সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে করা মামলায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ চার্জগঠনের আদেশ দেন।
একই সঙ্গে আদালত আগামী ১৭ মে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন। আদালত নাজমুল হুদার অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জগঠনের এ আদেশ দেন।
শুনানিকালে নাজমুল হুদা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ন্যায়বিচার প্রার্থণা করেন। দুদকের আইনজীবী এম এ সালাউদ্দিন ইস্কান্দার চার্জগঠনের পক্ষে শুনানি করেন।
এর আগে গত বছর ২৪ নভেম্বর ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন। চার্জশুনানির তারিখ ধার্য করে মামলাটি চার্জ গঠনকারী আদালতে বদলির আদেশ দেন। গত বছর অক্টোবরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক পরিচালক বেনজীর আহম্মেদ নাজমুল হুদাকে অভিযুক্ত করে এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন।
এর আগে ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়-১-এ নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন সংস্থাটির পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় এস কে সিনহার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে হওয়া একটি মামলা উচ্চ আদালতে ডিসমিস করার পরও প্ররোচিত হয়ে মামলাটির রায় পরিবর্তন করা হয়। মামলাটি ডিসমিস করতে দুই কোটি টাকা ও অন্য একটি ব্যাংক গ্যারান্টির আড়াই কোটি টাকার অর্ধেক ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা উৎকোচ চান এসকে সিনহা। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য দুদকে আসে।
দেড় বছর তদন্ত করে এসকে সিনহার বিরুদ্ধে নাজমুল হুদার মামলাটি মিথ্যা অভিযোগে করা মর্মে প্রমাণিত হয়েছে দুদকের। আর মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে উল্টো ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধেই মামলা করে দুদক।সূত্র-আমাদের সময়।
এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিচার শুরু
টিপ পরা নিয়ে শিক্ষিকাকে বাজে মন্তব্যকারী পুলিশ বরখাস্ত,তদন্ত কমিটি গঠন
তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দারকে টিপ পরা নিয়ে মন্তব্য করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য মো. নাজমুল তারেককে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৪ এপ্রিল ২০২২) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ ফারুক হোসেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২ এপ্রিল ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দার শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাবর এক লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন যে, তিনি পুলিশের পোশাক পরিহিত একজন দ্বারা ইভটিজিং ও প্রাণনাশের চেষ্টার শিকার হয়েছেন, যার ঘটনাস্থল শেরেবাংলা নগর থানাধীন সেজান পয়েন্টের কাছাকাছি।
এ অভিযোগ প্রাপ্ত হয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তদন্ত কাজ শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তেজগাঁও পুলিশ আজ (৪ এপ্রিল, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার) ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে। প্রাথমিকভাবে শনাক্তকৃত পুলিশের নাম মো. নাজমুল তারেক, পদবী- কনস্টবল, বর্তমানে ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগে কর্মরত।
বর্ণিত কনস্টবল উক্ত অভিযোগকারিনীর সাথে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হওয়ার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করায় তাকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ২ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ অভিযোগ সংক্রান্তে কমিটির সদস্যদ্বয়কে ০৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। সূত্র -ডিএমপি নিউজ।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড: ১০ বছর আগের রুলের শুনানি হবে হাইকোর্টে
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার কারণ উদঘাটনে সরকারের উদ্যোগ নিয়ে ১০ বছর আগে জারি করা রুলের ওপর শিগগির শুনানি হবে হাইকোর্টে। সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চ বিষয়টিকে শুনানির তালিকায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আইনজীবী মনজিল মোরসেদের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান,’আগামীকাল বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকায় আসলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে হাইকোর্ট ওই রুলের ওপর শুনানি শুরু করতে পারেন।’ মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করা এবং হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, পরবর্তী ২ সপ্তাহের মধ্যে তার ব্যাখ্যা দিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। এ ছাড়াও, এই জোড়া খুনের চলমান তদন্তের কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি ছাড়া গণমাধ্যমে কোনো বিবৃতি না দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।
বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার এবং তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনিকে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে তাদের ভাড়া বাসায় হত্যা করা হয়।
শেরেবাংলা নগর পুলিশ ও পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল র্যাবকে এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।
এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, ওই বাড়ির ২ নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনামুল হক এবং সাগর-রুনির ‘পারিবারিক বন্ধু’ তানভীর রহমান। তানভীর ও পলাশ জামিনে জেল থেকে বের হলেও, বাকিরা এখনো কারাগারে আছেন। সূত্র-দ্য ডেইলি স্টার।
হাইওয়ে ছাড়া সব রাস্তায় ৩ চাকার ইজিবাইক চলবে : সুপ্রিম কোর্টের রায়
দেশের মহাসড়ক ছাড়া বাকি সব রাস্তায় ৩ চাকার ইজিবাইক চালানোর অনুমতি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা পরিবর্তন করে এ আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সারাদেশে চলা অবৈধ ইজিবাইকগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলো অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
অবৈধ ইজিবাইকের আমদানি ও দেশে সেগুলো উৎপাদন বন্ধে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের করা লিভ টু আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৩ সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
বাংলাদেশ ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমির।
সাংবিধানিক জটিলতায় পাকিস্তান, কে হচ্ছেন তত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী?
অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল হওয়া এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার পর সাংবিধানিক জটিলতার দিকে এগুচ্ছে পাকিস্তান। নতুন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর নাম আহ্বান করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ড. আরিফ আলভি।অবশ্য নতুন তত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী না হওয়া পর্যন্ত ইমরান খানই দায়িত্ব পালন করে যাবেন । তবে তিন দিনের মধ্যে যদি তত্বাধায়ক প্রধানমন্ত্রীর নাম না পৌঁছে প্রেসিডেন্টের কাছে সে ক্ষেত্রে বিদায়ী জাতীয় পরিষদের ৮ জন সদস্য নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে । আর এই কমিটির সুপারিশে প্রেসিডেন্ট একজনকে তত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।
তবে এই প্রস্তাবের বিরোধীতা করছে বিরোধীদলগুলো। বিশেষ করে বিরোধীদল নেতা শাহবাজ শরীফ ও পিপিপির চেয়ারম্যান বিলোয়াল ভূট্টো জারদারি। তারা একে সংবিধান লঙ্ঘন বলছেন।
প্রেসিডেন্ট ড.আরিফ আলভি পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও ভেঙ্গে দেয়া পার্লামেন্টের বিরোধী দলীয় নেতা শাহবাজ শরীফের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম চেয়ে চিঠি লিখেছেন। সংবিধানের ২২৪-এ(১) ধারার অধীনে এই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হবে বলে খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি অনাস্থা প্রস্তাব অসাংবিধানিক বলে তা খারিজ করে দেয়ার পর রোববার প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি পার্লামেন্ট ভেঙে দেন। এরপর সোমবার তিনি ইমরান খান ও শাহবাজ শরীফকে ওই চিঠি লিখেছেন। এতে তিনি বলেছেন- রোববার সংবিধানের ৫৮(১) ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার ও জাতীয় পরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োজিত না হচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ২২৪-এ(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন ইমরান খান। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে পরামর্শক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করে থাকেন প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি আরও বলেন, জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেয়ার তিন দিনের মধ্যে যদি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা প্রার্থী মনোনয়নে একমত না হন তাহলে তারা দুজন নমিনি দিতে পারবেন। বিদায়ী জাতীয় পরিষদের আটজন সদস্য অথবা সিনেট অথবা উভয়ের আটজন সদস্য নিয়ে স্পিকার একটি কমিটি গঠন করবেন। তাতে ট্রেজারি বেঞ্চ এবং বিরোধীদের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি থাকবেন। এই কমিটির সদস্যদেরকে মনোনীত করতে হবে প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল থেকে। সংবিধানের ২২৪-এ(১) ধারার অধীনে সংবিধান প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে পরামর্শক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা দিয়েছে প্রেসিডেন্টকে।
একে বেআইনি আখ্যায়িত করে এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন শাহবাজ শরীফ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট মিলে আইন লঙ্ঘন করেছেন। তারা কিভাবে বিরোধীদের কাছে আসে? এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শাহবাজ শরীফকে পাশে রেখে পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেন, কিভাবে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করা হবে এবং কিভাবে একজন প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে সংবিধানে তা বলা আছে। কিন্তু সেই পদক্ষেপগুলোকে ডিঙিয়ে যাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, যখন কোনো হাউজই (পার্লামেন্ট) নেই, তখন কিসের নেতা আর কিসের বিরোধী দল। ভোটে না দিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করা যায় না।
রাজধানী ইসলামাবাদে বিদায়ী তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বিরোধীদের এসব অভিযোগ আমলেই নিচ্ছেন না। তিনি বলেছেন, দেশ এখন আগামী নির্বাচনের আবহে আছে। বিরোধীরা সরকারের কর্মকাণ্ডকে অসাংবিধানিক বলে যে অভিযোগ উত্থাপন করেছে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
স্বাস্থ্যের ঠিকাদারদের গডফাদার মিঠু সিন্ডিকেটের দুর্নীতি তদন্তের সুপারিশ গোয়েন্দা সংস্থার
বাজারমূল্যের চেয়ে দুই থেকে ২৫ গুণ বেশি দামে মালামাল সরবরাহ; বিক্রীত মালের দামের চেয়ে ৫৮ গুণ ব্যয়ে মেরামত কিংবা একদিনের ব্যবধানে আট দেশ থেকে মালামাল সরবরাহের মতো বহু ‘রেকর্ড’ গড়েছে স্বাস্থ্যের ‘মিঠু সিন্ডিকেট’। দেশি যন্ত্রে বিদেশি স্টিকার লাগিয়ে গছিয়ে দেওয়া; নামে-বেনামে ৬১টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং মালামাল সরবরাহ না করেই শত শত কোটি টাকার বিল উত্তোলনের মতো কাজও হরহামেশাই করেছেন এ খাতের বিতর্কিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা বছরের পর বছর ধরে দেশের স্বাস্থ্য খাত জিম্মি করে রেখেছে।
পানামা পেপার্স কেলেংকারিতে নাম উঠেছে মিঠুর। এমনকি ১৫০০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপিও এই মিঠু। তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগও আছে। এমনকি তার সঙ্গে সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে মিঠুর অজানা অনেক দুর্নীতি উঠে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একজন সৎ, দক্ষ দেশপ্রেমিক বিচারপতিকে প্রধান করে দুদকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দেওয়া তথ্য বলছে, স্বাস্থ্য খাতের ঠিকাদার মিঠুুর জন্ম ১৯৭০ সালে ১ জুন। বাবা মৃত কাওসার উদ্দিন আহমেদ, মা উম্মে কুলসুম ও স্ত্রী নিশাত ফারজানা চৌধুরী। মিঠুর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ২৬৯৪৮১১০১৮৬৪৬, পাসপোর্ট নম্বর বিএইচ-০৮০৯৮৩৪, ৮৮০৭৬৫০৫৭ এবং ইই-০৮১১০০৫। স্থায়ী ঠিকানা রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষিটারী ইউনিয়নের মহিপুর গ্রাম। রংপুর শহরের (বাসা নম্বর ৪৬, রোড-১০) বুড়িরহাট রোড চিকনি ভাটায়। অন্যদিকে বর্তমান ঠিকানা হিসাবে রয়েছে গুলশান, বনানী, এলিফেন্টরোড, মালিবাগ, ডিওএইচএস এবং চট্টগ্রামের আগ্রবাদের বিভিন্ন ঠিকানার ৭টি বাসার তথ্য।
মেরামত ব্যয় ৫৮ গুণ : প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ঠিকাদারির ইতিহাসে মিঠুই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতির দামের চেয়ে বেশি দামে সেগুলোর মেরামত সেবা দিয়েছেন। দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি ‘বেবি স্কেলার’ সরবরাহ করেন সাড়ে ৭ হাজার টাকায়। এটি মেরামত বাবদ বিল উত্তোলন করেছেন ৪ লাখ ১১ হাজার ৯০০ টাকা। অর্থাৎ পণ্যের দামের তুলনায় মেরমাত খরচ প্রায় ৫৮ গুণ বেশি। একইভাবে ৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় একটি কার্ডিয়াক মনিটর সরবরাহ করে মেরামত বাবদ বিল উত্তোলন করেছেন ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা। একটি ফটোথেরাপি মেশিন সরবরাহ করেছেনে ৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকায়, যার মেরামত ব্যয় উত্তোলন করেছেন ৬ লাখ ৪০০ টাকা।
২০১৩-১৪ অর্থবছরের একটি দরপত্রে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রংপুর সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে ৭টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য ২০১৬ সালের ২৯ মে কার্যদেশ পান। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘কিউ-সোর্স’, যার স্বত্বাধিকারী হিসাবে তার ভাই মোকসেদুলের নাম দেওয়া রয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলোÑ ২৯ মে কার্যাদেশ পেয়ে পরের দিনই (৩০ মে) জার্মানি, ব্রাজিল, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, পোল্যান্ড, চীন ও জাপানে তৈরি হওয়া ২৪ কোটি ৮৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯৯০ টাকার মালামাল সরবরাহ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে আলোচিত ঠিকাদার মিঠু ৬১টি পৃথক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে সব ধরনের কেনাকাটার নিয়ন্ত্রণ করেন। এর মধ্যে স্বত্বাধিকারী হিসেবে মিঠুর নিজ নামে রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠান। তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ, টেকনো ট্রেড, লেক্সিকোন আইটি প্রাইভেট লিমিটেড, মেসার্স টেকনো ট্রেড, মেসার্স টেকনো ফিশিং, মেসার্স প্রি-আক্সও, সিআর মার্চেন্ডাইজ, লেক্সিকোন হাসপিটালাইট, নর্থ এগ লিমিটেড, নর্থবেঙ্গল পোল্ট্রি ফার্ম; অ্যাপল সিরামিক লিমিটেড, মেড ইকুইপ ইঞ্জিরিয়ারিং ইনভেনচার, টেকনোক্রেট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৭ সালে নিবন্ধনকৃত এম গেটওয়ে করপোরেশন। এ ছাড়া বড় ভাই মো. মোকসেদুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫টি। স্ত্রী নিশাত ফারজানার নামে ৩টি। এ ছাড়া অন্যান্য ভাই, ভাবি, ভাতিজা, ভাগিনা, বন্ধু ও তাদের স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠান খুলে বিশাল রাজত্ব তৈরি করেন মিঠু।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর অন্যতম সহযোগী তার ভাই মোকছেদুল ইসলাম ও ভাগ্নে বেনজীর আহমেদ। এ তিনজন এতটাই অপ্রতিরোধ্য যে, তার পরিধি দেশের সীমানা পেরিয়ে গেছে। এমনকি পানামা পেপার্স কেলেংকারিতেও নাম উঠেছে। স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১২ সালে মিঠুর বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় দুদক একটি মামলা (নন সাবমিশন) করে। একই সঙ্গে তার ভাই মোকছেদুল ইসলামের নামে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে একটি মামলা হয়।
সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মিঠুর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ও অনুসন্ধান শুরু হয়। কিন্তু পুনঃতদন্তে মিঠুর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে দুদক অভিযোগ সমাপ্তি করে বলে জানা যায়। ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তত ১৭টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে মালামাল সরবরাহ না করে এবং বাজার দরের চেয়ে বহুগুণ বেশি দরে বিদেশি মালামালের পরিবর্তে স্থানীয় নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করে তিনি সরকারের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারি ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা করেন। মিঠুর নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে ১০ থেকে ১২টি নথি খোলা হয়। সেগুলো অনুসন্ধানে একাধিক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একটি নথির মাধ্যমে সব অভিযোগ সংযুক্ত করে সিরাজুল হক মাত্র একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমেই এসব নিষ্পত্তি করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারি শনিবার আমাদের সময়কে বলেন, স্বাস্থ্যের একটি তদন্ত তার অধীনে ছিল তবে সেটি মিঠুর কিনা তার মনে নেই। বিষয়টি অনেক আগের। পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হওয়ায় তিনি এ বিষয়ে কোনো খবর রাখেননি।
লুটপাটের কিছু চিত্র : প্রতিবেদনে মিঠু সিন্ডিকেটের ঠিকাদারির নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের কিছু ঘটনা তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে সিটিস্ক্যান মেশিন সরবরাহ করা হয় ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকায়, যার বাজারমূল্য ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা। অর্থাৎ একটি সিটিস্ক্যান মেশিনে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হয়েছে ৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এভাবে ৩১ লাখ ৬১ হাজার টাকার এক্সরে মেশিন সরবরাহ করেন ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকায়, এক কোটি ৩৭ লাখ টাকার ভিডিও এন্ডোসকপি সরবরাহ করে ৪ কোটি টাকায়, দেড় লাখ টাকার ওটি লাইট সরবরাহ করেন ৫১ লাখ টাকায়। এভাবে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, রংপুর সিভিল সার্জন অফিস, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ, মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৬ কোটি ৫২ লাখ ১৫ হাজার টাকার মালামাল সরবরাহ করে ১৭ কোটি ৫৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪৭০ টাকা আত্মসাৎ করেন। মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ২০১৪-১৭ অর্থবছরে মিঠুুর স্ত্রী নিশাত ফারজানার মালিকানাধীন ফিউচার ট্রেডকে ৮৬ কোটি ২৯ লাখ ৮২ হাজার ১৫৫ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়, যেখানে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। মিঠুর ভাগ্নে মো. ফাহাদ মাহমুদের মালিকানাধীন অরডেন্ট সিস্টেমকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সেখানে আত্মসাৎ হয় ৪ কোটি টাকা। মিঠুর ভাবি সাবিহাতুল জান্নাতের মালিকানাধীন জিএসই অ্যান্ড ট্রেডিংকে ২০১৪-১৬ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩২ কোটি ৬১ লাখ ৫২ হাজার ১০০ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। যেখান থেকে প্রায় ২০ কোটি আত্মসাৎ করা হয়। রংপুর সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে মিঠুর ভাই মো. মোকসেদুল ইসলামের মালিকানাধীন কিউ-সোর্সকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেওয়া হয় ২৯ কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৯৫৪ টাকার কার্যাদেশ। এর মধ্যে ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়। একই প্রতিষ্ঠানকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৮ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সেখানেও আত্মসাৎ হয় ১২ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ওই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আত্মসাৎ হয় প্রায় ১৮ কোটি টাকা। ২০১৪-১৯ অর্থবছরে এ সিন্ডিকেট কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) থেকে ৭৩ কোটি ৭৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকার কার্যাদেশ পায়, যার মধ্যে ৪২ কোটি ২২ লাখ ৮৯ হাজার টাকার আত্মসাৎ হয়েছে। এ ছাড়া এ সময়ে মিঠু সিন্ডকেটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভুয়া বিল ভাউচার করে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং এজি অফিস সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে আরও ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলন করে।
ঋণ খোলাপি মিঠু : ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগও আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ঋণখোলাপিদের তালিকায় রয়েছে মিঠুর নাম। ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, থ্রি আই মার্চেন্ডাইস, লেক্সিকন মার্চেন্ডাইজার, অ্যাপল সিরামিক লিমিটেড, অর্ডেন্ট সিস্টেম, হেভ ইন্টারন্যাশনাল নর্থ বেঙ্গল পোল্ট্রিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং স্টারলিং ডায়াগনস্টিক লিমিটেড (নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র) অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৫ কোটি টাকাসহ আরব-বাংলাদেশ ব্যাংকে তার খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা।
এসব বিষয়ে জানতে মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর তিনটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তবে সব নম্বরই বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি তার অফিসের নম্বরে ফোন দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
দুর্নীতির বিষয়ে কথা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, এসব অনিয়ম-দুর্নীতি আগের। তিনি তখন অধিদপ্তরের কোনো দায়িত্বে ছিলেন না। তবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনতে প্রয়োজনীয় চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
আইনি ব্যবস্থার সুপারিশ : রাষ্ট্রের দুটি সংস্থা এ ঠিকাদারের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে। তদন্ত শেষে তারা মিঠুর অবৈধ সম্পদ ও কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু সাপারিশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একজন সৎ, দক্ষ দেশপ্রেমিক বিচারপতিকে প্রধান করে দুদকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। সেই কমিটির মাধ্যমে মিঠু সিন্ডিকেটসহ অন্যদের বিরুদ্ধ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। মিঠূু সিন্ডকেটের সব প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে। পাশপাশি ওই সিন্ডিকেটের সহযোগী বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা/সচিব ও হিসাবরক্ষকদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
অনুসন্ধানকালে মিঠুর নিজ নামে, স্ত্রী, ভাই ভাগ্নে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বিপুল অঙ্কের টাকার স্থাবর সম্পত্তির তথ্য পায় এ গোয়েন্দা সংস্থা। এ ক্ষেত্রে সুপারিশ করা হয়েছে, মিঠু ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের সঠিক তথ্য উদঘাটন করে অভিযোগটি পুনরুজ্জীবিত অথবা পুনরায় সম্পদের অনুসন্ধান করে সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করে প্রাপ্ত অবৈধ স্থাবর/অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা। মিঠু সিন্ডিকেটের প্রতিষ্ঠানগুলো গত ১০ বছরে যেসব হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যেসব চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে, তার তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে মিঠুর পৃষ্ঠপোষক এসব কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের স্বাস্থ্য খাতে মিঠু সিন্ডিকেটকে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সহায়তায় রাষ্ট্রের স্বাধীন একটি সংস্থার কর্মকর্তাদের ইন্ধন রয়েছে। এসব কর্মকর্তাদের কর ফাইল তলব করে পুনঃতদন্তের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রাক্তন সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত করানোর সুযোগ সীমিত থাকায় দুদককেই বলতে হবে, তারা যেন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত পরিচালনা করে।
এ বিষয়ে দুদকের প্রাক্তন মহাপরিচালক (তদন্ত) মাইদুল ইসলাম বলেন, বিচার শেষ হোক বা না হোক পুনঃতদন্ত করার সুযোগ রয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হলে আদালত পুনঃতদন্ত চাইতে পারে। আবার দুদক চাইলেও পুনঃতদন্ত করা সম্ভব। দুদক আইনের ১৯-এর বিধিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, অনুসন্ধান নথিভুক্ত হলেও পুনঃতদন্ত করা সম্ভব।( সৌজন্যে -আমাদের সময়,প্রতিবেদক রাশেদ রাব্বি)।
সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে : সুপ্রিমকোর্টের নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার গণতন্ত্রকে নিরাপদ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গণতন্ত্রক সুরক্ষা এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, যাতে জনগণ ন্যায়বিচার পায়।’
প্রধানমন্ত্রী আজ তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নব-নির্মিত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ১২ তলা ভবন ‘বিজয় একাত্তর’ উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।
আজ সকালে নগরীর সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গণে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
বিচার বিভাগের সার্বিক উন্নয়নের জন্য তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্যাতিত নারী, শিশু এবং এসিড হামলার শিকারসহ সকলে যাতে সুবিচার পায় আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করেছে এবং বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করেছে।
সরকার প্রধান বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগকে আরো শক্তিশালী করতে এবং সংবিধানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়ার জন্য বিচারপতিদের সাধুবাদ জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, এই রায়ে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে।’
এর আগে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নব-নির্মিত ১২ তলা ভবনের একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং এটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দীন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি, সুিপ্রম কোর্টের বিচারপতি এবং বিশিষ্ট আইনজীবীগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জনগণকে দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে মুক্তি দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের সরকার দায়মুক্তির সংস্কৃতি চালু করে।
শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দায়মুুক্তি দিয়ে পুরস্কার হিসেবে তাদের বিদেশী মিশনসমূহে নিয়োগ দেন এবং একইসঙ্গে জেল থেকে মুক্ত করে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেন।
সরকার প্রধান বলেন, জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়াও স্বামীর পথ অনুসরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারের রায় দেয়ায় নি¤œ ও উচ্চ আদালতের বিচারকদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘বিচারকদের সাহসী ভূমিকার কারনে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি এবং রায় বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি।’
শেখ হাসিনা তাঁর ছয় বছরের জোরপূর্বক নির্বাসিত জীবনের পর দেশে ফেরার কথা তুলে ধরে বলেন, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের কারণে তখন এমনকি তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যদের হত্যাকান্ডের জন্যে একটি মামলা দায়ের করতেও পারেননি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পথ ধরে জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসেন। আর জিয়াউর রহমানের পথ ধরে ক্ষমতায় আসেন এরশাদ।
শেখ হাসিনা বলেন, জিয়ার শাসনকালে প্রায় ১৯ থেকে ২০ বার অভ্যুত্থান ঘটে এবং এর শিকার হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জনগণ।
তিনি প্রয়োজনীয় আইন চালুসহ অবকাঠামো নির্মাণ, বিচারকদের বেতন বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাক এবং জনগণ ন্যায় বিচার পাক।’
সরকার প্রধান বলেন, সরকার বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন সম্পূর্ণ করতে তাঁর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের তত্ত্বাবধানে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, দেশজুড়ে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে তারা একটি ‘ল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ইউনিভার্সিটির জন্যে একটি যথাযথ শিক্ষানীতি প্রণয়নে বিচারক ও আইনজীবীদের সহায়তা প্রয়োজন হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রীকে আদালত সংক্রান্ত নথি নিরাপদে রাখতে একটি রেকর্ড রুম তৈরিতে অর্থ বরাদ্দ দিতে বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী হার্ড কপি ও সফট কপি নথি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে তাদের একটি আধুনিক মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সারাদেশের আইনজীবীদের জন্যে আরো ভালো ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে, যেরকম ৬৪টি জেলা আদালতের সবকটির আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার আইনজীবীদের জন্যে বার কাউন্সিল ভবন নির্মাণ করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা বিচার চাইতে অপারগ তাদের আইনী সেবা দিতে সরকার ‘দ্যা লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অ্যাক্ট- ২০০০’ প্রণয়ন করেছে।
তিনি বলেন, অনেক বাধাবিপত্তি মোকাবেলা করে তাঁর সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার স্বপ্নের মতো ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত- সমৃদ্ধ দেশগঠনে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।বাসস।
সুপ্রিমকোর্টের ভবন উদ্বোধনে যা বললেন আইনমন্ত্রী
স্বাধীনতার মাসের শেষ দিনে বক্তব্যের প্রথমেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শাহাদাতবরণকারিকে। স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যাকৃত জাতীয় চার নেতাকে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী ৩০ লাখ বীর শহিদকে। আরো স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধকালীন নির্যাতিত দুই লক্ষ মা-বোনকে। আমি সকলের আত্মার শান্তি কামনা করছি। বঙ্গবন্ধুর তথা বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিলো বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য হতে মুক্তি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সোপান হিসেবে দেখতে চাইলে সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নাই। সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের হলেও, বিচার বিভাগ এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। সে কারণেই নব্য স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর কাল বিলম্ব না করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বাতিঘর স্বরূপ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা করেন এবং এ কোর্টকে তিনি সাংবিধানিকভাবে বিশেষ মর্যাদার আসনে স্থান দেন। বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে অনন্য বাতিঘর প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সুহৃদ আন্তরিকতায় এবং সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি, প্রশাসন ও আইনজীবীগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিকশিত হয়ে আজ শক্তিশালী ও সুমহান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছে ন্যায়বিচারের বাণী। অবদান রাখছে সামাজিক শান্তি, সমতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায়। কোন প্রতিষ্ঠানের উন্নতি ও সাফল্য নির্ভর করে মূলত সেই প্রতিষ্ঠানের সততা, কর্মদক্ষতা, সক্ষমতা এবং সেবার মানের ওপর। এই বাস্তবতার নিরিখেই সরকার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টসহ গোটা বিচার বিভাগের কর্মদক্ষতা, সক্ষমতা এবং বিচার সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ও করে যাচ্ছে। যার কিছু উদাহরণ তুলে না ধরলে আমার বক্তব্য অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। আমরা যদি সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার একেবারে গোড়ার দিকে ফিরে যাই তাহলে দেখতে পাই, ১৯৭২ সালে হাইকোর্ট বিভাগে মাত্র ১০ জন এবং আপিল বিভাগে ৩ জন বিচারক নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট যাত্রা শুরু করেছিল। গর্বের সাথে বলতে হয় ১৯৭২ সালের ১৩ জন বিচারকের বিপরীতে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের ৯৪ জন বিচারক নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অবকাঠামোর ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই, ২০০১ সালে এনেক্স ভবন উদ্বোধন করার পূর্বে সুপ্রিম কোর্টে মাত্র ২৭টি এজলাস কক্ষের ব্যবস্থা ছিল এবং তা ছিল সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার সরকার গঠন করলে তাঁর পিতার হাতে গড়া এ প্রতিষ্ঠানে তিনি ৩৫টি এজলাসের সংস্থান সম্বলিত এনেক্স ভবন নির্মাণ করে দেন এবং ২০০১ সালের জানুয়ারি মাসে তা স্বয়ং উদ্বোধন করেন। আজ ‘বিজয় – ৭১’ নামে যে ভবন উদ্বোধন করা হচ্ছে সেখানেও অতিরিক্ত ৩২টি এজলাসের ব্যবস্থা সহ বিচারপতিগণের জন্য ৫৬টি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত চেম্বারের সংস্থান রাখা হয়েছে। এর বাইরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণের আবাসন সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে সরকার ২০১৭ সালে ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকার কাইরাইলে ২০ তলা বিশিষ্ট বিচারপতি ভবন নির্মাণ করে দেয়, যেখানে রয়েছে ৩৫০০ বর্গফুটের ৭৬টি ফ্লাট। এভবন নির্মাণের ফলে বিচারপতিগণের দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যার নিরসন হয়। “আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কোর্ট প্রবর্তনও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তার ফসল। করোনার অতিমারির সেই মহাআতঙ্কের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহ ও দিক নির্দেশনা, সুপ্রিম কোর্টের নিরলস পরিশ্রম, আইনজীবীগণের সহযোগিতা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আমরা খুবই তাড়াতাড়ি ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করতে পেরেছিলাম যা বিশ্বের অনেক বড়বড় ও উন্নত দেশ পারেনি। সেই লকডাউনের সময়ে ভার্চুয়াল কোর্টে জামিন শুনানির ব্যবস্থা করার ফলেই কিন্তু জেলখানায় বন্দী আসামীদের অতিরিক্ত চাপ এবং করোনার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আশার কথা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এখন আদালত পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে। সুপ্রিম কোর্টের অনেক কাজই এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে। তদুপরি গোটা বিচার বিভাগকে ডিজিটাইজড করার জন্য আমরা ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার ই-জুডিসিয়ারি প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমরা আশা করছি, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরো বিচার বিভাগের কর্মদক্ষতা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। মানসম্পন্ন ন্যায়বিচার প্রদানের ক্ষেত্রে বিচারকগণের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও আর্থিক স্বচ্ছলতা একটি নিয়ামক ভূমিকা পালন করে থাকে। সেজন্য মাননীয় বিচারপতিগণের আর্থিক সুবিধাদি বৃদ্ধিসহ তাঁদের নিরাপত্তা ও বিচারিক কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ফলে বিচারপতিগণ নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে ন্যায়বিচার প্রদান করে যাচ্ছেন; বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেলহত্যা মামলা, ১৯৭১-এর মানবতা বিরোধী অপরাধ ও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল মামলার বিচার করে দেশ থেকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে সক্ষম হয়েছেন; পঞ্চম ও সপ্তম সংবিধান সংশোধন আইন বাতিলের সাহস দেখিয়েছেন। বিজ্ঞ আইনজীবীগণ বিচার বিভাগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদেরকে বিচ্ছিন্ন রেখে বা পিছনে ফেলে বিচার বিভাগের পুরোপুরি উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়। সেকারণে আইনজীবীগণের পেশাগত মান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ১১৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ তলা বিশিষ্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবন নির্মাণ করে দিয়েছে। অধিকন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমান সরকারই প্রথম আইনজীবীগণের জন্য ২০ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছে। এসব যুগান্তকারী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কর্মদক্ষতা, সক্ষমতা ও সেবার মান অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেজন্য আমরা এখন আশাবাদী যে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপ্রার্থী জনগণ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন এবং এর মাধ্যমে সেখানে মামলা জট কমে আসবে। আমরা এটাও আশ্বস্ত করতে পারি যে, বঙ্গবন্ধুর ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী এবং গণমানুষের বিশ্বাস, আস্থা ও নির্ভরশীলতার আশ্রয়স্থল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও উন্নয়নের যে ধারা চলমান রয়েছে তা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
মেয়াদ শেষ হলেই পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ, সংসদে বিল পাস
পৌরসভার নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে প্রশাসক নিয়োগের বিধান যুক্ত করে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল-২০২২ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল-২০২২ সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলটি পাসের প্রতিবাদে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ ওয়াকআউট করেন। তবে কিছুক্ষণ পর তিনি সংসদ কক্ষে আবার ফিরে আসেন।
এর আগে, বিলের ওপর দেয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাব গুলোর নিষ্পত্তি করা হয়।
সংশোধনীতে পল্লী এলাকাকে শহর ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্বের শর্ত পরিবর্তন করে তা বাড়ানোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
গত ২৩ জানুয়ারি বিলটি সংসদে তোলা হয়। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিদ্যমান আইনে বলা আছে পৌরসভা ঘোষণা করতে হলে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গড়ে দেড় হাজার হতে হবে। এর কম হলে হবে না। সংশোধন করে তা বাড়িয়ে দুই হাজার করা হয়েছে।
বিলে পৌরসভার সচিবের পদের নাম বদলে ‘পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা’ করা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে মেয়র ও কাউন্সিলদের অপসারণ সংক্রান্ত ধারনায় নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ধারা ‘ঝ’ যুক্ত করে বলা হয়েছে—মেয়র অথবা কাউন্সিলর তার নিজ পদ হইতে অপসারণযোগ্য হবেন, ‘সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশ পালন করতে ব্যর্থ হন।’
বিদ্যমান আইনের ৪২(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোন শহর এলাকাকে পৌর এলাকা ঘোষণার পর পৌরসভার কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য সরকার একজন উপযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক নিয়োগ করিবে এবং পৌরসভা গঠন না হওয়া পর্যন্ত উক্ত প্রশাসক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।’
বিলে এই ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে; বলা হয়েছে, পৌরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন পরিষদ গঠনের আগ পর্যন্ত কাজ চালানোর জন্য প্রশাসক নিয়োগ দিবে সরকার। সরকারি কোনও কর্মকর্তা বা সরকার উপযুক্ত মনে করে এমন কোনও ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগ দিবে।
বিলে পৌরসভার পরিষদ বাতিল সংক্রান্ত ধারায় নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিক্রমে ১২ মাস বেতন বকেয়া থাকলে পরিষদ বাতিল হবে।
নতুন পৌরসভা গঠন হলে বা কোনও ইউনিয়নের অংশ বিশেষ পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হলে বিলুপ্ত ইউনিয়ন বা বিলুপ্ত অংশে কর্মরতদের পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে বিলে।
বিলের উদ্দেশ ও কারণ সম্পর্কে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত জীবন ও পর্যাপ্ত নাগরিক সেবার প্রত্যাশায় অধিক সংখ্যক মানুষ শহর মুখী হচ্ছে। একইসঙ্গে শহর এলাকার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নতুন অনেক পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর দেখা যায় যে, পৌরসভার নাগরিক সেবা প্রদান এবং নিজস্ব প্রশাসন পরিচালনার সক্ষমতা থাকে না। সুশাসন নিশ্চিত ও পর্যাপ্ত সেবা প্রদানে শহরগুলোকে বাসযোগ্য করতে শহর গঠনে জনসংখ্যার ঘনত্বের মান পরিবর্তন প্রয়োজন।
‘বিদ্যমান আইনে পৌরসভাসমূহের মেয়াদ ৫ বছর শেষ হওয়া সত্ত্বেও নতুন পরিষদ প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত, পরিষদ দায়িত্ব পালন করতে পারে। অনেক সময় পৌরসভার মেয়াদ শেষ হলেও বিভিন্ন কারণে রিট মামলা বা অন্য কোনও মামলা করে মেয়াদোত্তীর্ণ পরিষদ অনির্ধারিত সময়ের জন্য পৌর প্রশাসন পরিচালনা করে। ফলে আইনের এ শর্তটি সংশোধনক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভার ক্ষেত্রে নতুন পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগ করা প্রয়োজন।’
বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্নজনের মতামত নিয়ে আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে। প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখার বিষয়টি যৌক্তিক। বিভিন্ন কারণে অনেক সময় নির্বাচন করা নিয়ে আইনগত জটিলতা তৈরি হয়। অনেকে এর সুযোগ নিয়ে থাকেন।’
সচিব পদটিকে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নামকরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে সচিব থাকেন। এই পদটি নিয়ে অনেক সময় সংশয় দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে এই পদের অপব্যবহারও দেখা গেছে।’
বিলটি পাস হওয়ার পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্পিকারের কাছ থেকে সময় নিয়ে বিএনপির সদস্য হারুনের বক্তব্যের জবাব দেন।বাসস।
জাতিসংঘে মানবতার জন্য ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ, কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয় : সংসদে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে একক দেশ হিসেবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) প্রস্তাব উত্থাপন করায় বাংলাদেশ তাতে ভোট দেয়নি, তবে দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ে হওয়ার কারণে ভোট দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যখন একটি দেশের (রাশিয়া) বিরুদ্ধে ভোট ছিল আমরা তার পক্ষে যাইনি, কিন্তু যখন ইউএনজিএ এর দ্বিতীয় প্রস্তাবে মানবাধিকারের বিষয়টি উঠে আসে, বাংলাদেশ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে।’
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর ‘রাশিয়া-ইউক্রেন ভোটের বিষয়ে আমাদের অবস্থান কী’ এ সম্পর্কিত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশের পক্ষে রাশিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উস্কানির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধ তো একা একা হয় না। উস্কানি তো কেউ না কেউ দিচ্ছে। দিয়ে তো বাধালো যুদ্ধটা। তাহলে একটা দেশকে কনডেম (নিন্দা) করা হবে কেন? সেই জন্য আমরা ভোটদানে বিরত থেকেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘে যখন প্রথম প্রস্তাবটি এলো আমরা দেখলাম সেই প্রস্তাবে কোনও মানবাধিকারের কথা নেই। যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা নেই। একটা কোনও বিষয় নেই। একটা দেশের বিরুদ্ধে ভোট। সেটা হলো রাশিয়া। তখন আমি বললাম, এখানে তো আমরা ভোট দেবো না। কারণ, যুদ্ধ তো একা একা বাধে না। উস্কানি তো কেউ না কেউ দিচ্ছে। দিয়ে তো বাধালো যুদ্ধটা। তাহলে একটা দেশকে কনডেম (নিন্দা) করা হবে কেন? সেজন্য আমরা ভোটদানে বিরত ছিলাম।’
তিনি বলেন, রাশিয়া আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেভেন ফ্লিট পাঠিয়ে যখন পাকিস্তানের পক্ষে; রাশিয়া তখন আমাদের পক্ষে দাঁড়ালো। কাজেই দুঃসময়ে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে আমরা নিশ্চয়ই তাদের পাশে থাকবো। কিন্তু তারা যদি কোনও অন্যায় করে নিশ্চয় সেটা আমরা মানবো না। আর আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু যুদ্ধটা বাধালো কারা,
সেটাও আমাদের দেখতে হবে। সেজন্য আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। যেহেতু একটি দেশের বিরুদ্ধে এজন্য সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা ভোট দেবো না।
দ্বিতীয় প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোট দেয়ার এখন যে প্রস্তাবটা এসেছে এই যুদ্ধের ফলে, ইউক্রেনের মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে, ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে সবাই কষ্ট পাচ্ছে, সেখানে মানবাধিকারের বিষয়টি ছিল। দ্বিতীয় প্রস্তাবে যেহেতু মানবাধিকার বিষয়টি রয়েছে সেজন্য আমরা ভোট দিয়েছি। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, যখন একটি দেশের বিরুদ্ধে প্রস্তাব, আমরা ভোট দেইনি। যখন মানবতার বিষয়টি সামনে এলো আমরা ভোট দিয়েছি। আমার মনে হয় এটা একেবারে স্পষ্ট। এটা নিয়ে আর কারও কোন দ্বিধা থাকা উচিত নয়।’বাসস।











