ঢাকা   সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩   বিকাল ৫:২৭ 

Home Blog Page 164

গভর্নরের মেয়াদ আরো দু’বছর বাড়লো, সংসদে বিল পাস, বিরোধীদের সমালোচনা

0

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে থাকার মেয়াদ সাতষট্টি বছর করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আইন সংশোধনের জন্য বিল পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে।
এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর ফজলে কবিরকে আরও দুই বছর ওই পদে রাখতে সরকারের আর কোনো বাধা থাকছে না। ফজলে কবিরের বয়স ৬৫ বছর হওয়ায় গত ২ জুলাই তার মেয়াদ শেষ হয়।

অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালের পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২০’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

এর আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করেন।

বিলটির বিষয়ে জাতীয় পার্টির ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা আপত্তি জানান। তারা বলেন, কোন একজন ব্যক্তির জন্য এমন আইন করা উচিত নয়।

খসড়া আইনটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, “একজনের জন্য এই আইন করা হচ্ছে। যোগ্য লোককে নিয়োগের পথ বন্ধ করা হচ্ছে। অর্থাৎ অন্য যারা আছেন তাদের অযোগ্য মনে করছি।“
জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, “গভর্নর পদে বয়স ৬৭ করা হলে এখন সিভিল সার্ভিসের সবাই চাইবে তাদেরও বয়সসীমা বাড়ানো হোক। সরকারের এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত।

“আরেকটা কথা, যোগ্য লোক হলেই ভালো গভর্নর হবেন এমন না। একজন গভর্নরের সময়ে রিজার্ভ চুরি হয়েছিল। এই গভর্নর কী সেই টাকা ফেরত এনেছেন? ঋণ খেলাপিদের বিষয়ে তিনি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন আমরা জানি না।  একজন ব্যক্তির জন্য এই আইন করা হলে তা ঠিক নয়। “

এসব বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো বক্তির জন্য নয়। গভর্নর পদের জন্য আইন করছে।

“সংসদ সদস্যরা অনেক যুক্তিসঙ্গত কথা বলছেন। সবচেয়ে বড় যুক্তি বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার জায়গা থেকে এই আইন করা হচ্ছে।“

পরে সংশোধনী প্রস্তাব তোলার সময় বিএনপির হারুনুর রশীদ, “আমরা দেখত চাই এই আইন পাস হওয়ার পর নতুন কোন ব্যক্তিকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।“

এর জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক শক্তিশালী করতে আইনটি করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির জন্য এটা হচ্ছে না। প্রয়োজনের জন্য করা হয়েছে। সামনে কেউ যদি মনে করেন ৭০ করবেন, তা করতে পারেন।“

ফজলে কবিরকে গভর্নর রাখতে আইন সংশোধন হচ্ছে  

অর্থমন্ত্রীর পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রীই বুধবার ১৯৭২ সালের ‘দ্যা বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার’ সংশোধন করতে সংসদে বিল তোলেন।

সংসদে কোনো বিল উত্থাপনের পর সাধারণত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠান। তবে এই বিলের ক্ষেত্রে সেটি হয়নি।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকা যাবে, বিদ্যমান আইনে যা ৬৫ বছর ছিল।

বিদ্যমান আইনে গভর্নর পদে ফজলে কবিরের মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ ছিল না। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর এই সময়ে ফজলে কবিরকে আরও দুই বছর রাখতে চায় সরকার। মূলত সে কারণেই আইন সংশোধনের প্রয়োজন হল।

গত ২ জুলাই ছিল ফজলে কবিরের শেষ কর্মদিবস। ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় তাকে পুনঃনিয়োগ দিতে পারেনি সরকার।

আইনটি করার উদ্যোগ নেওয়া সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর বাস্তবায়ন নির্বিঘ্ন করতেই ফজলে কবিরকে আরও কিছু সময়ের জন্য চায় সরকার।

আর খসড়া আইনের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “দেশের রাজস্ব নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কার্যকর মুদ্রানীতি প্রণয়ন, মুদ্রা সরবরাহ ও ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রা-মান সংরক্ষণ, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় প্রভৃতি বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

“দেশের সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ও উন্নততর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত-প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রাজ্ঞতা, বিচক্ষণতা, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ববাচক গুণাবলি প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের মূল নিয়ামক শক্তি বিবেচনায় উক্ত পদে যোগ্যতা ও উপযুক্ত ব্যক্তিকে বিদ্যমান বয়সসীমা অপেক্ষা অধিকতর বয়সে নিয়োগের সুযোগ রাখা কিংবা প্রয়োজনবোধে উক্ত পদে সমাসীন ব্যক্তিকে বিদ্যমান বয়সসীমা অতিক্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা অনুসারে পুনর্নিয়োগে প্রদান কিংবা উক্ত ব্যক্তির নিয়োগের নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা বজায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন।”

“কোর্ট পুরোপুরি চালু হউক “

0

করোনা পরিস্থিতির কারণে চার মাস ধরে আদালতের বিচার কার্যক্রম বন্ধ। উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে স্বল্প পরিসরে ভার্চুয়াল কোর্ট চলছে। এতে সুযোগ পাচ্ছেন না বেশিরভাগ আইনজীবী। ফলে মামলা মোকদ্দমা না থাকায় আইনজীবীরা পড়ছেন বিপাকে, আর্থিক অনটনে। আইনজীবীদের দাবি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আদালত পুরোদমে খুলে দেয়া হোক। এ নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী, নাহিদ সুলতানা যূথী। যিনি সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। আইনজীবীদের স্বার্থ বিবেচনায় এডভোকেট নাহিদ সুলতানা যূথী’র লেখাটি আমরা প্রকাশ করলাম।

“বর্তমান প্রেক্ষাপট ও আইন অঙ্গন ”
দেশে স্বল্প পরিসরে অফিস চলছে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে , প্রায় ৪ মাসের উপরে আমরা ঘরে বসে অদৃশ্য শত্রু মোকাবেলা করছি। আমাদের কোনও দিকেই রক্ষা নাই । ঘরে থাকলে জীবন চলবে না । না খেয়ে মরতে হতে পারে আর বাইরে গেলে করোনা ……কোনটা আমাদের গ্রহণ করা উচিত !
বিচার প্রার্থীরা অবরুদ্ধ ,আদালত বন্ধ ,স্বল্প পরিসরে চলছিল কয়েকটি আদালত কিন্তু ৪ মাসের উপরে চলছে আমাদের এই অদৃশ্য যুদ্ধ … মাননীয় আইন মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভার্চুয়াল কোর্ট খোলা রেখে স্বল্প আকারে আদালত খোলা হবে , সুপ্রিম কোর্ট বার এর দাবী , বিচার প্রার্থীদের এবং আইনজীবীদের জন্য রেগুলার কোর্ট খুলে দেয়ার দাবী …………
জীবন নাকি জীবিকা কোনটা প্রাধান্য পাবে?

জীবন আসলে যখন যেমন , এখন জীবন ৪ মাসের উপরে বন্দি ,কতদিন পর্যন্ত আমাদের এই অদৃশ্য শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে জানিনা , সংসার কিভাবে চলবে , বাড়িভাড়া না দিতে পেরে অনেকেই চলে গিয়েছে দেশে গ্রামের বাড়িতে …চলে গেল বা বাড়ি ছেড়ে দিল সবই চলছে কিন্তু কার দুঃখ কে দেখবে অবস্থা চলছে ,কালকেই কোনও একটি টিভি তে দেখেছি একজন বাড়িওয়ালার আকুতি উনি ভাড়াটিয়া কে ছাড়তে চান না … কেন ? কারন উনার সংসার চলে বাড়িভাড়ায় এভাবে কয়েক স্তরে চলছে জীবন যুদ্ধ প্রত্যেকটি সেক্টর একে ওপরের উপর নির্ভরশীল । এখানে বলাই বাহুল্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে জীবিকা…।। অসুখ ,হসপিটাল ,অপারেশন টাকার জন্য না পারছে চিকিৎসা করাতে, না পারছে ঘরে বসে স্বস্তিতে থাকতে …অবস্থাদৃষ্টে দাঁড়িয়েছে যা হবার হবে ……যা হবার হবে কিন্তু মানুষ জীবন যুদ্ধে হেরে যেতে চায়না তাই বিশ্ব এখন স্বল্প পরিসরে নেমেছে কাজে , ভেঙ্গেছে লকডাউন ,যার যার যোগ্যতা ও কাজের নেচার অনুযায়ী রেগুলার বা ভার্চুয়াল, কেউ কিন্তু বসে বেতন পাচ্ছে না ! বাংলাদেশে
যারা চাকরি করেন তাদের চিন্তা নাই ।।সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সম্ববত ৬০ % বেতন পাচ্ছেন সরকারী কর্মচারীরা কিন্তু আমাদের আইন মন্ত্রানলয়ের সরাসরি নিয়োগকৃত প্রায় ২০০ বা ততোধিক আইন কর্মকর্তা বেতন পাচ্ছেন ঘরে বসেই …চোখের উপর অসঙ্গতি দেখলে মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয় …। একটি গ্রুপ জীবনের মায়া ত্যাগ করে জীবীকার প্রয়োজনে মাঠে নামতে চাচ্ছে আর আরেকটি গ্রুপ বসে বেতন পাচ্ছেন তারপরও . কোর্ট কাছারি খোলার ক্ষেত্রে বিচারপতি মহোদয়দের মতবিরোধ খবর দেখলে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়ে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ঘোষণায় জীবীকার উপর গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন এবং সরকারি কর্মচারীরা সীমিত আকারে তাদের কাজ করছেন /করে চলেছেন সেখানে বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তে হতে হবে সরকারের সাথে সমন্বয় করে জনগণের কথা চিন্তা করা … দেশের একটি অঙ্গ এমন ভাবে স্বল্প পরিসরে চলতে পারে না । আইনজীবী সমিতির দাবী রেগুলার কোর্ট খুলে দেয়া হোক ….. সামাজিক দুরত্ব মেনে যার যার জীবন তার তাই নিজের জীবনের প্রতি দায়িত্ববোধ নিজেদের ই আনতে হবে …।।আইনজীবীরা চাচ্ছে রেগুলার কোর্ট কিন্তু রেগুলার কোর্ট আর ভার্চুয়াল কোর্ট দুই ই থাকতে পারে ….
রেগুলার হোক আর ভার্চুয়াল হোক ৫৬ + কোর্ট ও যদি ভার্চুয়াল হতো তাইলে জনমনে ক্ষোভ হতোনা, বিচার প্রার্থীরা পেতো তাদের নাগরিক অধিকার । বর্তমান কমিটিকে সাধুবাদ জানাই দুর্নীতির শিকড়ে গিয়েছেন কিন্তু তা যেন সিদ্দিক এন্টারপ্রাইজ নামক একটা বহিরাগত ব্যবসায়িকে দায়ীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজেদের দায়িত্বের অবহেলা ও এর সাথে কি ধরণের রাঘব বোয়ালেরা জড়িত ,কারা কারা জড়িত তা খুঁজে বের করবেন তাইলে আপনাদের সাধুবাদের পরিধি হবে আরও ব্যাপক । আপনারা কোর্ট খোলার জন্য মাননীয় প্রধান বিচারপতির সাথে আলোচনা করতে পারেন ……। AAG DAG হতে কোনও অতিরিক্ত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না ….আমি জানিনা আছে কিনা অতিরিক্ত কোনও যোগ্যতা , আমি জানতে রাজি আছি যোগ্যতার মাপকাঠি কি ? অনেক দিন হয়েছে যারা ১০ বা তার ও বেশি সময় আইন কর্মকর্তা হিসাবে আছেন তাদের বাদে নতুন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে সমতা আনা যেতে পারে

সংবাদে দেখছি মাননীয় বিচারপতিরা একমত হতে পারেননি তাই ভার্চুয়াল কোর্ট চলবে ……।।১৩ টি ভার্চুয়াল কোর্ট দিয়ে এভাবে রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ এমন ভাবে চলতে পারে না। আমরা পুরনায় ৫৬ বা কাছাকাছি কোর্ট ই ভার্চুয়াল চাই অথবা কিছু রেগুলার কিছু ভার্চুয়াল কোর্ট ( স্বাভাবিক সময়ের মত ) কোর্ট হতে পারে …এবং আমরা আইনজীবীরা সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের কোর্ট পুরোপুরি চালু হোক সেটাই আমাদের কাম্য ……। আমাদের গতি হবে সচল, করোনা হবে স্থবির …।। করোনায় থেমে যাবে না আমাদের স্বাভাবিক গতিধারা……।

পাপলু কুয়েতের নাগরিক হলে সংবিধান অনুযায়ী তার এমপি পদ বাতিল হবে, সংসদে প্রধানমন্ত্রী

0

মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরের এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলকে নিয়ে এবার মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদকে তিনি জানান,পাপলু কুয়েতের নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে সংবিধান অনুযায়িই তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “সে কুয়েতের নাগরিক কী না… সেটা কিন্তু কুয়েতের সাথে আমরা কথা বলছি, সেটা দেখব। আর যদি এটা হয়, তাহলে তার ওই সিট হয়ত খালি করিয়ে দিতে হবে। কারণ যেটা আইনে আছে সেটা হবে। তার বিরুদ্ধে আমরা এখানেও তদন্ত করছি।”
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি রয়েছে।
পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন।
সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শুধু তাই নয়, নিজের স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করে আনেন তিনি।
প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকেও পাপুলের বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে। কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে ওই ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে জব্দ করেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশেও তার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন,দুদক।
সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ কুয়েতে পাপুলের গ্রেপ্তার হওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
তার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সে (পাপুল) কিন্তু স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। সে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমাদের (আওয়ামী লীগের) নমিনেশন চেয়েছিল, আমি দিইনি। কিন্তু সে স্বতন্ত্র ইলেকশন করেছে।
“ওই সিটটি আমরা জাতীয় পার্টিকে দিয়ে দিয়েছিলাম। জাতীয় পার্টির নোমান (মোহাম্মদ নোমান) নমিনেশন পেয়েছিলেন, কিন্তু নির্বাচন করেননি। সেখানে ওই লোক (পাপুল) জিতে আসেন। আবার তার ওয়াইফকেও যেভাবে হোক (সংরক্ষিত আসনের এমপি) বানায়। কাজেই এটা কিন্তু আমাদের করা না।”

রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত প্রত্যাবাসনের পক্ষে ভারত

0

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এস.জয়শংকর বলেন,বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রতিবেশী হিসেবে ভারত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে । তিনি বলেন,বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত,নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনেই সকলের মঙ্গল নিহিত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনকে সম্প্রতি লেখা এক পত্রে ড.এস.জয়শংকর এসব বিষয় উল্লেখ করেন।
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
করোনা মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পূণর্ব্যক্ত করেন ড. এস. জয়শংকর। তাছাড়া দু’দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পারিক অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি পত্রে উল্লেখ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

প্রতারক সাহেদকে ধরতে অভিযান, বিমান, স্থল বন্দর ও সীমান্তে সতর্কতা জারি

0

প্রতারক মোহাম্মদ সাহেদকে ধরার জন্য অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। এজন্য চারটি দল মাঠে। সাহেদ যাতে পালাতে না পারে এ জন্য বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সীমান্তেও সতর্কবার্তা জারি হয়েছে।

র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তার জানিয়েছেন,
জালিয়াতির অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার পর এর মালিক মো, সাহেদকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

র‌্যাব জানায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে র‌্যাবের চারটি দল। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

“তিনি দেশের বাইরে চলে যেতে পারেন। এ ধরনের তথ্য আছে। আর সে অনুযায়ী বিমানবন্দরসহ স্থলবন্দরগুলোতেও তার ব্যাপারে তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি যেন কোনোভাবেই দেশের বাইরে যেতে না পারেন। আমরা তাকেসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করছি।”

করোনাভাইরাস পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া, নিয়ম বহির্ভূতভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় এবং মেয়াদপূর্তির পরও লাইসেন্স নবায়ন না করায় মঙ্গলবার রিজেন্ট হাসপাতাল বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; অথচ এই হাসপাতালটি সরকারই করোনাভাইরাসের রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট করেছিল।
তার আগের দিন উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়মের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছিল র‌্যাব। তখন সাহেদ অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

সোমবার অভিযানের সময় রিজেন্ট থেকে আট কর্মচারীকে ধরে এনেছিল র‌্যাব। মঙ্গলবার করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মনিরুজ্জামান নামে (২৩) হাসপাতালের এক কর্মচারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলম।

র‌্যাব বিকালে হাসপাতালটি এবং পরে সন্ধ্যায় উত্তরার তাদের প্রধান অফিসটি সিলগালা করে দেয়।

প্রতারক এই সাহেদকে নিয়ে প্রথম আলো যা লিখলোঃ এই সাহেদ করিম আদতে একজন প্রতারক। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের যে পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তাঁকে প্রভাবশালী বলেই মনে হয়। ফেসবুকে নিজের পরিচয় দিয়েছেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য; ন্যাশনাল প্যারা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট; রিজেন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেড, কর্মমুখী কর্মসংস্থান সোসাইটি, রিজেন্ট হসপিটাল লিমিটেড ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান। সেন্টার ফর পলিটিক্যাল রিসার্চ নামে একটি প্রতিষ্ঠানেরও চেয়ারম্যান তিনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপকমিটির সাধারণ সম্পাদক শাম্মী আহমেদ বলেছেন, সাহেদ করিম কমিটির সদস্য নন। তিনি মাঝে মাঝে বৈঠকে আসতেন। আগে কোনো একসময় সদস্য ছিলেন।

ছবি আছে সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও সাংসদদের সঙ্গে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষস্থানে থাকা লোকজনের সঙ্গেও ছবি আছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারওয়ার বিন কাশেম বলেছেন, দুষ্টু লোকেরা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে প্রভাবশালী লোকজনের সঙ্গে ছবি তোলেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র প্রথম আলোকে বলেছে, বছর তিন-চারেক আগে তিনি নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কক্ষে ঘোরাঘুরি করতেন। তবে ঘন ঘন টকশোতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি নিজের প্রভাব বাড়িয়েছেন। নতুন কাগজ নামের একটি পত্রিকার সম্পাদক হয়েছেন সম্প্রতি। নিজেকে উত্তরা মিডিয়া ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও পরিচয় দিয়ে থাকেন।

সাহেদ করিমের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায়। ওখানে তাঁদের করিম সুপার মার্কেট নামের একটি বিপণিবিতান ছিল। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। তবে মাঝে মাঝে সাতক্ষীরায় যেতেন। তাঁর মা সাফিয়া করিম ২০০৬-০৭ সালের দিকে স্থানীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্থানীয় লোকজন জানান, নানা পরিচয়ে তিনি লোকজনের টাকা মেরেছেন।

২০০৯ সালে প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ ও র‌্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। ওই মামলার কাগজপত্রে দেখা যায়, খুলনার একটি টেক্সটাইল মিলের জন্য দুই টনের ১০টি ও দেড় টনের ১৫টি এসি সরবরাহের কার্যাদেশ পেয়েছিল সাহেদ করিমের প্রতিষ্ঠান। জিনিসপত্র নিয়ে ১৯ লাখ টাকার চেক দিয়েছিলেন রাইজিং শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি এবং রাইজিং রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম। অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। এ ঘটনায় মামলা করে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওমর আলী ওই সময় প্রথম আলোকে বলেছিলেন, সাহেদ একজন পেশাদার প্রতারক। শাহবাগ, লালবাগ, আদাবর, তেজগাঁওসহ বিভিন্ন থানায় তাঁর নামে প্রতারণার মামলা আছে।

সূত্রগুলো জানায়, ২০১১ সালে তিনি ধানমন্ডিতে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বহুধাপ বিপণন (এমএলএম) ব্যবসা শুরু করেছিলেন। পরে টাকা নিয়ে চম্পট দেন। ওই সময় প্রতারণার শিকার লোকজন তাঁকে খুঁজতে শুরু করলে তিনি ভারতে পালিয়ে যান। তাঁর প্রতিবেশীরা জানান, কয়েক বছর তিনি বারাসাতে ছিলেন সপরিবার। পরে মামলাগুলোয় জামিন পেলে দেশে ফিরে এসে ব্যবসা শুরু করেন।

একে একে এই সাহেদ করিম রিজেন্ট হসপিটাল লিমিটেড (মিরপুর), রিজেন্ট হসপিটাল লিমিটেড (উত্তরা), ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ, রিজেন্ট ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, হোটেল মিলিনা গড়ে তোলেন। তবে স্বভাব বদলাতে পারেননি বলে অভিযোগ ফেনীর জুলফিকার আলী ভুট্টোর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সাহেদ করিমের মালিকানাধীন রিজেন্ট কেসিএস পূর্বাচল প্রজেক্টে বালু সরবরাহের কাজ পেয়েছিল তাঁর প্রতিষ্ঠান রুসাফা কনস্ট্রাকশন। সিলেট থেকে বালু সরবরাহের পর সাহেদ করিম তাঁর পাওনা ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫৯ টাকা দেননি। উল্টো একদিন অফিসে ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসীদের দিয়ে পেটানো হয়। তারপর ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে সই নিয়ে মেরে গুম করে ফেলার হুমকি দেন। গত বছরের ৩১ অক্টোবর এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুট্টো।

নমুনা নিয়ে ভুয়া রিপোর্ট। এমন হাসপাতালকে কোভিড চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন।

বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে যে সাহেদ করিম কখনো মেজর, কখনো সচিব, আবার ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস হিসেবেও নিজের পরিচয় দিয়েছেন। মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ থেকে ছয় কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার নথিতে নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হিসেবে জাহির করেন। এ বিষয়ে আদালতে দুটি মামলা চলছে। সাহেদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় দুটি, বরিশালে একটি, উত্তরা থানায় আটটি মামলাসহ রাজধানীতে ৩২টি মামলা রয়েছে। তবে মামলাগুলোর বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি। অপরাধের পরিসংখ্যান লিপিবদ্ধ থাকে যে বিভাগে, সেটির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সাহেদের নামে কোনো মামলার রেকর্ড নেই। অন্য নামে থাকতে পারে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে রিজেন্ট গ্রুপের ওয়েবসাইটে নিজেদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগী হিসেবে জানান দিয়েছিল রিজেন্ট হাসপাতাল। কেউ অসুস্থ হলেই হটলাইনে ফোন করার কথা সেখানে বলা আছে। কিন্তু সোমবার রাতে সাহেদ করিম প্রথম আলোকে বলেন, বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি তিনি দেননি।

গতকাল ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি প্রথম আলোকে জানান, তিনি সাত দিন রিজেন্ট হাসপাতালে ছিলেন। দুই দিন অক্সিজেন লেগেছিল। পরিশোধ করতে হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নমুনা পরীক্ষার নামে খরচ পড়েছে ৩০ হাজার টাকা। অধিদপ্তরের ঘোষণা শুনে তিনি ওই হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু এত টাকা দিতে হবে তিনি কল্পনাও করেননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবই জানতঃ
জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক বায়েজীদ খুরশিদ রিয়াজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে গত ৭ জুন চিঠি দিয়েছিলেন রিজেন্টের অপকর্ম নিয়ে। এতে বলা হয়, রিজেন্ট হাসপাতাল নমুনা পরীক্ষার জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা করে আদায় করছে। অথচ সরকার বিনা মূল্যে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করে দিচ্ছে। নিপসম থেকে পরীক্ষার ফলাফল জানানোর জন্য যে এসএমএস প্রত্যেক নমুনা প্রদানকারীকে পাঠানো হচ্ছে, তাতেও বিনা মূল্যে এই সেবা দেওয়ার বার্তা থাকছে।

ওই চিঠির পরও অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা রিজেন্ট থেকে দিনে ৫০টি নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে জানতে নাসিমা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের দাবি, শুরুতে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল কোভিড রোগীর চিকিৎসা দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছিল না। তাই তাঁরা সরল বিশ্বাসে রিজেন্টকে দায়িত্ব দেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোনো খোঁজখবর না নিয়ে, এই হাসপাতালের দক্ষতা যাচাই না করে কীভাবে কোভিড চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ দিল, তা জানতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি। তবে সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন যে ওই হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, এমন একটি হাসপাতালকে চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয় নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। ক্ষমতাবানেরা এর পেছনে থাকতে পারেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সেস (বিআইএইচএস) সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল। চিঠিও দিয়েছিল। টাকাপয়সাও চাওয়া হয়নি। তারপরও বিআইএইচএসকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। রশিদ-ই-মাহবুবের ধারণা, এমন পর্যায় থেকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে, যেটা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের নেই। 

অধস্তন আদালতের ৪৪ বিচারক ১৬৭ জন কর্মচারী করোনা আক্রান্ত, এক বিচারকসহ মারা গেছেন ৩ জন

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত
করোনা মনিটরিং ডেস্ক এর ৬ জুলাই রাত পৌনে দশটা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অধস্তন আদালতের মোট ২১১ জন বিচারক ও কর্মচারী করোনা ভাইরাস জনিত রোগ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৪ জন বিচারক এবং ১৬৭ জন কর্মচারী। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছে।
আক্রান্ত বিচারকদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২০ জন, লালমণিরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফেরদৌস আহমেদ মৃত্যুবরণ করেছেন, মাগুরার জেলা ও দায়রা জজ মো. কামরুল হাসান হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং অন্যরা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন । আক্রান্ত কর্মচারীদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, এমপি আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত মনিটরিং ডেস্ক এর রিপোর্ট প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আক্রান্তদের খোঁজ-খবর রাখছেন । এজন্য আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার প্রতিদিনের রিপোর্ট রাত ১০ টার মধ্যে আইনমন্ত্রীকে অবহিত করছেন এবং মন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

ঋণ খেলাপির দায়ে ওয়ান ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে সাঈদ হোসেন চৌধুরীকে অপসারণ

0

ঋণ খেলাপি হওয়ায় এইচআরসি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরীকে ওয়ান ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
“তিনি আগামী তিন বছর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বসতে পারবেন না।”

সাঈদ হোসেন চৌধুরীকে অপসারণ সংক্রান্ত চিঠি রোববারই ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, সাঈদ হোসেন চৌধুরীর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে খেলাপি ঋণ থাকায় ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী তার ওয়ান ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান থাকার কোনো সুযোগ নেই।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সাঈদ হোসেন চৌধুরী তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়েছিলেন। নিয়মিত পরিশোধ না করায় পরে তা খেলাপি হয়ে যায়। এখন ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী একজন খেলাপি কোনো ব্যাংকের পরিচালক থাকতে পারেন না। আর পরিচালক না হলে চেয়ারম্যান হওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।”

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর ভাই সাঈদ হোসেন চৌধুরী এইচআরসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তাদের বাবা হেদায়েত হোসেন চৌধুরী ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা।

এইচআরসি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এইচআরসি শিপিং লাইনসের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন সাঈদ হোসেন । গত বছরের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এইচআরসি শিপিং লাইনসের কাছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সুদসহ মোট পাওনা দাঁড়ায় ১২১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

সেই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের খেলাপির তালিকায় তার নাম আসে। পাওনা আদায়ে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ৩১ দশমিক ৮০ ডেসিমেল জমির ওপর সাঈদ হোসেন চৌধুরীর মালিকানাধীন আরেক প্রতিষ্ঠান আরাকান এক্সপ্রেস লিমিটেডের বাণিজ্যিক শেড ও স্থাপনা নিলামে বিক্রির প্রস্তুতি নেয় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা। ঋণ নেওয়ার সময় ওই সম্পত্তি বিন্ধক রেখেছিল এইচআরসি গ্রুপ।

পারিবারিকভাবেই শিপিং লাইনস হানজিন ও পিআইএলসহ বেশ কয়েকটি শিপিং লাইনসের ব্যবসা ছিল সাঈদ হোসেন চৌধুরীর। সে সুবাদে নিজেও এইচআরসি শিপিং লাইনস নামে ওই কোম্পানি গড়ে তোলেন তিনি। এক সময় পণ্য আনা-নেওয়ায় আটটি জাহাজ ছিল এ কোম্পানির বহরে।

তবে বর্তমানে ওই কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম নেই। বারিধি শিপিং লাইনস লিমিটেড, এভারগ্রিন, বাংলাদেশ ল্যান্ড লিমিটেড, এইচআরসি সিন্ডিকেট, এইচআরসি ট্র্যাভেলস, এইচআরসি লাইটিং, এইচআরসি প্রপার্টিজ, এইচআরসি মিডিয়া, আরাকান এক্সপ্রেস লিমিটেডসহ মোট ২০টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় আছেন সাঈদ হোসেন চৌধুরী।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল আদালত কার্যকর থাকবে নাঃ আইনমন্ত্রী

0

শুধু বিশেষ পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল আদালত: আইনমন্ত্রী

মহামারীর মধ্যে সামাজিক দূরত্বের বিধি রক্ষায় ভার্চুয়াল আদালত চালুতে জারি করা অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হলেও তা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হবে না বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন।

রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবন মিলনায়তনে রোববার সহকারী জজদের অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

ভার্চুয়াল আদালত সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য বিচারকদের পাশাপাশি আইনজীবীদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর পৃথিবীতে ভার্চুয়াল কোর্ট প্রথা চালু হবে এটাই স্বাভাবিক।

“কিন্তু এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভার্চুয়াল কোর্ট স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলে বিকল্প হিসেবে কাজ করার জন্য নয়।

“সংবিধান, সিআরপিসি, সিপিসি এবং সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী আদালতের কাজ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যে প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হয় সেটাই বলবৎ থাকবে।”

কোন কোন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ভার্চুয়াল আদালত চলবে সে বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “শুধু অস্বাভাবিক বা বিশেষ কোনো পরিস্থিতির জন্য ভার্চুয়াল কোর্ট প্রথা অবলম্বন করা হবে। ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কিত অধ্যাদেশটি স্থায়ী আইনে পরিণত হলেও সেটার ব্যবহার হবে বিশেষ পরিস্থিতিতে।”

কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ তৈরি করতে একটি অধ্যাদেশের খসড়ায় গত ৭ মে অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

সরকার গত ৯ মে সেই অধ্যাদেশ জারি করে। এরপর গত ১১ মে থেকে সীমিত পরিসরে ডিজিটালি বিচারকার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালরে তথ্যানুযায়ী, ১১ মে থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ৩৫ কার্যদিবসে সারা দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকরা ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে ৯৫ হাজার ৫২৩টি জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন। এই সময় ৪৯ হাজার ৭৬২ জন আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি সেবার সঙ্গে বিচারক ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সমানতালে এগিয়ে নিতে চায়।

“সরকারি আইনি সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায় যেখানে সকল মানুষ তার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় সেবাগুলো সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন।”

গত ১ জানুয়ারি সহকারী জজ ও জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেটদের চারমাস মেয়াদি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু করা হয়। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ২৩ মার্চ সেই কোর্সটি স্থগিত করা হয়।

এখন সেই কোর্স অনলাইনের মাধ্যমে শেষ করা হবে, রোববার যার উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার বক্তব্য দেন।

।।মেধার মূল্যায়ণ হউক।।

0

শংকর মৈত্রঃ অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, ফাইজার, গ্লাসগোতে যারা গবেষণা করেন তারাও মানুষ, আমাদের আসিফ মাহমুদ, বিজন শীলরাও মানুষ। অক্সফোর্ডের গবেষকদের গবেষণার সুযোগ সুবিধা অনেক অনেক অনেক বেশী। আনলিমিটেড টাকা তারা খরচ করতে পারে, হয়তো বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি তাদের পেছনে বিনিয়োগ করে। কিন্তু আমাদের আসিফ মাহমুদ, বিজন শীল, সমীর সাহা,সেজুঁতি সাহাদের গবেষণার এতো সুযোগ নেই। মাস শেষ নির্ধারিত বেতনের চাকরি তারা করেন। গবেষণার জন্য চাইলেই তারা কোটি কোটি টাকা ঢালতে পারেন না। কিন্তু তাদের মেধা কী কম? একমাত্র টাকা খরচের সুযোগ ছাড়া মেধাবী মূল্যায়ণে কম কিসে তারা? এই করোনার জিন রহস্যতো ড. সমীর সাহা আর তার কন্যা ড. সেজুঁতি সাহাই আবিস্কার করেছেন। এটা আমাদের সফলতা নয়? গণস্বাস্থ্যের করোনার কিট ড. বিজন শিল আবিস্কার করেছেন। শতভাগ কাজে না লাগলেও কিছুটাতো হচ্ছে। প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে,সুযোগ দিলে আরো ভালো করবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
ড. আসিফ মাহমুদ করোনার ভ্যাক্সিন আবিস্কারের পথে। সকল পরীক্ষা নিরিক্ষার পর এটার সফলতা দাবি করা হবে। এখনও সে প্রক্রিয়ার পথে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আসিফ মাহমুদ সফল হবেন। তার শিক্ষা মেধা কোনো অংশেই কম নেই। তার সৃষ্টিশীল চিন্তার কোনো কমতি নেই। নানা টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে তাদের গবেষণা করতে হচ্ছে। হয়তো তার যন্ত্রপাতিসহ নানাকিছুতে দরকার ১০ কোটি টাকা কিন্তু তাকে দেয়া হয়েছে ২ কোটি। খেয়ে না খেয়ে শুধু সৃষ্টিশীলতার তাগিতে, দেশপ্রেমের তাগিদে আসিফ মাহমুদ, বিজন শীলরা গবেষণা করে যাচ্ছেন। আমি নির্দ্বিধায় বলবো রাষ্ট্র বা কেউ তাদের শতকোটি টাকার ফান্ড দিক, সব সুযোগ সুবিধার যোগান দিক দেখেন আমাদের এই মেধাবিরা কি সৃষ্টি করে।
স্বজাতির প্রতি এতো আস্থাহীনতা, হিংসা এই বাঙালী ছাড়া আর কোনো জাতির মধ্যে নেই। বাঙালী আসলেই একটা নৃ-তাত্বিকভাবে পরিচয়হীন জাতি। উষ্ঠা লাথি খাউরা জাতি। সাদা চামড়া দেখলেই কদমবুসি শুরু করে। নিজের প্রতি এতো অবিশ্বাসী, ভাবতেই অবাক লাগে। পারে শুধু ধর্ম নিয়ে, গোষ্ঠী নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে। সব অনুভূতি গিয়ে ঠেকে ধর্মতে।
অথচ এরা নিজেদের পূর্বসূরিদের কথা মনে রাখে না। এরা এফ আর খানকে ভুলে যায়। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচুতম ভবন যিনি তৈরী করেছিলেন। ১৯৭০ সালে আমেরিকার শিকাগোর সিয়ার্স টাওয়ার বানিয়েছিলেন যা ছিল ১১০ তলা। এর আগে কেউ এটা ভাবতেই পারে নি। এফ আর খানকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলী বলা হয়। এই এফ আর খান কিন্তু আরমানিটোলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন, বুয়েটে পড়েছেন এবং শুনেছি ভালো রেজাল্ট করেও বুয়েটের শিক্ষক হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয়া হয় নি। আর সেই আরমানিটোলার এফ আর খান আমেরিকায় গিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভবন বানিয়েছেন। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও আমেরিকা থেকে বীরের ভূমিকা পালন করেন এফ আর খান। পৃথিবীর তাবত প্রকৌশলীরা তাকে কুর্নিস করেন।
রেডিও বা বেতারযন্ত্র আবিস্কার করেন এই বিক্রমপুরের সন্তান জগদীশ চন্দ্র বসু। প্যাটেন্ট করতে না পারায় কৃতিত্ব নেন মার্কনি। উদ্ভিদের প্রাণ আছে এটাওতো প্রমাণ করেছিলেন এই বাঙালী জগদীশ বসু।
যার নামে একটা পরমানুর কণার নাম, সেই বোসকণার আবিস্কারক সত্যেন্দ্রনাথ বোসকে কজন চেনে? যাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়ার জন্য আইনস্টাইন সুপারিশ করেছিলেন। সেই সত্যেন বোসও তো বাঙালী। এমন আরো অনেককে খুঁজে পাওয়া যাবে।
এদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানতে দেয়া হচ্ছে না। চেতনা চেতনা করে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।
দেশে অনেক মেধাবী রয়েছেন যারা সুযোগের অভাবে অন্তর্জ্বালায় মরছেন। আর বিদেশে যারা চলে গেছেন তারা তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখে হঠাৎ উদ্ভাসিত হচ্ছেন। এইতো আজকেই দেখলাম ইংল্যান্ডে বর্ষসেরা চিকিৎসক হয়েছেন ফারজানা হুসেইন নামে একজন বাংলাদেশী বংশদ্ভূত। ইংল্যান্ডের মিডিয়ায় খবরের শিরোনাম হয়েছেন ফারজানা।
এই মুহুর্তে অক্সফোর্ডে করোনা ভ্যাকসিন গবেষণা টিমে আমাদের দেশের আরেকজন মেয়ে রয়েছেন। যদি অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন আবিস্কার হয় তা হলে দেইখেন এই বাঙালী মেয়ের নাম ডাক।
কাজেই নোয়াখালীর গ্লোব কোম্পানির বিজ্ঞানী আসিফ মাহমুদের করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের খবরে যারা হাসি তামশা করছেন, ট্রল করছেন, তাদের বলবো আপনারা মুর্খতার পরিচয় দিচ্ছেন। মানুষের মেধা ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে আপনাদের ধারণা নেই। সাদা চামড়ার পদলেহন ছাড়েন। ধর্মের সংকীর্ণতা ছাড়েন। স্বজাতির সন্তানদের মেধার মূল্যায়ণ করেন। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখেন। যার নিজের প্রতি আস্থা নেই সেই নাস্তিক। ##

সাংবাদিক ফারুক কাজী আর নেই

0

বিশিষ্ট সাংবাদিক ফারুক কাজী আর নেই। শুক্রবার সকালে ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
ফারুক কাজীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকার্তায় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
সাংবাদিক ফারুক কাজীর মৃত্যুতে প্রধানবিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি ফারুক কাজী দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন একসময়।
দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলার বাণী, বাসস, ইউএনবি, অবজারভারসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন ফারুক কাজী। তিনি স্ত্রী ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন।