ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩   বিকাল ৪:০২ 

Home Blog Page 38

স্বাধীন গণমাধ্যম প্রসারে গণতন্ত্র সুসংহত হয় : স্পিকার

0

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীন গণমাধ্যম প্রসারে গণতন্ত্র সুসংহত হয়।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে নোয়াবের সদস্য সংবাদপত্রসমূহ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাজকে অনুপ্রাণিত করতে নোয়াবের সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ অনন্য।
ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী হলে নিউজপেপার ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আয়োজিত ‘পঁচিশ পেরোনো নোয়াব-সদস্য সংবাদপত্র সম্মাননা ২০২২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে স্পিকার এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পঁচিশ বছর পেরোনো নোয়াব সদস্য সংবাদপত্রসমূহকে সম্মাননা প্রদান করেন স্পিকার।
স্পিকার বলেন, ২০২০ সাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও ২০২১ সাল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী হওয়ায় এই দুইটি বছর জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন। নোয়াবের সদস্যগণ স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। ২৫মার্চ অপারেশন সার্চলাইটের খবর দেশ-বিদেশে প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছিল সংবাদপত্র। দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক সংবাদের অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। তাই, বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে নোয়াবের পথচলার ইতিহাস সম্পর্কযুক্ত।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সংবাদপত্র জনগণের জন্য তথ্যভাণ্ডার। সুস্থ ও পরিশীলিত সমাজ বিনির্মাণে সংবাদপত্রের ভূমিকা অপরিসীম। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সত্য প্রকাশের মাধ্যমে জনসেবা নোয়াবের মূল লক্ষ্য। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। বিশ্বায়নের যুগে সমগ্র বিশ্বের আনাচে-কানাচের খবর গণমাধ্যম আমাদের নিকট পৌঁছে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে, দায়িত্বশীল ও নৈতিকতাসম্পন্ন সাংবাদিকতা অপরিহার্য। কেননা, মিথ্যা সংবাদ, ভুল তথ্য ও অপসাংবাদিকতা মানুষ তথা সমাজকে ভুল পথে প্রবাহিত করে।
নোয়াব সভাপতি এ. কে. আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মতিয়া চৌধুরী এমপি ও মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক, দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক রমিজ উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, দৈনিক ভোরের কাগজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক তারিক সুজাত এবং নোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহফুজ আনাম বক্তব্য রাখেন। বাসস।

মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে চিড়িয়াাখানা আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করা হচ্ছে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

0

মহাপরিকল্পনা প্রণয়ণের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানা আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নে মহাপরিকল্পনা প্রস্তুতকরণ সংক্রান্ত কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণই আমাদের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্যেই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান ও অত্যন্ত অভিজ্ঞ পরামর্শক গ্রুপ নিয়োগ দেয়াা হয়েছে। তিনি বলেন, চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রাণীর অঞ্চল নির্ধারণ, অবকাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনাসহ অন্যান্য বিষয়াদি প্রয়োজনে পুনরায় পরিকল্পনা করা হবে।
প্রণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদার সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মো. আব্দুল লতীফ। বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নে মহাপরিকল্পনার রূপরেখা এবং এ সংক্রান্ত ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশন উপস্থাপন করেন সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বার্নার্ড হ্যারিসন এন্ড ফ্রেন্ডস লিমিটেডের টিম লিডার ও আন্তর্জাতিক চিড়িয়াাখানা বিশেষজ্ঞ বার্নার্ড হ্যারিসন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার ও এস এম ফেরদৌস আলম, আন্তর্জাতিক চিড়িয়াাখানা বিশেষজ্ঞ ড. রেজা খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, চিড়িয়াখানা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসস।

বিজ্ঞানলেখক অনন্ত হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

0

সিলেটের বিজ্ঞানলেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ (৩২) হত্যা মামলার রায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ মামলায় খালাস পেয়েছেন একজন। বুধবার সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমীন বিপ্লব এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আবুল খায়ের রশিদ আহমদ, আবুল হোসেন ওরফে আবুল হুসাইন, ফয়সল আহমদ ও হারুন অর রশিদ। তাদের মধ্যে আবুল খায়ের রশিদ আহমদ ছাড়া বাকি তিন আসামি পালাতক রয়েছেন।
মামলায় আরেক আসামি শফিউর রহমান ফারাবিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি অপর আসামি মান্নান ইয়াহিয়া অরফে মান্নান রাহী কারাগারে মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
আলোচিত এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মুমিনুর রহমান টিটু, বাদীপক্ষের আইনজীবী এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সমর বিজয় সী শেখর, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, নিতু কান্ত দাশ ও নাদিম রহমান। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাব্বির আহমদ ও ইমরান আহমদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরের সুবিদবাজারে নুরানি আবাসিক এলাকার নিজ বাসার সামনে খুন হন অনন্ত। পেশায় ব্যাংকার অনন্ত বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ‘যুক্তি’ নামে বিজ্ঞানবিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পর অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বাদী হয়ে সিলেট বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলাটি পুলিশ থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর করা হয়। সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৯ মে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। এতে সন্দেহভাজন আটক ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলায় ২৯ সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে ১৪ মার্চ পলাতক তিন আসামির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায় ঘোষণা করেন।

বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে এমন অবস্থা চাই না : আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা মামলজট কমিয়ে আনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে বলেছিলেন, বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। আমরা এমন অবস্থা চাই না। মানুষ যাতে ন্যায্য বিচার পায় এবং ন্যায্য বিচারটি যেন অতিদ্রুত পায়, সেই ব্যবস্থা চাই। বুধবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে দেশের বিভিন্ন জেলার বিচারকদের মাঝে গাড়ির চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে একথা বলেন আইনমন্ত্রী। এসময় মন্ত্রী জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকদের ব্যবহারের জন্য ১৬টি মাইক্রোবাসের চাবি হস্তান্তর করেন। সাত কোটি তিন লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ক্রয়কৃত মাইক্রোবাস হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আনিসুল হক বলেন, অতীতে অনেক জেলা জজ রিক্সায় চড়ে আদালতে আসা-যাওয়া করতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এই অবস্থার পরিবর্তন এনেছে। বিচারকদের মর্যাদা রক্ষায় যেটা করা দরকার সেটা করে দিচ্ছে। গুনগত মানসম্পন্ন গাড়ী দিচ্ছে। আদালত প্রাঙ্গণের কাছাকাছি বিচারকদের আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য প্রকল্প গ্রহণও করা হচ্ছে। মানুষ এখনো মনে করে আদালত হচ্ছে তার বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল। মানুষের সেই আশ্রায়স্থল যেন নিশ্চিত থাকে তেমনভাবে বিচারকদের কাজ করার আহবান জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, “জাস্টিস ডিলেইড ইজ জাস্টিস ডিনাইড” এ কথাটি যেমন সত্য, তেমনি “জাস্টিস হারিড ইজ জাস্টিস বারিড” এ কথাটিও সত্য। সে কারণে এর একটি ব্যালান্স বা ভারসাম্য আনা খুব প্রয়োজন। তিনি বলেন, আঠার বা উনিশ শতকে যে ফৌজদারী বা দেওয়ানী কার্যবিধি লেখা হয়েছিল সেখানে কিন্তু অনেক সংশোধন করা সম্ভব এবং সেখানে বিচারের জন্য যে সময় বেধে দেয়া হয়েছিল বিশেষ করে দেওয়ানী কার্যবিধিতে সেই সময় কিন্তু এখন কমিয়ে আনা যায়। দেওয়ানী কার্যবিধিতে সংশোধন করে সময় কমিয়ে এনে দেওয়ানী মামালা যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায় সেই চিন্তা ভাবনা করছে সরকার এবং শিগগিরই এর একটি রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে। এটা করতে পারলে বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। এ সময় আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার, যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুমসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্নীতিবাজদের আড়াল করতেই শরীফের চাকরিচ্যুতি, দুদকের কর্মকাণ্ড তদন্তে সংসদীয় কমিটি চান মেনন

0

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিধিবদ্ধ সংস্থার সার্বিক কর্মকাণ্ড তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। সোমবার সংসদে তিনি বলেছেন, “দুদক দুর্নীতিবাজদের আড়াল করতেই উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করেছে।” তাদের কর্মকাণ্ডকে খতিয়ে দেখতে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের অনুরোধ করেন তিনি।
অনির্ধারিত আলোচনায় মেনন বলেন, “বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে। কিন্তু আমাদের দেশে দুর্নীতি চরম চ্যালেঞ্জ হিসাবে সামনে এসেছে। লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলছে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন, এটা সন্দেহ নাই।”
দুর্নীতি দমন ও অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন অধিদপ্তরকে ‘মর্যাদা দিয়ে’ দুর্নীতি দমন কমিশনে উন্নীত করার ইতিহাস তুলে ধরে রাশেদ খান মেনন বলেন, “সেই দুদক যখন সংবিধানবিরোধী কাজ করে, অথবা তার দুর্নীতিকে আড়াল করার জন্য অথবা তার কার্যক্রমের মধ্যে কোনো দুর্নীতিবাজকে আড়াল করার জন্য, যখন সংবিধানের বিধানের বিরুদ্ধে যায়; তখন আমাদের উৎকণ্ঠা হয়।”
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর স্বাক্ষর করা এক প্রজ্ঞাপনে কমিশনের উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনকে অপসারণের আদেশ জারি হয়।
পরদিন ওই আদেশ প্রত্যাহার এবং ৫৪(২) বিধি বাতিলের দাবিতে দুদক সচিবকে স্মারকলিপি দেন কমিশনের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি দুদকের প্রধান কার্যালয়সহ সংস্থাটির অন্যান্য দপ্তরে মানববন্ধন হয়।
শরীফ দাবি করেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ‘প্রভাবশালীদের রোষে পড়ে’ তাকে চাকরি হারাতে হয়েছে।
পরে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন ২০ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, শরীফ উদ্দিনকে ‘শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে’ বিধি অনুযায়ী চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন চাকরি বিধিমালা-২০০৮ এর ৪৮ বিধির আওতায় অপসারণ আদেশ পুনঃনিরীক্ষণ করতে কমিশনে আবেদন করেন শরীফ। চাকরি ফেরত চেয়ে তিনি উচ্চ আদালতেও আবেদন করেছেন।
শরীফকে ৫৪ এর (ক) ধারায় চাকরিচ্যুত করার প্রসঙ্গ টেনে মেনন বলেন, “কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ এই ধারাটি নিয়ে হাই কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে সংবিধানবিরোধী। দুদক অবশ্য আপিল করেছে।
“কিন্তু যে বিষয়টি বিচারধীন, সেই বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে তাকে বরখাস্ত করা হল। এর পরিণামে দুদকের কর্মকর্তারা সারাদেশে মানববন্ধন ও অ্যাসোসিয়েশন করল। এতে দুদকের ভাবমূর্তি প্রচণ্ডভাবে ক্ষুণ্ন হল। কিন্তু দুদক এই ব্যাপারে গা করলেন না।” মেনন বলেন, “শরীফ উদ্দিনের চাকরিতে পুর্নবহালের জন্য দরখাস্ত করল, সেটাও মানলো না। সে এখন হাই কোর্টে গেল। বিচারধীন বিষয়ে কথা বলব না। কিন্তু কী কারণে একজন কর্মকর্তাকে, যাকে দুই দিন আগে অতি উত্তম কর্মচারী বলেছেন, তাকে এক কলমের খোঁচায় চাকরিচ্যুত করলেন। কারণ সে এমন কিছু বিষয়ে তদন্ত করছিল, যার ভিত্তিতে যে বিষয়গুলো এসেছিল, যা জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
কক্সবাজারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে শরীফ উদ্দিনের করা তদন্তের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মেনন বলেন, “এসব কারণে যদি তাকে বরখাস্ত করা হয়, তাহলে নিশ্চয় বরখাস্ত করার পেছনে ‘শক্ত হাত’ রয়েছে। তাকে বরখাস্তের পরে বিষয়গুলোর পুনঃতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে দুদক।
আমি জানতে চাই, আসলে কেন এটার পুনঃতদন্ত হবে? যেখানে মামলা হয়ে গেছে, কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে; এটা কোন স্বার্থে? কোন জায়গা থেকে? আমার কথা হল- সংসদ জানতে চায়, যেখানে মামলা হয়ে গেছে, মামলায় কাউকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন কেন এটা পুনঃতদন্ত হবে? কোন স্বার্থে হঠাৎ করে এই পুনঃতদন্ত?”
মেনন বলেন, “দুদক যখন এই ধরনের অসাংবিধানিক, অনৈতিক কার্যক্রম… বিষয়টি সংসদের খতিয়ে দেখা দরকার।”
এ বিষয়ে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তিনি।
চট্টগ্রামের অনিয়ম দুর্নীতি। চট্টগ্রামের কর্ণফুলি দৃষ্টিনন্দন কাজে ভয়াবহ দুর্নীতি। চট্টগ্রামের রেলের দুর্নীতিসহ ৫০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন। এজন্য যদি তাকে বরখাস্ত করা হয় তাহলে নিশ্চিই এর পেছনে কোনো সংস্থার হাত রয়েছে। তাকে বরখাস্ত করে এসব বিষয়গুলোকে পুনঃতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেটি পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে।
রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রতিবেদনে প্রশাসন ক্যাডারের ২০ জন , পুলিশ ক্যাডারের ৪ জন, তসিলদার ৬ জন, সাব রেজিষ্ট্রার দুই জন, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ৬ জন, ব্যাংকের ৩ জন, রাজনৈতিক নেতা ৭ জন, চেয়ারম্যান ২ জন, ৮ জন দালাল, সাংবাদিক তিন জনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মচারীর নামে প্রতিবেদন রয়েছে। সংসদ জানতে চায় কেন পুনঃতদন্ত হবে? যেখানে মামলা হয়েছে, মামলায় তাদের কাউকে কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের হঠাৎ পুনঃতদন্ত কোন স্বার্থে, কোন জায়গাতে? সংসদে অবহিত করা প্রয়োজন। দুদক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, তারা যখন অসাংবিধানিক এবং অনৈতিক কার্যক্রম করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। এই বিষয়ে তদন্ত করে দেখার জন্য সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য অনুরোধ করছি। শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনঃবহলের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে। এভাবে অন্যায় করলে দুদকের সাধারণ কর্মচারী, তারা কাজ করতে পারবেন না। সংসদকে এ ধরনের ঘটনায় পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলা নিউজ/ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

পিকে হালদারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

0

৪২৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬ হাজার ৮০ কোটি টাকা লেনদেনের মামলায় প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ মামলাটির ১৪ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতকদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আগামী ২৫ মে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
এ মামলায় কারাগারে আছেন অবন্তিকা বড়াল, শংখ বেপারী, সুকুমার মৃধা ও অনিন্দিতা মৃধা। এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর আসামিরা হলেন- পিকে হালদারের মা লিলাবতী হালদার, পূর্ণিমা রানী হালদার, উত্তম কুমার মিস্ত্রি, অমিতাভ অধিকারী, প্রিতিশ কুমার হালদার, রাজিব সোম, সুব্রত দাস, অনঙ্গ মোহন রায় ও স্বপন কুমার মিস্ত্রি।
২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী। পরে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় দুদক। চার্জশিটে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে প্রায় এক কোটি ১৭ লাখ কানাডিয়ান ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশটিতে পাচারের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, পিকে হালদার বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ নিজ দখলে রেখেছেন। যা দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ, উৎস গোপন বা আড়াল করতে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ করেছেন। সূত্র-দৈনিক আমাদের সময়।

ধর্ষণের শিকার নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার আইনি সুযোগ থাকছে না, সাক্ষ্য আইন সংশোধন হচ্ছে

0

সাক্ষ্য আইনে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বিচারের ক্ষেত্রে অভিযোগকারী নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং দুশ্চরিত্র প্রমাণের যে আইনি সুযোগ এতদিন ছিল, সে সংক্রান্ত দুটি ধারা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ক আইন এভিডেন্স অ্যাক্ট ২০২২-এর সংশোধনীর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।ধারা দুটি বাতিল হলে ধর্ষণের বিচারে অভিযোগকারী নারীকে তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, “ধর্ষণের মামলায় যে ভিকটিম, তাকে অনৈতিক চরিত্র, ইমমরাল ক্যারেক্টার সম্পর্কে প্রশ্ন করা যাবে, আইনে এটা ছিল। এটাকে আমরা বাতিল করে দিচ্ছি। এভিডেন্স অ্যাক্ট-এর ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আসা মানেই হচ্ছে কোন ধর্ষণ মামলায় যে ভিকটিম তাকে তার চরিত্র সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন করা যাবে না।”
তিনি জানিয়েছেন, জেরা করার সময় শালীনতা বজায় রেখে প্রশ্ন করার ব্যাপারে আদালত ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তার আইনজীবীকে নির্দেশনা দিতে পারবে। বাংলাদেশে বহুদিন যাবত নারী অধিকার কর্মীরা এই ধারাটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
“এই বিষয়টা কোর্টের এখতিয়ারের উপরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এরকম একটা প্রস্তাব করা হয়েছে যে জেরা করার সময় আদালত শালীনতা বজায় রাখার জন্য যে আসামি তার আইনজীবীকে, বা আসামি নিজে যদি জেরা করে তাহলে আদালত অবশ্যই এই জিনিসটা নিশ্চিত করবে যে শালীনতা বজায় রেখে ভিকটিমকে প্রশ্ন করতে হবে।”
বাংলাদেশে বহুদিন যাবত মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা এই ধারাটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
সম্প্রতি ঢাকার রেইনট্রি হোটেলে দু’জন তরুণীকে ধর্ষণের আলোচিত মামলায় সব কজন অভিযুক্ত খালাস পাওয়ার পর নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীরা বিতর্কিত ধারাটি বাতিলের দাবি আবারো সামনে এনেছেন। এই রায়ের পর ধারা দুটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে কয়েকটি সংগঠন মামলাও করেছিল। বাংলাদেশের সাক্ষ্যপ্রমাণ আইনটি করা হয়েছিল ১৮৭২ সাল । আইনটির দুটি ধারায় আইনগতভাবেই ধর্ষণের ঘটনার বিচারের ক্ষেত্রে অভিযোগকারী নারীকেই দুশ্চরিত্র প্রমাণের যে সুযোগ রয়েছে তাতে প্রায়শই দোষী ব্যক্তি ছাড় পেয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নিনা গোস্বামী।
তিনি বলছিলেন, “দোষ ধরার জন্য সেগুলো আগে খুঁজে বের করার একটা চেষ্টা থাকে। অভিযোগ সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করার জন্য। তদন্তকালীন সময়েও চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আবার যখন আদালতে জেরার সময় চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করে জর্জরিত করে ফেলা হয়। আইনে সুযোগ থাকার কারণে এমনভাবে বলা হয় যে সে ভালো না। বলা হয় তার স্বভাব চরিত্র এইরকম। এতে যিনি অভিযুক্ত বেনেফিট তার দিকে চলে যায়।”
এমন অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশে ধর্ষণের শিকার নারীরা প্রায়শই বিচার চাওয়া থেকে বিরত থাকেন।
নিনা গোস্বামী ধারা দুটি বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, তদন্তের সময়েও এসব প্রশ্নের মাধ্যমে পুলিশের কাছে অভিযোগকারীকে পাল্টা হেনস্থার শিকার হতে হয়।
ধারা দুটি বাতিল হলে এটি তদন্তকারীদের উপরেও বর্তাবে। বিবিসি বাংলা।

মানসিকতার পরিবর্তন না হলে কেবল আইন প্রয়োগ করে বৈষম্য নিরসন সম্ভব নয়: আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে লিঙ্গ সমতা ভিত্তিক অনেক আইন প্রণয়ন করা হলেও আমরা সমস্যার জায়গায় এখনও দাঁড়িয়ে আছি। তিনি বলেন, কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য নিরসন করা সম্ভব নয়। বৈষম্য নিরসনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নারী-পুরুষ উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বা মানসিকতা পরিবর্তনের দরকার রয়েছে। বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নারী দিবস ২০২২ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে নারী ও শিশুর প্রতি ধর্ষণ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক ন্যাশনাল ইনকোয়ারী খসড়া প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রী বলেন, যত কথাই বলা হোক না কেন, যত আইনই করা হোক না কেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। তবে এই বৈষম্য রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জেন্ডার বা লিঙ্গ ভিত্তিক অসমতাকে সমতায় আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। ফলে আস্তে আস্তে বৈষম্য দূর হচ্ছে এবং এখন সম্পদের সমান বন্টনের দাবি উঠছে। তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মই প্রথম নারীর অধিকার স্বীকার করেছিল। তাই বৈষম্য দূরীকরণে ইসলাম ধর্ম বা অন্য কোন ধর্ম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না বলে তিনি মনে করেন। বৈষম্য নিরসনে নারী-পুরুষ উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য সচেতনতা প্রয়োজন। এ সচেতনতা সৃষ্টির জন্য গ্রামে যেতে হবে। কারণ গ্রামে প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ বসবাস করে এবং সেখানেই বৈষম্য বেশি হয়, প্রকট নারী নির্যাতন হয়। বাংলাদেশে প্রচলিত আইনগুলো প্রয়োগের পাশাপাশি গ্রামের মানুষকে সচেতন করতে পারলে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী, কমিশনের সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ ও জেসমিন আরা বেগম বক্তৃতা করেন।

ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

0

ঢাকা মহানগরীকে সীমিত শক্তি দিয়েই যতদূর সম্ভব বসবাসের উপযোগী করায় জন্য তাঁর সরকারের প্রচেষ্টার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত রাখতে এবং পথচারীদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি গুলশাল, বনানি, বারিধারার মত এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো উন্নয়নের জন্যও সংশ্লিষ্ট মেয়রকে নির্দেশ প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যারা ইঞ্জিনিয়ার বা আর্কিটেক্ট, যখন তারা কোন প্ল্যান করবেন অন্তত ফুটপাতটা যেন মানুষের হাঁটার যোগ্য থাকে এবং সেটা যেন দখল না হয় যেদিকে দৃষ্টি দিয়েই করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আর কাউকে দোষ দেব না আমাদের প্ল্যান করা সময়ই এই সর্বনাশটা করা হয়ে যায়।’ যেটাকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী রবিবার দুপুরে ‘ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ ও উন্নয়ন (ফেজ-১)’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডিএনসিসি’র ৪৪ নং ওয়ার্ডস্থ কাঁচকুড়া হাইস্কুল প্রাঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
ঘন বাসতিপূর্ণ হরিরামপুর এক সময় অত্যন্ত অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার মান আরও উন্নত হবে এবং মানুষের স্বাস্থ্যকর ভাবে বসবাস করতে পারবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা শহরটাকে সীমিত শক্তি দিয়েই যতদূর সম্ভব আধুনিকায়ন করা, সবুজায়ন ও বসবাসের উপযোগী করার আমরা চেষ্টা করছি। নতুন ইউনিয়নগুলো যুক্ত করার মাধ্যমে ১৮টি ওয়ার্ড করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে খেলার মাঠ, পাবলিক টয়লেটসহ নানা নাগরিক সুবিধা সৃষ্টির জন্য যে প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এই নতুন ঢাকা আরো সুন্দর হয়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কেননা এই কাজের দায়িত্ব প্রাপ্ত ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়ানও তাঁর হাতেই সৃষ্টি এবং যখনই তাঁদেরকে কোন কাজের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তাঁরা তা সুষ্ঠু ভাবেই সম্পন্ন করছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা জনগণের পাশে থেকে সেবা করে যাচ্ছেন।
তাঁর সরকারের প্রচেষ্টায় দেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশন প্রাপ্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজকে একটা সম্মানজনক জায়গায় আমরা আসতে পেরেছি। যেটা ধরে রেখেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সাথে সাথে আমাদের নাগরিক সুবিধাটাও বাড়াতে হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং স্থানীয় মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম জাকারিয়া হোসেন প্রকল্পের ওপর পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
সাধারণ জনগণকে অধিকতর সেবা প্রদানের জন্য গত ৪ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুইটি অংশে বিভক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে পরিণত করা হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত হরিরামপুর ইউনিয়ন এবং পূর্বাঞ্চলে উত্তরখান, দক্ষিণখান, বাড্ডা, বেরাইদ, ডুমনি, সাঁতারকুল ও ভাটারা ইউনিয়নের এলাকা সমূহের ১৮টি ওয়ার্ডকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
চলমান প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলেএই ১৮টি ওয়ার্ডে বসবাসরত জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। সেইসাথে বিদ্যমান জলাবদ্ধতা দূরীভূত হবে এবং নাগরিক সেবার মান বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
ডিএনসিসি’র নতুন এই ওয়ার্ডগুলোর জন্য ২০২০ সালের ১৪ জুলাই ৪ হাজার ২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রকল্প ‘একনেক’ অনুমোদন করে । তবে, করোনার কারণে কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর সরকার গঠনের সময় তাঁর একটাই লক্ষ্য ছিল এদেশের শোষিত বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করা। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষ বিশ্ব দরবারে বিজয়ী জাতি হিসেবে সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে চলবে।
অগ্নিঝরা মার্চ মাসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন এবং ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা-সেই স্মৃতি বুকে নিয়েই আজও আমরা বেঁচে আছি, এগিয়ে যাচ্ছি, সেই চেতনা থেকেই আমরা দ্রুত বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে আসার প্রেরণা পাচ্ছি।
বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাঁরা বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায় সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই আজকে দেশের উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু, আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতে। যাতে, এর প্রত্যেকটা নাগরিক এখনকার নাগরিক সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারে এবং উন্নত জীবন পেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঢাকা শহর এক সময় চারিদিকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু এবং শীতলক্ষ্যা পরিবেষ্টিত একটি সুন্দর শহর ছিল। যা ’৭৫ পরবর্তী সরকারগুলোর অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং শহরমুখি জনতার চাপ এই শহরকে ধীরে ধীরে বাসবাসের অনুপযোগী করে ফেলেছে।
তিনি বলেন, যখন সিটি কর্পোরেশন করা হলো একটা মাত্র সিটি কর্পোরেশন কিন্ত জনসংখ্যা এত বিশাল। কাজেই একটা সিটি কর্পোরেশন দিয়ে এত মানুষের সেবা দেয়া সম্ভব নয় ছিল না। পাশাপাশি, সংলগ্ন ইউনিয়নগুলো যেগুলো ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত ছিল। এ সব ইউনিয়নকে অর্ন্তভূক্ত করে তাদের ওয়ার্ডে পরিণত করে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে তিনি দুটি ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেন বলে উল্লেখ করেন। আর যা বাদ বাকী এলাকা রয়েছে সেগুলো অচিরেই অন্তর্ভূক্ত করা হবে।
এ সময় তিনি উৎপাদন খরচের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এখানে বসবাসকারীদের বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় মনোযোগী হবার, ট্রাফিক আইন মেনে চলার এবং বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে পরিবেশ সুন্দর রাখার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে তাঁর সরকারের উন্নয়ন কাজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সহযেগিতা করার ও আহ্বান জানান।
বিভিন্ন খাল পূনরুদ্ধারের পদক্ষেপ নেয়ায় তিনি উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আসলে সবথেকে খারাপ যেটা হয়ে গেছে, অতীতের এই বক্সকালভার্টগুলো নির্মাণ করায়। যেখানে খাল রয়েছে সেখানে খালটা রেখে দুপাশে রাস্তা করা যেত। পিলার দিয়ে ওপর দিয়েও এলিভেটেড রাস্তা করা যেত। কিন্তু ব´কালভার্ট করার ফলে সেখানে যেমন ময়লা জমছে তেমনি জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হচ্ছে। আবার অনেক স্থানে এজমালি সম্পত্তির মত খাল দখল হয়ে ঘর-বাড়ি বা স্থাপনা বা দোকান-পাট তৈরী করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষের যেমন রক্ত প্রবাহের জন্য ধ্বমনি থাকে একটি শহরেরও তেমনি শিরা বা ধ্বমনি হিসেবে কাজ করে এই খালগুলো। কাজেই সেটা উদ্ধার করা একান্ত অপরিহার্য।
পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ’৯৬ সালে সরকারে এসেই তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্লাট নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুরুটা আমরা করেছিলাম, কিন্তু, মাঝে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেগুলোকে এমনভাবে লুটে খেল যে, একটি বিল্ডিংও খাড়া হয়ে দাঁড়াতে পারল না। একটা আরেকটার ওপর ঢলে পড়ে যাচ্ছিল।
তখনকার বিএনপি’র সিটি মেয়র এবং সংশ্লিষ্টরা এই প্রকল্পের অর্থ আত্মস্যাৎ করে পুরো প্রকল্পের বারোটা বাজিয়ে দেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তাঁর সরকারের বস্তিবাসীর জন্য ভাড়া ভিত্তিক ফ্লাট নির্মাণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বস্তিতে তারা মানবেতর জীবন যাপন করে। কাজেই, কোন নাগরিক কষ্টে থাক সেটা আমি চাই না। এ সময় তিনি হিজড়া, বেদে এবং কুষ্ঠরোগীদের জন্যও ঘরবাড়ি তৈরী করে জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দেয়ায় তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী আমরা কেবল উদযাপনের মধ্যদিয়ে নয়, জাতির পিতা এদেশ স্বাধীন করে গেছেন এবং তাঁর প্রতিটি নাগরিক যেন সুন্দর জীবন পায় সেটাই আমার লক্ষ্য। সেজন্য সকলকে আমরা ঘর করে দিচ্ছি।
এ সময় কোভিড-১৯ প্রতিরোধে তাঁর সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপের পাশাপাশি দেশব্যাপী বিনে পয়সায় ভ্যাকসিন প্রদানেরও উল্লেখ করেন তিনি।
বিহারীরা পাকিস্তানে ফিরে যেতে চাইলেও পাকিস্তান সরকারের উদ্যোগ না থাকায় তাদের বাধ্য হয়ে জেনেভা ক্যাম্পের ছোট জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, তাদের জন্য তিনি ভাল বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেবেন।
তিনি বলেন, তারা খুব কর্মঠ, বিভিন্ন কাজ তারা খুব দক্ষতার সঙ্গে করতে পারেন। যে কারণে, আমি চাচ্ছি তাদের জন্য একটা ভাল বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার এবং তারা যে যে কাজে পারদর্শী নিজেদের সে কাজে সম্পৃক্ত করে যাতে জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করতে পারে সে ব্যবস্থাটা আমাদের করতে হবে। কারণ, মানুষকে মানুষ হিসেবেই আমরা দেখতে চাই।
প্রয়োজনে ঢাকার বাইরে আরো বড় জায়গায় বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে, যেখানে কাজের ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে এই পুণর্বাসনটা করা যেতে পারে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

মামলাজট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দিতে হবে : আইনমন্ত্রী

0

বিদ্যমান মামলাজট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির ওপর জোর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এজন্য বিচারপ্রার্থী জনগণসহ আইনজীবীদের এ পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হবে। রোববার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কর্তৃক জিপি (সরকারি কৌশুলী) এবং পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) গণের জন্য ভার্চুয়ালি আয়োজিত ২৩তম বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য ও শোষণ হতে মুক্তি এবং সার্বিক উন্নয়নের সোপান হিসেবে দেখতে চাইলে সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বাস করতেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সে কারণেই তাঁর দেয়া সংবিধানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা সুস্পষ্টভাবে বিধৃত করা হয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু এমন এক স্বাধীন বিচার বিভাগের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে বিচারপ্রার্থী মানুষ স্বল্প খরচে, সহজে ও দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে স্বাধীন ও বিশ্বমানের বিচার বিভাগ গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

মন্ত্রী বলেন, বিচারক, জিপি, পিপি, আইনজীবী, আদালতের কর্মচারীসহ বিচার প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপালনরত সকলকে নিয়েই কিন্তু বিচার বিভাগ।
তাই বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন (স্টেক হোল্ডার) হিসেবে দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় বিষয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জিপি ও পিপিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জিপি ও পিপিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু সরকারি মামলায় সরকারকে যথাযথভাবে ‘রিপ্রেজেন্টেশন’ করা নয়, স্ব স্ব অফিসের সঠিক ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে মামলার ফাইল পরিচালনা করা, সরকারসহ সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে মামলা পরিচালনা করে বিচারে প্রবেশাধিকারকে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে সেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সর্ব অবস্থায় আদালতের নির্দেশনা পালন করে আদালতের মামলা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে হবে।

আনিসুল হক বলেন, কোন কোন জিপি এবং পিপি বিভিন্ন অজুহাতে আদালতে সময়ের দরখাস্ত দাখিল করে থাকেন। সরকারি আইন কর্মকর্তা হিসেবে মামলা দ্রুত নিস্পত্তি করতে হলে আপনাদেরকে অবশ্যই আদালতের সময় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সকল নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। আদালতে সঠিক সময়ে সাক্ষী হাজিরসহ নির্ধারিত তারিখে সাক্ষী পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে আপনাদেরকে সচেষ্ট হতে হবে। এক্ষেত্রে কোন ঢিলেঢালা বা গড়িমসি মনোভাব কাম্য নয়।
মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রের পক্ষে ওকালতি করার জন্যই সরকারি কৌঁসুলিদের নিয়োগ দেয়া হয়। তাই সরকারি কৌঁসুলিদের দ্বারা যদি রাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষিত না হয়; তারা যদি ঠিকমতো কাজ না করেন, বিচারপ্রার্থীরা যদি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন, বিচার যদি বিলম্বিত হয়, তবে তা হবে দুঃখজনক।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বক্তৃতা করেন।