ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ১২:০৭ 

Home Blog Page 133

গবেষণায় চুরির অভিযোগঃ সামিয়া রহমানের দাবি তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে

0

গবেষণা প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির জন্য শাস্তিপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিয়া রহমান দাবি করেছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন তিনি।
সামিয়া রহমান দাবি করেন, ‘ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মিথ্যা চিঠির উপর ভিত্তি করে’ তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির প্রমাণ পেয়ে গত ২৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সামিয়া রহমান এবং ওই গবেষণায় তার সহযোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের পদাবনতি করে।
সামিয়াকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে এক ধাপ নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক করা হয় এবং আগামী দুই বছর তিনি পদোন্নতির আবেদন করতে পারবেন না। অন্যদিকে শিক্ষা ছুটিতে থাকা মারজানকে  চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর একই পদে থাকতে হবে।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সামিয়া রহমান ও মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার : এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শিরোনামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’ জার্নালে প্রকাশিত আট পৃষ্ঠার একটি  গবেষণা প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির জন্য তাদের এই শাস্তি দেওয়া হয়। বিডিনিউজ, বাংলা নিউজ।
ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দেন সামিয়া রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে ছিলেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, আইনজীবী তুরিন আফরোজ। সামিয়ার স্বামী সৈয়দ ফিরোজ আহমেদ ও তার বন্ধু মিলু এইচ রহমানও সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন।
সামিয়া বলেন, “প্রতিহিংসা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতির নোংরামীর চরম শিকার হলাম আমি ।
“গত ৪ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের চাপে ও তদন্তাধীন বিষয় বলে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম। তার সুযোগে ষড়যন্ত্রকারীরা দিনের পর দিন প্রপাগান্ডা চালিয়েছে আমার বিরুদ্ধে। অবশ্যই বাংলাদেশের আদালতের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখে আদালতেই যাচ্ছি।”
চার বছর আগে সামিয়া ও মারজানের ওই প্রবন্ধ প্রকাশের পর অভিযোগ ওঠে, এটি ১৯৮২ সালের শিকাগো ইউনিভার্সিটির জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’তে প্রকাশিত ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের একটি নিবন্ধ থেকে প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠা হুবহু নকল।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এক লিখিত অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই চুরির কথা জানিয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।
শুধু মিশেল ফুকোই নন, বুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ গ্রন্থ থেকেও সামিয়া ও মারজান নকল করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়।
অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে গত ২৯ অক্টোবর তাদের একাডেমিক অপরাধের শাস্তির সুপারিশ করতে আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহকে আহ্বায়ক করে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শাস্তির বিষয়ে সুপারিশ জমা দিলে গত ২৮ জানুয়ারি সিন্ডিকেটের সভায় তাদের শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়।
অ্যালেক্স মার্টিন নামে শিকাগো জার্নালের যে ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে তার শাস্তি হয়েছে, সেই সেই নামে কেউ নেই বলে দাবি করেছেন সামিয়া।
তিনি বলেন, “যে অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যার পরিচয় (শিকাগো ইউনিভার্সিটির জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যালেক্স মার্টিন পরিচয়ধারী) দিয়ে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস থেকে চিঠি এসেছে, সেই অ্যালেক্স মার্টিন বলেই তো ওই জার্নালে কেউ নেই এবং তারা এ ধরনের চিঠি পাঠায়নি। শিকাগো জার্নালের এডিটর নিজে এটি স্বীকার করেছেন।”
তিনি জার্নালের সম্পাদকের সঙ্গে তার নিজের একটি মেসেঞ্জারে কথা চালাচালির স্ক্রিনশট সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের দেন।
ওই প্রবন্ধটি নিজের লেখা নয় বলেও দাবি করেন সামিয়া।
তিনি বলেন, “প্রবন্ধের ওই লেখাটি আমার নিজের লেখা নয়। ছাত্র হিসেবে মারজানকে আমি বিভিন্ন সময় আইডিয়া দিয়েছিলাম। তার মধ্য থেকে সে এটি লিখে আমার নামও জুড়ে দেয়। আমাকে না জানিয়ে সেটি স্যোশাল সায়েন্স রিভিউ  জার্নালে প্রকাশের জন্য জমা দিয়েছে।”
বিষয়টি জানার পর তা প্রত্যাহারের জন্য ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের তৎকালীন ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের কাছে আবেদন করেছিলেন বলেও জানান সামিয়া।
“লেখাটি প্রত্যাহারের বিষয়ে তৎকালীন উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্যারকে অবহিত করলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি সিন্ডিকেটে বিষয়টি তুলতে বলেন। কিন্তু ড. ফরিদ উদ্দিন বিষয়টি জিইয়ে রাখেন সময় ও সুযোগের জন্য। সাত মাস ধামাচাপা দিয়ে রাখার পর ২০১৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আরেফিন স্যার উপাচার্যের চেয়ার থেকে সরে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ওই ভুয়া চিঠিটি তৈরি করা হয় শিকাগো জার্নালের নামে, অ্যালেক্স মার্টিনের পরিচয় দিয়ে। যেখানে অ্যালেক্স মার্টিন বলে কারও অস্তিত্ব নেই।”
সামিয়া বলেন, “যে প্লেইজারিজমের অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, সেটির সঙ্গে জড়িত থাকার দালিলিক প্রমাণ ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত দিতে পারেনি। ট্রাইবুনালের সুপারিশ মওকুফ কমাতে পারে সিন্ডিকেট। কিন্তু যে অভিযোগের প্রমাণ তারা পায়নি, সেটা কীভাবে বাড়িয়ে শাস্তির মুখোমুখি করে?”
তিনি বলেন,“তদন্ত কমিটি ও সিন্ডিকেট সম্পূর্ণ একপেশে, বিদ্বেষপ্রসূত ও পক্ষপাতদুষ্ট শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন। তারা ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত, সুপারিশ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী মেজবাহউদ্দিন আহমেদের সিদ্ধান্তও মানেননি।
“সম্পূর্ণ উদ্দেশপ্রণোদিত এবং পক্ষপাতদুষ্টভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সেটি তাদের তৈরি রিপোর্টেই কিন্তু স্পষ্ট।”
সামিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদ।

মাদক মামলা থেকেও হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি দিলো আদালত

0

অস্ত্র মামলার পর মাদক আইনের মামলাতেও ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।
এ মামলার পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ঢাকার মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান সোমবার ইরফান সেলিমকে অব্যাহতির আদেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে চকবাজার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন গত ৫ জানুয়ারি ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে ওই মামলা থেকে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি দেন ঢাকার এক নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ।
ইরফানের আইনজীবী শ্রী প্রাণনাথ জানান,, “তার বিরুদ্ধে ৫ মামলার মধ্যে দুই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। আর আজকের মাদক মামলাসহ  দুই মামলায় অব্যাহতি পেলেন।”
এছাড়া নৌবাহিনীর কর্মকতাকে মারধরের মামলায় সম্প্রতি ইরফানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে আদালতে। সে মামলায় তিনি করাগারে রয়েছেন।
গত ২৪ অক্টোবর রাতে ধানমণ্ডি এলাকায় সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওয়াসিফ।
পরদিন ২৫ অক্টোবর পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটের দেবীদাস লেইনে হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালায় র‌্যাব। আটক করা হয় ইরফান ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে।
ওই ভবন থেকে দুটি অবৈধ পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করার কথা সে সময় র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মদ আর ওয়াকিটকির জন্য ইরফান ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দেবীদাস লেইনে ওই অভিযানের মধ্যেই চকবাজারের আশিক টাওয়ারে ইরফানের ‘নির্যাতন কেন্দ্রের’ সন্ধান পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব।
পরে ইরফান সেলিমকে কারাগারে পাঠানো হয়। অস্ত্র ও মাদক আইনে আলাদা মামলা দায়ের করা হয়। ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ থেকেও বরখাস্ত হন তিনি।
র‌্যাবের ওই অভিযানের পর রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় হাজী সেলিমের ‘দখলদারিত্বের’ খবর আসতে থাকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয় তারাও হাজী সেলিমের ‘অবৈধ সম্পদ’ অনুসন্ধানে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে।
ইরফান ও তার দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে দায়ের করা র‌্যাবের মামলার এজাহারে বলা হয়েছিল, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুরান ঢাকায় ইরফানদের বাড়িতে সেই অভিযান চালানো হয়। ভবনের চতুর্থ তলা থেকে জাহিদুল মোল্লাকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৪০৬টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
আর চতুর্থ তলার অপর একটি কক্ষ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল এবং ইরফান সেলিমের কক্ষ থেকে ১২টি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ বলেছে, আগ্নেয়াস্ত্র বা মদ ও মাদক যে ইরফান সেলিমের, সে বিষয়ে সন্দেহাতীত কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।
মামলার এজাহারে ‘মিসটেক অব ফ্যাক্টস’, অর্থাৎ, তথ্যগত ভুল ছিল জানিয়ে ইরফানের অব্যাহতি চাওয়া হয় সেখানে।
তবে জাহিদ মোল্লার কোমর থেকেই একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল, সঙ্গে ৪০৬টি ইয়াবা পাওয়া গিয়েছিল, সে কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিএনপির আমীর খসরুকে দুই ঘন্টা দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

0

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে `অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।
দুদকের তলবের আড়াই বছর পর সোমবার তিনি কমিশনে উপস্থিত হলে অনুসন্ধান কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, “কেন এখানে ডাকা হয়েছে, কী তার উদ্দেশ্য আপনারা বোঝেন।  আমাকে এখানে ডাকা হয়েছে আমার সম্পর্কে যা জানতে চেয়েছে, আমি তার জবাব দিয়েছি।”
তিনি বলেন, “আমি সাধারণ জীবন-যাপন করি, আমার ইন্টিগ্রিটি নিয়ে প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ নাই। আমার জীবনযাপন সম্পর্কে আপনারা জানেন।”
২০১৮ সালের ১৬ অগাস্ট `অবৈধ লেনদেন, অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনের’ অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমীর খসরুকে তলব করে নোটিস দিয়েছিলেন দুদকের তৎকালীন পরিচালক কাজী শফিকুল।
ওই নোটিসে একই বছরের ২৮ অগাস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যকে সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল।
আমীর খসরুর বিরুদ্ধে ‘বেনামে পাঁচ তারকা হোটেল ব্যবসা, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারের পাশাপাশি স্ত্রী, পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও নিজের নামে শেয়ার ক্রয়সহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের’ অভিযোগ পাওয়ার কথা ওই নোটিসে বলা হয়েছিল।
ওই তলবে আমীর খসরু উপস্থিত না হওয়ায় পরে একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর হাজির হতে আরেকটি নোটিস পাঠায় দুদক। কিন্তু তিনি নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।
এরপর ২০১৮ সালেরই ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠান তিনি। হাই কোর্টে এই রিট ‘বিচারাধীন’ জানিয়ে এর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ না নিতে সেখানে অনুরোধ করা হয়।
পরে একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ওই রিট আবেদন বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য তোলা হলে তা সরাসরি খারিজ করে দেয় আদালত।
পরে ২০১৯ সালের ৬ অগাস্ট আমীর খসরু ও তার স্ত্রীকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে পৃথক নোটিস দেয় দুদক।
ওই নোটিসে আমীর খসরুর বিরুদ্ধে ‘নামে-বেনামে জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদের প্রমাণ মেলার’ কথা বলা হয়েছিল।
এরপর সর্বশেষ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আমীর খসরু, তার স্ত্রী তাহেরা খসরু আলম এবং ভায়রা (স্ত্রীর বোনের স্বামী) গোলাম সরোয়ারকে তলব করে নোটিস পাঠান দুদকের অনুন্ধান কর্মকর্তা।
এর আগে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর আমির খসরু ও তার স্ত্রী তাহেরা খসরু আলমকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক। সেই তলবে সোমবার তিনি হাজিরা দিয়ে গেলেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

দুয়েকজনের পদস্খলনেও বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে: বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার

0

দুয়েকজনের পদস্খলনে পুরো বিচার ব্যবস্থা যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে প্রগতির ধারা যে বন্ধ হয়ে যাবে, কর্মজীবনের শেষ কার্যদিবসে সহকর্মী, আইনজীবী ও বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে সেই সতর্কবাণী দিয়ে গেলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়ায় রোববার বিচারিক দায়িত্ব থেকে অবসরে গেলেন এই বিচারক। এ উপলক্ষে তাকে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়।
প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীরা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এই আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল বিদায় সম্ভাষণ জানান।
বিদায় ভাষণে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, “বিচার ব্যবস্থার সাথে জড়িত দুয়েকজনের পদস্খলনে পুরো বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। একবার যদি বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তাহলে যে কোনো সময় অপশক্তি আমাদের দেশ ও সমাজকে গ্রাস করে নিতে পারে। আমাদের প্রগতির ধারা অন্ধ প্রাচীরে বন্দি হয়ে যাবে।”
তবে সেই শঙ্কাকে মিথ্যে প্রমাণ করে সবার যৌথ প্রয়াসে বাংলাদেশের বিচার ব্যাবস্থা আরো পরিণত ও উন্নত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদায়ী এই বিচারক বলেন, “বিচার বিভাগে দুর্নীতির কালো মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত অপপ্রচার আজকাল প্রায়শ আমাদের কানে আসে। বিচার ব্যবস্থায় কারো একক অধিকার নাই। কারো একক প্রয়াসেও তা চলতে পারে না।
“সমষ্টিগত প্রয়াসে ঐকান্তিক প্রচেষ্টাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পূর্বশর্ত। তাই বিচারক থেকে শুরু করে বিচার ব্যাবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলেরই একে অপরের সাথে নিবিঢ়ভাবে সংযুক্ত থেকে কাজ করতে হবে। সুবিচার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে বিচারালয়ের সর্বনিম্ন কর্মকর্তা থেকে সর্বোচ্চ পদাধিকারীর ঐকবদ্ধ থাকা একান্ত প্রয়োজন।”
কর্মজীবনের শেষ দিনে সর্বোচ্চ আদালতের এ বিচারক বলেন, একজন বিচারক সঠিকভাবে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা মোকাবেলা করতে হবে।
“একজন অভিভাবক যেমন সকলকে একত্রিত করে রক্ষা করেন। জ্যেষ্ঠ বিচারকগণও একইভাবে পরিবারের অভিভবকের মত কনিষ্ঠ বিচারকদের ভালোবাসবেন, স্নেহ করবেন, দিক নির্দেশনা দেবেন এটাই কাম্য। তাদের আগলে রেখে পথ দেখাতে হবে, যাতে তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে।”
বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, “সাংবিধানিকভাবে বিচার বিভাগ স্বাধীন। কিন্তু বাস্তবে কতটুকু, তা আমরা সকলেই জানি এবং বুঝি। রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ- নির্বাহী বিভাগ, আইন  বিভাগ ও বিচার বিভাগ। এই তিনটি বিভাগের চৌহদ্দি সংবিধান লক্ষণ রেখার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।
“সেখানে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে থাকারও নির্দেশনা আছে। এখানে প্রত্যেকেই নিজ নিজ পরিধির মধ্যে থেকে কে কতটুকু কাজ করবে, তা সংবিধানে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ লক্ষণ রেখা অতিক্রম করতে না পারে।”
তিনি বলেন, “বিচার ব্যবস্থা একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি তার নিজস্ব গতিতেই চলে। শত চেষ্টা চালিয়েও এর গতি কেউ রোধ করতে পারে না, পারবে না। তাই আমি বলি, যত বাধা বিপত্তি কিংবা ঘাত-প্রতিঘাতই আসুক না কেন, আমাদের ঐকান্তিক ও ঐকবদ্ধ প্রচেষ্টায় এর গতি (বিচার বিভাগের) কেউ কোনোদিন রোধ করতে পারবে না।”
বিচারকাজে বিচারক ও আইনজীবীর ভূমিকা, ন্যাবিচার, আইনের শাসন নিয়েও কথা বলেন সদ্য অবসরে যাওয়া এই বিচারপতি। তিনি মনে করিয়ে দেন, ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা শুধুমাত্র বিচারক ও আইনজীবীদের পক্ষে সম্ভব না।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিচারকের আসনে বসে আমি আপনাদের বলেছিলাম, বিচারক ও আইনজীবী একটি পাখির দুটি ডানা। একটি ডানা যদি অচল হয় সে পাখির পক্ষে ওড়া অসম্ভব। একইভাবে বিচারক ও আইনজীবীর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ছাড়া সুবিচার সম্ভব না। সুবিচার, ন্যায় বিচার, আইনের শাসন আমরা যাই বলি না কেন- তা আইনজীবী ও বিচারকের সমন্বয়েই সম্ভব।
“তবে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা শুধুমাত্র বিচারক ও আইনজীবীদের পক্ষে সম্ভব না। ন্যায়বিচারের মাধ্যমে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং এর মর্যাদা বৃদ্ধি করতে বিচারক ও আইনজীবীগণের সাথে রাষ্ট্রের তথা সমাজের সকলের, সমাজের সমষ্টিগত প্রয়াসের প্রয়োজন। তা না হলে আইনের শাসন সুদূর পরাহত।”
আদালতের ঘোষিত রায় যেন কেউ বিতর্কিত করতে না পারে, সে আহ্বান রেখে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, “সংবিধানে পরিচালিত বিচার বিভাগ যখন কোনো আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করেন, অথবা শাসন-প্রশাসনের কোনো ভুল সংশোধনের জন্য কোনো মন্তব্য করেন, আদেশ, নির্দেশনা দেন, তা সংবিধানের ১১১ ও ১১২ অনুচ্ছেদের আলোকে রাষ্ট্রের অন্য দুই বিভাগ তথা সকলেই মেনে চলতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। আমার প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের অঙ্গসমূহ তথা প্রশাসন যন্ত্র এই ব্যপারে সার্বক্ষণিকভাবে সতর্ক থাকবে।”
তিনি বলেন, “অনেক সময় বিচারবিভাগ প্রদত্ত আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আমরা এক্ষেত্রে একজন বিচারক ও বিচার ব্যবস্থাকে এক করে ফেলি। আমারা ভুলে যাই যে বিচারকও একজন মানুষ। তার বিচার হল সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, দীর্ঘ দিনের সাক্ষী-সাবুদ ও আইনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ফল।
“বিচারের রায় বিপক্ষে গেলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ বিচরককে বিতর্কিত করতে কোনো মন্তব্য করলে তা যেমন অন্যায়, তেমনি যার পক্ষে রায় যায়, তার স্তুতিবাক্যে বিচারককে বিভ্রান্ত করাটাও অন্যায়।
“আমার অনুরোধ, বিচার-বিশ্লেষণ না করে আইনের তথ্য-উপাত্ত স্পষ্টভাবে না জেনে কোনো রায়কে কেউ যেন বিতর্কিত না করে। অযৌক্তিকভাবে আদালতের ঘোষিত রায় বিতর্কিত করার এই চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে জাতি হিসেবে আমাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।”
বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, “আপনাদের কাছে আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ, আমরা যেন এমন কিছু না করি যাতে সুবিচারের প্রতি এই শ্বেতশুভ্র অট্টালিকার গায়ে এতটুকু কালিমা লাগে।”
১৯৫৪ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন মির্জা হোসেইন হায়দার। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন।
আইনে অনার্স ও মাস্টার্স করার পর ১৯৭৯ সালে জেলা আদালত, ১৯৮১ সালে হাই কোর্ট বিভাগ ও ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন হোসেইন হায়দার।
এরপর ২০০১ সালের ৩ জুলাই তিনি হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক এবং ২০০৩ সালের ৩ জুলাই স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যোগ দেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের কার কত টাকা, জানতে চায় হাই কোর্ট, বিশেষ তদন্ত দল গঠনের নির্দেশনা

0

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের কতজনের কত টাকা আছে তার তালিকা চেয়েছে হাই কোর্ট।
সেসঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের বেঞ্চ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেয়।
বিদেশি ব্যাংক বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে পাচার করা ‘বিপুল পরিমাণ’ অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে ১ ফেব্রুয়ারি রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস।
আবেদনের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান নিজেই শুনানি করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।
বিদেশি ব্যাংক বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের নাগরিক অথবা কোম্পানি এবং অন্য কোনো সত্ত্বার গোপনে গচ্ছিত টাকা উদ্ধারে বিবাদিদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
পানামা পেপার ও প্যারাডাইস পেপারে বাংলাদেশি যেসব নাগরিক ও কোম্পানির নাম এসেছে তাদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং সে তদন্তের অগ্রগতি প্রতি মাসে আদালতকে জানাতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। 
সে সঙ্গে বাংলাদেশি কোনো নাগরিক অথবা কোম্পানি বা অন্য কোনো সত্ত্বার অর্থপাচার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের বিষয় নিরীক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছে আদালত।
অর্থ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, বাণিজ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের রেজিস্ট্রার ও পুলিশ প্রধানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আগামী ৩০ মার্চ পরবর্তী শুনানি ও আদেশের তারিখ রেখেছে আদালত। 
রোববার শুনানিতে দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, আলোচিত পানামা ও প্যারাডাইস পেপারে যাদের নাম এসেছে তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এ পর্যন্ত যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও মুসা বিন শমসের।
সুইস ব্যাংক থেকে টাকা আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন পুলিশ, বিএফআইইউ সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে।
পরে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, “গত বছর ২২ নভেম্বর অর্থপাচারকারী, দুর্বৃত্তদের বিষয়ে আদালত যে স্বপ্রণোদিত রুল জারি করেছিল এ রিট আবেদনে একই ধরনের আরজি জানানো হয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে রুল জারির বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত রুল জারি করেছেন। তবে স্বপ্রণোদিত রুল ও আজকে জারি করা রুলের শুনানি একসাথে হবে। ৩০ মার্চ আদেশের জন্য ধার্য্য করা হয়েছে।”
কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারকারীদের নাম, ঠিকানাসহ অর্থ পাচারের যাবতীয় তথ্য জানতে চাওয়ার ধারাবাহিকতায় গত বছর ২১ ডিসেম্বর আদালত আরেকটি আদেশ দেয়।
অর্থ পাচার ও দুর্নীতির মাধ্যমে যারা বিদেশে বাড়ি নির্মাণ করেছে অথবা কিনেছে, সেই বাংলাদেশিদের মধ্যে যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট আছে এবং যারা দেশের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে দেশে-বিদেশে নির্বঘ্নে আসা-যাওয়া করছে, তাদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল সে আদেশে। 
ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখার সুপারকে (ইমিগ্রেশন) এ তালিকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, “দ্বৈত নাগরিকের তালিকা দেওয়ার বিষয়ে আমরা সময় চেয়েছিলাম। তবে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তা হচ্ছে, কমবেশি মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজারের মত দ্বৈত নাগরিক আছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাসপোর্ট জমা দিয়ে তারা ঘোষণা দিয়েছেন। সে তালিকা এখনও আমরা হাতে পাইনি। অনেক বড় ব্যপার তৈরি করতে হচ্ছে। সবগুলো মিলিয়ে ৩০ মার্চ শুনানি হবে।”
গত বছর ১৮ নভেম্বর ডিআরইউর মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাচারের সত্যতা পাওয়ার কথা জানান।
প্রাথমিকভাবে অর্থপাচারে জড়িত যাদের তথ্য পাওয়া গেছে তার মধ্যে সরকারি কর্মচারীই বেশি বলে জানান তিনি।
এছাড়া রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীও রয়েছেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেলেন। তবে সেদিন কারও নাম তিনি প্রকাশ করেননি।
সে বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বাঙালি অধ্যুষিত কানাডার কথিত ‘বেগম পাড়ার’ প্রসঙ্গ উঠে আসে।
সেসব প্রতিবেদন নজরে আসার পর গত বছর ২২ নভেম্বর হাই কোর্ট অর্থপাচারকারী, দুর্বৃত্তদের নাম-ঠিকানার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, তা জানতে চায়।
স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইনানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়।
এছাড়া প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে অর্থপাচারকারী সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, ব্যাংক কর্মকর্তা ও অন্যদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।
নির্দেশ অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
এসব প্রতিবেদনের উপর শুনানির পর আদালত আবার অর্থ পাচারকারীদের নাম ঠিকানাসহ যাবতীয় তথ্য চেয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ রাখে।
এদিকে বিদেশি ব্যাংক বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে পাচার করা ‘বিপুল পরিমাণ’ অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে এ রিট আবেদনটি করা হয়।
১০ ফেব্রুয়ারি রিটের শুনানির পর তা আদেশের জন্য রাখা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রুলসহ আদেশ দিল উচ্চ আদালত। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশ, সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার কৃতিত্ব জনগণকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের এই অর্জন তুলে ধরতে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, “এ কৃতিত্ব এ দেশের আপামর জনসাধারণের। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই মাইলফলক অর্জন করতে পেরেছি।”
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ভার্চুয়ালি এই সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা।
তিনি শুরুতেই বলেন, “আজ অবশ্য আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি বাংলাদেশের একটি মহৎ এবং গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের সুসংবাদ দেওয়ার জন্য। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
“বাংলাদেশ গতকাল স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছি।”

লক্ষ্য অর্জনের এই সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের এই উত্তরণ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি; আমরা মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশের জন্য এ উত্তরণ এক ঐতিহাসিক ঘটনা।”

১৯৭৫ সাল থেকে স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে থাকা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা ইউএন-সিডিপির সব শর্ত পূরণ করে ২০১৮ সালে।

জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী, কোনো দেশ পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় উত্তরণের মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায়।

সিডিপি তিনটি সূচকের ভিত্তিতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে। তিনটি সূচকেই বাংলাদেশ শর্ত পূরণ করে অনেক এগিয়ে গেছে।

উন্নয়নশীল দেশ হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হয় কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশ ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১৮২৭ ডলার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ ডলার। অর্থাৎ মানদণ্ডের চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ। মানবসম্পদ সূচকে নির্ধারিত মানদণ্ড ৬৬-এর বিপরীতে বাংলাদেশের অর্জন ৭৫.৪। অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচকে উত্তরণের জন্য মানদণ্ড নির্ধারিত ছিল ৩২ বা তার কম। কিন্তু ওই সময়ে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৭।

সিডিপির প্রবিধান অনুযায়ী, উত্তরণের সুপারিশ পাওয়ার পর একটি দেশ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রস্তুতিকালীন সময় ভোগ করতে পারে।
নিউ ইয়র্কে ইউএন-সিডিপির ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় শুক্রবার রাতে বাংলাদেশের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, উন্নয়নের চলমান গতিধারা বজায় থাকলে বাংলাদেশ অচিরেই উন্নত দেশের কাতারে উঠবে।  

“আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত-সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।”

তিনি বলেন, “আমি এই অর্জনকে উৎসর্গ করছি আমাদের দেশের নতুন প্রজন্মকে। যারা আজকের বাংলাদেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা পাকিস্তান আমলে বাংলার বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জনের পর উন্নয়নের লক্ষ্যে যাত্রার শুরুর কথাও বলেন তিনি।

“একটা প্রদেশের প্রশাসনকে তিনি (বঙ্গবন্ধু) অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে একটা স্বাধীন দেশের উপযোগী করে একেবারে শূন্য হাতে দেশের পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেন। ভারত থেকে ফিরে আসা এক কোটি শরণার্থীসহ দেশের অভ্যন্তরে উদ্বাস্তু হয়ে পড়া প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষকে পুনর্বাসন করেন। শহীদ পরিবার, নির্যাতিত পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা, ঘরবাড়ি হারানো সকলকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৭ শতাংশ অতিক্রম করে। বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে প্রবেশ করে।”

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশের উল্টো পথে যাত্রা এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর আবার উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।

নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফেরার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “৬ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালে দেশে আসার পর আমি ব্যাপকভাবে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা সফর করি। আমি সে সময়ই প্রতিজ্ঞা করি যদি কোনোদিন আল্লাহ আমাকে সুযোগ দেন দেশ পরিচালনার, তাহলে গ্রামোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। গ্রামের মানুষের উন্নয়নে কিছু করব।

“তখন ৭০-৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করতো। আমার মনে হয়েছিল এদের যদি দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারি, তাহলেই বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে। ১৯৯৬ সালে জনগণের রায় নিয়ে আমি প্রথমবার সরকার গঠন করে আমার চিন্তা-চেতনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

শেখ হাসিনা বলেন, “এক যুগ আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।”

বদলে যাওয়া এই দেশকে বুঝতে আর্থিক এবং অন্যান্য সূচকগুলোর দিকে সবাইকে দৃষ্টি দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ বছরে জিডিপির আকার ছিল মাত্র ১০৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯-২০ সালে তা ৩৩০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০০৮-০৯ বছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫.৫৭ বিলিয়ন ডলার। আর ২০১৮-১৯ বছরে তা ৪০ দশমিক পাঁচ-চার বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পায়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৮-০৯ বছরের ৭ দশমিক চার-সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৪৪ দশমিক শূন্য-তিন বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০০১ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮.৯ শতাংশ এবং হত-দারিদ্র্যের হার ছিল ৩৪.৩ শতাংশ। ২০১৯ সালে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ২০.৫ ভাগ এবং হত-দারিদ্র্যের হার ১০.৫ শতাংশে।

২০০৯-১০ সালে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ছিল ৫,২৭১ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াটে উন্নীত  এবং বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ৪৭ থেকে ৯৯ শতাংশে উন্নীত হওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয় এবং মাছ-মাংস, ডিম, শাকসবজি উৎপাদনেও স্বয়ং-সম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে এবং ইলিশ উৎপাদনকারী ১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম।
উন্নয়ন অভিযাত্রায় ’ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর সুবিধা শহর থেকে প্রান্তিক গ্রাম পর্যায়েও বিস্তৃত হওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ এর সুবিধা কাজে লাগিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথাও তিনি বলেন।
করোনাভাইরাস মহামারীর এই সময়ে গণ টিকাদানের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ একটি প্রত্যয়ী ও মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে জায়গা করে নেবে।

তবে এ অর্জনকে সুসংহত এবং টেকসই করার উপর জোর দেন তিনি।

এলক্ষ্যে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পসহ বেশকিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, দুই ডজনের বেশি হাইটেক পার্ক এবং আইটি ভিলেজ নির্মাণের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, “বাঙালি বীরের জাতি। মাত্র নয় মাসে আমরা আমাদের স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত-সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

“আসুন, দলমত নির্বিশেষে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এ মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করি।”

ঢাকা বারে সভাপতিসহ ১৫ পদে আওয়ামী লীগ,সাধারণ সম্পাদকসহ ৮ পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী

0

ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২১-২২ সেশনের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সাদা প্যানেল সভাপতিসহ সম্পাদকীয় ৯ টি ও সদস্য ৬টিসহ মোট ১৫ পদে বিজয়ী হয়েছেন।
অপরদিকে বিএনপি ও সমমনাদের সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য সমর্থিত নীল প্যানেল সাধারণ সম্পাদকসহ ৩ টি সম্পাদকীয় ও সদস্য ৫ টিসহ মোট ৮ টি পদে বিজয়ী হয়েছেন।
শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাতে ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট আব্দুল্লাহ আবু এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
সভাপতি পদে সাদা প্যানেলের আব্দুল বাতেন ৪ হাজার ৪৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, আর নীল প্যানেল সমর্থিত মোসলেহ উদ্দিন জসিম পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৩৪ ভোট।
অপরদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের খোন্দকার হযরত আলী ৪ হাজার ২৬১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, সাদা প্যানেল সমর্থিত ফিরোজুর রহমান মন্টু পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩ ভোট।
সাদা প্যানেলের বিজয়ীরা হলেন- সভাপতি এডভোকেট আব্দুল বাতেন, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সালাহউদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান (তারেক), কোষাধ্যক্ষ একেএম আরিফুল ইসলাম কাওছার, লাইব্রেরি সম্পাদক শারমিন সুলতানা হ্যাপী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শায়লা পারভীন পিয়া, অফিস সম্পাদক জাকির হোসাইন (লিঙ্কন), ক্রীড়া সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ এস ইমরুল কায়েশ।
এই প্যানেলের সদস্য পদে বিজয়ীরা হলেন- এ বি এম ফয়সাল সারোয়ার, বাহারুল ইসলাম (বাহার), মো. মহিন উদ্দিন (মহিন), জুয়েল চন্দ্র মোদক, সুলতানা রাজিয়া রুমা ও মো. আহসান হাবিব।
নীল প্যানেলের বিজয়ীরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সহ-সভাপতি পদে মো. আনিসুর রহমান (আনিস) ও সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার মো. হযরত আলী। এই প্যানেলের সদস্য পদে বিজয়ীরা হলেন- বাবুল আক্তার (বাবু), এম আর কে রাসেল, মো. হোসনী মোবারক (রকি), মো. সোহাগ হাসান রনি ও মোসা. তাসলিমা আক্তার।
এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। মধ্যে একঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা বার ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে মোট ১৭ হাজার ৭৫৬ জন ভোটারের মধ্যে ৮ হাজার ৭০৬ জন ভোট দিয়েছেন। এরপর শুক্রবার দুপুরের পর ভোট গণনা শুরু হয়।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল ও বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলে মোট ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর বাইরেও ক্রীড়া সম্পাদক পদ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী নির্বাচন করছেন। যা নিয়ে মোট প্রার্থী ছিল ৪৮ জন। বাসস।

রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের তালিকা তৈরী চলছে, প্রকাশ হবে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে

0

স্বাধীনতাবিরোধীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে চিঠি দেয়ার পর গত ৬ মাসে মাত্র দুই হাজার ৫০৪ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ৮৯৭ জন এবং বৃহত্তর রংপুর জেলা থেকে ১৬০৭ জনের নাম পাওয়া গেছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৮তম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের তালিকা অানুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের উদ্যোগ নিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে যে গতিতে তালিকা তৈরির কাজ চলছে নির্ধারিত সময়ে নির্ভুল তালিকা তৈরী সম্ভব হবে কি না এ নিয়ে সন্দিহান সংসদীয় কমিটি।
বৈঠকে রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা সংগ্রহে ঢিমেতালে গতিকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্যরা। মাঠ পার্যায়ে প্রশাসনিক কাজের গতি নিয়েও তারা ক্ষুব্ধ। তবে এখন পর্যন্ত যতটুকু পাওয়া গেছে, তা যাচাই বাছাই করে অবিলম্বে গেজেট আকারে প্রকাশের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আল-শামস ও শান্তি কমিটির সদস্যদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। উপ-কমিটির কাছ থেকে তালিকা পাওয়া গেলে প্রাপ্ত তালিকাসহ যাচাই-বাছাইপূর্বক গেজেট আকারে প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের কাছে পাঠানো হবে।
সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে কমিটির সদস্যরা বিশেষ করে কমিটির সভাপতি ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাচাই-বাছাই অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না এবং এটাকে ‘নিয়মিতকরণ’ বলে সংজ্ঞায়িত করে প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্নের সুপারিশ করা হয়।
উল্লেখ্য ২০২০ সালের ৯ আগষ্ট সংসদীয় কমিটির সভায় স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের তালিকা তৈরি ও তা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খানকে আহ্বায়ক করে তালিকা তৈরির জন্য একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়।
রাজাকারদের তালিকা তৈরির জন্য গঠিত সাব-কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, এবি তাজুল ইসলাম, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল ও মোসলেম উদ্দিন আহমেদ।
এই তালিকা তৈরিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মধ্যে যারা সংসদ সদস্য আছেন, তাদের সহযোগিতা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এই সাব-কমিটি যুদ্ধকালীন কমান্ডার এবং উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড থেকে রাজাকারদের তথ্য সংগ্রহ করবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের ‘বিতর্কিত’ তালিকা প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে তা বাতিল করা হয়। এবার তড়িঘড়ি করে রাজাকার, আল বদরদের তালিকা প্রকাশ করেও যাতে কোনো সমালোচনার মুখে না পড়তে হয় কমিটি সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে বলে জানিয়েছেন একজন সদস্য।
এ জন্য প্রত্যেক জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের ব্রিফ করে দেওয়া হয়েছে। তারা তালিকা তৈরি করবেন। কোনও একক কর্তৃপক্ষ তালিকা করবে না।
কমিটির সভাপতি শাজাহান খান এ প্রসঙ্গে’ “আইন আদালত”কে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের সরকারি চাকরি দেওয়া হয় না। ‘ভিয়েতনামে তিন প্রজন্ম পর্যন্ত চাকরি দেওয়া হয় না। অথচ বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীরা মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে,ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। কাজেই স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তানরা যাতে সরকারি চাকরি না পায়, সে বিষয়ে কিছু একটা করা দরকার। সেজন্য রাজাকারদের তালিকাটা দরকার। এই কাজটা এবার আমরা করবো।’

এমপি পাপুল সমাচারঃ টাকার জোরে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই হয়ে যান সংসদ সদস্য, দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা

0

স্রেফ টাকার জোরে এমপি হয়ে যান লক্ষীপুর -২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপলু। শুধু তিনি নিজেই নন স্ত্রী’র আবদার মেটাতে সংরক্ষিত আসনে স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংসদ সদস্য বানান। দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এটা এক বিরল ঘটনা। টাকার কী ক্ষমতা এটা হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন সাংসদ পাপলু ও তার স্ত্রী। টাকা হলে সব সম্ভব এটাও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন এই এমপি দম্পতি।
এদিকে সস্ত্রীক কাজী শহীদের এমপি হওয়া নিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। লক্ষীপুরের রাজনীতিতে অজ্ঞাতকুলশীল কাজী শহীদ ইসলাম হঠাৎ করেই টাকার বস্তা নিয়ে এলাকায় আসলেন, টাকা ঢাললেন আর হয়ে গেলেন এমপি। কোনো দল থেকেও মনোনয়ন নেননি। শুধু লাইন ঘাট ঠিক রেখেছেন। এই যা।

এলাকার পোড়খাওয়া রাজনৈতিক নেতারাও হতভম্ব। চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া তাদের করার কিছুই ছিলোনা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের আসন ভাগাভাগি অনুযায়ী লক্ষীপুর-২ আসনটি পড়েছিল এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির ভাগে। সে অনুযায়ী সেখানে প্রার্থী হন জাতীয় পার্টি জেলা সভাপতি মোহাম্মদ নোমান । অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল প্রতীক নিয়ে দাঁড়ান কাজী শহীদ। ভোটের কিছু দিন আগে নিরব হয়ে যান জাপা প্রার্থী। এক পর্যায়ে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জাপা প্রার্থী। সমর্থন জানান কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলকে। গুঞ্জন রটে পাপুলের সঙ্গে তার সমঝোতা হয়। আর তা হয় বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি থেকেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের চিঠি দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শহীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ড. সেলিম মাহমুদ স্বাক্ষর করে রহস্যজনক এই চিঠি পাঠান। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কের চিঠি পেয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা পাপুলের পক্ষে অবস্থান নেন এবং তাকে বিজয়ী করেন।
নিজে এমপি হওয়ার পর তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে এমপি বানানোর ইচ্ছে পোষণ করেন। কিন্তু স্ত্রীকে স্বতন্ত্র এমপি করতে না পেরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের ধরে স্ত্রীকেও এমপি বানিয়ে নেন। সবকিছু ম্যানেজ করে স্বামী স্ত্রী দুজনই এমপি নির্বাচিত হয়ে দেশের সংসদের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন রেকর্ড স্থাপন করেন কাজী শহিদ ও সেলিনা ইসলাম।
এমপি পাপুলের পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে পারিবারিকভাবে তারা বিএনপির রাজনীতির সমর্থক। তার বড় ভাই কাজী মঞ্জুরুল আলম কুয়েত বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। তাদের পরিবারের কেউ কখনো আওয়ামী লীগ করাতো দূরের কথা সমর্থনও করে না। কিন্তু কাজী শহীদ গত কয়েকবছর ধরে কুয়েতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসছেন। আর তার বড় ভাই আছেন বিএনপির নেতৃত্বে।
এমপি হওয়ার টার্গেট নিয়ে ২০১৬ সাল থেকে এলাকায় আসা-যাওয়া শুরু করেন কাজী শহীদ । করতে থাকেন দান খয়রাত। এলাকার যুবকদের নানাভাবে তার পক্ষে টানেন। মসজিদ মাদ্রাসায় দান করেন। এ ভাবেই এলাকায় সম্পৃক্ত হন।
কিন্তু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর আর পারতপক্ষে এলাকায় যান না এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা। তবে এলাকার এমপি মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকা এবং কুয়েতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার ঘটনায় সবাই ক্ষুব্ধ। বিষয়টি এলাকার জনগণের জন্য অপমানকর বলে মনে করা হচ্ছে।

কুয়েতে দণ্ডিত এমপি পাপুলের সদস্যপদ শূন্য ঘোষণা

0

কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলের সদস্যপদ শূন্য ঘোষণা করে গেজেট জারি করেছে সংসদ সচিবালয়।
সোমবার জারি করা গেজেটে বলা হয়েছে,” কুয়েতে ফৌজদারি আদালতে ঘোষিত রায়ে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে চার বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় লক্ষীপুর -২ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) (ঘ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য নন।

সংসদ সচিবালয়ের এই গেজেট সোমবারই নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে যায়। নির্বাচন কমিশন এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। সাংবিধানিকভাবে পাপলুর আসন শূন্য ঘোষণার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সেখানে নির্বাচনের ব্যবস্থা নেবে ইসি।
উল্লেখ্য মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কুয়েতের আদালত গত ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পাপুলকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে কুয়েতের স্বারাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মাজেন আল জারাহকেও পাপুলের মতো কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে কুয়েতের দুই পার্লামেন্ট সদস্য সাদুন হাম্মাদ আল-ওতাইবি এবং সালাহ আবদুলরেদা খুরশিদকে এ মামলার অভিযোগ থেকে খালাস দেন বিচারক।
বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে বসবাসের অনুমতি ছিলো। পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ মামল করেন পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশী।
কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন পরে তদন্ত করে পাপুলসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, মানবপাচার, ঘুষ লেনদেন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগ আনে।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পাপুলের মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার রায় ঘোষণার জন্য তারিখ ঠিক করে দেন বিচারক।
আসামিদের মধ্যে মেজর জেনারেল মাজেন আল-জারাহ নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট ও বসবাসের অনুমতি বিষয়ক দপ্তরের অ্যাসিসট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি থাকা অবস্থায় ঘুষের বিনিময়ে পাপুলের বেশ কিছু কাজে সায় দেন বলে অভিযোগ ছিল।
আর কুয়েতের পার্লামেন্টের সদস্য সাদুন হাম্মাদ ও সালাহ খুরশিদের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশি এমপির কাছ থেকে ‘ঘুষ নিয়ে’ অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।নির্বাচনে ওই আসনটি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেষ মুহূর্তে ভোট থেকে সরে দাঁড়ালে ‘বিএনপি ঠেকানোর’ কথা বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ পাপুলের পক্ষে কাজ করে বলে দলটির নেতাদের ভাষ্য।
পাপুল নিজে এমপি হওয়ার পর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কোটায় পাওয়া সংরক্ষিত একটি আসনে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকে এমপি করে আনেন।
প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন পাপুল, যেখানে তার বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে।
পাপুলের মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন বলে জানা গেছে। পাপুলের কেলঙ্কারী ফাঁস হওয়ার পর বাংলাদেশে দুদকও পাপুল, তার স্ত্রী, শ্যালিকা ও মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম সেই মামলায় জামিনে আছেন।
কুয়েতের আদালতের দেওয়া রায়ের কপি গত ১৮ ফেব্রুয়ারী সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছে। “রায়ের কপি পর্যালোচনা করে সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী তার সদস্যপদ শূন্য ঘোষণা করা হয়।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হল সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারান। মুক্তি পাওয়ার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত তিনি আর সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন না। ওই অনুচ্ছেদেই বলা আছে, কোন বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিলে কিংবা কোন বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে আর এমপি হিসেবে থাকতে পারবেন না।বাংলাদেশের কোনো আইনপ্রণেতার এভাবে বিদেশে দণ্ডিত হওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।