ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ২:৫৬ 

Home Blog Page 131

দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কতজনকে ‘দায়মুক্তি’ দিয়েছেন, জানতে চায় হাই কোর্ট

0

দুর্নীতি দমন কমিশনের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ অবসরে যাওয়ার আগের পাঁচ মাসে দুদকের অনুসন্ধান থেকে কতজনকে ‘দায়মুক্তি’ দিয়েছেন, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। ‘দায়মুক্তি’ দিয়ে থাকলে কেন তা দেওয়া হয়েছে, তাদের নাম, ঠিকানাসহ তালিকা আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে দুদককে দিতে বলা হয়েছে।
দুদকে ‘অনুসন্ধান বাণিজ্য’- শিরোনামে  গত ১৪ মার্চ দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নজরে আসার পর মঙ্গলবার স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেয় বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ।
সেই সঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবেদককে এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আদালতে দাখিল করতে বলা হয়।
ইকবাল মাহমুদ ২০১৬ সালের ১০ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন। প্রায় পাঁচ বছর তিনি দায়িত্ব পালন করে গত ৯ মার্চ তিনি বিদায় নেন।
এদিকে সরকারি সংস্থা সাধারণ বীমা করপোরেশনে ১০ বছর ধরে ‘জায়িয়াতি’ এবং ২৬ কোটি টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে সংস্থাটির অবস্থান কী, তা জানতে চেয়েছে আদালত। সাধারণ বীমা কর্তৃপক্ষকে তা লিখিতভাবে ১১ এপ্রিলের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘১০ বছর ধরে জালিয়াতি, ২৬ কোটি টাকা আত্মসাত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন নজরে আনার পর হাই কোর্টের একই বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।  এ প্রতিবেদনের প্রতিবেদককেও যাবতীয় তথ্য আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। 
প্রতিবেদন দুটি আদালতের নজরে আনেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন মানিক।
তিনি বলেন, “আজ সকালে দুটি পত্রিকার দুটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনলে আদালত দুটি প্রতিবেদনের বিষয়েই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দিয়েছেন।”
‘দুদকে ‘অনুসন্ধান বাণিজ্য’ শিরোনমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদায়ের আগে ‘দুর্নীতির বহু রাঘব বোয়ালকে’ ছেড়ে দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
“তাদের দায়মুক্তি আড়াল করতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন কিছু নিরীহ ও দুর্বল ব্যক্তিকে। সব মিলিয়ে শেষ ৫ মাসে তিনি ২ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (দায়মুক্তি) দেন। তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
“সূত্রটি জানায়, ইকবাল মাহমুদ বিদায় নেয়ার আগে স্বীয় কৃতকর্মের অনেক দালিলিক প্রমাণই যথাসম্ভব ‘নিশ্চিহ্ন’ করে যান। এর পরও এ প্রতিবেদকের হস্তগত হয় বেশকিছু নথি। সে অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই শতাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
“সূত্রমতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলো সত্যিকারার্থে অনুসন্ধান হয়নি। হয়েছে অনুসন্ধান-বাণিজ্য। কথিত ‘নথিভুক্তি’ কিংবা ‘অনুসন্ধান পরিসমাপ্তি’র নেপথ্যে রয়েছে কোটি কোটি টাকার লেনদেন।”
আর বীমা করপোরেশনের জালিয়াতি নিয়ে মঙ্গলবার প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব খুলে রাষ্ট্রীয় সংস্থা সাধারণ বীমা করপোরেশনের (এসবিসি) আয় থেকে ২৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি চক্র।
“চক্রটির নেতৃত্ব দিয়েছেন এ সংস্থারই প্রধান কর্যালয়ের অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগের ব্যবস্থাপক আবুল কাশেম। ১০ বছর ৬ মাস ধরে এ কাণ্ড ঘটে চললেও এসবিসি ছিল পুরোপুরি অন্ধকারে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

পি কে হালদার কেলেঙ্কারিঃ হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে নড়েচড়ে বসছে দুদক, গ্রেপ্তার হচ্ছেন এস কে সুর ও শাহ আলম

0

অর্থ ‘পাচার’ ঘটনায় পি কে হালদারের সহযোগী বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমের শেষ রক্ষা হচ্ছে না। তাদের জেলে যেতেই হচ্ছে । হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এতোদিনেও কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হলো না তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে হাই কোর্ট।
হাইকোর্ট দুদককে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে অর্থপাচার ও দুর্নীতির সহযোগী এস কে সুর ও শাহআলমকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ না নিলে আদালত এ বিষয়ে আদেশ দিতে বাধ্য হবে। সোমবার কড়া ভাষায় দুদককে জানিয়ে দিয়েছে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল বেঞ্চ।
হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থানের পর দুদকও তার অবস্থান পাল্টিয়েছে বলে জানা গেছে। যে কোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে দুজনকে। এ জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে দুদক।
সোমবার এ বিষয়ে শুনানির এক পর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক নজরুল ইসলাম তালুকদার দুদকের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, পি কে হালদারের অর্থ আত্মসাত এবং পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার যারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং সেই জবানবন্দিতে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বিষয়ে দুদক কী পদক্ষেপ নিয়েছে।
জবাবে দুদকের আইনজীবী বলেন, জবানবন্দিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের কাউকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কেউ কেউ পলাতক।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার তখন বলেন, “এস কে সুর ও শাহ আলমের নাম বিভিন্ন মাধ্যমে আসছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন?”
দুদকের আইনজীবী তখন বলেন, কমিশনের চিঠির ভিত্তিতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইনানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেছে।
বিচারক তখন দুদকের আইনজীবীর কাছে প্রশ্ন রাখেন- “গ্রেপ্তার করছেন না কেন? আপনারা পদক্ষেপ না নিলে আদেশ দিতে বাধ্য হব। আগে তাদের ধরেন। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে মেহমানদারী করতে পারেন না। তাদের অবশ্যই কারাগারে নিতে হবে।” 
পলাতক পি কে হালদারের দুই সহযোগী ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হক ও পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী আদালতে যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, সেখানে এস কে সুর ও শাহ আলমের নাম আসে।  

পিপলস লিজিংয়ের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরাও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই দুই সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে আসছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ আমানতকারীর আবেদনে হাই কোর্ট গত ৫ জানুয়ারি ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যাদের মধ্যে এস কে সুর চৌধুরীর নামও ছিল।
অভিযোগ ওঠার পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে তিনি অন্য বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন।
আর এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।
পিকে হালদার নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন।
এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অংকের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন এবং এ কাজে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার ‘যোগসাজশ’ ছিল বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য।
বিদেশে পালিয়ে থাকা পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। ভুয়া ও কাগুজে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৫১ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও আত্মসাতের অভিযোগে পি কে হালদারসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করেছে দুদক।

দুই প্রতিবেদন ঃ

পিকে হালদারের পালিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত বাংলাদেশে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে এদিন আদালতে দুটি প্রতিবেদন দেয় পুলিশ ও বাংলাদেশ ব্যাংক।
পিকে হালদার পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল ও শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের কতজন দায়িত্বে ছিলেন, কারা কারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ভূমিকা কী ছিল, পুলিশের প্রতিবেদনে সেই তথ্য এসেছে।
পাসপোর্ট জব্দে হাই কোর্টের নির্দেশ থাকার পরও পি কে হালদার কীভাবে দেশ থেকে পালিয়েছে, তা জানতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। 
ইমিগ্রেশন পুলিশ প্রতিবেদন সম্পর্কে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মানিক জানান , “২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর বিকেল পৌনে ৪টায় যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তিনি (পি কে হালদার) দেশ ত্যাগ করেন। সেদিন ইমিগ্রেশন পুলিশের ৫৯ জন সদস্য বেনাপোল স্থলবন্দরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।”
পিকে হালদার পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা ছিল কিনা, প্রতিবেদনে সে বিষয়ে কী বলা হয়েছে জানতে চাইলে এই আইন কর্মকর্তা বলেন, “এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের কোনো ব্যর্থতা বা গাফিলতি ছিল না। পিকে হালদারের পালিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত দুদকের চিঠি তারা পেয়েছে সে পালিয়ে যাওয়ার পরে।”
ডিএজি মানিক বলেন, পি কে হালদার যাতে দেশত্যাগ করতে না পরে সেজন্য ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর পুলিশের বিশেষ শাখায়  (এসবি) চিঠি দেয় দুদক। ডাকযোগে পাঠানো সেই চিঠি এসবি পায় ২৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায়। পরে এসবি সে চিঠি দেশের সব স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরে দায়িত্বপালনকারী ইমিগ্রেশন ইউনিটকে পাঠায়। ইমিগ্রেশন ইউনিট ওইদিন পৌনে ৬টায় চিঠি পায়। কিন্তু তার ঘণ্টা দুই আগে বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পি কে হালদার দেশ ছেড়ে যান।
“প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠি পাঠানোর আগে দুদক যদি ২৩ অক্টোবর সকালে টেলিফোনে ইমিগ্রেশন পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করত, তাহলে পিকে হালদারের পালানোর পথ হয়ত বন্ধ করা যেত।”
তবে দুদকের আইনজীবী শুনানিতে দাবি করেন, এক্ষেত্রে কমিশনের কোনো গাফিলতি ছিল না।
আইনজীবী খুরশীদ আলম খান পরে সাংবাদিকদের বলেন, “দুদকের লিখিত কপিটা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক রিসিভ করেছেন ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে। সেটা আরও কনফার্ম করতে সেই চিঠিটা হোয়াটস অ্যাপে পাঠানো হয় ২টা ৪৩ মিনিটে। সেটা যে তারা রিসিভ করেছেন, সেটিও দুদকের কাছে আছে। সুতরাং দুর্নীতি দমন কমিশনের এখানে কোনো অবহেলা ছিল না।”
এদিকে অর্থ পাচার রোধ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তদারকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ (আইএডি), আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ (এফআইআইডি) ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বাজার বিভাগ (ডিএফআইআইডি) বিভাগে গত এক যুগ (২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত) কোন কোন কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের নাম, পদবী, ঠিকানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগে (আইএডি) গত এক যুগে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৭৫ জন কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগে (এফআইআইডি) দায়িত্ব পালন করেছেন ৫০ জন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বাজার বিভাগ (ডিএফআইআইডি) বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন ১২৯ জন। মোট ৩৫৪ জন বাংলাদেশ ব্যাংকের এই তিন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ সময়ে (২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত) অর্থপাচার রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা আছে কিনা, ব্যর্থ হয়ে থাকলে কেন হলেন, অর্থপাচারের বিষয়টি তারা টের পেয়েছিল কিনা, পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন কিনা,  তাদের ইন্ধন বা যোগসাজশে অর্থপাচার হয়েছে কিনা,বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে সে তথ্য ছিল না। 
ডিএজি মানিক জানান এসব বিষয় জানাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাত সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৬ এপ্রিল বিষয়টি পরবর্তী শুনানির জন্য রাখা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রের এই আইন কর্মকর্তা।

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ল আরও ৬ মাস, যেতে পারবেন না বিদেশ, আগের সব শর্ত বহাল

0

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়েছে। তবে এ সময়ে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ কথা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা আরও ৬ মাসের জন্য স্থগিত রেখে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতও প্রস্তাবের সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল।
এর আগে গত ৮ মার্চ খালেদা জিয়ার শাস্তি স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর বিষয়ে মতামত দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে আগের শর্তগুলো বহাল রাখার বিষয়ে তাদের মতামতের কথাও জানায় আইন মন্ত্রণালয়।
আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় দফায় ৬ মাসের মুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ মার্চ।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা ১-এ খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে দেশের অভ্যন্তরে বিশেষায়িত চিকিৎসা নেওয়ার শর্তে এ মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
গত ২ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করে এ-সংক্রান্ত আবেদন করেন।
খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো, মওকুফ এবং শর্ত শিথিল করে বিদেশে পাঠানোর আবেদন করা হয়।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এ মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
কারান্তরীণ অবস্থায়ই চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। এভাবে কয়েক দফায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এবং হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়া হয়।
মামলা দুটি ষড়যন্ত্রমূলক বলার পাশাপাশি বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ ক্ষেত্রে তারা আদালতেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বরাবরই বিফল হতে হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বকে।
এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির জোর দাবি তোলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়। সেই প্রেক্ষাপটে নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ দুই বছর পর সরকার শর্তসাপেক্ষে ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেয়। প্রথম দফা মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসলে গত বছরের ২৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদন বিবেচনা করে সরকার দ্বিতীয় দফায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ মাসের জন্য তার মুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করে।

৭ বছরের শিশু ধর্ষণ, জামালপুরে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

0

জামালপুরের ইসলামপুরে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে হাফেজ মো. সাইদুল ইসলামকে (২০) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক এম আলী আহমেদ এই রায় দেন ।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইমাম সাইদুল ইসলাম ইসলামপুর উপজেলার মোহাম্মদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. সাহাব আলীর ছেলে। তিনি ওই এলাকার পূর্বপাড়া জামে মসজিদে ইমামতি করতেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আকরাম হোসেন জানান, দণ্ডিত সাইদুল ইসলাম ধর্ষণের শিকার শিশুটির পিতার চাচার বাড়িতে থেকে মসজিদে ইমামতি করতেন এবং মক্তবে ছাত্রছাত্রী পড়াতেন। ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর সকালে মক্তবপাঠ শেষে তিনি বাড়ি ফিরে ওই শিশুকে ঘর পরিষ্কারের জন্য ডেকে নিয়ে যান। বাড়িতে লোকজন না থাকায় শিশুটিকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান।
শিশুটিকে প্রথমে ইসলামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তারি পরীক্ষায় শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে আলামত পাওয়া যায়।
পরে ২২ নভেম্বর শিশুটির পিতা বাদী হয়ে ইমাম সাইফুল ইসলামকে আসামি করে ইসলামপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। সেই মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে আদালত এই রায় দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি: দুদুর বিরুদ্ধে চার্জশিট

0

টেলিভিশন টক শোতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে চট্টগ্রামে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।
সোমবার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কামরুন নাহার বেগমের আদালত এই আদেশ দেয়া হয়।
২০২০ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নুরুল আলম বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা করার ব্যবস্থা নিতে রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেন।
এরআগে গত ৬ই সেপ্টেম্বর ডিবিসি নিউজের ‘রাজকাহন’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু।

সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি মতিন খসরু,সম্পাদক কাজল; সংখ্যাগরিষ্ঠতা আওয়ামীপন্থিদের

0

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু।
আর টানা দ্বিতীয়বারের মতো সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপিপন্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুক্রবার ভোট গণনা শেষে রাত একটার দিকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আহ্বায়ক সাবেক বিচারপতি এএসএম আবদুর রহমান ফল ঘোষণা করেন।
এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়।
এবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৪টি পদের মধ্যে ৮টি পদে বিজয়ী হয়েছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত ‘সাদা প্যানেল’র প্রার্থীরা। আর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত নীল প্যানেলে’র প্রার্থীরা ৬টি পদে বিজয়ী হয়েছেন।
সভাপতি, একটি সহ-সভাপতি, একটি সহ-সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও চারটি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাদা প্যানেলের প্রর্থীরা।
আর সম্পাদক, একটি সহ-সভাপতি, একটি সহ-সম্পাদক ও তিনটি সদস্য পদ পেয়েছে বিএনপিপন্থি নীল প্যানেল।
সভাপতি পদে আবদুল মতিন খসরু ২ হাজার ৯৬৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নীল প্যানেলের মো. ফজলুর রহমান পেয়েছেন ২ হাজার ১৩২ ভোট।
সম্পাদক পদে নীল প্যানেল থেকে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস ৩ হাজার ৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা প্যানেলের আবদুল আলিম মিয়া পেয়েছেন ২ হাজার ২০৪ ভোট।
সহ-সভাপতির দুটি পদের একটিতে নীল প্যানেলের মো. জালাল উদ্দিন সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যটিতে ২ হাজার ৬১১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সাদা প্যানেলের মুহাম্মদ শফিক উল্ল্যা।
কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাদা প্যানেলের প্রার্থী মো. ইকবাল করিম। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৮৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব পেয়েছেন ২ হাজার ১৫১ ভোট।  
সহ-সম্পাদকের দুটি পদের মধ্যে একটিতে জয় পেয়েছেন নীল প্যানেলের মাহমুদ হাসান, তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৭২৪ ভোট। অন্যটিতে সাদা প্যানেলের সাফায়েত সুলতানা রুমা ২ হাজার ৫১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সাতটি সদস্য পদের মধ্যে সাদা প্যানেলের যে চার প্রার্থী বিজয় হয়েছেন তারা হলেন, হলেন এ বি এম শিবলী সাদেকীন, মাহফুজুর রহমান, মিন্টু কুমার মণ্ডল, মুনতাসীর উদ্দিন আহমেদ।
আর নীল প্যানেলের বিজয়ীরা হলেন, এস এম ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ, পারভীন কাওসার ও রেদওয়ান আহমেদ।
এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ৫১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ভোটার ৭ হাজার ৭২১ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৪৮৬ জন ভোট দিয়েছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দফতরে, দু’একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত

0

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হবে কি না তা এখন নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই প্রস্তাবটি অনুমোদন হয়ে এলে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার সাজা আরও ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতও প্রস্তাবের সঙ্গে পাঠানো হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা ১-এ খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাঁকে দেশের অভ্যন্তরে বিশেষায়িত চিকিৎসা নেওয়ার শর্তে এ মুক্তি দেওয়া হবে। এই সময় দেশের বাইরে যেতে পারবেন না তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত কারাগারে পাঠান। এর দুই বছরের বেশি সময় পর করোনা পরিস্থিতিতে শর্ত সাপেক্ষে তাঁকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়েছিল গত বছর। পরে মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়, যার সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ২৪ মার্চ। তার আগেই পরিবারের পক্ষ থেকে আবার আবেদন করা হয়েছে।’

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি র‍্যাব, ৯ বছরে ৭৯ বারের মতো পেছালো

0

৭৯ বারের মতো পেছালো সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন। এ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল বৃহস্পতিবার। তবে র‍্যাবের পক্ষ থেকে আজ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। পরে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দিন ধার্য করেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী এই আদেশ দেন।
এ নিয়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালত ৭৯ বার সময় দিলেন। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১১ মার্চ ধার্য করেছিলেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হন। ফ্ল্যাটে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়।

সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাঁদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে এসে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হবে। সেই ৪৮ ঘণ্টা এখন নয় বছর পেরিয়ে গেছে।

সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে এই মামলা তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র‍্যাবকে মামলা তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই থেকে র‍্যাব মামলাটি তদন্ত করছে।
দীর্ঘ ৯ বছরেও সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ না হওয়ায় পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও সাংবাদিক নেতারা হতাশ-ক্ষুব্ধ-ব্যথিত।
সাগর-রুনির পরিবার ও স্বজনেরা বলছেন, ৯ বছর ধরে এই মামলায় কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। এ অবস্থায় তাঁরা বিচারের আশা দেখছেন না।

আইন মন্ত্রণালয় ও টেলিটকের চুক্তি, মামলার তারিখ জানা যাবে মোবাইল ফোনে

0

আদালতে যথাসময়ে সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সমনজারি পদ্ধতির পাশাপাশি সাক্ষীর মোবাইল ফোনে এসএমএস- এর মাধ্যমে ফৌজদারী মামলার তারিখ জানাবে টেলিটক কোম্পানী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের মধ্যে এ সম্পর্কিত চুক্তি সম্পাদিত হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপির নির্দেশনায় এবং আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ারের তত্ত্বাবধানে আদালতে বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে দ্রুততম সময়ে সাক্ষীকে অবগত করার জন্য এ চুক্তি সম্পাদিত হয়।
এ চুক্তির মাধ্যমে ফৌজদারি মামলার সাক্ষীরা আদালতে বিচারাধীন মামলার ধার্য তারিখ সম্পর্কে বিদ্যমান সমন জারি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি এসএমএস-এর মাধ্যমে অবগত হবেন। ফলে সহজে ও স্বল্প খরচে আদালতে সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত হবে, যার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।
আইন ও বিচার বিভাগের পক্ষে যুগ্মসচিব এএইচএম হাবিবুর রহমান ভুঁইয়া এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষে জেনারেল ম্যানেজার প্রভাষ চন্দ্র রায় উক্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ারসহ আইন ও বিচার বিভাগ এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এসএমএস-এর মাধ্যমে এই ডিজিটাল সমন জারির কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। আগামী ১৮ মার্চ এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। প্রাথমিকভাবে কুমিল্লা ও নরসিংদী জেলায় পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে কার্যক্রমটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ট্রেনে নারীদের জন্য বিশেষ কামরা কেনো নয়, জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল

0

ট্রেনে শুধু নারীদের জন্য বিশেষ কামরা বরাদ্দ রাখার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
সেই সঙ্গে শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ট্রেনে তাদের জন্য সংরক্ষিত আসন বরাদ্দের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। 
এ সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ রুল দেয়।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজমল  হোসেন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
আইনজীবী আজমল  হোসেন খোকন বলেন, রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারায় প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারীদের ব্যবহারের জন্য একটি সংরক্ষিত কামরার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। সেই ট্রেন যদি ৫০ মাইলের বেশি ভ্রমণ করে, তাহলে সংরক্ষিত কামরার সাথে একটি শৌচাগার রাখার কথাও বলা হয়েছে।
আর এ আইনের ১১৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো পুরুষ যদি কোনো আইনগত কারণ ছাড়া সংরক্ষিত নারী কামরায় প্রবেশ করে, তাহলে রেল কর্তৃপক্ষ তাকে জরিমানা করতে পারবে, তার টিকেট বাজেয়াপ্ত করে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিতে পারবে।
“কিন্তু আইনের এসব বিধানের প্রয়োগ, বাস্তবায়ন না থাকায় রিট আবেদনটি করা হয়। আাদলত শুনানি নিয়ে রুল দিয়েছেন।”
নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেনে সংরক্ষিত কামরা বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে আইনের ওই দুটি ধারার বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিস্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক, রেলওয়ের মহাপরিচালক, ব্যবস্থাপক ও পরিদর্শককে চার সপ্তাহের জন্য রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ও ১১৯ ধারা বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৩ জানুয়ারি জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ পারভীন।
পরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি একটি সম্পূরক আবেদন করেন। সেসব আবেদনের শুনানির পর বুধবার রুল জারি করল হাই কোর্ট। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।