দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ২২ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেন নি। এজন্য তার আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। ঢাকার-২ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে নতুন এদিন ধার্য করেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতি ও আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়। ওই বছরের ৫ অক্টোবর ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান (মৃত), সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (মৃত), সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী (যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর), সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আলী আহসান মো. মুজাহিদ (যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার (মৃত), এম শামসুল ইসলাম (মৃত), আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এস আর ওসমানী, সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও খনির কাজ পাওয়া কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন। বাসস।
কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ২২ মার্চ
শিশু রাকিব হত্যা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন আপিল বিভাগে বহাল
খুলনার শিশু রাকিব হত্যা মামলার আসামি ওমর শরীফ ও মিন্টুকে হাইকোর্টের দেয়া যাবজ্জীবন কারাদন্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির আনা আপিল সোমবার খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ বেঞ্চ।
আদালতের আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।
২০১৫ সালের ৩ আগস্ট খুলনার টুটুপাড়া কবরখানা মোড়ে শরীফ মোটরস নামের এক গ্যারেজে চাকায় হাওয়া দেয়ার কমপ্রেশার মেশিনের মাধ্যমে মলদ্বারে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যা করা হয় শিশু রাকিবকে। ঘটানার পরদিন রাকিবের বাবা মো. নুরুল আলম বাদী হয়ে শরীফ, মিন্টু ও শরীফের মা বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
সে মামলা হওয়ার ৯৬ দিন পর বিচারপ্রক্রিয়া শেষে একই বছরের ৮ নভেম্বর রায় দেয় খুলনার আদালত। ওই রায়ে এই মামলার আসামি শরীফ মোটরসের মালিক ওমর শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টুকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। এরপর রায়সহ মামলার নথি ওই বছরের ১০ নভেম্বর হাইকোর্টে আসে এবং ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। সেই সঙ্গে দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) প্রস্তুত করা হয় এবং হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য আসে। এরপর একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্ট বিভাগ রাকিব হত্যা মামলায় ওমর শরীফ ও মিন্টুকে বিচারিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদন্ডের সাজার পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়। পরে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসামিরা। আজ সে আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রায়ই বহাল থাকলো বলে জানান আইনজীবীরা। বাসস।
সুপ্রিমকোর্ট বারের নির্বাচন ১০ ও ১১ মার্চ
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিমকোর্ট বার) ২০২১-২০২২ বর্ষের নির্বাচন আগামী ১০ ও ১১ মার্চ বুধ ও বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল এবং ওইদিন বিকাল সাড়ে পাঁচটায় মনোনয়ন বাছাই করা হবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারে ৩ মার্চ দিন ধার্য রাখা হয়েছে।
সুপ্রিমকোর্ট বারের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সভাপতি, সহসভাপতি ২টি ও সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, সহ -সম্পাদক ২টিসহ মোট ৭ টি সম্পাদকীয় পদ, কার্যনির্বাহী সদস্য পদ ৭টি।
এরইমধ্যে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদ সিনিয়র এডভোকেট আবদুল মতিন খসরুকে সভাপতি পদে ও এডভোকেট আব্দুল আলীম মিয়া জুয়েলকে সম্পাদক পদে মনোনয়ন দিয়েছেন ।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন। তারা সভাপতি পদে এডভোকেট ফজলুর রহমানকে ও সম্পাদক পদে (বর্তমান সম্পাদক) ব্যারিস্টার রৃুহুল কুদ্দুস কাজলকে মনোনয়ন দিয়েছেন ।
২০২০-২০২১ বর্ষে সভাপতি নির্বাচিত হন সিনিয়র এডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ও সম্পাদক হন ব্যারিষ্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সিনিয়র এডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন এখন বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল। বাসস।
শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল, বললেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
বাঙালির বাক্ স্বাধীনতা রক্ষায় ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যতমভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে পকিস্তানিরা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারকে গুলি করে হত্যা করে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করেছিল। তাদের আত্মত্যাগকে আমরা ভুলি নাই। শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কসবা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন বিচার ও সংসদ-বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছিলেন। শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি ২০৪১ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত দেশ হিসেবে পরিণত হতে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে দেশবাসীকে আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রথম দফায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ লোক করোনার টিকা নিয়েছেন অথচ বিশ্বের ১৩০টি দেশ এখনো টিকা পায়নি। কোভিড মোকাবিলায় বিশ্বের পাঁচটি দেশের মধ্য বাংলাদেশ অন্যতম একটি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রতিটি টিকা পাঁচ ডলারে ক্রয় করে বিনা পয়সায় বিতরণ করছেন।
কসবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূইয়া, কসবা পৌর মেয়র এমরান উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাছিবা খান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা সিদ্দিকী, কসবা আওয়ামী লীগ যুগ্ম আহ্বায়ক এম জি হাক্কানী, প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আবদুল হান্নান প্রমুখ। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্র, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
কুয়েতে দণ্ডিত এমপি পাপুলের সদস্যপদ বাতিল করে রুলিং দেবেন স্পিকার
কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলের সদস্যপদ বাতিল করে আজ কালের মধ্যেই রুলিং দেবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। কুয়েতের আদালতের রায়টি সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পৌঁছার পর এ নিয়ে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি পর্যালোচনা করে সদস্যপদ বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি জানিয়েছে সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলের সদস্যপদ বাতিল করে স্পিকারের রুলিং এর পর তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন লক্ষীপুর -২ আসন শূণ্য ঘোষণা করে উপ-নির্বাচনসহ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কুয়েতের আদালত গত ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পাপুলকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে কুয়েতের স্বারাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মাজেন আল জারাহকেও পাপুলের মতো কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে কুয়েতের দুই পার্লামেন্ট সদস্য সাদুন হাম্মাদ আল-ওতাইবি এবং সালাহ আবদুলরেদা খুরশিদকে এ মামলার অভিযোগ থেকে খালাস দেন বিচারক।
বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে বসবাসের অনুমতি ছিলো। পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ মামল করেন পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশী।
কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন পরে তদন্ত করে পাপুলসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, মানবপাচার, ঘুষ লেনদেন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগ আনে।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পাপুলের মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার রায় ঘোষণার জন্য তারিখ ঠিক করে দেন বিচারক।

আসামিদের মধ্যে মেজর জেনারেল মাজেন আল-জারাহ নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট ও বসবাসের অনুমতি বিষয়ক দপ্তরের অ্যাসিসট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি থাকা অবস্থায় ঘুষের বিনিময়ে পাপুলের বেশ কিছু কাজে সায় দেন বলে অভিযোগ ছিল।
আর কুয়েতের পার্লামেন্টের সদস্য সাদুন হাম্মাদ ও সালাহ খুরশিদের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশি এমপির কাছ থেকে ‘ঘুষ নিয়ে’ অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।নির্বাচনে ওই আসনটি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেষ মুহূর্তে ভোট থেকে সরে দাঁড়ালে ‘বিএনপি ঠেকানোর’ কথা বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ পাপুলের পক্ষে কাজ করে বলে দলটির নেতাদের ভাষ্য।
পাপুল নিজে এমপি হওয়ার পর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কোটায় পাওয়া সংরক্ষিত একটি আসনে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকে এমপি করে আনেন।
প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন পাপুল, যেখানে তার বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে।
পাপুলের মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন বলে জানা গেছে। পাপুলের কেলঙ্কারী ফাঁস হওয়ার পর বাংলাদেশে দুদকও পাপুল, তার স্ত্রী, শ্যালিকা ও মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম সেই মামলায় জামিনে আছেন।
কুয়েতের আদালতের দেওয়া রায়ের কপি গত ১৮ ফেব্রুয়ারী সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছে। সে সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, “রায়ের কপি পর্যালোচনা করে সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংসদ সচিব জাফর আহমেদ খান বলেন, “মামলার রায়ের কপি সংসদ পেয়েছে। এ বিষয়ে কাজও শুরু হয়েছে। স্পিকার মহোদয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হল সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারান।মুক্তি পাওয়ার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত তিনি আর সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন না। ওই অনুচ্ছেদেই বলা আছে, কোন বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিলে কিংবা কোন বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে আর এমপি হিসেবে থাকতে পারবেন না।বাংলাদেশের কোনো আইনপ্রণেতার এভাবে বিদেশে দণ্ডিত হওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।
এ দিকে কারাদণ্ড ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের কারণে পাপুল আর সংসদ সদস্য পদে থাকতে পারেন না বলে মনে করেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।
আইন আদালতকে তিনি বলেন, “সংবিধানে যা বলা হয়েছে, সে ব্যাপারে সংসদকে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংসদের কাছে রেকর্ড পৌঁছালে ৬৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ আসন শূন্য ঘোষণা করবে।” কোনো সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার, আটক বা আদালতের রায়ে সাজা পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা স্পিকারকে জানাতে হয়। পাপুল গ্রেপ্তার এবং সাজা পাওয়ার পর তা নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারকে জানানোয় এখন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায় অচিরেই বাংলায় দেওয়া হবে – প্রধান বিচারপতি
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, দেশের সুপ্রিম কোর্টের রায় অচিরেই বাংলায় দেওয়া হবে, সেজন্য কাজ চলছে।
রোববার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “অচিরেই সুপ্রিম কোর্টের রায় বাংলায় দেওয়া হবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি অনুবাদ সেল গঠন করেছি। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।”
বাংলায় রায় দেওয়ার জন্য গত ডিসেম্বরে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “সেখানে সুপ্রিম কোর্টের সব রায় ইংরেজি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলায় রূপান্তরিত হচ্ছে। রূপান্তর কাজ শেষ হলে আমরা আরও গুছিয়ে নেব।”
সুপ্রিম কোর্টের দুই বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীরা শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ছিলেন।
ইংরেজিতে প্রদত্ত রায় বাংলায় অনুবাদ করবে, ‘আমার ভাষা’ সফটওয়্যার, বিচারপ্রার্থীর জন্য সহজবোধ্য হবে, বললেন আইনমন্ত্রী
“আমার ভাষা” সফটওয়্যারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইংরেজিতে প্রদত্ত আদালতের রায়গুলো সহজেই বাংলায় অনুবাদ করা যাবে। ফলে বিচারপ্রার্থী এবং সাধারণ জনগণের কাছে আদালতের রায়গুলো আরও সহজবোধ্য হবে।
বৃজস্পতিবার বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে ভারতের সহযোগিতায় ইংরেজি থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ সংক্রান্ত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সফটওয়্যার “আমার ভাষা” এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ভার্চুয়ালি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আমার ভাষা সফটওয়্যারের উদ্বোধন করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে ইংরেজি ভাষায় প্রদত্ত রায় বাংলা ভাষায় অনুবাদের এই প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এদেশের বিচারপ্রার্থী মানুষের একসেস টু জাস্টিস নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে কেবল উচ্চ আদালতের রায়সমূহ বাংলায় আনুবাদ করার ক্ষেত্রে আমার ভাষা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে নিম্ন আদালতের রায়ও বাংলায় অনুবাদ করার ক্ষেত্রে এই সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে।

-আনিসুল হক,আইনমন্ত্রী
মন্ত্রী বলেন, এতদিনে বাংলাদেশের সকল আদালতের সকল কার্যক্রম বাংলা ভাষাতেই হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল।
তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক আমল থেকে আদালত সমূহের কার্যক্রম ইংরেজি ভাষাতে পরিচালিত হয়েছে। আদালত সমূহে এ কারণেই ইংরেজি ভাষায় রায় ও আদেশ প্রদানে অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া আইন বিষয়ে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত বাংলা পরিভাষা ও পরিকাঠামো তৈরি হয়নি। ফলে উচ্চ আদালতে শতভাগ বাংলা ভাষার প্রচলন করার বাস্তবসম্মত অসুবিধা এখনও রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আমার ভাষা সফটওয়্যারটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে দেশের আদালত সমূহে আর এরকম কোন অনুবাদ সফটওয়্যার প্রয়োজন হবে না। কারণ সরকার আদালতসহ রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রচলন করে একুশের চেতনাকে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষে কাজ করছে।
তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের রায়সমূহ আমার ভাষা সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাংলায় অনুবাদ করার এই উদ্যোগ বিচার বিভাগের সকল ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা প্রচলনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দীন, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার
প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ভারতে তৈরি এই অনন্য অনুবাদ সফটওয়্যার ইনস্টলেশনে অংশীদার হতে পেরে এবং শুভেচ্ছা স্বরূপ বিতরণ করতে পেরে ভারত অত্যন্ত সম্মানিত।

বিক্রম দোরাইস্বামী, ভারতীয় হাইকমিশনার।
তিনি বলেন, “এই ধরনের সহযোগিতা কেবল ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যেই সম্ভব হতে পারে। কারণ বাংলা ভারতের অন্যতম স্বীকৃত ভাষা। এছাড়া ভারত এবং বাংলাদেশের উভয় বিচারিক ব্যবস্থার উৎস, বিধান ও ভাষা অভিন্ন।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীতে এবং একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তিন দিন আগে এই সফটওয়্যারটি চালু হওয়া বিশেষ গুরুত্ব রাখে বলে মন্তব্য করেন দোরাইস্বামী।
অনুষ্ঠানে ‘আমার ভাষা’ সফটওয়্যারটি নিয়ে একস্টেপ নির্মিত একটি ভিডিও প্রদর্শিত হয়।
বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ হত্যা মামলার রায় : জিয়াসহ ৫ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড, ফারাবীর যাবজ্জীবন
লেখক অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যার মামলায় সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক ওরফে জিয়াসহ পাঁচ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড এবং উগ্রপন্থি ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার দপুরে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বলা হয়, “আসামিরা সাংগঠনিকভাবে অভিন্ন অভিপ্রায়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অভিজিৎ রায়কে হত্যা করে। সে কারণে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রাপ্য।”
এ মামলায় অভিযুক্ত ছয় আসামির মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস), আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
তারা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য ।
আর অপর আসামি উগ্রপন্থি ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীকে রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত না থাকলেও ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিজিৎ রায়কে ‘হত্যার প্ররোচনা দিয়েছিলেন’ বলে তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়।
আসামিদের মধ্যে জিয়া ও আকরামকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচার কার্যক্রম চলে। বাকি চার আসামি রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবীরা জানান, ফারাবীকে রায়ের পর কিছুটা বিমর্ষ দেখালেও বাকি তিনজন রায়ের আগে ও পরে ছিল একই রকম ‘উৎফুল্ল ও উদ্ধত’। তাদের একজন দুই আঙুল তুলে ‘ভি’ চিহ্নও দেখান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, প্রথম আলো।
যে ভাবে অভিজিৎ হত্যা ঃ
২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে নিয়ে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে জঙ্গি কায়দায় হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ রায়। চাপাতির আঘাতে আঙুল হারান তার স্ত্রী।
পদার্থবিদ অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে অভিজিৎ থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রে। বিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি মুক্তমনা ব্লগ সাইট পরিচালনা করতেন তিনি। জঙ্গিদের হুমকির মুখেও তিনি বইমেলায় অংশ নিতে দেশে এসেছিলেন।
ঘটনার পর শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন অধ্যাপক অজয় রায় (বর্তমানে প্রয়াত)। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হাত ঘুরে মামলাটির তদন্তভার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হাতে যায়।
হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম। অভিযোগের পক্ষে ৩৪ জনকে সাক্ষী করা হয়।
ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইবুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান ওই বছর ১ অগাস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার ছয় আসামির বিচার শুরুর আদেশ দেন।
অভিযোগপত্রে নাম থাকা রাষ্ট্রপক্ষের ৩৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর কারাগারে থাকা চার আসামি গত ২৭ জানুয়ারি আদালত নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
এরপর গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গোলাম ছারোয়ার খান জাকির আসামিদের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করেন। বৃহস্পতিবার আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক রায়ের দিন ঠিক করে দেন।
যা ছিল অভিযোগপত্রেঃ
বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দেওয়া ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে জমা দেওয়া সিটিটিসির অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে ১২ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলেও তাদের মধ্যে পাঁচজনের পূর্ণfঙ্গ নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। একজন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যাওয়ায় অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে মোট ছয়জনকে। আসামিরা জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য।
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (আগের নাম আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) নেতা জিয়ার ‘নির্দেশেই’ সেদিন অভিজিতের ওপর হামলা হয় বলে উল্লেখ করা হয় অভিযোগপত্রে।
সেখানে বলা হয়, আসামি মোজাম্মেল, আকরাম, হাসান ও আবু সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডের দুই মাস আগে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ১৯২/২ নম্বর বাসা ভাড়া নিয়ে অভিজিৎ রায়কে বিভিন্ন স্থানে অনুসরণসহ হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করেন।
আসামি মোজাম্মেল রেকি টিমের নেতৃত্বে থেকে অপারেশন শাখার মুকুল রানা ওরফে শরিফুলকে অনুসরণসহ এ হত্যাকাণ্ডের সার্বিক সহযোগিতা এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের অপারেশন শাখার সদস্য আসামি আরাফাত রহমান, আলী ওরফে খলিল, অনিক এবং অন্তু সাংগঠনিকভাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন টার্গেট ব্যক্তিকে হত্যা করার।
অভিজিৎকে তারা চারজনই চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগপত্র বলা হয়। এসময় অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও চাপাতির আঘাতে একটি আঙুল হারান।
অপারেশন শাখার চারজন আসামি যাতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারে তার জন্য চারপাশে বেষ্টনি করে রাখে আসামি জিয়া, সেলিম, মুকুল রানা, মোজাম্মেল, আবু সিদ্দিক ও আকরাম।
আসামিদের মধ্যে মারা যাওয়ার কারণে মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনজন। মান্না ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহি ও আবুল বাশার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান।
হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া দলটির নেতৃত্বে থাকা মুকুল রানা ওরফে শরিফুল ২০১৬ সালের ১৯ জুন ঢাকার খিলগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
উগ্রপন্থি ব্লগার সরাসরি ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত না থাকলেও ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিজিৎ রায়কে ‘হত্যার প্ররোচনা দিয়েছিলেন’ বলে তাকেও এ মামলায় আসামি করা হয়।
সেনাবাহিনীকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই আল-জাজিরার মিথ্যা প্রতিবেদন : বললো সেনাসদর
আল জাজিরায় প্রকাশিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটির প্রতিবাদ জানিয়েছে সেনা সদর। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীকে ‘হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে’ সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রকাশ করা হয়েছে বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে সোমবার রাতে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে। “
আইএসপিআরের পাঠানো প্রতিবাদলিপিটি পুরোপুরি প্রকাশ করা হল।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে আল জাজিরার মিথ্যা প্রতিবেদন ঃ
সম্প্রতি আল জাজিরা নামক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি সেনাসদরের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তথ্যচিত্র আকারে পরিবেশিত প্রতিবেদনটিতে আল জাজিরা কর্তৃক বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে অসংখ্য ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, এর ফলে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। উক্ত প্রতিবেদন দৃষ্টে স্পষ্টতই প্রতীয়মান যে, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা সেনাবাহিনী প্রধানকে বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্বের দরবারে বিতর্কিত, অগ্রহণযোগ্য ও হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার সাথে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্যান্য অসত্য, বানোয়াট, মনগড়া, অনুমাননির্ভর ও অসমর্থিত তথ্য সংযুক্ত করে এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রথমত, পরিবেশিত তথ্যচিত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক ইসরাইল হতে স্পাইওয়্যার ক্রয় করা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সেনাবাহিনী প্রধানের ভাইকে সম্পৃক্ত করে কিছু মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৯৮৮ সাল থেকে সফলভাবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। ইতিপূর্বে বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে এবং বর্তমানে (৩১ অআস্ট ২০২০ হতে অদ্যাবধি) ১২০টি দেশের মধ্যে জাতিসংঘে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হবার গৌরব অর্জন করেছে। বিশ্ব শান্তিরক্ষার এই মহান দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১২৪ জন সেনাসদস্য আত্মোৎসর্গ করেন এবং ২২২ জন সেনাসদস্য আহত হন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জিত সুনাম, পারদর্শিতা, সক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই জাতিসংঘের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের শান্তিরক্ষী দল প্রেরণের জন্য সদা প্রস্তুত থাকে। বর্তমানেও ইউনাইটেড নেশনস পিসকিপিং ক্যাপাবিলিটি রেডিনেস সিস্টেমের (UNPCRS) আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬টি কন্টিনজেন্ট পর্যায়ক্রমে পুরাতন ইউনিটসমুহের প্রতিস্থাপক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুনভাবে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত আছে যা শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশসমুহের মধ্যে সর্বোচ্চ।
গত ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে জাতিসংঘের ইউএনডিপিও (UNDPO) কর্তৃক বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো ‘সিগন্যাল ইউনিটের পরিবর্তে একটি সিগন্যাল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট’ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (MONUSCO) মোতায়েন করতে সক্ষম কিনা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি, উল্লেখিত ইউনিটের প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামাদির তালিকা (Statement of Unit Requirement) জাতিসংঘ কর্তৃক প্রেরণ করা হয়। ওই তালিকা অনুযায়ী উক্ত সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জন্য সেসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কিছু সরঞ্জামাদি মজুদ না থাকায় এবং সেগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করার প্রয়োজন হওয়ায়, বাংলাদেশ কর্তৃক সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটটি সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালের পরে প্রেরণ করা সম্ভব বলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক ৫ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে জাতিসংঘকে অবহিত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কর্তৃক যথাযথ সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হাঙ্গেরি থেকে ডিসেম্বর ২০১৭-তে একটি প্যাসিভ সিগন্যাল ইন্টারসেপ্টর ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা জুন ২০১৮-তে সম্পন্ন হয়। এই সরঞ্জামটি জাতিসংঘের চাহিদা মোতাবেক ক্রয় করা হলেও পরবর্তীতে জাতিসংঘ তানজানিয়ার একটি সিগন্যাল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে মোতায়েন করায় উক্ত সরঞ্জামটি অদ্যাবধি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছেই অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে জাতিসংঘের চাহিদার প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রেরণ করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আল জাজিরা কর্তৃক উক্ত সিগন্যাল সরঞ্জামটি ইসরাইল এর তৈরি বলে যে তথ্য প্রচার করা হয় তা আদৌ সত্য নয় এবং সরঞ্জামটির কোথাও ইসরাইল-এর নাম লেখা নাই। আরো উল্লেখ্য যে, সেনাবাহিনীতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় এবং অনেকগুলো পর্যায় অনুসরণ করে সরঞ্জামাদি ক্রয় করা হয়। এখানে দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই।
এই সিগন্যাল সরঞ্জামটির ক্রয় প্রক্রিয়া বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এর দায়িত্ব গ্রহণের অনেক পূর্বেই শুরু হয়। ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে পূর্বতন সেনাবাহিনী প্রধান এর সময়কালে সেনাসদরের ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সরকার হতে অনুমোদন গ্রহণপূর্বক প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তর (ডিজিডিপি) সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে জুন ২০১৮-তে চুক্তি সম্পাদন করে। অতএব উক্ত সিগন্যাল সরঞ্জামটির ক্রয় নিয়ে বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান বা হাঙ্গেরিতে বসবাসকারী তার ভাইয়ের কোনো যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা যে সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। উপরন্তু শুধুমাত্র সেনাবাহিনী প্রধানের ভাইয়ের দীর্ঘ সময় ধরে হাঙ্গেরিতে বসবাসের বিষয়টিকে পুঁজি করে এই তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এখানে বলা আবশ্যক যে, সেনাবাহিনী প্রধানের কোন ভাই বা আত্মীয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কোনো ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ বা সরঞ্জামাদি সরবরাহ অথবা ক্রয় প্রক্রিয়ার সাথে কখনোই সম্পৃক্ত ছিলেন না। এটি সহজেই অনুমেয় যে এই তথ্যচিত্রটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো একটি স্বনামধন্য এবং সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং তার পরিবারের উপর কালিমা লেপনের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর মতো একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করে দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা করার অপপ্রয়াস মাত্র।
গত ২৯ মার্চ ২০১৯ তারিখে সেনাবাহিনী প্রধানের ছেলের বিবাহোত্তর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান হয় যেখানে বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অথচ তার পূর্বেই সেনাবাহিনী প্রধান এর ভাইগণ (আনিস এবং হাসান) তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে ষড়যন্ত্রমূলক, পরিকল্পিতভাবে দায়েরকৃত সাজানো ও বানোয়াট মামলা হতে যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অব্যাহতি পান। ফলে ২৯ মার্চ ২০১৯ তারিখে সেনাবাহিনী প্রধানের ছেলের বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানে তার কোনো ভাই কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত বা পলাতক আসামি অবস্থায় ছিলেন না, বরং সম্পূর্ণ অব্যাহতিপ্রাপ্ত হিসেবেই তারা ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন এবং উক্ত সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় বা চলমানও ছিল না। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান এপ্রিল ২০১৯ এ সরকারি সফরে সিঙ্গাপুর ভ্রমণ শেষে ব্যক্তিগত সফরে মালয়েশিয়া গমন করেন এবং বড় ভাইয়ের বাসায় অবস্থান করেন। অতএব বিষয়টি স্পষ্ট যে, প্রতিবেদনে দেখানো সেনাবাহিনী প্রধানের তার প্রবাসী ভাইয়ের সাথে বিবাহ অনুষ্ঠানে এবং মালয়েশিয়াতে সাক্ষাত এর ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পলাতক আসামির সাথে সাক্ষাত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা একটি নির্লজ্জ অপপ্রচার মাত্র।
এখানে উল্লেখ্য যে, আল জাজিরার প্রতিবেদনটিতে সামি নামের যে ব্যক্তির বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, তার প্রকৃত নাম সামিউল আহমেদ খান, পিতা: লে. কর্নেল মরহুম আব্দুল বাসিত খান (অব.)। উক্ত সামিকে ইতিপূর্বে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মিলিটারি পুলিশ কর্তৃক চুরি, সেনাবাহিনীর অফিসারের পোশাক এবং ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রতারণার অপরাধে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সকল অপরাধের দায়ে ২০০৬ সালে তাকে বাংলাদেশের সকল সেনানিবাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। উল্লেখিত সামিউল আহমেদ খান বর্তমানে ‘জুলকারনাইন সায়ের খান’ (বর্তমান পাসপোর্ট নম্বর ইজি০০৯২৯০২, পূর্বের পাসপোর্ট নম্বর বিজে০৫২০২৬০, এসি৫০৭৫৬৪৭, এবং বি১৭৬৫৬৪৯) নাম ধারণ করে এবং তার পিতার নাম ‘কর্নেল ওয়াসিত খান’ ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে পলাতক অবস্থায় হাঙ্গেরিতে বসবাস করছে। উল্লেখ্য যে, এই প্রতারক, অর্থলোভী এবং জালিয়াত সামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে রমনা মডেল থানায় গত ৫ মে ২০২০ তারিখে একটি মামলা (নম্বর ২/৫/২০২০) দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
মূলত, এই প্রতিবেদনটি দৃষ্টে দেখা যায় বিভিন্ন সময়ের কিছু খণ্ড খণ্ড ছবি বা দৃশ্য সংযোজন করে একটি অনুমাননির্ভর, অগ্রহণযোগ্য ও প্রমাণবিহীন তথ্য দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি তথ্যচিত্র সম্পাদনার কাজ করা হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনের প্রায় সম্পূর্ণ বিষয় অসমর্থিত শোনা কথা (হিয়ার সে) নির্ভর এবং তথ্য প্রদানকারীকে অপরপক্ষ কর্তৃক কোনো প্রশ্ন বা জেরার মুখোমুখিও করা হয়নি। এছাড়া সামির মতো একজন প্রতারক ও পলাতক ব্যক্তির নিকট হতে একতরফাভাবে প্রাপ্ত ও সাক্ষ্য হিসেবে অনির্ভরযোগ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ভিত্তিহীন তথ্যচিত্র তৈরি করার কারণে এই প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্যতা, প্রাসঙ্গিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, উক্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান ও তার পরিবারকে সরাসরি মাফিয়া পরিবার হিসেবে উল্লেখ ও উপস্থাপনের প্রয়াস নেয়া হয়েছে। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশের সরকার কর্তৃক আইন অনুযায়ী নিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধান সম্পর্কে সাংবাদিকতার রীতি ও নীতি গর্হিতভাবে এরূপ অপবাদ ও মিথ্যাচার চূড়ান্তভাবে অনভিপ্রেত ও অনাকঙ্ক্ষিত এবং আল জাজিরার মতো একটি সংবাদ মাধ্যমের নিকট হতে যা আদৌ কাম্য নয়।
পেশাগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ, সকলের কাছে অতি গ্রহণযোগ্য সেনাবাহিনী প্রধানকে কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়া আল জাজিরা কর্তৃক অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিকভাবে দুর্নীতির সাথে জড়িত করার অপপ্রয়াস যা সেনাবাহিনী ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।
সৌদি আরবে বাংলাদেশি গৃহকর্মী হত্যায় ‘গৃহকত্রীর মৃত্যুদণ্ড’, স্বামী সন্তানের কারাদণ্ড
সৌদি আরবে বাংলাদেশি গৃহকর্মী আবিরন বেগম হত্যাকাণ্ডে গৃহকত্রীর মৃত্যুদণ্ড এবং তার স্বামী-সন্তানের কারাদণ্ড হয়েছে।
রাজধানী রিয়াদের অপরাধ আদালত রোববার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেছে বলে সোমবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, “মামলার প্রধান আসামি গৃহকত্রী আয়েশা আল জিজানির বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত এবং সুনির্দিষ্টভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের দায়ে আদালত ‘কেসাস’ (জানের বদলে জান) এর রায় প্রদান করেছে।”
অপর দুই আসামির একজন গৃহস্বামী বাসেম সালেমকে তিন বছর দুই মাস কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের আলামত ধ্বংস, গৃহকর্মীকে নিজ বাসার বাইরে অবৈধভাবে কাজে পাঠানো এবং গৃহকর্মীর চিকিৎসার ব্যবস্থা না করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
মামলার আরেক আসামি তাদের সন্তান ওয়ালিদ বাসেদ সালেমকে সাত মাস কিশোর সংশোধনাগার কেন্দ্রে কারাভোগের সাজা দিয়েছে আদালত।
তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রমাণ না মিললেও আবিরন বেগমকে বিভিন্নভাবে অসহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আদেশে বলেছেন বিচারক।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, খুলনার পাইকগাছার আবিরন ঢাকার একটি রিক্রুটিংএজেন্সির মাধ্যমে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ তাকে হত্যা করা হয়।
দীর্ঘ দিনেও পরিবার আবিরনের মরদেহ ফেরত না পাওয়ার মধ্যে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির সহায়তায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর তার মরদেহ দেশে আনা হয়।
তিনি জানান, মরদেহের সঙ্গে থাকা আবিরনের মৃত্যু সনদে মৃত্যুর কারণের জায়গায় লেখা ছিল মার্ডার (হত্যা)। ঘটনা অনুসন্ধানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও একটি কমিটি করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছিল।
১৬ ডিসেম্বর মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরুর প্রায় দুই মাস পর এই রায় এলো।
আবিরনের পরিবারের পক্ষে তার বোন রেশমা খাতুনের স্বামী এস এম আইয়ুব আলী সৌদি আরবে মামলার খোঁজ-খবর রাখছিলেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আবিরনকে শুরু থেকেই নির্যাতন করা হয়। মরদেহ যখন দেশে আসে, তা এতটাই বীভৎস ছিল যে দেখার মতো ছিল না।
“আমরা খুবই খুশি যে, আমরা সন্তোষজনক রায় পেয়েছি।”
সরকারসহ সবাইকে ধন্যবাদ দেওয়ার পাশাপাশি আবিরনের ঘটনায় দেশে হওয়া মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।











