নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ও নিহত ব্যক্তির পরিবারকে আপাতত পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে আদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন তৈমুর আলম খন্দকার।
গত ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার আদেশ দিয়ে রুল জারি করেছিলেন।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এ টাকা দেওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ৩৭টি পরিবারের কাছে এ টাকা বিতরণ করবেন।
রুলে দগ্ধ ও নিহতদের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে বিবাদীদের কেনো নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
চার সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, নারায়ণগঞ্জের মেয়র, তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রাজউক, ডিপিডিসি, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও এসপি, মসজিদ কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
ক্ষতিপূরণের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে সরকার পক্ষ ও তিতাস গ্যাস। ১৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান স্থগিতাদেশ দিয়ে আবেদন ১ ডিসেম্বর শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন। সে অনুসারে আবেদনগুলো মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় উঠে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার।
গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হন ৩৭ জন মুসল্লি। দগ্ধদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। দগ্ধ ৩৭ জনের মধ্যে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর ১২ শতাংশ দগ্ধ মামুন নামে এক রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণ; ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আপিলে স্থগিত
কানাডার বেগমপাড়া আসলে কোথায়? বাংলাদেশী কারা সেখানকার বাসিন্দা?
কানাডা’র বাংলাদেশী বেগমপাড়া একটি মিথ, এটি সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গা নয়, আরও অনেক দেশেই রয়েছে এমন বেগম পাড়া। বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক, আমলা তাদের দুর্নীতির টাকা নির্বিঘ্নে পাচার করে কানাডা অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে বাড়ি গাড়ি কিনে স্ত্রী সন্তানদের রেখেছেন। দেশে লুট করা টাকা দিয়ে বিদেশের মাটিতে ভোগবিলাস করছেন। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ডহোমের পর গত কয়েকবছর ধরে আলোচনায় এসেছে কানাডার বেগমপাড়ার খবর। সরকারিভাবেও এই বেগমপাড়ার দু্র্নীতিবাজদের কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন তারা অনুসন্ধান করে দেখেছেন, বিদেশে টাকাপাচারকারিদের মধ্যে রাজনীতিবিদদের চেয়েও সরকারি আমলাদের সংখ্যা বেশী। অর্থাৎ দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা পাচার করছেন সরকারি আমলারা বেশী। বেগমপাড়ার বিষয়টি এখন দুর্নীতির এক জ্বলন্ত উদাহরণ। দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন,দুদক এসব বেগমপাড়ায় বসবাসকারিদের তালিকা চেয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর হয়েছে । কিন্তু আদৌ সেই তালিকা পাওয়া যাবে কি না, অনুসন্ধান হবে কি না, এ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন সন্দেহ। তবে আশার কথা হলো দেশের এই লুটেরা, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন প্রবাসী অভিবাসীরা। যারা জীবিকার অন্বেষণে বিদেশ-বিভুঁইয়ে গিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারেন না, অথচ দেশের এক শ্রেণির আমলা, রাজনৈতিক নেতা কোটি কোটি টাকা পাচার করে তাদের স্ত্রী সন্তানদের সেখানে বিলাসিতার মধ্যে রেখে দেশে নির্বিঘ্নে রাজনীতি, চাকরি করে যাচ্ছেন।
কানাডার বেগমপাড়া আসলে কি? কারা সেখানকার বাসিন্দা? এ নিয়ে লিখেছেন
সাবেক ছাত্রনেতা, লেখক, গবেষক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট ডঃ মঞ্জুরে খোদা। পড়ুন বিস্তারিত।
বেগমপাড়া কি?
বাংলাদেশের অসৎ-দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী-আমলা-রাজনীতিকদের পরিবার কানাডার যে সব স্থানে বাসা-বাড়ী কিনে বসবাস করে সেসব স্থানকে কানাডার বাঙালিরা ‘বেগমপাড়া’ বলে অভিহিত করে। কানাডায় আসলে সুনির্দিষ্টভাবে ‘বেগমপাড়া’ বলে কোন জায়গা নেই। ‘বেগমপাড়া’ হচ্ছে বাংলাদেশের লুটেরা-দুর্নীতিবাজদের দ্বিতীয় আবাস ভূমির প্রতিকী নাম। বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে তাদের পরিবার এখানে আয়েশী, নিরাপদ ও বিলাসবহুল জীবনযাপন করে।

ছবি- বিবিসি বাংলা
কিভাবে এলো বেগমপাড়ার ধারণা?
অন্টারিও’র একটি ব্যয়বহুল ও অভিজাত ছোট শহর মিসেসাওগা। কানাডার বিখ্যাত লেক অন্টারিওর তীর ঘেসে টরন্টো শহরের পাশে এটি অবস্থিত। এই শহরের একটি বড় কন্ডোমিনিয়ামে দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা বহু অভিবাসী পরিবার বসবাস করতো। এই সব পরিবারের কর্তারা কাজকর্ম করেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। আর স্বামীদের অনুপস্থিতিতে স্ত্রীদের নিঃসঙ্গ এবং কঠিন জীবন সংগ্রাম নিয়ে ভারতীয় পরিচালক রশ্মি লাম্বা একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন, যে তথ্যচিত্রের নাম ছিল ‘বেগমপুরা’। সেই ‘বেগমপুরা’ থেকেই বেগমপাড়া’র নামটি এসেছে।
বেগমপুরা থেকে বেগমপাড়া হলেও কাহিনী বিপরীত!
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উচ্চবেতনে কাজ করা ভারত-পাকিস্তানের নাগরিকরা জীবনের এক সময় পরিবার নিয়ে অভিবাসী হয়ে কানাডায় চলে আসেন। কিন্তু কানাডায় এসে তারা তাদের পেশাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ না পেয়ে কানাডায় পরিবার রেখে ফের মধ্যপ্রাচ্যেই চলে যান। সেখান থেকে অধিক আয়ের অংশ তাদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য পাঠান। আর তাদের স্ত্রীরা’ স্বামীর অনুপস্থিতিতে একাই কঠিন সংগ্রাম ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের সন্তান ও পরিবারকে সামলিয়েছেন। তার মানে বেগমপুরার কাহিনী ছিল অনেক সংগ্রামের ও চ্যালেঞ্জের।
আর বাংলাদেশের কথিত বেগমপাড়ার কাহিনী তার বিপরীত। বাংলাদেশের বেগমদের সাহেবরা দেশে চাকরি, ব্যবস্যা-বাণিজ্য, রাজনীতি করে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে তাদের অর্জিত অবৈধ আয় কানাডায় পাচার করে তাদের বেগমদের কাছে পাঠায়। আর তাদের বেগমরা-সন্তানরা এখানে অভিজাত এলাকার দামী বাসা-বাড়ী-গাড়ীতে বিলাশবহুল আয়েশি জীবনযাপন করেন।
সেই প্রতিকী বেগমপাড়াগুলো কোথায়?
বেগমপাড়া বলে বাস্তবে কানাডায় কোন পাড়া, মহল্লা, এলাকা না থাকলেও এখানে এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে এ সব অসৎ-দুর্নীতিবাজ বাংলাদেশীরা বসতি গেড়েছেন। কোথায় সে সব? সাধারণত যে সব এলাকায় বাংলাদেশীদের আনাগোনা নেই, স্থানীয় প্রবাসী পেশাজীবীরা বসবাস করেন না, সে সব এলাকাকেই তারা বেছে নিয়েছেন বসবাসের জন্য। এবং সে সব এলাকাতেই বাসা-বাড়ী, এপার্টমেন্ট কিনে বসবাস করছেন। যে স্থানগুলোকে এখানকার অভিজাত এলাকা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
জানা যায়, টরন্টোর বেলভিউ এলাকায় বিলাসবহুল হাইরাইজ কন্ডোমিনিয়াম, টরন্টোর প্রাণকেন্দ্র সিএন টাওয়ারের আশেপাশে, টরন্টোর পাশের শহর রিচমন্ড হিল, মিসেসাওগা এবং মার্কহামের অভিজাত এলাকায় তারা বাস করে। অন্টারিও এলাকায় এমন প্রায় দুই শতাধিক বেগমপাড়ার সন্ধানের কথা শোনা যায়। এছাড়া আরো অনেকে কানাডার অভিবাসী হয়ে বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়েছেন।
কি করেন এই বেগমরা?
অভিজাত এলাকার এসব বেগমদের এখানে কোন কাজ-কর্ম করেন না, কিন্তু তারা দুই-চার-পাঁচ মিলিয়ন ডলারের বাড়ীর মালিক। তারা এখানে থাকেন কিন্তু তাদের জ্ঞাত আয়ের সাথে দৃশ্যমান জীবনযাপনের কোনো মিল নেই। কানাডায় থাকা সাধারণ প্রবাসীদের পক্ষে সহজে এমন বাড়ী কেনা সম্ভব না। তাদের এরকম একটা বাড়ী কিনতে অনেক মেহনত করতে হয়। স্বামী-স্ত্রী ভাল চাকরি-ব্যবসা করে তবেই চিন্তা করতে পারেন এমন বাড়ীর কথা। যে কারণে কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহজেই ধারণা হয়, তাদের এ সম্পদ তারা এখানকার আয় দিয়ে করেননি। বাংলাদেশ থেকে তারা অসৎ উপায়ে আয় করে অবৈধভাবে নিয়ে এসেছেন।
কেন বেগমপাড়া এত আলোচিত?
কানাডাই একমাত্র দেশ যেখানে দেশপ্রেমিক প্রবাসীরা লুটেরাদের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। যে সংবাদ দেশের সকল মিডিয়াতে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়। যে আন্দোলন দেশ-বিদেশের বাঙালিদের দ্বারা ব্যাপক প্রশংসিত হয়। মানুষের মধ্যে অনেক উৎসাহের সৃষ্টি করে। অন্যান্য দেশের প্রবাসীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন তাদের ওখানেও এমন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য। বিশেষত কানাডা ছাড়া যে সব দেশে লুটেরারা অর্থ পাচার করেন। সেটা হলে লুটেরা বিরোধী এ আন্দোলন হয়তো একটি বৈশ্বিক আন্দোলন হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য বিশ্বব্যাপী করোনার ভয়ঙ্কর আক্রমন সে সম্ভবনাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। কিন্তু লুটেরা বিরোধী আন্দোলনের আলাপ-সংগ্রাম থেমে নেই।
কানাডায় বেগমপাড়া ও লুটেরা বিরোধী আন্দোলন ছিল বেগমপাড়া শব্দের ব্যাপক প্রচার ও আলোচনার বিষয়। এই আন্দোলনের আগে ও পড়ে কানাডার বেগমপাড়া নিয়ে মিডিয়াতে অনেক সংবাদ, প্রতিবেদন আলাপ-আলোচনা হয় যা এখন চলমান। যে আলোচনা দেশ-বিদেশে এক বিশাল মিথ ও কিংবদন্তির সৃষ্টি করে।
বেগমপাড়া কি শুধু কানাডাতেই আছে?
না বেগমপাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছে? বেগমপাড়ার মিথ বিবেচনায় দুনিয়ার অনেক দেশেই বেগমপাড়া বিদ্যমান। যে সব দেশে লুটেরারা দেশ থেকে অর্থসম্পদ লুট করে নিয়ে তাদের দ্বিতীয় বিলাসী ও নিরাপদ আবাস গড়ে তুলেছেন, সেখানেই এই বেগমপাড়া বর্তমান। সে হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কেইম্যান আইল্যান্ডস ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসএ বেগমপাড়া আছে। এ তথ্য বাংলাদেশ সরকার ও জিএফআই এর।
(ডঃ মঞ্জুরে খোদা, লেখক, গবেষক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট)
————————————————————–
তথ্যসূত্রঃ কানাডায় বাংলাদেশের অর্থপাচারকারী বিত্তশালীদের বেগমপাড়া আসলে কোথায়? মোয়াজ্জেম হোসেন, বিবিসি বাংলা।
অন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খানের মৃত্যু
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক এম আব্দুল হান্নান খান।
রোববার বেলা পৌনে ১টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয় বলে সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক জানান।
সত্তোরোর্ধ্ব এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হান্নান খান স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে রেখে গেছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। আব্দুল হান্নান খান এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেঠেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “আব্দুল হান্নান খান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড, জেল হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দলিলপত্র সংগ্রহ ও উপস্থাপনের মাধ্যমে এ সমস্ত মামলার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হান্নান খানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অপর এক শোক বার্তায় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যা মামলার তদন্তসহ দায়িত্ব পালনে হান্নান খানের নিষ্ঠা ও দক্ষতার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার হান্নান খানের জ্বর আসে। সেদিনই করোনাভাইরাসে পরীক্ষা করালে পজিটিভ আসে। জ্বর বেড়ে গেলে তাকে সিএমএইচে নেওয়া হয়।
“সেখানে গত দুইদিন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকে হঠাৎ করে অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পৌনে একটার সময় তিনি মারা যান।”
মাস খানেক আগে হান্নান খানের ব্রেইন স্ট্রোক হয়েছিল। তবে সেটা থেকে সেরে উঠে বাসায় বিশ্রামেই ছিলেন। “উনার ‘ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যাটাক’ হয়েছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।”
হান্নান খান পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে অবসরে যাওয়ার পর ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি তাকে আইজিপি পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আব্দুল হান্নান এর মৃত্যুতে আইনমন্ত্রীর শোক ঃ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান খান এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, এমপি। এক শোকবার্তায় আইনমন্ত্রী বলেন, আব্দুল হান্নান খান ছিলেন একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, সাহসী এবং নীতি ও আদর্শবান ব্যক্তিত্ব। তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলা, জেল হত্যা মামলা এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এক বিরাট শূন্যতা তৈরি হলো। শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
উদ্ভট দাবি চীনা বিজ্ঞানীদের; করোনা ভাইরাস বাংলাদেশ-ভারত থেকেই ছড়িয়েছে, নাকচ করলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও
মহামারি কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের উৎস চীনে নয়, বরং ভারত বা বাংলাদেশ থেকেই এটি ছড়িয়েছে। এবার চীনের বিজ্ঞানীরা এমন দাবি করেছেন।
সম্প্রতি চীনের সায়েন্স অ্যাকাডেমি প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এমন দাবি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট চীনা বিজ্ঞানীদের গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতিমধ্যে ল্যানসেট–এর প্রাক্-প্রকাশনা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই প্রবন্ধ উদ্ধৃত করে গত শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সান বলছে, উহানের দোষ এখন বাংলাদেশ বা ভারতের ওপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে।

ছবি-ইন্টারনেট।
চীনা বিজ্ঞানীদের দাবি, করোনাভাইরাস চীনের উহানে ছড়িয়ে পড়ার আগে ভারত-বাংলাদেশে দেখা দিয়েছিল। গত বছর এ অঞ্চলে তীব্র তাপদাহের সময় মানুষ ও বন্যপ্রাণীরা একই উৎস থেকে পানিপানের ফলে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। যার প্রমাণও রয়েছে তাদের কাছে।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের মে থেকে জুন মাসে রেকর্ড দ্বিতীয় দীর্ঘতম দাবদাহ তাণ্ডব চালিয়েছিল উত্তর-মধ্য ভারত এবং পাকিস্তানে। ফলে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ পানির সংকট সৃষ্টি হয়। পানির অভাবে বানরের মতো বন্যপ্রাণী একে অপরের সঙ্গে ভয়াবহ লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছিল এবং অবশ্যই এটি মানুষ-বন্যপ্রাণী সংস্পর্শের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছিল।
চীনা গবেষক দলটি করোনাভাইরাসের উৎস খুঁজতে ফাইলোজেনেটিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তাদের মতে, সবচেয়ে কম রূপান্তরিত রূপটাই ভাইরাসের আসল রূপ হতে পারে।
এ ধারণার ভিত্তিতেই চীনা গবেষকরা দাবি করেছেন, করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ উহানে হয়নি। ভারত কিংবা বাংলাদেশের মতো জায়গাগুলো, যেখানে কম রূপান্তরিত ভাইরাসের নমুনা পাওয়া গেছে, সেখানেই হতে পারে এর আসল উৎস।
ভারত-বাংলাদেশের পাশাপাশি করোনার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে রাশিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও চেক রিপাবলিকেরও নাম বলেছেন চীনের ওই গবেষকরা।
চীনা গবেষকদের এ দাবির সঙ্গে একমত নন অনেক বিশেষজ্ঞ। গ্লাসগো ইউনিভার্সিটির ভাইরাল জিনোমিক্স অ্যান্ড বায়োইনফরম্যাটিকস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডেভিড রবার্টসন চীনা বিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্রকে খুবই ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, ন্যূনতম রূপান্তরিত ভাইরাস সিকোয়েন্স শনাক্তকরণে লেখকদের দৃষ্টিভঙ্গি সহজাতভাবেই পক্ষপাতদুষ্ট। লেখকরা মহামারির বিস্তৃতি সংক্রান্ত উপাত্তগুলো এড়িয়ে গেছেন, যাতে চীনে ভাইরাসের উত্থান এবং সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়া স্পষ্ট দেখা যায়।
চীনের বিজ্ঞানীদের দাবিকে পুরোপুরি অনুমাননির্ভর বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত শুক্রবার সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মাইক রায়ান এক ভার্চ্যুয়াল ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘চীন থেকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হয়নি, এমন কথা বলা আমাদের জন্য একেবারে অনুমাননির্ভর হবে।’
চীনের বিজ্ঞানীদের নতুন তথ্যের ব্যাপারে দেশের প্রভাবশালী সংবাদপত্র প্রথম আলোর পক্ষ থেকে দেশের চারজন বিজ্ঞানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে জিন বিশ্লেষণের যে তথ্য আছে, তাতে দেখা যায়, এই ভাইরাস অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছে।’
গত বছর চীনের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চীনের কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ভাইরাসের তথ্য প্রকাশ করে। বাংলাদেশে প্রথম রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে ৮ মার্চ।
দেশের বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নতুন করোনাভাইরাসের জিনের রূপান্তর বিশ্লেষণ করেছে। এসব বিশ্লেষণে বেশ কয়েকটি স্ট্রেইন বা ক্লেড (ধরন) চিহ্নিত হয়েছে। আইইডিসিআর ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি)। যৌথ গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানীরা বলেছেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে ঘটে থাকতে পারে।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম জিন বিশ্লেষণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন চাইল্ড হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক সমীর সাহা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘চীনা বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা তাঁদের প্রবন্ধে প্রথম সংক্রমণ নিয়ে অপরিপক্ব মন্তব্য করেছেন।’ তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা ও বিশ্লেষণ হওয়া দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের মানুষকে বাক স্বাধীনতার জন্য লড়তে হচ্ছে, সেমিনারে অভিমত
জনগণের মৌলিক অধিকার ও বাক স্বাধীনতার নিশ্চয়তার পাশাপাশি মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। ‘মানবাধিকার সংরক্ষণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জোরদারকরণ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানান তারা।
ইউএনডিপি-হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের সহায়তায় বেসরকারি গবেষণা সংগঠন ‘ভয়েস’ এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। রাজধানীর শ্যামলীতে সংগঠনের সেমিনার কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা সঞ্চালনা করেন ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভয়েসের প্রকল্প সমন্বয়ক জায়েদ সিদ্দিকী ও গবেষণা সহযোগী আফতাব খান শাওন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক সালিম সামাদ। প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন, একলাব এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ তারিকুল ইসলাম, নারী অধিকার নেত্রী মুশফিকা লাইজু এবং সংগঠক ও বাচিক শিল্পী সজল কোরায়শী। সংলাপটি একইসঙ্গে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয় যাতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মূল বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই আজ বাক স্বাধীনতা ও তাদের মৌলিক অধিকারের জন্য লড়াই করছে। বিশেষ করে সাংবাদিক, যোগাযোগ কর্মী ও সমাজকর্মীদের বাক স্বাধীনতার জন্য মূল্য দিতে হচ্ছে। তারা পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। সরকারের সমালোচনার কারণে গ্রেফতার হতে হচ্ছে।
তারা বলেন, করোনার সময়ে সাংবাদিক হয়রানির সংখ্যা বেড়েছে। করোনাকালীন দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা বন্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে।
এ সময় ধর্মীয় উন্মাদনা, নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি বিষোদগারের কথাও উল্লেখ করেন বক্তারা। বক্তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলসহ আইনের শাসন কায়েম ও গণতন্ত্র সংহতকরণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
মর্গে মৃত নারীদের নিয়মিত ধর্ষণ করতো সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ডোম সহকারী মুন্না, যেভাবে ধরা পড়লো সিআইডির কাছে
ভয়ঙ্কর ও বিকৃত এক মানসিক বিকারগ্রস্ত মুন্না ভক্ত। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গের ডোমের সহকারী, মাত্র ২০ বছর বয়েসী মুন্না হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া নারীদের মরদেহের সঙ্গে ‘যৌন লালসা চরিতার্থ’ করতো। গত দেড় বছর ধরে মর্গে মৃত নারীদের সে ধর্ষণ করে আসছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভিগ, সিআইডির হাতে তাকে ধরা পড়তে হয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতারের পর বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিকৃত রুচির ডোম সহকারি মুন্নাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মৃতদেহের সঙ্গে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে বলে সিআইডি সূত্র জানিয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া মুন্না ওই হাসপাতালের মর্গের ডোমের সহকারী হিসেবে কাজ করতো।
সিআইডির ধারণা, অন্তত দেড় বছর ধরে মর্গে আসা নারীদের মরদেহের সঙ্গে যৌন মিলন করে আসছে অভিযুক্ত। বিশেষ করে আত্মহত্যার মতো ঘটনায় যেসব তরুণীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে আসতো মুন্না সেই তরুণীর মৃতদেহে সঙ্গে যৌনতায় মেতে ওঠতো।
সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে ধর্ষণ, হত্যাসহ যেসব ঘটনায় মরদেহ ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়, সেসব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা এবং প্রোফাইল তৈরি করে থাকে সিআইডি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন সময়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে আসা ৫ নারীর মরদেহে একই পুরুষের শুক্রানুর আলামতের উপস্থিতি মিলে যাওয়ার পর ঘটনার তদন্তের শুরুতে সিরিয়াল কিলার কিংবা সিরিয়াল রেপিস্টদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ হয়। কিন্তু সুরতহাল কিংবা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এসব মরদেহের কোনোটিতেই কোনো আঘাতের চিহ্ন না পাওয়ায় সন্দেহ বাড়তে থাকে। নানা প্রশ্নের জবাব খুঁজতে থাকে সিআইডি। এর মধ্যে একটি সন্দেহ, হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে না তো? কারণ অপরাধ বিজ্ঞানে এমন নজির রয়েছে। এমন বিকৃত রুচির ঘটনা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এমন মানসিক রোগির কথা বলা আছে।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালটির মর্গের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে অনুসন্ধান করে সিআইডি জানতে পারে যে, ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেওয়া মরদেহ ব্যবচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে পরের দিন মর্গে রেখে দেয়া হতো।
মর্গের কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করার পর তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়, মর্গের ডোমদের কেউ অপরাধ সংঘটন করে থাকতে পারে।
সন্দেহের ভিত্তিতে ওই হাসপাতালের ডোমদের গতিবিধি নজরদারি করে তদন্তকারীরা। ওই তদন্তের সময় জানা যায় যে হাসপতালটির একজন ডোম মুন্না পাঁচটি ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর মরদেহ পাহারা দেওয়ার জন্য রাতে মর্গে ছিল।
এরপর বিস্তারিত তদন্তের পর তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে সিআইডি নিশ্চিত হয় যে অভিযুক্ত ডোম মুন্না এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সিআইডি কৌশলে মুন্নার ডিএনএ পরীক্ষা করে নেয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গাঢাকা দেয় মুন্না। পরে গত ১৯ নভেম্বর রাতে সিআইডি তাকে গ্রেফতার করে।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ডোমের সহযোগী মুন্না গত দুই-তিন বছর ধরে এই কাজ করে আসছে । রাতে সে মর্গেই ঘুমাতো। রাতে ওই হাসপাতালে আসা লাশ সে পাহারা দিতো। আত্মহত্যার কারণে ময়নাতদন্তের জন্য কোনো তরুণীর লাশ আসলেই সে কৌশলে রাতে মেতে উঠতো বিকৃত যৌনাচারে। আত্মহত্যাকারী ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী মেয়েরাই ছিল মুন্নার বিকৃতির লক্ষ্য। মুন্না ওই হাসপাতালের স্টাফ না হয়েও মামার সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিল বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি আরও জানায়, ডিএনএ পরীক্ষায় আত্মহত্যাকারীদের লাশের ময়নাতদন্তের আগে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। প্রতিটি ধর্ষণই রাতের নিরিবিলি সময়ে হতো।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ,বিক্ষোভ সমাবেশ
হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকসহ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অবরোধের কারণে শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় একঘণ্টা শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
পরে ১ ডিসেম্বর সারা দেশে একযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ মোড় ছাড়েন তারা।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে মিছিল করে শাহবাগে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
অবস্থানে সংহতি জানিয়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, “মহানবী (সা.) এর অবমাননা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ বিরোধিতাকারী মামুনুল-ফয়জুল গংদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এরা ইসলামের শত্রু, মানবতার শত্রু।
“যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গতে আসবে, আমরা তাদের হাত ভেঙ্গে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিব। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তিকে কঠোর হস্তে দমন করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”
মুজিববর্ষে ঢাকার ধোলাইড়পাড়ে বঙ্গবন্ধুর যে ভাস্কর্য সরকার স্থাপন করছে, তার বিরোধিতায় নেমেছে হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী কয়েকটি দল।
এদের মধ্যে হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুবনগরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করিম বেশ সরব।
ভাস্কর রাশা বলেন, সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, তুরস্কসহ বিশ্বের সকল মুসলিম দেশে ভাস্কর্য রয়েছে। মৌলবাদীরা ভাস্কর্য ও মূর্তির পার্থক্য নিয়ে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।
“ইসলামের দৃষ্টিতে ভাস্কর্য বৈধ। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতাকারীদের মূল উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সরকার পতনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। সময় এসেছে এদের লাগাম টেনে ধরার।”
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে বাধা প্রদান এবং স্থাপিত ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়েছে চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।
“সম্প্রতি একটি ইসলামী ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক প্রকাশ্য দিবালোকে মহানবীর (সা.) অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে নবীজীকে অবমাননা করেছেন। মহানবীকে অবমাননা করে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অপরাধে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করতে হবে।”
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে বুলবুল কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন গৌরব ৭১ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য।
পাকিস্তানে প্রতি ঘন্টায় একজন নারী ধর্ষণ, আইন সংশোধন করে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ অকেজো করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার
পাকিস্তানে প্রতিঘণ্টায় একজন নারী ধর্ষিতা হন। আর ধর্ষণের পর হত্যাও নিয়মিত ঘটনা। সম্প্রতি ৭ বছরের এক কন্যাশিশু ও এক তরুণী গণধর্ষণের পর উত্তাল হয়ে ওঠে পাকিস্তান। নারী অধিকারকর্মীসহ আন্দোলনে মাঠে নামেন দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো
এরপরই পাকিস্তানে যৌন নিগ্রহ রুখতে বিচার ব্যবস্থাকে কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইমরানের সরকার। আইন সংশোধন করে রাসায়নিক প্রয়োগে ধর্ষকদের পুরুষাঙ্গ (‘কেমিক্যাল কাস্ট্রেশন’) অকেজো করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অনুমোদন মিলেছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সম্প্রতি এ খবর জানিয়েছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবর, ধর্ষণের মামলাগুলিকে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচার করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে অপরাধীদের শাস্তি পেতে অযথা দেরি না হয়।
শাসকদল তেহরিক-ই-ইনসাফের সিনেটর ফয়জল জাভেদ খান তাঁর টুইটে জানিয়েছেন, ধর্ষণ দমনে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদনের জন্য শীঘ্রই পেশ করা হবে পাকিস্তান পার্লামেন্টে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয় আইনমন্ত্রনালয়ের তরফে। ধর্ষণ দমনে একটি অর্ডিন্যান্স জারির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে জানিয়ে তার একটি খসড়াও পেশ করা হয় বৈঠকে।
ওই খসড়ায় পাকিস্তানে মহিলাদের নিরাপত্তায় জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম পুলিশে আরও বেশি সংখ্যায় মহিলা কর্মী নিয়োগ, দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে ধর্ষণের মামলাগুলির বিচার এবং ধর্ষণের ঘটনার সাক্ষীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা।
জিও টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মন্ত্রীসভার বৈঠকে বলেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে যেন কোনও বিলম্ব না হয়। নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ইমরান খান জানিয়েছেন, নতুন আইনে কোনও অস্বচ্ছ্বতা থাকবে না। আইন কঠোর হবে। বিচার প্রক্রিয়াও হবে দ্রুততর। ধর্ষিতারা যাতে নির্ভয়ে ঘটনার অভিযোগ জানাতে পারেন পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে সে দিকেও নজর রাখা হবে। ধর্ষিতাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। ধর্ষিতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।
দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবর, বৈঠকে কোনো কোনো মন্ত্রী ধর্ষকদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়ারও দাবি জানান। তার পরিপ্রেক্ষিতে পাক প্রধানমন্ত্রী ইসরান খান বলেছেন, ‘‘রাসায়নিক প্রয়োগে ধর্ষকদের পুরুষাঙ্গ অকেজো করে দেওয়ার মাধ্যমে কঠোর পদক্ষেপ শুরু হোক। তার পর ধাপে ধাপে এগোনো যাবে।’
পাকিস্তানের আইন মন্ত্রনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এখন পার্লামেন্টের অধিবেশন চলছে না বলে সরকার ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রবর্তন করতে অধ্যাদেশ জারি করবে।
তিনি জানান, ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ থেকে ১৫ বছর কারাদণ্ড ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে খোজাকরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ধর্ষণকারীকে সাময়িক বা আজীবনের জন্য খোঁজাকরণ করা হতে পারে। কারও বিরুদ্ধে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি পাওয়া গেলে রাসায়নিক খোজাকরণের আশঙ্কা বেড়ে যাবে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে এ আইন রয়েছে।
আইন সংশোধন করে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ বন্ধ করার দাবি
চলমান কোভিড-১৯ মহামারিকে শতভাগ কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে তামাক কোম্পানিগুলো। মূলত সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক (সিএসআর) কর্মসূচির অজুহাতে তারা নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের সাথে মিশে নানাবিধ ব্যবসায়িক সুবিধা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী বাংলাদেশে আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়নের কিছুটা অগ্রগতি হলেও তা সন্তোষজনক নয়। ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক’ এ বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর ৬৮ অর্থাৎ বাংলাদেশ এখনও তামাক কোম্পানির শক্তিশালী হস্তক্ষেপ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শনিবার ঢাকায় প্রকাশিত ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক: এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, বাংলাদেশ ২০২০’ গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অনলাইনভিত্তিক জুম সফটওয়্যারের মাধ্যমে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে দেয়া বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন, তামাক অপরিহার্য পণ্য তবে শুধু মৃত্যুর জন্য, জীবনের জন্য নয়। এটি কোনোভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের তালিকায় থাকতে পারে না। বরং এটি সংবিধানের বাঁচার অধিকার সংক্রান্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। আমি ইতোমধ্যেই তামাকপণ্যকে এই তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য জাতীয় সংসদে বেসরকারি সদস্য বিল জমা দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, কোভিড এর মধ্যে অনেক তামাক কোম্পানিকে প্রণোদনার টাকা দেয়া হয়েছে এটা হতে পারে না। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের প্রাক্তন সমন্বয়ক মুহাম্মদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, সরকার সম্প্রতি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমি আশা করবো, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় নিজ মন্ত্রণালয় ছাড়াও অন্যান্য মন্ত্রণালয় বিশেষ করে অর্থ, শিল্প, বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালকে আর্টিক্যাল ৫.৩ প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা বিষয়ে সচেতন করবে যাতে চলমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়াসহ সকল ক্ষেত্রে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপমুক্ত থাকা যায়। অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, কোভিড-১৯ আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে তামাক ব্যবহার কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। এটা এমন একটা সমস্যা যার সমাধানে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয় বরং সকল মন্ত্রণালয় মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে তামাক কোম্পানিগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক (সিএসআর) কর্মসূচির অজুহাতে নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রশাসনযন্ত্রের সাথে মিশে ব্যবসায়িক সুবিধা আদায় এবং তামাকনিয়ন্ত্রণ কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদানের চেষ্টা করেছে। একইসাথে এসব সিএসআর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে প্রচার করে জনমনে নিজেদের সর্ম্পকে ইতিবাচক মনোভাব তৈরির চেষ্ট করেছে কোম্পানিগুলো। ২৫ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর হাতে অনুদানের চেক হস্তান্তর করে এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ ও ছবি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ফেসবুক পেইজে প্রচার করা হয়। তামাককোম্পানিগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর-কে ব্যবহার করে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদানের চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ)-এর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি, ২০১৯ চূড়ান্তকরণে তামাক কোম্পানির মতামত গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি প্রদান করেছে। অথচ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) এর আর্টিক্যাল ৫.৩ এ তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক নীতি প্রণয়নে তামাক কোম্পানিকে কোনোভাবে সম্পৃক্ত না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে নানামুখী চাপ সত্ত্বেও গবেষণা চলাকালীন সময়পর্যন্ত জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি, ২০১৯ এর খসড়া প্রণয়নে তামাক কোম্পানির মতামত গ্রহণ করেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে বিড়ি মালিকদের দাবির কাছে নতি স্বীকার করে প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারির মাধ্যমে নন-ফিল্টার বিড়ির শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে এনবিআর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার থাকার পরও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জাপান টোব্যাকো কর্তৃক বিপুল রাজস্ব প্রদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তামাকের ওপর ‘যৌক্তিক’ করারোপ করার অনুরোধ জানান শিল্প মন্ত্রীর কাছে।
গবেষণার সুপারিশে আইন সংশোধন করে তামাক কোম্পানির সকল প্রকার সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক (সিএসআর) কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রতি জোর তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। পাশপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে আর্টিক্যাল ৫.৩ প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা বিষয়ে সচেতন করতে সুপারিশ করা হয়েছে। তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিবহাল না থাকায় তামাক কোম্পানিগুলো খুব সহজেই এসব মন্ত্রণালয়কে বিভ্রান্ত করতে পারে যার নজির চলমান কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে দেখা গেছে। দুইটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানি করোনাকালীন লকডাউনের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে সিগারেট উৎপাদন, বিপণন, সরবরাহ এবং তামাকপাতা ক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিশেষ অনুমতি আদায় করে নেয়। এই বিশেষ অনুমতি প্রত্যাহার এবং করোনা মহামারির সময়ে সাময়িকভাবে তামাক পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণ বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যা শেষ পর্যন্ত নাকচ হয়ে যায়। এছাড়াও তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ মোকাবেলায় একটি সহজ তামাক কর ও মূল্য নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন, তামাক কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার/বিনিয়োগ প্রত্যাহার, তামাক কোম্পানি এবং এর প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগের সকল তথ্য এবং নথি প্রকাশ, তামাক কোম্পানির সাথে যোগাযোগ বা আলোচনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ এর আলোকে আচরণবিধি চূড়ান্তকরণ এবং তামাক কোম্পানিকে প্রদত্ত সকল সুবিধা প্রত্যাহারসহ তামাক ব্যবসায় নতুন বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কোম্পানির হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ এর আলোকে একটি নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই গবেষণা কার্যক্রমটি পরিচালনা করে আসছে। এবছর বিশ্বের ৫৭টি দেশে এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপের বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ২৭তম। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সবচেয়ে বেশি। ২০২০ হস্তক্ষেপ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৬৮, যা গতবছর ছিল ৭৭। গবেষণায় সরকার তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপসমূহ কিভাবে আমলে নেয় এবং সেগুলো মোকাবিলায় কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ গাইডলাইনের আলোকে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। সূচকে স্কোর যত বেশি, হস্তক্ষেপ তত বেশি। ব্লুমবার্গ ফিল্যানথ্রপিস এর স্টপ (স্টপিং টোব্যাকো অরগানাইজেশন্স অ্যান্ড প্রোডাক্টস) প্রজেক্ট এর আওতায় এই গবেষণায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে গ্লোবাল সেন্টার ফর গুড গভার্নেন্স ইন টোব্যাকো কন্ট্রোল (জিজিটিসি), থামাসাত ইউনিভার্সিটি থাইল্যান্ড।
ওয়েবিনারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন মো: শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ কান্ট্রি অ্যাডভাইজার, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস; ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক, ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা; সৈয়দ মাহবুবুল আলম, টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার, দি ইউনিয়ন; এম এ সালাম, গ্রান্টস ম্যানেজার, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) এবং এবিএম জুবায়ের, নির্বাহী পরিচালক, প্রজ্ঞা। এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। ওয়েবিনারে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, তামাকবিরোধী সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক ও এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞা’র তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কর্মসূচি প্রধান মো: হাসান শাহরিয়ার।
দুদকের মামলায় হাইকোর্টে এমপি পাপুলের স্ত্রী, মেয়ে, শ্যালিকার জামিনের আবেদন
অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগে বিচারাধীন মামলায় কুয়েতে আটক থাকা সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার এ আবেদন করা হয় বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
তিনি জানান, “বৃহস্পতিবার দু’টি জামিনের আবেদন পেয়েছি। একটিতে সেলিনা ইসলাম ও তার মেয়ের আবেদন। অপরটিতে সেলিনা ইসলামের বোন জেসমিন প্রধানের আবেদন।”
পাপুল কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ১১ নভেম্বর তিনিসহ তার স্ত্রী এমপি সেলিনা, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এবং মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন দুই কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
এছাড়া ‘কাগুজে প্রতিষ্ঠানের’ আড়ালে জেসমিন পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
এসব কাজে পাপুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে সহযোগিতা করেছেন উল্লেখ করে তাদেরও আসামি করা হয়।
মামলায় জেসমিনের বিষয়ে বলা হয়, তিনি শিক্ষার্থী থাকাবস্থায় বোন সেলিনা ইসলাম ও দুলাভাই শহিদ ইসলাম পাপুলের অবৈধ অর্জিত অর্থ মানি লন্ডারিং করে বৈধতায় রূপ দিতে ‘লিলাবালি’ নাসের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
“বিভিন্ন ব্যাংকে তার প্রায় ৪৪টি হিসাব পাওয়া গেছে। যেখানে শুধুমাত্র এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকেই রয়েছে ৩৪টি এফডিআর হিসাব। আসামি শহিদ ইসলাম পাপুল এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন বিধায় এই সুবিধা গ্রহণ করতে তার কোনো বেগ পেতে হয়নি।”
পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২২ জুলাই সেলিনা ইসলাম ও জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
গত ২২ জুন একই অভিযোগে দেশি-বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাপুল, স্ত্রী সেলিনা, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিনের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সব হিসাব স্থগিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয় দুদক।
এর আগে গত ১৭ জুন পাপুলের স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি। পাশাপাশি পাপুল দেশে ফিরলে আর যেন বিদেশে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি দেওয়া হয় দুদকের পক্ষ থেকে।
মানব ও অর্থপাচার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগে কুয়েতে পাপুলের বিরুদ্ধে করা মামলায় আগামী ২৮ জানুয়ারি রায়ের দিন ঠিক করেছে সে দেশের আদালত।
সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য করে আনেন তিনি।











