ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩   ভোর ৫:০০ 

Home Blog Page 146

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলার রায় বৃহস্পতিবার আসামি মজনুর সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ

0

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার রায় বৃহস্পতিবার( ১৯ নভেম্বর) ঘোষণা করা হবে। মামলার একমাত্র আসামি মজনু কারাগারে আছেন। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে মজনুর সর্বোচ্চ সাজা হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ধারায় এখন ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। যা আগে ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
তবে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান সংযোজন করলেও এ মামলায় তা প্রয়োগ হবে কী না তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। কারণ ধর্ষণের ঘটনাটির সময় রুজু করা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর আইনটি সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করা হয়। যা সংসদের চলতি বিশেষ অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপন করা হয়েছে।
যদিও গত ১৩ আক্টোবর অধ্যাদেশ জারির পর ২০১৫ সালের টাঙ্গাইলে এক মাদ্রাসা ছাত্রী গণধর্ষণ মামলায় ১৫ অক্টোবর ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া আদালত ।
ঢাবি ছাত্রি ধর্ষণের মামলাটি গত ১২ নভেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি তর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।
মামলার ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলি আফরোজা ফারহানা আহম্মেদ অরেঞ্জ জানান, ১৩ কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটির বিচারকাজ শেষ হয়েছে।
গত ৫ জানুয়ারি বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নেমে ফুটপাত দিয়ে যাচ্ছিলেন ঢাবি ছাত্রিটি। আর্মি গলফ ক্লাব মাঠ সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে আসামি মজনু পেছন থেকে গলা চেপে ধরে পাশের ঝোপের আড়ালে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরেন। ভিকটিম চিৎকার করতে গেলে আসামি তাকে কিল-ঘুষি মেরে ভয়ভীতি দেখালে ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন মজনু ভিকটিমকে অচেতন অবস্থায় ধর্ষণ করেন। মজনু একজন অভ্যাসগতভাবে ধর্ষণকারী। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে এসব।
এ ঘটনার পর র‌্যাব ৮ জানুয়ারি মজনুকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন শেওড়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশের পাকা রাস্তার ওপর থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তি মতে ভিকটিমের ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত একটি জিন্সের প্যান্ট ও একটি জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
৬ জানুয়ারি ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের মামলা করেন।
আসামি মজনুকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ১৬ জানুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর থেকে মজনুকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

গাড়ী পোড়ানো মামলা ; গয়েশ্বরসহ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর হাইকোর্টে আগাম জামিন

0

ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের দিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বাস পোড়ানো ও হাতবোমা ফাটানোর মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ শতাধিক নেতাকর্মী হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন।
বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার তাদের জামিন মঞ্জুর করে।  
জামিন আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, সালাউদ্দিন দোলন, রুহুল কুদ্দুস কাজল, মজিবুর রহমান ও কাজী মো. জয়নাল আবেদিন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
১৬টি আবেদনে ১২০ জন নেতাকর্মীকে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আগাম জামিন দিয়েছেন হাই কোর্ট। এই সময়ের আগে কিংবা পরে জামিনপ্রাপ্তদের মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
ঢাকা-১৮ আসনের (উত্তরা) উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলও রয়েছেন জামিনপ্রপ্তদের মধ্যে।
গত ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়। ভোট চলাকালে একটি কেন্দ্রের সামনে হাতবোমা ফাটানো হয়।
এছাড়া দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মোট ১১টি বাস পোড়ানো হয়। এসব ঘটনায় ৯টি থানায় মোট ১৬টি মামলা করে পুলিশ।
বাস পোড়ানোর ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। অন্যদিকে বিএনপি দাবি করছে, তাদের ‘ফাঁদে ফেলতে ক্ষমতাসীনরাই’ বাস পুড়িয়েছে।

এসব মামলায় মোট ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন জানিয়েছেন।

অন্তঃসত্বা স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী ও দুই বন্ধুর ফাঁসির রায় আপিল বিভাগে বহাল

0

সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী ও তার দুই বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
দন্ডিতদের ফৌজদারি আপিল খারিজ করে দিয়ে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দেন। বাসস।
রায়ে স্বামী সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে টিপু এবং তার দুই বন্ধু শহীদুল ইসলাম ও মো. খোরশেদের মৃত্যুণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়। আসামিরা সবাই কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন।
হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড রায় বহাল রাখার পর তিন আসামিই সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে টিপু তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে যান। সঙ্গে ছিল তার দুই বন্ধু। পরে তার স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাসানী হলের পেছনে। সেখানে নিয়ে পেটে ছুরিকাঘাত করে স্ত্রীকে হত্যা করেন মাসুদ। এতে অংশ নেয় তার দুই বন্ধুও। হত্যার পর ওই নারীর গলা কেটে পানিতে ফেলে দেয়া হয়।
বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ডের আনা মামলায় বিচার শেষে নিম্ন আদালত ওই তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলে যা বহাল রাখে হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে আসামিদের করা আপিল খারিজ করে দিয়ে মৃত্যুদণ্ড আপিল বিভাগেও বহাল রাখে।

সংসদে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিলসহ দু’টি বিলের রিপোর্ট উপস্থাপন

0

জাতীয় সংসদে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০২০’সহ দু’টি বিলের ওপর সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়েছে।
সোমবার উপস্থাপিত রিপোর্টের মধ্যে অপর বিলটি হচ্ছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২০।
রিপোর্ট দুটি উপস্থাপন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মেহের আফরোজ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট শামসুল হক টুকু। দু’টি বিলই সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ করা হয়। বাসস।
দুটি’ বিলই গত ৮ নভেম্বর সংসদে উত্থাপন করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা।
এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিলে বিদ্যমান আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধানের স্থলে মৃত্যুদন্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অধিবেশনেই বিলটি পাসের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এর পরই রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, নারী ও শিশু ধর্ষণ একটি জঘন্য অপরাধ। নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের মধ্যে দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটন সামাজিক গতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ও সার্বিক সামাজিক উন্নয়নের ধারা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এমন অপরাধ দমনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এমতাবস্থায় আইনে সর্বোচ্চ দন্ডের বিধান যুক্ত করতে এই বিলটি আনা হয়েছে।
বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদন্ড। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আলোচিত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে ধর্ষণ-নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড করার দাবি জানান। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার আইনটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করেন। এর আগে ১২ অক্টোবর অধ্যাদেশটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়।

ডিজিটাল জালিয়াতি মামলা ; হাইকোর্টের নির্দেশনা না মানায় ৫ আসামি কারাগারে

0

ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ পাচার ও রাজস্ব ফাঁকির মামলায় বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ না করে ফের হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করায় পাঁচ আসামিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে হাই কোর্ট।
সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চের নির্দেশে আদালত কর্মকর্তারা আসামিদের পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পাঁচ আসামি হলেন-ফরিদপুরের মোফাজ্জেল হোসেন মোল্লা, মো. রাহাত হোসেন, আলাউদ্দিন মোল্লা, রমজান আলী ও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মো. সুমন। পাচঁজনই চট্টগ্রামে বসবাস করেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ফয়সল হাসান আরিফ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
অর্থ পাচার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর এই পাঁচ আসামিসহ ৯ জনকে আসামি করে ঢাকার কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা নিতাই চন্দ্র মন্ডল ও মো. আজিবর রহমান দুটি মামলা করেন।
মামলায় রুটি তৈরির যন্ত্র ও ধূমপানের যন্ত্রপাতি আমদানির ঘোষণা দিয়ে ১ কোটি ৩২ লাখ সিগারেট আমদানি ও ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়ে পণ্য খালাস করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে ২ কোটি ৪৭ লাখ ৫১ হাজার ২৪২ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করা হয়েছে। এছাড়া আমদানি-রপ্তানি শুল্ক আদায়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা অ্যাসাকুইডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে জালিয়াতি করে ঢুকে রাজস্ব পরিশোধ দেখিয়ে পণ্য খালাস করে নেওয়া হয়েছে। এভাবে ১৬ কোটি ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার ২৮৩ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
এ মামলায় উল্লিখিত ৫ আসামি গত বছর হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। হাই কোর্ট গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের চার সপ্তাহের জামিন দেয়।
সেই সঙ্গে তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। কিন্তু সে আদেশ অনুযায়ী আসামিরা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ না করে আবার হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন।
এতে হাই কোর্ট জামিন না দিয়ে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে নির্দেশ দেয়।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, “সন্ধ্যা ৬টায় শাহবাগ থানার পুলিশের হাতে পাঁচ আসামিকে হস্তান্তর করা হয়। আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সংশ্লিস্ট আদালতে হাজির করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

মুজিব জন্মশতবর্ষ : জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন

0

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশ-বিদেশে বছরব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির করাল গ্রাসে মুজিববর্ষের এ কর্মসূচি অনেকটাই সীমিত করতে হয়। জাতির পিতাকে স্মরণ করে জাতীয় সংসদে একটি বিশেষ অধিবেশন হওয়ার কথা ছিলো মার্চেই। করোনাভাইরাসের কারণে সে অধিবেশন পিছিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ৫ থেকে ১৫ নভেম্বর ২০২০। এতে জাতির পিতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, কর্ম, আদর্শ ও দর্শন – এর ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। গত সোমবার (৯ নভেম্বর) রাষ্ট্র্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের ভাষণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অধিবেশন শুরু হয়। রাষ্ট্র্রপতির ভাষণের পর জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনার মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংসদ কার্যবিধির ১৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদে সকল দলের সংসদ সদস্যদের পাঁচ কর্ম দিবসের আলোচনায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী উত্থাপিত প্রস্তাব ১৫ নভেম্বর কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
রাষ্ট্র্রপতি ৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তাঁর ভাষণে বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশকে জানতে হলে বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। এই দুই সত্তাকে আলাদাভাবে দেখার চেষ্টা যারা করেছেন, তারা ব্যর্থ হয়েছেন। আজকের বাস্তবতা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। রাষ্ট্র্রপতি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়, বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সত্তা, একটি ইতিহাস। জীবিত বঙ্গবন্ধুর মতোই অন্তরালের বঙ্গবন্ধু শক্তিশালী। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালি থাকবে, এদেশের জনগণ থাকবে, ততদিনই বঙ্গবন্ধু সবার অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। রাষ্ট্র্রপতি বলেন, নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আলোকবর্তিকা হয়ে তিনি বিশ্বকে করেছেন আলোকময়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বঙ্গবন্ধুর নীতি, আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বেড়ে উঠতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান মোঃ আবদুল হামিদ।

যারা দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঐক্য। জনগণের ঐক্য, বিশেষকরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ঐক্য। যে ঐক্য একাত্তরে আমাদের এক করেছিল, সে ঐক্যই গড়ে তুলতে হবে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা, অসহিষ্ণুতা ও হিংসার বিরুদ্ধে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা বোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। যারা বাস্তবকে অস্বীকার করে কল্পিতকাহিনী ও পরিস্থিতি বানিয়ে দেশের সরলপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও বিপদগামী করে, দেশের শান্তি অগ্রগতির ধারাকে ব্যাহত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই প্রতিষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, সার্থক হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন।
জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তাব উত্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন দেশ, লাল সবুজ পতাকা ও সংবিধান উপহার দিয়েছেন, বিশ্ব সভায় বাঙালিকে আত্মপরিচয় দিয়ে গর্বিত জাতি রূপে মাথা উচুঁ করে চলার ক্ষেত্র রচনা করেছেন। স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার জন্য মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ের মধ্যেই দেশের উন্নয়নের সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন।
সংসদ নেতা বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা নির্মমভাবে নিহত না হলে বাংলাদেশ বহু আগেই উন্নত দেশে পরিণত হতো। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করতে পারাকে সৌভাগ্য হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য তিনি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বঙ্গবন্ধুর হত্যা পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় বঙ্গবন্ধুর নাম এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তাঁর অবদান ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়। তিনি বলেন, এমনকি ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। সে ঐতিহাসিক ভাষণ এখন বিশ্ব প্রামাণ্য হেরিটেজ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস মুছে ফেলা সহজ নয়, ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়। তিনি বলেন, এখন থেকে আর কেউ ইতিহাস থেকে সেই নাম (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) মুছতে পারবে না, এটাই বাস্তবতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’, ‘আমার দেখা নয়া চীন’ পড়ে জনগণ প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে। ‘পাকিস্তানি ইনটেলিজেন্স রিপোর্ট অন ফাদার অভ্ দ্য ন্যাশন’ থেকেও প্রকৃত ইতিহাস জানা যাবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘স্মৃতিকথা’ শিরোনামে জাতির পিতার লেখা আরেকটি বইয়ের প্রকাশের কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বিশ্বাস করতেন দেশের মানুষ তাঁকে অত্যন্ত ভালবাসে এবং তারা তাঁকে মারতে পারবে না। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, বাঙালি জাতি জাতির পিতার সে বিশ্বাস রক্ষা করতে পারেনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু (মৃত্যুর আগে) বিশ্বাসঘাতকদের দেখে গিয়েছিলেন, কিন্তু পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের তিনি দেখে যেতে পারেননি। তিনি বলেন, বিরাট সংখ্যক নয়, গুটিকয়েক ব্যক্তি এ ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি জেল থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন দেশে ফিরে প্রথম ভাষণে জাতির পিতা দেশবাসীকে বলেছিলেন, ষড়যন্ত্র চলছে, ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কিন্তু তারা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে ব্যর্থ হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁর আদর্শ, তাঁর প্রতিটি কথা, বাক্য আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো আমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়। দুঃখ, দুর্দশা দূর করে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে জাতির পিতার আজন্ম স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদে তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলার হাজার বছরের ইতিহাসে নবাব সিরাজউদ্দৌলা, ফকির মজনু শাহ, তিতুমীরসহ অনেকেই স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, কিন্তু সফল হননি। কেবল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই সফল হয়েছেন এবং আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়ে গেছেন
সংসদে বঙ্গবন্ধুর ওপর আলোচনার দ্বিতীয় দিনে (১০ নভেম্বর) জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু ৩৫ দিনে ৩২টি জনসভা করেছিলেন। এ সময় ৮ বার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই পৃথিবীতে অনেক নেতা আসবেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মতো আর কোনো নেতা আসবেন না। তিনি ছিলেন বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ নেতা। তিনি মৃত্যুবরণ করেননি, তিনি আছেন, থাকবেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, ৬ দফা বঙ্গবন্ধুকে একক নেতায় পরিণত করেছিল। তিনি কেবল একটি দলের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের নেতা, মানুষের নেতা। তিনি শুধু আওয়ামী লীগের নেতা নন, তিনি জাতির জনক।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, খুনিরা বুঝেছিল, বঙ্গবন্ধুর রক্তের ছিটেফোঁটাও যদি থাকে, তাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে। এ কারণে তারা শিশু রাসেলকে পর্যন্ত ক্ষমা করেনি, কাউকেই রেহাই দেয়নি। সৌভাগ্যক্রমে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুর অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তৃতীয় দিনের (১১ নভেম্বর) আলোচনায় অংশ নিয়ে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান।
সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরু কমিশন গঠনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’দের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নামের সাথে ব্রিগেডিয়ার বা কর্নেল এর মতো র‌্যান্ক ব্যবহার না করার কথা বলেন।
মুজিববর্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনের চতুর্থদিনের (১২ নভেম্বর) আলোচনায় আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্রে নিহত বঙ্গবন্ধু তাঁর সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি পতাকা, একটি আন্দোলন, একটি বিপ্লব, একটি ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু একজন রাজনীতির কবি এবং ইতিহাসের একজন মহানায়ক। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্বের সবচেয়ে মেধাবী রাজনীতিবিদ এবং ‘স্ট্যাটেজিস্ট’। তিনি সকল বাঙালিকে এক এক জন মুজিবে পরিণত করেছিলেন।
সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙা বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের ভয়াবহ ঘটনা। এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পুরো জাতি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। যদিও খুনিদের বিচার হয়েছে, কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পেছনের কুশিলবরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকার আলবদরদের স্থান এ সংসদে হবে না, এ দেশের কোথাও হবে না।
বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ মুজিববর্ষের বিশেষ অধিবেশনে বক্তৃতাকালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার একটি লেখা পাঠ করেন যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের বর্ণনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে হারুনুর রশীদ বলেন, ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তিনি যদি পালিয়ে যেতেন বা ভারতে আশ্রয় নিতেন, তাহলে তাঁকে বিছিন্নতাবাদী নেতা বলা হতো। বিএনপি নেতা বলেন, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান যে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ আলোচনার শেষ দিনে (১৫ নভেম্বর) তাঁর বক্তৃতায় বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, তারাই ইতিহাস থেকে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রসংসা করে বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।’
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আর বঙ্গবন্ধুর দর্শণ ধারণ করে তাঁর হাতে রচিত ১৭২-এর সংবিধানের ভিত্তিতেই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে।
সংসদে কণ্ঠভোটে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন প্রস্তাব পাশের ঠিক আগে ৫ম দিনে (১৫ নভেম্বর) আলোচনায় অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে জাতির পিতা বাংলাদেশ কৃষখ শ্রমিক আওয়ামী লীগ-বাকশাল গঠন করেন। কিন্তু পুরো ধারণাটা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। সংসদ নেতা বলেন, সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত উন্নয়নে জাতির পিতা দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি সংবিধান সংশোধন করেন এবং ৫ বছরের কর্মসূচি হাতে নেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, তিনি যদি সে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারতেন, আজ বাংলাদেশ বিশ্বের একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতো।’ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁকে তা করতে দেয়া হয়নি।
যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন থাকবে বঙ্গবন্ধুর নাম। জাতি যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করবে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে জাতীয় সংসদের এ বিশেষ অধিবেশন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ইতিহাসে প্রথম বিশেষ অধিবেশন যা একাদশ জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশন। এর আগে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আর হয়নি। তবে, দু’টি বিশেষ বৈঠকের কথা জানা যায়। ১৯৭৪ সালের ৩১ জানুয়ারি ও ১৮ জুন অনুষ্ঠিত সংসদের বিশেষ বৈঠকে ভাষণ দেন যথাক্রমে তৎকালীন যুগোস্লাভ রাষ্ট্রপতি মার্শাল যোসেফ ব্রোজ টিটো এবং ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি। (পিআইডি ফিচার)।
মুহ.সাইফুল্লাহ ঃ সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর ।

সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী’র মৃত্যুতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের শোক প্রকাশ

0

জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) শওকত আলী এমপি’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।
এক শোক বার্তায় মন্ত্রী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) শওকত আলী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। এক অকুতোভয় সেনানী হিসেবে তিনি একাত্তরের রনাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা বাঙালি জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে।
মন্ত্রী শোকাবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
**প্রস্তাবিত সিটিজেন ব্যাংকের এমডি সাইদুল হাসানের মৃত্যুতে আইনমন্ত্রীর শোক ঃ
প্রস্তাবিত সিটিজেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইদুল হাসানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।

সাইদুল হাসান
এক শোকাবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এ ছাড়া সাইদুল হাসানের মৃত্যুতে লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স টু হেল্পলেস প্রিজনার্স অ্যান্ড পারসনস ( এলএএইচপি) এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তৌফিকা আফতাব গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনিও মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য সাইদুল হাসান করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হয়ে সোমবার দুপুরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।প্রস্তাবিত সিটিজেন ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী আর নেই

0

জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি শওকত আলী মারা গেছেন।
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) লাইফ সাপোর্ট থাকা অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় তার মৃত্যু হয় বলে জাতীয় সংসদের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. তারিক মাহমুদ জানিয়েছেন।
 
৮৪ বছর বয়সী শওকত আলী কিডনি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। এসব কারণে বেশ কিছুদিন ধরে সিএমএইচে চিকিৎসা নিতে হচ্ছিল তাকে।

একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার লোনসিং বাহের দিঘীরপাড় গ্রামে ১৯৩৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন শওকত আলী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৫৯ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন পান।

পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়েছিল, তাতে শওকত আলীকে ২৬ নম্বর আসামি করা হয়।
১৯৬৮ সালের ১০ জানুয়ারি ক্যাপ্টেন পদে থাকা অবস্থায় পশ্চিম পাকিস্তানে ক্যান্টনমেন্ট থেকে আটক করার পর ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শওকত আলী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর আবার সেনাবাহিনীতে ফেরেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর শওকত আলীকে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয়।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়া হন এবং ১৯৭৯ সালে শরীয়তপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচন হন। সেবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের হুইপের দায়িত্ব পান তিনি।
শরীয়তপুরের ওই আসনটি থেকে এরপর আরও পাঁচবার এমপি হয়েছেন শওকত আলী। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ নবম সংসদে যখন স্পিকার ছিলেন, তখন শওকত আলী ছিলেন ডেপুটি স্পিকার। দশম সংসদে তাকে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শওকত আলী ৭১ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।
জাতীয় সংসদের পরিচালক (গণসংযোগ) তারিক মাহমুদ জানান, সোমবার মাগরিবের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে শওকত আলীর জানাজা হয়। তার আগে বিকাল সাড়ে ৩টায় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়।
মঙ্গলবার সকালে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়ায় তার গ্রামের বাড়িতে। নড়িয়া শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে জোহরের নমাজের পর নড়িয়া বি এল উচ্চ বিদ্যালয়ে তার আরেক দফা জানাজা হবে।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিজের বাড়ি ‘স্বাধীনতা ভবন’ এর আঙ্গিনায় দাফন করা হবে শওকত আলীকে।

মাস্ক পরতে রাজধানীতে নামছে ভ্রাম্যমাণ আদালত, কঠোর হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

0

রাজধানীতে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে শিগগিরই মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনাসহ শক্ত অবস্থানে যাওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত আসে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আজকে ডিজাস্টার নিয়ে একটু আলোচনা হয়েছে। কোভিড নিয়ে বলা হয়েছে, আরেকটু স্ট্রিক্ট ভিউতে যেতে হবে। (করোনা) একটু বেড়েও যাচ্ছে মনে হচ্ছে। সেজন্য আরেকটু প্রি-কশান (সতর্কতা) নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ডিজাস্টারকে আরেকটু কম্প্রিহেনসিভ প্রেজেন্টেশনের জন্য ক্যাবিনেটে নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে।’ ঢাকাতে করোনার বিষয়ে কোনো সেফটি মেজার্স দেখা যাচ্ছে না- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অলরেডি আমরা গতকাল বলে দিয়েছি- যাতে ঢাকাতেও বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল কোর্ট বা ল-এনফোর্সিং এজেন্সি (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) যাতে আরেকটু স্ট্রং (শক্ত অবস্থানে) হয়।’
কবে থেকে এটা দেখা যাবে- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আশা করি আগামী ২/৩ তিনদিনের মধ্যে দেখা যাবে।’
বৈঠকে, আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য সঞ্চয় স্কিম করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর্থিক ব্যবস্থাকে পুরো ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল’ এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এছাড়া তুরস্কে রফতানি বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ- তুরস্ক মিউচুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট ইন কাস্টমস ম্যাটার চুক্তি’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১০০ মিলিয়ন ডলার রফতানি কমায় এই চুক্তি করা হয়েছে। বৈঠকে ‘জাতীয় পারমাণবিক ও তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ক জরুরী অবস্থায় প্রস্তুতি ও সাড়াদান পরিকল্পনা ‘ খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নারীদের নিরাপত্তায় পুলিশের নতুন উদ্যোগ, চালু হলো,’সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ ইউনিট

0

সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনে হওয়া ৭ হাজার মামলার বেশীরভাগেরই ভুক্তভোগী নারী। এছাড়া অনলাইন ব্যবহারকারী ১০০ জন নারীর মধ্যে ৭৩ জনই সাইবার বুলিং বা হয়রানির শিকার হন। সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের অন্তত ৫টি ইউনিট থাকলেও পুরুষ সদস্য দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় সেগুলোতে যান না নারীরা।
এ বাস্তবতায়, শুধু নারী পুলিশ সদস্যদের পরিচালনায় ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ নামে নতুন ইউনিট গঠন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশের আইজি বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘সাইবার অপরাধ দমন এবং পর্নগ্রাফি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে যে সব মামলা হয়েছে তার অধিকাংশতেই দেখা যায় ভিক্টিম নারী।’
সাইবার জগতে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে চালু হলো ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’। পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার অধীনে এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সোমবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে এ সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, ‘সাইবার ক্রাইম একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সাধারণত দেশে ১৬ থেকে ২৪ বছরের নারীরা এই অপরাধে সবচেয়ে বেশি শিকার হয়। জাতিসংঘের একটি পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সাইবার অপরাধের শিকার ভিকটিমের চার ভাগের তিন ভাগ হল হলো নারী। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সাইবার স্পেস নিরাপদ রাখতে আমাদের এই উদ্যোগ। নতুন এই ইউনিট এর বিশেষত্ব হলো এখানে যারা সেবা দেবেন, তদন্ত করবেন, তারা সবাই পুলিশের নারী সদস্য। যার ফলে ভিকটিমরা নির্দ্বিধায় তাদের সমস্যাগুলো বলতে পারবেন।’
আইজিপি আরও বলেন, ‘কোনো ভিকটিম চাইলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ৯৯৯ এর মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন। আমরা চাইবো, আজকে এটি উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে যারা চাইবেন তারা যেন আমাদের থেকে সেবা নেন। আমরা সাইবার জগতকে  নিরাপদ করতে চাই।
সাইবার জগতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে এক নির্দেশনায় তিনি বলেন, এর ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের সচেতন হতে হবে। তিনি সবাইকে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের নির্দেশনা দেন।
যে সব অপরাধের ক্ষেত্রে এখানে অভিযোগ করা যাবে তা হল, ব্যক্তিহত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া, সোশ্যাল মিডিয়ার আইডি হ্যাক করা বা হ্যাক করার মাধ্যমে প্রতারণা, ছবি বা ভিডিও এডিট করে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি, কারও ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর কন্টেন্ড দিয়ে ফেইক আইডি তৈরী করা, ফোন নম্বর বিভিন্ন খারাপ পোস্টে/সাইটে ছড়িয়ে দেয়া, সাইবার বুলিং ও হ্যারেসমেন্ট, অনলাইনে আপত্তিকর ছবি/ভিডিও/তথ্য ফাঁস করার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবী করা এবং যৌন হয়রানিমূলক মেসেজ/মেইল/লিংক পাঠানো।
নতুন এই কার্যক্রমের সেবা দেওয়ার জন্য একটি হটলাইন নাম্বার (০১৩২০-০০০৮৮৮) চালু করা হয়েছে। এছাড়াও ই-মেইল (cybersupport.women@police.gov.bd) ও ফেসবুক পেইজে (URL: https://m.facebook.com/PCSW.PHQ/)  মেসেজ করে ভুক্তভোগী নারীরা তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলামসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।