বাবার সম্পত্তিতে অধিকার থাকবে মেয়েরও। বাবা যদি মৃত্যুর আগে উইল করে সম্পত্তির ভাগ মেয়েকে দিয়ে নাও যেতে পারেন, তা সত্ত্বেও বাবার সম্পত্তিতে অধিকার পাবেন মেয়েরাও। বৃহস্পতিবার একটি মামলার শুনানিতে এমনই ঐতিহাসিক রায় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার হিন্দু মহিলা ও বিধবাদের সম্পত্তির অধিকার নিয়ে মামলাটি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেখানেই বিচারপতি আবদুল নাজির এবং কৃষ্ণ মুরারির বেঞ্চ রায় দেয়, “কোনও হিন্দু ব্যক্তির কন্যা সন্তানরাও, তার বাবার স্ব-অর্জিত বা অন্যান্য সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে বাবার মৃত্যুর পরে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তুলনায় কন্যা সন্তানদের দাবি বরং বেশি।”
অর্থাৎ, যদি একজন হিন্দু পুরুষ কোনও উইল ছাড়াই মারা যান, তার সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারী কন্যা পাবেনই। সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির ভাইয়ের ছেলে বা মেয়ে থাকলেও, তারা সেই সম্পত্তির কোনও ভাগ পাবে না। বরং সবার আগে ওই সম্পত্তির ভাগ পাবেন ওই মৃত ব্যক্তির কন্যা।
১৯৫৬ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে পৈতৃক সম্পত্তিতে মেয়েদের সমানাধিকার দেওয়া হয়নি। এর প্রায় ৫০ বছর পরে, ২০০৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সেই আইন সংশোধন করা হয় এবং ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে পৈতৃক সম্পত্তিতে সমান অধিকারের কথা বলা হয়।
পরে ২০২০ সালে আগস্ট মাসে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় দেয়, ‘‘অবিভক্ত যৌথ পরিবারের সম্পত্তিতে মেয়েদের সারা জীবন সমান অধিকার রয়েছে।’’ ২০০৫ সালের আগেও কারও বাবা মারা গিয়ে থাকলে তার সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার রয়েছে।
কিন্তু কার্যক্ষেত্রে ছবিটা প্রায়ই অন্য হয়। সম্পত্তির অধিকারের ক্ষেত্রে কেবল ছেলেরাই প্রাধান্য পায়, ব্রাত্য রয়ে যায় পরিবারের মেয়েরা। উইল করে সম্পত্তি ভাগ করা থাকলে আলাদা বিষয়, তা না হলে যেন অলিখিত নিয়মেই মেয়েদের বাদ দিয়ে দেওয়া হয় বাবার সম্পত্তির ভাগ থেকে।
বিচারপতি মুরারি তার ৫১ পাতার রায়ে এও জানিয়েছেন, উইল না করে মারা গিয়েছেন এমন কোনও মৃত হিন্দু ব্যক্তির বিধবা স্ত্রী বা কন্যা যে মৃতের স্ব-অর্জিত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী পাবেন। এই আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হিন্দু মহিলারা যাতে পৈতৃক সম্পত্তি স্বচ্ছ ভাবে দাবি করতে পারেন।
বাবার সম্পত্তিতে অগ্রাধিকার মেয়ের, ঐতিহাসিক রায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের
গাঁজার দুই উপাদান করোনা রোধ করে ! দাবি গবেষকদের
ওমিক্রন আতঙ্কে কাঁপছে বিশ্ব। সংক্রমণ ছড়াচ্ছে হু হু করে। এই পরিস্থিতিতে নতুন এক কথা শোনালেন গবেষকরা। তাঁদের দাবি, গাঁজার মধ্যে রয়েছে এমন দু’টি অ্যাসিড যা করোনার যম! তবে তার মানে এই নয়, গাঁজা খেলে করোনাকে প্রতিরোধ করা যাবে। সেই ভুল পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছেন গবেষকরা।
সম্প্রতি ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এক গবেষণাপত্র। ওরেগনের হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির গবেষক এক দল বিষয়টি সকলের সামনে তুলে ধরেছেন। গাঁজা খেলে করোনাকে রোখার কোনও রকম সম্ভাবনা না থাকলেও গাঁজার মধ্যে থাকা দুই উপাদানকে নিয়ে তাঁদের কৌতূহল প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। সেই দুই উপাদান হল ক্যানাবিগেরলিক অ্যাসিড (CBGA) ও ক্যানাবিডিওলিক অ্যাসিড (CBDA)।
কীভাবে এরা করোনার সংক্রমণকে বোকা বানাতে পারে? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সার্স-কোভ-২ ভাইরাস কাউকে সংক্রমিত করতে গেলে সেই প্রক্রিয়াকে আটকে দেয় এরা। মারণ ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের সংক্রমিত হওয়ার পথ বন্ধ করে দিতে সক্ষম বলেই জৈবিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ আটকে যায়। ফলে ‘দাঁতনখ’ বসাতে পারে না করোনা। ব্রিটেন থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা, বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান মেলা করোনার নানা স্ট্রেনের উপরেই পরীক্ষা করে সদর্থক ফলাফলই মিলেছে।
তবে এই উপাদানগুলি THC-র মতো নিয়ন্ত্রিত পদার্থ নয় বলেও জানাচ্ছেন গবেষকরা। অ্যাসিডগুলি গাঁজা ও গাঁজার নানা ধরনের নির্যাসে মিশে রয়েছে। কোভিড টিকা ও অ্যান্টিবডি থেরাপির ক্ষেত্রে এই উপাদানগুলিকে ব্যবহার করা যেতে পারেই বলে মত দিচ্ছেন গবেষকরা।
এদিকে করোনার নতুন স্ট্রেন ওমিক্রন তত ভয়ের কিছু নয় বলেই বাজারে ধুয়ো উঠেছে। সম্প্রতি এই বিষয়ে সতর্ক করেছে হু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে, ওমিক্রন সংক্রামক হওয়ার পাশাপাশি বিপজ্জনকও। একে হালকাভাবে নিলে ভুল হবে। বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে।
চিত্রনায়িকা শিমু হত্যার দায় স্বীকার করে স্বামী নোবেল ও বন্ধু ফরহাদের আদালতে জবানবন্দি
চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু (৩৫) হত্যা মামলায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ফরহাদ।
ঢাকার চিফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৃহস্পতিবার এ হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে তারা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।
ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন শুক্রবার জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রিমান্ড চলাকালীন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামীদের বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে হাজির করলে তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হন এবং জবানবন্দী রেকর্ড করার আবেদন করেন।
তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে আসামি খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেলের এবং একই কোর্টের সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিশকাত শুকরানার আদালতে আসামি আব্দুল্লাহ ফরহাদের জবানবন্দি গ্রহণপূর্বক রেকর্ড করা হয়। এরপর আদালত আসামীদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরআগে, কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চুন্নু মিয়া গত মঙ্গলবার মামলার এজাহারভুক্ত আসামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ফরহাদকে আদালতে হাজির করে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগম আসামীদের প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য,নিহত চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর ভাই হারুনুর রশীদ বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামী করা হয়।
জানা গেছে, পুলিশ গত সোমবার (১৭ জানুয়ারি-’২২) ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে অজ্ঞাত হিসেবে চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর (৩৫) লাশ বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করে । কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ব্রিজের কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশে বস্তাবন্দী মরদেহ পড়েছিল। পুলিশ প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় জানাতে পারেনি। পরে, ওইদিন রাতে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে নাম-পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ ব্যূরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
জানা গেছে, চিত্রনায়িকা শিমুর মরদেহ রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড) মর্গে রাখা হয়। শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদ সেখানে গেলে তাদের আটক করা হয়। র্যাবের একটি টহল দল তাদের আটক করে। খবর বাসস।
তিস্তার পানি সমস্যা সমাধানে প্রকৃতিভিত্তিক আলোচনার পথ অবলম্বনের পরামর্শ ভারতীয় বিশেষজ্ঞের
তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসায় প্রকৃতি-ভিত্তিক আলোচনার পদ্ধতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন ভারতীয় পানিবিশেষজ্ঞ জয়ন্ত বসু ।
তিন দিনব্যাপী ভার্চ্যুয়াল ৭ম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন ২০২২-এর দ্বিতীয় দিনে ‘তিস্তা নদীর ভূরাজনীতি এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক আলোচনা পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী থাকলেও উভয় দেশের মধ্যে সামগ্রিক অববাহিকা ভিত্তিক কোনো উদ্যোগ নেই। সামগ্রিক অববাহিকা-ভিত্তিক পন্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
পরিবেশ ডকুমেন্টেশন বিশেষজ্ঞ এবং এনভায়রনমেন্ট গভর্নড ইন্টিগ্রেটেড অর্গানাইজেশনের পরিচালক জয়ন্ত বসু বলেন, তিস্তার মতো নদীর পানি সমস্যা নিরসনে সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনায় প্রকৃতি ভিত্তিক আলোচনামূলক পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার আন্তঃসীমান্ত নদী সমস্যাগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি যুক্ত। কেননা এ অঞ্চলের সব দেশই প্রধানত কৃষি, জলবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য কারণে নদীর উপর নির্ভরশীল।

ভারতীয় পানি বিশেষজ্ঞ ড. জয়ন্ত বলেন, এ অঞ্চলে রাজনৈতিক ক্ষমতার অসম অবস্থান; আন্তর্জাতিক, জাতীয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব; নদী ও জলবায়ু পরিবর্তন আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জয়ন্ত বসু বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পানি বন্টনের ক্ষেত্রে উজান ও ভাটির দেশের দৃষ্টান্ত ধোপে টেকে না। তিনি আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি ব্যবহারে একটি সমন্বিত মডেলে পৌঁছতে আন্তঃদেশীয় অংশীদার পর্যায়ে সামগ্রিক আলোচনার প্রস্তাব করেন। খবর বাসস।
সপ্তম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন শুরু হয় বৃহস্পতিবার। এবারের প্রতিপাদ্য ‘তিস্তা নদী অববাহিকা: সংকট উত্তরণ ও সম্ভাবনা’।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন আয়োজন করেছে একশনএইড বাংলাদেশ। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে একশনএইড।
এতে বলা হয়েছে, এবারের সম্মেলনে তিস্তা নদী অববাহিকায় সংকট ও সম্ভাবনার ওপর আলোচনা হবে। এতে অংশ নেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, দাতা সংস্থা, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিদ, পানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ ও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও জাপান, সুইডেন, ব্রুনাই, নেপাল ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা বক্তৃতা করবেন।
১৫দিন স্কুল কলেজ বন্ধ, করোনার বিস্তার রোধে ৫ নির্দেশনা
করোনার বিস্তার রোধকল্পে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পাঁচ দফা বিধি নিষেধসহ নির্দেশনা জারি করেছে।
শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জরুরি এই বিধি-নিষেধ জারি করে।
সরকারি বিধিনিষেধ অনুযায়ী, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি জনসমাবেশ করা যাবে না। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে।
সরকারি নির্দেশনাগুলো হলো-
১.২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
২. বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
৩. সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি জনসমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যাঁরা যোগদান করবেন, তাঁদের অবশ্যই টিকা সনদ বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে।
৪. সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দায়িত্ব বহন করবে।
৫. বাজার, শপিং মল, মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ সব ধরনের জনসমাবেশে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।
বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মনিটর করতে বলা হয়েছে।
ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া আইন মন্ত্রণালয়েই থাকবে, প্রয়োজনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন হবে: আইনমন্ত্রী
দরকার হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
আর ভূমির নিবন্ধন প্রক্রিয়া আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অনুশাসন দিয়েছেন এটা আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে অনুশাসন দিয়েছেন সেখানে এ বিষয়ে আলোচনার কোনো অবকাশ থাকতে পারে না।’
বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় ও শেষ দিনের ষষ্ঠ অধিবেশন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
আইন ও বিচার বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের এ কার্য অধিবেশন হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন।
আনিসুল হক বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস অফিসের সঙ্গে দু’বার আলোচনা করেছি। সেই অফিসকে অবহিত করা হয়েছে আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তারা যেন শিগগির আমাদের তারিখ দেয়, সেই তারিখ অনুযায়ী আমরা আলোচনায় বসতে রাজি আছি। লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।’
এই কমিটির কাজ কী হবে- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই আইন প্রধানত সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য করা হয়েছে। বাকস্বাধীনতা বা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করার জন্য করা হয়নি। সেটা যদি করা হতো এটা আইন হিসেবেই গণ্য হতো না। কারণ সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে বাকস্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে রাখা হয়েছে। আমরা একটু আগে এই আইন করেছি, অনেক দেশেই করা হয়েছে এবং অনেক দেশ এই আইন করা আবশ্যক মনে করছে।’
তিনি বলেন, ‘এই আইন যখন বাস্তবায়ন করা হয় সেখানে কিছু মিসইউজ ও কিছু অ্যাবিউস হয়েছে। এগুলো যাতে না হয়, সারা পৃথিবীর যে বেস্ট প্র্যাকটিসেস, জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস অফিসের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বেস্ট প্র্যাকটিসগুলো নির্ণয় করে আমাদের দেশের জন্য কতটুকু প্রয়োজন সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটা আমরা হয়তো বিধি দিয়ে গ্রহণ করবো। যদি প্রয়োজন হয় আইন কিছুটা সংশোধনও করা হবে।’
‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে তা যেন মামলা হিসেবে গ্রহণ করা না হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা বলে দিয়েছি, আইসিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী যেন সেলে পাঠানো হয়। সংবাদমাধ্যমের কর্মী যারা, যারা সাংবাদিক তাদের যেন ইমিডিয়েটলি অ্যারেস্ট না করা হয়, সেটার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা দেয়ার পরে কিন্তু এই আইনে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করাটা অনেকাংশে কমে গেছে।’
দণ্ডবিধির ২২৮ ধারাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের তফসিলে যুক্তের দাবি জানিয়েছেন ডিসিরা। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবো।’
নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ আইন সংসদের চলমান অধিবেশনে পাস করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, ডিসিদের জানালেন ভূমিমন্ত্রী
‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২১’র খসড়া সকল অংশীজনের মতামতের জন্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২২’ এ ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে একথা জানান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভূমি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কার্য অধিবেশনে ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ভূমি সংস্কার বোর্ডের সদস্য সোলেমান খানসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ও তার আওতাধীন দপ্তরসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, অবৈধ ভূমি দখলকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২১’র খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
ভূমি দস্যুতা রোধে এই আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিজমি সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাসের উদ্দেশ্যে করা ‘ভূমি ব্যবহার আইন ২০২১’র খসড়া তৈরিও প্রায় শেষের দিকে রয়েছে।
ভূমিমন্ত্রী এ সময় জেলা প্রশাসকদের খাস জমি উদ্ধার এবং খাদ্য নিরাপত্তায় তিন ফসলী জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেন।
এ সময় তিনি এক স্থানে বিভিন্ন দপ্তরের জন্য ঊর্ধ্বমুখী সমন্বিত সরকারি অফিস করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনটিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় (এলএ কেস) আমোক্তারনামা (পাওয়ার অব এটর্নি) ব্যবস্থা বাতিল করার ব্যাপারটি বিবেচনাধীন আছে।
তিনি বলেন, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের সময় পাওয়ার অব এটর্নির মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ এটার মাধ্যমে অসাধু ব্যক্তির দ্বারা প্রতিনিয়ত প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এজন্য বিশেষ ক্ষেত্র ব্যতীত, সাধারণভাবে এলএ কেসে পাওয়ার অব এটর্নি বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে বসবাসরত ব্যক্তিরা বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পাওয়ার অব এটর্নি দিতে পারবেন। গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেও পাওয়ার অব এটর্নি দেয়া যাবে।
সকলের মতামতের ভিত্তিতেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান ভূমিমন্ত্রী।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জানান, ভূমিসেবা আরও সহজ করতে ই-রেজিস্ট্রেশন এবং ই-মিউটেশনের ইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে জমির হাতবদলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি হয়ে যাবে। এছাড়াও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) দ্রুত শুরু করা হবে।
বিডিএস বাংলাদেশের সর্বশেষ ‘ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ’ হবে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিডিএস বাস্তবায়িত হলে জমি হাত বদলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খতিয়ান ও ম্যাপ প্রস্তুত হয়ে যাবে। যুগ যুগ ধরে জরিপের হয়রানি থেকে দেশের মানুষ রক্ষা পাবে।
অধিবেশনে জেলা প্রশাসকরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। খাসজমি, নামজারি, হাট ও বাজার, ভূমি অফিস নির্মাণ, জলমহাল, পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা, কোর্ট অব ওয়ার্ডস, ভূমি সংশ্লিষ্ট জনবল ও প্রশিক্ষণ, ডিজিটালাইজেশন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবনসহ ভূমি সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে কার্য অধিবেশনের আলোচনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক ভূমি রেজিস্ট্রেশন ও ভূমি জরিপ ব্যতীত, ভূমি রাজস্ব ও ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য সকল সেবা প্রদানে কালেক্টর হিসেবে জেলা পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
প্রধান বিচারপতি সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী ডালিয়া ফিরোজ করোনায় (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিএসএমএমইউ’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, কোভিড পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসায় গতকাল বুধবার ভর্তি হন প্রধান বিচারপতি। এর আগের দিন তার স্ত্রী ডালিয়া ফিরোজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
প্রধান বিচারপতি ও তার স্ত্রী সুস্থ রয়েছেন বলে হাসপাতালের অপর একটি সূত্র জানায়। প্রথমে প্রধান বিচারপতির স্ত্রীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে প্রধান বিচারপতিরও রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
গত ৩১ ডিসেম্বর দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এর আগে করোনা সংক্রমণ জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম ভার্চুয়ালি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এ বিষয়ে মঙ্গলবার পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার আইন-২০২০ অনুযায়ী এবং এ সংক্রান্ত ইতোপূর্বে জারি করা প্র্যাকটিশ ডাইরেকশন অনুসরণ করে আপিল বিভাগে এবং হাইকোর্ট বিভাগের সকল বেঞ্চে ১৯ জানুয়ারি থেকে ভার্চ্যুয়ালি বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে । তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে করোনা সংক্রমণ জনিত পরিস্থিতির কারণে এর আগেও সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম ভার্চ্যুয়ালি পরিচালিত হয়েছে। মাঝে করোনা সংক্রমণ কমে আসায় সুপ্রিমকোর্টের বিচারিক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এখন করোনা সংক্রমণ পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সুপ্রিমকোর্টের বিচারিক কার্যক্রম ভার্চ্যুয়ালি পরিচালনার জন্য এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।বাসস।
শান্তিরক্ষা মিশন থেকে র্যাবকে বাদ দিতে ১২ মানবাধিকার সংস্থার চিঠি
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে র্যাবকে বাদ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মোট ১২টি মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে।
ডিসেম্বরে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক কাজে জড়িত থাকার’ অভিযোগে বাংলাদেশের পুলিশের বিশেষ বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব এবং এর সাবেক ও বর্তমান মোট ছয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
এ বিষয়ে র্যাব কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
‘বিষয়টি সম্পর্কে এখনো জানেন না’ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, এই চিঠিটি দুই মাস আগে ২০২১ সালের নভেম্বরের আট তারিখে পাঠানো হয়েছিল, যা আজ (বৃহস্পতিবার) প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কর্মসূচি থেকে এখনো ওই চিঠির ব্যাপারে কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রেরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সামনের সারিতে রয়েছে।
দু’হাজার বিশ সালে বিভিন্ন দেশে শান্তি মিশনে সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ, বিভিন্ন বাহিনী থেকে ৬,৭৩১জন সদস্য পাঠানো হয়েছিল।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করছে, দেশের ভেতরে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে কর্মকর্তাদের পুরষ্কার হিসেবে শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠানো হয়, বিশেষ করে র্যাব সদস্য যাদের অনেকের বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং গুমের অভিযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়ের ল্যাকোঁয়ার কাছে দেয়া চিঠিতে আহ্বান জানানো বলা হয়েছে, র্যাবে কাজ করেছেন এমন সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শান্তিরক্ষা কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস রয়েছে এমন পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের শান্তিরক্ষী মিশনে নেয়া বন্ধ করার ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এবং যারা কাজ করছেন তাদের নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, র্যাবের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
এর আগে র্যাব সদস্যদের নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা।
রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটসের সভাপতি কেরি কেনেডি বলেছেন, “জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করার ব্যাপারে যদি সেক্রেটারি জেনারেল গুতেরেসের সদিচ্ছা থাকে, তাহলে তিনি নিশ্চিত করবেন যে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মতো নির্যাতনের প্রমাণিত রেকর্ড রয়েছে এমন কোন সংস্থাকে কোন দেশে মোতায়েন করা থেকে বিরত থাকা হবে।”
চিঠিতে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর র্যাবের ভেতরে সংস্কারের জন্য পদক্ষেপ নেয়ার বদলে, বাংলাদেশ সরকার ‘অভিযোগ অস্বীকার’ করছে এবং মানবাধিকার কর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, গুম ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাড়িতে হাজির হয়ে পুলিশ তাদের হুমকি দিচ্ছে।
সেই সাথে মিথ্যা বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করছে যেখানে লেখা থাকছে তাদের পরিবারের সদস্য নিখোঁজ হয়নি এবং তারা (পরিবার) ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশকে বিভ্রান্ত করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ হিসেবে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রয়োজনে সেখানে লবিস্ট নিয়োগেরও পরামর্শ দেয়ার খবর বেরিয়েছে।বিবিসি বাংলা।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে খনি দুর্নীতি মামলায় চার্জ শুনানি পেছাল
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে আগামি ৬ মার্চ ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জে ঢাকার দুই নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এস এম রুহুল ইমরান আসামিপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে এ তারিখ ঠিক করেন।
এদিন মামলাটি চার্জ শুনানির জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় শুনানি পেছানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার। শুনানি শেষে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী এ তারিখ ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম ও ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আলম শাহবাগ থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত আসামির সংখ্যা ১৩ জন। বিভিন্ন সময় ছয় আসামি মারা যান। বর্তমানে আসামি সাত জন।











