমপিএ।  [মোহাম্মদ ফায়েকউজ্জামান ]
তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।

 

করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচাতে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আভাস প্রধানমন্ত্রীর

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস থেকে মানুষের জীবন রক্ষায় আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আভাস দিয়ে বলেছেন, ‘এটি বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং তাঁর সরকারও সেই ধাক্কাটা দেখতে পাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘মানুষকে বাঁচানোর জন্য আমরা প্রাথমিক কিছু ব্যবস্থা নিলেও ভবিষ্যতে হয়তো আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আমরা সেটা নেব।’
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে বিসিএস কর্মকর্তাগণের ছয়মাস ব্যাপী ৭১ তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) সাভারে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
শেখ হাসিনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় গুরুত্বারোপ করে প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারাও এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। অপরেও যেন সুরক্ষিত থাকে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। আজকে যারা দায়িত্ব নিয়ে কর্মস্থলে যাবেন সেখানেও যেন সকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেদিকে আপনারা দৃষ্টি দেবেন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আজকে এই সভার মাধ্যমে আমি দেশবাসী সবাইকে বলবো প্রত্যেক স্বাস্থ্যসুরক্ষাবিধি যাতে মেনে চলে সেই ব্যবস্থা নেবেন। মানুষের জীবন-জীবিকা চলতে হবে। মানুষকে আমরা কষ্ট দিতে পারি না। কিন্তু সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা একান্তভাবে অপরিহার্য্য। সেজন্য সকলে আস্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন।
তিনি বলেন, যেমন মাস্ক পরাটা একান্তভাবে দরকার, অফিস-আদালত বা কাজ থেকে ঘরে ফিরে সকলে একটু গরম পানির ভাপ নেবেন। কারণ, এই ভাইরারাস সাইনাসে গিয়ে বাসা বাঁধে। সেটা যেন না পারে সেজন্য একটু গরম পানির ভাপ নিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ৭১তম বুনিয়াদি কোর্সে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকারকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন। প্রতিষ্ঠানে রেক্টর মো. রকিব হোসেন ফলাফল উপস্থাপন করেন এবং শপথ বাক্য পাঠ করান। এবারের কোর্সে ৩০৭ জন কর্মকর্তার সকলেই কৃতকার্য হয়েছে। এরমধ্যে ২২৮ জন পুরুষ এবং ৭৯ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা চলবো’ কাজেই যারা সিভিল সার্ভিসে কাজ করেন তাদের এটাই মনে রাখতে হবে-‘দেশের মানুষের জন্যই আপনাদের কাজ করতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মহান মুক্তির সংগ্রামে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেনী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। কাজেই ধনী-গরিব, ধর্ম বর্ণ দলমত নির্বিশেষে কোন ভেদাভেদ না করে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখে তাদের সার্বিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে সবাইকে সমান অধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সেই মানসিকতা নিয়েই আপনারা জনগণের সেবা করবেন সেটাই আমি চাই। কেননা, কেউ ইচ্ছে করে দরিদ্র হয় না, কেউ দরিদ্র বা প্রতিবন্ধী হলেই আমরা তাদেরকে অপবাদ দিতে পারি না, তাদেরকে সাহায্য করা দরকার, যাতে তারা সমাজে দাঁড়াতে পারে এবং মাথা উঁচু করে চলতে পারে, সেভাবেই আমরা কাজ করতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় সরকারি কর্মচারিদের উদ্দেশ্যে জাতির পিতার বক্তব্য উদ্ধৃত করেন-
জাতির পিতা বলেন, ‘আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনে দেয় এ গরীব কৃষক! আপনার মাইনে দেয় ঐ গরীব শ্রমিক। আপনার সংসার চলে ঐ টাকায়। আমি গাড়ি চড়ি ঐ টাকায়। ওদের সম্মান করে কথা বলুন, ইজ্জত করে কথা বলুন। ওরাই মালিক।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণই বাংলাদেশের মালিক। সেই মালিক যে কেউ হতে পারে। একজন মেহেনতী মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার জনগণ এবং আমাদের সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদের এ কথাই বলা হয়েছে-প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেকথা মনে করেই আপনারা জনগণকে সেবা দেবেন-এটাই আমি চাই।’
তিনি বলেন, লোক-প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিভিন্ন জ্ঞান এবং জনদরদী মনোভাব উন্নয়নে ৬ মাস মেয়াদী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কাক্সিক্ষত ভূমিকা পালনে আপনাদের সহায়তা করবে বলে আমি মনে করি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করবো, কর্মজীবনের বৃহত্তর পরিসরে ফিরে গিয়ে আপনারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান এবং দক্ষতার যথার্থ প্রয়োগ করবেন। জনসেবা ও দেশপ্রেমী মনোভাব, সর্বোপরি, মুক্তিযুদ্ধের মহান চেতনাকে লালন ও সমুন্নত রাখতে আপনারা উদ্যোগী হবেন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নিয়েই দেশকে গড়ে তুলবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ২০০৯ সাল থেকে একটানা ক্ষমতায় আছে বলেই দেশের উন্নয়ন কাজগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে এবং ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা ২০২১-২০৪১ মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি এবং ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় ’ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর সুবিধা আজ শহর থেকে প্রান্তিক গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃৃত হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণা মোতাবেক তাঁর সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছে। দারিদ্রের হার ৪১ ভাগ থেকে ২০ দশমিক ৫ ভাগে নামিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছে, প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৫ ভাগে উন্নীত করেছে। তবে, দুর্ভাগ্য করোনাভাইরাস আজকে সারাবিশ^কেই তছনছ করে দিয়েছে। বিশ^ অর্থনীতি আজকে স্থবির হয়ে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রেই একটা বাধা আসছে। এরমধ্যেও তার সরকার বাজেট প্রনয়ণ সহ নানা পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে।
করোনার কারণে কিছুটা থমকে গেলেও তাঁর সরকার ’৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে এবং সে সময়ে তিনি জীবিত না থাকলেও বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যেতে পারে সেভাবেই সরকার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমার এখন যে বয়স তাতে অবশ্য ২০৪১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার বা বেঁচে থাকার কোন সম্ভাবনা নেই। তবে, আজকে যারা নবীন কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে স্ব-স্ব দায়িত্ব পালনে কাজে যোগদান করবেন সেই আপনাদের ওপরই এই দায়িত্ব পড়বে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ২০৪১ এর উন্নত বাংলাদেশ গড়বার সৈনিক হচ্ছে আজকের এই নতুন প্রজন্ম।’
তিনি বলেন,‘আত্মবিশ^াস নিয়ে সততার সঙ্গে নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং সবসময় একটা কথা মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি, আমরা বাঙালি এবং যুদ্ধ করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি এবং বিশে^র বুকে মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গেই আমরা চলবো। ’৭৫ এর পর যে সম্মান হারালেও ২০০৯ এর পর থেকে টানা ১২ বছর দেশ পরিচালনায় থেবে সে সম্মান আমরা আবার ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছি।’
প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও তাঁর সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ১ হাজার ১০৭.০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বিপিএটিসিতে ‘ভৌত অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ ও আনুষাঙ্গিক সুবিধা স¤প্রসারণের মাধ্যমে বিপিএটিসি’র সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। কাজ সমাপ্ত হলে, সিভিল সার্ভিসের ২ হাজার সদস্যকে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যাবে এখানে।
জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করেই তাঁর সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার পর দেশকে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় জাতির পিতার কয়েকটি বিশেষ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ১০ মাসের মধ্যে দেশকে একটি বিশ্বসেরা সংবিধান প্রদান, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের জন্যে ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন ও ‘এ্যাডমিনিষ্ট্রেটিভ সার্ভিস রি-অর্গানাইজেশন কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনিক সংস্কারসহ আরও অনেক সাফল্য জাতির পিতা অর্জন করেন এবং ১৯৭৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ অতিক্রম করে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন একটি শোষণ-বঞ্চনামুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে তাঁকে পরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।
সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর থেমে যায় বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা এবং আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি হত্যা, ক্যু আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতির ঘেরাটপে আটকা পড়ে যায়।
দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কল্যাণে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে তাঁর সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপেরও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারি কর্মচারিদের তাঁর সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করে দিয়েছে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর কাজের মান বাড়ানোর জন্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি, শুদ্ধাচার কর্মকৌশল এবং উদ্ভাবনী শক্তি যাদের মধ্যে রয়েছে তাদেরকে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজের মান বাড়ানোর জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ।
দেশের মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সামাজিক নিরাপত্তায় ব্যপক কর্মসূচি তাঁর সরকার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না, বিনা চিকিৎসায় মরবে না, প্রত্যেকটি মানুষের জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হবে। এজন্য স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং দেশের উন্নয়নটাকে একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে দেশের সকল গৃহহীনকে অন্তত একটি ঘর নির্মাণ করে ঠিকানা গড়ে দেওয়ার এবং দেশকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত করায় তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুণর্ব্যক্ত করেন। বাসস।

পাঁচ দিনের সফরে ভারতের সেনাপ্রধান ঢাকায়

0

পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নরভানে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের আমন্ত্রণে তার এ সফর বলে বলে জানিয়েছে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছেই ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতীয় সেনাপ্রধান।
হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতীয় সেনাপ্রধানের স্ত্রী বীণা নরভানে এবং দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সফরে তার সঙ্গে থাকছেন।
১২ এপ্রিল সোমবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উপলক্ষে ’শান্তির অগ্রসেনা’ শীর্ষক যৌথ সামরিক অনুশীলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জেনারেল নরভানে।
৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই অনুশীলনে বাংলাদেশি ও ভারতীয় সেনা সদস্যদের পাশাপাশি ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী অংশ নিচ্ছে।
এই অনুশীলনে সামরিক পর্যবেক্ষক থাকছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, সৌদি আরব, কুয়েত এবং সিঙ্গাপুর থেকে।
সফরে জেনারেল নরভানে বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও ভারপ্রাপ্ত বিমান বাহিনী প্রধান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিও পরিদর্শনের পাশাপাশি জাতিসংঘের শান্তির সমর্থনে অপারেশন সম্পর্কিত একটি সেমিনারে মূল বক্তব্য দেনেব ভারতীয় সেনাপ্রধান।
১১ এপ্রিল সেনাবাহিনীর মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে ওই সেমিনারের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি।