ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩   সন্ধ্যা ৭:৪০ 

Home Blog Page 41

আট বিভাগের অধস্তন আদালত মনিটরিং’র দায়িত্বে হাইকোর্টের আট বিচারপতি

0

দেশের আট বিভাগের অধস্তন আদালত মনিটরিং’র জন্য হাইকোর্টের আট বিচারপতিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মোঃ গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে।
দ্যা সুপ্রিমকোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট ডিভিশন রুলস), ১৯৭৩ অনুযায়ী অধস্তন আদালত মনিটরিং সংক্রান্ত এ বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি জানান সুপ্রিমকোর্ট মুখপত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি দেশের ৮ টি বিভাগের প্রত্যেক বিভাগের অধস্তন আদালত মনিটরিং এর জন্য হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারপতিকে মনোনীত করে পৃথক ৮ টি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।
ঢাকা বিভাগের জন্য বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামকে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে সাচিবিক সহায়তা প্রদানে সুপ্রিমকোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আবদুছ সালামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
খুলনা বিভাগের জন্য বিচারপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনকে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে সাচিবিক সহায়তা প্রদানে সুপ্রিমকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার সানজিদা সরওয়ারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বরিশাল বিভাগের জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদকে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে সাচিবিক সহায়তা প্রদানে সুপ্রিমকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. সুলতান সোহাগ উদ্দিনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য বিচারপতি মোঃ কামরুল হোসেন মোল্লাকে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে সাচিবিক সহায়তা প্রদানে সুপ্রিমকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার মিটফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
সিলেট বিভাগের জন্য বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানকে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে সাচিবিক সহায়তা প্রদানে সুপ্রিমকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ হারুন রেজাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
রংপুর বিভাগের জন্য বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনকে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে সাচিবিক সহায়তা প্রদানে রেজিস্ট্রার জেনারেলের একান্ত সচিব জীবরুল হাসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য বিচারপতি মোঃ জাকির হোসেনকে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে সাচিবিক সহায়তা প্রদানে সুপ্রিমকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ হায়দার আলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগের জন্য বিচারপতি মোঃ আখতারুজ্জামানকে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে সাচিবিক সহায়তা প্রদানে সুপ্রিমকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ ওমর হায়দারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বাসস।

ইসি গঠনের বিল পাস: সার্চ কমিটিতে থাকবেন একজন নারী, ১৫ কার্যদিবসে শেষ হবে কাজ

0

অনুসন্ধান কমিটিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত দুই ‘বিশিষ্ট নাগরিকের’ মধ্যে একজন নারীকে রাখার বাধ্যবাধকতা রেখে বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশন গঠন আইনের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে জাতীয় সংসদ।
পাস হওয়া বিলে সার্চ কমিটির কাজ ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে, যা খসড়ায় ১০ কার্যদিবস ছিল।
আলোচিত ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্যরা বিলের ওপর এসব প্রস্তাব দেন।
এখন রাষ্ট্রপতি সই করার পর গেজেট আকারে প্রকাশ হলেই প্রথমবারের মত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন পাবে বাংলাদেশ।
প্রথমে বিলের নাম ছিল, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল’। সংসদে সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে এখন নাম হয়েছে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল’।
ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন সার্চ কমিটিতে দুই জন বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে একজন নারী রাখার প্রস্তাব করেন। আইনমন্ত্রী সেই প্রস্তাব গ্রহণে সা্য় দিলে, সংসদ তা ভোটে গ্রহণ করে।
অর্থাৎ, ইসি গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে নাম সুপারিশের জন্য যে সার্চ কমিটি থাকবে, সেখানে একজন নারী থাকবেন।
বিলে বলা ছিল রাষ্ট্রপতি ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন, যার সভাপতি হবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক।
সদস্য হিসেবে থাকবেন- প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুই জন বিশিষ্ট নাগরিক।
এখন রাষ্ট্রপতির মনোনীত ওই দুজন বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে একজন নারী রাখার বিধান যুক্ত হল।
বিলে সার্চ কমিটির কাজ ১০ কার্যদিবস করার বিধান রাখা হয়েছিল। সেটি এখন ১৫ কার্যদিবস করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের এ সংক্রান্ত সংশোধনী সংসদ গ্রহণ করে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

৪ বছরে ২২৮ এনজিওর নিবন্ধন বাতিল,সংসদে তথ্য

0

শর্ত লঙ্ঘনসহ নানা কারণে গত চার বছরে ২২৮টি এনজিওর নিবন্ধন বাতিল হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে তথ্য দিয়েছেন আ ক ম মোজাম্মেল হক।
বৃহস্পতিবার সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে সংসদ কাজে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি এ তথ্য দেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গার প্রশ্নের উত্তরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জানান, বর্তমানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অধীনে নিবন্ধিত বিদেশি এনজিওর সংখ্যা ২৬০টি, আর দেশি এনজিও আছে দুই হাজার ২৬৬টি। সব মিলিয়ে মোট দুই হাজার ৫২৬টি এনজিও নিবন্ধিত।  
২০১৬ সালের বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো এনজিও বা এনজিওতে কর্মরত ব্যক্তি এই আইন ও বিধি বা আদেশের বিধান লংঘন করলে এবং সংবিধান এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক ও অশালীন কোনো মন্তব্য করলে বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করলে বা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন, পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা সহায়তা করলে অথবা নারী ও শিশু পাচার বা মাদক ও অস্ত্রপাচারের সাথে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে দেশে প্রচলিত আইনের আওতায় অপরাধ বলে গণ্য হয় এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মোজাম্মেল হক জানান, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ২২৮টি এনজিওর নিবন্ধন বাতিল করেছে সরকার।  
তিনি জানান, প্রকল্পের নাম, প্রকল্পের মেয়াদকাল, টাকার পরিমাণ, প্রকল্প অনুমোদনের তারিখ, প্রকল্পের উদ্দেশ্য, প্রকল্প এলাকার সংশ্লিষ্ট তথ্য, জেলা/উপজেলায় প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ, বহুবর্ষী প্রকল্পের ক্ষেত্রে আলোচ্য বর্ষে বরাদ্দ, আলোচ্য বর্ষে প্রকৃত ব্যয়, প্রকল্পে উপকারভোগীর সংখ্যা, উপকারভোগী নির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে কিনা, হয়ে থাকলে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণী এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত পত্রের শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালিত হয়েছে কিনা- এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়।
“বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন, ২০১৬ অনুসারে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কোনো ব্যক্তি এবং এনজিও কর্তৃক পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম মনিটরিং করে থাকে। এই আইন অনুযায়ী ব্যুরো মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারে এবং প্রয়োজনে বহিঃপর্যবেক্ষণকারী নিয়োগ করতে পারে।”
এছাড়া জেলায় জেলা প্রশাসক এবং ক্ষেত্রমত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাদের নিজ নিজ এলাকায় এনজিও পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ও অগ্রগতি প্রতি মাসে সমন্বয় সভার মাধ্যমে পর্যালোচনা করেন বলে জানান মন্ত্রী। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

একমাসের মধ্যে গণপরিবহনের ভাড়ার চার্ট প্রদর্শনে নির্দেশ হাইকোর্টের

0

বাস থামার প্রতিটি নির্দিষ্ট জায়গায় প্রকাশ্যে ও যাত্রীদের কাছে সহজে দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার তালিকা প্রকাশে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন।
এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. আবু তালেব রিটটি দায়ের করেন। তিনি নিজেই রিটটি শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোখলেসুর রহমান ও ব্যারিস্টার মুসতাসীম তানজীর। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
আইনজীবী আবু তালেব সাংবাদিকদের জানান, নির্দেশনার পাশাপাশি আদালত রুলও জারি করেছেন। রুলে সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী বাস, মিনিবাস তথা গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করতে পারার ব্যর্থতা, আইনের বিধান প্রতিপালনে ভাড়ার তালিকা প্রকাশ্য স্থান ও সহজে দৃশ্যমান স্থানে না টানিয়ে ভাড়া আদায় করার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার ব্যর্থতা এবং আইনের বিধান মোতাবেক যাত্রীদের কাছ থেকে বাস মালিক, কন্ডাক্টরদের বেশি ভাড়া আদায় বন্ধ করার ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও এক মাসের মধ্যে বাস থামার প্রতিটি নির্দিষ্ট জায়গায় প্রকাশ্য ও যাত্রীদের কাছে সহজে দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার তালিকা প্রকাশ এবং ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডের মাধ্যমে তালিকা প্রদর্শনের জন্য ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিআরটিএর প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন আইনের ৩৪ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো গণপরিবহন, সহজে দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন ব্যতীত যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। (৪) কোনো গণপরিবহনের মালিক, চালক, কন্ডাক্টর, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া দাবি বা আদায় করতে পারবে না। ১২২ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের উদ্দেশ পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করতে পারবে। বাসস।

ভারতীয় ঋণে ১২ জেলায় হাইটেক পার্ক স্থাপনের কাজ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হচ্ছে

0

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বড় ধরণের বিনিয়োগ করছে ভারত।
প্রায় পাঁচ বছর আগে ভারতের সঙ্গে দ্বিতীয় ঋণচুক্তির আওতায় দেশের ১২টি জেলায় হাইটেক পার্ক নির্মাণের প্রকল্প নিয়ে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল শেষ পর্যন্ত তা কেটে যাচ্ছে। আগামি ফেব্রুয়ারিতেই আটটি পার্ক স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার আশা করছেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ।
সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, বাংলাদেশের ১২টি জেলায় হাই-টেক পার্ক স্থাপন এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে সহযোগিতা করবে ভারত।
সোমবার বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে ভারতীয় হাই-কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী’র সাথে এক মতবিনিময় সভায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন।
ভারতীয় হাই-কমিশনার দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় এবং আইসিটি সেক্টরসহ অন্যান্য খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারীত্ব বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার কথা বলেন।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অসামান্য অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে আইসিটি সেক্টরে ভারতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের ১২টি জেলায় হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পে ভারত সরকার ঋণ প্রদান করছে। এরমধ্যে আটটি পার্ক স্থাপনের কাজ আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২২ এর মধ্যে শুরু করা হবে।
বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল সার্ভিস এন্ড এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং সেন্টার (বিডিসেট) নামীয় আরেকটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের ৬টি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, হাই-টেক পার্ক এবং শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টারে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে। এখান থেকে আগামী দুই বছরে ২৪০০ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। ইন্টারনেট অব থিংস, মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, এক্সটেনডেড রিয়ালিটিসহ অন্যান্য উচ্চতর বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও ৩০ জনকে ৬ মাসের জন্য ভারতে আইসিটির উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল এডুট্রেইনমেন্ট সেন্টার স্থাপনের লক্ষ্যে আরেকটি প্রকল্প চূড়ান্ত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪টি স্থানে ডিজিটাল এডুট্রেইনমেন্ট সেন্টার স্থাপনের বিষয়ে উভয় দেশ একসাথে কাজ করবে যেখানে একইসাথে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া স্টার্ট-আপ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশ ও ভারতের ৫০টি করে স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো স্থাপন করা হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত আইটি এক্সিলারেটর (বিআইটিএ)। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ৬৪টি জেলায় ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার’ স্থাপন করা হচ্ছে। একইসাথে প্রতিটি জেলায় আইটি এক্সিলারেটর’ও স্থাপন করা হবে।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগ ও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাগণ এবং ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইসি নিয়োগ বিলের রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ স্থায়ী কমিটির

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল, ২০২২ এর রিপোর্ট চূড়ান্ত করে সংসদের চলতি অধিবেশনে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি মোঃ শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় এ সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সদস্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ শামসুল হক টুকু, মোঃ আব্দুল মজিদ খান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, রুমিন ফারহানা এবং সেলিম আলতাফ জর্জ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় কমিটির ১৭তম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয় ।
সভায় জাতীয় সংসদ কতৃর্ক কমিটিতে প্রেরিত “প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল, ২০২২” এর উপর আলোচনায় কমিটির সকল সদস্য অংশগ্রহণ করেন। সংশোধিত আকারে বিলটির রিপোর্ট জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে কাজ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন

0

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি স্বাধীনতা রক্ষা এবং গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে কাজ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, মনে রাখবেন জাতির পিতার দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, যা আমাদেরকে এই স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আপনাদের পূর্বসূরীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা সকল আঘাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২২’ উদ্বোধনকালে দেয়া প্রধান অতিথির ভাষণে এ আহবান জানান।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজবারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বিশ্বাস জনবান্ধব পুলিশিং এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে প্রত্যেক পুলিশ সদস্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। সর্বোপরি পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন অনুষ্ঠান বাংলাদেশ পুলিশকে শান্তির সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে নব উদ্যমে কাজ করতে প্রেরণা জোগাবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে পূর্বসূরীদের ঐতিহ্য ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্যও পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহবান জানান।
১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাজারবাগে প্রথম পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন অনুষ্ঠানের ভাষণে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘এই রাজারবাগে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের কথা মনে রাখতে হবে। তারা আপনাদেরই ভাই, তাদের রক্ত যেন বৃথা না যায়।
বিএনপি’র ধংসাত্মক কর্মকান্ড স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অগ্নিসন্ত্রাস, বৃক্ষ কর্তন, রাস্তা কেটে ফেলা- নানান ধরনের কাজ তারা করেছে, এমনকি পুলিশের উপর আক্রমণ করেছে। যেভাবে পুলিশের সদস্যদের তারা নির্মমভাবে মেরেছে সেটা সত্যিই ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। এই ধরনের ঘৃণ্য কাজ করে তারা দেশে একটা অশান্ত পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল। কত মানুষকে তারা হত্যা করেছে তার কোন সীমা নেই।
তিনি সে সময় সহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকবেলায় পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, সেই সময় পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে মানুষের জীবনে শান্তি নিরাপত্তা নিয়ে এসেছে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তারা কাজ করেছেন।এ জন্য সবাইকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিবেশন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে একটি খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কৃতি পুলিশ সদস্যদের মাঝে পুলিশ পদকও বিতরণ করেন তিনি।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ২০২০ সালে ১১৫ এবং ২০২১ সালে ১১৫ জনসহ মোট ২৩০ পুলিশ সদস্যকে পদক প্রদান করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৯ জনকে মরণোত্তর পদক প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে র‌্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও রয়েছেন।
পদকের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা, রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম), রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)।
পদক প্রাপ্তদের পদাংক অনুসরণ করে অন্যরাও ভাল কাজ করে যাবেন বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
৭৫’র বিয়োগান্তক ঘটনা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুলিতে আহত ছিলেন আমার ফুফু এবং আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সাহেবের ছেলে, স্ত্রীসহ আমার ফুফাতো ভাই ও বোনেরা। যখন এই খুনীরা আক্রমণ করে চলে যায় তখন রমনা থানা থেকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে আহত-নিহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান। শুধুমাত্র পুলিশের এই সাহসি ভূমিকায় আমার ফুফু বেঁচে ছিলেন। তিনি পঙ্গু অবস্থায় বাকি জীবন কাটান। আমার দুই ফুফাতো বোন এবং ভাই বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে হামলায় বাধা দিতে যেয়ে গুলিতে নিহত পুলিশের বিশেষ শাখার এএসপি সিদ্দিকুর রহমানকে তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
জাতির পিতাকে হত্যার পর ছয় বছর তাঁকে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ রিফিউজি জীবন কাটাতে বাধ্য হন। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাঁকে সভাপতি নির্বাচন করায় দেশে ফেরেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, তখন জাতির পিতার খুনীরা ক্ষমতায়, তথাপি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সংকল্প নিয়ে একরকম জোর করেই তিনি দেশে ফিরে আসেন।
এরপর ’৯৬ সালের প্রথম মেয়াদেই তাঁর সরকার ৫ কোটি টাকা সিড মানি প্রদান করে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে। বিভিন্ন স্থানে থানা, তদন্ত কেন্দ্র, হাইওয়ে ফাঁড়ি, পুলিশ ক্যাম্প এবং পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ করে। পাশাপাশি ৮০৩ জন এসআই, ৫০৭ জন সার্জেন্ট এবং ১৪ হাজার ৬৮০ জন কনস্টেবল নিয়োগ করে ও আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে কমিউনিটি পুলিশ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে গত ১৩ বছরে পুলিশের উন্নয়নে নানাবিধ কর্মকাণ্ড গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে মোট ৮২ হাজার ৫৮৩টি নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের নতুন ইউনিট যেমন ইন্ডাস্ট্রিয়াল-ট্যুরিস্ট-নৌ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এন্টি টেররিজম ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, রংপুর ও ময়মনসিংহে রেঞ্জ, রংপুর এবং গাজীপুরে মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট, রংপুরে আরআরএফ এবং সিআইডি’তে সাইবার পুলিশ সেন্টার গঠন করা হয়েছে। ২টি সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, এয়ারপোর্টে একটি ও কক্সবাজারে ২টি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং র‌্যাবের জন্য ৩টি ব্যাটালিয়ন, ৩০টি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, ৬২টি থানা, ৯৫টি তদন্ত কেন্দ্র এবং ১টি ফাঁড়ি এবং জাতীয় জরুরি সেবায় ৯৯৯ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। জরাজীর্ণ থানাগুলো পুননির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা আইজিপি’র র‌্যাংক ব্যাজ পুনঃপ্রবর্তন করেছি। গ্রেড-১ এর ২টি, গ্রেড-২ এর ১১টি, ডিআইজি এর ৫২টি, অতিরিক্ত ডিআইজির ১৫৯টি, পুলিশ সুপারের ৪০২টি এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ৮০০টি পদ সৃজন করেছি। ২১৫টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদকে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে, ২৫৩টি সিনিয়র এএসপি পদকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে, এসআই/সার্জেন্ট পদকে ৩য় শ্রেণী হতে ২য় শ্রেণীতে এবং ইন্সপেক্টর পদকে ২য় শ্রেণী হতে ১ম শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদে উন্নীত করেছি। সংশোধিত নিয়োগ বিধিমালার আলোকে স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্প্রতি ৩ হাজারের অধিক কনস্টেবল নিয়োগ করেছি। আকাশ পথে সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে দুইটি হেলিকপ্টার ক্রয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অপরাধ তদন্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২২টি নতুন ব্যারাক, ১০টি একাডেমিক ভবন, বিভিন্ন ইউনিটের জন্য ১০৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ, ৬০টি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, রাজস্ব বাজেট থেকে ২৭টি থানা নির্মাণ, ২৮টি ফাঁড়ি, ১৫টি তদন্ত কেন্দ্র, ৩৩৭টি থানার হেল্প ডেস্ক, ৪৫টি হাইওয়ে আউটপোষ্ট ভবন সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২১১টি আধুনিক থানা ভবন নির্মাণ, ৯৫টি থানাকে মডেল থানায় উন্নীতকরণ, ২১টি ব্যারাক ভবন ও ৬০টি তদন্ত কেন্দ্র নির্মার্ণের তথ্যও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এখন পুলিশ বাহিনী প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন পুলিশ বাহিনীতে উন্নীত হয়েছে। সকল র‌্যাঙ্কের পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি বছর ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন যুগোপযোগী ট্রেনিং মডিউল প্রণয়ন, ট্রেনিং মডিউলের মধ্যে মানবাধিকার সংরক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বৈদেশিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরুরী সেবা ‘৯৯৯’ চালু করার ফলে আজকে পুলিশ বাহিনী দ্রুত সেবায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে। যে করণে আজকে মানুষের মধ্যে একটা আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের আর্তমানবতার সেবায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রশংসা করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে পুলিশ বাহিনীর অংশ গ্রহণ বিশেষ করে নারী সদস্যদের দায়িত্ব পালনেরও প্রশংসা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব মন্দার পর এসেছে করোনা, এত প্রতিকূলতার মাঝেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে প্রায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে, ব্যাপকভাবে যোগোযোগ ব্যবস্থা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক করে দিচ্ছে এবং দায়িত্ব পালনে বিশেষ সুবিধার সৃষ্টি করে দিচ্ছে সরকার, বলেন তিনি।
তাঁর সরকার এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে চায় উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতার ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য। খবর বাসস।

সংসদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল উত্থাপন

0

সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিধানের প্রস্তাব করে জাতীয় সংসদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল, ২০২২ উত্থাপন  করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি উত্থাপন করেন।
বিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে প্রস্তাবিত বিলের বিধি অনুযায়ি যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করার জন্য ৬ সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবে প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের একজন বিচারপতি, প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষিক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দু’জন বিশিষ্ট নাগরিককে নিয়ে ৬ জন সদস্যের সমন্বয়ে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে কমিটি গঠনের পর ১০  কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বরাবরে সুপারিশ  প্রেরনের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া অনুসন্ধান কমিটি  বিভিন্ন রাজনৈতিকদল  ও পেশাজীবি সংগঠনের কাছে এ বিষয়ে নামের সুপারিশ আহবান করতে পারবে বলে বিলে উল্লেখ হয়েছে।
বিলে অনুসন্ধান কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারের যোগ্যতার বিধানের প্রস্তাব করা হয়। যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, বয়স ন্যুনতম ৫০ বছর হতে হবে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধাসরকারী বা বেসরকারি পদে অন্যুন ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া বিলে  প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারের অযোগ্যতার বিষয়গুলো নির্ধারনের বিধানের প্রস্তাব করা হয়।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সংসদে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বিলটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
এদিকে বিএনপির হারুনুর রশীদ  বিলটি উত্থাপনের পর্যায়ে আপত্তি উত্থাপন করেন। এ পর্যায়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দীর্ঘ বক্তব্যের পর কন্ঠভোটে জনাব হারুনের আপত্তি নাকচ হয়ে যায়। বাসস।

অধস্তন আদালতে রোববার থেকে বিচার কার্যক্রম ভার্চুয়ালিও চলবে

0

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উচ্চ আদালতের পাশাপাশি রোববার (২৩ জানুয়ারী) থেকে দেশের সকল অধস্তন দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে শারিরীক ও ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চলবে।
প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোঃ আলী আকবর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “উপর্যুক্ত বিষয়ে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, করোনা সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সকল অধস্তন দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারক দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলায় প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শারীরিক উপস্থিতিতে অথবা ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’ এবং এই কোর্ট কর্তৃক জারীকৃত এতদ্ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণপূর্বক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সকল প্রকার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক শারীরিক উপস্থিতিতে অধস্তন দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহে সকল প্রকার মামলা দায়ের করা যাবে। বিচারক শারিরীক উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি/ব্যক্তিগন অধস্তন ফৌজদারী আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহে শারীরিক উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ আবেদন দাখিল করতে পারবেন।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনপূর্বক সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিতকরণ এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত জেলা ও দায়রা/মহানগর দায়রা জজ এবং চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনাক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গাউন পরিধানের বাধ্যবাধকতা নেই। এই আদেশ প্রতিপালনে কোনরূপ সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজনে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া যাবে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।’

সিইসি ও ইসি নিয়োগ বিল সংসদে ওঠছে রোববার

0

বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশন নিয়োগ বিল রোববার সংসদে ওঠছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল ২০২২’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করবেন। বিলটি সংসদে তোলার জন্য ওই দিনের কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য বিলটি আনা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বিলটি তুললে তা যাচাই বাছাইয়ের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংসদীয় কমিটির রিপোর্টের জন্য বিলটির সময় খুব কম দেয়া হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব বিলটি পাস করা হবে। এটি পাস হওয়ার পরেই নতুন নির্বাচন কমিশন এর আলোকে নিয়োগ করা হবে।
এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি এ আইনটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়। সেদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে। রাষ্ট্রপতি এই অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন।
ইসি ও সিইসি নিয়োগে যোগ্যতায় বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার হতে হলে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। বয়স কমপক্ষে ৫০ বছর হতে হবে। একইসঙ্গে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি বা বিচার বিভাগীয় পদে কমপক্ষে ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
নির্বাচন কমিশন নিয়োগের জন্য আইন করতে বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এ সরকারের আমলে আইন বাস্তাবে রূপলাভ করছে।