ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ২:০২ 

Home Blog Page 148

শোকাবহ জেল হত্যা দিবস,জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে জাতীয় চার নেতাকে

0

৩ নভেম্বর, শোকাবহ জেলহত্যা দিবস। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয় এই দিনে। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন দেশমাতৃকার সেরা সন্তান এই জাতীয় চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে একাত্তরের পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। কারাগারে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। জেল হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বিচার কার্যক্রম : জেল হত্যার পরদিন তৎকালীন উপকারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে দীর্ঘ ২১ বছর এই বিচারের প্রক্রিয়াকে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। মামলায় ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান মামলার রায় দেন।
রায়ে আসামি রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও দফাদার আবুল হাশেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চার আসামি সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। আর সাবেক মন্ত্রী কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেওয়া হয়।
বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০০৮ সালে হাইকোর্ট মোসলেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি মারফত আলী ও হাশেম মৃধাকে খালাস দেন। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেন হাইকোর্ট।
পরে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়ার রায় বাতিল করে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন।
২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বহিষ্কৃত দুই সেনা সদস্য দফাদার আবুল হাশেম মৃধা ও দফাদার মারফত আলী শাহকে নিম্ন আদালতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ। সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিলেন। ওই বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি মো. ইমান আলী।
নেপথ্যের ষড়যন্ত্র ঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। বঙ্গবন্ধুকে হতার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রকারীরা জাতীয় চার নেতাকে তাদের সরকারে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় এই চার নেতা সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। এ কারণে তাদের নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়। আসলে হত্যাকারীরা ও তাদের দোসররা চেয়েছিল পাকিস্তান ভাঙার প্রতিশোধ নিতে, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ও সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশটিকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের আবর্তে নিক্ষেপ করতে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিকতার পথ থেকে সদ্য স্বাধীন দেশটিকে বিচ্যুত করা এবং বাংলাদেশের মধ্যে থেকে একটি মিনি পাকিস্তান সৃষ্টি করা।
কর্মসূচি : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এক বিবৃতিতে জেল হত্যা দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালনের জন্য দলের নেতাকর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জেল-হত্যা : ‘প্রেসিডেন্ট মোশতাক ফোনে আইজি প্রিজনসকে বললেন, আর্মি অফিসাররা যা চায় সেটা করতে দাও’

0

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় করাগারে হত্যা করা হয় জতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ,ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে। মূলত ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। আর নেপথ্যের ক্রীড়নক ছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। মোশতাক ও জিয়া তাদের পথের কাঁটা সরানোর জন্যই শীর্ষ স্থানীয় ৪ নেতাকে বন্দী করে এবং কারাগারের ভেতর সেনাবাহিনী পাঠিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করান। মধ্যরাতে কারাকর্তৃপক্ষ সেনাসদস্যদের কারাগারে ঢুকতে বাধা দিয়েছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে খন্দকার মোশতাক কারা মহাপরিদর্শককে টেলিফোনে নির্দেশ দেন, আর্মি অফিসারররা যা চায় তা যেনো করতে দেয়া হয়। প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশ পেয়ে কারা মহাপরিদর্শকের আর কিছুই করার ছিল না। খুলে দেয়া হয় কারাফটক। কুখ্যাত সেই সেনাসদস্যরা ঢুকে ব্রাসফায়ার করে হত্যা করে জাতীয় চার নেতাকে। সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সে সময়কার জেলার আমিনুর রহমান কয়েকবছর আগে বিবিসি বাংলাকে এ ঘটনা বর্ণনা করেছিলেন। পড়ুন বিস্তারিত-

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে একটি পিকআপ এসে থামে।

তখন রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে দুইটা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় সে গাড়িতে কয়েকজন সেনা সদস্য ছিল।

ঢাকা তখন এখন অস্থিরতার নগরী। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে অভ্যুত্থান এবং পাল্টা অভ্যুত্থান নিয়ে নানা রকম কথা শোনা যাচ্ছে তখন।

সে সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জেলার হিসেবে কর্মরত ছিলেন আমিনুর রহমান।

রাত দেড়টার দিকে কারা মহাপরিদর্শক টেলিফোন করে জেলার মি: রহমানকে তাৎক্ষনিকভাবে আসতে বলেন।

দ্রুত কারাগারের মূল ফটকে গিয়ে মি: রহমান দেখলেন, একটি পিকআপে কয়েকজন সেনা সদস্য সশস্ত্র অবস্থায় আছে।

মূল ফটকের সামনে সেনা সদস্যরা কারা মহাপরিদর্শককে একটি কাগজ দিলেন।

সেখানে কী লেখা ছিল সেটি অবশ্য জানতে পারেননি মি: রহমান।

(খন্দকার মোশতাক,যার নির্দেশে হত্যা করা হয়)

মূল ফটক দিয়ে ঢুকে বাম দিকেই ছিল জেলার আমিনুর রহমানের কক্ষ। তখন সেখানকার টেলিফোনটি বেজে উঠে।

মি: রহমান যখন টেলিফোনের রিসিভারটি তুললেন, তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হলো প্রেসিডেন্ট কথা বলবেন।

২০১০ সালে বিবিসি বাংলার কাছে সে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মি: রহমান বলেন, “টেলিফোনে বলা হলো প্রেসিডেন্ট কথা বলবে আইজি সাহেবের সাথে। তখন আমি দৌড়ে গিয়ে আইজি সাহেবকে খবর দিলাম। কথা শেষে আইজি সাহেব বললেন যে প্রেসিডেন্ট সাহেব ফোনে বলছে আর্মি অফিসাররা যা চায়, সেটা তোমরা কর।”

মূল ফটকের সামনে কথাবার্তার চলতে থাকে। এক সময় রাত তিনটা বেজে যায়।

আমিনুর রহমান বলেন, এক পর্যায়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের চার নেতাকে একত্রিত করার আদেশ আসে।

কারা মহাপরিদর্শক একটি কাগজে চার ব্যক্তির নাম লিখে জেলার আমিনুর রহমানকে দিলেন।

সে চারজন হলেন – সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান।

আমিনুর রহমানের বর্ণনা অনুযায়ী সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দীন আহমদ কারাগারের একটি কক্ষে ছিলেন।

ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে অপর কক্ষ থেকে এখানে নিয়ে আসা হয়।

সেখানে আসার আগে ক্যাপ্টেন মনসুর আলী কাপড় পাল্টে নিলেন।

মি: রহমানের বর্ণনা করেন, “তাজউদ্দীন সাহেব তখন কোরআন শরীফ পড়ছিলেন। ওনারা কেউ আমাদের জিজ্ঞেস করলেন না আমাদের কোথায় নেও ( নেয়া হচ্ছে)? সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহেব হাত-মুখ ধুলেন। আমি বললাম আর্মি আসছে।”

চারজনকে যখন একটি কক্ষে একত্রিত করার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগার কারণে সেনাসদস্যরা কারা কর্মকর্তাদের নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করছিল, বলছিলেন মি: রহমান।

“মনসুর আলি সাহেব বসা ছিল সর্ব দক্ষিণে। যতদূর আমার মনে পড়ে। আমি মনসুর আলীর ‘ম’ কথাটা উচ্চারণ করতে পারি নাই, সঙ্গে সঙ্গে গুলি,” বলেন মি: রহমান।

( জেনারেল জিয়াউর রহমান, নেপথ্যের কুশীলব)

কারাগারের ভেতর এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর চার নেতার পরিবার সেদিন জানতে পারেননি।

শেখ মুজিব হত্যার সাথে চার নেতা হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র আছে বলে মনে করা হয়।

তাজউদ্দীন আহমদের পরিবার কারাগারের খোঁজ নেবার জন্য সারাদিন চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

পরের দিন অর্থাৎ ৪ নভেম্বর পুরনো ঢাকার এক বাসিন্দা তাজউদ্দীন আহমদের বাসায় এসে জানান যে তিনি আগের দিন ভোরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গুলির শব্দ শুনেছেন।

প্রয়াত তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি ২০১০ সালে বিবিসি বাংলাকে বলেন, ৪ নভেম্বর বিকেল চারটার দিকে খবর আসতে শুরু করলো তাজউদ্দীন আহমদসহ চারজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানকে প্রায় সপরিবারে হত্যার ঘটনার সাথে জেল হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র আছে বলে মনে করা হয়।

তখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে লে. কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন আমিন আহমেদ চৌধুরী, যিনি পরবর্তীতে মেজর জেনারেল হয়েছিলেন। কয়েক বছর আগে ইন্তেকাল করেন মি: চৌধুরী।

২০১০ সালে তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, তখন সেনাবাহিনীতে নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের পরিণতি ছিল জেলখানার হত্যাকাণ্ড।

১৫ই আগস্টের অভ্যুত্থানের বিপরীতে পাল্টা আরেকটি অভ্যুত্থান হয়েছিল ৩ নভেম্বর।

সেটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ।

আমিন আহমেদ চৌধুরীর মতে, ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানটি ছিল অনিবার্য।

কারণ শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছয়জন জুনিয়র সেনা কর্মকর্তা তখন বঙ্গভবনে বসে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাককে পরিচালনা করছিলেন।

শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছয়জন জুনিয়র সামরিক কর্মকর্তাকে সেনাবাহিনীর চেইন অব কম্যান্ড-এর আওতায় আনার জন্য ৩ নভেম্বর খালেদ মোশারফের নেতৃত্ব অভ্যুত্থান হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন জেনারেল চৌধুরী।

তাছাড়া শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডকেও তাঁরা মেনে নিতে পারছিলেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কিন্তু খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে সে অভ্যুত্থান সেনাবাহিনীর ভেতরে আবারো চেইন অব কমান্ড ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বলে মনে করেন জেনারেল চৌধুরী।

খালেদ মোশারফের অনুগত সৈন্যরা বন্দি করে সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানকে।

ঢাকা সেনানিবাসে যখন এ অবস্থা চলছিল সে সময় পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে জেলখানায় আওয়ামী লীগের চারজন সিনিয়র নেতাকে হত্যা করা হয়।

পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর থেকেই হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা পাল্টা আরেকটি অভ্যুত্থানের আশংকায় ছিল।

সেনাবাহিনীর মধ্যে ছিল এক ধরনের বিশৃঙ্খলা। সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব।

একদিকে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং অন্যদিকে মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ।

তখন ঢাকা সেনানিবাসে মেজর পদমর্যাদায় কর্মরত ছিলেন বর্তমানে বিগ্রেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি এসব ঘটনা প্রবাহ বেশ কাছ থেকে দেখেছেন। তার সে অভিজ্ঞতা নিয়ে মি: হোসেন একটি বই লিখেছেন ‘বাংলাদেশ রক্তাক্ত অধ্যায়: ১৯৭৫-৮১’ শিরোনামে।

শেখ মুজিবকে হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা তখন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদকে পরিচালনা করছিলেন।

মি: হোসেন বলেন বঙ্গভবনের থাকা সেনা কর্মকর্তাদের সাথে একটা সংঘাত চলছিল সেনানিবাসের উর্ধ্বতন কিছু সেনা কর্মকর্তাদের সাথে।

” খন্দকার মোশতাক যে বেশিদিন ওখানে টিকবেন না, এটাও ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে সিনিয়র অফিসারদের মধ্যে একটা ধারণা জন্মেছিল। তখন আবার সিনিয়র অফিসারদের মধ্যেও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ছিল,” বলছিলেন মি: হোসেন।

শেখ মুজিবকে হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা ধারনা করেছিলেন যে কোন পাল্টা অভ্যুত্থান হলে সেটি আওয়ামী লীগের সমর্থন পাবে। সে ধরনের পরিস্থিতি হলে কী করতে হবে সে বিষয়ে মুজিব হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা কিছুটা ভেবেও রেখেছিলেন।

মি: হোসেন বলেন, “ঐ ধরনের ক্যু হলে তখনকার আওয়ামী লীগে যাতে কোন ধরনের লিডারশিপ না থাকে সেটাই তারা বোধ হয় নিশ্চিত করেছিল।”

হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা ভেবেছিল যদি সে চারজন রাজনীতিবিদকে যদি হত্যা করা হয় তাহলে পাল্টা অভ্যুত্থান হলেও সেটি রাজনৈতিক সমর্থন পাবেনা।
(খবরটি ২০১৭ সালের ৩ নভেম্বর বিবিসি বাংলায় প্রচার হয়)।

“স্যরি মি. মোশতাক আমি তোমাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্বোধন করতে পারলাম না, তুমি অবৈধ” বঙ্গভবনে খুনিদের সামনে গর্জে ওঠে বলেছিলেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক

0

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্রপতি হয়ে খন্দকার মোশতাক সংসদ ভেঙ্গে দেননি। তাঁর ইচ্ছে ছিল সংসদীয় দলের সভা ডেকে তিনি সংসদ নেতা হবেন, প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করবেন। তাই বঙ্গভবনের সম্মেলন কক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভা আহ্বান করেন। আওয়ামী লীগের ২৯৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রায় ১০০ জনের মত সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। বঙ্গভবনের সম্মেলন কক্ষে সভা শুরু হয়। মঞ্চে মোশতাক, আর তার দু পাশে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে দাঁড়ানো মেজর ফারুক ও রশিদ। সভা শুরু করে মোশতাক বললেন, তাকে সংসদ নেতা নির্বাচন করার জন্য এবং বাকশাল বিলুপ্ত ঘোষণা করলেন। বলেন দেশ এখন সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় চলবে, এজন্যই তিনি সংসদ বহাল রেখেছেন।
মোশতাকের বক্তব্যের পর পিন পতন নীরবতা। কারো মুখে শব্দ নেই। তার বক্তব্যের জবাব যারা দিতে পারতেন, সেই জাতীয় চার নেতা জেলে। অত্যন্ত ভীতিকর পরিবেশে নিরবতাকে ভঙ্গ করে সদস্যদের মাঝামাঝি জায়গা থেকে উঠে দাঁড়ালেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণ বাড়ীয়া থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক ।
প্রথমেই তিনি বললেন, ‘খন্দকার তোমার দুই পাশের ওদের সরে যেতে বল’। অস্ত্রধারী দুই মেজর হক সাহেবের কথা শুনে থতমত খেয়ে গেল। পরে মোশতাক ইঙ্গিত দিলে মেজররা রুমের বাইরে চলে যায়। তারপর অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক কোনো ভূমিকা না করে মোশতাককে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন ‘মুজিবকে কেন খুন করেছো?’ স্যরি মি. মোশতাক,আমি তোমাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্বোধন করতে পারলাম না, তুমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবৈধ । ক্ষোভে গর্জে ওঠলেন সিরাজুল হক। হন হন করে বের হয়ে চলে আসলেন বঙ্গভবন থেকে।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনিচক্র যখন উল্লাসে মত্ত সেই বিপদসংকুল সময়ে খুনিদের চোখের ওপর চোখ রেখে গর্জে ওঠতে পেরেছিলেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই আইনজীবীর মৃত্যু বার্ষিকী ২৮ অক্টোবর। ২০০২ সালের এই দিনে পরলোকগমন করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সিরাজুল হক ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহচর। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি। সিরাজুল হক ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে এমএনএ, ১৯৭৩ সালের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কসবা-বুড়িচং নিয়ে গঠিত তৎকালীন কুমিল্লা-৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সিরাজুল হক ১ আগস্ট ১৯২৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) তৎকালীন কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার পানিয়ারূপ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।  তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহপাঠী ছিলেন। ১৯৫২ সালের  ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান, ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।
সিরাজুল হক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহপাঠী। একই সঙ্গে পড়েছেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল মধুর, সিরাজুল হকের ডাক নাম বাচ্চু। বঙ্গবন্ধুর ডাক নাম খোকা। দুজনের মধ্যে সম্বোধন ছিল ডাক নামেই। সিরাজুল হক হাজী মুহাম্মদ মহসিন বৃত্তি পেয়েছিলেন। তা দিয়েই তিনি লেখাপড়া করেছেন।
১৯৭২ সালে ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে গঠিত সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন।
১৯৭৯ সালে দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল এমএজি ওসমানীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে তিনি সক্রিয় ছিলেন। নির্বাচনে জেনারেল ওসমানী হেরে গেলে তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে নীরব ছিলেন এবং নিজের আইন ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন।
অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক তার বন্ধু সহপাঠী শেখ মুজিবের রক্তের ঋণ শোধ করেছিলেন জীবন সায়াহ্নে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করে। ক্ষুরধার আইনী যুক্তি দিয়ে ২১ বছর পর প্রমাণ করতে পেরেছিলেন অপরাধীদের নৃশংসতা। হয়েছে তাদের মৃত্যুদণ্ড। শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাই নয়, জাতীয় চার নেতা, যারা ছিলেন এডভোকেট সিরাজুল হকের রাজনৈতিক সহচর তাদের হত্যার বিচারের জন্যও আইনী লড়াই নামেন। বিচার হয় জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের।
ব্যক্তিগত জীবনে সিরাজুল হক জাহানারা হককে বিয়ে করেন। তিনিও স্বামী সিরাজুল হকের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। কিছুদিন আগে পরলোকগমন করেন জাহানারা হক। তারা ছিলেন দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক জননী । বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক তাঁদের সন্তান। ( তথ্যসূত্র – উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যম)।

রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে ‘অসত্য বক্তব্য’ দেওয়ায় সংসদের কর্মচারী আতর আলী বাধ্যতামূলক অবসরে

0

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য দেওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত কর্মচারী মো. আতর আলীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
মঙ্গলবার তার বাধ্যতাধমূলক অবসর কার্যকর হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের এ সংক্রান্ত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন। কোন ব্যক্তির পক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে কোন অসত্য বক্তব্য প্রদান সাংবিধানিক চেতনার পরিপন্থি। তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে অসভ্য বক্তব্য প্রদান করেছেন, যা একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে অনুচিত ও অনভিপ্রেত।”
আদেশে বলা হয়, “এহেন কার্যকলাপের জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী (শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০০৫ এর ২ (চ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করে তাকে (মো. আতর আলীকে) অভিযোগনামা দেওয়া হয়। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আনীত অভিযোগ তদন্ত করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
“তার বিরূদ্ধে আনীত অভিযোগে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। যেহেতু, ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাকে (মো. আতর আলীকে) ‘বাধ্যতামূলক অবসর দান’ গুরুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।”
গত ১৭ অগাস্ট সংসদের শপথ কক্ষে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আতর আলী সেখানে তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ স্পিকার থাকার সময় ‘এ ধরনের অনুষ্ঠান হয়নি।’ গত ৬ সেপ্টেম্বর সংসদের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ খালেদুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় আতর আলীকে। পরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তার পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়। পরে সামিয়ক বরখাস্তও করা হয়। 
চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি আতর আলী সংসদ সচিবালয়ে সংসদ নেতার দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। আতর আলীর লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর সংসদের উত্তর পশ্চিম ব্লকের ৭৩১ নম্বর কক্ষে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগনামার চিঠির জবাবে ব্যক্তিগত শুনানির আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। শাস্তির বিষয়ে বক্তব্যের জন্য আতর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, বিচারক-আইনজীবীদের প্রশিক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস

0

বাংলাদেশের বিচারিক আদালত ও উচ্চ আদালতের বিচারক এবং আইনজীবীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে ভারতীয় হাই কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
মঙ্গলবার মন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি ।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রত্যেকদিনই এই বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে। এই বিশ্বাস এবং আস্থা নিয়েই আমাদের কথোপকথন। আমরা আরও যেটা নিয়ে আলাপ করেছি, সেটা হচ্ছে ভারত এবং বাংলাদেশের আইনের অবকাঠামো প্রায় একই। সেজন্য উভয় দেশের বিচারিক আদালত এবং উচ্চ আদালতের বিচারক ও বিচারপতিদের মধ্যে এবং আইনজীবীদের মধ্যে পরস্পর সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণের জন্য আমাদের যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে- সেগুলো কিভাবে কাজ করবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের আলোচনা বন্ধুত্বপূর্ণ হয়েছে। আমরা মনে করি,আজ থেকে এই আলোচনা আরও চালিয়ে যাব। আজকে যেসব কথা বলেছি সেগুলো ভবিষ্যতে কাজে পরিণত করব।
এ সময় ভারতীয় হাই কমিশনার দোরাইস্বামী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের বিচার পদ্ধতিতে আইনমন্ত্রীর ভূমিকা ও অগ্রগতি প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সর্ব সাধারণের জন্য আমাদের সহযোগিতা থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের উভয় দেশের বিচারিক পদ্ধতি প্রায় এক। এর ফলে আমরা একে অপর থেকে শিখতে পারব এবং কাজ করতে পারব। কারণ দুই দেশের মধ্যে পারস্পারিক সহযোগিতার জন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।

রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে সমৃদ্ধ আইনী কাঠামো – আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, যে কোন রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে সমৃদ্ধ আইনী কাঠামো। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের মৌলিক চাহিদাসমূহ পূরণ করে সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং সুসংহত আইনী কাঠামো বিনির্মাণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধন করা। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘‘পাবলিক ফিনানসিয়াল ম্যানেজমেন্ট ইন দি কনটেক্সট অব কনস্টিটিউশনাল ফ্রেমওয়ার্ক’’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বনানীর বাসা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন লেজিসলেটিভ রিসার্চ এন্ড রিফর্ম প্রজেক্ট এই সেমিনারের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন, ২০৩০ সালের মধ্যে‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ঠ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশের মর্যাদালাভ এবং সর্বোপরি ডেল্টাপ্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বে আইনী কাঠামোর মধ্যে থেকে সরকার এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে।তাঁর সরকারের উন্নয়নের রাজনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের জীবন মানের উন্নতি ঘটেছে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোড মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। উন্নয়নের সূচক বা মানদণ্ডের অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে সমাদৃত ও অনুকরণীয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের আর্থিক শৃঙ্খলা আনা আইনের শাসনের আওতায় পড়ে।তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিরাট ভূমিকা রয়েছে।
সেমিনারে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির সভাপতিত্ব করেন, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন স্বাগত বক্তৃতা করেন।

প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেই

0

প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেই। ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে ‍মৃত্যু হয়েছে তার।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে আলোচিত ছিলেন।
নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজে যুক্ত রেখেছিলেন ব্যারিস্টার রফিক।
আদ-দ্বীন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
ফুসফুসে সংক্রমণসহ নানা জটিলতা নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক। এর মধ্যে তার স্ট্রোকও হয়েছিল। গত মঙ্গলবার থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যু ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
তার অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসকরা বলেন, “মেইন সমস্যা যেটা ছিলো একুয়েস্টামিক স্ট্রোক, সিভিয়ার ইউরিন ইনফেকশন ও নিফিশিয়াল ডেফেসিন্সি। সর্বশেষ তিনি সেফটিক শক, মাল্টি অরগান ডিস ফাংশন সিমড্রোম-এই অবস্থায় স্যার সাড়ে ৮টায় আমাদের আইসিইউতে মৃত্যৃবরণ করেন।”
রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালে কলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে। বাবা মুমিন-উল হক পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। মা নূরজাহান বেগম। তার বাল্যকাল কেটেছে কলকাতায়। পড়াশোনা করেছেন চেতলা স্কুলে।
রফিক-উল হক ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন ১৯৫১ সালে। ১৯৫৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ১৯৫৭ সালে দর্শন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৫৮ সালে এলএলবি করেন। এরপর কলকাতা হাই কোর্টে আইন পেশা শুরু করেন রফিকুল হক।
১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে তৎকালীন পাকিস্তানের নাগরিক হয়ে চলে আসেন ঢাকায়।
১৯৬৫ সালে হাই কোর্টের আইনজীবী তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে আপিল বিভাগে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন রফিক-উল হক।  
১৯৯০ সালে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল করা হয়েছিল তাকে।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অনেক রাজনীতিবিদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই করে আলোচনায় ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক।
ব্যারিস্টার রফিক বিভিন্ন সময় ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
সমাজ ও মানবতার সেবায় তার হাত ছিল সবসময়ই উদারহস্ত। যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সমাজ-মানবতার সেবায়।
১৯৯৫ সালে রফিক-উল হক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সুবর্ণ ক্লিনিক; ঢাকা শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা ছিল তার।
আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ২৫টিরও বেশি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন।

উইঘুর মুসলিম নির্যাতন নিয়ে এবার চীনের বিরুদ্ধে সোচ্চার কানাডা, গণহত্যার অভিযোগ, চাপের মুখে চীন

0

চীনের উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন নিয়ে এবার সোচ্চার হলো কানাডা। কানাডার সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে চীনের নীতির কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, উইঘুরদের ধরে শিবিরে আটকে রাখা হয়, তাঁদের দিয়ে জোর করে কাজ করানো হয়, তাঁরা সবসময় রাষ্ট্রের নজরদারিতে থাকেন, তাঁদের জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রণও করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীন গণহত্যার নীতি নিয়েছে। তারা উইঘুরদের সংস্কৃতি ও ধর্ম মুছে দিতে চায়।
এদিকে কানাডার এই রিপোর্টের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। বৃহস্পতিবার চীনের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই রিপোর্ট ভিত্তিহীন। কানাডা কখনোই চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কানাডার সংসদীয় কমিটি ওই এলাকার রাজনৈতিক স্থায়িত্ব, আর্থিক বৃদ্ধি, জাতিগত ঐক্য ও সামাজিক সৌহার্দ্যকে দেখেইনি।

ছবি- ইন্টারনেট।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছেন, এই রিপোর্ট মিথ্যা ও ভুল তথ্যে ভরা। রিপোর্ট থেকে বোঝা যাচ্ছে, কমিটির সদস্যরা এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
সাম্প্রতিক সময়ে কানাডা ও চীনের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। ২০১৮-র ডিসেম্বরে চীনের এক বড় টেলিকম কোম্পানির প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করে অামেরিকার হাতে তুলে দেয় কানাডা। চীনও কানাডার এক সাবেক কূটনীতিক ও একজন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। অক্টোবরের গোড়ায় কানাডার বিদেশমন্ত্রী বলেছিলেন, চীন ‘হোস্টেজ ডিপ্লোমেসি’ করছে। গত কয়েক মাসে দুই দেশের সম্পর্ক আরো খারাপ হয়েছে। কানাডা চীনের মানবাধিকার ভঙ্গ, হংকং, এবং উইঘুরদের নিয়ে সোচ্চার হয়েছে। চীন বলছে, কানাডা এই ভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন নিয়ে সংসদীয় রিপোর্ট দুই দেশের মধ্যে বিরোধ নতুন মাত্রা পেলো।
**শিনজিয়াং থেকে আমদানি বন্ধ আমেরিকায়
এদিকে দশ লাখেরও বেশি উইঘুর মুসলিমকে শ্রম শিবিরে জোর করে কাজ করানো হয় বলে অভিযোগ। আর এ জন্য চীনের শিনজিয়াং প্রদেশ থেকে সবধরণের আমদানি বন্ধের আইনে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস।
ব্যবসায়ী মহলের চাপ সত্ত্বেও মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে সর্বসম্মতিতে পাস হয়েছে শিনজিয়াং থেকে কোনো জিনিস আমদানি না করা সংক্রান্ত বিল। সদস্যদের মতে, উইঘুরদের দিয়ে জোর করে শ্রম শিবিরে রেখে কাজ করানো হয় শিনজিয়াং প্রদেশে। দশ লাখেরও বেশি মানুষকে এই অত্যাচারের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তাই অত্যাচার বন্ধ করার জন্য শিনজিয়াং প্রদেশের জিনিস আমদানি নিষিদ্ধ করা হলো।
জাতিসংঘও বলছে, উইঘুর মুসলিমদের জোর করে শিবিরে রেখে এই কাজ করাচ্ছে চীন। অামেরিকা ও অন্য দেশগুলি এ নিয়ে অতীতে সোচ্চার হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। এখন অ্যামেরিকা চাপ দিয়ে এই অত্যাচার বন্ধ করতে চাইছে।
স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, ”দুঃখের কথা হলো, জোর করে কাজ করানো মানুষরা যে জিনিস তৈরি করছেন, সেগুলি অ্যামেরিকার দোকানে ও বাড়িতে ঠাঁই পাচ্ছে। বেইজিং-কে আমাদের সরাসরি বার্তা দিতে হবে। এই অত্যাচার বন্ধ করতে হবে।’ ডয়েচে ভেলে/রয়টার্স /এপি।

জবাব চাই

0

ভারত যেদিন পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দিলো সে দিনই পেঁয়াজের দাম বাড়ানো শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত তা ১০০ টাকা কেজিতে ঠেকেছে।
ভারত কেনো পেঁয়াজ বন্ধ করে দিলো এ জন্য আমরা তাদের বিরুদ্ধে একহাত নিয়েছি। তাদের সঙ্গে যে বন্ধুত্ব হবে না সেটাও বলেছি। অতি বিপ্লবীরা,বাঁশের কেল্লার সহযোগীরা ভারত বিরোধিতায় ফেসবুক, ইউটিউব ফাটিয়ে ফেলেছেন । দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট হচ্ছে সীমান্ত হত্যা আর পেঁয়াজ নিয়ে।
ধরেই নিলাম ভারত খারাপ দেশ এবং তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব হবে না। তারা পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দেয়ায় এখানে দাম বেড়ে গেছে।
কিন্তু আলুর কেজি ২০ টাকা থেকে ৬০ টাকা হলো কেনো? ভারত কী আলু রপ্তানীও বন্ধ করে দিয়েছে? পেঁয়াজ নিয়ে যারা ভারতের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়েছেন আলু ঘটনায় তারা নীরব কেনো?

আলু চক্রে কারা জড়িত? কৃষকতো ৮ মাস আগে ৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করে দিয়েছে কোল্ড স্টোরেজের মালিকদের কাছে। সব আলু কোল্ড স্টোরেজে আছে। এমনতো নয় যে, গ্রামে গ্রামে বা প্রতি উপজেলায় কোল্ড স্টোরেজ আছে। দেশে হাতে গোনা কোল্ড স্টোরেজ। এদের তালিকা সরকারের কাছে আছে। এসবের মালিক কারা তা ১০ মিনিটের মধ্যে সরকার বের করতে পারে। এই ঠাণ্ডা গুদামঘরের মালিকদের চক্রইতো আলুর দাম বাড়িয়েছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারের গলদঘর্ম হতে হয় কেনো? দাম বেঁধে দিলেও তা কার্যকর করতে পারে না কেনো? কারা এই সিন্ডিকেটে? কি সেই রহস্য? বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার একটা সীমা থাকা দরকার না? এটা কী চলতেই থাকবে?
পেঁয়াজের দাম বাড়ালেন, আলুর দাম বাড়ালেন কিন্তু সয়াবিন তেলের দাম বাড়ালেন কেনো? পনেরো দিন আগে ৫ লিটারের তেল কিনেছি ৪৮০ টাকা দিয়ে। আজ কিনলাম ৫৭০ টাকায়। দোকানদার বললো আরও বাড়বে। কারণ কি? ভারত কী সয়াবিন তেলও রপ্তানী করে? রপ্তানী বন্ধ করে দিয়েছে? দোকানিরা বলছেন কোম্পানি তাদের চাহিদামতো তেল সরবরাহ করছে না।
এটা কোনো কথা হতে পারে? দিনেদুপুরে এমন ডাকাতি!
কোম্পানিগুলোকে সরকার জিজ্ঞেস করেছে তারা কেনো সয়াবিন তেলের দাম বাড়ালো? এটা কী বাণিজ্য,শিল্প,অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব না?
শুধু পেঁয়াজ আলু আর তেলে মাসে সংসার খরচ ৫শ টাকা বাড়িয়ে দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। করোনার কারণে সংসার চালাতেই আমাদের মতো মানুষরা হিমসিম খাচ্ছি, সেখানে আরও খাঁড়ার ঘা দিলেন? বাণিজ্যমন্ত্রী,অর্থমন্ত্রীর সংসারে এই কষ্টের আঁচ পড়ে না। এই করোনাকালিন সময়েও তারা কয়েকদফা সিঙ্গাপুর গিয়ে চিকিৎসা, চেকআপ করে এসেছেন। অর্থকষ্ট তাদের নেই। ফলে আমাদের কষ্ট তাদের বোঝার কথা না। তাদের সংসারে এই সয়াবিন তেল দিয়ে রান্নাও হয় না। তারা অলিভওয়েল দিয়ে রান্না করে খান।
কিন্তু তাদের কি কোনো দায়িত্ববোধ থাকবে না দেশের প্রতি? জনগণের প্রতি কোনো ভালোবাসা থাকবে না?
আমি কোনো জবাব পাচ্ছি না।
কে দেবে আমাকে এর জবাব?

পদ্মা সেতু নিয়ে চীনা কোম্পানির কারসাজি! নানা ছুতোয় সময় সময়ক্ষেপণে বাড়ছে নির্মাণ ব্যয়, ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঠেকেছে ৪০ হাজার কোটিতে

0

বাংলাদেশের স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে। নানান ছুতোয় সময় বাড়িয়ে এই ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে এমন সন্দেহ দানা বেঁধে ওঠছে। সময়মতো কাজ না হওয়ার দায় ঠিকাদার নিচ্ছে না। পাইলিংসংক্রান্ত নকশা সংশোধন, নদীশাসন কাজে বিলম্ব এবং নদীভাঙন ও প্রবল স্রোতের কারণে কাজ পিছিয়েছে। বাড়তি সময়ের পুরো দায় বহন করতে হচ্ছে সরকারকে। যেমন দেরির কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির (প্রাইস এসকেলেশন) খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে। এ সময়ে যে জনবল ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, তার খরচ বহন করতে হবে বাংলাদেশকে। এমনকি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বাড়তি সময়ে ব্যবহারের খরচও দিতে হচ্ছে।
এ নিয়ে পড়ুন “কিশোর সরকার” এর রিপোর্ট….

ছবি- ইন্টারনেট।

পদ্মা মূল সেতুর কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। আর জি টু জি’র ভিত্তিতে সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ করছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড। নদীশাসনের কাজ করছে চীনা কোম্পানি সিনোহাইড্রো করপোরেশন।  
২০০৭ সালে পাস হয় ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকার প্রকল্প। নকশা প্রণয়ন শুরু পর ২০১৩ সালে সেতু চালুর ঘোষণা। ২০১১ সালে প্রথম প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধনের পর ব্যয় দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। নির্মাণের ঠিকাদার নিয়োগের পর ২০১৮ সালের মধ্যে চালুর সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে সেতু চালু হওয়ার কথা। ২০১৮ সালে প্রকল্প সংশোধন না করে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর খুঁটির (পিলার) সংখ্যা ৪২টি। এসব খুঁটির ওপর ৪১টি স্প্যান যুক্ত করা হবে। মূল সেতু হবে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। নকশা সংশোধন ও নদীশাসনে বিলম্বের কারণে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ আগেই পিছিয়েছিল। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং বন্যার স্রোতের কারণে স্টিলের কাঠামো (স্প্যান) বসানো যায়নি বলে দাবি করেছে চীনা কোম্পানি। তার দায়ভারও নিতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মা রেল সংযোগ সমিক্ষার সময় এর প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৬ হাজার ২শ ৪০ কোটি ৬ লাখ টাকা। অথচ ২০১৬ সালে চীনা কোম্পানির দাবির কারণে ঢাকা থেকে মাওয়া-ভাঙ্গা হয়ে যশোর পর্যন্ত রেলপথ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। এভাবে সময়মতো কাজ না হওয়ায় রেল সংযোগ প্রকল্পে নির্মাণ ব্যয়ও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে সেতুতে ওঠা ও নামার সময় বড় বড় ট্রাক ও কভার্ডভ্যান উচ্চতা নিয়ে রেল সংযোগ পিলারে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আপত্তি জানিয়েছে সড়ক কর্তৃপক্ষ। এতে পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে নতুন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ মূল সেতু ও রেল সংযোগ নির্মাণকারী দুটি প্রতিষ্ঠানই চীনা সরকারি মালিকাধিন কোম্পানি।
তবে রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, নকশা নিয়ে যে সামান্য ত্রুটির কথা বলা হচ্ছে তা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে। এতে সেতু বা রেল সংযোগ নির্মাণে বাড়তি সময় লাগবে না বলে তিনি দাবি করেন।    
পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সময়মতো কাজ না হওয়ার দায় ঠিকাদার নিচ্ছে না। পাইলিংসংক্রান্ত নকশা সংশোধন, নদীশাসন কাজে বিলম্ব এবং নদীভাঙন ও প্রবল স্রোতের কারণে কাজ পিছিয়েছে। বাড়তি সময়ের পুরো দায় বহন করতে হচ্ছে সরকারকে। যেমন দেরির কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির (প্রাইস এসকেলেশন) খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে। এ সময়ে যেসব লোকবল ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, তার খরচ বহন করতে হবে বাংলাদেশকে। এমনকি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বাড়তি সময়ে ব্যবহারের খরচও দিতে হচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।

ছবি-ইন্টারনেট।
প্রকল্পের নথি থেকে জানা গেছে, পাইলিংসহ নানা জটিলতার কারণে ইতিমধ্যে মূল সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌনে তিন বছর বাড়তি সময় দিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। নদীশাসনেও ঠিকাদারকে আড়াই বছর বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে।
সেতু বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মূল সেতুর পৌনে তিন বছর সময় বেড়েছে অতীতের সমস্যার কারণে। করোনা ও বন্যার তীব্র স্রোতের কারণে দেখিয়ে মূল সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী ২০২২ সাল পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। একইভাবে নদীশাসনেও সময় ও অর্থ উভয়ই বাড়ানো হয়েছে। অথচ নদীশাসনের কাজ শুরুর চিঠি দেওয়া হয় ২০১৪ সালের নভেম্বরে। পরবর্তী চার বছরে ২০১৮ সালে কাজ শেষ করার কথা ছিল। অথচ কাজ শেষ না হলেও নদীশাসন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারকে নদীভাঙন মেরামতেরও খরচ দিতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে।
এ ব্যাপারে সাবেক সচিব ও বড় প্রকল্প বিষয়ে বিশ্লেষক মুহাম্মদ ফাওজুল কবীর খান বলেন, প্রকল্পের কাজে দেরি মানেই ব্যয় বৃদ্ধি। কাজ নেওয়ার পর সময়ক্ষেপণ, এরপর ক্ষতিপূরণ দাবি এগুলো ঠিকাদারদের পুরোনো কৌশল। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিষয়গুলো ঘটবে, তা আগেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন। এখন সেগুলোই ঘটছে।