ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ৭:১২ 

Home Blog Page 128

বিজনেস ল রেফারেন্স কর্নার সুপ্রিমকোর্ট বার ও বেঞ্চকে সমৃদ্ধ করবে, বললেন আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এক্সক্লুসিভ বিজনেস ল রেফারেন্স কর্নার বাংলাদেশের বার এবং বেঞ্চকে সমৃদ্ধ করতে অবদান রাখবে। পাশাপাশি আইনজীবী এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত করবে, যা বর্তমানে ব্যবসায় ও বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য অপরিহার্য।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরিতে এক্সক্লুসিভ বিজনেস ল রেফারেন্স কর্নার (এসসিবিএ-এফবিসিসিআই কর্নার) এর ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর সহযোগিতায় এই কর্নার স্থাপন করা হয়, যেখানে ৭০০ এক্সক্লুসিভ বিজনেস ল রেফারেন্স বুক রয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আইনজীবীরা দক্ষতা এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাছেন। কর্পোরেট জগতে পা রাখার সাথে সাথে তারা নিজেদেরকে আরও বৃহৎ দায়িত্বশীল অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা আমাদের গর্বিত করে তুলবেন এবং কর্পোরেট জগতকে সর্বোত্তম বিকাশ এবং সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি কর্পোরেট জগতে খ্যাতিমান আইনজীবীদের একত্রিত করে চলেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, নতুন এসসিবিএ-এফবিসিসিআই কর্নার তাদের ভবিষ্যত সাফল্যের পথ সুগম করবে।
অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, ফেডারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মুনতাকিম বক্তব্য রাখেন। এফবিসিসিআই- এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুল হক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

অনলাইনে হয়রানির শিকার ? প্রতিকার চাইতে আছে পুলিশ, আইন, আদালতঃ সচেতন হউন

0

সোস্যাল মিডিয়ার এ যুগে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্যের আদান প্রদান যেমন সহজতর হয়েছে তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি/ভিডিও অপব্যবহার করে ব্লেকমেইলিংসহ নানা রকম হয়রানির পরিমাণ। কোন কোন ক্ষেত্রে আপনি নিজেও হয়তো জানছেন না আপনার তথ্য ও ছবি ব্যবহার করে অপরাধী/অপরাধীরা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিকার চাওয়া তো দূরের কথা অনেক সময় সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে তা প্রকাশও করাও মুশকিল হয়ে পড়ে। এ ধরণের সাইবার অপরাধের শিকার হতে পারেন যে কেউ। এমতাবস্থায় আপনার করণীয় কি?

কি ধরণের হয়রানির শিকার হতে পারেনঃ

ফেসবুক বা ইমেইল একাউন্ট হ্যাক হওয়া, ফেক আইডি খুলে আপত্তিকর ছবি/ভিডিও শেয়ার, অন্যকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তার বিকৃত তথ্য ও ছবি ব্যবহার, হুমকি দিয়ে টাকা আদায়, অনলাইনে প্রশ্নফাঁস ইত্যাদি।

কোথায় অভিযোগ করবেনঃ

০১। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ করতে পারেন আপনার নিকটস্থ থানায়। অথবা,

০২। ই-মেইলে অভিযোগ জানাতে পারেন cyberhelp@dmp.gov.bd এই ঠিকানায়। অথবা

০৩। সরাসরি কথা বলার প্রয়োজনবোধ করলে চলে যেতে পারেন ঢকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম ডিভিশনের Cyber Crime Unit অফিসে। কথা বলতে পারেন দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে এই নাম্বারে-০১৭৬৯৬৯১৫২২ । ঠিকানাঃ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ৩৬ শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী স্মরণী, রমনা, ঢাকা।

কিভাবে অভিযোগ করবেনঃ

ভিক্টিমাইজড হলে যত দ্রুত সম্ভব অভিযোগ জানানো উচিত। অভিযোগ করার ক্ষেত্রে আপনার অভিযোগের স্বপক্ষে কিছু প্রমাণাদি দরকার। যেমন এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আলামতের স্ক্রীনশট, লিংক, অডিও/ভিডিও ফাইল অথবা রিলেটেড ডকুমেন্টস। স্ক্রীনশট সংগ্রহের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন Address Bar এর URL টি দৃশ্যমান হয়। ই-মেইল এর মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে চাইলে এসব কন্টেন্ট এটাচ করে আপলোড করতে পারেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে সরাসরি সফট কপি দেয়া যেতে পারে। সর্বোপরি আপনি প্রয়োজনে Cyber Crime Unit এর অফিসারদের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন যা আপনার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সহায়ক হতে পারে।

 প্রতিরোধ আপনার হাতেইঃ

জেনে নিন এমন বিব্রতকর ঘটনা এড়িয়ে নিরাপদ থাকার কিছু কৌশলঃ

১। অচেনা, অপরিচিত কারো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট Accept করবেন না।

২। ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সবার জন্য উম্মুক্ত(Public) রাখবেন না।

৩। আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস চেক করুন। অন্য কারো পোস্টে আপনাকে Tag করার অপশন উম্মুক্ত রাখবেন না।

৪। প্ররোচিত হয়ে উস্কানিমূলক ছবি/ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

৫। সন্দেহজনক কোন লিংকে ক্লিক করবেন না।

৬। লগ-ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করুন এবং প্রতিবার ব্যবহার শেষে লগ-আউট করুন।

৭। সন্দেহজনক কোন ইমেইল বা মেসেজ এর উত্তর প্রদান হতে বিরত থাকুন।

৮। আপনার কোন পরিচিতজনের বিপদের কথা জানিয়ে ইমেইল অথবা মেসেজ আসলে আগে যাচাই করুন এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

৯। বিপুল পরিমাণ অর্থ লটারীতে জিতেছেন-এমন তথ্যসহকারে পাঠানো ইমেইল বা মেসেজ এর উত্তর প্রদান হতে বিরত থাকুন। এসকল তথ্যসম্বলিত মেইল অনুসন্ধানে ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে।

একজন সুনাগরিক হিসেবে আপনার সচেতনতা ও সহযোগিতা আইনী ব্যবস্থার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইন্টারনেটের ব্যবহার যত বৃদ্ধি পাচ্ছে সাইবার আক্রমণের শিকারও হচ্ছে মানুষ তত বেশি। অপরাধীরা বিভিন্ন ধরণের ফাঁদ তৈরি করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে নানাভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করছে। ব্ল্যাকমেইল করে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার বা প্রয়োজনীয় জিনিস।

আইডি হ্যাক থেকে শুরু করে পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে বা অশ্লীল বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে করছে হেয়। কিন্তু সামান্য একটু সচেতন হলেই অনেকাংশে হ্যাকিং বা সাইবার আক্রমন প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমরা যে সব সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে থাকি সেখানেই রয়েছে আমাদের সুরক্ষা। একটু সচেতনতাই পারে ভয়াবহ অবস্থার হাত থেকে বাঁচাতে।   

সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়ার আগেই আমাদের জন্য রয়েছে কিছু করণীয়। সে বিষয়গুলো যদি মাথায় থাকে তাহলে অনেকাংশে আমরা নিরাপদ থাকতে পারি।
সাইবার আক্রমণ থেকে বাঁচার উপায় তুলে ধরা হলো-  

১. সাইবার আক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে প্রথমত প্রয়োজন সাইবার সচেতনতা।  

২. আপনি অন্ধকারে হাঁটতে পারবেন না। সাইবার একটি অন্ধকার জগত। এই জগতে এমন অনেক কিছু আছে যা আপনি জানেননা। এখানে এমন অনেক বিষয় আছে যা সম্পর্কে আপনার ধারণাও নেই। তাই প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়কে যাচাই বাছাই করে নিতে হবে।

৩. কেউ আপনার কাছে একটা লিঙ্ক পাঠিয়েছে। এখন আপনাকে দেখতে হবে সেটায় আপনি ক্লিক করবেন কি না। লিঙ্কটা ক্লিক করার পর দেখা যাচ্ছে তারা আপনার পাসওয়ার্ড চাচ্ছে। এখন আপনি কি করবেন? পাসওয়ার্ড কি দিয়ে দেবেন? এ বিষয়ে ভাবতে হবে, জানতে হবে। কেউ আপনাকে একটা লিঙ্ক পাঠালো আপনি সেটা ডাউনলোড করলেন, এরপর তারা একটা নাম্বার চাইলো; ই-মেইল চাইলো, এসব দেওয়া যাবে না। তারা একটা অ্যাপ বা সফটওয়্যার পাঠিয়েছে, কন্ট্রাক নাম্বার চাচ্ছে বুঝতে হবে তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। আপনার ছবি চাচ্ছে, সহজেই বুঝে নিতে হবে এখানে কোনো সমস্যা রয়েছে। এসব তথ্য দেওয়া যাবে না।

৪. কোনো ই-মেইল আসলে আগে দেখতে হবে মেইলটা পরিচিত কি না। আনট্রাস্ট কোনো কিছুতে ক্লিক দেওয়া যাবে না। এর মাধ্যমে নিজের সব তথ্য অন্যের কাছে চলে যাবে। সুতরাং এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

৫. কেউ কোনো তথ্য চাইলে আগে নিশ্চিত হতে হবে আমার তথ্য আমি কাকে দেব আর কাকে দেব না। আমার প্রয়োজন কতটুকু। কতটুকু আমি তাকে বিশ্বাস করবো। এসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

৬. ফেসবুকে অনেকেই এখন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এজন্য আপনাকেই ঠিক করতে হবে আপনি ফেসবুক আইডি কতটুকু অপেন রাখবেন আর কতটুকু বন্ধ রাখবেন। সব ধরণের পদ্ধতি দেওয়া আছে। এখন নিজেকেই সেটা ঠিক করতে হবে কী করবেন। ফেসবুকে অনেকগুলো অপশন আছে যেগুলো বন্ধ রাখলে আপনি নিরাপদ থাকবেন। কিন্তু এ বিষয়গুলো অনেকে জানেননা। তাই ফেসবুক হ্যাক হওয়া বা হয়রানি হওয়ার আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নিজে না জানলে কাউকে দিয়ে এ ব্যবস্থাগুলো করে নিলে আপনি নিরাপদ থাকবেন।#

ফেসবুকে ৩৮ লাখ বাংলাদেশীর তথ্য ফাঁস

0

হ্যাকাররা বিশ্বের প্রায় ৫৩ কোটি ৩০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করেছে , যাদের মধ্যে বাংলাদেশেরই রয়েছে ৩৮ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৯ ।
একটি স্বল্পপরিচিত সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত ফোরামে এই তথ্য ফাঁস করা হয়েছে যা সবার জন্যে উন্মুক্ত। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডেটাগুলো পর্যালোচনা করে জানিয়েছেন যে চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে ফেসবুক আইডি নম্বর, প্রোফাইলে দেওয়া নাম, ইমেইল অ্যাড্রেস, বসবাসের ঠিকানা, ব্যবহারকারী পুরুষ না নারী, পেশাসহ আরও বেশ কিছু তথ্য।
একজন ব্যবহারকারী ফেসবুক প্রোফাইল তৈরি করার সময় যেসব তথ্য দিয়ে থাকেন মূলত সেগুলোই হ্যাকড হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে কারণ সেখানে ফোন নম্বরও পাওয়া যাচ্ছে, যা ব্যবহারকারীরা সব সময় সবার জন্য উন্মুক্ত রাখেন না।
ফেসবুক একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে তথ্য চুরির ঘটনাটি নিশ্চিত করে মন্তব্য করেছে যে ২০১৯ সালে এটি তাদের নজরে এসেছিল। তারা ফেসবুকের ‘কন্টাক্টস ইম্পোর্টার’ ফিচারের কিছু কারিগরি দুর্বলতা ঠিক করে সমস্যাটির সমাধান করেছে।
কন্টাক্টস ইম্পোর্টারের মাধ্যমে হ্যাকাররা চাইলে ব্যবহারকারীদের প্রোফাইলের সঙ্গে এলোমেলোভাবে ফোন নম্বর জুড়ে দিতে পারে।
যাদের তথ্য চুরি গিয়েছে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত, কারণ এই ডেটা এখন পাবলিক ডোমেইনে পাওয়া যাচ্ছে এবং হ্যাকাররাও ধরা পড়েনি

আট বিভাগে সাইবার ট্রাইব্যুনাল,লক্ষ্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার দ্রুত নিস্পত্তি

0

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলাসহ সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত মামলার বিচারের জন্য সরকার দেশের আটটি বিভাগে একটি করে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে।
এর আগে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলার জন্য শুধু ঢাকায় একটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল ছিল।
গুজব ছড়ানো, বিভ্রান্তি সৃষ্টি, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করাসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়।
আট বিভাগে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়টি গত রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত মামলার জট কমাতে মন্ত্রণালয় সাইবার ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়েছে।’
আটটি ট্রাইব্যুনাল হচ্ছে- ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনাল, চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল, রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল, খুলনা সাইবার ট্রাইব্যুনাল, বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনাল, সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনাল, রংপুর সাইবার ট্রাইব্যুনাল ও ময়মনসিংহ সাইবার ট্রাইব্যুনাল।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ি, মাদারীপুর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলা থাকবে।
এতে আরও বলা হয়, প্রজ্ঞাপন জারির আগে উপরের জেলাগুলো ছাড়া অন্য জেলায় করা মামলা প্রজ্ঞাপনের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় অধিক্ষেত্রসম্পন্ন সাইবার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হবে।
চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালের অন্তর্ভুক্ত থাকবে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা।
রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনালের আওতায় রাখা হয়েছে রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলাকে।
খুলনার সাইবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে থাকবে খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলা।
বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা ও ভোলা জেলা থাকবে বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে।
সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে আছে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলা।
রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলাকে রংপুরের সাইবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে রাখা রয়েছে।
ময়মনসিংহের সাইবার ট্রাইব্যুনালের অধীনে আছে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোণা জেলা।
‘সাইবার ট্রাইব্যুনাল গুজব ছড়ানো, বিভ্রান্তি সৃষ্টি, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করাসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার বিচার করা হবে।’
‘এই অপরাধগুলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (আইসিটি) ২০০৬ এর বিতর্কিত ৫৭ ধারায় ছিল। এই ধারাটি আইসিটি আইন থেকে বাতিল করে ডিএসএতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

আমেরিকার এক বাড়ি থেকে ৬ বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার, ‘হত্যার পর আত্মহত্যার’ ধারণা

0

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক বাড়ি থেকে ৬ বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যাদের মধ্যে পাঁচজনই একই পরিবারের সদস্য।
‘বিষণ্নতা থেকে’ পরিবারটির দুই তরুণ সহোদর তাদের মা-বাবা, নানী ও একমাত্র বোনকে হত্যার পর নিজেরাও আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশের ধারণা।
স্থানীয় সময় সোমবার ভোর রাতে টেক্সাস স্টেটের ডালাসসংলগ্ন এলেন সিটির বাসা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয় বলে এলেন সিটি পুলিশের সার্জেন্ট জন ফেলী জানান।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সম্ভবত শনিবার নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। ১৯ বছর বয়সী একজনের ফেইসবুক স্ট্যাটাস থেকে হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে ঘটনার সঙ্গে রয়েছে হতাশার ধারাবিবরণী।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের সচিব নাহিদা আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঘটনার সময় ওই বাড়িতে তৌহিদুল ইসলাম (৫৬), তার স্ত্রী আইরিন ইসলাম নীলা (৫৫), দুই ছেলে তানভির তৌহিদ (২১) ও ফারহান তৌহিদ (১৯), মেয়ে পারভিন তৌহিদ (১৯) ও তার তৌহিদের শাশুড়ি আলতাফুন্নেসা (৭৭) ছিলেন। তারা সবাই মারা গেছেন।
“পারভিন পড়তেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। সপ্তাহখানেক আগে তাকে নিউইয়র্ক থেকে বাসায় নেওয়া হয়। ফারহান গত বছর ভর্তি হয়েছিলেন অস্টিনের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে। তানভিরও পড়তেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের অস্টিনে। তার এবারই গ্র্যাজুয়েশনের কথা। ফারহান আর পারভিন ছিলেন যমজ। আর আলতাফুন্নেসার গত সপ্তাহে বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। করোনাভাইরাস জটিলতায় তা স্থগিত হয়ে যায়।”
একসময়কার পুরান ঢাকার বাসিন্দা তৌহিদুল ৮ বছর আগে টেক্সাসের এই সিটিতে বসতি গড়ার আগে নিউইয়র্কে বাস করতেন। তিনি সিটি ব্যাংকে চাকরি করতেন।
ফেইসবুকে ঘটনার বিষয়ে লম্বা এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফারহান। সেখানে তিনি ২০১৬ সালে নবম গ্রেডে পড়াবস্থায় ‘বিষন্নতায় আক্রান্ত’ হওয়ার কথা চিকিৎসকের বরাতে জানান। এজন্য তার শিক্ষাজীবন বির্পযস্ত হয়। অবস্থা গুরুতর হলে বন্ধুরা তাকে ত্যাগ করে। এক পর্যায়ে জীবন দুর্বিষহ হলে তিনি আত্মহত্যার কথা ভাবেন। কিন্তু তিনি মারা গেলে পরিবারের অন্যরা কষ্ট পাবেন। তাই তাদেরও হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর সঙ্গে ভাইকে যুক্ত করে তারা বন্দুক কেনেন।
“আমি যদি আত্মহত্যা করি তাহলে গোটা পরিবার সারাটি জীবন কষ্ট পাবে। সেটি চাই না। সেজন্যে পরিবারের সকলকে নিয়ে মারা যাবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বড় ভাইকে শামিল করলাম। দুই ভাই গেলাম বন্দুক ক্রয় করতে। আমি হত্যা করব ছোটবোন আর নানীকে। আমার ভাই হত্যা করবে মা-বাবাকে। এরপর উভয়ে আত্মহত্যা করব। কেউ থাকবে না কষ্ট পাবার।”
অস্ত্র কেনার বিষয়ে লেখা হয়েছে, “বন্দুক ক্রয়ের ব্যাপারটি খুবই মামুলি। বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের নামে তামাশা চলছে সর্বত্র। বড়ভাই গেলেন দোকানে। বললেন যে, বাড়ির নিরাপত্তার জন্যে বন্দুক দরকার। দোকানি কয়েকটি ফরম ধরিয়ে দিলে সেখানে স্বাক্ষর করলেন ভাই। এরপর হাতে পেলাম কাঙ্খিত বস্তুটি, যা দিয়ে নিজের কষ্ট এবং পরিবারের কষ্ট সহজে লাঘব করা যাবে।”
ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান ও ক্যানসাসের ডেমক্র্যাটিক ককাসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন রেহান রেজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এমন নিষ্ঠুর পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া দরকার। সময়মত যথাযথ চিকিৎসার পদক্ষেপ নিলে হয়তো এহেন দুঃখজনক পরিস্থিতির অবতারণা হতো না। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

বায়তুল মোকাররমে তাণ্ডব: মামুনুলসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, অজ্ঞাত আসামী ৩ হাজার

0

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দিনে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় সংঘাত-নাশকতার ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক যুবলীগ নেতা।
সোমবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করা হয় বলে মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার সৈয়দ নূরুল ইসলাম জানান।
তিনি বলেন, “খন্দকার আরিফুজ্জামান নামে এক ব্যবসায়ী বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন। মামলায় মারধর, ভাঙচুর, গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।”
পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২ থেকে ৩ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী আরিফুজ্জামান বলেন, তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক।
“হেফাজতের নাশকতার বিরুদ্ধে সাধারণ মুসল্লিদের পক্ষে আমি এই মামলা করেছি।”

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত ২৬ মার্চ ঢাকায় পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার এই সফরের বিরোধিতা করে আসছিল হেফজতে ইসলামসহ কয়েকটি সংগঠন ও রাজনৈতিক দল।
সেদিন জুমার নামাজের পর মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসা একদল লোক ভারত ও মোদীবিরোধী নানা স্লোগান দিতে শুরু করলে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়মী লীগ কর্মীদের সঙ্গে তাদের মারামারি বেঁধে যায়।
সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও জল কামান ব্যবহার করে। এ সময় মসজিদের উত্তর গেইটের সামনে রাস্তার পাশে দুটি মোটর সাইকেলে আগুন দেয় মোদীবিরোধীরা। পুলিশের দিকে বৃষ্টির মত ঢিল ছোড়ে তারা।
সংঘর্ষের মধ্যে সাংবাদিক, পুলিশ, সামাধরণ নাগরিকসহ অন্তত ৬০ জন আহত হন বলে পুলিশের ভাষ্য।
ওই ঘটনায় ৫০০ থেকে ৬০০ জন ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ আসামির বিরুদ্ধে পুলিশও একটি মামলা করে সেদিন রাতে।
আরিফুজ্জামানের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, “মামুনুল হকের প্রত্যক্ষ নির্দেশে দেশি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, দা, ছোরা, কুড়াল, কিরিচ, হাতুড়ি, তলোয়ার, বাঁশ, শাবল, রিভলবার নিয়ে এই হামলা চালানো হয়।”
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, “মামুনুল হকের প্রত্যক্ষ হুকুমে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বাদীকে রড দিয়ে আঘাত করে। এতে তার ডান পা ভেঙে যায়। পরে অপর দুই যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা লোকমান হাকিম এবং নাসির উদ্দিন মনির লাঠি দিয়ে বাদীকে মারধর করে।
“এছাড়া নায়েবে আমির মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া কিরিচ দিয়ে টুটুল নামে একজনকে হত্যর উদ্দেশ্যে কোপায়।”
ঢাকার মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া হেফাজতের নায়েবে আমির মাজেদুর রহমানের বিরুদ্ধেও মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে মামলার এজাহারে।
মামলার অপর অসামিরা হলেন, ঢাকার হেফাজত নেতা মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জসিম উদ্দিন, টঙ্গীর মাওলানা মাসুদুল করিম, অর্থ সম্পাদক মুফতি মনির হোসাইন কাসেমি, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, মোহাম্মদপুরের মাওলানা ফয়সাল আহমেদ, সহকারী দাওয়াত সম্পাদক মাওলানা মুশতাকুন্নবী,ছাত্র ও যুব সম্পাদক মাওলানা হাফেজ মো. জোবায়ের, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা হাফেজ মো. তৈয়ব।
এজাহারে বলা হয়, “মামুনুল হক বায়তুল মোকাররম মসজিদের ভেতরে বসে বৈঠক করে সারা দেশে হামলার পরিকল্পনা করেন। যার ফলশ্রুতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের সাথে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপির কর্মীরা ব্যাপক নাশকতা চালায়। তারা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালও ভেঙে ফেলে।”
আসামিদের বিরুদ্ধে হাতবোমা নিক্ষেপ, গুলি করা, মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া, দোকানের মালামাল লুট করার অভিযোগও আনা হয়েছে মামলায়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

লকডাউনে সীমিত পরিসরে আদালত চলবে, হাইকোর্টে ৪ টি বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচার কাজ হবে

0

করোনাভাইরাস মহামারী সামাল দিতে সরকার ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে সীমিত পরিসরে দেশের আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত এসেছে।
রোববার রাতে এ সংক্রান্ত আলাদা তিনটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
এসব বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে শুধু আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত, হাই কোর্টের চারটি বেঞ্চ চালু থাকবে।
আর মুখ্য বিচারকি হাকিম বা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত সীমিত পরিসরে চালু থাকবে, তবে সব অধস্তন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. বদরুল আলম ভূঞার স্বাক্ষরে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকাজ সীমিত পরিসরে পরিচালিত হবে। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধুমাত্র ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে চেম্বার আদালত জরুরি বিষয়ে শুনানি করবে।
হাই কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছে- রিট, দেওয়ানী ও ফৌজদারী সংক্রান্ত একটি করে ডিভিশন বেঞ্চ এবং কোম্পানি অ্যাডমিরালটি সংক্রান্ত আরও একটি বেঞ্চ অর্থাৎ মোট চারটি বেঞ্চে ভার্চুয়ালি শুনানি চলবে। সংশ্লিষ্ট আদালত মামলার শুনানির তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবে। এ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।
আর হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে মুখ্য বিচারিক হাকিম বা মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতের কার্যক্রম সীমিত করার পাশাপাশি সব ধরনের অধস্তন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় প্রত্যেক মুখ্য বিচারিক হাকিম বা মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যেসব মামলার আসামিদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেসব মামলার জামিন এবং সকল প্রকার অন্তবর্তী আদেশের কার্যকারিতা আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
অধস্তন আদালতের বিচারক ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থল ত্যাগ না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এ বিজ্ঞিপ্তিতে।

হেফাজতের তাণ্ডবের চিত্র সংসদে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী, বললেন তারা আগুন নিয়ে খেলছে

0

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপনের মুহূর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে হেফাজতে ইসলামের চালানো তাণ্ডবের চিত্র জাতীয় সংসদে তুলে ধরে তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার দুপুরে সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় ‘হেফাজতের একটি অংশের তাণ্ডবের পেছনে বিএনপি-জামায়াত জড়িত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে, সেই সময় যে ঘটনাগুলো এখানে ঘটানো হলো… এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় যে যেখানে স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করছি সেই সময়..হ্যাঁ আমাদের অনেক বিদেশি অতিথি আসছেন; অনেকে বার্তা দিচ্ছেন। সেই ব্রিটেনের রানি থেকে শুরু করে, সৌদি আরবের বাদশা থেকে শুরু করে সকলের বার্তা আমরা পাচ্ছি- এত বড় একটা সম্মান বাংলাদেশ পাচ্ছে। সেখানে কারা খুশি হতে পারলেন না?”
কওমি মাদ্রাসা ধারা প্রভাবাধীন হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিরোধিতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আজকে হেফাজতে ইসলাম কর্মসূচি দেয়… তারা কি দেওবন্দে যায় না শিক্ষাগ্রহণ করতে? তাই এই সমস্ত ঘটনা যদি ঘটায়, তাহলে উচ্চশিক্ষায় দেওবন্দ যাবে কীভাবে? সেটা কি তারা একবারও চিন্তা করেছে।”
শিক্ষা সনদ, পাঠক্রম নির্ধারণ ও দেশে-বিদেশে চাকরি ব্যবস্থাসহ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে  শেখ হাসিনা বলেন, “তারপরও তারা এই তাণ্ডবটা কেন ঘটাল? তাদেরকে.. প্রথমেই আমরা দেখলাম কি বিএনপি তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট কীভাবে সমর্থন দিচ্ছে, সেটাই আমার প্রশ্ন।
“হেফাজত তো একা না, হেফাজতের সঙ্গে জামাত বিএনপিও জড়িত এবং তাদের প্রত্যেকটা কর্মকাণ্ডেই তো দেখা যায়। হেফাজতের সকলেই যে এর মধ্যে জড়িত তাও কিন্তু নয়- এটা হলো বাস্তবতা।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬-৩১ মার্চ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের সহিংসতা এবং ২৭-২৮ মার্চ হেফাজতের পক্ষে বিএনপি-জামায়াতের বিবৃতি ‘দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিক অংশ’।
সেসময় দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ অফিস, দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, সরকারি অফিস-আদালত এবং গণপরিবহনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চিত্রও সংসদে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “এখন আমার প্রশ্ন? ইসলাম তো শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্মের নামে এই যে জ্বালাও-পোড়াও এটা কীভাবে আসলো। তবে এটা নতুন কিছু না, ২০১৩ সালে আমরা দেখেছি এই বিএনপি-জামায়াত কীভাবে চলন্ত গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষকে পুড়িয়েছে, কীভাবে মানুষের উপর আক্রমণ করেছে, সেগুলো আমরা দেখেছি।”
হেফাজতে ইসলাম আগুন নিয়ে খেলছে মন্তব্য করে তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এক ঘরে আগুন লাগলে তো সেই আগুন তো অন্য ঘরেও চলে যেতে পারে। সেটা কি তাদের হিসাবে নেই?
“আজকে রেলস্টেশন থেকে শুরু করে ভূমি অফিস থেকে শুরু করে ডিসি অফিস থেকে শুরু করে সব জায়গায় যে আগুন দিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের মাদ্রাসা, তাদের বাড়িঘর- সেগুলোতেও যদি আগুন লাগে তখন তারা কি করবে? জনগণ কি বসে বসে এগুলো শুধু সহ্য করবে? তারা তো সহ্য করবে না।”
শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক রিসোর্টের কক্ষে নারীসহ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে ঘেরাও করে জনতা। পুলিশ তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়’ তার অনুসারীরা।
সংসদে ওই হেফাজত নেতার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “এরা একদিকে ইসলামের নাম, ধর্মের নাম, পবিত্রতার নাম ..এতোকিছু বলে যত অপবিত্র কাজ করে আজকে ধরা পড়ে সোনারগাঁওয়ে একটা রিসোর্টে।
“পার্লারে কাজ করা এক মহিলা। তাকে আবার এখন এদিকে তার বউ হিসেবে পরিচয় দেয়, আবার নিজের বউয়ের কাছে বলে যে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি এটা বলে ফেলেছি।”
তিনি বলেন, “যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করেন এই রকম মিথ্য কথা, অসত্য কথা তারা বলতে পারেন কিনা। তারা তো বলতে পারে না। তাহলে এরা কি ধর্মপালন করে? মানুষকে কি ধর্ম শেখাবে?
“তাই হেফাজতের যারা সদস্য, তাদেরকেও আমি অনুরোধ করি, তারাও একটু বুঝুক কোন নেতৃত্বে তারা। আগুন জ্বালাও পোড়াও করে তিনি বিনোদন করতে গেলেন একটা রিসোর্টে একজন সুন্দরী মহিলা নিয়ে- এটাই তো বাস্তবতা।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরা ইসলাম ধর্মের নামে কলংক। ইসলামকে তারা ছোট করে দিচ্ছে। কিছু লোকের জন্য আজকে এই ধর্মটা জঙ্গির নাম, সন্ত্রাসের নাম। এখন তো যেই চরিত্র দেখালো তাতে দুশ্চরিত্রের নামও জুড়ে দিচ্ছে।
“এরা ধর্মের নামে ব্যবসা শুরু করেছে এবং এত অর্থ কোথা থেকে আসে এই বিনোদনের, সেটাও একটা প্রশ্ন। এটা দেশবাসী বিচার করবে। আর আইন তার আপন গতিতে চলবে। সেটুকু আমি বলতে চাই।”
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “এধরনের অপকর্মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে- এইটুকু আমি শুধু বলতে পারি। এর বেশি বলতে চাই না।
“আর আমি বলব, যারা মুখে ধর্মের কথা বলে, ইসলামের নাম বলে চলবেন, আর অধর্মীয় কাজ করবেন- এটা কখনো গ্রহণযোগ্য না।”

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে এনএসআই’র সদস্যদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এনএসআই-এর কর্মীদের দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই এনএসআই’র প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আপনাদের কর্তব্য পালন করবেন। কর্তব্য পরায়নতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখেই আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) নবনির্মিত বহুতলবিশিষ্ট প্রধান কার্যালয় ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি এই ভবন উদ্বোধনে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার নেতত্বে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এদেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু ’৭৫ এর পর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে বাংলাদেশকে বিচ্যুত করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার আমরা জাতির পিতার সেই আদর্শকে ফিরিয়ে এনেছি। বাংলাদেশ আজকে সারা বিশে^ একটা মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই মর্যাদাটা ধরে রাখা একান্তভাবে অপরিহার্য।
তিনি এনএসআই সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটা বিষয়ে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি এবং এসব ব্যাপারে আপনাদের সদা সতর্ক থাকতে হবে, যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জান-মাল রক্ষা করা এবং জনগণের জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় যা যা করণীয় সেটা আপনাদের করতে হবে। এই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক বা দুর্নীতির হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। সেই বিষয়ে অবশ্যই আপনাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে- সেটাই আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করবো।
করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশের উন্নয়নে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করলেও এই অবস্থা থেকেও বাংলাদেশ উত্তোরণ ঘটাতে পারবে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিকা দান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মানুষ যাতে নিজেদের আরো সুরক্ষিত করে সেজন্য তাদের মধ্যে আরো সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তাই, সকলকে একযোগে কাজ করার আমি আহ্বান জানাচ্ছি।
গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল টিএম জোবায়ের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে এনএসআই এর গুরুত্ব বিবেচনায় এনে অনেক নতুন পদ সৃষ্টি এবং সংস্থার জনবল দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছি। একইভাবে আগের মঞ্জুরীকৃত পদকে দ্বিগুণ করা হয়েছে। এনএসআই সদস্যদের কর্মস্পৃহা ও মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ সালের পরে বিভিন্ন পদে মোট ১৬০১ জনকে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে, যা ইতিপূর্বে কখনই সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
তাঁর সরকার এ সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বিভিন্ন পদে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টির জন্য সমন্বিত নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পদের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে ও বেতন স্কেল সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তাঁর সরকার এনএসআই এর সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা কার্যকর করেছে। যা আগে নির্দিষ্ট কিছু পদের কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত ছিল।
তিনি বলেন, এই সংস্থার জন্য পর্যাপ্ত যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে ঝুঁঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে আপনাদের জন্য ৩০ শতাংশ বিশেষ ভাতা মঞ্জুর করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনবল ও কর্মপরিধি বৃদ্ধি পেলেও এনএসআই প্রধান কার্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত স্থান সংকুলান ছিল না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজ এবং স্পর্শকাতর গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে তাঁর সরকার এর প্রধান কার্যালয় ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তদানুযায়ী তিনি ১৭ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে প্রধান কার্যালয় ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় এনএসআই এর নিজস্ব ভবন ছিল না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার প্রধান কার্যালয় ছাড়াও সকল বিভাগ ও জেলা এনএসআই অফিসের জন্য জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নিজস্ব জমিতে ৩টি বিভাগীয় কার্যালয় এবং ২০টি জেলা কার্যালয়ের ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে ২১টি জেলা কার্যালয় ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট জেলাগুলোতে দ্রুত কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এতে করে কর্মদক্ষতা বাড়বে, জনগণের নিরাপত্তা বাড়বে এবং গোয়েন্দা কাজের মধ্যদিয়ে যেকোন তথ্য জোগাড় করাও সম্ভব হবে।
গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে প্রশিক্ষণের আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়টি বিবেচনায় এনে আমরা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের জন্য ঢাকার ধামরাইয়ে ৯ দশমিক ৫৬ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছি।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নতুন জনবল, যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অনুমোদন ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এর মাধ্যমে এনএসআই সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদেরকেও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যগণও এই প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন এবং তাদের সাথে প্রশিক্ষণলব্ধ তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রী এনএসআই সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও কর্মকা-ের কারণে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ফলশ্রুতিতে দেশে অব্যাহত উন্নয়ন এর পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী করোনার প্রথম দফা আগ্রাসনের মত দ্বিতীয় দফাতেও এনএসআই সদস্যদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘নতুন করে দ্বিতীয় দফায় করোনা দেখা দিয়েছে। করোনা মহামারি ব্যবস্থাপনায়ও আপনারা অক্লান্তভাবে কাজ করেছেন। এখন যে অবস্থাটা হয়েছে সেখানেও দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে মন্দাভাব পরিলক্ষিত হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। অতিমারীর এই সংকট কালেও আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে, দারিদ্র্যের হার কমছে এবং বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, করোনা সংকট মোকাবিলায় সময় উপযোগী যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণেই অর্থনৈতিক উন্নতির এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সুপারিশ লাভ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা এই অগ্রযাত্রা বজায় রাখায় গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, তাঁর সরকার ইতোমধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেকগুলো নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছে। সেই নির্দেশরা যাতে যথাযথভাবে সবাই পালন করে সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। পাশাপাশি দেশের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডও যেন সচল থাকে সে বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন। তবে, মানুষের জীবনটা আগে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবন যদি না বাঁচে তাহলে অর্থনীতিই বা কি আর রাজনীতিই বা কি। মানুষের জীবন আগে বাঁচাতে হবে। কাজেই স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিয়মনীতি মেনে চলে নিজেকে সুরক্ষিত করা এবং অন্যকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং সকলে যেন এটা সারাদেশে মানে সেটা নিশ্চিত করায় আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক যুগ আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। কিন্তু যারা স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি এখনো তারা দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি বলতে চাই, রাজনীতি আর সন্ত্রাসবাদ কখনো এক হতে পারে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, জনগণের জানমাল রক্ষায় যা করা প্রয়োজন সরকার তাই করবেন। আমি এবং আমার সরকার সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা চাই, ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। জাতির সেই লক্ষ্য পূরণে আপনাদের আরও বেশি কর্মতৎপর হতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ পরিণত করবো। বাসস।

রিসোর্টের নারী মামুনুলের স্ত্রী নন, আরও ঘটনা জানানো হবে, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক এক নারীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের এক রিসোর্টে গিয়ে তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, ওই তথ্য সঠিক নয়।
রোববার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, “সোনারগাঁও উপজেলার একটি বেসরকারি হোটেলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হক একজন মহিলাকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। টেলিভিশনে ওই মহিলা কে তা নিজের মুখে স্বীকার করেছেন। তিনি তার স্ত্রী নন। এ বিষয়ে আরো ঘটনা জেনে সবাইকে জানাব।”
হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব নিয়ে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিতে গিয়ে মামুনুল হকের ওই ঘটনা মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “ওই ঘটনার পর দেখলাম ওই রিসোর্টের ওপর আক্রমণ। কেন এই আক্রমণ আমার জানা নেই। সেখানে বিদেশি কয়েকজন ছিল। পুলিশ ও বিজিবি গিয়ে তাদের রক্ষা করেছেন।”
হেফাজতের তাণ্ডবের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, “হঠাৎ করে ওই ধরনের তাণ্ডব কেন, নিশ্চয় এর কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। যেই তাণ্ডব করে থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি।”
শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টের এক কক্ষে এক নারীসহ হেফাজত নেতা মামুনুলকে ঘেরাও করে স্থানীয়রা।
পরে ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে হেফাজতের কর্মীরা হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।
রাত ৮টার দিকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে, গাড়ি ভাঙচুর করে সড়ক অবরোধ করে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সময় হেফাজতের তাণ্ডব নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ভাঙচুর করেছে। আমাদের পুলিশ বিজিবি চরম ধৈর্য্য সহকারে সেগুলো মোকাবেলা করেছেন। আমরা চিহ্নিত করেছি। যারা এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল, আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করেছি। আমরা সবগুলোই আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সবরকমের ব্যবস্থা নিয়েছি।  
“আমরা ২২ জনকে আটক করেছি। এর মধ্যে বিভিন্ন ছবি আমরা দেখেছি। একজন ঘোড়ায় চড়ে তলোয়ার নিয়ে হাঁটতেছেন। তাকে ধরা হয়েছে। আমরা একজনকে দেখেছি পিস্তল উঁচু করে ফায়ার করছেন। আমরা সবগুলোকে শনাক্ত করেছি এবং ধরছি। আমরা কাউকে বাদ দেব না। আইন অনুযায়ী সবার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “হঠাৎ করেই এরকম… নিশ্চয় উদ্দেশ্য আছে। যারাই করে থাকেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সব প্রচেষ্টা নিয়েছি। ঘটনাগুলো সবগুলোই উদ্দেশ্য প্রণোদিত। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এক হয়ে করে যাচ্ছে। তদন্ত করে উদঘাটন করে মিডিয়ায় জানিয়ে দেব।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।