ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩   বিকাল ৫:১৭ 

Home Blog Page 39

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা : ২২ বছর পর ফাঁসির আসামি গ্রেফতার

0

২২ বছর আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আজিজুল হক রানা ওরফে শাহনেওয়াজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। মঙ্গলবার রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) সদস্য শাহনেওয়াজ।
ওই ঘটনায় করা হত্যার ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গত বছরের ২৩ মার্চ ১৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। তাদের মধ্যে শাহনেওয়াজসহ পাঁচজন পলাতক ছিলেন। বুধবার দুপুরে মিন্টোরোডে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ৪৪ বছর বয়সী শাহনেওয়াজ দীর্ঘ ২২ বছর পলাতক থেকে খিলক্ষেত এলাকায় ছদ্মবেশে রাবারস্ট্যাম্প তৈরির কাজ করে আসছিলেন। তিনি জঙ্গিগোষ্ঠী হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীর নেতা মুফতি হান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল।
সিটিটিসির প্রধান বলেন, কোটালীপাড়ায় জনসভাস্থলে বোমা পুঁতে শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ১৪ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। তাদের মধ্যে পাঁচজন পলাতক ছিল। এখন লোকমান, ইউসুফ, এনামুল ও মোসাহেব নামে চারজন পলাতক রয়েছেন।
শাহনেওয়াজ বোমা তৈরিতে পারদর্শী এবং দীর্ঘদিন পলাতক থাকা অবস্থায় সাংগঠনিক কাজে লিপ্ত ছিল। আজিজুল নাম হলেও শাহনেওয়াজ নামেই পলাতক ছিল এবং রুমান নামেও পরিচয় দিতো, জানান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
২০০০ সালে কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের উত্তর পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের জন্য মঞ্চ নির্মাণের সময় মাটিতে পুঁতে রাখা ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পাওয়া যায়। পরদিন ৪০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার করা হয় কোটালীপাড়ার হেলিপ্যাড থেকে।
ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র এবং বিস্ফোরক আইনে কোটালীপাড়া থানায় তিনটি মামলা করে পুলিশ। শাহনেওয়াজ একটি মামলায় ২০ বছরের সাজা, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং আরেকটি মামলায় খালাস পেয়েছিল।

জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান, প্রজ্ঞাপন জারি

0

‘জয় বাংলা’কে জাতীয় ম্লোগান করতে হাই কোর্টের রায় কার্যকর করতে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “সাংবিধানিক পদাধিকারীগণ, দেশে ও দেশের বাইরে কর্মরত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ সকল জাতীয় দিবস উদযাপন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় ও সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করিবেন।“
পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন আয়োজনেও স্লোগানটি ব্যবহার হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাত্যহিক সমাবেশ সমাপ্তির পর এবং সভা-সেমিনারে বক্তব্যের শেষে শিক্ষকগণ ও ছাত্রছাত্রীবৃন্দ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করিবেন।”
দুই বছর আগে হাই কোর্টের এক রায়ে জাতীয় দিবস, সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চারণের উপর জোর দিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
উচ্চ আদালতের ওই নির্দেশনার আলোকে ২০ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
আইনজীবী বশির আহমেদের করা এক রিট মামলার নিষ্পত্তি করে ২০২০ সালের ১০ মার্চ জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত দেয় হাই কোর্ট।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ থেকে আসা সেই রায়ে বলা হয়, “আমরা ঘোষণা করছি যে, জয় বাংলা বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হবে। সকল জাতীয় দিবসগুলোতে এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে সাংবিধানিক পদাধিকারীগণ এবং রাষ্ট্রীয় সকল কর্মকর্তা সরকারি অনুষ্ঠানের বক্তব্য শেষে যেন জয়বাংলা স্লোগান উচ্চারণ করেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট বিবাদীরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
“সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অ্যাসেম্বলি সমাপ্তির পর ছাত্র-শিক্ষকগণ যেন জয়বাংলা স্লোগান উচ্চারণ করেন, তার জন্য বিবাদীরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।”
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলে, জয় বাংলা জাতীয় ঐক্যের স্লোগান। জয় বাংলা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের প্রিয় স্লোগান এবং জয় বাংলা ৭ মার্চের ভাষণের সঙ্গে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
“আবেদনকারী সংবিধানের ৩ ও ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ধারাবাহিকতায় জাতীয় স্লোগান হিসেবে জয় বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেছেন। কিন্তু এটা এই আদালতের এখতিয়ারবর্হিভূত। কারণ কোনো আইন প্রণয়ন এবং সংবিধান সংশোধন করার একমাত্র অধিকার জাতীয় সংসদের।”
তবে রাষ্ট্রপক্ষ এ রুলের সমর্থনে হলফনামা দিয়েছে উল্লেখ করে রায়ে আদালত বলে, আইনসচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করায় একমত পোষণ করেছেন।
হাই কোর্ট সেই রায় তিন মাসের মধ্যে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তা চূড়ান্ত হতে লেগে গেল প্রায় দুই বছর। বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

ডিআইজি মিজানের ৩ বছর দুদক পরিচালক বাছিরের ৮ বছর কারাদণ্ড

0

ঘুষ নেয়ার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় দুদকের বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে আট বছর ও পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে তিন বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া বাছিরকে ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় দেন।

এর মধ্যে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে মিজানকে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারায় ও বাছিরকে দণ্ডবিধির ১৬৫(এ) ধারায় তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপরদিকে মানি লন্ডারিং আইনের ৪ ধারায় বাছিরকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাছিরের দুটি দণ্ড একসঙ্গে চলবে বলে তাকে পাঁচ বছর দণ্ড ভোগ করতে হবে৷

তবে দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় উভয়ে দোষী সাব্যস্ত হলেও একই ধরনের অভিযোগে দণ্ডিত হওয়ায় এ ধারায় কাউকেই সাজা দেয়া হয়নি।
দুদকের পক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল ও আসামিপক্ষে এহসানুল হক সমাজী রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এরপর গত ১২ জানুয়ারি আত্মপক্ষ সমর্থনে ডিআইজি মিজান ছয়পৃষ্ঠা এবং এনামুল বাছির ১২ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য আদালতে জমা দেন। সবশেষ গত ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
গত ২৪ জানুয়ারি দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
এরপর গত ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার অপর আসামি ডিআইজি মিজানুর রহমানের পক্ষে তার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী শুনানি করেন। অপরদিকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাছিরের পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমানের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন। গত ২৩ ডিসেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।
৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের একই কর্মকর্তা।
গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। এরপর তিনি মামলাটি বিশেষ জজ আদালত-৪ এ বদলির আদেশ দেন। গত বছর ১৮ মার্চ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়।
২০১৯ সালের ৯ জুন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পরিচালিত দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে দায়মুক্তি পেতে দুদক পরিচালক বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন ডিআইজি মিজান। ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথন রেকর্ড করে ওই চ্যানেলকে দিয়েছিলেন মিজান। ডিআইজি মিজানও এ বিষয়ে নিজেই গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা থেকে বাঁচতে ওই অর্থ ঘুষ দেন বলে ডিআইজি মিজান দাবি করেন।
এ প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পর দুদক সংস্থার সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখতকে প্রধান করে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ২০১৯ সালের ১০ জুন প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিচালক বাছিরকে দুদকের তথ্য অবৈধভাবে পাচার, চাকরির শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সর্বোপরি অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে কমিশন।
এরপর ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদক পরিচালক ও অনুসন্ধান টিমের দলনেতা শেখ মো. ফানাফিল্লাহ মানি লন্ডারিং আইনে সংস্থার ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। একই বছর ২২ জুলাই এনামুল বাছিরকে গ্রেফতার করে দুদকের একটি দল। সেই থেকে তিনি কারাগারে। অপরদিকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার ডিআইজি মিজানকে এ মামলায়ও গ্রেফতার করা হয়। বাংলা নিউজ।

‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার সিদ্ধান্ত

0

‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগদান করে সভাপতিত্ব করেন এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসস।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘‘আজ একটা বিষয় কেবিনেটে এসেছে- সেটা হলো ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার বিষয়ে। এটা কেবিনেটে আলোচনা হয়েছে। ২০২০ সালে হাইকোর্টে একটি রায়ও আছে- ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা কেবিনেটে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, ‘জয় বাংলা’কে কেবিনেট থেকে একটি সার্কুলার দিয়ে জাতীয় স্লোগান হিসেবে প্রচার করে দিতে হবে। আমরা অবিলম্বে একটা নোটিফিকেশন করে দেবো।”
নোটিফিকেশন করতে কতদিন লাগবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দু- চারদিন এর বেশি লাগার কথা নয়।’
কোথায় কোথায় ‘জয় বাংলা’ বলতে হবে- এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “তিন-চারটি ক্যাটাগরির কথা জাজমেন্টে আছে। সাংবিধানিক পদধারীগণ, রাষ্ট্রের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী রাষ্ট্রীয় বা সরকারি অনুষ্ঠানের শেষে এটা বলবেন। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদরাসাসহ তাদের কোনো সভা-সেমিনার যদি হয়, অ্যাসেম্বলি বা যে কোনো ধরনের সমাবেশ হলে সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে হবে।”
‘যদি কোনো অনুষ্ঠান হয়, অ্যাসেম্বলি হয় সরকারি-বেসরকারি যারা থাকবেন জয় বাংলা স্লোগান ব্যবহার করবেন। এটা কেবিনেটের সিদ্ধান্ত’ বলেন তিনি।
উল্লেখ্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বশির আহমেদ জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা চেয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেছিলেন। ২০২০ সালে হাইকোর্ট ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান করার নির্দেশনা দিয়ে রায় ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতি:
জাতীয় স্লোগান হিসেবে ‘জয় বাংলা’র অনুমোদন দেয়ায় সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ১৮ নাগরিক। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এখন থেকে মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগান ‘জয় বাংলা’ রাষ্ট্রীয় শ্লোগান হিসাবে ঘোষণা করেছে সরকার। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে প্রায় সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার ৪৭ বছর রাষ্ট্রীয় আচার থেকে নির্বাসিত ছিল আমাদের প্রাণের শ্লোগান ‘জয় বাংলা’। আজ ৪৫ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগান আবারো রাষ্ট্রের শরীরে প্রতিস্থাপিত হলো।’এজন্য প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তারা। বিবৃতিদাতারা হলেন, আব্দুল গাফফার চৌধুরী, সৈয়দ হাসান ইমাম, অনুপম সেন, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, সারওয়ার আলী, আবেদ খান, সেলিনা হোসেন, লায়লা হাসান, আবদুস সেলিম, মফিদুল হক, শফি আহমেদ, শাহরিয়ার কবীর, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, মুনতাসীর মামুন, সারা যাকের, শিমূল ইউসুফ ও গোলাম কুদ্দুছ।

ইসি গঠনে মঙ্গলবার ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করবে সার্চ কমিটি

0

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটি ২২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করবে।
রবিবার সার্চ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে কমিটি প্রধান সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, আজ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পঞ্চম বৈঠকে আমরা ২০ জনের নাম প্রস্তুত করেছিলাম। সে নামগুলোর তালিকা আরো সংক্ষিপ্ত করে আজকের বৈঠকে ১২-১৩ জনের তালিকা প্রস্তুত করেছে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি।
তিনি বলেন, ২২ ফেব্রুয়ারি সপ্তম বৈঠকে সেখান থেকে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করা হবে। তিনি জানান, প্রস্তাবিত নামগুলো থেকেই বাছাই করা হচ্ছে। নাম চূড়ান্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। নামগুলো প্রকাশ করা হবে না। আইন অনুযায়ী সার্চ কমিটি নাম প্রকাশ করতে পারে না। রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছার পর তিনি চাইলে নামগুলো প্রকাশ করা হতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, প্রস্তাবিত নামের পাশাপাশি সার্চ কমিটি থেকে নাম দেয়ার সুযোগ থাকলেও তারা সেটি প্রয়োগ করছেন না। সার্চ কমিটির ১৫ কার্যদিবস ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। তবে কমিটি ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কমিটি প্রধান। সন্ধ্যায় সুপ্রিমকোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সার্চ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাসস।

সহকর্মীদের নজিরবিহীন প্রতিবাদ: দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতি নিয়ে যা জানা গেলো

0

দুর্নীতি দমন কমিশনের পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ দুদকের মাঠ পার্যায়ের কর্মকর্তারা। এর প্রতিবাদে তারা মাঠে নেমেছেন, মানববন্ধন করেছেন। কর্মবিরতি পালন করছেন। দুর্নীতিবিরোধি এই সংস্থাটির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ ধরণের প্রতিবাদকে নজিরবিহীন বলা হচ্ছে।
এদিকে দুদকের শীর্ষ কর্মকর্তারা ডিএডি শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়াকে আইনসঙ্গত ও বিধিমোতাবেক বলে দাবি করলেও ঠিক কী কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তা স্পষ্ট করেন নি।
যে ভাবে চাকরিচ্যুত : বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুতির আদেশ দেন দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়,দুর্নীতি দমন কমিশন(কর্মচারী)চাকরি বিধিমালা ২০০৮ এর বিধি ৫৪(২)অনুযায়ী তাকে চাকরি হতে অপসারণ করা হয়েছে। আদেশের দিন থেকেই শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতি কার্যকর হবে। বিধি মোতাবেক ৯০ দিনের বেতন এবং প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন তিনি।

এদিকে শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন তার সহকর্মীরা। তারা বলছেন, শরীফ উদ্দিন সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শরীফ উদ্দিন যা বললেন: চাকরিচ্যুত শরীফউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, তাকে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয়া হয়নি। বলেন, পটুয়াখালীতে বদলির পরও তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। হুমকি পেয়ে গত ৩০ জানুয়ারি তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় জিডি করেন। শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আমার কিছুই বলার নেই। শুধু এটুকু বলব, আমি মজলুম।’
জানা গেছে, শরীফ উদ্দিন চট্টগ্রামে কর্মরত অবস্থায় কক্সবাজারে ৭২টি প্রকল্পে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি, রোহিঙ্গা নাগরিকদের ২০টি এনআইডি ও পাসপোর্ট জালিয়াতি ও কর্ণফুলী গ্যাসে অনিয়মসহ বেশ কিছু দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মামলা করেন। এতে তিনি অনেকের ‘চক্ষুশূল’ হয়ে উঠেছিলেন। গত বছরের ১৬ জুন শরীফ উদ্দিনকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। কোনো ধরনের ‘কারণ দর্শাও নোটিস না দিয়ে’ এভাবে অপসারণের বিষয়টিকে ‘অসাংবিধানিক’ হিসেবে বর্ণনা করে শরীফ উদ্দিন। “সাত বছরের চাকরি জীবনের সাড়ে তিন বছর চট্টগ্রামে কাজ করেছি। এ সময় ভুলভ্রান্তি হতে পারে, কিন্তু চাকরি যাবার মত কোনো কাজ আমি করিনি।”
দুদক যা বলছে: শরীফ উদ্দিনের অপসারণ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান মো. মঈনুদ্দিন আবদুল্লাহ বলছেন, তিনি এমন কিছু করেছিলেন, যাতে ওই সিদ্ধান্ত নিতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সে যে কাজকারবার করেছে, তাতে তাকে নোটিস দিয়ে অপসারণ করার প্রয়োজন নেই। সে এমন অনিয়ম করেছে, তাকে সরাসরিই অপসারণ করতে হয়েছে।” তবে ঠিক কী অনিয়ম শরীফ করেছেন, অথবা কী কী অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি দুদক চেয়ারম্যান।
দুদকের কমিশনার ড: মোজাম্মেল হক খান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় তাকে কর্তৃপক্ষ অপসারণে বাধ্য হয়েছে।
“তার (শরীফ উদ্দিন) বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ আছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। দীর্ঘদিন সেই অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে,। ড: মোজাম্মেল হক খান আরও বলেন, “তার (শরীফ উদ্দিন) বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সেটা আইনসিদ্ধ। দুদক তার আইনের বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। “কাজেই কেউ যদি বলে যে তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে, সেকারণে অপসারণ করা হয়েছে- এসব অভিযোগের সাথে দুদকের সিদ্ধান্তের কোন সম্পর্ক নেই,” বলেন ড: মোজাম্মেল হক খান।
দুদকের সচিব মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন বলেছেন, শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তিনটি বিভাগীয় মামলা ছিল। সেসব মামলায় দুদক বিধি অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কিন্তু চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী ছিল, সে ব্যাপারে দুদকের পক্ষ কিছু বলা হয়নি।

শরীফকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়টি নিয়ে তার সহকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও করেছেন একদল কর্মী। পটুয়াখালী দুদক কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন সহকর্মীরা। এতে সহকারী পরিচালক মো. আরিফ হোসেন, সহকারী পরিদর্শক কৃষ্ণ পদ বিশ্বাস, উপসহকারী পরিদর্শক সিকদার মুহম্মদ নুরুন্নবী, উচ্চমান সহকারী মো. নুর হোসেন গাজী প্রমুখ অংশ নেন।
তারা শরীফ উদ্দিনকে অসাংবিধানিক ভাবে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে দাবি করে অবিলম্বে তার চাকুরিতে বহালের দাবি জানান। শরীফ উদ্দিন, দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় পটুয়াখালীতে উপ-সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার আগে সাড়ে তিন বছর ছিলেন চট্টগ্রামে।
গত বছরের জুন মাসে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটর তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক, সেসব মামলার বাদী ছিলেন শরীফঅ
পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা সনদ দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেও তিনি আলোচিত হন।
অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ স্থানান্তর ও নতুন সংযোগ প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (কেজিডিসিএল) বিভিন্ন অভিযোগ নিয়েও তদন্ত করেন শরীফ।
পরে অভিযোগের ‘সত্যতা পেয়ে’ কেজিডিসিএল এর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সাবেক বৈদেশিক ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজনকে আসামি করে গত বছরের ১০ জুন মামলা করেন তিনি।
জুন মাসের ১০ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলা দায়েরের পর চট্টগ্রাম থেকে তাকে পটুয়াখালীতে বদলির আদেশ জারি হয়। ওই আদেশ নিয়েও সে সময় নানা আলোচনা হয়েছিল।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তখন বলা হয়েছিল, এক কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চাকরি করায় নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে শরীফকে পটুয়াখালী পাঠানো হয়েছে। এর আট মাসের মাথায় শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকেই অপসারণ করা হল।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও তদন্ত শুরু করেছিলেন শরীফ উদ্দিন। সে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।
পটুয়াখালীর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে কর্মরত থাকলেও শরীফের পরিবার থাকতেন চট্টগ্রাম নগরীতে। গত ৩০ জানুয়ারি সেখানে গিয়ে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা ‘হত্যার হুমকি দিয়েছেন’ বলে খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন শরীফ উদ্দিন।
চাকরি হারানোর পর বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, এখন তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কিত।
“আমার এ অপসারণ অসাংবিধানিক। আমার বিরুদ্ধে কমিশনের কিছু অনুসন্ধান চলমান আছে। আমি সেগুলোর সন্তোষজনক জবাবও দিয়েছি। চট্টগ্রাম থেকে বদলি আদেশ হওয়ার পরপরই আমি কমিশনকে জানিয়েছিলাম, প্রভাবশালী মহল আমার বিরুদ্ধে লেগেছে।”
শরীফ বলেন, চট্টগ্রামে থাকাকালে কক্সবাজারে ভূমি অধিগ্রহণের সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকা দুর্নীতির ঘটনায় ১৫৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন তিনি, যেখানে অ্যাডমিন ক্যাডার ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও ছিলেন।
“পেট্রোবাংলার প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের (কেজিডিসিএল) অনিয়মের বিরুদ্ধে ১০টি মামলার সুপারিশ করেছি এবং সাবেক এক এমপির ছেলেসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে আসামি করে একটি মামলাও করেছি। চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে অনেকের মুখোশ উন্মোচন করেছি, পাঁচটি মামলার সুপারিশ করেছি।
“এসব বিষয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েছি। আমার বাসায় গিয়ে একটি মহল হুমকি দিয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিয়েছিল। এর ১৬ দিনের মধ্যেই আমার অপসারণ আদেশ হয়েছে।”

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩ মার্চ

0

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা ২ মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামি ৩ মার্চ দিন ধার্য করেছে আদালত। ‘ভূয়া’ জন্মদিন পালন ও মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে দায়ের করা মানহানি সংক্রান্ত ২ মামলায় অভিযোগ গঠনের জন্য নতুন এদিন ধার্য করা হয়।
বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম (এসিএমএম) আসাদুজ্জামান নুরের আদালতে ২ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে সময়ের আবেদন করেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নতুন দিন ধার্য করেন।
মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বলা হয়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামাতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি (খালেদা জিয়া) রাজাকার-আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের বাড়ি-গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তুলে দেন।
২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির এ মামলা দায়ের করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। আদালত বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
পরের বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক মশিউর রহমান (তদন্ত) অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দেন। মামলার অন্য আসামি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মৃত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
ভূয়া জন্মদিন পালন সংক্রান্ত মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালে দু’টি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর।
১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট লেখা হয়। তার বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট। সর্বশেষ ২০০১ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অনুযায়ী, তার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে তার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি পাঁচটি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিন জাতীয় শোক দিবসে (১৫ আগস্ট) আনন্দ-উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন।
২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই এ ২টি মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ খালেদার জামিন মঞ্জুর করেন।বাসস।

গাজীপুরের বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা দুর্নীতির তথ্য, ভূয়া ব্যাংক হিসাবে লেনদেন

0

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। ভূয়া নামে ব্যাংক হিসেব খুলে সিটি করপোরেশেনর হোল্ডিং ট্যক্সের টাকা এসব ব্যাংক হিসেবে লেনদেন করেছেন। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা গেছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের গাজীপুর কোনাবাড়ি শাখায় খোলা ‘মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন’ নামে ওই অ্যাকাউন্টে সদ্য বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম লেনদেন করেছেন। কিন্তু গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নামে এমন ব্যাংক হিসাব নেই। ভুয়া এ অ্যাকাউন্টে ‘ফিন-বাংলা এ্যাপারেলস’ এবং ‘জিএসএম কম্পোজিট লিমিটেড’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অগ্রিম হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ দুই কোটি ২০ লাখ টাকা নিয়ে জমা দিয়ে তুলে নিয়েছেন জাহাঙ্গীর।
এ ছাড়া ইস্পাহানী ফুডস নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা ৪০ লাখ ২৫ টাকাও করপোরেশনের অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে তার গোপন অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে আত্মসাৎ করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান তিনটি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, করপোরেশনের দুজন কর্মকর্তার অগোচরে তাদের নামে ৯১ লাখ টাকার পৃথক দুটি চেক ইস্যু করে সেগুলোও নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন জাহাঙ্গীর। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ অ্যাকাউন্টের বিবরণী পাওয়া গেছে। অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে বন্ধ। এ সংক্রান্ত সব তথ্য-উপাত্ত আমাদের সময়ের হাতে পৌঁছেছে।
সূত্র জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক ‘প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা’ মো. রেজাউল বারীর নামে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করতে অগ্রিম ৪৫ লাখ টাকার চেক ইস্যু করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ রেজাউল বারী চেকের বিষয়টি জানতেন না। বিষয়টি জানেন না উল্লেখ করে তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে চিঠি লিখেছেন। একই অনুষ্ঠানের জন্য সিটি করপোরেশনের সাবেক সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নামেও ৪৬ লাখ টাকার চেক ইস্যু করা হয়েছে, যা মোস্তাফিজ জানেন না। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের মোট খরচ দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৫৭২ টাকা। দুই কর্মকর্তার অগোচরে ইস্যুকৃত চেক দুটি নগদায়নের জন্য অনুরোধ করেন করপোরেশনের প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়া। এ বিষয়ে জানতে তাকে ফোন করা হলে তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘আপনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে কথা বলেন। আমি কিছুই জানি না।’
করপোরেশনের রাজস্বের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে মেয়র জাহাঙ্গীরের নির্দেশে তিনি নিজের কাছে রাখতেন এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কিবরিয়া বলেন, করপোরেশনের কোনো টাকাই আমার কাছে রাখার সুযোগ নেই। এমন অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা।
জাহাঙ্গীরের বক্তব্য : বরখাস্ত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। যারা আমাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র করেছেন, তারাই এখন নতুন নতুন অভিযোগ তুলছেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকে আমার নামে কে বা কারা অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন করেছেন তা আমার জানা নেই।’
‘মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন’ নামের অ্যাকাউন্ট লেনদেনের বিবরণী এবং যারা টাকা তুলেছেন তাদের নাম জানানো হলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিটি করপোরেশনে শত শত লোক চাকরি করে। আমি তাদের দেখলে চিনব, আবার নাও চিনতে পারি। আমি যদি নিজেই সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে থাকি তা হলে ব্যাংকের সিসি ক্যামেরায় নিশ্চয়ই আমাকে দেখা যাবে। আপনারা ব্যাংকের সাহায্য নিয়ে সিসি ক্যামেরা দেখুন।
দুই কর্মকর্তার নামে যথাক্রমে ৪৬ লাখ ও ৪৫ লাখ টাকার চেক ইস্যু করা হলেও তারা তা জানেন না কেন, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশর্তবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আমি করেছি। অনুষ্ঠানের পুরো ভিডিও আছে। খরচের জন্যই টাকা তোলা হয়েছে। কর্মকর্তারা যদি এখন বলেন, তারা জানেন না, তা হলে সেটিও ষড়যন্ত্র।
অগ্রিম হোল্ডি ট্যাক্স এবং লে-আউট প্লান তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২ কোটি ৬০ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়েও কেন সমন্বয় করেননি, এমন প্রশ্নে বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স অগ্রিম নেওয়া হয়নি। এগুলো সবই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
করপোরেশনের পে-অর্ডার জাহাঙ্গীরের অ্যাকাউন্টে জিএমএস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড মেয়রকে লেখা অভিযোগের চিঠিতে জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানের ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বাবদ ২ কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মেয়র জাহাঙ্গীর হোল্ডিং ট্যাক্স হিসেবে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা অগ্রিম জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ টাকা পরে সমন্বয় করার আশ্বাস দেন তিনি। মেয়রের নির্দেশে ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে তিনটি পে-অর্ডারে মোট ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা দেয় জিএমএস। ২০২০ সালের ১৯ জুলাই তারিখের ৬৭ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯০ টাকা এবং ৮৫ লাখ টাকার পে-অর্ডারটি ২৯ জুলাই প্রিমিয়ার ব্যাংকের কোনাবাড়ি শাখায় ‘মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন’ নামে হিসাবে জমা দেওয়া হয়। আর ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৪১০ টাকার পে-অর্ডারটি আগস্টের ৩ তারিখ জমা হয়। ব্যাংকের হিসাব বিবরণী অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলেছেন হিসাবধারী নিজে, শহিদুল, প্লোটো চাকমা এবং শামীম হোসাইন।
ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে লেখা চিঠিতে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান ইস্পাহানী ফুডস লিমিটেড জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠানের লে-আউট প্লানের জরিমানা বাবদ ‘মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন’ অ্যাকাউন্টের অনুকূলে ৪০ লাখ ২৫ হাজার টাকার পে-অর্ডার করা হয়। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পে-অর্ডারটি ইস্যু করা হয়, যার নাম নম্বর এমটিবি-১৪৭৪৫৪২। প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রশাসন থেকে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ওই চিঠি পাঠানো হয়।
আরেক প্রতারিত প্রতিষ্ঠান ফিন-বাংলা এ্যাপারেলস লিমিটেডের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে মেয়র জাহাঙ্গীর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজের কথা বলে হোল্ডিং ট্যাক্স হিসেবে অগ্রিম ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। এক্সিম ব্যাংকের পে-অর্ডারে ৫০ লাখ টাকা দেয় ফিন-বাংলা। মেয়র এ টাকা পরে সমন্বয় করার আশ্বাস দিলেও তিনি সমন্বয় করেননি এবং নতুন করে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে বাধ্য করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়ার আসাদুর রহমান কিরণ আমাদের সময়কে বলেন, আপনি যা শুনেছেন তা সত্য। প্রিমিয়ার ব্যাংকে ‘মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন’ নামে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। অথচ সেই অ্যাকাউন্টে সাবেক মেয়র লেনদেন করেছেন বলে আমরা জেনেছি। ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা গেছে উনি নিজে (জাহাঙ্গীর) এবং তার লোক শহিদুল, প্লোটো চাকমা ও শামীম হোসাইন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলেছেন।
তিনি বলেন, ইস্পাহানী ফুডস লিমিটেডের লে-আউট প্লানের জরিমানা বাবদ ৪০ লাখ ২৫ হাজার টাকা, জিএমএস কম্পোজিট নিটিং লিমিটেডের ১ কোটি ৭০ লাখ, ফিন বাংলা এ্যাপারেলস লিমিটেডের ৫০ লাখ টাকা হোল্ডি ট্যাক্স বাবদ অগ্রিম টাকা নিয়ে করপোরেশনের হিসাবে জমা দেননি জাহাঙ্গীর। এ ছাড়া করপোরেশনের সাবেক সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নামে ৪৬ লাখ এবং সাবেক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রেজাউল বারীর নামে ৪৫ লাখ টাকার চেক ইস্যু করা হলেও তারা বিষয়টি জানেন না।
ভারপ্রাপ্ত মেয়র আরও বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি বিষয়গুলো তদন্ত করছে। নিশ্চয়ই তদন্তে অনিয়মগুলো বের হয়ে আসবে।
এদিকে জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন অনুবিভাগ) মোস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী আমাদের সময়কে বলেন, আমরা তদন্ত করছি। বেশ কিছু কাগজপত্র হাতে পেয়েছি। যাচাই-বাছাইয়ে সবকিছুই বের হয়ে আসবে। এর বেশি কিছু জানাতে পারব না।
জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের খরচ ২ কোটি ১১ লাখ
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে খরচ করেছেন ২ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৫৭২ টাকা। কিন্তু খরচের টাকা তুলে নিয়েছেন নামে-বেনামে চেকের মাধ্যমে। কে-স্পোর্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩টি স্থানে কাউন্টডাউন স্থাপন করতে ৫৪ লাখ টাকার চেক দিয়েছেন মেয়র। সিটি করপোরেশনের সাবেক সচিব মোস্তাফিজুর রহমানের নামে একই অনুষ্ঠানের খাত দেখিয়ে ৪৬ লাখ টাকা এবং সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা রেজাউল বারীর নামে ৪৫ লাখ টাকার চেক ইস্যু করা হয়। কিন্তু এ দুই কর্মকর্তাই তাদের নামে ইস্যুকৃত চেকের বিষয়ে জানতেন না। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার মুদ্রণের জন্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির নামে ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ইস্যু করা হয়েছে। ১৭ মার্চ রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠান বাবদ ‘গোল্ডেন কনস্ট্রাকশনের নামে ২৯ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭২ টাকার চেক ইস্যু করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন উপলক্ষে মানুষ দ্বারা জাতীয় পতাকা ও ম্যাপে বঙ্গবন্ধুর ছবি তৈরি করে ওয়ার্ল্ড গ্রিনেজ বুকে রেকর্ডের জন্য ম্যানেজার, সোনালী ব্যাংক কোর্ট বিল্ডিং শাখা গাজীপুরের অনুকূলে ২৩ লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকার চেক ইস্যু করা হয়েছে।
করোনা তহবিল আত্মাসাতের অভিযোগ
করোনা মোকাবিলার তহবিল নিয়ে নয়-ছয় করার অভিযোগ রয়েছে মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। সংক্রমণ মোকাবিলায় সরঞ্জাম কিনতে ৩৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে কমিটি করা হয়। কাউন্সিলরের অনুকূলে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৯টি চেকে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ইস্যু করা হয়েছে। ৫টি চেক অগ্রিম ভাউচারে নগদায়ন করা হয়েছে। এসব টাকা কোন কোন খাতে খরচ করা হয়েছে তার সঠিক হিসাব নেই করপোরেশনের কাছে। কর্মকর্তারা জানান, করোনা মোকাবিলার বিপুল পরিমাণ এ টাকা লুটপাট হয়েছে।
মেয়র ঘনিষ্ঠ ২৩ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেট
২০১৮ থেকে ২০২১ অর্থবছর পর্যন্ত মেয়রের ঘনিষ্ঠ ২৩ প্রতিষ্ঠান ১২৯ কোটি টাকার কাজ করে। এ ২৩ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনে কাজ পায়নি। নতুন করে আর কোনো প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সও দেওয়া হয়নি। পুরনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সও নবায়ন করা হয়নি। মেয়রের ঘনিষ্ঠ ৫ ব্যক্তি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট দেখাশোনা করত। তারা হলেন- আমিনুল ইসলাম, আল আমিন, শহিদুল ইসলাম জয়, আশরাফুল ইসলাম রানা, রুহুল আমিন ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মনির। ঘুরে ফিরে এ ২৩ প্রতিষ্ঠানই সব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ভাগবাটোয়ারা করত।
গত নভেম্বরে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে। পরে তাকে জমি দখল, জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি সম্পদ আত্মসাতের মতো অভিযোগে মেয়রের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তার অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়। জাহাঙ্গীরের অনিয়ম-দুর্নীতির খতিয়ান অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কমিটির আহ্বায়ক। (সৌজন্যে ‘দৈনিক আমাদের সময়’, প্রতিবেদক- ইউসুফ আরেফিন)।

সার্চ কমিটিতে দেয়া নাম ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে

0

যে সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এখনো সার্চ কমিটিতে নাম প্রস্তাব করেনি, সে সকল দলকে ১৪ ফেব্রুয়ারী সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে নাম দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইসি গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটির সঙ্গে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠক শেষে কমিটিকে সাচিবিক সহায়তার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফকালে একথা জানান।
তিনি বলেন, যে সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এখনো সার্চ কমিটিতে নাম প্রস্তাব করেনি সে সকল দলকে সোমবার ৫টার মধ্যে নাম দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ২৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নাম প্রস্তাব এসেছে। যে সকল দল নাম প্রস্তাব করেনি, তাদের ফের অনুরোধ জানানোর জন্য বিশিষ্ট নাগরিক ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী সার্চ কমিটির সঙ্গে বৈঠককালে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কমিটি এরপর ফের নাম চেয়ে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটির কাছে ৩২৯ টি নামের প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে ১৩৬ নাম, পেশাজীবীদের কাছ থেকে ৪০ নাম, ব্যক্তিপর্যায় থেকে ৩৪ নাম, মতামত দেয়াকালে ২০ এবং বিভিন্ন ই-মেইলের মাধ্যমে ৯৯ নাম। তিনি বলেন, এমনও হতে পারে একই নাম চার পাঁচ বারও রয়েছে। কমিটি বসে এগুলো সর্টআউট করবে। এসব নাম সোমবার বিকেলে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে চারটায় সার্চ কমিটির পরবর্তী বৈঠক হবে। বিকেল সোয়া ৪ টা থেকে তিন ঘন্টা দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামত নেয়ার অংশ হিসেবে তৃতীয় বৈঠক করেন ইসি গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটি। সুপ্রিমকোর্টের কনফারেন্স রুমে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
সার্চ কমিটির প্রধান আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন সার্চ কমিটির সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন এবং কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। বাসস।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনারদের বিদায়ী সাক্ষাত

0

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দল ও জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। রাষ্ট্রপতি রোববার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, তাই নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী বিভাগ, রাজনৈতিক দল ও জনসাধারণের সহযোগিতা নিয়ে এই কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন সব ক্ষেত্রে সকল পর্যায়ে আরো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সক্ষম হবে।
সাক্ষাৎকালে তারা কমিশনের নির্বাচনী কার্যক্রমসহ তাদের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তারা দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা ও দিক নির্দেশনার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং কবিতা খানম।
নির্বাচন কমিশন মুজিব বর্ষ উপলক্ষে, “বীর মুক্তিযোদ্ধা” সম্বলিত একটি পরিচয় পত্র রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে প্রদান করেন।
এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ ও জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন ২০২১ এর (বাংলা ভার্সন) দুটি কপি রাষ্ট্রপতিকে হস্তান্তর করেন। বাসস।