ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ১:৩৬ 

Home Blog Page 132

আদালতে হাজিরা দিলেন কার্টুনিস্ট কিশোর, মিনহাজকে হাজির হতে হবে তদন্ত কর্মকর্তার সামনে

0

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের  মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর প্রথমবারের মত আদালতে হাজিরা দিলেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর।
বুধবার তিনি ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে হাজিরা দেন।
পুনঃতদন্তে থাকা এ মামলার এজাহারভুক্ত আরেক আসামি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নানকেও আগামী সাত দিনের মধ্যে যে কোনো একদিন  তদন্ত কমকর্তার কাছে হাজির  হতে বলা হয়েছে।
জামিনে থাকা মিনহাজ মান্নান হাজির হলে তাকে তদন্ত কমকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এটা রিমান্ড নয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ- কমিশনার জাফর হোসেন জানান।
আসামিদের পক্ষে এদিন আদালতে ছিলেন আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ মনসুরসহ আরো অনেকে।
করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে গতবছর ৫ মে লেখক মুশতাক আহমেদ এবং কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, ব্রোকারেজ হাউজ বিএলআই সিকিউরিটিজের কর্ণধার মিনহাজ মান্নান এবং রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠক দিদারুল ভূইয়াকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই জামশেদুল ইসলাম তখন বলেছিলেন, কার্টুনিস্ট কিশোর তার ‘আমি কিশোর’ নামের ফেইসবুক একাউন্টে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনামূলক কার্টুন-পোস্টার পোস্ট করতেন। আর মুশতাক তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে কিশোরের সেসব পোস্টের কয়েকটি শেয়ার করেন।
পরে দিদারুল ও মিনহাজ মান্নান জামিনে মুক্তি পেলেও কিশোর ও মুশতাকের আবেদন সে সময় কয়েক দফা নাকচ হয়।
এই মামলায় আসামির তালিকায় মুশতাক, কিশোর, দিদার, মিনহাজের সঙ্গে আরও ছিলেন নেত্র নিউজের সম্পাদক সুইডেন প্রবাসী তাসনিম খলিল, জার্মানিতে থাকা ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক শাহেদ আলম, হাঙ্গেরি প্রবাসী জুলকারনাইন সায়ের খান (আল জাজিরার প্রতিবেদনের স্যামি), আশিক ইমরান, স্বপন ওয়াহিদ ও ফিলিপ শুমাখার।
তবে তদন্তের পর শুধু মুশতাক, কিশোর ও দিদারকে আসামি করে গত জানুয়ারিতে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় রমনা থানা পুলিশ। বাকি আট আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন এ মামলায় পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।
সেই দায়িত্ব পাওয়ার পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) উপপরিদর্শক ও মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আফছর আহমেদ আসামি কিশোর ও মুশতাককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন।
কিন্তু সেই শুনানি হওয়ার আগেই ২৫ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দি অবস্থায় মুশতাকের মৃত্যু হয়। আর হাই কোর্ট থেকে গত ৩ মার্চ ছয় মাসের জামিন পাওয়া কিশোর পরদিন কারামুক্ত হন।   
তদন্ত কর্মকর্তা আফছর আহমেদ জামিনে থাকা দুই আসামি মিনহাজ মান্নান আর দিদারুলকেও জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়েছিলেন আদালতের কাছে। তবে দিদারুলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেননি বিচারক ।
কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যাওয়া লেখক মুশতাক আহমেদের মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ফেরত দেওয়ার জন্য বুধবার আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী।
পরে আদালত জব্দ জিনিসগুলো ফেরত দেওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

দুদকে যোগ দিলেন নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার

0

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং কমিশনার মো. জহুরুল হক তাদের দপ্তরে যোগ দিয়েছেন।
বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছালে কমিশন সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার তাদের অর্ভ্যন্তণা জানান।
দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, “আমাদের নতুন চেয়ারম্যান এবং নতুন কমিশনার আজ দপ্তরে যোগদান করেছেন।”
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহকে গত ৩ মার্চ দুদকের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয় সরকার। একই দিনে দুদকের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক।
মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ দুদক চেয়ারম্যান পদে ইকবাল মাহমুদের স্থলাভিষিক্ত হলেন। আর জহুরুল হক দুদকের কমিশনার (তদন্ত)  পদে এ এফ এম আমিনুল ইসলামের জায়গায় দায়িত্ব নিলেন।
কমিশনে অপর সদস্য হিসেবে রয়েছেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খান। তার মেয়াদ আছে ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত।
আইন অনুযায়ী, তিনজন কমিশনারের সমন্বয়ে দুদক গঠিত হয়। কমিশনারদের মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর। তাদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।
দুদকের নতুন চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে অবসরে যাওয়ার পর ২০১৯ সালের জুলাই মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত উন্নয়ন সংস্থা পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউণ্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান।
১৯৫৯ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করা আবদুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে ১৯৮৩ সালে জনপ্রশাসনে যোগ দেন।
সরকারি চাকরিতে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

দুর্নীতির মামলায় হাজী সেলিমের ১০ বছরের সাজা বহাল হাইকোর্টে

0

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে বিশেষ জজ আদালতের দেওয়া ১০ বছরের সাজা বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।
বিশেষ আদালতের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে তার করা আপিল খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (৯ মার্চ) এ আদেশ দেয়। আদালতের রায়ের কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
তবে দুদক আইনের ২৬ ধারায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দেওয়া সাজা বাতিল করে দিয়েছে আদালত। দুদক আইনের ২৬ ধারায় তাকে ৩ বছর এবং ২৭ ধারায় তাকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল।
২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করে। এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর হাজী সেলিম এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন।
২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে তার সাজা বাতিল করেন। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। তারই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টে আপিল শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।

যারা দেশের ইমেজ নষ্ট করবে তাদের জামিন আবেদন আমরা বিবেচনা করব না, হুঁশিয়ারি প্রধান বিচারপতির

0

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় এক আসামির জামিন আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন ‘আমেরিকায়ও তো মানুষ স্যাটায়ার করে। কিন্তু আমাদের এখানকার মতো কুৎসিতভাবে লেখে না। যেসব ভাষা লেখে একজন শিক্ষিত মানুষ, কীভাবে এসব ভাষা ব্যবহার করতে পারে? তাহলে শিক্ষার দাম কী হলো?’
তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, দেশের ইমেজ সবার আগে। সাবধান করে বলছি, যারা দেশের ইমেজ নষ্ট করবেন, তাদের জামিনের বিষয়ে আমরা বিবেচনা করব না।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, দেশের ইমেজ সবার আগে। লেখেন, কিন্তু এ রকমভাবে কিছু করবেন না, যা একজন শিক্ষিত মানুষের জন্য শোভা পায় না।
সিলেটে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় এক আসামির জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানিতে রোববার প্রধান বিচারপতি এসব মন্তব্য করেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ভার্চ্যুয়াল আপিল বিভাগ আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেন।    প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে কটাক্ষ ও নেতিবাচক বিভিন্ন পোস্ট ও ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে পোস্ট ও শেয়ার করার অভিযোগে গোলাম সারোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা হয়। সিলেট থানায় গত বছরের মার্চে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওই মামলা হয়। এ মামলায় গত বছরের অক্টোবরে হাইকোর্ট রুল দিয়ে সারোয়ারকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল আবেদন করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৮ অক্টোবর চেম্বার আদালতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় রোববার আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি শুনানির জন্য ওঠে।    
শুনানিতে সারোয়ারের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এক বছর ধরে কারাগারে আছেন সারোয়ার। এই মামলায় এখন পর্যন্ত অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। তাঁর হৃদযন্ত্রে চারটি স্টেন্ট পরানো আছে, স্বাস্থ্যগত কারণে জামিন চাওয়া হয়েছে।
আদালত বলেন, এত স্টেন্ট থাকার পরেও আপনি এসব করেন? তখন আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১৪ মার্চ থেকে কারাগারে আছেন। প্রায় এক বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে আছেন। অভিযোগপত্র হয়নি এখনো। হাইকোর্ট মূলত মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন দিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যতে এগুলো করলে আর ছুটবেন (জামিন) না, যতই কথা বলুক। এসব বাড়াবাড়ি করে দেশের ইমেজ যদি নষ্ট করেন, দেশের ইমেজ হলো সবার আগে। আইনজীবী আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১৮ অক্টোবর চেম্বার আদালত থেকে স্থগিতাদেশ (জামিন স্থগিত) দেওয়া হয়। তারপর পাঁচ মাস হয়ে গেছে।
আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি সতর্ক করবেন। আবার যদি আসে তারপরে আর বেল (জামিন) হবে না। দেশের ইমেজ আপনারা নষ্ট করে দেবেন। আমেরিকায় তো মানুষ ‘স্যাটায়ার’ করে। কিন্তু আমাদের এখানকার মতো কুৎসিতভাবে লেখে না। যেসব ভাষা লেখে একজন শিক্ষিত মানুষ কীভাবে এসব ভাষা ব্যবহার করতে পারে? তাহলে শিক্ষার দাম কী হলো?
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ বলেন, শব্দ চয়নগুলো খুবই কুৎসিত। প্রধান বিচারপতি বলেন, এক দিন একজনেরটি পড়েছি। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এগুলো পড়া যায় না। শব্দ চয়ন এমন সবার সামনে বলাও মুশকিল হয়।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, আপনি লেখেন, কিন্তু এ রকমভাবে কিছু করবেন না, যেটি একজন শিক্ষিত মানুষের জন্য শোভা পায় না। শুনানি নিয়ে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। ফলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সিলেটে র‍্যাবের করা ওই মামলায় সারোয়ারকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এতে করে সারোয়ারের কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই।

৭ মার্চের ভাষণ প্রকৃত অর্থেই স্বাধীনতার ঘোষণাঃ প্রধানমন্ত্রী

0

জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল প্রকৃত অর্থেই স্বাধীনতার ঘোষণা, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এতে একদিকে যেমন গেরিলা যুদ্ধের নির্দেশনা,অন্যদিকে জনগণকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতের রণকৌশলও ছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, “জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণে ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম-’ দুইবার এই কথাটা বলেছেন এবং শেষেরবার সবথেকে জোর দিয়ে বলেছেন। অর্থাৎ এটা যে স্বাধীনতা সংগ্রাম বা যুদ্ধটা যে স্বাধীনতা যুদ্ধ হবে তা তিনি স্পষ্ট বলে গেছেন। কাজেই একভাবে বলতে গেলে ৭ মার্চের ভাষণই ছিল প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষণা।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণে বাঙালির অত্যাচার-নির্যাতন এবং বঞ্চনার ইতিহাস এবং সবথেকে বড় কথা এই ভাষণের মধ্যদিয়ে একটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার সঠিক দিক নির্দেশনা জাতির পিতা দিয়ে গেছেন। কারণ একটা গেরিলা যুদ্ধ হবে সেই যুদ্ধ করতে হলে কি কি করতে হবে-সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলা থেকে শুরু করে যার যা কিছু রয়েছে তা নিয়ে শ্রক্রুর মোকাবেলা করতে তিনি বলেছেন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা জানতেন যে সময় স্বাধীনতার ঘোষণাটা অফিসিয়ালি তিনি দেবেন সে মুহুর্তে তিনি হয়তো বেঁচে নাও থাকতে পারেন। সেজন্য তাঁর এই ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্যেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণাটা দিয়ে গেলেন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন উপলক্ষ্যে সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে গণভবন থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর থেকে সে সময়ের পূর্ব-পাকিস্তান কিভাবে চলবে জাতির পিতা তাঁর সকল দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। সবথেকে ঐতিহাসিক ব্যাপার হলো তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাঁর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে যে ঘোষণা দিতেন সে নির্দেশনাতেই দেশ চলতো। অফিস-আদালত থেকে শুরু করে ট্রেজারি চালান সবকিছু বন্ধ, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তখন ঐ ৩২ নম্বরে। কেমন ছিল সেই নিয়ন্ত্রণ ? এর উদাপারণ হিসেবে তিনি স্মৃতি রোমন্থনে বলেন, সে সময় ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশে আসলে কোন বাবুর্চি বাবুর্চি খানায় কাজ করতে চায়নি। বাধ্য হয়ে তখন প্রেসিডেন্ট হাউজ থেকে টেলিফোন আসে যেন ৩২ নম্বর থেকে বলে দেওয়া হয় ‘রান্নাঘরে যেন বাবুর্চিরা কাজ করে।’
শেখ হাসিনা বলেন, এ ধরনের অসহযোগ আন্দোলন পৃথিবীতে আর কোখাও হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। কেননা জাতির পিতা যা যা নির্দেশনা দিয়েছেন তা দেশের মানুষ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা জনগণের ম্যানডেট পেয়ে জনগণের নেতায় পরিণত হন এবং তাঁর কথাই এদেশের মানুষ মেনে নিয়েছে।
যুদ্ধের আন্তর্জাতিক সমর্থনের ক্ষেত্রে কে আক্রমনকারী হবে, আর কে আক্রান্ত হবে, সেটা সমর্থনের ক্ষেত্রে একটা বড় ইস্যু হওয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের জীবনটা ঝুঁকিতে ফেলে বাংলাদেশের মানুষ যেন স্বাধীনতা পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই রণকৌশল হাতে নেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঠিক যে মুহুর্তে পাকিস্তানী শাসকরা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো সেই মুহুর্তেই তিনি তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণাটা প্রচার করা শুরু করালেন এবং যেহেতু বাঙালিরা পাকিস্তানী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে সেহেতু পরবর্তীতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে কোন বেগ পেতে হয়নি। তখন বিশ^জনমত তাঁর পক্ষে (জাতির পিতার)।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করলাম। আর জাতির পিতা তাঁর ৭ মার্চের ভাষণেই একথা বলে গেছেন। অর্থাৎ সে ভাষণে তিনি একটি জাতির জন্য শুধু রণকৌশলই দিয়ে যাননি, নিজের জীবনটাকেও উৎসর্গ করে দিয়ে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বলতেন-যা কিছু হোক দেশ স্বাধীন হবে। শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয় যুদ্ধের রণকৌশলে তাঁর এই বক্তৃতা যে কত কার্যকর এবং তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ যে কতটা বাস্তবমুখী সেটাই হচ্ছে সবথেকে বড় ব্যাপার ।
অনুষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক এবং শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মনি বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফিন স্বাগত ভাষণ দেন।
জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদযাপন বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ. সংসদ সদস্যবৃন্দ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দূতাবাস এবং কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি সহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু উপস্থিত বুদ্ধিমত নিজ মন থেকে ৭ মার্চের ভাষণটি দিয়েছেন। আর এ ব্যাপারে আমার মায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।’ তিনি স্মরণ করেন, ঐ সময়ে কিছু ছাত্রনেতা বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য বলছিলেন। ছাত্রনেতারা বলেছিলেন, তা না হলে মানুষ হতাশ হবে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সিরাজুল আলম খানকে উদ্দেশ্য করে জাতির পিতার বলা একটি কথার উদ্ধৃতি দেন। জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সিরাজ লিডার শ্যুড লিড দ্যা ল্যাড, ল্যাড শ্যুড নট লিড এ্যাজ এ লিডার।’
অন্যদিকে বঙ্গমাতা সেদিন বঙ্গন্ধুকে বলেছিলেন, ‘তুমি সারাজীবন এই মানুষগুলোর জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। তুমি জান যে, কি বলতে হবে। তোমার মনে যা আসবে, তাই তুমি বলবে। কারো কথা শোনার দরকার নাই।’
’৭৫ এর বিয়োগান্তক উপাখ্যান স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্ট বাঙালির জীবনে একটা কালো অধ্যায় হিসেবে এসেছিল। তিনি বলেন, পাকিস্তানী শাসকরা বারাবার জাতির পিতাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। ফাঁসির আদেশ দেয়া সত্বেও ফাঁসি দিতে পারেনি। অথচ যে বাঙালির জন্য তিনি (জাতির পিতা) নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করেছিলেন, জীবনের সব স্বাদ, আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছিলেন, দিনের পর দিন কারাগারে নির্যাতন ভোগ করেছেন, যে বাঙালিকে আত্মপরিচয়ের সুযোগ করে দিয়ে গেছেন, একটা জাতি রাষ্ট্র দিয়ে গেছেন, কি দুর্ভাগ্য তাদের হাতেই তাঁকে সপরিবারে জীবন দিতে হল।
প্রধানমন্ত্রী এর নেপথ্য কারণ সম্পর্কে বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি বসে ছিল না। তারা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছিল। তাই, যখন একটা যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ সম্পূর্ণভাবে গড়ে তুলে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে জাতির পিতা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক সেই সময়েই ঘটানো হল ১৫ আগস্ট।
প্রধানমন্ত্রী ’৭৫ পরবর্তী এদেশের ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বলেন, ’৭৫ এর পরে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণাটা বাজানো নিষিদ্ধ ছিল। অলিখিত একটা নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল। তবু, ইতিহাসকে এত সহজে মুছে ফেলা যায় না। সত্যকে কখনও দাবিয়ে রাখা যায় না। আর বাঙালিকে যে দাবায়ে রাখা যায় না সেটাতো তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে জাতির পিতাই বলে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই, বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায় নাই এবং সত্য আজকে উদ্ভাসিত হয়েছে। আজকে এই ভাষণ যেমন বিশ^স্বীকৃতি পেয়েছে তেমনি জাতিসংঘের প্রতিটি ভাষায় এটি অনুবাদ করা হয়েছে। ইউনিসেফ এই ভাষণ প্রতিটি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের প্যারিসের রাষ্ট্রদূত একথা জানিয়েছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
জাতির পিতার নিজের সৃষ্টি (উপস্থিত বক্তৃতা) যে ভাষণ একদিন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল আজকে জাতিসংঘে সেটা বিশ^ স্বীকৃতি পেয়েছে। সারাবিশে^র সবথেকে শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলো, যেগুলো মুক্তিকামী মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে সেই ভাষণগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এই ৭ মার্চের ভাষণ।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে ক্ষমতায় থেকে ৭ মার্চের ভাষণের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করতে পারায় পূনরায় বাংলার জনগণের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘কৃতজ্ঞতা জানাই এ কারণে যে ’৮১ সাল থেকে যে সংগ্রাম এটা তারই সাফল্য, আর ৫০ বছর পূর্তিটা আমরা দেখে যেতে পারলাম ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সমগ্র বিশে^ স্বীকৃতি পেয়েছে এবং বাংলাদেশের মানুষও ভাষণটা শুনতে, জানতে এবং চর্চা করতে পারছে। জানার আগ্রহ বাড়ছে এর অন্তনিহিত অর্থ খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে, এখানেই সবথেকে বড় সাফল্য।’
শেখ হাসিনা দেশের গ্রাজুয়েশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে। জাতির পিতা আকাঙ্খা আমরা পূরণ করবো বাংলাদেশের মানুষ তাঁর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। সে মুক্তির পথে অনেক দূর আমরা এগিয়ে গেছি। ইনশাল্লাহ, আমরা জাতির পিতা স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। বাসস।

কিশোরীকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে বিয়ে, কাজীকে হাই কোর্টে তলব

0

কিশোরীকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে বিয়ে নিবন্ধন করার অভিযোগ ওঠায় ফেনী পৌরসভার নিকাহ রেজিস্ট্রারকে (কাজী) তলব করেছে হাই কোর্ট।

কাজী সিরাজুল ইসলাম মজুমদারকে ওই বিয়ে সংক্রান্ত সব কাগজপত্র ও রেজিস্ট্রার ভলিয়মসহ আগামী ১৬ মার্চ আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
কিশোরীর বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম জাবেদের জামিন আবেদনে শুনানির পর রোববার এ আদেশ দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ।  
আদালতে আসামির জামিনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহ এমরান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পরে সাংবাদিকদের বলেন, “জামিন শুনানির সময় বয়স বেশি দেখিয়ে বিয়ে নিবন্ধন করানোর বিষয়টি আদালতের নজরে আসলে আদালত কাজীকে তলব করেছেন।

“সেই সঙ্গে আসামিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।”
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আলমপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম জাবেদ ও একই উপজেলার ওই কিশোরী পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেন।  তাদের বিয়ে নিবন্ধন করেন ফেনী পৌরসভা তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাজী সিরাজুল ইসলাম মজুমদার।
এ ঘটনায় জাহিদুল ইসলামকে আসামি করে ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর সোনাগাজী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ মামলা করেন কিশোরীর বাবা ।
এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জাহিদুল ইসলাম ফেনীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে জামিন চাইলে আদালতে তার জামিন নামঞ্জুর করে।
পরে হাই কোর্টে এসে জামিন আবেদন করেন জাহিদুল। সেই আবেদনের শুনানিতেই প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে কিশোরীর বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়টি ধরা পড়লে কাজীকে তলব করে হাই কোর্ট।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন চার বাংলাদেশী নারী বিচারক; বিচার বিভাগের জন্য মাইলফলক, বললেন আইনমন্ত্রী

0

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথমবারের মতো চার বাংলাদেশী নারী বিচারক অংশ নিতে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন দক্ষিণ সুদানে অবস্থিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (ইউএনএমআইএসএস) এবং অন্যজন সোমালিয়ায় অবস্থিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (ইউএনএসওএম) যোগ দিবেন। চার বিচারকের মধ্যে মুন্সীগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আফসানা আবেদীন ও টাংগাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন মাহবুবা আগামীকাল ৮ মার্চ সকাল সাড়ে দশটায় দক্ষিণ সুদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাংলাদেশের চার নারী বিচারকের জাতিসংঘ শান্তি মিশনে যোগ বিচার বিভাগের জন্য এক মাইলফলক বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তথা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নারী বিচারকগণের এ অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ বিচার বিভাগের জন্য একটি মাইলফলক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ব শান্তি ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের নারী বিচারকগণ তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনবেন।

এদিকে এ উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার তাঁদের বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহাসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজার জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক (জেলা জজ) জেবুন্নাহার আয়শা আগামী ১৯ মার্চ দক্ষিণ সুদানের উদ্দেশ্যে এবং জামালপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ লুবনা জাহান ১৫ মার্চ সোমালিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
তাঁরা সেখানে রুল অভ ল’ অ্যাডভাইজরি শাখায় এক বছর প্রেষণে জাস্টিস এডভাইজার হিসেবে বিচার ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও উন্নয়নে কাজ করবেন। এজন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ও ০১ মার্চ তারিখে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত চারজন বিচারককে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। এ দিবসে দু‘জন নারী বিচারকের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগদান বাংলাদেশের বিচার বিভাগের জন্য বিশাল প্রাপ্তি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশী নারী বিচারকের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি রক্ষা কার্যক্রম আরও মজবুত হবে।

অবশেষে হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের জামিন পেলেন কার্টুনিস্ট কিশোর

0

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে মামলায় দশ মাস ধরে কারাবন্দি কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট।
তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেয়।
আদালত বলেছে, কিশোর যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছেন এবং মামলাটিতে যেহেতু পুনঃতদন্ত চলছে, সে কারণে তাকে ছয় মাসের জামিন দেওয়া হল।
আদালতে কিশোরের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
ডিএজি বাপ্পী জানান, বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় পুনঃতদন্তের যে আদেশ দিয়েছে, আগামী ১৫ মার্চ তার তদন্ত প্রতিবেদেন দেওয়ার তারিখ আছে।
আর হাই কোর্টের আদেশ অনুযায়ী আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এদিন মুশতাকের কারাগারে মৃত্যুর বিষয়টি হলফনামা করে আদালতকে জানান।

নাইকো দুর্নীতি মামলা: খালেদা জিয়ার অব্যাহতির আবেদনের পরবর্তী শুনানি ১৮ মার্চ

0

নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অব্যাহতির আবেদনের আংশিক শুনানি নিয়ে ১৮ মার্চ পরবর্তী দিন রেখেছে আদালত।
কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ নম্বর ভবনে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে এ মামলার কার্যক্রম চলছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন মঙ্গলবার সশরীরে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দেন। তার অব্যাহতির আবেদনের ওপর শুনানি করেন তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।
তিনি বলেন, “নাইকো চুক্তির সিদ্ধান্ত ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন খালেদা জিয়ার আগের প্রধানমন্ত্রী। খালেদা জিয়া তা বাস্তবায়ন করেছিলেন মাত্র। সুতরাং এ মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য ও যথাযথ নয়।”
এদিন আংশিক শুনানি শেষে বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান অবশিষ্ট শুনানির জন্য ১৮ মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
মহামারীর মধ্যে বাইরে বের হওয়া ‘নিরাপদ নয়’- এই যুক্তি দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দফায় দফায় সময়ের আবেদন করায় নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি বার বার পিছিয়ে যায়।
এ বিষয়ে তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বিচারককে বলেছি, এর আগে খালেদা জিয়া কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় অসুস্থ থাকায় তাকে এজলাসে আনা হয়নি বার বার। সেজন্যও শুনানি পিছিয়েছে। এটা আমাদের ব্যথর্তা নয়।”
কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন।
২০১৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সেখানে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
আগে এই মামলার বিচারকাজ পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে চলত। পরে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন খালেদা জিয়ার মামলাগুলোর বিচার কেরানীগঞ্জের কারাভবনের অস্থায়ী এজলাসে স্থানান্তরের আদেশ দেয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইতোমধ্যে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
দেশে কেরানাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। পরে আরও ছয় মাসের জন্য তা বাড়ানো হয়।
তখন থেকে গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৫ বছর বয়সী খালেদা। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

কলাবাগানে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ-হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ফের নতুন তারিখ

0

কলাবাগানে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে তার বন্ধু ইফতেখার ফারদিন দিহানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পিছিয়েছে।
মঙ্গলবার এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আ ফ ম আসাদুজ্জামান তা দিতে পারেননি।
ঢাকার মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা এ মামলায় প্রতিবদন দাখিলের জন্য আগামী ২১ মার্চ নতুন তারিখ রেখেছেন ।
তদন্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান এর আগে জানিয়েছিলেন, আসামি দিহানের ডিএনএ টেস্ট করা হয়েছে, তবে রিপোর্ট তিনি পাননি। ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগ থেকে ডিএনএ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে পর্যালোচনা করে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করা যাবে।
গত ৭ জানুয়ারি কলাবাগানে দিহান তার বাড়ি থেকে তার বন্ধু ও লেভেলের ওই ছাত্রীকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তার আগেই তার মৃত্যু ঘটে।
এরপর দিহানকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন মেয়েটির বাবা। পুলিশ তখন দিহানকে গ্রেপ্তার করে।
ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেছিলেন, “মেয়েটির শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলেও যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথে ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিকৃত যৌনাচারের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।”
দিহান ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘পরস্পরের সম্মতিতে’ তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হয়েছিল।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ জানুয়ারি দিহানের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দেয় আদালত। দিহান উত্তেজক কোনো ওষুধ বা মাদক সেবন করেছিল কি-না তাও পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয় গত ১৩ জানুয়ারি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।