বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান পলাতক কি-না এবং তাদের পক্ষে আইনজীবী লড়তে পারবেন কি না; এমন প্রশ্নে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত জানা যাবে আগামী ২৬ জুন।
রবিবার (১৯ জুন) তৃতীয় দিনের মতো শুনানি গ্রহণ শেষে, বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ রায়ের ওই দিন ধার্য করেন।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও হিসাববিবরণীতে সম্পদ গোপন করার অভিযোগে করা মামলা দায়ের ও এর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে তারেক ও তার স্ত্রী জোবাইদা ১৫ বছর আগে হাইকোর্টে পৃথক তিনটি রিট করেন। তখন হাইকোর্ট রুল দিয়েছিলেন। রুল শুনানির জন্য তারেক রহমানের করা দুটি রিট ও জোবাইদা রহমানের করা একটি রিট গত ২৯ মে হাইকোর্টের কার্যতালিকায় আসে।
সেদিন তারেক রহমানের পক্ষে আইনজীবী সময়ের আরজি জানাতে পারেন কি না-তা নিয়ে প্রশ্ন রাখেন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের আইনজীবী। এরপর ৫ জুন তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমান পলাতক কি না এবং তাদের পক্ষে আইনজীবী লড়তে পারবেন কি না; এমন প্রশ্নে শুনানি হয়। এরপর ১২ জুন ও রবিবার (১৯ জুন) শুনানি হয়।
আদালতে তারেক-জোবাইদার রিটের বিষয়ে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কায়সার কামাল। দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন শুনানিতে অংশ নেন।
শুনানিতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, “তিনটি মামলায় তারেক রহমান দণ্ডিত হয়েছেন। তার সাজা-পরোয়ানা এখনও ঝুলছে। যদি তিনি দণ্ডিত না হতেন, আর মামলাগুলোর বিচার শেষ না হতো, তাহলে ভিন্ন কথা। তারেক রহমান এ মামলায় পলাতক। একই মামলা বাতিল চেয়ে জোবাইদা রহমানের করা আবেদনের ওপর সর্বশেষ আপিল বিভাগ গত ১৩ এপ্রিল রায় দেন। ঐ রায়ে আপিল বিভাগ বলে দিয়েছেন, জোবাইদা রহমান পলাতক। পলাতক বলে তাদের পক্ষে আইনজীবী শুনানি করতে পারেন না।”
অন্যদিকে, তারেক ও জোবায়দার বিষয়ে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, “মামলাটি ভ্রূণ অবস্থায়। এখনো অভিযোগ আমলে নেয়া হয়নি। তাই আত্মসমর্পণ করার পর্যায়ে আসেনি। জোবাইদা রহমানের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করা হবে। তাই এ বিষয় নিয়ে বলছি না। তবে, তারেক রহমান যখন রিট করেন, তখন তিনি পলাতক ছিলেন না। কোনো মামলায় কেউ দণ্ডিত হলে বিচারাধীন অপর মামলায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পলাতক হয়ে যাবেন; এমন নজির দেখছি না। তারেক রহমান এ মামলায় জামিন পেয়েছেন, যা আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন। তাই এ মামলায় তাকে পলাতক বলা যাবে না।”
এর আগে, শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, “আপিল বিভাগ রায়ে বলে দিয়েছেন, জোবায়দা রহমান পলাতক। এ মামলায় পলাতক হিসেবে বিবেচিত হবেন। ঐ মামলা বাতিল আবেদনে ২০০৮ সালের ৭ এপ্রিল জোবায়দা হাইকোর্টে হাজির হন। পরদিন হাইকোর্ট রুল ও স্থগিতাদেশ দেন। এমন চর্চা করা যাবে না বলে রায়ে বলেছেন আপিল বিভাগ।”
“একই মামলা নিয়ে রিট ও বাতিল আবেদন করা যাবে না। আট সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের অংশবিশেষ বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের রায়ের রিভিউ চাইতে হলে তাকে (জোবাইদা) আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ অবস্থায় আপিল বিভাগের রায় কার্যকর থাকবে। রিট ও বাতিল আবেদনের পরিণতি একই হবে। আপিল বিভাগের অভিমত অনুসারে পলাতক জোবাইদার পক্ষে আইনজীবী লড়তে পারবেন না; জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানিতে আরও বলেন, “এ মামলায় তারেক রহমানকে ২০০৭ সালের ৩১ অক্টোবর গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর হয়। রিট দুটির একটিতে লেটার অব অথরিটি (ক্ষমতা অর্পণপত্র) দেয়া হয়েছে ২০০৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। অন্যটিতে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর, অর্থাৎ গ্রেপ্তার দেখানোর আগে। এখন তিনি পলাতক।”
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজধানীর কাফরুল থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে, মামলার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে তারেক ও জোবাইদা এবং সম্পদের হিসাব চেয়ে দেয়া নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে তারেক রহমান একটি রিট করেন।
তারেক-জোবাইদা ‘পলাতক’ কি-না, হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত জানা যাবে ২৬ জুন
নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরার দাবিতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ
নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার দাবিতে, বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পের ২৫টি ক্যাম্পে, ‘গো ব্যাক টু হোম ক্যাম্পেইন’ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রোহিঙ্গারা।
রবিবার (১৯ জুন) উখিয়ার ২৩টি ও টেকনাফের দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নির্ধারিত স্থানে, সকাল ৮টা থেকে মানববন্ধন ও মিছিল শেষে সমাবেশ শুরু হয়। এতে ক্যাম্পের প্রতিটি ব্লকের রোহিঙ্গারা অংশ নেন। মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে, নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে অনুরোধ জানান রোহিঙ্গারা। ‘গো ব্যাক টু হোম’ স্লোগানে এই বিক্ষোভ সমাবেশে নানা বয়সের রোহিঙ্গা অংশগ্রহণ করেন।
২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তের গুলি নিহত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ, একই দাবিতে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশের নেতৃত্বে ছিলেন।
এবারের সমাবেশের একক কোনো আয়োজক কিংবা নেতৃত্ব পর্যায়ের কেউ সামনে না এলেও, প্রচারপত্রে আয়োজক হিসেবে নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী লেখা হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের রোহিঙ্গা বলেই ডাকা, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যেক রোহিঙ্গাকে আরাকানের গ্রামে গ্রামে প্রত্যাবাসন, প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত প্রত্যেক চুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ওআইসি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা, বার্মার ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল, সম্পত্তি ফেরত, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকারসহ আরও কিছু দাবি উত্থাপন করা হয় এই বিক্ষোভে।
উখিয়ার ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “আমরা নিরাপদ প্রত্যাবাসন চাই এবং আমাদের আশা এবারের সমাবেশটির মাধ্যমে উত্থাপিত রোহিঙ্গাদের যৌক্তিক দাবিগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্ব পাবে।”
রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কিন মং বলেন, “সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আমাদের দেশ মিয়ানমারে ফিরতে চাই আমরা, সমাবেশে আমরা এই মূল দাবিটাই জানাচ্ছি বিশ্ববাসীর কাছে। বাংলাদেশ সরকার আমাদের আশ্বাস দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, আমরা কৃতজ্ঞ।”
অতিরিক্ত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, “রোহিঙ্গারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হয়নি।”
ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত ৮ এপিবিএন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কামরান হোসাইন জানান, “ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতায়, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা নির্যাতিত হয় এবং তাদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়। এটা রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে ভয়াবহ দেশত্যাগ হিসেবে বিবেচিত।
নির্যাতিত রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাতদফা দাবি উত্থাপন করেছেন।
জ্বালানি সাশ্রয়ে সারাদেশেই রাত ৮টার পর দোকান শপিংমল বন্ধ রাখার নির্দেশ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি সাশ্রয়ে শুধু ঢাকা সিটি করপোরেশনে নয় সারাদেশেইে রাত ৮টার পর দোকানপাট,শপিংমল, বাজার বন্ধ রাখতে সরকার নির্দেশ জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর শনিবার সরকারি সব দফতরকে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়। সরকারের এই নির্দশেনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ণ করতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে প্রতিদিন রাত ৮টার পর দোকানপাট, শপিংমল, মার্কেট ও বিপণী বিতান বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন।
বিশ্বব্যাপী অব্যাহত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে জারি করা এক চিঠিতে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাতে জননিরাপত্তা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয়, কল-কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সব বিভাগীয় কমিশনার, সব রেঞ্জের মতো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের তা পালন করতে বলা হয়েছে। পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক, সকল জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ১১৪ ধারা অনুযায়ী কঠোরভাবে আদেশ কার্যকর করার জন্য বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশেনের মেয়র ফজলে নূর তাপস রাজধানীতে যানজট কমাতে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য রাত ৮টার পর জরুরী সেবা ছাড়া দোকানপাট বিপণি বিতান বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সারাদশেই এই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশনা দেন।
জমি-জমা নিয়ে বিরোধ কমাতে নিবন্ধন ব্যবস্থা ডিজিটাইজড করা হচ্ছে, জানালেন আইনমন্ত্রী
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যেখানে টালমাটাল সেখানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখনও ভালো আছে বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
শনিবার (১৮ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশন (বিআরএসএ) আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি
একথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, একটা দেশ আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকতে ৩ মাসের আমদানী বিল পরিশোধ করার মত রিজার্ভ থাকতে হয়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও করোনাভাইরাসের অতিমারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এখন অনেক ক্ষেত্রে টালমাটাল। পাকিস্তানের যেখানে ২ মাস এবং শ্রীলঙ্কার মাত্র ১
দিনের আমদানী বিল পরিশোধের সামর্থ্য রয়েছে সেখানে আমাদের বাংলাদেশের সাত থেকে সাড়ে-সাত মাসের আমদানী বিল পরিশোধ করার মত রিজার্ভ রয়েছে। কিন্তু এর পরেও আমরা সতর্ক। আমরা চাই
মিতব্যয়ী হতে। জনগণকে মানসম্মত সেবা প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে এখন বাংলাদেশ বদলে গেছে, এই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রারদের খাপ খাইয়ে চলতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই মামলা জট কমুক। কিন্তু অনেক মামলার শুরু হয় জমি-জমা বিরোধ নিয়ে। এ বিরোধ কমানোর জন্য রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট ডিজিটাইজড করা হচ্ছে। দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু করা সম্ভব হলে জনগণকে দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সেবা দেয়া সম্ভব হবে। সাথে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধও কমবে। আনিসুল হক বলেন, দক্ষতার সাথে ই-রেজিস্ট্রেশন সেবা দেয়ার জন্য সাব-রেজিস্ট্রারদেও সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এই বিভাগে এখন পিএসসি থেকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিআরএসএ’র দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী নিবন্ধন পরিদপ্তরকে উন্নীত করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বিআরএস’এর সভাপতি মো. জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, নিবন্ধন অধিদফতরের মহাপরির্শক শহীদুল আলম ঝিনুক, বিআরএসএ’র মহাসচিব মো.জাহিদ হোসেন প্রমুখ।
সংবিধানে সন্নিবেশিত ৭ মার্চের ভাষণে শতাধিক ভুল : হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল
সংবিধানে সন্নিবেশিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণে শতাধিক ভুল পেয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইন মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী এডভোকেট সুবীর নন্দী দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসস’কে বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন- সংবিধানে তা হুবহু দেয়া হয়নি। সংবিধানে সন্নিবেশিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণে শতাধিক ভুল পেয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি।
২০২০ সালের ১০ মার্চ সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ভুলভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে কি-না, তা যাচাই করতে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ৭ মার্চের ভাষণের সময় উপস্থিত থাকা ব্যক্তিসহ বিশিষ্টজনদের এ কমিটিতে রাখতে বলা হয়েছিল। এছাড়া সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে থাকা ভাষণের সঙ্গে এ সংক্রান্ত সকল অডিও-ভিডিও পর্যালোচনা করে, একটি প্রতিবেদনও আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। একইসঙ্গে সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সঠিক ভাষণ কেন অন্তর্ভুক্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
২০২০ সালের ৫ মার্চ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস এ রিট দায়ের করেন। রাজবাড়ীর রায়নগর গ্রামের কাশেদ আলীর পক্ষে তিনি এ রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে সংবিধানে থাকা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ভুলটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়। পাশাপাশি সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের পূর্ণাঙ্গ ভাষণটি বাংলা ও ইংরেজিতে অন্তর্ভুক্তি চাওয়া হয়। রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়। বাসস।
অবৈধ সম্পদ অর্জন : বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৩০ আগস্ট
ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য থাকলেও দুদক প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ নতুন এ দিন ধার্য করেন।
গত বছরের ১০ অক্টোবর দুদক উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদি হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন। মামলায় এস কে সিনহার বিরুদ্ধে নিজের ভাই ও আত্মীয়ের নামে ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করে তা স্থানান্তর ও হস্থান্তরের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে উত্তরা আবাসিক এলাকায় নিজের নামে একটি প্লট বরাদ্দ নেন। পরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহার নামেও রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে তিন কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ করান।
এরপর তিনি প্রভাব খাটিয়ে তিন কাঠার প্লটটি পাঁচ কাঠায় উন্নীত করান। এক পর্যায়ে পূর্বাচলের প্লটটিকে উত্তরার চার নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর সড়কে (বাড়ি নম্বর ১/এ) স্থানান্তর করিয়ে রাজউকের অনুমোদন করান। বরাদ্দ পাওয়ার পর এসকে সিনহা প্লটটির ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ নিয়োগ করেন তারই আত্মীয় জনৈক শংখজিৎ সিংহকে।
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নিজেই উত্তরার ওই প্লটের অনুকূলে রাজউকে ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। পরে তার তত্ত্বাবধানেই ওই প্লটে নয়তলা ভবন নির্মাণ হয়। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৬ কোটি ৩১ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা। নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর মাধ্যমে এ নির্মাণ ব্যয় প্রাক্কলন করে দুদক।
দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজউকের প্লটের মূল্য ৭৫ লাখ টাকা ও ভবনের নির্মাণ ব্যয় ৬ কোটি ৩১ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকাসহ সব মিলিয়ে ৭ কোটি ৬ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা ব্যয় হয়। এর মধ্যে জনৈক খালেদা চৌধুরীর কাছ থেকে ভবনের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির অগ্রিম ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এ টাকা বাদে অবশিষ্ট ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা এবং আত্মীয় শংখজিৎ সিংহের নামে একটি ব্যাংক হিসাবে স্থায়ী ও নগদে ৭৮ লাখ টাকা জমা পাওয়া গেছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোট ৭ কোটি ১৪ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভাই ও আত্মীয়ের নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্থান্তর করেন। এ সম্পদ অর্জনের বৈধ কোনো উৎস নেই এবং তা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। এ অপরাধে সংস্থাটির ২০০৪-এর ২৭ (১) ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ২০১২-এর ৪ (২), (৩) ধারায় মামলা করে দুদক।
এছাড়াও ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলার পৃথক দু’ধারায় গত বছর ৯ নভেম্বর এস কে সিনহাকে ১১ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।বাসস।
হাইকোর্টে ২ মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে স্থায়ী জামিন পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে মন্তব্য এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের পৃথক দুই মামলায় তাকে এ জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি সাহেদ নুর উদদীনের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার দুই মামলায় খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিনের আদেশ দেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী আদালতে নালিশি মামলা করেন। দণ্ডবিধির ১৫৩ (ক) ও ২৯৫ (ক) ধারায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি।
২০১৪ সালে পুরান ঢাকায় দর্জিকর্মী বিশ্বজিত হত্যাকান্ড নিয়ে খালেদার জিয়ার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করেছিলেন এ বি সিদ্দিকী।
আর ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতা চান নাই। তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব। জেনারেল জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ায় এ দেশের জনগণ যুদ্ধে নেমেছিল।’ এ বক্তব্যের পর ২০১৭ সালে ২৫ জানুয়ারি এবি সিদ্দিকী আদালতে মামলা করেন।
হাইকোর্ট দুটি মামলাতেই খালেদা জিয়াকে জামিনসহ রুল দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার দুই মামলাতেই তাকে স্থায়ী জামিন দিলেন হাইকোর্ট। অসুস্থ খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন । তার হার্টে বøক ধরা পড়ায় রিং লাগানো হয়েছে।
নজিরবিহীন ঘটনা: হাইকোর্টে মা’কে নিয়ে হাজির হয়ে কিশোরী জানালেন তাকে ধর্ষণের কথা, চাইলেন বিচার
এক নজিরবিহীন ঘটনা। সুদূর নীলফামারী থেকে এক কিশোরী তার মাকে সঙ্গে নিয়ে হাইকোর্টে এসে ধর্ষণকারীর বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। বিচারকদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, ‘আমি ধর্ষণের শিকার। আমরা গরিব মানুষ, টাকা পয়সা নাই। আমি হাইকোর্টের কাছে বিচার চাই।’
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি সাহেদ নুর উদদীনের হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার (১৫ জুন) সকালে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে ওই কিশোরী তার মাকে নিয়ে ডায়াসের সামনে এসে দাঁড়ান। এ সময় আদালত তার কাছে জানতে চান কী হয়েছে? আপনি কে? আপনি কী বলতে চান? আপনার সঙ্গে উনি কে? তখন ওই কিশোরী হাইকোর্টকে নিজের পরিচয় দেন। বলেন, ‘আমার বয়স ১৫ বছর। উনি আমার মা। আমি ধর্ষণের শিকার। একজন বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সদস্য আমাকে ধর্ষণ করেছে। কিন্তু নীলফামারীর আদালত তাকে খালাস দিয়ে দিয়েছেন। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের টাকা পয়সা নাই। আমরা আপনার কাছে বিচার চাই।’
এসময় আদালত ওই কিশোরীর কাছে জানতে চান যে তার কাছে কোনো কাগজপত্র আছে কি না? ওই কিশোরী মামলার কাগজ আছে বললে আদালত উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে লিগ্যাল এইডের কোনো আইনজীবী আছেন? তখন আদালতে উপস্থিত থাকা লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী বদরুন নাহার দাঁড়ালে তাকে ওই কিশোরীর মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে নিতে নির্দেশ দেন।
পরে আইনজীবী বদরুন নাহার জানান, লিগ্যাল এইড থেকে কিশোরীর পক্ষে আপিল করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আগামী রোববার আপিল দায়ের করা হবে। এ দিকে বিচারিক আদালতে ন্যায় বিচার না পেয়ে হাইকোর্টে এক ধর্ষিতা কিশোরী সশরীরে হাজির হয়ে বিচার চাওয়ার ঘটনায় আইনজীবীরাও বিষ্মিত। তারা বলছেন বিচারপ্রার্থী কতো অসহায় হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিরোধিতাকারিরা যাতে কোন রকম ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ড চালাতে না পারে সে জন্য সশস্ত্র বাহিনীসহ সকল বাহিনীকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের মত এতো বড় একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে সেতু নির্মাণের কাজ আমরা সম্পন্ন করেছি। কিন্তুু যারা সেতু নির্মাণের বিরোধিতা করেছিল তাদের একটা উদ্দেশ্য রয়েছে। যার কিছু কিছু তথ্যও আমরা পেয়েছি। আমরা জানতে পেরেছি, এমন একটা ঘটনা ঘটানো হবে যাতে ২৫ তারিখে আমরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করতে না পারি। বিরোধিতাকারীরা কী করবে তা কিন্তু আমরা জানি না।
শেখ হাসিনা বুধবার সকালে তাঁর কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৩৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত তিন বাহিনী প্রধান, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং আনসার ও ভিডিপি’র প্রধানদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের সবাইকে কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে। সমস্ত বিষয়টাই একটু রহস্যজনক। এ জন্য সবাইকে বলবো একটু সতর্ক থাকতে হবে এবং আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দিকেও সবাইকে নজর দিতে হবে। সে গুলোর নিরাপত্তা দিতে হবে।
সরকার প্রধান বলেন, ভুয়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এ দেশের ব্যক্তি বিশেষের প্ররোচনায় বিশ^ ব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়ন বন্ধ করে দিলে তাঁর সরকার ঘোষণা দিয়েছিল নিজেদের অর্থায়নে করবে, না হলে করবে না। তাঁর সরকার সেই পদ্¥া সেতু নিজেদের অর্থে নির্মাণ করেছে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন রেলে আগুন, লঞ্চে আগুন. ফেরীতে আগুন এমনকি সীতাকুন্ডে যে আগুনটা সেটা একটা জায়গা থেকে লাগতে পারে, কিন্তু বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটা জায়গায় আগুন লাগে কীভাবে। আর রেলের আগুনের বিষয়ে একটি ভিডিও পাওয়া গিয়েছে যেখানে দেখা গেছে রেলের চাকার নিকটে আগুন জ¦লছে, সেটা কী করে সম্ভব সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এসএসএফ’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মো. মজিবুর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং মুখ্য সচিব ড.আহমদ কায়কাউস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তিকে মানুষের নাগালের মধ্যে এনে যে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু এসবের সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ সৃষ্টির অপপ্রয়াস সম্পর্কেও সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, এই ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেমন একদিকে আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, অপরদিকে এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই সন্ত্রাসি এবং জঙ্গি গোষ্ঠী তাদের তাদের নানা কর্মকান্ড পরিচালিত করে থাকে।
সে জন্য তাঁর সরকার আধুনিক বিশ্ব এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফসহ অন্যান্য বাহিনী গুলোকে প্রযুক্তি নির্ভর করে শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, কারণ, আমাদের বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে এবং বিভিন্ন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকেও দমন করতে হবে। অতীতে বিভিন্ন বাহিনীগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারনেই তাঁর সরকার জোট সরকারের আমলে সৃষ্ট সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন ও নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের আরো সতর্ক থাকতে হবে এবং মনে রাখতে হবে আমরা যখন এগিয়ে যাই তখনই এ ধরনের ঘটনা কোন কোন মহল ঘটানোর চেষ্টা করে থাকে। এটাই আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। সে জন্য সবাইকে আমি সতর্ক থাকার আহবান জানাচ্ছি। বাসস।
নতুন আইন আসছে: সাংবাদিক অন্যায় করলে ১০ লাখ টাকা জরিমানা
সাংবাদিকরা ভুল করলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রেখে একটি আইন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক।
মঙ্গলবার রাজশাহী সার্কিট হাউসে ‘প্রেস কাউন্সিল আইন ও আচরণবিধি এবং তথ্য অধিকার আইন অবহিতকরণ’ শীর্ষক সাংবাদিকদের দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশিক্ষণের সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আইনের খসড়া এখন মন্ত্রিসভায় রয়েছে এবং আগামী সংসদ অধিবেশনে পাস হতে পারে।
দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশ নেওয়া ৪৪ জন সাংবাদিকের হাতে সনদপত্র তুলে দেন বিপিসি চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেস কাউন্সিলের সচিব মো. শাহ আলম।
প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মনে করতেন যে, সাংবাদিকরা এমন এক শ্রেণির মানুষ যাদের তিরস্কার করাই একটি বড় শাস্তি। প্রেস কাউন্সিল আইনে কোনো অন্যায়ের জন্য বেশিরভাগ সাংবাদিককে তিরস্কার করা হয়। তিরস্কার একজন মানুষের জন্য একটি বড় শাস্তি। এতে তাদের আত্মসম্মানে আঘাত লাগবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন আইন দরকার।’
নিজামুল হক বলেন, ‘এখন যে কেউ সাংবাদিক হচ্ছে। তারা মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করছে। সাংবাদিকতার নামে ‘সাংঘাতিকতা’ চলছে। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য অপমানজনক। এ কারণে সাংবাদিক কারা তা নির্ধারণ যেমন জরুরি হয়ে পড়েছে, তেমনি প্রয়োজন নতুন আইনও। সাংবাদিকতা আদা ব্যবসায়ীদের জন্য নয়। সাংবাদিকতা প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য।’
নতুন আইন সম্পর্কে মো. নিজামুল হক বলেন, ‘কোনো সাংবাদিক অন্যায় করলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে নতুন আইনে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এক দিনের জেলের পক্ষপাতী। জেলে গেলে তাঁর মনে হবে যে আমার কাজটা অন্যায় হয়েছিল। আর করা যাবে না। এই আইনটা কেবিনেটে আছে। আশা করছি, আগামী সংসদেই পাস হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রেস কাউন্সিল পিআইবির সঙ্গে যৌথভাবে সাংবাদিকদের তালিকা তৈরি করছে। মিডিয়া হাউস থেকে সাংবাদিকদের নাম সংগ্রহ করা হলেও তাদের তথ্য যাচাই করা হবে বলে জানান তিনি।
বিচারপতি নিজামুল হক আরও বলেন, ‘অনেক নামি-দামি পত্রিকার সম্পাদকদের আত্মীয়স্বজন সাংবাদিক পরিচয় দেন। তারা আসলে সাংবাদিক নয়, অন্য কাজ করেন। প্রেস কাউন্সিলে এসব ব্যক্তিদের সাংবাদিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যাবে না।’
সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে স্নাতক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তবে কারও নিয়োগপত্রসহ ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তাকে তালিকাভুক্ত করা হবে। একবার তালিকাভুক্ত হয়ে গেলে আপনি যা খুশি তা করতে পারবেন না। প্রত্যেক ৬ মাস পর পর সব সাংবাদিকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে।











