ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   ভোর ৫:৪৮ 

Home Blog Page 129

হজ ব্যবস্থাপনায় নতুন আইন করতে সংসদে বিল, থাকছে নানা ধরনের শাস্তি,জরিমানা

0

কোনো হজ ও ওমরা এজেন্সি সৌদি আরব গিয়ে অপরাধ করলেও বাংলাদেশে সেই অপরাধের বিচার করার বিধান রেখে নতুন আইনের খসড়া সংসদে তোলা হয়েছে।
রোববার ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিল-২০২১ সংসদে তোলেন। পরে বিলটি ৪০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিলে বলা হয়েছে, হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার এ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি গঠন করবে। হজ ও ওমরাহ এজেন্সিকে শর্ত মেনে নিবন্ধন নিতে হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, দেশে হজের চুক্তি হওয়ার পরে কেউ সৌদি গিয়ে ঠকালে ওই অপরাধ বাংলাদেশে হয়েছে বলে গণ্য করে আইন অনুযায়ী বিচার করা হবে।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, নিবন্ধন পেতে হলে হজ এজেন্সিকে ৩ বছর এবং ওমরাহ এজেন্সিকে দুই বছরের ট্র্যাভেল এজেন্সি পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
হজ এজেন্সিগুলো অনিয়ম করলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার সুযোগ রাখা হয়েছে এ বিলে। আর ওমরা এজেন্সি অনিয়ম করলে তারা নিবন্ধন হারানোর সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়বে। এছাড়া জামানত বাজেয়াপ্ত, নিবন্ধন স্থগিত, সতর্কীকরণ ও তিরষ্কারের শাস্তি রয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো এজেন্সি পরপর দুইবার তিরষ্কৃত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার নিবন্ধন দুই বছরের জন্য স্থগিত হয়ে যাবে। কোনো এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল হলে ওই এজেন্সির অংশীদার বা স্বত্বাধিকারীরা পরে কখনও হজ বা ওমরা এজেন্সির নিবন্ধন পাবেন না। অন্য কোনো এজেন্সির কাজেও সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। হজ এজেন্সিগুলো স্বত্ত্ব পরিবর্তন করতে চাইলে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে হজ ও ওমরা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কোনো সংবিধিবদ্ধ আইন নেই। নির্বাহী আদেশ, নীতিমালা, পরিপত্র ইত্যাদি দ্বারা এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সংবিধিবদ্ধ আইন ও বিধি-বিধানের প্রয়োজন দীর্ঘদিন যাবৎ অনুভূত হচ্ছে।
“হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়, বিভাগ, ও অন্যান্য সরকারি সংস্খাসমূহের দায়-দায়িত্ব আইনি বিধি-বিধান দ্বার সুস্পষ্ট করা হলে তা হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ ও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সংসদে গর্জে ওঠলেন শেখ সেলিম, আর ছাড় নয়, ট্রাইব্যুনাল করে হেফাজতের বিচার দাবি

0

বিএনপি-জামাত-হেফাজত ইসলামকে ‘ইসলাম ধর্ম বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল করে এদের বিচার করতে হবে।
শনিবার সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উদযাপনের সময় হেফাজতে ইসলামের ‘তাণ্ডব’ নিয়ে কথা বলেন শেখ সেলিম।
তিনি বলেন, “নামে হেফাজতে ইসলাম। এরা ইসলাম বিরোধী, জঙ্গি, স্বাধীনতাবিরোধী। এরা রাষ্ট্রের শত্রু, দেশের শত্রু। এদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। দরকার হলে ট্রাইব্যুনাল করে অবিলম্বে তাদের বিচার করতে হবে।”
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে তাণ্ডবের পর হেফাজতের ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল, তার দ্রুত তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি তোলেন শেখ সেলিম।
তিনি হেফাজত ও বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আরও কঠোর হওয়ার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আর সুবর্ণজয়ন্তীর জন্য অনেক কিছু আমরা সহ্য করে গেছি। আর কোনো কিছু সহ্য করা হবে না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আরও কঠোর হতে হবে। আপনার পেছনে ১৪ কোটি মানুষ আছে। এই অপশক্তিকে ছাড় দেওয়া যাবে না।”
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে আসছিল হেফাজতে ইসলাম ও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। সেই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা দিবস থেকে তিন দিন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। সংঘাতে তিন দিনে অন্তত ১১ জন নিহত হন।
এই ‘ধর্মীয় উন্মাদনা ও উচ্ছৃঙ্খলতা’ বন্ধ না করলে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে বলে হুঁশিয়ার করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় আমির জুনাইদ বাবুনগরী হুমকি দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে তারা ‘কঠিন কর্মসূচি’ দেবেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম বলেন, “হেফাজতের নামে যারা জঙ্গি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, বিএনপি-জামাত যাদের সহযোগী হিসেবে.. যারা ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে। ইসলামকে হেফাজত কোনো সন্ত্রাসী জঙ্গিরা করতে পারে না। ইসলাম হেফাজত করবে আল্লাহ। হেফাজতের জঙ্গিরা যেসব মাদ্রাসা থেকে রাস্তায় বের হয়ে মানুষকে হত্যা করে, মানুষের বাড়িঘর ও স্থাপনায় আক্রমণ করে ও পুড়িয়ে দেয়। সেইসব মাদ্রাসা বন্ধ করে দিতে হবে। ইসলাম কখনও সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিতে পারে না।”
সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার ছবি সংসদে দেখিয়ে তিনি বলেন, “এই জঙ্গিরা তলোয়ার নিয়ে ঘোড়ার ওপর উঠে পেছনে শত শত জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা এবং স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য তাণ্ডব চালিয়েছে। ছবি দেখে মনে হচ্ছে প্রাচীনকালের মতো কোনো যুদ্ধে যাচ্ছে, বিজয় করার জন্য।
“তাদের মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশ তালেবান রাষ্ট্র নয়। এটা পাকিস্তান নয়। সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের বাংলার মাটিতে কোনো স্থান নেই। সরকারকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাধীন দেশে এভাবে চলতে পারে না।”
বিএনপি ২৪ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত স্বাধীনতা দিবসের সব কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে অভিযোগ করে সেলিম বলেন, “কারা এ ধরনের কর্মসূচি বন্ধ করে? যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে তারা স্বাধীনতার কর্মসূচি ২৬ মার্চ বন্ধ করতে পারে? পারে না। বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত এরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। বিএনপি ২৬ মার্চ স্মৃতি সৌধে যায়নি। কারণ তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।”
বিএনপির সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “বিএনপির নেতারা এখানে আছে। তাদের বাপ-দাদার হিসাব নেওয়া হোক। একাত্তরে তারা কোন দলে ছিল, শান্তিবাহিনীতে কারা ছিল। এর অনেক হিসাব আছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আছেন তাকে বলব এগুলো বের করে জনসম্মুকে প্রকাশ করুন।”
পরে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, “যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে এই প্রসঙ্গে জানতে চাই আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কি থাকবে? পঞ্চাশ বছর পূর্তি-আমাদের সুবর্ণজয়ন্তী। এই সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা লাশ উপহার দিলাম। আমরা কি শান্তিপূর্ণভাবে সারা বাংলাদেশের কোথাও সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে পেরেছি? ”
এসময় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা হারুনের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন।
শেখ সেলিমের বক্তব্যের জবাবে হারুন বলেন, “বিএনপি থেকে মোদীবিরোধী কোনো স্লোগান বা মোদীর আগমন করা যাবে না- এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। যেহেতু ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ঢাকায় সমস্ত কর্মসূচি বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন, সেই কারণে আমরা জাতীয় স্মৃতি সৌধে সীমিত আকারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। জিয়াউর রহমানের মাজারেও খুবই সীমিত আকারে শ্রদ্ধা জানিয়েছি, কারণ করোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে আমাদের জায়গা থেকে কর্মসূচিগুলো সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।”
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ যারা করলে তাদের সাথে আলোচনা করতে পারতেন। যখন ভাস্কর্য-মূর্তি নিয়ে দেশে একটি সংঘাত তৈরি হল তখন হেফাজতের সাথে তো সরকার আলোচনা করেছে। এর আগেও তো সরকার হেফাজতের সাথে আলোচনা করেছেন। আলোচনা করতেন যে, বিদেশি মেহমানরা আসছে তোমরা আন্দোলন বিক্ষোভ বন্ধ রাখো,  সেই ক্ষেত্রে বিএনপিকে কেন জড়ানো হচ্ছে?” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

অনুমোদনহীন ডে-কেয়ার সেন্টার চলবে না: থাকছে জরিমানা, সংসদে বিল উত্থাপন

0

শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বা ডে-কেয়ার স্থাপন করতে হলে সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন ও সনদ নিতে হবে- এমন বিধান রেখে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছ।
ডে-কেয়ার থেকে শিশু হারিয়ে গেলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদাণ্ডের পাশাপাশি ৫ লাখ পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে বিলে।
এ আইন পাস হওয়ার পর অনুমোদন ছাড়া কেউ শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে না। অনুমোদন ও নিবন্ধন ছাড়া শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র চালালে ২ বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে খসড়ায়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা শনিবার ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বিল-২০২১’ সংসদে তোলেন। দুই মাসের মধ্যে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
এ আইন হলে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত শ্রেণির কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার নিবন্ধন সনদ নিয়ে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে।
যেসব শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এখন পরিচালিত হচ্ছে, নতুন আইন পাস হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে সেগুলোকে নিবন্ধন নিতে হবে। তখন সব শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আসবে।
বিলে বলা হয়েছে, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটালে, তাতে সহায়তা করলে বা তথ্য গোপন করলে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।
এছাড়া শিশু এবং ক্ষেত্রমতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রয়োজনীয় সেবা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, বিনোদন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও শিশুর অনুকূল পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি ৩ মাসে একবার শিশুর অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে হবে।
বর্তমানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১৯টি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত থমকে আছে, বিচার হয়নি গণহত্যার

0

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনার বিচার করার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তা থেমে আছে।
২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এমন একটা উদ্যোগ নিয়েছিল।
১৯৭১ সালে ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর পরাজয় বরণ করে পাকিস্তানি সৈন্যরা আত্মসমর্পন করে। এসব সৈন্যকে যুদ্ধের পর আটক করা হয়েছিলো। পরে ভারত পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় এক চুক্তির আওতায় তাদেরকে বিচার করার শর্তে পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
কিন্তু গত ৫০ বছরেও তাদের কোনো বিচার হয়নি। যদিও মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অপরাধীদের বিচার করা হচ্ছে। ২০১০ সালে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে গত ১১ বছরে মোট ৪২ টি মামলার রায় প্রদান করে। দণ্ডিত হয় শতাধিক যুদ্ধাপরাধী। এরমধ্যে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে ৬ জনের। যাদের মধ্যে রয়েছে মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধূরী, আব্দুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও মীর কাসেম আলী। আমৃত্যু কারাভোগ করছেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদী আর ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত গোলাম আযম কারাগারে মারা যান।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করার পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তার সমালোচনা করে বিবৃতি দেওয়া হলে পাকিস্তানি সৈন্যদের বিচারের বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়। বাংলাদেশ পাকিস্তানের এ প্রতিক্রিয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তখনই তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৯৫ সেনা কর্মকর্তা যাদের নেতৃত্বে গণহত্যা চালানো হয়েছিল তাদের বিচার কাজ শুরু করবে।
অান্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক আইনজীবী তুরিন আফরোজ “আইন আদালত”কে জানিয়েছেন, ১৯৭৩ সালের আইন অনুসারে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যদি কেউ মানবতাবিরোধী অপরাধ করে থাকে এবং সে যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেনো বাংলাদেশে তার বিচার করা সম্ভব।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনেও বলা আছে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা যেকোনো রাষ্ট্রেই হোক না কেনো, অন্য কোনো রাষ্ট্রও তার বিচার করতে পারে।
তুরিন আফরোজ বলেন, পাকিস্তানি এই সৈন্যদের বিচার করা যাবে কীনা তার আইনগত বিষয়গুলো তারা বিশ্লেষণ করে দেখেছিলেন। এর মধ্যেই ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন মামলায় পাকিস্তানি সৈন্যদের নামও এসেছে।
তিনি জানান, এসব সৈন্যের ব্যাপারে তারা তথ্য সংগ্রহের কাজ করেছিলেন। কিন্তু নানাবিধ কারণে তদন্তটি শেষ হয় নি।
ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৭৩ সালে স্বাক্ষরিত বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় পাকিস্তানি সৈন্যদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিলো।

ওই চুক্তিতে সৈন্যদের পাকিস্তানের মাটিতে বিচারের কথা উল্লেখ করা না হলেও পাকিস্তান সরকার তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করবে এরকম সমঝোতা হয়েছিলো।
কিন্তু এই চুক্তিটি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার মতো অপরাধকে কেউ ক্ষমা করতে পারে না। এ ধরনের কোনো চুক্তি হলে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সেটা বাতিল বলে গণ্য হবে।
এ ছাড়া এই চুক্তিটি বাংলাদেশের সংসদে অনুমোদিত হয়নি। ফলে কোনো আদালত বিচারের সময় ওই আইনটিকে গ্রহণ করতে পারে না। এই ১৯৫ সৈন্যের মধ্যে এখনও অনেকে বেঁচে আছে বলে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ধারণা করছে। তাদের কে কোন পদে এবং কোথায় যুদ্ধ করেছে সেসব দলিল তদন্ত সংস্থার হাতে রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ গবেষকরা বলছেন, আদতে ১৯৫ পাকিস্তান সেনা কর্মকর্তার কথা বলা হলেও তালিকায় মোট ২শ’ জন ছিলো। তারা কিভাবে, কি কারণে বাদ পড়ে সংখ্যাটি ১৯৫ হলো তা জানা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করেন ড. এম হাসান জানান, আমাদের কাছে যে অভিযুক্তের তালিকা আছে সেটি যুদ্ধপরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া। তখন আমাদের কাছে অনেক তথ্যপ্রমাণ ছিল না, পরবর্তীতে যেগুলো এসেছে। ফলে এখন নতুন তদন্ত এবং বিদ্যমান তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে তালিকা হতে পারে। তবে এটা করতে গিয়ে সময় বেশি নিলে চলবে না। দ্রুতই বিচারটা হওয়া জরুরি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে উসকানি: লন্ডনে একজনের ৩ বছরের কারাদণ্ড

0

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনে উসকানির দায়ে যুক্তরাজ্যে এক ব্যক্তিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সাজাপ্রাপ্ত মুন্না হামজাকে (৫০) ২০১৮ সালের জুলাইতে দক্ষিণ লন্ডন থেকে গ্রেপ্তার করেন লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম কমান্ডের সদস্যরা। 
সন্ত্রাসবাদে উসকানি দেওয়ার তিন অভিযোগে শুক্রবার উলউইচ ক্রাউন কোর্ট তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেয় বলে এক পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উৎসাহ যোগাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামজার পোস্ট নিয়ে এক নাগরিক পুলিশকে জানালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশকে সতর্ককারী ওই ব্যক্তির প্রশংসা করে কাউন্টার টেররিজম কমান্ডের প্রধান কমান্ডার রিচার্ড স্মিথ বলেন, এর ফলে সহিংসতা ও সন্ত্রাস উসকে দেওয়ার মতো আর কোনো কিছু প্রকাশ করা থেকে তাকে আমরা বিরত রাখতে পেরেছি। তা নাহলে ভয়াবহ কিছু ঘটে যাওয়ার শঙ্কা ছিল।”
২০১৮ সালের ১৭ মে হামজার আগের দিনের একাধিক পোস্ট নিয়ে সতর্ক করেন একব্যক্তি। কাউন্টার টেররিজম কর্মকর্তারা তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি উদ্বেগজনক পোস্ট খুঁজে পায়। সেসব পোস্টে হামজা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে ‘মারাত্মক সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনে’র অন্যদের প্রতি আহ্বান জানান। 
৪ জুলাই দক্ষিণ লন্ডনের কর্মস্থল থেকে হামজাকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তার কম্পিউটার, ফোন ও মেমোরি কার্ড জব্দ করে। তিনি ওই সব পোস্ট প্রকাশের দায় স্বীকার করেন এবং পরে জামিন পান।
তার ওইসব পোস্ট পর্যালোচনা করে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক আইনের লঙ্ঘন খুঁজে পেলে পরের বছর ২৮ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ‘টেররিজম অ্যাক্ট’ এর ১(২) ধারায় সন্ত্রাসবাদে উৎসাহ যোগানোর চার ধরনের ঘটনায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
এবছর ১৩ জানুয়ারি তিনটি ঘটনায় হামজার বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়। আরেকটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি।
যেসব পোস্টের জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেগুলোতে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত তিনটি পোস্ট (একটি অভিযোগ হিসেবে গণ্য), ২০১৮ সালের ৩ মে ও ১৬ মে প্রকাশিত আরেকটি পোস্ট রয়েছে। যেটিতে নির্দোষ ছিলেন, সেই পোস্ট ২০১৮ সালের ২৪ জুন প্রকাশিত। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র মামলায় ১৪ জঙ্গির ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড

0

দুই দশক আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ১৪ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা  হলেন- মো. আজিজুল হক ওরফে শাহনেওয়াজ (পলাতক), মো. লোকমান (পলাতক), মো. ইউসুফ ওরফে মোছহাব মোড়ল (পলাতক), মোছহাব হাসান ওরফে রাশু (পলাতক), মো. আনিসুল ইসলাম, সারোয়ার হোসেন মিয়া, শেখ মো. এনামুল হক (পলাতক), মো. মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ, মো. মাহমুদ আজহার ওরফে মামুনুর রশিদ, মো. রাশেদুজ্জামান ওরফে শিমুল, মো. তারেক হোসেন, মো. ওয়াদুদ শেখ ওরফে গাজী খান, মাওলানা আমিরুল ইসলাম ওরফে জেন্নাত মুন্সী এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
দণ্ডিতরা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) নেতা-কর্মী। ফায়ারিং স্কোয়াডে প্রকাশ্যে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলা হয়েছে রায়ে। কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে প্রচলতি নিয়মে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলেছেন বিচারক।

ঢাকার মহানগর আদালতের পিপি আবদুল্লাহ আবু বলেন, “ন্যায়বিচার পেয়েছি। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”

এদিন কারাগারে থাকা আসামিদের সকালে রায়ের জন্য আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালত এলাকার নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়।
২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলের পাশে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়।
শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের উত্তর পাশের একটি চায়ের দোকানের পেছনে এ বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র এবং বিস্ফোরক আইনে কোটালীপাড়া থানায় তিনটি মামলা করে পুলিশ।
এর মধ্যে হত্যাচেষ্টা মামলায় ২০১৭ সালের ২০ অগাস্ট নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন দল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) দশ নেতাকর্মীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল।  
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আপিলের রায়েও ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে হাই কোর্ট। যাবজ্জীবন সাজার এক আসামি এবং ১৪ বছর কারাদণ্ডের দুই আসামির সাজাও বহাল রাখা হয়েছে। ১৪ বছর সাজার এক আসামিকে খালাস দেয় হাই কোর্ট।
আর হত্যার ষড়যন্ত্রের এ মামলায় ২০০১ সালের ১৫ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। আদালত ২০০৪ সালে ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।
রাষ্ট্রপক্ষে ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হলে ১১ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। সেই শুনানি শেষে বিচারক রায়ের জন্য ২৩ মার্চ দিন রাখেন।

গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে ২৫ মার্চ কালরাতের প্রথম প্রহরে একটি প্রদীপ জ্বালুন

0

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে ২৫ মার্চ প্রথম প্রহরে ভার্চুয়াল এক প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির আয়োজন হয়েছে।
সেই সঙ্গে একাত্তরের গণহত্যার ৫০তম বছর সামনে রেখে একটি উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ) এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ।

যার যার টাইম জোন অনুযায়ী ২৫ মার্চ রাত ১২টা ১মিনিটে এই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি এবং একই দিনে ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আইসিএসএফের ট্রাস্টি ড. রায়হান রশিদ।
এই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে শামিল হতে নিজ নিজ ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নির্ধারিত সময়ে ফেইসবুক লাইভে এসে, অথবা আগে ধারণ করা ভিডিও/স্থিরচিত্রে একটি প্রদীপ কিংবা মোমবাতি জ্বালতে হবে। সেই ছবি বা ভিডিও পোস্ট করতে হবে #recognise1971genocide এবং #RecogniseBangladeshGenocide হ্যাশট্যাগের সাথে।
বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা।
২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান; শুরু হয় বাঙালির প্রতিরোধ পর্ব।
নয় মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
সেই বাংলাদেশ আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পৌঁছাচ্ছে, আর তার আগের দিন পূর্ণ হচ্ছে ২৫ মার্চের সেই কালরাতের ৫০ বছর।
সেই দিনটি স্মরণে ২৫ মার্চ আইসিএসএফ এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ আয়োজিত মুক্ত আলোচনার বিষয় থাকছে ‘১৯৭১ এর গণহত্যার স্মরণ, এবং ১৯৭১ এর গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জনে কর্মসূচি নির্ধারণ’।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সংসদে গণহত্যা দিবস প্রস্তাবক সাংসদ শিরিন আখতার, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ড. নমিতা হালদার, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান, এমিরেটাস অধ্যাপক (ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়) ড. রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মি আহমেদ, আইসিএসএফ ট্রাস্টি ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন ও রায়হান রশিদ আলোচনায় অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানসূচিতে রয়েছে- শুভেচ্ছা বক্তব্য;  গণহত্যার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা; মোমবাতি/প্রদীপ প্রজ্জ্বলন;  তথ্যচিত্র ‘Creed for Justice’ প্রদর্শন;  আইসিএসএফ এর পক্ষ থেকে ‘গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি’ প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য উপস্থাপন;  নির্ধারিত প্যানেল বক্তাদের বক্তব্য উপস্থাপন; মন্তব্য ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। সমাপনী বক্তব্য দেবেন কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ফ্যাকাল্টি সদস্য ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
সঞ্চালনায় থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান ও কলামিস্ট ড. এজাজ মামুন। ফেইসবুকে এ আলোচনায় মতামত দেওয়া এবং প্রশ্ন করার সুযোগ সবার জন্য উম্মুক্ত থাকছে। (https://www.facebook.com/events/878750522913089/)।
বিভিন্ন টাইমজোন অনুযায়ী এ আলোচনার সময়সূচি ঠিক হয়েছে- ক্যানবেরা/ সিডনি/ মেলবোর্ন সময় রাত ৯টা; ব্রিসবেন সময় রাত ৮টা; ঢাকা সময় বিকেল ৪টা ও লন্ডন সময় সকাল ১০টা।
আইসিএসএফের ট্রাস্টি ড. রায়হান রশিদ নিজের ফেইসবুক পেইজে লিখেছেন, “১৯৭১ এর গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি বাস্তবায়নের দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার সাতটি শহর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসছেন ২৫ মার্চ।”
এ অনলাইন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মতামত ও প্রশ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে আইসিএসএফের এর ট্রাস্টি বলেন, “গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি আন্দোলনের যে রূপরেখা অস্ট্রেলিয়ায় নির্ধারিত হতে যাচ্ছে, তা বিশ্বের সব শহর এবং দেশের ক্ষেত্রেই কমবেশি প্রাসঙ্গিক হবে বলে আমরা মনে করছি। এ উদ্যোগ ও আলোচনায় আপনার মতামত যেমন গুরুত্বের, তেমনি আপনার কাছে আমাদের প্রত্যাশা- বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, এতে নিজে শামিল হওয়ার পাশাপাশি পরিচিত সবাইকে উদ্বুদ্ধ করুন।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা ১৯৭১ নিয়ে আলোচনাই করতে দিল না লাহোরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে

0

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে পাকিস্তানের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত এক অনলাইন সম্মেলন কিছু মহলের আপত্তির কারণে বাতিল করে দেয়া হয়েছে।
লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস এই সম্মেলনটির শিরোনাম ছিল ‘যুদ্ধ, সহিংসতা এবং স্মৃতি’ – এবং তা অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল মার্চ মাসের ২৩ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত।
এতে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার জন্য গবেষক ও ইতিহাসবিদদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
সম্মেলনটির সহ পৃষ্ঠপোষক ছিল লাহোরের ওই বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কুল অব হিউম্যানিটিজ এ্যান্ড সোশাল সায়েন্সেস এবং কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাকিস্তান স্টাডিজ।
কিন্তু স্কুল অব হিউম্যানিটিজের ডিনের এক ইমেইল বার্তায় বলা হয়, “অনিবার্য কারণে” সম্মেলনটি বাতিল করা হয়েছে।
এর পরই টুইটার সহ সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে শুরু হয় নানামুখী আলোচনা।
টুইটারে অনেকে এ ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার লংঘন বলে আখ্যায়িত করে প্রশ্ন তুলেছেন – ১৯৭১এর পর ৫০ বছর পার হয়ে গেলেও কেন এখনো পাকিস্তানে এ নিয়ে অবাধে আলোচনা করা যাবে না?
“পাকিস্তান-বিরোধী পদক্ষেপ”
ঘটনা হচ্ছে যে এই সম্মেলনটির কথা ঘোষণার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে কিছু ব্যবহারকারী লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস (এলইউএম এস)-এর সমালোচনা করেছিলেন।
তারা একে “পাকিস্তান-বিরোধী পদক্ষেপ” বলে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
১৯৭১ সালের যুদ্ধ ও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা এখনো পাকিস্তানে একটি স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ
এলইউএমএসের অধ্যাপক আলি উসমান কাসমি টুইটারে ওই সম্মেলনটির কথা ঘোষণা করে বলেছিলেন, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ১৯৭১ সালের ওই সংঘাতকে বোঝা, এবং এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা যেসব গবেষণা করেছেন তার পর্যালোচনা করা।
“এ সম্মেলনে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস, অধিকারের জন্য গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, সামরিক অভিযানের ফলে সংঘটিত গণহত্যা এবং বিপুল পরিমাণ মানুষের ঘরছাড়া হওয়া নিয়ে আলোচনা হবে” – টুইটারে লেখেন অধ্যাপক কাসমি।
তিনি আরো লেখেন, “১৯৭১ সালের পর ওই ঘটনা পাকিস্তানের সাহিত্য, স্মৃতি ও ইতিহাস রচনার ওপর কিভাবে প্রভাব ফেলেছে তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে।”

যেভাবে বিতর্কের শুরু
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ১৯৭১ নিয়ে এই সম্মেলনের ঘোষণা টুইটারে অনেক ব্যবহারকারীর সমালোচনার মুখে পড়ে।
এলইউএমএস-এর সম্মেলন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাংবাদিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ইজাজ হায়দার অনেকগুলো টুইট করেন । এতে তিনি লেখেন, “এলইউএমএস যদি ভারতে সংখ্যালঘুদের প্রতি কী আচরণ করা হচ্ছে তা উপেক্ষা করতে চায় – তাহলে তাদের ভারতে পাঠিয়ে দেয়া উচিত।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতের কাশ্মীরে যা হচ্ছে তা নিয়ে কি”এলইউএমএস একটি দু-দিনের সেমিনার করবে?”
তিনি আরো বলেন, “ভারত আর আম্বেদকরের গণতন্ত্র নেই।”
মি. হায়দার প্রশ্ন তোলেন, “কাশ্মীরকে উপেক্ষা করে এলইউএমএস কেন পূর্ব পাকিস্তান নিয়ে সম্মেলন করছে?”
রিয়াজ-উল-হক নামে আরেকজন টুইটার ব্যবহারকারী লেখেন,”এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আপনাদের কেউ বাধা দিচ্ছে না, কিন্তু এলইউএমএস এই সম্মেলনটির জন্য ২৩শে মার্চকে তারিখ হিসেবে বেছে নিয়েছে। এটা নির্বুদ্ধিতা।”
পাকিস্তানে এই ২৩শে মার্চ একটি বিশেষ দিন – কারণ ১৯৫৬ সালের এ দিনটিতে দেশটি একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় এবং তার প্রথম সংবিধান গৃহীত হয়।
কিন্তু অন্য অনেক ব্যবহারকারী আবার এ সম্মেলনের আয়োজন করার জন্য এলইউএমএসের প্রশংসা করেন।
গজল আসিফ নামে একজন লেখেন, ইভেন্টটি তার পছন্দ হয়েছে এবং যে বক্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তা-ও চমৎকার।

তাহলে সম্মেলনটি বাতিল হলো কেন?
এলইউএমএসের স্কুল অব হিউম্যানিটিজ এ্যান্ড সোশাল সায়েন্সেসের ডিন এক ইমেইল বার্তায় বলেন, ‘অনিবার্য কারণে’ এবং ‘দু:খের সঙ্গে’ তাদের সম্মেলনটি বাতিল করতে হচ্ছে।
এই “অনিবার্য কারণ”গুলো কি তা জানতে এলইউএমএসের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন জবাব পাওয়া যায়নি।
সম্মেলন বাতিল নিয়ে বীণা ডি কস্তার টুইট
তবে এলইউএমএসের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফ্যাকাল্টি সদস্য বিবিসিকে বলেছেন, এই অনুষ্ঠানটি বাতিল করার জন্য কিছু মহল থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল এবং এরকম অবস্থায় সম্মেলনটি করা সম্ভব ছিল না।
“আমরা লক্ষ্য করলাম যে ব্যাপারটা একটা কঠিন জায়গায় চলে গেছে। তখন সম্মেলনটি করা উচিত হবে না বলে পরামর্শ দেয়া হয়” – বলেন তিনি।
কোন মহল থেকে তাদের চাপ দেয়া হচ্ছিল – জানতে চাইলে তারা তাদের নাম উল্লেখ না করে বলেন, “এ সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।”
“এটা কোন রাষ্ট্র-বিরোধী বা উস্কানিমূলক কিছু হবার কথা ছিল না। এখানে বিশিষ্ট পণ্ডিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ এবং গবেষণার ফল উপস্থাপন করার কথা ছিল – যাতে ১৯৭১এর ঘটনাবলী থেকে কিছু শিক্ষা নেয়া যায়।”
“আমরা কি ৫০ বছর পরেও বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলতে পারবো না?”
সামাজিক মাধ্যমে এই সম্মেলন বাতিলের খবরে দু:খ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই।
এলইউএমএসের একজন অধ্যাপক নিদা কিরমানি বলেন, “ওরা ১৯৭১ এর ওপর সম্মেলনটি বাতিল করে দিয়েছে। এদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আর একাডেমিক স্বাধীনতার কফিনে আরেকটি পেরেক মারা হলো।”
সামাজিক আন্দোলনকারী এবং অধ্যাপক আম্মার আলি জান লেখেন, ” ওই ট্রাজেডির ৫০ বছর পরও বাংলাদেশে নিয়ে কথা বলা এত কঠিন – ব্যাপারটা দু:খজনক।”
“আমরা বুঝতে পারছি – সেই সময় যারা এ নিপীড়নের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তাদের জন্য ব্যাপারটা কতটা কঠিন ছিল।”
সাংবাদিক গারিদা ফারুকি টুইট করেন: “এলইউএমএসের বাংলাদেশকে নিয়ে সম্মেলনে অন্যায় তো কিছু ছিল না। একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তিই হচ্ছে বাকস্বাধীনতা এবং এ সম্মেলন বাতিল করা বা এর বিরোধিতা করা এর সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ দেয়া।”
মরিয়ম জিয়া বালোচ লেখেন, তিনি এ জন্য দু:খিত কিন্তু বিস্মিত নন। “এখানে মানুষ মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছে।”
“ওই ঘটনার পর ৫০ বছর পার হয়ে গেছে” লেখেন সাংবাদিক তালাত আসলাম – “কিন্তু দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ কেন বাংলাদেশের অংশ হয়েছিল তার কারণ নিয়ে আমাদের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ এখনো একটি সেমিনার করতে পারছে না।”
এই সম্মেলনে যাদের অংশ নেবার কথা ছিল তাদের একজন বীণা ডি কস্তা টুইট করেন, “অবিশ্বাস্য ! পঞ্চাশ বছর পরেও ওই যুদ্ধ নিয়ে কথা বলা যাবেনা।” বিবিসি বাংলা।

শ্রমজীবি মানুষের অধিকার রক্ষায় আইএলওসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা আইনমন্ত্রীর

0

সকল শ্রমজীবি মানুষের অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে আইএলও-সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
সোমবার রাতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গভর্নিং বডির ৩৪১ তম সেশনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আলোচনাকালে ভার্চুয়াল বক্তৃতায় এই সহযোগিতা কামনা করেন।
ভার্চুয়াল বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী আইএলও- কে আশ্বস্ত করে বলেন, শ্রম অধিকার ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে বাংলাদেশ একটি ছয় বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনার আওতায় কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, কর্মপরিকল্পনাটির মেয়াদ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তোরণের সাথে সংগতি রেখে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন, শ্রম পরিদর্শন বিভাগের ক্ষমতায়ন এবং শ্রমিক স্বার্থ-বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিহার সংক্রান্ত ৪টি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনা সভায় তুলে ধরেন।
আইনমন্ত্রী জানান টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের আলোকে বাংলাদেশ শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আইএলও গভর্নিং বডি’র বর্তমান চেয়ার ভারতের শ্রম সচিব অপূর্ব চন্দ্রে’র সভাপতিত্বে বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি সম্পর্কিত এ আলোচনায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও ভারত, চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, মরক্কো, কিউবা, ইরাক, বাহরাইন, আজারবাইজান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও মেক্সিকোর প্রতিনিধি অংশ নেন।
আলোচনাকালে অনেক বক্তা কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রশংসা করেন।

আমেরিকাকে টপকে বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর শীর্ষে চীন, ভারত ৪র্থ, ধারেকাছেও নেই পাকিস্তান

0

বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর তালিকায় আমেরিকাকে টপকে শীর্ষে ওঠে এসেছে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে আমেরিকা ।রাশিয়ার রয়েছে তৃতীয় স্থানে আর ভারতের অবস্থান চতুর্থ । পাকিস্তান এর ধারেকাছেও নেই। ১৫ নম্বরে আছে পাকিস্তান। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। সামরিক তথ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট মিলিটারি ডাইরেক্ট এসব তথ্য জানিয়েছে।
শীর্ষ দশে রয়েছে সউদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ব্রিটেন ও জার্মানি। প্রতিরক্ষা বাজেট, সক্রিয় এবং অ-সক্রিয় সেনা সদস্য, বিমান, সাগর ও ভূমিতে থাকা প্রতিরক্ষা ও পারমাণবিক সামগ্রী, সৈন্যদের গড় বেতন, সরঞ্জামের ওজনসহ বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে প্রতিবছর ‘আলটিমেট মিলিটারি স্ট্রেনথ ইনডেক্স’ সূচক প্রকাশ করা হয়। সূচকে ১০০ পয়েন্টের মধ্যে চীনের পয়েন্ট ৮২। বিশ্বে প্রতিরক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্র (প্রতিবছর ৭৩২ বিলিয়ন ডলার)। চীন বছরে ব্যয় করে ২৬১ বিলিয়ন। ভারত ব্যয় করে ৭১ বিলিয়ন। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষা খাতে নৌ-বাহিনীতে এগিয়ে রয়েছে চীন, বিমান বাহিনীতে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীতে এগিয়ে রাশিয়া।
গতবছর প্রকাশিত তালিকায় সামরিক শক্তিতে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রাশিয়া। অন্যদিকে, তৃতীয় চীন ও চতুর্থ স্থানে ছিল ভারত।

তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫ নাম্বারে। আর মিয়ানমারের অবস্থান ৩৫ নাম্বারে।
৫০টিরও বেশি মাপকাঠির ভিত্তিতে জিএফপি নামের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিলিটারি স্ট্রেন্থ র‍্যাংকিং’ তালিকা প্রকাশ করে।
১৩৮টি দেশের মধ্যে সামরিক শক্তিতে সর্বশেষ, ১৩৮তম অবস্থানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভুটান। সামরিক বাহিনীর মোট সদস্যের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে পেছনে ফেলে এগিয়ে আছে ভারত। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ জন।
গ্লোবাল মিলিটারি প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে বিশ্বের তিন শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী অর্থাৎ সেনা নৌ ও বিমান বাহিনী রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ভারত, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের।
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার (জিএফপি) কোনো দেশের অর্ধশতাধিক বিষয় বিবেচনা করে এ তালিকা প্রকাশ করে। যেসব বিষয় তারা বিবেচনা করে তার মধ্যে রয়েছে জনশক্তি, ভৌগলিক অবস্থান, উন্নয়ন, স্থল, সাগর ও বিমানবাহিনীর প্রচলিত যুদ্ধ করার সামর্থ্য।
বিশ্বের শক্তিশালী ২০ সশস্ত্র বাহিনীর তালিকার মধ্যে রয়েছে।
১. চীন ২. যুক্তরাষ্ট্র ৩.রাশিয়া ৪. ভারত ৫. ফ্রান্স ৬. জাপান ৭. দক্ষিণ কোরিয়া ৮. যুক্তরাজ্য ৯. তুর্কী ১০. জার্মানি ১১. ইতালি ১২. মিশর ১৩. ব্রাজিল ১৪. ইরান ১৫. পাকিস্তান ১৬. ইন্দোনেশিয়া ১৭. ইসরায়েল ১৮. উত্তর কোরিয়া ১৯. অস্ট্রেলিয়া ২০ স্পেন।