ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উচ্চতর পড়াশুনার জন্য ভর্তি হওয়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তাদের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারছেন না, কারণ এস্তোনিয়া, বেলজিয়াম এবং লাটভিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ঢাকায় ভিসা কনস্যুলার পরিষেবা দেয় না।
এসব শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য তাদের নয়াদিল্লী যেতে হবে, যা তারা করতে পারছেন না বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায়।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা আগস্টের শেষের দিকে তার বাংলাদেশ সফরের সময় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং চিকিৎসাসেবা প্রার্থীদের ভারতে যাবার অনুমতি দিতে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে একটি এয়ার বাবল স্থাপনের প্রস্তাব করেছিলেন। বাংলাদেশ সরকার প্রথমদিকে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও ভারতের সাথে এয়ার বাবল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি।
২৯শে সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সভাপতিত্বে দু’দেশের মধ্যে ৬ষ্ঠ যৌথ পরামর্শক কমিটির (জেসিসি) বৈঠক ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই বৈঠকে দুই প্রতিবেশী ভারতে বাংলাদেশী পণ্যের জন্য শুল্কবিহীন বাধা, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি, রোহিঙ্গা সঙ্কটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের সন্ধানসহ বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।
তবে, দু’দেশের মধ্যে এয়ার বাবল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সামান্য অগ্রগতি হয়েছিল। যদিও উভয় দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহণ ও স্থল যোগাযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু উচশিক্ষা, চিকিৎসা বা ব্যবসায়িক কারণে যারা ভারত ও বাংলাদেশে যাতায়াত করতে চান তারা এখনও সেটি করতে পারছেন না।
আরও লক্ষ্য করা গেছে যে ভারতীয় হাই কমিশনারের টুইটার পাতায় বিদেশে পড়াশোনা করার ভিসা আবেদন করতে ভারতে ভ্রমণের ভিসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন অনেক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী।
উল্লেখ্য যে, ভারত ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, মালদ্বীপ, কানাডা এবং জার্মানি সহ ১৫ টিরও বেশি দেশের সাথে এয়ার বাবল কার্যকর করেছে। এমনকি জাপান, যারা আন্তর্জাতিকভাবে এই জাতীয় দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত, তারাও ভারতের সাথে একটি এয়ার বাবল কার্যকর করেছে। এমন নয় যে, এই দেশগুলি যা এই জাতীয় ব্যবস্থা দ্বারা কোভিড-১৯ সংক্রমণের সম্ভাবনা সম্পর্কে চিন্তা করে না। কিন্তু কেবলমাত্র উড্ডয়নের আগে এবং অবতরণের পরে কঠোর পরীক্ষার কারণেই অনেক দেশ এই জাতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমান ভ্রমণ ব্যবস্থাগুলো উভয় দেশের জন্যই উপকারী। নাগরিকরা, বিশেষত শিক্ষার্থীরা যারা ভারতে পড়াশোনা এবং যারা চিকিৎসা নিতে যান তাদের বিমানের মাধ্যমে ভ্রমণ করার বিকল্প থাকা উচিত।
ঢাকায় ভিসা সেন্টার নেই, যেতে হয় দিল্লিতে, ভারতের সঙ্গে এয়ার বাবল চালুতে দেরি হওয়ায় বিপাকে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা
ধর্ষণ ,অনাচার বনাম মনুষ্যত্ব
নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমেই ভয়ানক আকার ধারণ করছে। প্রতিদিনই খুন ধর্ষণ নির্যাতন নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন নারী। বাংলাদেশ যেনো এক অভিশপ্ত জনপদে পরিণত হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে নারীর অধিকার, মর্যাদা কেমন? বাংলাদেশী সাংবাদিক মাহবুবুল আলম উচ্চশিক্ষার্থে রয়েছেন জার্মানি। সেখানকার বাস্তবতা তুলে ধরেছেন তিনি। *****

ডিসেম্বর;২০১৯। অষ্ট্রিয়া থেকে জার্মানিতে ফিরছি। গভীর রাত আনুমানিক ২টা। চেক-রিপাব্লিকের রাজধানী প্রাগ। পারহা নামক এক জায়গায় ট্রানজিট। গন্তব্য আমার বাসস্থান ড্রেজডেন শহর। ৬ ঘন্টার দীর্ঘ ট্রানজিট । ভাবলাম যাত্রীদের বিশ্রামাগারে ঝিমিয়ে কাটিয়ে দেবো। প্রাগ আমার কাছে নতুন শহর, রাতে লোকজন কম, আমি ইউরোপে নতুন ,তখনও ইনকাম তেমন করি না । ইউরো সমান একশ টাকার চিন্তা মাথা থেকে যায় না। ইউরোপে, এক এক দেশে এক এক ভাষা। কারে কি বলবো। সহজে ইংরেজী বলতে চায়না কেউ। পরে এসব চিন্তায় আর ছয় ঘন্টার জন্য আর হোটেলে খুঁজিনি। সবাই আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে। ৩ টার দিকে দেখলাম মাইকে ঘোষণা আসল বিশ্রামাগার বন্ধ থাকবে ৫.৩০ পর্যন্ত। শীতের রাত ঠান্ডায় জমে যাওয়া অবস্থা। সবশেষ, আমি আর এক সুন্দরী তরুণী।অনেক কিছু বোঝালাম সিকিউরিটিরে কিছুই বুঝতে চাইলনা । কী আর করা, পাশের ট্রাম ষ্টেশন সারারাত খোলা থাকে। মাটির নিচে কিন্তু খুব ঠান্ডা। তার পরও উপায় নাই ওখানে গিয়ে বসলাম। জনমানব শুণ্য প্রাগের ওই ষ্টেশনে নিজেরে খুব অসহায় লাগছিলো। হঠাৎ ওই তরুণীর প্রবেশ।আরেকজন মানুষের উপস্থিতিতে কিছুটা উষ্ণতা বোধ করলাম। মাঝে মাঝে একে অপরের দিকে তাকিয়ে ঘন্টা খানেক কাটিয়ে দিলাম। কোনো কথা নাই। অনেকক্ষণ পর ভাঙ্গা জার্মান ভাষায় জিজ্ঞেস করলাম -Wohin gehst du(তুমি কই যাবা) ?বলল বার্লিন। জর্জিয়ান ওই তরুণী বার্লিনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, ভিয়েনা থেকে ফিরছে।আর ভাবছিলাম এত গভীর রাতে কী নিরাপদ বোধ করছে এই মেয়ে। আর আমার অভাগা দেশের কথা চিন্তা করলাম।এমন করে রাত তিনটায় এই মেয়ে একা কমলাপুর ষ্টেশনে থাকলে। বদমাইশ লোকজন ছাড়াও চরিত্রবান পুলিশ ভাইদের অনেকে তারে নিয়া টানাটানি করত বা ওরে চরিত্রহীন বানানোর চেষ্টা করত…। পরে আমরা একই ফ্লিক্সবাসে জার্মানি ফিরেছি।
সম্প্রতি আমি এক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। কেউ কাউকে তেমন চিনি না। নতুন কলিগ। দুই দিনের পরিচয়। লাইপজিশের এক গ্রাম থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিলো ,ছয় ঘন্টার লং ড্রাইভ। ও ড্রাইভ করছিলl একা ওই মেয়ে আর আমি গভীর রাতে গিয়ে পৌঁছেছি অন্য আরেক রাজ্যে। চলার পথে সন্ধ্যায় জার্মানির অজানা এক গহীন বনে পথ হারিয়েছি। একই হোটেলে থেকেছি। তবে একবারের জন্যও আমার ওর আমার প্রতি খারাপ চিন্তা জাগেনি। আবার কেউ হয়ত কাউকে চিনি না এমন অনেকের সাথে রাতে একই রুমে পাশাপাশি থেকেছি। বিষয়টা হচ্ছে তাদের আমি মানুষ, ভেবেছি মেয়ে নয়।
আমাজনে কাজ করেছি মাস দেড়েক । ওখানেও রাতে অনেক মেয়েকে নিশ্চিন্তে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেখেছি। রাতে এখানকার মেয়েরা গাড়ী চালায় ,পার্টি করে সব কিছু করে নিরাপদে নির্বিঘ্নে। আমার মনে হয় বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে পড়তে আসা একা অবিবাহিত অনেক- মেয়ে নিজেকে এখানে দেশের চেয়ে নিরাপদ ও স্বাধীন মনে করে।ষ্টুডেন্ট হল গুলোতে পাশাপাশি রুমে অনেক ছেলে মেয়ে টয়লেট,বাথরুম,ডাইনিং, কিচেন সবকিছু শেয়ার করে একে অন্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে। আর বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বউ নিয়ে ক্যাম্পাসে বেড়াতে এলে- ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। করবে না কেন? বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে দেখেছি অনেক শিক্ষক মেয়েদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় নাম্বার বেশী দেবার টোপ দিয়ে। ওদের আদর্শ অনুসরণকারী ছাত্ররা আর কী করবে।দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্ষণের অভিযুক্ত অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্তাল আন্দোলনের পরও -শিক্ষক আছেন,পদোন্নতি পাচ্ছেন। কারণ ওরা কোন বিবেচনায় শিক্ষক হয়েছে তা সবার জানা।
সবশেষ,
জার্মান এক কোম্পানিতে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলাম। ওখানে ইন্টারভিউ এর পর চাকরি কনফার্ম করে ম্যানেজার আপা একটা ব্যাগ গিফট করলেন। হলে এসে দেখলাম, একটা লাইটার, একটা কফি মগ ,আর একটা ছোট প্যাকেট– জার্মান আপা যখন ওটা ব্যাগে দিলেন আমি ভাবছিলাম চকলেট মনে হয়। পরে দেখি এটা একটা কনডম। এর মানে এখানে যৌনতাকে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। লজ্জার কিছু নেই। আমাদের দেশে ৮৫ পার্সেন্টের বেশী মুসলমান। ধর্মে অবাধ যৌনতা নিষিদ্ধ। মেয়েদের ছিলা কলা, তেঁতুল,রসগোল্লা নামে কাঠমোল্লারা ডাকে। অন্যধর্মের যাজকরাও কম যাননা। সবাই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এদের হাত থেকে রেহাই পায়না বাচ্চা ছেলে থেকে শিশু কন্যারাও।
আসলে, ধর্ম চর্চা কিংবা ওয়াজ নসিহতে মেয়েদের নিয়ে রসের গল্প বন্ধ করে সামাজিক মূল্যবোধ, মেয়ে মানুষকে -মানুষ হিসেবে সম্মান করার জন্য সামাজিক বিপ্লব দরকার।শুদ্ধাচার দরকার।সব ক্ষেত্রে। কারণ ইউরোপের বেশীর ভাগ দেশ বিশেষ করে জার্মানির ৫০ ভাগ মানুষের কোন ধর্ম নেই। তবে ধর্মহীনরা এখানে বকধার্মিকদের চেয়ে শতভাগ নিষ্ঠা আর সততা নিয়ে জীবন যাপন করে। এখানে মুসলমানসহ সব ধর্মের মানুষ বিপুল স্বাধীন । মনুষ্যত্বের মুক্তি কিংবা মনুষ্যত্বের উন্নতি ঘটলে ধর্মীয় জীবনে এমনিতেই শান্তি আসবে এজন্য উল্টা -পাল্টা ওয়াজ নসিহতের দরকার নেই।
দেশে অনেকেই মনে করে ইউরোপে মন যা চায় যা ইচ্ছে তাই করা যায়। আসলে তা নয়। এখানে খারাপ মানুষ নেই ধর্ষণ হয়না তেমনটা না। তবে অনেক কম। এখানে নারী পুরুষ আলাদা না সবাই মানুষ। আইনের শাসন আছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো সবাই সবাই কে সম্মান করে। সুযোগ থাকলেও কারো সম্মতি ছাড়া জোর করে কিছু করা অন্যায় । এটা ওরা ছোট কাল থেকেই শিখেছে। আর আমাদের দেশে মাদ্রাসা,স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়,মিডিয়া হাউস,কর্পোরেট হাউস, সরকারি প্রতিষ্ঠান,পাহাড় ,সমতল ,গীর্জা ,মন্দির ,প্যাগোডা সবজায়গায় নারীর অসম্মান, মানুষের অসম্মান নিয়মিত ঘটনা। মানুষ মানুষ হয়ে উঠুক তাইলেই অনাচার কমবে।
মাহবুবুল আলম, ড্রেসডেন,জার্মানি।
ধর্ষণের মামলায় নুর-মামুনদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ, ঢাবির সেই ছাত্রী অনশনে
ধর্ষণ মামলার আসামি হাসান আল মামুন, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ সাধারণ ছাত্র পরিষদের ছয় নেতাকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মামলার আসামী ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরু প্রকাশ্যে সভা সমাবেশে বক্তব্য করা এবং তাকে গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন ওই তরুণী। আসামিদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেত্রী সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী জানান, বর্তমানে ধর্ষণ একটা মহামারি আকার ধারণ করেছে। আমিও একজন ভুক্তভোগী। এর আগে লালবাগ কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছি। কিন্তু ১৭ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি৷ লালবাগ কোতোয়ালি থানায় মামলা করার পর একাধিকবার আমি থানায় যোগাযোগ করেছি। থানা থেকে বলা হচ্ছে আমরা আসামিকে ধরার চেষ্টা করছি৷ আমরা ইতিমধ্যে নেটওয়ার্কের জাল বিছিয়ে দিয়েছি৷ আসামিরা টেকনলোজিতে এক্সপার্ট। তারা কোন ডিভাইস ইউস করছে না। তাই আমরা তাদের ধরতে পারছি না।
আসামিরা প্রভাবশালী তাই পুলিশ তাদের ধরছে না এমন দাবি করে ঢাবির এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার মামলা করার পর এমসি কলেজ, সাভারসহ দেশে বেশ কিছু ঘটনায় ধর্ষণের মামলা হয়েছে। সেসব মামলায় আসামি গ্রেপ্তারও হয়েছে। আমার মামলা করার আজকে ১৭ দিন। ১৭ দিন পরেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমার মনে হচ্ছে পুলিশ কারও দ্বারা প্রভাবিত।
এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সেখানে অবস্থান নেন কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন, ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জেরিন তাসনি পূর্ণি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারজানা নিপা, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশিসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেত্রীরা।
ঢাবি ছাত্রীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ডাকসুর সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার বলেন, ভুক্তভোগী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী। সে অনশন করছে তাই সাহস যোগানোর জন্য আমরা তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হওয়া তার পাশে থাকব।
এছাড়া রাতেই ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন নেতাকর্মীও একাত্মতা জানিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন। পরে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই শিক্ষার্থীর দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায় মামুনকে প্রধান আসামি করে ছাত্র অধিকার পরিষদের ছয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজধানীর লালবাগ থানায় ধর্ষণের মামলা করেন ওই ছাত্রী। এই মামলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরকে ধর্ষণে সহায়তাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর একই আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং হেয় প্রতিপন্ন করতে ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ কোতোয়ালি থানায় অরেকটি মামলা করেন ওই ছাত্রী।
উভয় মামলার আসামিরা হলেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ, একই সংগঠনের অব্যাহতিপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি নাজমুল হুদা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি।
শাহবাগে ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে রাজধানীর শাহবাগের মহাসমাবেশ থেকে।
বামধারার ছাত্রসংগঠনগুলোর উদ্যোগে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই সমাবেশ হয়। ‘ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বাংলাদেশ’ ব্যানারে এই সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ থেকে ধর্ষণ ও নিপীড়ন বন্ধে নয় দফা দাবি উত্থাপন করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স।
দাবিগুলো হলো-
১. সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ-নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারে ‘ব্যর্থ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
২. পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সব ধরনের যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।
৩. হাই কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতন বিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডো সনদে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।
৪. ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএলের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।
৫. তদন্তকালীন সময়ে ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সব মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে।
৭. ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫ (৪) ধারা বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।
৮. পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যে কোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।
৯. গ্রামীণ সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
এ সময় প্রিন্স বলেন, আমরা ধর্ষণের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণ তৈরি করব সারা দেশে। ধর্ষণকে উচ্ছেদ করে ছাড়ব এ দেশ থেকে।
ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়া হলে তারা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ অভিমুখে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চ করবেন। দাবি আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিৎ করার দাবিতে ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে বাম ধারার ছাত্র সংগঠনগুলো প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেবে।
এছাড়া ১১ অক্টোবর ধর্ষণবিরোধী আলোকচিত্র প্রদর্শনী, ১২ অক্টোবর সাংস্কৃতিক সমাবেশ, ১৩ অক্টোবর চলচ্চিত্র উৎসব, ১৪ অক্টোবর নারী সমাবেশ ও ১৫ অক্টোবর রাজধানীতে ধর্ষণবিরোধী সাইকেল র্যালির কর্মসূচি ঘোষণা করেন অনিক। পূর্বঘোষিত এই মহাসমাবেশের শুরুতে প্রতিবাদী সঙ্গীত পরিবেশনা করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এই পর্বটি সঞ্চালনা করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন।
নতুন এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন দেশের ১৬তম এটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবীকে ৮ অক্টোবর এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেন। খবর বাসস।
আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মো: গোলাম সারওয়ার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিনকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ প্রদান করিলেন।” এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
১৯৮৯ সালের ২৮ অক্টোবর সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এ এম আমিন উদ্দিন। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি আমিন উদ্দিন এক সময় ডেপুটি এটর্নি জেনারেল পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ এম আমিন উদ্দিন ২০০৬-২০০৮ সাল পর্যন্ত পরপর দুইবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৯-২০২০ ইং সেশন এবং ২০২০-২০২১ সেশনেও পর পর দুইবার সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। তিনি বর্তমানে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি।
২০০৯ সাল থেকে রাষ্ট্রের ১৫ তম এটর্নি জেনারেলের হিসেবে দ্বায়িত্বপালনকারী মাহবুবে আলম (৭১) গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুজনিত কারণে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার পদটি শুন্য হয়।
নব নিযুক্ত এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন পেশাগত জীবনে এক সময় আইনজীবী হিসেবে সদ্য প্রয়াত এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের চেম্বারে জুনিয়র সহকর্মী হিসেবেও সম্পৃক্ত ছিলেন। সিনিয়রের শুন্য স্থানে দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে তথা ১৬ তম এটর্নি জেনারেল হিসেবে তিনি নিয়োগ পেলেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশী সময় ধরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সুনামের সঙ্গে আইনপেশা পরিচালনা করছেন এ এম আমিন উদ্দিন। এ এম আমিন উদ্দিন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্বের অনেক ঊর্ধ্বে: বিক্রম দোরাইস্বামী
পারস্পরিক সম্পর্ক অনেক নিবিড় হলেও তারও পরিচর্যা দরকার বলে মনে করেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। আর বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সেই কাজটিই করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র উপস্থাপনের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানে ইন্ডিয়া হাউজে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে আসেন বিক্রম দোরাইস্বামী।
বাংলাদেশ-ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক তুলে ধরে নতুন হাইকমিশনার বলেন, “বাংলাদেশ সবসময় ভারতের অত্যন্ত বিশেষ অংশীদার ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
“আমাদের বন্ধুত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্বের অনেক ঊর্ধ্বে, কারণ এই বন্ধুত্ব রচিত হয়েছে অভিন্ন ত্যাগ, ইতিহাস এবং সংস্কৃতি এবং আত্মীয়তার অনন্য সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে। আমি একটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে চাই যে, বাংলাদেশকে ভারত সর্বোচ্চ স্তরের গুরুত্ব দেয় এবং এটি কখনোই হ্রাস পাবে না।”
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ মাত্রায় রয়েছে বলে দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
নিবিড় সেই সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দোরাইস্বামী বলেন, “নিকটতম সম্পর্কেরও পরিচর্যা করা প্রয়োজন। আমার সরকার আমাকে ঠিক তাই করার নির্দেশ দিয়েছে।
“আমি এবং আমার সহকর্মীরা এই অংশীদারিত্বকে সর্বস্তরে প্রচার করতে কোনো সুযোগই ছাড়ব না। আমরা উভয় পক্ষের সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা মাধ্যমে এই অংশীদারিত্বের পক্ষে সর্বোচ্চ সমর্থন জানাব। এই নির্দেশ আমাদের সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে যে, বাংলাদেশের সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আমাদের অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
মতবিনিময় সভায় সীমান্ত হত্যা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে দোরাইস্বামী বলেন, “এটাকে (সীমান্ত হত্যা) পুরোপুরি বন্ধ করা আমাদের লক্ষ্য। যেভাবে আমাদের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের মহাপরিচালক সম্প্রতি বলেছেন সর্বোচ্চ রকম সহনশীলতা দেখানো এবং সর্বোচ্চ মাত্রায় মারণঘাতি নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।
“মূলত এটা একটি আইনশৃঙ্খলা সমস্যা এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসাবে এটাকে দেখতে হবে। এটা নিয়ে আপনাদের মনোভাব কী আমি বুঝতে পারি।”
ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করে হাই কমিশনার দোরাইস্বামী বলেন, “এটার কোনো সহজ সমাধান নেই, তবে গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে সমাধান আমাদের একসঙ্গে খুঁজতে হবে। আমি আপনাদের এখন এ বিষয়ে এ বেশি কিছু বলতে পারছি না, তবে সর্বোচ্চ রকম প্রচেষ্টা নেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, “কানেকটিভিটি জোরদার করতে যৌথ প্রকল্পগুলোর সম্পন্ন হওয়া দেখতে চাই আমি, যাতে কানেকটিভিটির অংশদারিত্বে আমাদেরকে যে সেবা দেওয়া হচ্ছে তার ফিরতি পাওনা যাতে বাংলাদেশের মানুষ পেতে পারে।”
করোনাভাইরাসের টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রাধিকারে থাকবে জানিয়ে দোরাইস্বামী বলেন, “আন্তর্জাতিক ওষুধ কোম্পানির উৎপাদক হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের ভ্যাকসিন নিয়েও কাজ করছি আমরা।
”আমরা যত দ্রুততার সঙ্গে সম্ভব ভ্যাকসিন পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশদারিত্বে যাব। শিগগির ভারতীয় ভ্যাকসিন তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে যাবে, তখন বাংলাদেশ সরকার যেভাবে চাইবে সেভাবে এখানেও পরীক্ষায় যাব।”
যৌথভাবে টিকা উৎপাদনে যেতে হলে এক্ষেত্রে ভারতের প্রতিবেশীদের মধ্যে কেবল বাংলাদেশের সক্ষমতা আছে বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমাদের অংশীদারিত্বের উৎস পারস্পরিক শ্রদ্ধা। ঐতিহাসিক জনযুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের ভিত্তিতে একটি জাতিকে রূপদানকারী হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের চেতনার প্রতি আমরা গভীরভাবে প্রশংসা ও সম্মান জানাই। আপনারা অসংখ্য মৃত্যু ও মা-বোনেদের প্রতি বর্বর নির্যাতন উপেক্ষা করে অনন্য সাহস এবং বীরত্বের সাথে নিজেদের উপর হওয়া অত্যাচার ও কঠোরতার মুখোমুখি হয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতির জন্য বাংলাদেশ আজ সমানভাবে সম্মানিত। একইভাবে, দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম গতিতে আপনাদের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আমরা অভিনন্দন জানাই। সেই সাথে আমরা আপনাদের বিশ্বখ্যাত আন্তরিকতা এবং আতিথেয়তার চেতনার প্রশংসা করি।
রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশঃ

এর আগে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। রাষ্ট্রপতি ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন ভারত শুধুমাত্র বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী নয়, বিশ্বস্ত বন্ধুও। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। এ সম্পর্ক কূটনৈতিক পরিমন্ডল ছাড়িয়ে বাণিজ্য-বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে সম্ভাবনাময় প্রতিটি ক্ষেত্রকে কাজে লাগাতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালাবেন।
এ সময় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার বলেন, ভারত বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়।তিনি জানান, ভারতে যে করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদিত হবে সেটা বাংলাদেশ সময়মত পাবে। ভারতের নতুন হাইকমিশনার দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
৪৯ বছর পর পাকিস্তান মুক্ত হলো দেশের সব সীমান্ত পিলার, PAK লেখা মুছে হলো বাংলাদেশের BD ; ইতিহাস সৃষ্টি করলো বিজিবি
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সব সীমান্ত পিলার থেকে মুছে গেল পাকিস্তান নামটাই। তার বদলে লেখা হলো বাংলাদেশ। এমন উদ্যোগ সম্পন্ন করেছে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনি বিজিবি।
এই সীমান্ত স্তম্ভগুলি ছিল পুরনো অবিভক্ত পাকিস্তান আমলের। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হয়। দুটি অংশ নিয়ে পাকিস্তান আত্মপ্রকাশ করে। তারই একটি ছিল পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলা।
দেশভাগের পর ভারত ও তৎকালীন অখণ্ড পাকিস্তান তথা পূর্ব পাকিস্তানের সীমানা বরাবর স্তম্ভগুলিতে IND-PAK লেখা হয়েছিল। তারপর ১৯৭১ সালে রক্তাক্ত মহান মুক্তিযুদ্ধের পর আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। কিন্তু এই দীর্ঘ ৪৯ বছরের মধ্যে আর IND-PAK লেখা সীমান্ত পিলারগুলি পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে খাতায় কলমে বাংলাদেশ- ভারত সীমান্ত থাকলেও বাস্তবে সীমান্ত পিলারে লেখা ছিল পুরনো IND-PAK শব্দ।
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) জানিয়েছে, ভারত সীমান্তের বাংলাদেশের পিলারে লেখা ছিল PAKISTAN/PAK। বিষয়টি বিজিবির নজরে আসলে তা মুছে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয় সরকারের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে সে আবেদন। PAK শব্দ মুছে ফেলার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্দেশ পেয়ে বিজিবি পিলারগুলি থেকে PAKISTAN লেখা শব্দ মুছে দেওয়ার কাজ শুরু করে।
বিজিবি নিজস্ব তহবিল থেকে সীমান্ত পিলার PAKISTAN/PAK লেখা পরিবর্তন করে BANGLADESH/BD লেখার কাজ সম্পন্ন করে। স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ ৪৯ বছর পর সেসব পিলার থেকে সম্পূর্ণ রূপে মুছে ফেলা হল পাকিস্তান শব্দটি। এর বদলে লেখা হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশের সীমান্তে রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, অাসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম রজ্য। এই সব এলাকার সঙ্গে সীমান্ত এলাকার দুর্গম ও জঙ্গল ঘেরা বহু পিলার খুঁজে বের করতে সময় লেগেছে বিজিবির।
একে একে সীমান্ত এলাকার ১০ হাজার ২৪০টি পিলার থেকে পাকিস্তানের নাম মুছে বাংলাদেশের নামের সংক্ষিপ্তরূপ ‘BD’ লেখা সম্পন্ন করেছে বিজিবি।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান বিজিবির পরিচালক (অপারেসনস) লে. কর্নেল ফয়জুর রহমান।
তিনি বলেন, একসময় আমাদের সীমান্ত পাকিস্তান-ভারত সীমান্ত ছিল। সে অনুযায়ী সীমান্ত পিলারে পাকিস্তানের নাম লেখা ছিল।
তবে স্বাধীনতার এত বছর পরও অনেক সীমান্ত পিলারে পাকিস্তানের নাম লেখা রয়ে গেছে। আমাদের বিজিবির টহল টিম বিষয়টি প্রথমে নজরে আনে, তারা এগুলো সংস্কারের প্রস্তাব দেয়।
এরপর একে একে বিজিবির পক্ষ থেকে ১০ হাজার ২৪০টি পিলার থেকে পাকিস্তানের নাম মুছে বাংলাদেশ লেখা সম্পন্ন করা হয়। এর ফলে কোনো পিলারে আর পাকিস্তানের লেখা রইলো না।
সীমান্তে বন্দুকযুদ্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু বিজিবি নয়, কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটাতে চায় না। আমাদের একমাত্র টার্গেট থাকে অপরাধীকে গ্রেফতার করা। গ্রেফতারের সময় অনেক অপরাধী আমাদের আক্রমণ করে, গুলি ছোড়ে, তখন আত্মরক্ষার্থে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিএসএফের গুলিতে কতজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক বলেন, সংখ্যাটি নিশ্চয়ই আপনাদের কাছে রয়েছে। সম্প্রতি বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএসএফের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে বলা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আপনাদের জবাব দিয়েছেন। এর পর থেকে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী সীমান্ত দিয়েই মাদক প্রবেশ করছে, বিজিবি আরও তৎপর হলে বিষয়টি ঠেকানো যেত- এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যিনি বলেছে, এটা তার ব্যক্তিগত মতামত বা অভিমত হতে পারে। এটা পুলিশ সদরদপ্তরের বক্তব্য না। আমরা প্রায়ই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বা সরাসরি পুলিশ সদরদপ্তরের সঙ্গে তথ্য বা মতামত শেয়ার করি। কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সাজেশন আসলে বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই আলোচনা করা হবে।
দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা হাজির রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যেই মাদকই আসছে আমরা সেগুলো জব্দ করছি।

মাদক ব্যবসায় বিজিবি সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় আইনের পাশাপাশি বিজিবির নিজস্ব আইন রয়েছে। আমরা সেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দায়িত্বপালন করি। তাছাড়া বিজিবি অনেকবার রিফর্মও করা হয়েছে। এটা বলতে পারি যে, বর্তমানে সীমান্তে মাদকের সঙ্গে বিজিবির সম্পৃক্ততা জিরো।
মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে সে দেশের সেনাবাহিনীকে তাদের সশস্ত্র উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে দেখা গেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির এ কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের কতটুকু উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা নিশ্চয়ই আরও ভালো জানেন। আমাদের সীমান্ত রক্ষার জন্য যতটুকু দরকার, ঠিক ততো পরিমাণ বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সীমান্তে আমাদের লোকজন সতর্ক রয়েছে। দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজিবির বর্তমানে জনবল বেড়েছে, আমাদের অংশে যে দায়িত্ব রয়েছে, তার সর্বোচ্চটাই আমরা দিচ্ছি।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লে. কর্নেল ফয়জুর রহমান বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত আট মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্নস্থানে ৫ লক্ষাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে বিজিবি। এসব অভিযানে সর্বমোট ৩৭২ কোটি ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে ২ হাজার ৬৩ জন চোরাকারবারীকে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৩৪৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ৯৬ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় ৮১৫ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩১৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মণ কাজ বাস্তবায়নাধীন। এছাড়াও ৭৩টি আধুনিক কম্পোজিট বিপি নির্মাণের অনুমোদন মিলেছে।
৩২ বছর আগের সীমা হত্যা মামলা ৩ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলো হাইকোর্ট
পুরান ঢাকার জগন্নাথ সাহা রোডে ১৯৮৮ সালের ২৬ এপ্রিল খুন হওয়া সীমা মোহাম্মদী (২০) হত্যা মামলা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
একটি জাতীয় দৈনিকে ৬ অক্টোবর ‘৩২ বছর ঝুলে আছে সীমা হত্যার বিচার’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন বুধবার আদালতের নজরে আনার পর এ আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতের নজরে আনে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান ও জামিউল হক ফয়সাল।
পরে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, আদালত তিন মাসের মধ্যে মামলাটি বিচারিক আদালতকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
ওই পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পুরান ঢাকার জগন্নাথ সাহা রোডে ১৯৮৮ সালের ২৬ এপ্রিল খুন হন সীমা মোহাম্মদী (২০)। বাড়িতে ঢুকে ছুরিকাঘাত করে সীমাকে হত্যা করে মোহাম্মদ আহমদ ওরফে আমিন নামে এক যুবক।
ঘটনার পরপরই ওই যুবকের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন সীমার মা ইজহার মোহাম্মদী। দুই মাস পর ২৫ জুন পলাতক আমিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে সীমাকে বিয়ে করতে না পেরে সে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। আদালত থেকে আসামিকে হাজিরের জন্য ১৯৯৯ সালের ২২ জুন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
২০০১ সালের ২৯ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের পরও সাক্ষ্য দিতে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের অনীহার কারণে মামলার বিচারকাজ বারবার পিছিয়ে যায়। অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের তৎকালীন প্রভাষক আনোয়ার হোসেন সাক্ষ্য দিতে অদ্যাবধি আদালতে হাজির হননি। ওই চিকিৎসককে এ পর্যন্ত অর্ধশত অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক চমন বেগম চৌধুরীর আদালতে বিচারাধীন। ’
শপথ নিলেন পাবনার এমপি নুরুজ্জামান
পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগের মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাস শপথ নিয়েছেন।
বুধবার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নুরুজ্জমান বিশ্বাসকে শপথ পড়ান।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু গত ২ এপ্রিল মারা গেলে পাবনার ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া আসনটি শূন্য হয়। মহামারীর কারণে সেখানে উপনির্বাচন হয় কয়েক মাস পরে।
২৬ সেপ্টেম্বরের ওই ভোটে আওয়ামী লীগের নৌকার পার্থী নুরুজ্জামান ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব পান ৫ হাজার ৫৭৬ ভোট।
শপথের পর নুরুজ্জামান বিশ্বাস রেওয়াজ অনুযায়ী শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। সংসদ সচিব জাফর আহমেদ খান শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিম, হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি এবং সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন জলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যের স্ত্রী রোকেয়া জামানও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।
সাধারণত দুই-এক জনের শপথ অনুষ্ঠান স্পিকারের নিজ অফিসেই হয়। তবে করোনাভাইরাস মাহমারীর মধ্যে সামাজিক দূরত্ব রক্ষার জন্য শপথ কক্ষেই নুরুজ্জামানের শপথের আয়োজন করা হয়।
ধর্ষণবিরোধী মিছিলে পুলিশের বাধা, হাতাহাতি-লাঠিপেটা
সারাদেশে একের পর এক ধর্ষণ-নিপীড়নের বিচার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলে পুলিশ বাধা দেওয়ার পর হাতাহাতি ও লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হয়ে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী, লেখক, কবি, শিল্পী, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নারী অধিকারকর্মীরাও তাতে যোগ দেন।
বেলা সোয়া ১টার দিকে তারা শাহবাগ মোড় থেকে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা ঘুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
এ সময় পুলিশের সাথে মিছিলকারীদের হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে ছাত্র ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন।
পরে মিছিলকারীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা ধর্ষক ও নিপীড়কদের শাস্তির পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের পদত্যাগের দাবি জানান।
‘ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই, ‘ধর্ষকের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘যে রাষ্ট্র ধর্ষণ পোষে, সেই রাষ্ট্র চাই না’, আমার বোনকে ধর্ষণ কেন, প্রশাসন জবাব চাই, ‘নিপীড়ক যেখানে, লড়াই হবে সেখানে’- ইত্যাদি স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ওই এলাকা।
প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান শেষে মিছিলকারীরা আবার শাহবাগে হয়ে টিএসসি এলাকায় ফিরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন।











