ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ৮:২০ 

Home Blog Page 32

পি কে হালদারকে ফেরাতে রুল শুনানির জন্য হাইকোর্টে উঠছে

0

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) গ্রেপ্তারের তথ্য আদালতকে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষ এ–সংক্রান্ত রুল শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন। এ–সংক্রান্ত রুল কাল মঙ্গলবার শুনানির জন্য কার্যতালিকায় থাকবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
সকালে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘আমাদের মেসেজ ক্লিয়ার। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যে–ই হোক। আমরা এ ব্যাপারে সিরিয়াস।’
পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনা প্রশ্নে দেড় বছর আগে স্বতঃপ্রণোদিত রুল দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এর মধ্যেই গত শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন পি কে হালদার। বাংলাদেশে আর্থিক খাতে আলোচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করার অভিযোগ রয়েছে।

২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর ‘পি কে হালদারকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে দুদক’ শিরোনামে একটি দৈনিকে প্রতিবেদনে ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন।
রুলে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা-ব্যর্থতা কেন বেআইনি হবে না এবং এ ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এ রুল এখন হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানির জন্য উঠছে।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে হাইকোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত রুল ছিল। সেই রুলের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করা ছিল। ইতিমধ্যে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, পি কে হালদার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিষয়টি আদালতের নলেজে এনেছি। রুল শুনানির জন্য মেনশন করেছি। আগামীকাল বিষয়টি কার্যতালিকায় আসবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারে বাংলাদেশের প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল লাভবান হবে?

0

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর গত মাসে নয়াদিল্লিতে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে গেলে তিনি ভারতকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। শেখ হাসিনা বলেন, বন্দরটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ বিশেষ করে আসাম ও ত্রিপুরার কাজে আসবে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অন্য দুটি রাজ্য মেঘালয় এবং মিজোরামও বন্দরটিতে প্রবেশাধিকার পেলে লাভবান হতে পারে।
রবিবার ভারতের প্রখ্যাত ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে রাহুল কর্মকার এমন মন্তব্য করে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ব্যাখ্যা করেছেনঃ
১৯ ৪৭ এর দেশভাগ কীভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব ফেলেছিল?
স্বাধীনতার আগে ব্রহ্মপুত্র ও বরাক নদী প্রণালীর মাধ্যমে বর্তমান বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সহজ প্রবেশাধিকার ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সাথে সাথেই এই নদীগুলোর মাধ্যমে চা, কাঠ, কয়লা এবং তেল পরিবহন এবং স্থানীয়-স্তরের সীমান্ত বাণিজ্যে প্রভাব পড়ে নি, যা ১৯৫০ এর দশকের গোড়ার দিক পর্যন্ত (সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়ের রাজ্য) অবিভক্ত আসামের মর্যাদা বজায় রাখতে সহায়তা করেছিল। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের (বাংলাদেশ তখন পূর্ব পাকিস্তান ছিল) মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের সাথে সাথে বাণিজ্যের পরিমাণ কমতে শুরু করে, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে উত্তর-পূর্বাঞ্চল আলাদা হয়ে যায়। পূর্ব পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে নদী ও স্থলপথে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের সংকীর্ণ স্ট্রিপ ‘চিকেন নেক’ দিয়ে পণ্য পরিবহনের ফলে অঞ্চলটির খরচ অনেক বেড়ে যায়।
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর কোনো পরিবর্তন এসেছে?
১৯৭১ সালে ভারতের সহায়তায় বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নদী এবং স্থল বাণিজ্য ও যোগাযোগ রুটের পুনর্জন্ম হয় নি। দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের অবিশ্বাস, প্রাথমিকভাবে ‘বাংলাদেশি’ ইস্যু এবং বাংলাদেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অগণিত চরমপন্থী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠিত ক্যাম্পের কারণে এগুলোতে কোনো উন্নতি হয় নি। এছাড়া, দেশ দুটি ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে নেয় নি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দৃশ্যপট পরিবর্তিত হতে শুরু করে। ২০১৫ সালে স্থল সীমান্ত বিরোধ-সমাধান চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর অবিশ্বাসের মাত্রাও কমে যায়
বিজ্ঞাপন
দুই দেশ নৌপথ, সড়কপথ এবং রেলপথ জুড়ে সক্ষমতা উন্নত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ঢাকা হয়ে আগরতলা এবং কলকাতার মধ্যে বাস সার্ভিস থেকে শুরু করে নদীতে কার্গো চলাচল, ট্রায়াল রান এবং ট্রান্স-শিপমেন্ট সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের মানেটা কী?
গত পাঁচ বছরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির চাবিকাঠি হল উত্তর-পূর্বাঞ্চল। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি যার দৃষ্টি এই অঞ্চলের উপর নিবদ্ধ এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার এক নতুন মাত্রা উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে চারটি রাজ্যের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সর্বোত্তমভাবে অন্বেষণ করতে সাহায্য করতে পারে। এই রাজ্যগুলোর (আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম) সাথে বাংলাদেশের ১,৮৭৯ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। রেলপথ এবং নৌপথের উপর বিশেষ মনোযোগ দিয়ে, দেশ ভাগের পূর্বের অনেক বাণিজ্য রুট পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। এই রাস্তাগুলোর অধিকাংশই চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যায়, যা ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে সুবিধাজনক পথ। এই বন্দরের গুরুত্বের কারণে বৃটিশরা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের জন্য আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে রুট বানায়। যেমনঃ অরুণাচল প্রদেশ-আসাম সীমান্তের নিকটস্থ, অধুনা-লুপ্ত লেখাপানি স্টেশন।
বাস্তবে কি কিছু হয়েছে?
‘মাল্টি-মডাল এপ্রোচ’ এর মাধ্যমে ভারতের ‘মূল ভূখণ্ড’ এবং বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সংযোগের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছে। দেশভাগের পূর্বের বাণিজ্য রুটগুলো পুনরায় খোলার ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিবহন খরচ এবং সময় হ্রাস পাবে এবং বাংলাদেশও রাজস্ব পাবে এই ভাবনার পর গত পাঁচ বছরে বাস্তবে কাজ করা শুরু হয়েছে। ভারত সীমান্তের দুপাশে অবকাঠামোর কাজ করছে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ফেনী নদীর উপর নির্মিত একটি ‘মৈত্রী সেতু’ উদ্বোধন করেন৷ এতে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম এবং চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব কমে মাত্র ১১১ কিলোমিটার হয়ে গেছে। সরকার সাব্রুমে একটি ‘মাল্টি-মডাল ট্রানজিট হাব’ নিয়ে কাজ করছে যেখানে সড়ক ও রেল সংযোগ থাকবে৷ যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পৌঁছুতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সংযোগকারী মেঘালয়ের ডাউকি, দক্ষিণ আসামের সুতারকান্দি এবং ত্রিপুরার আখাউড়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে দ্রুত প্রবেশের জন্য মিজোরাম খোয়াথল্যাংতুইপুই নদীজুড়ে (বাংলাদেশের কর্ণফুলী) সেতু নির্মাণে আগ্রহী। ব্রহ্মপুত্রের সাথে যুক্ত ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুট ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে কার্গো জাহাজ গোমতী নদী হয়ে ত্রিপুরা এবং কুশিয়ারা নদী হয়ে আসামের করিমগঞ্জে পৌঁছেছে। সূত্র –মানবজমিন।

ভারতে গ্রেফতার পি কে হালদার তিন দিনের রিমান্ডে: ফিরিয়ে আনা হবে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0

পিকে হালদার কাÐে তোলপাড় চলছে বাংলাদেশে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আটক দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম বড় কেলেঙ্কারির খলনায়ক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানানো হলে আদালত তা মঞ্জুর করে। শনিবার উত্তর চব্বিশ পরগনার একটি আদালতে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার এ আবেদন জানানো হয়েছিল। রোববার এ আদেশ দেয়া হয়।
এর আগে বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদার ও তাঁর কিছু সহযোগীর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সম্পত্তিতে অভিযান চালায় ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পি কে হালদারের অন্য সহযোগীদের মধ্যে আছেন প্রীতিশ কুমার হালদার, প্রাণেশ কুমার হালদারসহ আরও কয়েকজন। শনিবার পি কে হালদারকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, পি কে হালদারের দখল করা চারটি প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও রিলায়েন্স লিজিং (বর্তমান নাম আভিভা ফাইন্যান্স) থেকে তিনি ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন।
দুদক পি কে হালদারের প্রায় এক হাজার কোটি টাকার মূল্যের জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য স্থাবর সম্পদ ক্রোক করেছে। এ ছাড়া তাঁর ও তাঁর অর্থ কেলেঙ্কারির সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৪টি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় পি কে হালদারসহ আসামি ৮০ জন। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে জেলে।
এ অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত আলোচিত পি কে হালদারের ৮৩ সহযোগীর ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৩ জনের সম্পদের হিসাব বিবরণী চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পি কে হালদারের ৬৪ সহযোগীর বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ভারত জানালে পি কে হালদারের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশে আর্থিক খাতে আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) গ্রেফতার করার বিষয়ে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। এ ব্যাপারে ভারত জানালেই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সেমিনারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ কথা বলেন। ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: ইতিহাসের পুনর্র্নিমাণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পি কে হালদার বাংলাদেশের ওয়ান্টেড। বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পি কে হালদারের প্রাসাদসম বাড়িসহ অনেক সম্পদের সন্ধান পায় ইডি। সংস্থাটি পি কে হালদার ও তাঁর সহযোগীদের সম্পদের সন্ধানে গত দুই দিনে অন্তত ১০টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে। প্রধানত আর্থিক কেলেঙ্কারি, বেআইনিভাবে ভারতে অর্থ পাঠানো, বিদেশে অর্থ পাচার ও আইনবহির্ভূত সম্পত্তির বিষয়ে তদন্ত করছে ইডি। অবশ্য এ পর্যন্ত কতগুলো বাড়ি, জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হদিস পাওয়া গেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা যায়নি।
এনআরবি গেøাবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পি কে হালদার বাংলাদেশে আর্থিক খাতের শীর্ষ দখলদার ও খেলাপিদের একজন। ২০১৯ সালে তিনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে যান, পরে কানাডায় পাড়ি জমান।

বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হাত-পা বেঁধে দেয়া হচ্ছে

0

গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করছেন গণমাধ্যম সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, এসব আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হাত-পা বেঁধে দেয়া হচ্ছে। এমন অবস্থায় স্বাধীন সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এসব আইনের মাধ্যমে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টিকারী বিদ্যমান আইনি কাঠামোগুলো চিহ্নিত করবে সম্পাদক পরিষদ। পাশাপাশি মালিক ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস: ডিজিটাল নজরদারিতে সাংবাদিকতা’- শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে সম্পাদক পরিষদ। অনুষ্ঠানে সম্পাদক পরিষদের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যম মালিকরা অংশ নেন। আলোচনায় গণমাধ্যমের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ডিফেমেশন ল’, অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট, কনটেম্পট অব কোর্ট, আইসিটি অ্যাক্ট, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, গণমাধ্যমকর্মী আইন, ডেটা প্রটেকশন অ্যাক্ট ও ওটিটি আইনসহ বেশকিছু আইন রয়েছে যেগুলোর নাম ভিন্ন হলেও প্রয়োগের পরিধি অভিন্ন। এগুলো প্রয়োগে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন- আমরা এমন কী করি এত আইন করে আমাদের হাত-পা বেঁধে দিতে হবে? ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে।
ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে অপরাধ সংক্রান্ত ২০টি ধারার মধ্যে ১৪টিই জামিন অযোগ্য। সাংবাদিকরা এমন কী অপরাধ করে যে, তাদের জামিন করা যাবে না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা বিকশিত হওয়ার পথে অন্তরায় এই আইন। আইনটি তৈরির সময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল একটি লাইন যুক্ত করতে যে, আইনটি গণমাধ্যমের ওপর প্রয়োগ হবে না। শুধুমাত্র ডিজিটাল অপরাধের জন্য প্রযোজ্য হবে।
গণমাধ্যমকর্মী আইন নামে একটি আইন করা হয়েছে যা আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে সাংবাদিকবান্ধব আইন। কিন্তু এই আইনে গণমাধ্যম আদালত, আপিল আদালতের কার্যক্রম যুক্ত করে সাংবাদিকদের হাত-পা বেঁধে দেয়া হয়েছে।
সম্পাদক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সেল্ফ সেন্সরশিপ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। ‘ডিজিটাল নজরদারিতে সাংবাদিকতা’- এটা আমি বিশ্বাসই করি না। কারণ অ্যাকশন যেখানে শুরু হয়ে গেছে, মামলা হচ্ছে, অ্যারেস্ট হচ্ছে সেখানে আমরা নজরদারির কথা বলছি কেন? আমার নিজের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, তিনবার অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল হয়েছে। এরশাদের জমানায় জেলে গিয়েছি, খালেদা জিয়ার আমলে জেলখানায় গিয়েছি। আর এই আমলে ৮ মাস দেশের বাইরে ছিলাম। এখন দেখছি আইন লাগে না, সেখানে নতুন আইনের কী প্রয়োজন। প্রচলিত আইনই প্রয়োগ করা হয়েছে বারবার।
তিনি বলেন, মালিকদের নয়, সমস্যা সাংবাদিকদের মধ্যে। কোনো রিপোর্টারদের হাতে রিপোর্ট আসলে সম্পাদকের কাছে দেয়ার আগেই তারা কিল করে বসে থাকেন। অথবা কোন রিপোর্ট যাচ্ছে, তারা রিকোয়েস্ট করেন এটা না দিলে কেমন হয়।
তিনি বলেন, এই অবস্থায় আমাদের সম্মিলিতভাবে অবস্থান নিতে হবে। একা সেটা সম্ভব নয়। বিভাজন থাকলে কোনো অবস্থাতেই এ থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। বিভাজন কেন হলো, কারা করলো অনেক বছর থেকে এটা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। এই বিতর্কে গিয়ে লাভ নেই।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনটি প্রণয়নের সময় আমরা ১৩/১৪টি ধারা নিয়ে সমস্যার কথা বলেছিলাম। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এখানে ৫৭ ধারা থাকবে না। আইনটি সংসদে উত্থাপনের সময় আইনমন্ত্রী বলেছিলেন এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তার সারা জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে। আইনমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, সাংবাদিকদের ওপর আইনটি প্রয়োগ হবে না। যদি কোনো কারণে প্রয়োগ হয় তবে তিনি আইনজীবী হিসেবে বিনা পয়সায় সাংবাদিকদের পক্ষে লড়বেন। কিন্তু কোথায় আইনজীবী আর কোথায় মন্ত্রী- আমরা খুঁজে পাইনি।
সম্পাদক পরিষদের সহ-সভাপতি ও নিউএইজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, আমরা যে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছি সেটা শতভাগ রাজনৈতিক সমস্যা। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সাংবিধানিক অধিকার। বাংলাদেশের মানুষ যখনই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছে কোনো সরকারই কোনো সময়ই তা সহজে হতে দেয়নি। যখনই কোনো সরকার কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে ওঠে তখন যে বিষয়গুলোর ওপর আক্রমণ করে বসে সেটি হচ্ছে সংবাদপত্র। যখন কোনো সমাজে মিডিয়ার ওপর নিপীড়ন হচ্ছে, মিডিয়া কর্মীদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে কিংবা ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে-সেটা যে পরিমাণ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সমাজে গণতন্ত্রের ঘাটতি সেই পরিমাণ হচ্ছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু সাংবাদিকদের প্রয়োজন নয়, জনসাধারণেরও প্রয়োজন রয়েছে।
সম্পাদক পরিষদের সহ-সভাপতি ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, পেছন থেকে কেউ নজরদারি করলে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করা যায় না। মুক্তবুদ্ধি, মুক্ত চিন্তা, মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য যে সংস্কৃতি দরকার সেটি বাংলাদেশে আছে কিনা, বাস্তবে আছে কিনা সে প্রশ্ন থেকে যায়। আমাদের সংকটে সুশীল সমাজ পাশে থাকে না। কারণ আমরা দুটো আলাদা আলাদা সুশীল সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করি। তাহলে আমাদের সংকটে কেন তারা পাশে দাঁড়াবে। গণতন্ত্রের জন্য বড় প্রয়োজন মুক্ত সাংবাদিকতা।
নিউজপেপার ওনার্স এসোসিয়েশন-নোয়াব সভাপতি একে আজাদ বলেন, সংবাদপত্রের বিকাশে সাহসী নেতৃত্ব জরুরি। ৬০/৭০/৮০-এর দশকে সাংবাদিকদের মধ্যে যে নেতৃত্ব গড়ে উঠেছিল, দক্ষ ও সাহসী সাংবাদিক পাওয়া গিয়েছিল সেই ধারাবাহিকতা আমরা দেখতে পাই না। মালিক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও সম্পাদকরা একত্রিত হলে আমরা সকলকে আমাদের সমস্যাগুলো বোঝাতে সক্ষম হবো।
আজকের পত্রিকার সম্পাদক গোলাম রহমান বলেন, আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি কিন্তু গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি না। সব সরকারই গণমাধ্যমকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে।
বিএফইউজে’র একাংশের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, রাজনৈতিক বিভক্তি এখন বড় সমস্যা। একই নামে সংগঠন কিন্তু সভাপতি দুই জন। এই বিভক্তির অবসান দরকার।
ডিইউজে’র একাংশের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী বলেন, আইন হয় মানুষের কল্যাণে, রাষ্ট্রের কল্যাণে। কিন্তু আমাদের দেশে আইন হচ্ছে মানুষের কন্ঠরোধ করার জন্য। রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য। মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটির ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু বলেন, ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারে যেতে হলে বুদ্ধিভিত্তিক চর্চাকেও সেই উচ্চতায় নিতে হবে। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বিএফইউজে’র একাংশের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, ডিইউজে’র একাংশের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন প্রমুখ। সূত্র -মানবজমিন।

জঙ্গি অর্থায়ন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়ানো ১১৬ ব্যক্তি চিহ্নিত; শ্বেতপত্র ধরে তদন্ত করতে পারে আইনশৃংখলা বাহিনী

0

ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়ানো এবং ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও জঙ্গী অর্থায়নের অভিযোগে শতাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে যে শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে তা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে সহায়ক হতে পারে। ১১৬ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ দিয়ে তাদের ‘ধর্ম ব্যবসায়ী’হিসেবে চিহ্নিত করেছে ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’। বুধবার এই শ্বেতপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের কাছেও এই রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লার কাছে শ্বেতপত্র ও সন্দেহভাজন শতাধিক ব্যক্তির তালিকা হস্তান্তর করে গণকমিশনের চেয়ারম্যান সুপ্রিমকোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জানান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং জাতীয় সংসদের আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক ককাসের যৌথ উদ্যোগে গঠন করা হয় ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’। ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন’ শীর্ষক শ্বেতপত্রটির মোড়ক উন্মোচন করা হয় ১২ মার্চ।
এদিকে এধরনের অভিযোগ দুদক তদন্ত করবে কী না এ ধরণের এক প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমরা শ্বেতপত্রের কপি দুদক চেয়ারম্যানের কাছে দিয়েছি। তিনি শ্বেতপত্র ভালো করে পড়ে দুদকের আইনের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব ততটুকু করবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
‘দুদকের আইনের বাইরে কিছু থেকে থাকলে সেটা করার জন্য বিভিন্ন সংস্থা যেমন সিআইডি কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তা প্রেরণ করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবেন বলেও জানিয়েছেন।’
শ্বেতপত্রে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের ছবিসহ বিবরণ, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি এবং এসব ঘটনার স্থায়ী সমাধানে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। ‘এর মধ্যে বিশেষ করে যারা এসব ঘটনার জন্য দায়ী তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকতার শিকড় উপড়ে ফেলতে এই শ্বেতপত্র অপরাধ দমনসংশ্লিষ্ট বিশেষ করে দুদককে সহযোগিতা করবে বলে মনে করেন বিচারপতি মানিক।
গণকমিশনের সচিবালয়ের সমন্বয়কারী কাজী মুকুল বলেন, ‘মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকতা অপশক্তি সারা দেশে নাশকতার পাশাপাশি তাদের অর্থের উৎস এবং এর ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষকে ভিন্নপথে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে- এই তথ্যগুলোই আমরা শ্বেতপত্রে উল্লেখ করেছি।’
তালিকায় যাদের নাম
১. মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী, ২. মাওলানা সাজিদুর রহমান, ৩. মুফতি রেজাউল করিম, ৪. মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম, ৫. মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী, ৬. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (বাশার), ৭. মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, ৮. মুফতি দিলওয়ার হোসাইন সাইফী, ৯. মাওলানা সাইয়্যেদ কামাল উদ্দিন জাফরী, ১০. মাওলানা মাহমুদুল হাসান ভূজপুরী, ১১. মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী, ১২. মাওলানা মুহিব খান, ১৩. মুফতি সাঈদ আহমদ কলরব, ১৪. মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, ১৫. মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী, ১৬. মাওলানা আব্দুর রহিম বিপ্লবী, ১৭. মাওলানা আরিফ বিল্লাহ, ১৮. মাওলানা বজলুর রশিদ, ১৯. মুফতি নাজিবুল্লাহ আফসারী, ২০. মাওলানা ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী, ২১. মুফতি নূর হোসেন নুরানী, ২২. মুফতি কাজী ইব্রাহিম, ২৩. মাওলানা গোলাম রাব্বানী, ২৪. মাওলানা মুজাফফর বিন মহসিন, ২৫. মাওলানা মোস্তফা মাহবুবুল আলম, ২৬. মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুনবি, ২৭. মাওলানা শায়েখ সিফাত হাসান, ২৮. মাওলানা মোহাম্মদ রাকিব ইবনে সিরাজ, ২৯. মাওলানা ফয়সাল আহমদ হেলাল, ৩০. মাওলানা মতিউর রহমান মাদানী, ৩১. মাওলানা মুজিবুর রহমান, ৩২. মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, ৩৩. মাওলানা হাফিজুর রহমান ছিদ্দীকী, ৩৪. মাওলানা আজিজুল ইসলাম জালালী, ৩৫. মাওলানা মেরাজুল হক কাসেমী, ৩৬. মুফতি মুহসিনুল করিম, ৩৭. মাওলানা আব্দুল বাসেত খান, ৩৮. মাওলানা আবদুল খালেক সাহেব শরিয়তপুরী, ৩৯. মুফতি মাহমুদ উল্লাহ আতিকী, ৪০. মুফতি উসমান গণি মুছাপুরী, ৪১. মাওলানা আবু নাঈম মুহাম্মাদ তানভীর, ৪২. মুফতি শিহাবুদ্দীন, ৪৩. মুফতি মুসতাঈন বিল্লাহ আল-উসওয়ায়ী, ৪৪. মাওলানা আশরাফ আলী হরষপুরী, ৪৫. মাওলানা জাকারিয়া, ৪৬. মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফী, ৪৭. মুফতি আনোয়ার হোসাইন চিশতী, ৪৮. মাওলানা আতিকুল্লাহ, ৪৯. মাওলানা বশির আহমদ, ৫০. মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী, ৫১. মাওলানা রিজওয়ান রফিকী, ৫২. মাওলানা আবরারুল হক হাতেমী, ৫৩. মাওলানা রাফি বিন মুনির, ৫৪. মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম জাবেরী, ৫৫. মাওলানা মোতাসিম বিল্লাহ আতিকী, ৫৬. মুফতি শেখ হামিদুর রহমান সাইফী, ৫৭. মাওলানা আজহারুল ইসলাম আজমী, ৫৮. মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমী, ৫৯. মাওলানা কামাল উদ্দিন কাসেমী, ৬০. মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন নুরী, ৬১. মাওলানা মাজহারুল ইসলাম মাজহারী, ৬২. মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফেরদাউস, ৬৩. মুফতি এহসানুল হক জিলানী, ৬৪. মাওলানা মাহবুবুর রহমান জিহাদি, ৬৫. মুফতি আব্দুল হক, ৬৬. মুফতি শাহিদুর রহমান মাহমুদাবাদী, ৬৭. মাওলানা ইসমাঈল বুখারী, ৬৮. মাওলানা জয়নুল আবেদীন হাবিবী, ৬৯. মাওলানা ইউসুফ বিন এনাম, ৭০. মাওলানা শাববীর আহমদ উসমানী, ৭১. মুফতি জাহিদুল ইসলাম যায়েদ, ৭২. মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম জামী, ৭৩. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, ৭৪. মাওলানা ইসমাইল হোসাইন, ৭৫. মুফতি আব্দুর রহিম হেলালী, ৭৬. মুফতি ওমর ফারুক যুক্তিবাদী, ৭৭. মাওলানা মুশাহিদ আহমদ উজিরপুরী, ৭৮. মাওলানা কাজিম উদ্দীন (অন্ধ হাফেজ), ৭৯. মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, ৮০. মুফতি হারুনুর রশিদ, ৮১. মাওলানা আবুল কাসেম, ৮২. মুফতি ওয়ালী উল্লাহ, ৮৩. মাওলানা আবু নাঈম মুহাম্মাদ তানভীর, ৮৪. মাওলানা জাকারিয়া নাটোর, ৮৫. মাওলানা আবুল হাসান (সাদী), ৮৬. মুফতি রুহুল আমিন নুরী, ৮৭. মুফতি মামুনুর রশিদ কামালী, ৮৮. মাওলানা আবদুল কালাম আজাদ, ৮৯. মাওলানা ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী (নওমুসলিম), ৯০. মাওলানা শামসুল হক যশোরী (নওমুসলিম), ৯১. মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ, ৯২. মাওলানা মুফতি ওলিউল্লাহ, ৯৩. মাওলানা বেলাল হুসাইন ফারুকী, ৯৪. মুফতি ওমর ফারুক যুক্তিবাদী, ৯৫. মাওলানা আমির হামজা, ৯৬. মাওলানা মিজানুর রহমান আযহারী, ৯৭. মাওলানা তারেক মনোয়ার, ৯৮. মাওলানা আব্দুল হালিম বোখারী, ৯৯. মাওলানা আতাউল্লাহ হাদেমী, ১০০. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেন, ১০১. মাওলানা মামুনুল হক, ১০২. মুজিবুর রহমান হামিদী, ১০৩. মাওলানা মুশতাকুন্নবী, ১০৪. মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, ১০৫. মাওলানা কুতুব উদ্দীন নানুপুরী, ১০৬. মাওলানা বেলাল উদ্দীন, ১০৭. মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী, ১০৮. মাওলানা রুহুল আমিন যুক্তিবাদী, ১০৯. মাওলানা আবুল কালাম বয়ানী, ১১০. মাওলানা রফিকুল্লাহ আফসারী, ১১১. মাওলানা আব্দুল্লাহ আল-আমিন, ১১২. মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসাইন সাইফী, ১১৩. মাওলানা আলাউদ্দীন জিহাদি, ১১৪. মাওলানা আবু বকর মোহাম্মদ জাকারিয়া, ১১৫. জৈনপুরী সিলসিলার মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী এবং ১১৬. মাওলানা মাহবুবুর রহমান জৈনপুরী।

ভারতে আটকের ৩ বছর পর দেশে ফিরলেন ৫ বাংলাদেশি

0

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটকের তিন বছর পর, স্বদেশে ফিরেছে বাংলাদেশের পাঁচ নাগরিক। বৃহস্পতিবার (১২ মে) দুপুরে, আগরতলা থেকে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তারা। ফিরে আসা ব্যাক্তিরা হলেন- চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, একই এলাকার মোহাম্মদ হোসাইন, মো. আব্দুল রহিম, মোহাম্মদ আলম ও মো. দিদার। আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের রামগড় সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের পর, ওই পাঁচ বাংলাদেশি, ত্রিপুরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে, আদালতের নির্দেশে তাদের আগরতলা ওল্ড হোমে রাখা হয়।বাংলাদেশে তাদের ঠিকানা নিশ্চিত করার পর স্বদেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়া হয়।
ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ জানান, “ত্রিপুরা উচ্চ আদালতের এক রায়ে তাদেরকে পাঁচদিনের কারাবাস দেয়া হলে তারা নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করে। এরপর তাদেরকে আগরতলার নরসিংগড় এলাকায় ‘স্টেট ওল্ড এজ হোম’এ রাখা হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তায় তাদের জাতীয়তা নিশ্চিত শেষে, তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়।”ভয়েস অফ আমেরিকা।

৮ তেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারের মামলা

0

সয়াবিন তেল মজুদ রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে দেশের ভোজ্যতেল আমদানিকারক আট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সরকারের প্রতিযোগিতা কমিশন। গত বুধবার সেবা সীমিতকরণ বা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে এ মামলা করা হয়।
যে আট কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সেগুলো হলো সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড (তীর ব্র্যান্ড), বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড (রূপচাঁদা ব্র্যান্ড), মেঘনা ও ইউনাইটেড এডিবল অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড (ফ্রেশ ব্র্যান্ড), বসুন্ধরা অয়েল রিফাইনারি মিল (বসুন্ধরা ব্র্যান্ড), শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (পুষ্টি ব্র্যান্ড), এস আলম সুপার এডিবল অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এস আলম ব্র্যান্ড), প্রাইম এডিবল অয়েল লিমিটেড (প্রাইম ব্র্যান্ড) ও গ্লোব এডিবল অয়েল লিমিটেড (রয়্যাল শেফ ব্র্যান্ড)।
কমিশন সূত্রে জানা যায়,এর আগে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন তেলের বাজারের ওপর স্বাধীন অনুসন্ধান করে। এরপর তেলের প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত করার স্বার্থে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে এ মামলা করেছে সংস্থাটি।
বিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিমধ্যে মামলার শুনানিতে অংশ নিতে নোটিশও পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার এখতিয়ার আছে। আগামী ১৮ ও ১৯ মে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু ভোজ্যতেল নয়, অন্য যে কোনো পণ্যের ক্ষেত্রেও যদি সিন্ডিকেট বা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ পাওয়া যায়, আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এলআরএফ’এর সভাপতি আশুতোষ, সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার

0

আইন, বিচার, মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) নির্বাচনে ২০২২-২০২৩ মেয়াদের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার আশুতোষ সরকার আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আহাম্মেদ সরোয়ার হোসেন ভূঁঞা।
শুক্রবার(১৩ মে) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আশরাফ উল আলম ফলাফল ঘোষণা করেন। সঙ্গে ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য মিজান মালিক ও তোফায়েল হোসেন। সংগঠনের ১৩টি পদে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
সহ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিনিয়র রিপোর্টার দিদারুল আলম। যুগ্ম সম্পাদক পদে জাগো নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার ফজলুল হক মৃধা, কোষাধ্যক্ষ পদে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল জাব্বার খান, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার আরাফাত মুন্না, দপ্তর সম্পাদক পদে দৈনিক আজকের পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এস এম নূর মোহাম্মদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে এখন টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার জাহিদ হাসান, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক পদে নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির স্টাফ রিপোর্টার হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

এছাড়া কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক মুখপাত্রের শেখ মুহাম্মদ জামাল হোসাইন (শেখ জামাল),ঢাকা মেইল ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম মল্লিক, ঢাকাপ্রকাশ টোয়েন্টিফোর ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার মাহমুদুল আলম এবং যমুনা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ তুহিন।
এর আগে বিদায়ী কমিটির সভাপতি মাশহুদুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইয়াছিনের সঞ্চালনায় বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, এলআরএফের সাবেক সভাপতি এম বদি উজ জামান প্রমূখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি স্বপন দাশ গুপ্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, দিদারুল আলম দিদার, একেএম রফিকুল হাসান (হাসান জাভেদ), আজিজুল ইসলাম পান্নু, মনিরুজ্জামান মিশন, সংগঠনের সিনিয়র সদস্য মাহমুদুর রহমান খোকন, শংকর মৈত্র, এম এ নোমান, আবুল কাসেম, বিকাশ নারায়ণ দত্ত, সাজেদুল হক ।

বৈবাহিক ধর্ষণ অপরাধ প্রশ্নে বিভক্ত রায় দিলো দিল্লি হাই কোর্ট

0

বৈবাহিক ধর্ষণ অপরাধ কী না এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত রায় দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত কয়েকটি মামলার একত্রে শুনানি শেষে ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতি রাজীব শকধের ও সি হরিশংকর আলাদা আলাদা মত দিয়েছেন। তবে আবেদনকারী হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন দুই বিচারপতি। খবর এনডিটিভি, সংবাদ প্রতিদিন।
বৈবাহিক ধর্ষণ কি অপরাধ? কেন অপরাধ? এই বিষয়েই বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছিল দিল্লি হাই কোর্টে। এই বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি রাজীব শাকধের যা বললেন তা মানতে চাইলেন না ডিভিশন বেঞ্চের অন্য বিচারপতি সি হরিশংকর। তিনি জানালেন, ধর্ষণ আইনের ব্যতিক্রমী ধারাটি সংবিধানের পরিপন্থী নয় কোনওভাবেই। কারণ, স্বামী-স্ত্রীর মতপার্থক্যের কারণেই একমাত্র এই ধরনের অভিযোগ উঠে থাকে। যাকে কখনই সেই অর্থে অপরাধ বলে গণ্য করা ঠিক নয়।
উল্লেখ্য, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণের প্রসঙ্গ টানা যায় কিনা তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে দেশে। অনেকের মতে বিষয়টি পশ্চিমি সংস্কৃতি থেকে আমদানি করা হয়েছে। এই বিষয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট কেন্দ্রের অবস্থান জানাতে চেয়েছিল। যদিও কেন্দ্র এখনও অবধি তাদের মত দেয়নি। তবে ওই সময় কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছিল, এই বিষয়ে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। তারপর তারা তাদের বক্তব্য জানাবে।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি মামলায় বৈবাহিক ধর্ষণ প্রসঙ্গ ওঠে কেরল হাই কোর্টে। ওই মামলায় আদালত জানায়, বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলায় বৈবাহিক ধর্ষণ যথেষ্ট যুক্তিগ্রাহ্য কারণ। কেরল হাই কোর্টের বিচারপতিরা জানান, ভারতে বৈবাহিক ধর্ষণ দণ্ডণীয় অপরাধ নয় বটে তবে শরীর হোক বা আত্মপরিচয় , স্ত্রীর কোনও কিছুর উপরই কর্তৃত্ব চালাতে পারেন না একজন স্বামী। আদালত আরও বলে, স্ত্রীর শরীরকে স্বামী যদি সম্পত্তি ভাবেন এবং জোর করে সঙ্গমে লিপ্ত হন, তাহলে সেটি বৈবাহিক ধর্ষণই।

তিন বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৪’শ কোটি টাকার অনিয়ম: টিআইবি’র তথ্য

0

দেশের তিনটি কয়লা ও এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পায় চার’শ কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। এগুলো হলো বরিশাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাঁশখালী এসএস বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভূমি ক্রয়, অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে এই অনিয়মের চিত্র পেয়েছে গবেষণা সংস্থাটি। বুধবার বাংলাদেশে কয়লা ও এলএনজি বিদ্যুৎ প্রকল্প: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ চিত্র তুলে ধরে সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির গবেষণায় উঠে আসা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন সংস্থাটির গবেষক মাহফুজুল হক ও নেওয়াজুল মওলা। প্রতিবেদনে বলা হয়, বরিশাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্নীতির পরিমাণ ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৯০ হাজার, বাঁশখালী এস এস বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২৫৫ কোটি ও মাতারবাড়ী এলএনজি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আত্মসাৎ হয়েছে ১১৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারক এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসে যথাযথ বিশ্লেষণ না করে প্রভাবশালীদের স্বার্থে কয়লা ও এলএনজি প্রকল্প অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, ইজারাকৃত জমি ব্যবহারকারীদের ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাৎ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত জমি ক্রয়/অধিগ্রহণ বাবদ মূল্য প্রদানে কমিশন আদায়, ব্যক্তিগত জমির ক্ষতিপূরণের এককালীন অনুদানের টাকা আত্মসাৎ, ব্যক্তিগত জমির ক্ষতিপূরণের এককালীন অনুদানের টাকা প্রদানে কমিশন আদায়, জনপ্রতিনিধি, এনজিওকর্মী, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ এবং মধ্যস্বত্বভোগী ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জবরদখল এবং অর্থ প্রদান না করা খাস জমির জাল দলিল তৈরি করে তা বিক্রয় বাবদ অর্থ গ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে (ভারত, চীন,পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া) নির্মিত কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বাংলাদেশি টাকায় ৩.৪৬-৫.১৫ মধ্যে থাকলেও নির্বাচিত প্রকল্পে বেশি মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের সুযোগ রেখে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে বিদ্যুতের দাম ২২ থেকে ৪৯ শতাংশ বেশি দাম পড়বে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সার্বিকভাবে জ্বালানি খাতের উন্নয়নে দাতানির্ভর নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সরকারের উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেই অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে অধিক দুর্নীতি এবং দ্রুত মুনাফা তুলে নেয়ার সুযোগ থাকায় দরকার না থাকলেও কয়লা এবং এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রভাবশালী মহলকে অনৈতিক সুবিধা প্রদানে প্রকল্প অনুমোদন, বিবিধ চুক্তি সম্পাদন, ইপিসি ঠিকাদার নিয়োগ, বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ এবং বিদ্যুৎ ক্রয়ে প্রতিযোগিতা ভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার না করে বিশেষ বিধানের আওতায় চুক্তি ও কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়েছে। কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গবেষণায় আমরা দেখতে পেয়েছি পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে এবং পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পরিবেশ দূষণ ও সংকটাপন্ন এলাকাসমূহে ঝুঁকি বৃদ্ধি পেলেও পরিবেশ অধিদপ্তর বিদ্যমান আইন ও বিধি কার্যকরভাবে প্রয়োগে ব্যর্থ- বন, নদী, খাস জমিসহ প্রাকৃতিক সম্পদের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি সাধন হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং পুলিশের গুলিতে আন্দোলকারীদের মৃত্যু; মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলেও বিচার না হওয়াসহ অপরাধীদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। সূত্র -মানবজমিন।