স্বাস্থ্যখাতে ঠিকাদার সিন্ডিকেটের গডফাদার হিসেবে পরিচিত মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে শেষ পর্যন্ত তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন,দুদক।
মাস্ক ও পিপিইসহ নিম্ন মানের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সরঞ্জম সরবরাহে দুর্নীতির ঘটনায় মিঠু ছাড়াও আরো ৪ জনকে তলব করা হয়েছে। এরা হলেন- জেএমআইয়ের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক ও তমা কনস্ট্রাকশনের সমন্বয়কারী (মেডিক্যাল টিম) মো. মতিউর রহমান, এলান করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন, মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেডের পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির। মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান ও লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাট লিমিটেডের মালিক।
বুধবার কমিশনের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর স্বাক্ষরিত এক নোটিসে তাদের তলব করা হয় বলে দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
এদের মধ্যে রাজ্জাক, মতিউর ও আমিনুলকে ৮ জুলাই এবং হুমায়ুন ও মোতাজ্জেরুলকে ৯ জুলাই সংশ্লিষ্ট নথিপত্রসহ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত গত ২০ বছর ধরে স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটায় মিঠুর নেতৃত্বে বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে ওঠেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরের দুর্নীতিগ্রস্ত একটি চক্রের যোগসাজশে এই সিন্ডিকেটের ঠিকাদাররা একচেটিয়া কেনাকাটার দায়িত্ব পেয়েছে। আর এই সিন্ডিকেটের লুট করেছে শত শত কোটি টাকা।
মিঠুর প্রভাবে কেউই তার টিকিটি ছুঁতে পারে নি। সব সরকারের আমলেই প্রভাবশালীদের সঙ্গে লিয়াজো করে চলেছে। এমন কি দুদকেও তার সিন্ডিকেটের লোক রয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে।
তবে নানামুখি চাপে এবার দুদক আটঘাট বেধেই মাঠে নেমেছে। দুদক পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলি পুরো বিষয়টা তদারকি করছেন বলে জানা গেছে।
দুদকের নোটিসে বলা হয়, “স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার নিমিত্তে নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে অন্যান্যদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎপূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বর্ণিত অভিযোগ বিষয়ে তাদের বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।”
তারা নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হলে ওই অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই বলে গণ্য হবে উল্লেখ করা হয়েছে নোটিসে।
করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিইসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ১৫ জুন দুদক কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন শিবলীকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে সংস্থাটি।
স্বাস্থ্যের কেনাকাটায় দুর্নীতিঃ গডফাদার মিঠুসহ ৫ জনকে শেষ পর্যন্ত তলব করেছে দুদক, রয়েছেন জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যানও
চীন নিয়ে কিছু কথা
শংকর মৈত্র।। ১৯৪৯ সালের আগ পর্যন্ত চীন ছিল একটা দুর্নীতিগ্রস্ত, দরিদ্র রাষ্ট্র। গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত একটি দেশ। ১লা অক্টোবরের বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে মাও সে তুং এর নেতৃত্বে চীনে কমিউনিস্ট শাসন কায়েম হয়। এর পর থেকে চীন শুধু এগিয়েই যাচ্ছে।
৭০ বছরে চীন এখন সারা পৃথিবীর জন্য চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতি সামরিক সব শক্তিতেই বলিয়ান। চীন এখন একক পরাশক্তি।
এটা সম্ভব হয়েছে চীনের দেশপ্রেমিক শাসকদের কঠোর একনায়কতন্ত্রের কারণে। কমিউনিস্ট শাসক মাও সে তুং কার্ল মার্ক্স, লেনিনের সমাজতন্ত্র কায়েম করেছেন ঠিকই, কিন্তু সেটা চীনা সংস্করনে। চীনের কনফুসীয় ঐতিহ্যকে তিনি বাদ দেননি। কারো অন্ধ অনুকরণ করেন নি। সোভিয়েতের তো নয়ই ( আমাদের এখানে কমিউনিস্টরা ফেল হয়েছে মূলত মস্কোতে বৃষ্টি হলে ঢাকায় ছাতা ধরার কারণে)।
মাও সে তুং বুঝেছিলেন, চীনে আগে দরকার কৃষি বিপ্লব, এর পর শিল্প। যার ফলে তিনি শহরের চেয়ে গ্রামের উন্নয়নে জোর দেন। গ্রামকে, গ্রামের মানুষকে, কৃষককে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলেন। কৃষকের প্রতি ইঞ্চি জায়গা কাজে লাগানো হয়, ফসল ফলানো হয়। কৃষকের অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের নিশ্চয়তা দেয়া হয়। ফলে মাত্র কয়েক বছরেই চীনে কৃষি বিপ্লব হয়, খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়। চীনে গড়ে ওঠে বিপ্লবী জাতীয়তাবাদ। মাও সে তুং বুঝেছিলেন, প্রলেতারিয়েতের মধ্যে স্বঃতস্ফূর্তভাবে কোনো রাজনৈতিক চেতনা বিকাশ লাভ করে না। তাই তিনি এ শ্রেণিকে রাজনীতিতে আনেন নি। আগে উন্নয়ন। কৃষি বিপ্লবের পর হাত দেয়া হয় শিল্প বিপ্লবে এবং সেটাতেও সফল চীন। ছোট বড় সব শিল্পই এখন চীনের। সূই থেকে কামান সব বানাতে পারে চীন। ১৯৭৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মাও সে তুং ছিলেন চীনের অবিসংবাদিত নেতা। তিনি চীনের শুধু ভিত ই গড়ে যান নি, চীনকে পরাশক্তিতে পরিণত করে গেছেন।
চীন নিয়ে আমার এতোকিছু বলার কারণ করোনাভাইরাসের কারণে চীন যেমন এ বছর আলোচনায় এসেছে তেমনি সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে লাদাখ সীমান্ত নিয়ে বিরোধের পর পৃথিবীর অক্ষশক্তিগুলো চীনের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবীকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে চীন।
কারণ কি? কোন শক্তিতে চীন বলিয়ান? তত্ব-তালাশ করে দেখলাম চীন আসলে কারো ধার ধারে না। সে নিজের শক্তির উপর নির্ভর। চীনে চীনা স্টাইলে সমাজতন্ত্র বিরাজমান। সেখানে গণতন্ত্র নেই, নির্বাচন নেই, বিরোধী দলীয় রাজনীতি নেই, বাক স্বাধীনতা নেই, ধর্মপালনের স্বাধীনতা নেই, বিয়ে করার স্বাধীনতা নেই, সন্তান জন্ম দেয়ার স্বাধীনতা নেই, প্রেম ভালোবাসার স্বাধীনতা পর্যন্ত নেই। অর্থাৎ শুধু নেই নেই আর নেই। আসলে রাষ্ট্রপরিচালনায় চীনের মানুষের কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই। কোনো অধিকার নেই। যা করার সবকিছু করবে কমিউনিস্ট শাসকরা। সরকারের কোনো নীতির বিরোধিতা করলে সোজা ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যু।
কিন্তু এই একনায়কতন্ত্রের মধ্যেই চীন শুধু আগাচ্ছেই। জনগণও তা মেনে নিয়েছে। অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য বিস্তারের পাশাপাশি এখন ভৌগলিক সাম্রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করছে।
এই আগানোর জন্য দেশটির জনগণই উৎপাদনের মূল ভূমিকা রাখছে। জনগণকে শেখানো হয়েছে দেশটি তাদের সবার। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের নয়, বর্ণের নয়। তারা জানে অন্যায় করলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে। ধর্ম নিয়ে তারা ভাবেই না। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে কঠোর শাস্তি। আরেকজনকে ল্যাং মেরে টেনে নামানোর চেষ্টা করে না। নিজেদের ভাষায় পড়াশোনা করে নিজেরাই প্রযুক্তি দিয়ে আগাচ্ছে।
আমাদের মতো এতো ধর্মানুভূতি তাদের নেই, ইংরেজী না জানলে শিক্ষিত না, এমন মানসিকতা তাদের নেই।
আমরা এখন চীনের দিকে ঝুঁকছি। ভালো কথা। কিন্তু চীনের মানুষের মানসিকতা কি আমরা পোষণ করি? সুযোগ পেলেই আমরা চুরি করি, ধর্মানুভূতির নামের আরেকজনের ওপর নির্যাতন করি, ধর্মের জন্য পাগল হয়ে যাই, কাজে ফাঁকি দিই।
এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে চীনকে অনুসরণ করতে পারলেই চীনের মতো আগাতে পারবো। না হয়, চীনের সাহায্য প্রার্থী হয়েই আমাদের থাকতে হবে। পঞ্চাশ বছর ধরে শুধু বলয়ই পরিবর্তন হচ্ছে। কখনো আমেরিকা,কখনো রাশিয়া,কখনো ভারত কখনো পাকিস্তান। লাভটা কী ? নিজেদের বৈশিষ্ট কোথায়? কিছু পাবলিক অযথাই নাচে।
আগে পশ্চিমাদের সাহায্য বেশী আসতো এখন আসবে চীনের। তবে পশ্চিমা- আর চীনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। চীন সমাজতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদি শক্তি। সে ঋণের জ্বালে আমাদের আবদ্ধ করে ফেলছে। এই ঋণ যদি সঠিক কাজে লাগানো না যায় তা হলে সুদে-আসলে আদায় করে নেবে চীন। ##
বাংলাদেশে এলপিজি ব্যবসার জন্য ভারতের আইওসি মিডল ইস্ট এফজেডই এবং আরআর হোল্ডিংস লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর
ভারতের বৃহত্তম রিফাইনার এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের মালিকানাধীন দুবাইভিত্তিক সহায়ক সংস্থা আইওসি মিডল ইস্ট এফজেডই এবং বাংলাদেশের বেক্সিমকো এলপিজির নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রস আল খাইমাহভিত্তিক আরএআর হোল্ডিংস লিমিটেড বাংলাদেশে এলপিজি ব্যবসার জন্য একটি ৫০:৫০ মালিকানার যৌথ উদ্যোগ সংস্থা গঠনের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মঙ্গলবার ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারত সরকারের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস ও ইস্পাত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, “ইন্দো-বাংলাদেশ সহযোগিতার ইতিহাসে আজকের আর একটি বড় উপলক্ষ হল দুবাইভিত্তিক ইন্ডিয়ান অয়েলের একটি সংস্থা বাংলাদেশের এলপিজি ব্যবসার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের তাদের হোল্ডিং সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এলপিজি সংস্থার সাথে যোগ দিচ্ছে।“ এলপিজির ব্যাপক ব্যবহারে ভারতের সাফল্যের মতোই এই নতুন যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যের এলপিজির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের সহায়ক হবে বলে মন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা জনাব সালমান ফজলুর রহমান এমপি বলেন “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ সম্ভাবনা সৃষ্টির প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে এই যৌথ সংস্থা। যখন গোটা বিশ্ব COVID 19 মহামারীর মারাত্মক অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, এমন সময়ে এই বিনিয়োগ বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যকার স্থিতিশীল এবং স্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন ঘটায়।“
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব নসরুল হামিদ এমপি, বলেন “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার ভিশন ২০৪১ অনুসারে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উন্নত দেশের স্বীকৃতি পেতে জ্বালানি চাহিদা পূরণে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে। বেক্সিমকো এলপিজি এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের এই যৌথ উদ্যোগ আমাদের লক্ষ্য এবং অগ্রাধিকারগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।“ তিনি আরও বলেন “বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবার কারণে কয়েক বছর ধরে এলপিজি খাত উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে এবং আগামীতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। এজন্যে দুইটি অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার মধ্যে এধরনের অংশীদারিত্ব এবং বিনিয়োগ এই শিল্পে সত্যিকারের পরিবর্তন নিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে ।”
ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সঞ্জীব সিং বলেন, ইন্ডিয়ান অয়েল ১৯৯৯ সালে লুব্রিক্যান্ট বিপণন দিয়ে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছিল এবং আজ বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী অংশীদারের সাথে হাত মেলাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশের এলপিজি বাজার গত পাঁচ বছরে পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রত্যাশা করা হচ্ছে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৩ শতাংশ বাড়বে। নতুন যৌথ সংস্থা (জেভিসি) ইন্ডিয়ান অয়েলের মূল দক্ষতা এবং বেক্সিমকোর স্থানীয় দক্ষতা থেকে শক্তি অর্জন করবে। ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুসারে, সংস্থাটি বেক্সিমকোর বিদ্যমান এলপিজি সম্পদ গ্রহণের মাধ্যমে কাজ শুরু করবে। তিনি আরো বলেন, “আমাদের ইচ্ছা বাংলাদেশের গভীর নৌবন্দরে একটি বড় এলপিজি টার্মিনাল স্থাপন করা, যা খুব বড় গ্যাস ক্যারিয়ারের মাধ্যমে এলপিজি আনতে সহায়ক হবে এবং এতে করে আমদানি ব্যয় হ্রাস হবে। আমদানি ব্যয় হ্রাস বাংলাদেশের জনগণকে সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি সরবরাহ করতে সহায়তা করবে।“
এই যৌথ সংস্থার লক্ষ্য সবচেয়ে নিরাপদ, সহজতর এবং আধুনিক এলপিজিসুবিধা সম্বলিত গ্রাহক পরিষেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের সর্বাধিক বিশ্বস্ত, প্রশংসিত এবং প্রধানতম এলপিজি সংস্থা হয়ে ওঠা। যৌথ সংস্থা অন্যান্য আমদানিকৃত তেল ও গ্যাস ব্যবসাগুলি- লুব ব্লেন্ডিং প্ল্যান্ট, এলএনজি, পেট্রোকেমিক্যালস, পাইপলাইনের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতে এলপিজি রপ্তানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ইত্যাদিতেও বৈচিত্র্য আনতে চায়।
ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি এখানে সম্প্রচারিত হয়। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলি দাশ উপস্থিত ছিলেন।
নাগাল পেলেই ট্রাম্পকে গ্রেপ্তার করবে ইরান, পরোয়ানা জারি, সাহায্য চেয়েছে ইন্টারপোলের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাগে পেলেই গ্রেপ্তার করে ফেলবে ইরান। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এমন প্রস্তুতিই রাখছে ইরান। ট্রাম্পের নাগাল পেতে ইন্টারপোলের সাহায্যও চেয়েছে তেহরান। খবর আন্তর্জাতিক মিডিয়ার।
জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানি সেনা কমান্ডার কাশেম সোলেইমানিকে ড্রোন হামলায় হত্যা করার দায়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওই পরোয়ানা জারি হয়েছে। শুধু ট্রাম্প নন, সেই সঙ্গে আরও ৩০ জনকে এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত করেছে ইরান। তাদেরও আটক করতে ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। সোমবার তেহরানের প্রসিকিউটার আলি আলকাসিমের জানান, জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অতএব, তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। ট্রাম্পকে আটক করতে তাঁরা উঠেপড়ে লাগবেন বলেই জানিয়েছেন আলি।
ইতিমধ্যেই ইন্টারপোলকে ‘রেড নোটিস’ জারির অনুরোধ জানিয়েছে ইরান। ইন্টারপোলের সদর দপ্তরে এ বিষয়ে একটি গোপন বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়েছে। যদিও ওই আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থার তরফে কোনও উত্তর এখনও আসেনি।
শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ সরকার
তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থা প্রধানদের মধ্য থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার।
শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা অনুযায়ী প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়ে অফিস আদেশ জারি করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তার সঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন-১) মোহাম্মদ গোলাম আজম এবং অফিস সহায়ক মো. আব্দুল আলীম চলতি অর্থবছরের শুদ্ধাচার পুরস্কার পাচ্ছেন বলে সোমবার এক সরকারি তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৭ জুন থেকে প্রধান তথ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সুরথ কুমার বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৮৪ সালের বিসিএস ব্যাচের তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা সুরথ কুমার জাতীয় সংসদ সচিবালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ড, তথ্য অধিদপ্তর এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ সালে সরকার জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করে, যার মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
এর ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেতৃত্বে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্ম-পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিবীক্ষণ কাঠামো প্রণয়ন করছে।
২০১৭ সালে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা প্রণয়ন করার পর শুদ্ধাচার পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
আগুনে পুড়ে ৫ রোগীর মৃত্যুঃ ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে ইউনাইটেড হাসপাতালকে সমঝোতায় আসতে বলেছে হাইকোর্ট
রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুন লেগে পাঁচ রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে ‘সমঝোতায়’ আসতে বলেছে হাই কোর্ট। খবর বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
এ সংক্রান্ত তিনটি রিট আবেদন একসঙ্গে শুনে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।
আগামী ১৩ জুলাই বিষয়টি পরবর্তী আদেশের জন্য রেখে তার আগেই ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে সমঝোতা সেরে ফেলতে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে করা মামলাটির তদন্তও দ্রুত শেষ করতে বলেছে আদালত।
আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক, হাসান এম এস আজিম ও মুনতাসির আহমেদ।
ইউনাইটেড হাসপাতালের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমান খান ও তানজীব উল আলম।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকের পক্ষ থেকে আদালতে যে তিনটা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, তাতে ইউনাইটেড হাসপতালের ‘অবহেলা’ স্পষ্ট।
“তাই ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে দুই পক্ষকে, মানে যারা মারা গেছে তাদের পরিবার এবং ইউনাইটেড হাসপাতালকে সমঝোতায় আসতে বলেছে আদালত। না হলে ১৩ জুলাই আদালত আদেশ দেবে।”
ইউনাইটেড হাসপাতালের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ইউনাইটেড হাসপাতালকে ওই ঘটনার প্রতিবেদন দিতে বলেছিল আদালত। সে অনুযায়ী চারটি প্রতিবেদনই জমা পড়েছে।
“আজকে সেগুলো উপস্থাপন করা হয়। পুলিশ ও রাজউকের প্রতিবেদন নিয়ে আবেদনকারীদের আইনজীবীরা বলেছেন, আইসোলেশন ইউনিটের জন্য বাড়তি যে স্ট্রাকচার করা হয়, সেটার কোনো অনুমোদন ছিল না। বলা হয়, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ছিল।
“আমরা আমাদের প্রতিবেদনে বলেছি, এ ঘটনায় ইউনাইটেড হাসপাতালের কোনো রকম গাফিলতি ছিল না। ইউনাইটেড একটি জেনারেল হাসপাতাল, যদিও এখানে বিশেষায়িত সুবিধাও আছে। কিন্তু ছোঁয়াচে রোগ, বিশেষ করে বায়ুবাহিত সংক্রামক ব্যাধির জন্য আইসোলেশন ফেসিলিটিজ বাংলাদেশের কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে নাই।
আগুনে পুড়ে যাওয়া গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনাভাইরাস ইউনিট। বুধবার রাতের অগ্নিকাণ্ডে সেখানে চিকিৎসাধীন পাঁচজন রোগীর মৃত্যু হয়। ছবি: মাহমুদ জামান অভি
“ইউনাইটেড হাসপাতাল সরকারের অনুরোধে জুরুরি ভিত্তিতে এই ব্যবস্থাটা তৈরি করেছিল। এই জরুরি পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মোকাবেলা করার জন্য। মার্চ এপ্রিলের দিকে অফিস খোলা ছিল না, সে কারণে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এখানে নেওয়া যায়নি। কিন্তু ইউনাইটেড হাসপাতাল সবসময়ই এসব কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়। বিশেষ একটা পরিস্থিতির কারণে আমরা সেটা নেওয়ার সুযোগ পাইনি।”
এই আইনজীবী বলেন, হাসপাতালের ফায়ার এক্সটিংগুইশার মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে।
“ওই সময় কন্ট্রাকটরদের সার্ভিসিং করে দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু মহামারীর কারণে তারা সেটা করার ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করে। ক্লোজড সার্কিড ক্যামেরায় দেখা গেছে, দেড়-দুই মিনিটের মধ্যে ওই দুঘর্টনাটা ঘটেছে। সুতরাং এটা দুর্ঘটনা ছাড়া কিছুই না।”
এ আইনজীবী বলেন, যিনি ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট আবেদন করেছেন তাকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি তিনি ওই ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন কিনা।
“তিনি বলেছেন, ইউনাইটেড হাসপাতালকে চিঠি দিয়ে তিনি ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আলোচনায় বসার কথা বলেছেন। তবে কোনো অঙ্কের ক্ষতিপূরণ সেখানে চাননি। এই নিরিখে কোর্ট বলেছে যে, আপনারা আলোচনায় বসেন। আলোচনায় এটা নির্ধারণ করা সম্ভব। ১২ জুলাইয়ের মধ্যে চেষ্টা করেন। যদি না পারেন তাহলে ১৩ জুলাই পরবর্তী আদেশের জন্য রাখলাম।”
আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, “আউট অব কোর্ট আমরা একটা সেটেলমেন্টে যেতে পারব বলে মনে করি। যদি কোনো কারণে সম্ভব না হয়, তাহলে আমরা ১৩ তারিখ পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় থাকব।”
১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেছেন ওই ঘটনায় নিহত রিয়াজুল আলমের স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তার।
তার আইনজীবী হাসান এমএস আজিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যেহেতু সবার প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে ইউনাইটেড হাসপাতালের দায় আছে, সব কর্তৃপক্ষই সেটা বলেছে…, সুতরাং ইউনাইটেডই যেন ভিকটিমদের পরিবারের লোকজনদের সাথে আলোচনা করে ক্ষতিপূরণ দেয়, সেটা আদালত বলেছে।”
ইউনাইটেড হাসপাতালের কাছে সরাসরি ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন কিনা জানতে চাইলে এ আইনজীবী বলেন, “আমরা আগেই একটা আবেদন করেছিলাম। তখন তারা বলেছিল যে, রিয়াজুল আলমের স্ত্রী, মানে ফৌজিয়া আক্তারকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চাকরি দেবে আর বাচ্চাকে ইউনাইটেড স্কুলে পড়াবে।
“এটা খুবই অমানবিক আচরণ। উনার স্বামীকে মেরে উনাকে ওইখানে চাকরি দেবে। এটা কি হতে পারে?”
আগুনে পুড়ে যাওয়া গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনাভাইরাস ইউনিটটি বৃহস্পতিবার পরিদর্শন করেন সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা। বুধবার রাতের অগ্নিকাণ্ডে সেখানে চিকিৎসাধীন পাঁচজন রোগীর মৃত্যু হয়।
গত ২৭ মে রাত পৌনে ১০টার দিকে গুলশানের বেসরকারি ওই হাসপাতালটির নিচের প্রাঙ্গণে করোনাভাইরাসের রোগীদের জন্য স্থাপিত আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লাগলে একটি কক্ষে পাঁচ রোগীর মৃত্যু ঘটে। তাদের মধ্যে তিনজনের কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিল।
নিহতরা হলেন মো. মাহবুব (৫০), মো. মনির হোসেন (৭৫), ভারনন অ্যান্থনি পল (৭৪), খোদেজা বেগম (৭০) ও রিয়াজ উল আলম (৪৫)।
ওই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন এবং নিহতদের পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে গত ৩০ মে একটি রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নিয়াজ মুহাম্মদ মাহবুব ও শাহিদা সুলতানা শিলা।
আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া মো. মাহবুব এলাহী চৌধুরীর ছেলে আননান চৌধুরী এবং ভারনন অ্যান্থনি পলের ছেলে আন্দ্রে ডোমিনিক পলও পরে সেই রিটের বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এরপর গত ২১ জুন রিয়াজুল আলমের স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তার ১৫ কোটি ক্ষতিপূরণ চেয়ে আলাদা একটি রিট আবেদন করেন। তাতে এক কোটি টাকা অন্তবর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।
এছাড়া এ ঘটনার বিচারিক তদন্ত চেয়ে ১ জুন আরেকটি রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী রেদওয়ান আহমেদ ও হামিদুল মিসবাহ। কেন বিচারিক তদন্ত করা হবে না- সে বিষয়ে রুলও চাওয়া এ রিটে।
গত ২ জুন প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রাজউক, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১৪ জুনের মধ্যে ঘটনার প্রতিবেদন দিতে বলে হাই কোর্ট। সে অনুযায়ী প্রতিবেদন দাখিল করা হলে সোমবার তা উপস্থাপন করা হয়।
পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনে ইউনাইটেড হাসপাতালের গাফিলতির কথা রয়েছে। রাজউক বলছে, করোনাভাইরাসের জন্য আলাদা করে আইসেলেশন ইউনিট করার অনুমতি নেয়নি ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ।
ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে রোগীদের মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হত। তাছাড়া হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ।
এমপি পাপলু’র গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশকে জানাচ্ছে না কুয়েত, সংসদকেও অবহিত করা হয়নি, বাতিল হতে পারে সব সম্পদ
একজন সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অথচ তা বাংলাদেশ সরকারকে অবগত করার প্রয়োজনবোধ করছে না কুয়েত সরকার। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও যোগাযোগ করে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি কুটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে মনে করা হচ্ছে।
লক্ষীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপলুকে গত ৬ জুন মানবপাচার ও বিভিন্ন জালিয়াতির অভিযোগে কুয়েতের মুশরিফ আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের সিআইডি। গ্রেপ্তারের পর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ১৬ জুন কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে এবং এখন বিচার শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে দেশের বাইরে একজন সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার হয়ে জেলে থাকলেও সংসদকে তা জানানো হয় নি। এ নিয়ে কোনো বিবৃতিও দেয়া হয় নি।
কুটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা, মনে করেন বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি কুটনৈতিকভাবে জানানোর দায়িত্ব ছিল কুয়েতের। কুয়েতে বাংলাদেশের দূতাবাস রয়েছে। তারা দূতাবাসকে জানাতে পারতো।
এমপি পাপলু গ্রেপ্তারের বিষয়টি কুয়েতের সংবাদমাধ্যম থেকে জেনেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। পরবর্তিতে কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু ১৫ দিনেও কুয়েত কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানানোর প্রয়োজনবোধ করছে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে কুয়েত বাংলাদেশকে পাত্তাই দিচ্ছে না।
কয়েকজন কুটনৈতিক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করলে তারা বলেন, কুয়েত বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ১৫ দিনেও না জানিয়ে কুটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের উচিত, কুয়েতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর ব্যাখ্যা চাওয়া।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন সাধারণ নাগরিকও বিদেশে কোনো অপরাধ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতেই পারে। কিন্তু বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে জানানোর নিয়ম রয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংসদ সদস্য দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী রাষ্ট্রে তার অবস্থান ১২ নম্বরে। অর্থাৎ মন্ত্রীপরিষদ সচিব,তিন বাহিনীর প্রধানের সমমর্যাদায়। এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে কোনো দেশ গ্রেপ্তার করলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশকে জানানোর নিয়ম যেমন রয়েছে তেমনি এটা ভদ্রতাও। কিন্তু কুয়েত নিয়মও মানে নি,ভদ্রতাও দেখায় নি। এটা সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিও অসৌজন্যমূলক আচরণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন অপরাধ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বিচার হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গ্রেপ্তারকৃতব্যক্তির নিজ দেশকে যেমন বিষয়টি জানাতে হবে তেমনি তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। যা কুয়েত করছে না।
এদিকে বাংলাদেশ এখন সংসদ অধিবেশন চলছে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদ চলা অবস্থায় দেশের ভেতর কোনো সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে হলে স্পিকারের অনুমতি নিতে হয়। তবে এমপি পাপলু গ্রেপ্তার হয়েছেন দেশের বাইরে। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানেন। কিন্তু বিষয়টি সংসদকে অবহিত করা হয় নি। স্পিকার যেমন অবহিত করেন নি তেমনি কোনো সংসদ সদস্যও পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি জানতে চান নি। এমন কি এমপি পাপলুর স্ত্রী সেলিনা ইসলাম নিজেও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য। তিনিও বিষয়টি সংসদে জানান নি বা জানতে চাননি।
এমপি পাপলুকে ৮ দিনের রিমান্ড শেষ গত মঙ্গলবার কারাগারে পাঠিয়েছে কুয়েতের আদালত। সিআইডি তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করছে এবং শিগগিরই আদালতে বিচারকাজ শুরু হবে। কুয়েতের আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণ হলে ৭ থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বাতিল হতে পারে কুয়েতে তার সব সম্পদ, ব্যবসা বাণিজ্য। পাপলুর বিরুদ্ধে মানব পাচার, মুদ্রা পাচার, ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
কুয়েতে গ্রেপ্তার এমপি পাপলুর হতে পারে ১৪ বছরের জেল,রিমান্ড শেষে কারাগারে; স্ত্রী, কন্যা,শ্যালিকার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
মানব পাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার লক্ষীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপলুকে কারাগারে পাঠিয়েছে কুয়েতের আদালত। দেশটির সিআইডি ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হয় এবং কারাগারে পাঠায়৷ কুয়েতের সংবাদ মাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী এখন সিআইডি তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করলেই আদালতে বিচারকাজ শুরু হবে। কুয়েতের আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণ হলে ৭ থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। পাপলুর বিরুদ্ধে মানব পাচার, মুদ্রা পাচার, ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে দেশে এমপি পাপলুর স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা এমপি সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম, সেলিনার বোন জেসমিনকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
কুয়েতের সংবাদ মাধ্যম আরব টাইমস ও সূত্রগুলো জানিয়েছে, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে কুয়েতের সমাজকল্যাণ ও অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মরিয়ম আল আকিল জনশক্তি কর্তৃপক্ষের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে তিন মাসের জন্য বরখাস্ত করেছেন। এই কর্মকর্তা বাংলাদেশের কাজী শহীদের অনৈতিক কাজের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তদন্তের স্বার্থে তাকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করেছিল সিআইডি। পাপলুর প্রতিষ্ঠান থেকে কুয়েতের যেসব কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়া হতো এই কর্মকর্তা তাদের একজন। জিজ্ঞসাবাদে পাপলু স্বীকার করেছেন, কাদের কাদের তিনি ঘুষ দিতেন। সে অনুযায়ী সিআইডি এদের গ্রেপ্তার করা শুরু করেছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। মানবপাচারসহ বিভিন্ন জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এমন শতাধিক ব্যক্তির তালিকা করেছে কুয়েতের সিআইডি, দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ। সেই তালিকা ধরেই এদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পাপলুর ঘটনায় কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকরাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ঃ এদিকে কুয়েতে গ্রেপ্তার লক্ষীপুর -২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপলুর স্ত্রী সেলিনা ইসলামও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। কুয়েতে পাপলু গ্রেপ্তারের পর গত ৯ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন( দুদক) এমপি পাপলু, তার স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম , তাদের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিনের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, টিআইএন নম্বার, আয়কর রিটার্নসহ ব্যক্তিগত সব নথি তলব করে। এবার তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে এ জন্য গত মঙ্গলবার পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)’র ইমিগ্রেশন বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন চিঠি দিয়ে এই অনুরোধ জানান। দুদক সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এর সত্যতাও পাওয়া গেছে। তারা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে দুদকের কাছে খবর রয়েছে। তারা যাতে দেশ ছাড়তে না পারে এ জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও স্থল বন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য মানবপাচার ও বিভিন্ন জালিয়াতির অভিযোগে গত ৬ জুন কুয়েতের মুশরিফ আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে পাপলুকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের সিআইডি।
নিম্নমানের অনুষ্ঠান মানুষ দেখবে কেনো? বেসরকারি টিভি যাচ্ছে কোথায়?
শংকর মৈত্রঃ ১ লাখ টাকা খরচ করে নাটক বানিয়ে ৩ লাখ টাকা লাভ করতে চাইবেন, বস্তাপচা সংলাপ, নাটকের থাকেনা আগামাথা, নেই কোনো ম্যাসেজ, অভিনয়ের নামে ভাঁড়ামি এসব মানুষ দেখবে কেনো? মানুষ কি এতোই বোকা এ বিশ্বায়ণের যুগে?
১০ হাজার টাকা দিয়ে ৩০ বছর আগের সিনেমা কিনে ১ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন পেয়ে তিন ঘন্টা ধরে কেটে কেটে দিনে দুবার দেখাবেন, আবার বলবেন আপনি অনুষ্ঠান প্রচার করছেন। মানুষকে এতো বোকা ভাবেন কেনো?
এই সিনেমা,বস্তাপচা নাটক বাজারের টঙ দোকানে চা পান খেয়ে খেয়ে একটা শ্রেণির দর্শক দেখে। আপনি যদি মনে করেন তারাই আপনার প্রকৃত দর্শক,তাদের বাজার ধরবেন তা হলে আমার কিছু বলার নেই। তবে আপনার টেলিভিশন রুচিশীল দর্শকের ঘরে টিউন হবে না। আপনার রুচিও টঙ দোকানদারের মতোই এবং, বুকটা ফাইট্টা যায় ‘মার্কা গানের স্রোতা আপনি। আপনার দ্বারা রুচিশীল কিছু হবে না।
গত কয়েকবছরে বাংলাদেশের টিভিগুলোতে খবর আর টকশো ছাড়া এমন একটা অনুষ্ঠানের নাম বলুনতো যা আপনি মনে রাখতে পেরেছেন? অথবা আপনি আগ্রহ নিয়ে দেখেছেন? সেই কবে এনটিভিতে ক্লোজআপ ওয়ান হয়েছিলো। দেশের মানুষ এখনো সেটাই মনে রেখেছে। এ মানের অনুষ্ঠান কি আর হয়েছে? আমি নিজেওতো একজন দর্শক। এখনো মনে আছে ক্লোজআপ ওয়ান দেখার জন্য শাহবাগের আড্ডা ফেলে বাসায় চলে আসতাম। তখন কয়েক বন্ধু মিলে ব্যচেলর বাসায় থাকতাম। ক্লোজআপ ওয়ানের শিল্পীদের গান শুনার জন্য সবাই মিলে চাঁদা তুলে টিভি কিনেছিলাম।
এখনো বিউটি,নোলক,সালমা, নিশিতার ছবি চোখে ভাসে। আমরা কেনো এতোদিন তাদের মনে রেখেছি? নিশ্চয় আমাদের মস্তিস্কে এখনো সেটা স্মৃতি হয়ে আছে। এর পর আর এমন অনুষ্ঠান হলোনা কেনো?
আপনি ১২ বছরের বাচ্চাকে দিয়ে, আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল,কিংবা ‘দুই ভূবনের দুই বাসিন্দা বন্ধু চিরকাল ‘ ‘প্রেম একবার এসেছিল নীরবে ‘ এমন পাকনামি গান গাওয়াবেন আর ভাববেন দর্শক মাত করে দিয়েছেন তা কিন্তু ভুল। আপনার পরিণতিবোধের সমস্যার কারণে অনুষ্ঠান কিন্তু জনপ্রিয় হয়না।
আপনি পাশের দেশের টিভির রিয়ালিটি শোর অনুকরণে অনুষ্ঠান করতে চান, কিন্তু গবেষণা করবেন না, টাকা খরচ করবেন না, তিন ফিট সেট বানিয়ে রিয়ালিটি শো করবেন আপনার অনুষ্ঠান মানসম্পন্ন হবে কেমনে? আপনার অনুষ্ঠান দর্শককে বিনোদন দেয়াতো দূরের কথা টিভি বন্ধ করে গালাগাল করে চলে যায়।
কাজেই আত্মসমালোচনা করুন। আপনার অনুষ্ঠান কেনো দেখেনা নিজের ঘরেই খবর নিন। আমি খবরের কারবারি। আমি জানি আমার দেশে খবরটা ভালো হয়। এই দেশ খবরে ভর্তি। চোখ কান খোলা রাখলেই খবর মেলে। দেশের মানুষও খবরের ভক্ত। খালি খবর জানতে চায়। কারো সাথে দেখা হলেই বলে, কি খবর? এর পর বলে, কেমন আছো? তার মানে খবরের খুবই চাহিদা। এই খবর নিয়ে মানুষের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব ছিল। আমাদের মাইন্ডসেট গেছে হট খবর মানেই শুধু সরকারের বিরুদ্ধে খবর, রাজনীতির খবর। প্রতিদিনের মন্ত্রী মিনিস্টারের খবর। কিন্তু এর বাইরের খবরের খবরই নিই না। বর্তমানে অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় আর অনুসন্ধানমূলক রিপোর্ট না থাকায় এই খবর শোনার প্রতিও মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। সব টিভিতেই একই মার্কা খবর। একই ধরনের উপস্থাপনা। কোথাও নতুনত্ব নেই।
টকশোর একটা চাহিদা ছিল। কিন্তু এখানেও কোনো নতুনত্ব নেই। সব এক ফরমেটে চলছে। আলোচনার বিষয় শুধু রাজনীতি। প্রতিদিনের আলোচক কিছু চেনা মুখ। আর এই চেনামুখগুলো সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। তারা জানেন না এমন কোনো বিষয় নেই। মানুষ তাদের দেখতে দেখতে বিরক্ত হওয়ায় এখন টকশোরও আর দর্শক চাহিদা নেই।
করোনাকালে তিন মাস ধরে বাসায় বন্দি। যেহেতু মিডিয়ায় কাজ করি, ফলে সবকিছুতেই একটা খবর নেয়ার বাতিক আছে। তিনমাস বাসার সদস্যদের পর্যালোচনা করে দেখেছি তারা দু’একটা টিভির খবর দেখে, মিউট করে স্ক্রল দেখে একটা টিভিতে বাংলায় ডাবিং করা বিদেশী সিরিয়াল দেখে। বাচ্চারা দূরন্ত টিভি দেখে। এ ছাড়া বেশীরভাগ সময় ভারতের জি-বাংলাসহ অন্যান্য চ্যানেলের সিরিয়াল দেখে। কোনো সিরিয়াল মিস দিতে চায় না। কি আছে এসব সিরিয়ালে যাতে নেশা ধরিয়ে দেয়? আমাদের নির্মাতারা কি এ নিয়ে কোনো গবেষণা করেছেন?
এই করোনাকালেও আমাদের টিভিগুলো ঘরে বন্দি থাকা দর্শকদের চাহিদামতো কোনো অনুষ্ঠান তৈরী করতে পারলো না। অন্তত আমার চোখে পড়েনি। অথচ পশ্চিমবাংলার টিভিগুলো কিন্তু নানা অনুষ্ঠান বানিয়েছে ঘরে বসে থেকেই। দর্শক দেখেছেও। জাস্ট আইডিয়া।
প্রযুক্তির কল্যাণে এখানেও অনেককিছুই করা সম্ভব ছিল।
কিন্তু আমরা এসব চিন্তার ধারে কাছেই যেতে চাইনা। শুধু বলা হয়, টাকা নেই,বাজেট নেই, স্পনসর নেই। এই নেই নেই করেই আমরা তলানিতে যাচ্ছি।
বস্তাপচা নাটক আর ত্রিশ বছর আগের সিনেমা নিয়ে দর্শকের কাছাকাছি যেতে পারবেন না। মানুষ সব ইউটিউবমুখি হয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞাপনের বাজারও চলে যাচ্ছে। সামনে কঠিন সময় আসছে। এমনিতেই মহামারির কারণে বাজার মন্দা। অর্থনীতির অবস্থা টালমাটাল। এ অবস্থায় টিকে থাকতে হলে সবকিছুতেই নতুনত্ব আনতে হবে। পরিবর্তিত ব্যবস্থার সঙ্গে চলতে হলে মেধা আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে আগাতে হবে। মনে রাখতে হবে পাশের পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে কয়েকগুণ বেশী দর্শক আমাদের। ১৭ কোটি মানুষের বাজার। হেলাফেলা নয় কিন্তু। তারা আমাদের বাজার দখল করে ফেলছে অথচ আমরাই আমাদেরটা দখল করতে পারলাম না। এটাই দূঃখ।
চিকিৎসা দিতে অনীহায় মৃত্যু হলে ফৌজদারি অপরাধ হবে, হাইকোর্টের এমন নির্দেশনা একদিনের ব্যবধানে আপিল বিভাগে স্থগিত
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসা দিতে অনীহা দেখালে এবং এতে রোগীর মৃত্যু হলে তা ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’ অর্থাৎ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতে যে আদেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট, একদিনের ব্যবধানে তা স্থগিত হয়ে গেছে।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান এই স্থগিতাদেশ দেন। অবশ্য বিচারপতি নুরুজ্জামান হাইকোর্টের দেয়া ১১ টি নির্দেশনার মধ্যে তিনটি নির্দেশনা বহাল রেখেছেন।
কয়েকটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এসব নির্দেশনার মধ্যে ছিল,
আইসিইউতে চিকিৎসাধীন কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক যেন মাত্রাতিরিক্ত বা অযৌক্তিক ফি আদায় করতে না পারে সেজন্য নজরদারির ব্যবস্থা করা।
এছাড়াও অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রিতে ‘মনিটরিং’ জোরদার করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা ও রি-ফিলিংয়ের মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দিয়ে আদেশে আদালত বলেছে, সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিষ্ঠান/দোকানে প্রদর্শন করতে হবে।
কৃত্রিম সংকট রোধে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও রোগীর পরিচয়পত্র ছাড়া অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রি বন্ধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে বলে অভিমত দিয়েছে আদালত।
রাজধানী ঢাকায় ‘লকডাউন’ জারির বিষয়ে আদালত আদেশে বলেছে, সরকার ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশকে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় লাল, হলুদ ও সবুজ জোনে বিভক্ত করে পর্যায়ক্রমে লকডাউনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। এমতাবস্থায় বর্তমান পর্যায়ে লকডাউনের বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া সংগত হবে না মর্মে আদালত মনে করে।
গত ১১ মে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে সাধারণ (নন-কোভিড) রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত দুটি নির্দেশনা জারি করে।
এছাড়াও ৫০ শয্যা বা তার বেশি শয্যা বিশিষ্ট সরকারি, বেসরকারি হাসপতালে কোভিড ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার জন্য পরে গত ২৪ মে আরেকটি নির্দেশনা জারি করে।
এ তিনটি নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে আদালত আদেশে বলেছে, এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না তা জানিয়ে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রতিবেদন দিতে হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এসব নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলেছে আদালত।
এছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫০ শয্যা বা তার বেশি শয্যার বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে সোমবার নাগাদ কত জন কোভিড-১৯ রোগী এবং সাধারণ রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে সে প্রতিবেদনও ৩০ জুনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।
আদালত আদেশে বলেছে, সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে অধিকতর জবাবদিহিমূলক ও বিস্তৃত করতে হবে। ভুক্তভোগীরা যাতে এ সেবা দ্রুত ও সহজে পেতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো হাসপাতালে আইসিইউতে কতজন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং কতটি আইসিইউ শয্যা কী অবস্থায় আছে, তার সর্বশেষ অবস্থা প্রতিদিনের প্রচারিত স্বাস্থ্য বুলেটিন ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।
আইসিইউ ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং সেলে ভুক্তভোগীরা যাতে সহজেই যোগাযোগ করতে পারে সেজন্য ‘আইসিইউ হটলাইন’ নামে আলাদা একটি হটলাইন চালু করতে হবে। হটলাইন নম্বর প্রতিদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষ করে টেলিভিশন মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।
এছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন করছে কি না, সে বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিন পর পর একটি প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৫ দিন পর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আদালতে প্রতিবেদন দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত আদেশে অভিমত দিয়ে বলেছে, “দেশে বিদ্যমান সামগ্রিক পরিস্থিতি অর্থাৎ বর্তমানে দেশে বিরাজমান করোনা পরিস্থিতি একটি দুর্যোগ বিবেচনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গৃহীত কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ এর ধারা-১৪ অনুসারে ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অরডিনেশন গ্রুপ’ এর কার্যক্রমকে সক্রিয় করার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে।”
আদালত মনে করে ওই কমিটি কার্যকর হলে কমিটির সুপারিশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ এর ২৬ ধারা অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক রিকুইজিশান করা যেতে পারে।
হাইকোর্টের এসব নির্দেশনার পরই সরকার দ্রুততার সঙ্গে আপিল করে। ভার্চুয়াল চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানের আদালতে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিটকারিদের পক্ষে জেড আই খান পান্না।
শুনানি শেষে হাইকোর্টের ১১ টি নির্দেশনার মধ্যে ৩ টি বহাল রাখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, গত ১১ ও ২৪ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনা যথাযথ ভাবে পালিত হচ্ছে কি না এ বিষয়ে ৩০ জুনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছিল তা বহাল রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ( আইসিইউ) চিকিৎসাধীন কোভিড-১৯ চিকিৎসা ক্ষেত্রে যেন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মাত্রাতিরিক্ত বিল আদায় না করতে পারে সে বিষয়ে তদারকির ব্যবস্থা করার নির্দেশনা বহাল রাখা হয়েছে। আর অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য এবং রিফিলিংয়ের মূল্য নির্ধারণ, সিলিন্ডারের মূল্য প্রতিষ্ঠান বা দোকানে প্রদর্শন করা,কৃত্রিম সংকট রোধে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও রোগীর পরিচয় ছাড়া অক্সিজেন বিক্রি বন্ধ করার যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল তা বহাল রাখা হয়েছে।










