সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া একটি অডিও প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, একটা ইনোসেন্ট কনভারসেশনকে পুঁজি বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ তাদের হাতে আর কিছু নেই।’ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলছি। তিনি আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি সেগুলোর জবাব দিচ্ছি…। যারা দেউলিয়া তারাই এগুলো প্রচার করছে। অবশ্যই এটির তদন্ত হবে, এর গুরুত্ব দেওয়া দরকার।’
আইনমন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং স্নেহের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ কালে আইনজীবীদের দূরাবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছেন। চেক গ্রহণ করেন বাংলাদশে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও এটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন এবং ভাইস-চেয়ারম্যান সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। এসময় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান বাদলসহ বার কাউন্সিলের অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তবে রায় দেয়ার সময় বলা হয়েছিল একবার-দুইবার এই সরকারের অধীনে নির্বাচন করা যেতে পারে, যদি সংসদ রাজি থাকে। কিন্তু সংসদ এটি গ্রহণ করেনি। কেয়ারটেকার সরকারের কোনো বৈধতা নেই। তাই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে এই কেয়ারটেকার সরকারে ফিরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।’ ইসি গঠনের জন্য পছন্দের তালিকায় বিএনপির নাম না দেয়া নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে যারা নাম দেয়নি তাদের ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে আমি রাজি নই।’
ইনোসেন্ট কনভারসেশনকে পুঁজি বানানোর চেষ্টা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি নির্বাচন, ইসিকে সব ধরণের সহায়তা করা হবে: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকার বিশ্বাস করে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি নির্বাচন। তাই সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সব ধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ খচিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (বাংলা পাঠ) ও জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০২১ এর একটি সংকলনের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন ততদিন নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সহযোগিতা করবেন। নির্বাচন কমিশনের জন্য বর্তমান সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতার ফল হচ্ছে আজকের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র, নির্ভুল ভোটার তালিকা, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম), নির্বাচন কমিশনের আধুনিক অবকাঠামো, জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন ২০২১, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন আইন ২০২২ ও নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণ। আনিসুল হক বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশে অনেক সরকার এসেছে, কিন্তু কেউ এই আইন করার সাহস দেখায়নি যা দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন ততদিন নির্বাচন কমিশনকে এভাবেই সহযোগিতা করে যাবেন।’ আইনমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রচনা করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তারা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন, মর্যাদা দিয়েছেন। তাদের অবদান ভুলে গেলে চলবে না। নতুন প্রজন্মের কাছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান তুলে ধরতে হবে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
ইসি গঠনে ৩২৯ নামের প্রস্তাব সার্চ কমিটিতে, বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠক
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে ৩২৯ নামের প্রস্তাব পেয়েছে সার্চ কমিটি। শনিবার দুই দফায় দেশের ২৫ জন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংক্রান্ত সার্চ কমিটি। বৈঠক শেষে সার্চ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, শনিবার দুই দফায় মোট ২৫ জন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সার্চ কমিটি। প্রথম বৈঠকে ছিলেন ১৪ জন, দ্বিতীয় বৈঠকে ছিলেন ১১ জন।
তিনি জানান, সবারই মূল বক্তব্য হলো এমন নির্বাচন কমিশন করা যেন সবার আস্থাভাজন হয়। যারা ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠানে পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি বলেন, রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারী) বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে আরো একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটির কাছে ৩২৯ টি নামের প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে ১৩৬ নাম, পেশাজীবীদের কাছে থেকে ৪০ নাম, ব্যক্তিপর্যায় থেকে ৩৪ নাম, বিভিন্ন ইমেইলের মাধ্যমে ৯৯ নাম। তিনি বলেন, এমনও হতে পারে একই নাম চার পাঁচ বারও রয়েছে। কমিটি বসে এগুলো সটআউট করবে।
রোববার সকাল ১১ টা ২৫ মিনিট থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রথম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেশের ১৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা হলেন: বিশিষ্ট আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, এ এফ হাসান আরিফ, ফিদা এম কামাল, মনসুরুল হক চৌধুরী, এম কে রহমান, ড. শাহদীন মালিক, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মাকসুদ কামাল, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মাহফুজা খানম, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুরশিদ, ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান।
দুপুর ১ টার দিকে দ্বিতীয় বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় বেলা আড়াইটার দিকে। দ্বিতীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজকের পত্রিকার সম্পাদক ড. গোলাম রহমান, যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল বাবু, ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দৈনিক জাগরণের সম্পাদক আবেদ খান, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, এনটিভির বার্তাপ্রধান জহিরুল আলম, সিনিয়র সাংবাদিক স্বদেশ রায় ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
সুপ্রিমকোর্টের কনফারেন্স রুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সার্চ কমিটির প্রধান আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বৈঠকে সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সার্চ কমিটির সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন এবং কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক।
বৈঠক থেকে বের হয়ে বিশিষ্ট নাগরিকগন গণমাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন, অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। সেখানে তারা আগামী ইসি গঠন বিষয়ে তাদের স্ব স্ব মতামত দিয়েছেন।
ইসি যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ মোট ২৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সার্চ কমিটির কাছে নাম প্রস্তাব করেছে।পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১১ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নাম দেয়ার অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছিল ইসি গঠন সংক্রান্ত সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটি।
সার্চ কমিটির সাচিবিক দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম সাংবাদিকদের বলেন, ২৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পেয়েছেন। এ ছাড়া ছয়টি পেশাজীবী সংগঠন থেকে প্রস্তাব এসেছে। এই পেশাজীবী সংগঠনের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ), কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন ও ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনও আছে। এর বাইরেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেশ ও বিদেশ থেকে অনেক বড় সংখ্যায় প্রস্তাব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম। এগুলো এসেছে মূলত ই-মেইলে। শফিউল আজিম বলেন, নামগুলোর তালিকা করে এখন সার্চ কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর ঠিকানায় গত বুধবার চিঠি দিয়ে নাম দেয়ার অনুরোধ করে সার্চ কমিটি। চিঠিতে প্রতিটি দলকে শুক্রবার বিকেল ৫ টার মধ্যে অনধিক ১০ জনের নাম (প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি) পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনে দলগুলোর যে কার্যালয়ের ঠিকানা দেয়া আছে, সে ঠিকানায় ওই চিঠি দেয়া হয়।
নাম জমা দেয়ার শেষ দিনে আওয়ামী লীগের পক্ষে শুক্রবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গিয়ে নাম জমা দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অধ্যাপক সেলিম মাহমুদ ও উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রস্তাবকৃত নাম খামে দিয়ে আসেন।
শেষ দিনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, তরীকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি (জেপি)সহ বেশির ভাগ দল নাম জমা দেয়। বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ (জাসদ) অন্তত পাঁচটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সার্চ কমিটির কাছে নাম প্রস্তাব করে জমা দেন। বাসস।
সুপ্রিম কোর্ট বারের কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করতে মামলা, সমন জারি
সভাপতি আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুপরবর্তী সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের যাবতীয় কার্যক্রম বেআইনি অকার্যকর মর্মে ঘোষণা করতে মামলা করা হয়েছে।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি বিবাদীদের জবাব দাখিল করতে সমন জারি করেন।
মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ৫ম যুগ্ম জেলা জজ জি এম নাজমুল সাদাতের আদালতে সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্য ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম মামলাটি করেন।
মামলার বিবাদীরা হলেন- সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল, সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন ও মোহাম্মদ শফিক উল্লাহ, ট্রেজারার ডা. জাফর ইকবাল, সহ-সম্পাদক সাফায়াতা সুলতানা রুমী ও মাহমুদ হাসান, সদস্য মাহফুজার রহমান রুমান, এ.বি.এম. শিবলী সাদেকীন, এস. এম ইফতাখের উদ্দীন মাহমুদ, পারভীন কাওছার মুন্সী, মিটু কুমার মন্ডল, রেদওয়ান আহম্মেদ রনজিব ও মুনতাছির উদ্দিন আহমেদ।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সুপ্রিম কোর্ট বারের ২০২০-২১ বর্ষের নির্বাচনে নির্বাচিত সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু গত বছর ১৪ এপ্রিল মারা যান। এতে সভাপতির পদ শূন্য হয়। তার মৃত্যুর পর সুপ্রিম কোর্ট বারের কার্যনির্বাহী কমিটি বারের গঠনতন্ত্র মোতাবেক ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কিংবা অদ্যবধি গঠনতন্ত্র মোতাবেক কোনো সভাপতি নির্বাচন করেনি। সভাপতির পদ শূন্য রেখে সম্পাদক ও ট্রেজারারসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ বেআইনিভাবে বারের অর্থ ব্যয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কার্যনির্বাহী কমিটি অবৈধভাবে কাজ পরিচালনা করে প্রায় ১২ কোটি টাকা ও বারের তহবিল থেকে আরও ১৩ কোটি টাকা বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছে।
মামলার অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, সভাপতির মৃত্যুর পর গত বছরের ৪ মে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা মূলতবি হওয়ার পর থেকে বারের তহবিল থেকে মোট ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিপ্রায়ে বাজেট সভার নামমাত্র আয়োজন করা হয়। সভায় কোনো খসড়া বাজেট কোনো সদস্যের হাতে দিতে না পেরে, কোনো বাজেট পাস করতে না পেরে অন্যায়ভাবে বারের অর্থ বেআইনি ও প্রতারণামূলকভাবে ব্যয় করায় কার্যনির্বাহী কমিটির গত ১ ফেব্রুয়ারির সভাসহ পরবর্তী যাবতীয় কার্যক্রম অকার্যকর, বেআইনি চক্রান্ত। সূত্র – জাগো নিউজ।
৭১-এর হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিল জেনোসাইড ওয়াচ
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বাঙালি জনগোষ্ঠীর উপর সংঘটিত অপরাধযজ্ঞকে গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জেনোসাইড ওয়াচ ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এছাড়া, লেমকিন ইন্সটিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি জাতির উপরে সংঘটিত অপরাধযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
সংস্থা দুটি জাতিসংঘসহ আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যাকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
গণহত্যাবিষয়ক সংস্থাসমূহের স্বীকৃতির ফলে ২৫ মার্চ-কে গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ২০১৭ সালের ১১ মার্চ তারিখে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় জোরদার হবে।
বিশ্বে গণহত্যা নিয়ে কাজ করে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘জেনোসাইড ওয়াচ’।

বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের ওই বর্বরতার ৫০ বছর পূর্তিতে জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জর্জ এইচ স্ট্যানটন তাদের ওয়েবসাইটে এ ঘোষণা দেন। শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনের ছেলে তৌহিদ রেজা নূর ২০২১ সালের ডিসেম্বর এ স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এলো এ স্বীকৃতি।
এর মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের পাকিস্তানিদের হত্যাযজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্রেও গণহত্যার স্বীকৃতি পেলো ও বৈশ্বিক স্বীকৃতির পথ সুগম হলো।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানসহ জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশকে পাকিস্তানি বাহিনীর করা সেসব অপরাধকে ‘জোনোসাইড, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে স্বীকার করে নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সেই জেনোসাইডে নেতৃত্বদাতাদের মধ্যে যারা এখনও জীবিত, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে জেনোসাইড ওয়াচের ঘোষণায়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে (২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে) পাকিস্তানি জেনারেল রাও ফরমান আলীর নীলনকশা অনুযায়ী নিরস্ত্র, ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ‘অপারেশন সার্চলাইটে’র নামে শুরু হয় গণহত্যা। এদিন রাতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে তারবার্তা সহযোগে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানিরা।
২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান এবং পরে মুক্তিযুদ্ধকালীন ‘জেড ফোর্সে’র সমরনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান এ ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানি হায়েনাদের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম চাইবে সার্চ কমিটি, প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম চাইবে সার্চ কমিটি। রোববার বিকেলে কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে অনুসন্ধান কমিটিকে সাচিবিক সহায়তার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বৈঠক শুরু হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ব্রিফ করেন তিনি। খবর বাসস।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম চাওয়া হবে বলে জানান খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
তিনি জানান, ‘যেসব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে, তাদের কাছ থেকে আমরা নাম চাইবো। তাদের কোনো চয়েজ আছে কিনা, প্রপোজাল আছে কিনা সেটা জানতে চাইবো। তারা ই-মেইল বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও নাম দিতে পারবে। ব্যক্তিগতভাবে কেউ দিতে চাইলেও দিতে পারবে। আগামী পরশু আবার আমরা বসবো।’ আইনে উল্লেখিত সময়ের মধ্যেই সার্চ কমিটি তার দায়িত্ব সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সচিব।
মন্ত্রীপরিষদ সচিব জানান, বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক করবে সার্চ কমিটি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে মতামত ও নাম চেয়ে আজই ই-মেইল করা হবে। তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক হবে না। মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, আগামী মঙ্গলবার ৮ ফেব্রুয়ারি সার্চ কমিটির পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সার্চ কমিটির সভাপতি ও সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সার্চ কমিটির হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন এবং কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেয়ার জন্য নাম সুপারিশ করতে সার্চ কমিটি গঠন করে শনিবার ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২-এর ধারা ৩ মোতাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেয়ার জন্য আইনে বর্ণিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করার লক্ষ্যে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি গঠন করা হলো। ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ অনুযায়ী সার্চ কমিটি (অনুসন্ধান কমিটি) গঠন করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এই কমিটি ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ মোতাবেক দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পন্ন করবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুসন্ধান কমিটির কার্য সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নিয়মানুযায়ী, এর আগেই নতুন ইসি গঠন করা হবে। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মনোনীত করার পর রাষ্ট্রপতি তা চূড়ান্ত করেন। তবে এবার নতুন আইনানুযায়ী সার্চ কমিটি গঠন করা হলো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গত ১৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ অনুমোদন দেয়া হয়। গত ২৭ জানুয়ারি বিলটি জাতীয় সংসদে পাসের পর ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি আইনটিতে সম্মতি দেন। ৩০ জানুয়ারি ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল, ২০২২’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
আইনানুযায়ী, আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠিত হবে। সে অনুযায়ী সার্চ কমিটি গঠিত হয়েছে।
আইনে বর্ণিত যোগ্যতা-অযোগ্যতা বিবেচনা করে সার্চ কমিটি ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবেন। ১০ জনের মধ্য থেকেই পাঁচজনকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটির প্রধান আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যে দায়িত্ব দিয়েছেন সংবিধান ও আইন অনুযায়ি সে দায়িত্ব পালন করবো। বাসস এর সঙ্গে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। আন্তরিকতা ও ন্যায্যতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন সার্চ কমিটির প্রধান।
ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার পাশে ভারত, নিরাপত্তা পরিষদে ভোটদানে বিরত
ইউক্রেন সমস্যা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে যখন মেরুকরণে যোগদানের তোড়জোড় চলছে, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে ব্যতিক্রমী একটি সিদ্ধান্ত নিল ভারত। আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকল ভারত। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন আমেরিকার আনা প্রস্তাবে সমর্থন না জানিয়ে পুরোনো বন্ধু মস্কোর পাশেই দাঁড়িয়েছে নয়াদিল্লি।
জাতিসংঘে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের বার্তা দিল ভারত। ইউক্রেন সম্পর্কিত উত্তেজনা অবিলম্বে হ্রাস করার আহ্বান জানিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সমর্থন জানানোর কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি। শান্তিপূর্ণ এবং গঠনমূলক কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আমেরিকা ও রাশিয়ার উভয়ের কাছেই আবেদন করেছে ভারত। ইউক্রেনের ২০ হাজার ভারতীয়র নিরাপত্তাই ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভারত শান্তির বার্তা দিলেও নিরাপত্তা পরিষদে ইউক্রেন ইস্যুতে পারদ চড়ে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে।
মিন্সক চুক্তি ও নরম্যান্ডি ফরম্যাটে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে চলা আলোচনার পক্ষে সওয়াল করে জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি বলেন, ‘ভারতের স্বার্থ হল এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা যা তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। সমস্ত দেশের বৈধ নিরাপত্তা স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এবং এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ করা উচিত।’ ভারত ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের আরও দু’টি দেশ ইউক্রেন ইস্যুতে ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। কেনিয়া ও গ্যাবন। তবে যে ১০টি দেশ এই ইস্যুতে ভোট দিয়েছে, তাদের মধ্যে রাশিয়া ও চীন প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। এদিকে আমেরিকা-সহ আটটি দেশ প্রস্তাবনার পক্ষে ভোট দেয়।
উল্লেখ্য, পূর্ব ইউরোপের একাধিক ঘাঁটি থেকে সৈন্য সরাতে হবে আমেরিকা ও ন্যাটো জোটকে বলে দাবি করেছে তারা। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণে উদ্বিগ্ন মস্কো। এবার আমেরিকার নেতৃত্বে ওই সামরিক জোটে ইউক্রেন যোগ দিলে, রাশিয়ার সীমান্তের কাছে এসে পড়বে বিরোধী শিবির। তাই প্রতিরক্ষার কৌশলগত কারণেই ইউক্রেন দখল করে পূর্ব ইউরোপ ও নিজেদের মধ্যে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করতে চাইছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এহেন পরিস্থিতিতে পূর্ব ইউরোপে সৈন্য পাঠানোর কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। সংবাদ প্রতিদিন,ভারত।
নবনির্বাচিত নাসিক মেয়র আইভি’র শপথ ৯ ফেব্রুয়ারি
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নবনির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী আগামি ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় শপথ গ্রহণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারি একান্ত সচিব-১ ইসমাত মাহমুদা সাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, আগামি ৯ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল দশটায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়রকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। রাজধানীর গণভবন ও ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র ছাড়াও সাতাশজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনে নয়জন মহিলা কাউন্সিলর রয়েছেন। বাসস।
সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন খাদ্যের সংকট নেই। এখন সরকার চায় নিরাপদ ও পুষ্টিসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে।
বুধবার রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাইয়ুম সরকার।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরো বলেন, খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য সরকার দেশে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছে। ল্যাবরেটরিতে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম পরীক্ষা করে এর গুণগত মান ও পুষ্টিমান নিশ্চিত করা যাচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, খামারি, উদ্যোক্তারাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মাঠ পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কর্মকর্তারা এ কৃতিত্বের দাবিদার।
তিনি আরো বলেন, খাদ্যের বড় একটি যোগান আসে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম থেকে। আর এসব খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতাই নয় বরং উদ্বৃত্ত রয়েছে এবং বিশ্বে রপ্তানি করার মত পর্যায়ে আমরা পৌঁছেছি। শুধু সরকারি কর্তৃপক্ষের দিকে না তাকিয়ে অনিরাপদ খাদ্য তৈরি ও বিক্রি বন্ধে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে একসাথে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ‘সুস্বাস্থ্যের মূলনীতি, নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিধি’ এ প্রতিপাদ্যে দেশব্যাপী জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২২ পালিত হচ্ছে। পরে রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরে নবযোগদানকৃত কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মন্ত্রী। বাসস।
ইসি বিলে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি
সংসদে পাস হওয়া ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল, ২০২২’- এ সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার রাষ্ট্রপতি বিলটিতে সম্মতি দেন বলে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া কোনও বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিলে সেটা আইনে পরিণত হয়। আর আইনে উল্লেখিত বিধান অনুযায়ী তা কার্যকর হয়। এই বিলটিতে অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে আইনে পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই কার্যকর বলে গণ্য হয়েছে।
এর আগে সন্ধ্যায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, তারা বিলটির সম্মতি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন গঠনে এই আইনটি বৃহস্পতিবার সংসদে পাস হয়। এর আগে গত রোববার সংসদে বিলটি তোলা হয়েছিল। নতুন এই আইন অনুযায়ী সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হবে।











