ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ৪:২১ 

Home Blog Page 130

চীনে উইঘুর শিশুদের জোর করে এতিমখানায় পাঠানো হচ্ছে, দাবি অ্যামনেস্টির

0

উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোকে আলাদা করছে চীনা প্রশাসন এবং তাদের সন্তানদের সরকার নিয়ন্ত্রিত এতিমখানায় পাঠাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, এক মিলিয়নের বেশি সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষকে বন্দি করে রেখেছে চীন। যাদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলমান। তাদের দিয়ে সেখানে জোরপূর্বক শ্রম খাটানো, নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। -বিবিসি

বিবিসি জানিয়েছে, অঞ্চলটি থেকে পালিয়ে বিদেশে আশ্রয় নেয়া কয়েকজন নির্যাতিত মানুষের বরাত দিয়ে রিপোর্টটি করা হয়েছে। হুমকির মুখে ওই নারীরা তাদের সন্তানদের নিজ দেশে দাদা-দাদির কাছে রেখে এসেছে। কিন্তু ওই শিশুগুলোকে জোর করে ধরে নিয়ে এতিমখানায় পাঠাচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এদিকে, শিশুদের এতিমখানা থেকে মুক্ত করে দিতে চীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অবশ্য বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি এটাও দাবি করা হয়েছে যে, ক্যাম্পগুলোতে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষা দেয়া হয়। অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, মিহরিবান কাদের এবং আবলিকিম মেমতিনিন নামের দুই উইঘুর নারী পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০১৬ সালে ইতালিতে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তাদের চার সন্তানকে দাদা-দাদির কাছে রেখে যান।

কিন্তু দাদিকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দাদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এ অবস্থায় অন্য আত্বীয়রা সন্তানদের দেখভালোর দায়িত্ব নেয়নি। ২০১৯ সালের নভেম্বরে এই দুই নারী ইতালিতে বৈধভাবে থাকার অনুমতি পান। একইসঙ্গে সন্তানদেরও দেশটিতে নিয়ে আসার জন্য বলে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শিশুদের আটকে রেখেছে চীনা পুলিশ এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত এতিমখানায় পাঠিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে আমার সন্তানরা চীন সরকারের হাতে বন্দি। জীবিতকালে তাদের আর দেখতে পাবো কিনা তা নিয়ে আমি সন্দিহান বলছিলেন মিহরিবান কাদের।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আড়ালে নারী পাচার: হাই কোর্টে জামিন মিলল নৃত্যশিল্পী ইভানের

0

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আড়ালে বিদেশে নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট ।
বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের ভার্চুয়াল বেঞ্চ রোববার তাকে জামিন দেয়। ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছে আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রাতে গুলশানের নিকেতনে নিজের ড্যান্সক্লাব ‘সোহাগ ড্যান্সট্রুপ’ থেকে দুবাইয়ে নারী পাচারের অভিযোগে ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
সিআইডি বলছে, দুবাইয়ের চারটি ড্যান্সবার ফরচুন পার্ল হোটেল অ্যান্ড ড্যান্সক্লাব, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্র্যান্ড ও হোটেল সিটিটাওয়ারে নারী পাচার করতো ইভান। উচ্চ বেতনে কাজের কথা বলে নিয়ে অল্প বয়সী মেয়েদের দেহব্যবসায় বাধ্য করতো চক্রটি। সিআইডি জানতে পেরেছে, দুবাইয়ের বিভিন্ন হোটেলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বেতনের চাকরির কথা বলে মেয়েদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে তাদের পাঠানোর পরে দেহব্যবসা করানো হয়েছে।’
গত বছরের ১২ জুলাই এ চক্রের মূলহোতা এবং দুবাইয়ের ৪টি হোটেলের অন্যতম মালিক আজম খানসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সিআইডি বলছে, গ্রেফতার হওয়া একাধিক আসামি ইভানের জড়িত থাকার কথা বলেছে। দুবাইয়ে পালিয়ে থাকা আজম খানের ভাই নাজিম, তার ম্যানেজার এরশাদ ও আলমগীরকে ধরতে ইটারপোলে রেড এলার্ট জারি করে সিআইডি।
বাংলাদেশি নারীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে দুবাইসহ অন্যান্য দেশে পাচার এবং জোর করে আটকে রেখে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গত বছর ২ জুলাই আজম খানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে লালবাগ থানায় মামলা করে সিআইডি।

মামলার অপর আসামিরা হলো- আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ড (২৬), স্বপন হোসেন (২৮), নাজিম (৩৬), এরশাদ ও নির্মল দাস (এজেন্ট), আলমগীর, আমান (এজেন্ট) ও শুভ (এজেন্ট)।
এদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করার পর তাদের জবানবন্দিতে নাম আসায় ইভান শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
পরে ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা তার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
২০১৭ সালে ‘ধ্যাততেরিকি’ চলচ্চিত্রের নৃত্য পরিচালনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ইভান শাহরিয়ার সোহাগ।
তিনি ‘সোহাগ ড্যান্স গ্রুপ’ নামে একটি নাচের দল পরিচালনা করেন। ‘এক্সপ্রোজার বিডি’ নামে একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন তিনি।
ইভানের জামিনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী তুষার রায়; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

মামলাজট কমিয়ে আনাই বিচার বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, বললেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিচার বিভাগকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে অনেক পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আদালত ভবন নির্মাণ, নতুন বিচারক নিয়োগ এবং বিচারকদের বেতন বৃদ্ধিসহ দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ ও গাড়ি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। বিচার বিভাগের উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগসমূহ তখনই সফল হবে যখন বিচার বিভাগ জনগণের প্রত্যাশা মেটাতে সক্ষম হবে। জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে আদালত তার মর্যাদা ধরে রাখতে পারবে। দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ থেকে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও সততা দিয়ে বিচারকরা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক হবেন।
রোববার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য অনলাইনে আয়োজিত ৭ম ওরিয়েন্টশন কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
মামলাজট কমিয়ে আনাকে বিচার বিভাগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বিচারকদের উদ্ভাবনীমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ মামলাজট কমাতে সাহায্য করবে। বিচারিক কর্মঘন্টার সঠিক প্রয়োগ,কার্যকর মামলা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, দক্ষ আদালত ব্যবস্থাপনা এবং সর্বোপরি বিচারকদের ‘আইডিয়াল লিডারশিপের’ মাধ্যমে মামলার বোঝা কমতে পারে। বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, মামলাজট কমাতে বিচার ব্যবস্থায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে অধিক কার্যকর করার লক্ষ্যে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনে সংশোধনী এনে মামলার বিভিন্ন স্তরে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে সাক্ষীর হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য গত দুদিন পূর্বে বিদ্যমান সমন জারি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে মামলার তারিখ সম্পর্কে সাক্ষীকে অবগতকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পাইলটিং-এর মাধ্যমে নরসিংদী ও কুমিল্লা জেলায় উক্ত কার্যক্রম শুরু করা হলেও এর কার্যকর মূল্যায়নের পর তা সারাদেশে বাস্তবায়ন করা হবে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সরকার ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করে জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকারকে সমুন্নত রেখেছে। অধিকন্তু ২৮০০ কোটি টাকার ই-জুডিসিয়ারি প্রকল্প একনেকে পাশ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা। এই আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচারকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ এর সভাপতিত্ব আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সাওয়ার এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. গোলাম কিবরিয়া অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

ক্যাসিনোকাণ্ডঃ আরও দুই মামলায় বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদের বিচার শুরু

0

ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুইয়াঁর বিরুদ্ধে আরও দুই মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম রোববার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে গুলশান থানার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মতিঝিল থানার এই দুই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১ জুন দিন রেখেছেন।
এদিন বিচারক আসামিকে অব্যাহতির ও তার পক্ষে সময়ের আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সালাহউদ্দিন হাওলাদার জানান।
এর মধ্য দিয়ে খালেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়ার মোট পাঁচটি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
এর আগে গত বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গুলশান থানার আরেকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়।
খালেদ মাহমুদ ছিলেন আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।
ঢাকার ক্রীড়া ক্লাবগুলোতে চলা অবৈধ ক্যাসিনো বন্ধে র‌্যাবের অভিযানের শুরুতেই গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন খালেদ ভূঁইয়া।
ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবে ক্যাসিনো তিনিই চালাতেন বলে র‌্যাব জানায়। গ্রেপ্তারের পর যুবলীগও বহিষ্কার করে তাকে।
গ্রেপ্তারের সময় খালেদের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (এর মধ্যে একটি অবৈধ), গুলি এবং ইয়াবা জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ইয়ংমেন্স ক্লাব থেকে বিদেশি মদ ও ক্যাসিনোর সরঞ্জাম জব্দ করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা হয়।
এর মধ্যে গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন ও মুদ্রা পাচার আইনে মোট তিনটি মামলা হয়। মতিঝিল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি মামলা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ নেতা হাবীবুর রহমান ও ভাইকে হত্যা মামলায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

0

দুই দশক আগে শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ নেতা হাবীবুর রহমান ও তার ভাই মনির হোসেনকে হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
শরিয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শফিক হোসাইন রোববার আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলার ৫৩ আসমির মধ্যে তিনজনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে ৩৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুরের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা কে এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গসহ তিন আসামি বিচার চলাকালেই মারা যান। 
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ছয় আসামি হলেন- শহীদ কোতোয়াল, শহীদ তালুকদার, শাহীন কোতোয়াল, শফিক কোতেয়াল, মজিবুর রহমান ও সোলেমান সর্দার।
আর বাবুল তালুকদার, ডাবলু তালকুদার, বাবুল খান ও টোকাই রশিদকে যাজ্জীবন কারদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তাদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে তাদের জেল খাটতে হবে।
আসামিদের মধ্যে দুই বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে মণ্টু তালুকদার, আসলাম সর্দার ও জাকির হোসেন মঞ্জুর। জীবিত আসামিদের বাকি সবাই খালাস পেয়েছেন।
সংসদ নির্বাচনের উত্তেজনার মধ্যে ২০০১ সালের ৫ অক্টোবর শরীয়তপুরের জেলা জজ আদালতের সাবেক পিপি হাবীবুর রহমান এবং তার ভাই মনির হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
হাবীবুর রহমান ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার ভাই মনির হোসেন ছিলেন পৌরসভা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
ওই হত্যাকাণ্ডের পর হাবীবুর রহমানের স্ত্রী জিন্নাত রহমান বাদী হয়ে সাবেক সাংসদ আওরঙ্গসহ ৫৫ জনকে আসামি করে এই হত্যা মামলা করেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

পিকে হালদারসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের আরও ৫ মামলা, ৪৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0

ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে অবৈধভাবে ৪৩৪ কো‌টি টাকা আত্মসা‌তের অ‌ভি‌যো‌গে পি কে হালদার ও তার সহযোগী ৩৭ জ‌নের বিরু‌দ্ধে ৫টি মামলা ক‌রে‌ছে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক।
বৃহস্পতিবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে ৪৩৪ কো‌টি টাকা আত্মসা‌তের অ‌ভি‌যো‌গে পি কে হালদারসহ ৩৭ জনের বিরু‌দ্ধে ৫ মামলা করেছেন দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।
পি কে হালদার ছাড়াও এই মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে তার অন্যতম সহযোগী ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এ হাশেম, এমডি মো. রাশেদুল হক, ভারপ্রাপ্ত এমডি মো. আবেদ হোসেন এবং প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য বোর্ড সদস্যদের।
এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন, দৃনান এ্যাপারেলসের চেয়ারম্যান কাজী মমরেজ মাহমুদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু রাজীব মারুফ, ইমেক্সোর প্রোপাইটর ইমাম হোসেন, লিপরো ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উত্তম কুমার মিস্ত্রি, উইন্টেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের দুই পরিচালক সুকুমার সাহা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা সাহা, আর্থস্কোপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রশান্ত দেউরী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরা দেউরী, ওকায়ামা লিমিটেডের চেয়ারম্যান সুব্রত দাস, আরবি এন্টারপ্রাইজের মালিক রতন কুমার বিশ্বাস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের পরিচালক পাপিয়া ব্যানার্জী ও তার স্বামী পরিচালক বাসুদেব ব্যানার্জী।
ওই ৩৭ জন আসামির তালিকায় আরও যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের পরিচালক এম নুরুল আলম, পরিচালক মো. নওশের-উল ইসলাম, পরিচালক নাসিম আনোয়ার, পরিচালক মো. নুরুজ্জামান, পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসেম ও পরিচালক জহিরুল আলম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা অসৎ উদ্দেশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই কোনো মর্টগেজ না নিয়ে দশটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মালিককে ঋণ পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন। এই প্রক্রিয়ায় বেনিফিশিয়ারিরা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় ৪৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ভুয়া ঋণের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিপুল পরিমাণ এই অর্থ পরবর্তিতে বিভিন্ন লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ভুয়া কোম্পানি ও বিভিন্ন ব্যক্তির হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন।
গত বছরের ৮ জানুয়ারি প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলার এজাহারে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা পাচারেরও অভিযোগ আনা হয়।
অন্যদিকে চলতি বছরের গত ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি পাঁচটি ভুয়া ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ৩৫০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে পিকে হালদারসহ ৩৩ জনকে আসামি করে পাঁচটি মামলা করে দুদক।
পি কে হালদার ছাড়াও এসব মামলায় ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ হাশেম, সাবেক এমডি মো. রাশেদুল হক, নয় জন বোর্ড সদস্য, পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়।
দুদক সূত্রে জানা যায়, পিকে হালদারের আরও ৩৩ জন সহযোগীর সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। শিগগির এদের বিরুদ্ধে এই নোটিশ জারি করা হবে।
আর গত ১৬ মার্চ পি কে হালদারের বান্ধবী ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাহিদা রুনাই, একই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত এমডি সৈয়দ আবেদ হাসান ও সিনিয়র ম্যানেজার রাফসান রিয়াদ চৌধুরীকে মতিঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে দুদক।
অন্যদিকে পিকে হালদারের সহযোগী ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেমসহ ৪৫ জনের ইমিগ্রেশন বন্ধ চেয়ে ইমিগ্রেশন অথরিটির কাছে পত্র দেয় সংস্থাটি।
গত ৯ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিকে হালদার ও তার ৩৭ সহযোগীর বিরুদ্ধে দশটি মামলার অনুমোদন করে দুদক।
একইসঙ্গে পিকে হালদারের সহযোগী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেমসহ ৪৫ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশনে চিঠি দেয়।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলায় পি কে হালদারের তদন্তের অংশ হিসেবে তার ৭ হাজার ৮০ শতাংশ জমিসহ একটি ১০তলা ভবন জব্দে আদালত থেকে আদেশ পায় দুদক।
দুদকের এক আবেদনে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন।
এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন।
এ চার কোম্পানি হল- ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (আইএলএফএসএল), পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)।
এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য।
এর মধ্যে আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে গত বছরের শুরুতে পি কে হালদারের বিদেশ পালানোর পর দুদক তার ২৭৫ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদের’ খবর দিয়ে মামলা করে। এ মামলায় এরই মধ্যে পি কে হালদারের বেশ কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে দুদক।

কাওরান বাজারে নূর আলীর বোরাক জহির টাওয়ার ভাঙতে বাধা নেই, জানিয়েছে হাইকোর্ট

0

রাজধানীর কাওরান বাজারে অবস্থিত ব্যবসায়ী নূর আলীর মালিকানাধীন বোরাক জহির টাওয়ারের অবৈধ অংশ থাকলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চাইলে ভেঙে ফেলতে পারবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ভবনের উচ্চতা কতটুকু হবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা রাজউকের। অনুমোদন না নিয়ে বোরাক জহির টাওয়ারে বেআইনিভাবে নির্মাণ করা অংশ চাইলে রাজউক ভেঙে ফেলতে পারবে।
এই বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে ভবন মালিকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান। অন্যদিকে সিভিল অ্যাভিয়েশনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইসরাত জাহান শান্তনা।
জানা গেছে, রাজউক বোরাক জহির টাওয়ারের মালিককে ১৩ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়। পরে এটি অনুমোদনের জন্য রাজউক সিভিল অ্যাভিয়েশনের কাছে পাঠানো হয়। সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ১৫০ ফুট উচ্চতার ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়ে ভবন মালিককে চিঠি দেয়। পরে রাজউক ও সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন বোরাক জহির টাওয়ারের মালিক ব্যবসায়ী নূর আলী। ওই রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালে রাজউক ও সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চিঠি কেনও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট
তবে রুল শুনানি চলমান থাকাবস্থাতেই বোরাক জহির টাওয়ার ২০ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়। এদিকে রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে এই রায় ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট।

থানায় জিডি বা মামলা কীভাবে করবেন? জেনে নিন আইনি সহায়তা নিতে যেসব কাজ করতে হয়

0

নানা কারণে অনেক সময়েই অনেকের আইনের সহায়তা নেয়ার দরকার হয়ে পড়ে। সাধারণ জিডি থেকে শুরু করে মামলা করা, আদালতে আইনের দ্বারস্থ হতে হয়।
নানা কারণে অনেক সময়েই অনেকের আইনি সহায়তা নেয়ার দরকার হয়ে পড়ে। সাধারণ জিডি থেকে শুরু করে মামলা করা, আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।
কিন্তু আইনগত জটিলতায় পড়ার আগে পর্যন্ত কীভাবে সহজে আইনের সহায়তা নেয়া যায়, কোন সহায়তার জন্য কোথায় যেতে হবে, সেই সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা থাকে না।
আবার ঠিক সময়ে মামলা করা সম্ভব না হলে অনেক সময় মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে যায়।
কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে আইনের সহায়তা নেয়া যেতে পারে- এখানে তার সংক্ষিপ্ত একটি নিয়মকানুন তুলে ধরা হলো।

পুলিশে অভিযোগ

চুরি, হুমকি, মারামারি বা যেকোনো নিরাপত্তাহীনতা দেখলেই যেকোন সচেতন নাগরিক পুলিশে খবর দিতে পারেন।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, ‘’মানুষের যেকোনো বিপদে প্রথম যোগাযোগের ক্ষেত্র পুলিশ। স্থানীয় থানার ওসি, ডিউটি অফিসার, থানার নম্বর সবার বাসায় সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। এছাড়া ৯৯৯ নম্বরটি রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের নম্বর সবার ফোনে সেভ করে রাখা উচিত। নিজে বিপদের সম্মুখীন হলে, বা কোন অপরাধের প্রত্যক্ষদর্শী হলে সরাসরি পুলিশকে জানানো উচিত।‘
তিনি বলছেন, কোন কারণে স্থানীয় থানা থেকে দ্রুত সহায়তা না পেলে সেখানকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানাতে পারেন।
অপরাধ সংঘটিত হলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিজেরা মামলার বাদী অথবা সাক্ষী হতে পারেন। অথবা শুধুমাত্র পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ নিজেরাও ব্যবস্থা নিতে পারে।

সাধারণ ডায়েরি বা জিডি ঃ

আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রাথমিক এবং সাধারণ একটি বিষয় হচ্ছে জেনারেল ডায়েরি বা জিডি।
বিশেষ করে কোন কিছু হারিয়ে গেলে, আইনগত রেকর্ড সংরক্ষণ বা পুলিশে প্রাথমিক তথ্য জানানোর জন্য করার জন্য সাধারণ ডায়েরি করা হয়ে থাকে। অনেক সময় কারো বিরুদ্ধে অভিযোগও মামলা না করে জিডি আকারে করা হয়ে থাকে।
আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রাথমিক এবং সাধারণ একটি বিষয় হচ্ছে জেনারেল ডায়রি বা জিডি।
জিডি সবসময়ে স্থানীয় থানায় করতে হয়। আপনার বাসা বা অফিস যেখানেই হোক না কেন, যে এলাকায় হারিয়ে গেছে বা ঘটনা যে এলাকায় ঘটেছে, সেখানকার স্থানীয় থানাতেই জিডি করতে হবে। অন্য কোন থানা জিডি নেবে না।
সাদা কাগজে বরাবর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্থানীয় থানা, বিষয়: ‘সাধারণ ডায়রি প্রসঙ্গে’ লিখে বিস্তারিত বিবরণ সহ জিডির আবেদন লিখতে হয়। সেখানে যিনি জিডি করবেন, তার নাম, ফোন নম্বরসহ বিস্তারিত থাকতে হবে। হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে যা হারিয়ে গেছে, সেসব জিনিসের বিস্তারিত বর্ণনা থাকতে হবে।
এনআইডি, আইডি কার্ড, দলিল ইত্যাদি হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটা ফটোকপি সংযুক্ত করতে হতে পারে।
এরকম দুইটি কপি নিয়ে স্থানীয় থানায় গেলে জিডি নথিভুক্ত করে সেই নম্বর বসিয়ে একটি কপি জিডি করা ব্যক্তিকে দিয়ে দেয়া হয়।
নিয়ম অনুযায়ী সব জিডির তদন্ত হবার কথা। কারণ প্রতিটি জিডি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দিতে হয়।
তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলোচিত বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না হলে হারিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়ের সাধারণত পরবর্তীতে আর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। ঢাকায় পাইলট প্রকল্প আকারে অনলাইনে জিডি চালু করা হলেও সেটি খুব বেশি ব্যবহৃত হয় না।

(প্রতিকী ছবি)

মামলা ঃ

মামলা করা মানে হচ্ছে কোন ঘটনার আইনি বিচার চাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা।
মামলার কয়েকটি প্রকার রয়েছে।
যেমন ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলা।

ফৌজদারি মামলা বা ক্রিমিনাল কেস থানায় অথবা আদালতে- উভয় স্থানে দায়ের করা যায়। দেওয়ানী মামলা বা সিভিল কেস আদালতে দায়ের করা হয়ে থাকে।
মামলার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সবসময়েই আইনজীবীদের সহায়তা নেয়া যেতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হালিমা ফেরদৌস বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অপহরণ, হুমকি, অগ্নিসংযোগ, চুরি, ছিনতাই ইত্যাদির মতো ঘটনায় ফৌজদারি মামলা করা হয়ে থাকে।‘’

‘’জমিজমা সংক্রান্ত, সম্পত্তি, পারিবারিক বিরোধ, অর্থ সংক্রান্ত বিরোধ, মানহানি ইত্যাদি ক্ষেত্রে দেওয়ানী মামলা করা হয়।‘’

তিনি বলছেন, কোন ফৌজদারি ঘটনার শিকার হলে প্রথমেই স্থানীয় থানার সহায়তা নেয়া উচিত। সেখানেই তাদের মামলা করার কথা। পুলিশ মামলা নিয়ে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেবে, আসামীদের গ্রেপ্তার করবে। তারপর বিচার শুরু হবে।

‘’তবে থানা যদি কোন কারণে মামলা নিতে না চায়, গড়িমসি করে, তাহলে ওই ব্যক্তি সরাসরি আদালতে মামলা করতে পারেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিলে থানাকে এজাহার আকারে নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিতে পারেন।‘’

থানায় মামলা
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলছেন, ‘’অহেতুক থানার কর্মকর্তাদের মামলা নিতে অস্বীকার করার কথা নয়। এরপরেও এরকম ঘটলে সেটা সেখানকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো উচিত। তাহলে তারা আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।‘’

তিনি জানান, মামলা করার ক্ষেত্রে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব থানাকে অবহিত করতে হবে। সেখানে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরার পাশাপাশি আলামত যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
যে সাদা কাগজে অভিযোগকারীর বিস্তারিত বর্ণনা, অভিযুক্তদের নাম ঠিকানা ইত্যাদি লিখে অভিযোগটি দেয়া হয়ে থাকে, সেটাকে বলে এজাহার। থানার যে রেকর্ড বইতে এই এজাহার সংযুক্ত করে নথিভুক্ত করা হয়, সেটিকে বলা হয় এফআইআর বা ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট। পরবর্তীতে তদন্তে আরও কারো নাম পাওয়া গেলে, আরও তথ্য যোগ হলে, সেটাও এই এফআইআর ও এজাহারের সাথে সংযুক্ত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো মামলার ক্ষেত্রে আলামত রক্ষা করা, প্রমাণ সংরক্ষণ করা এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধর্ষণের মতো ঘটনায় অনেকে গোছল করে ফেলেন। সেক্ষেত্রে আলামত অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। আবার অনেক সময় হত্যা বা দড়িতে ঝুলে মৃত্যুর সময় স্বজনরা সেখানকার আলামত নড়াচড়া করেন, যা মামলার তদন্তে ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে।
অনেক সময় অভিযোগকারী পাওয়া না গেলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে থাকে।

অনেক সময় থানায় মামলার সংখ্যা কম দেখানোর উদ্দেশ্যে থানার কর্মকর্তারা ছিনতাই, চুরির মতো ঘটনায় মামলা না করে জিডি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর মামলা করা উচিত। থানার কর্মকর্তা মামলা নিতে না চাইলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা উচিত।
মামলা হওয়ার পর থানার একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়। অনেক সময় ওসি নিজেও তদন্ত কর্মকর্তা হতে পারেন। আবার মামলা গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি বা র‍্যাবে হস্তান্তরিত হলে সেখানে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তবে যে বাহিনীই তদন্ত করুক না কেন বা আটক করুক না কেন, মামলা স্থানীয় থানায় হতে হবে। এ কারণেই র‍্যাব বা সিআইডি, ডিবি কাউকে আটক করলেও সেটার মামলা স্থানীয় থানায় হয়। তবে সংশ্লিষ্ট বাহিনী সেটার তদন্ত করে থাকতে পারে।
থানার পুলিশ, র‍্যাব, সিআইডি, ডিবি- যেকোনো বাহিনী তদন্ত করার পর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। সেখানে কাউকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ পত্র দেয়া হতে পারে আবার কাউকে তদন্তে নির্দোষ পেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হতে পারে। তার ভিত্তিতে আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে মামলা হতেই হবে। সেক্ষেত্রে অনেক সময় অভিযোগকারী পাওয়া না গেলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে থাকে।

আদালতে মামলা

কোন কারণে থানা মামলা না নিলে বা থানায় মামলা করা সম্ভব না হলে ভুক্তভোগী ব্যক্তি আদালতে মামলা করতে পারেন।
আদালত গ্রহণযোগ্য মনে করলে মামলাটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানাকে এফআইআর গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। অথবা আদালত সেই আবেদন খারিজও করে দিতে পারেন।

রাষ্ট্রদ্রোহের মতো কিছু মামলায় আদালতে সরাসরি বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে জমি-জমা, সম্পত্তি, পারিবারিক বিষয় (পারিবারিক নির্যাতন, নারী সহিংসতা ব্যতীত), অর্থ ইত্যাদি বিষয়ে আদালতে দেওয়ানী মামলা করা যায়।

মামলার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সবসময়েই আইনজীবীদের সহায়তা নেয়া যেতে পারে।

সাধারণত ফৌজদারি এবং দেওয়ানী- উভয় মামলার ক্ষেত্রে আলাদা ধরণের আইনজীবী কাজ করেন। সুতরাং আইনজীবীর সহায়তা নিতে হলে সেটাও আগে জেনে নেয়া দরকার।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হালিমা ফেরদৌস বলছেন, ‘’মামলা ফাইলিংয়ের ক্ষেত্রে এফিডেভিট লাগে বিধায় একজন আইনজীবীর সহায়তা দরকার হয়। তবে ভুক্তভোগী ব্যক্তি চাইলে নিজের মামলা নিজেও পরিচালনা করতে পারেন।‘’

উচ্চ আদালতে রিট ও অন্যান্য

অ্যাডমিরালটি (সমুদ্র-সংক্রান্ত বিষয়) এবং কোম্পানি সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি উচ্চ আদালতে বিচার প্রার্থনা করা যায়।
এছাড়া জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে রিট দায়ের করা যায়।
নিম্ন আদালতের বিচারে সন্তুষ্ট না হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জোবাইদা গুলশান আরা বলছেন, ‘’রিট দাখিলের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো আছে। সেটা অনুসরণ করে যেকোনো ব্যক্তি নিজেই রিট দায়ের করতে পারেন। আদালতের সম্মতি নিয়ে তিনি তার রিটের ব্যাপারে শুনানিও করতে পারেন।‘’
তবে এফিডেভিট দাখিলে অভিজ্ঞ না হলে এসব ক্ষেত্রে কোন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
তবে আগাম জামিনের আবেদন করা ছাড়া নিম্ন আদালতের যেসব মামলার বিচার হয়, সেসব মামলার ব্যাপারে সরাসরি উচ্চ আদালতে যাওয়া যায় না।
নিম্ন আদালতে রায় হলে তার বিরুদ্ধে আপীল বা বিচারে অসন্তুষ্ট হলে সেই ব্যাপারে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে।

আইনি সহায়তা

যেকোনো মামলায় বিচার কার্যক্রম শুরু হলে মামলা ফাইলিং, আইনজীবীদের খরচ থেকে শুরু করে আদালতে বিভিন্ন খরচ থাকে।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের একটি আইনি সহায়তা তহবিল রয়েছে। প্রতিটি জেলা আদালতে এই তহবিল থেকে মামলা চালাতে অক্ষম ব্যক্তিরা সহায়তা নিতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে তাদের তহবিল পাওয়ার শর্ত পূরণ করতে হয়।

এছাড়া বেসরকারি কিছু সংস্থা, যেমন ব্লাস্ট, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস, মহিলা আইনজীবী সমিতির মতো বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা দুঃস্থ ও মামলা চালাতে অক্ষম ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে।
পুলিশ বাদী মামলাগুলো পরিচালনা করে থাকেন সরকারি কৌসুলিরা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হালিমা ফেরদৌস বলছেন, যেসব মামলা হয়ে থাকে, সরকারি কৌসুলি, যেমন পিপি, এপিপি সাধারণভাবে তার পক্ষের একজন আইনজীবী হয়ে থাকে। এছাড়া যিনি মামলা করেছেন, তিনিও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন বা নিজেও আদালতের অনুমতি নিয়ে পরিচালনা করতে পারেন।‘’
(প্রতিবেদনটি তৈরীতে বিবিসি বাংলার সহায়তা নেয়া হয়েছে)।

হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম

0

হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম

নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে ‘মারধরের’ মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম।
তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় দেয়।
এ মামলায় জামিন পাওয়ায় ইরফান সেলিমের কারামুক্তিতে আর বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ।
আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, “তিনি দুটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। আজকে হাই কোর্ট এ মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন। আজকের জামিন আদেশের অনুলিপি পেলেই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।”
তবে রাষ্ট্রপক্ষ হাই কোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ।
গত ২৭ এ মামলায় ইরফান সেলিমের জামিন প্রশ্নে দুই সপ্তাহের রুল দিয়েছিল হাই কোর্ট। তাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছিল রুলে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আর নেই

0

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আর নেই। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
৮১ বছর বয়সী মওদুদ আহমদ কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত চরিত্র মওদুদ আহমদ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি উপ প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, পরে এইচ এম এরশাদের সময়ে উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এবং বুকে ব্যথা অনুভব করায় গত ৩০ ডিসেম্বর মওদুদ আহমদকে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ জানুয়ারি তার হৃদযন্ত্রে পেস মেকার বসানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১ ফেব্রুয়ারি তাকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে।
মওদুদ আহমদের একান্ত সহকারী মোমিনুর  রহমান সুজন বলেন, “স্যার হাসপাতালে আইসিউতে ছিলেন। গত কয়েকদিন ধরেই তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন ছিল। ফুসফুসে পানি জমা হচ্ছিল। তাতে অক্সিজেন গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায়। পাশাপাশি উনার কিডনি জটিলতাও ছিল, ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছিল।”
মওদুদ আহমদের নরওয়ে প্রবাসী মেয়ে সিঙ্গাপুর আসার পর পারিবারিকভাবে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হবে এবং তার দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
প্রবীণ এই আইনজীবীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, “মওদুদ আহমদের এই চলে যাওয়ায় জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তিনি সারাদেশের একজন মুরুব্বি ছিলেন।… তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন রাজনীতিবিদকে হারিয়েছে, দেশের জনগণ একজন জনপ্রতিনিধিকে হারাল।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
১৯৪০ সালে নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের জন্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করে তিনি যুক্তরাজ্যে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি নেন। পরে দেশে ফিরে যুক্ত হন আইন পেশায়।
কবি জসীমউদ্দীনের জামাতা ব্যারিস্টার মওদুদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মপক্ষ সমর্থন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাকে প্রথম পোস্ট মাস্টার জেনারেল করা হয়।
পরে দেশের প্রথম সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যোগ দেন মওদুদ। বিএনপি গঠনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জিয়া তাকে মন্ত্রী ও পরে উপপ্রধানমন্ত্রী করেছিলেন।
জিয়ার মৃত্যুর পর মওদুদ সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাত ধরেন। এরশাদের নয় বছরের শাসনামলে তিনি মন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
এরশাদ সরকারের পতনের পরও জাতীয় পার্টিতেই ছিলেন মওদুদ। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তিনি বিএনপিতে ফেরেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত মওদুদ, আইন ও সমকালীন রাজনীতি নিয়ে বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন। স্বায়ত্বশাসন থেকে স্বাধীনতা, বাংলাদেশ: শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ – প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের রাজনীতি ও সামরিক শাসন, এ স্টাডি অব দ্য ডেমোক্রেটিক রেজিমস, কারাগারে কেমন ছিলাম, বাংলাদেশ: ইমার্জেন্সি অ্যান্ড আফটারম্যাথ  ২০০৭-২০০৮ তার উল্লেখযোগ্য বই্।   
বিভিন্ন মহলের শোক ঃ
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রবীণ আইনজীবী মওদুদ আহমেদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “মওদুদ  আহমদের বর্নাঢ্য রাজনৈতিক  জীবন।  উপমহাদেশের অন্যতম আইনজ্ঞকে আমরা হারালাম, বিএনপি ও বাংলাদেশ হারালো একজন অভিভাবককে।

“তার এই মৃত্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে শোকগ্রস্ত। কারণ তার সাথে আমার দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। তিনি আমাদের বিএনপির একজন অভিভাবক ছিলেন। এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।’

মওদুদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “জাতি একজন বীর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রবীন রাজনীতিবিদকে হারিয়েছে।”  

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নোয়াখালীর যে আসনের সাংসদ ছিলেন, এখন সেই আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এক শোক বার্তায় তিনি প্রয়াত এই বিএনপি নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও তাদের এই সহকর্মীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতা কাদের সিদ্দিকী, এলডিপির অলি আহমেদ, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং ২০ দলীয় জোটের নেতারা মওদুদ আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।