ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ১০:৪২ 

Home Blog Page 43

আমেরিকায় লবিস্টদের পেছনে বিএনপি ৩.৭৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে

0

বিস্ফোরক তথ্য দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম। বলেছেন,আমেরিকায় সরকার কোন লবিস্ট নিয়োগ করেনি বা করার কোন পরিকল্পনাও নেই। কিন্তু বিএনপি তাদের বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণার অংশ হিসাবে একটি মার্কিন লবিস্ট ফার্মের জন্য কমপক্ষে ৩.৭৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার লবিং করার জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সাফল্যকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার জন্য একটি ফার্মের সাথে যুক্ত হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী পার্লামেন্টে দেয়া তার বক্তব্যের পুনরুল্লেখ করে বলেন, এ পর্যন্ত তারা আটটি নথি পেয়েছেন, যাতে দেখা গেছে যে, কিছু বাংলাদেশি নাগরিক কয়েকটি মার্কিন লবিস্ট ফার্ম ভাড়া করেছে।
তিনি বলেন, ‘ওই আটটি চুক্তির মধ্যে অন্তত তিনটিতে বিএনপির নয়া পল্টন কার্যালয়ের ঠিকানা মূল ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে স্বাক্ষরিত হয়েছে।’
আলম বলেন, তারা অন্তত আরও চারটি নথি পেয়েছেন যেগুলোতে বাংলাদেশের স্থানীয় ঠিকানার পরিবর্তে নিউইয়র্কের ঠিকানা ব্যবহার করে জামাতে ইসলামীর পক্ষে স্বাক্ষর করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা মনে করি যে, এই নথিগুলি জামাতের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এসব চুক্তিতে আইসিটি ট্রাইব্যুনাল (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) সহ তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে লবিংয়ের উল্লেখ করা হয়েছিল।”
বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রের লবিস্ট ফার্ম আকিন কোম্পানি অ্যাসোসিয়েটস, ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিস এবং রাস্কি পার্টনারসকে নিয়োগ দেয়। অন্যদিকে, জামাত ‘পিস অ্যান্ড জাস্টিস’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিল।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি চ্যানেলের অনুমোদন নিয়ে বিএনপি বৈধভাবে মার্কিন সংস্থাগুলোকে টাকা পাঠিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তারা নথিগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন না নিয়ে তারা টাকা পাঠালে আমরা আশা করি যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ম অনুযায়ি আইনি পদক্ষেপ নেবে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানাবে।
নিয়ম অনুযায়ি, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দিতে হয়।
আলম বলেন, জামাতে ইসলামীর ব্যয়ের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার লক্ষ্যে অন্যান্য নথিগুলিই ইসির কাছে যথেষ্ট।
শাহরিয়ার আলম বলেন, পাবলিক ডোমেইনে বিদ্যমান এই আটটি নথি ছাড়াও তারা মনে করেন যে, বিদেশী লবিস্টদের সাথে বিএনপি এবং জামাতের স্বাক্ষরিত এরকম আরও অনেক চুক্তি রয়েছে, যা এখনও জনসাধারণের সামনে আসেনি।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে ইসি গঠনে বিভিন্ন প্রস্তাব আওয়ামী লীগের

0

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে চলমান সংলাপের ১৭ তম দিনে সোমবার (১৭ জানুয়ারী) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশন আইন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনের প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে। বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির আহবানে চলমান সংলাপের শেষ দিনে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে বসেন।
আওয়ামী লীগের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব:) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান।

বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন প্রস্তাব পেশ করে। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল প্রস্তাব করেন – সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনের নিয়োগ দান করবেন। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি (রাষ্ট্রপতি) যাদেরকে উপযুক্ত বিবেচনা করবেন সেইভাবে তিনি তাদেরকেই নিয়োগ দান করবেন। প্রেস সচিব জানান, তারা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ইভিএম পদ্ধতিসহ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। প্রতিনিধিদল একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচনকালীন নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বশীলতা, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের আচরণ এবং নির্ভুল ভোটার তালিকা ও ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন।
এছাড়া বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের পরিবর্তে কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ এবং আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত লোকজনের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ আচরণ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।

তারা বলেন, নির্বাচনে পেশিশক্তি বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল পর্যায়ের ভোটারদের ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা ও পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব করেন। লিখিত প্রস্তাবনায় তারা নির্বাচনের দিন, নির্বাচনের পূর্বে এবং পরে ভোটারদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচনকালে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের আবশ্যকীয় সকল সংস্থা এবং নির্বাচন কর্মপরিধি অবশ্যই একটি রুটিন ওয়ার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে করা যায় সে ব্যাপারে তার দল ও সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে, জনগণ যাতে ভোটাধিকার ইচ্ছামত প্রয়োগ করতে পারেন সে ব্যাপারে তার দল ও সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিবে। তিনি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন যে, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি নির্বাচন কমিশন গঠন আইন প্রণয়নের জন্য আইনের একটি খসড়া আজ মন্ত্রিপরিষদের সভায় অনুমোদন দিয়েছে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আইনি প্রক্রিয়া সমাপ্ত করে আইনটি প্রণীত হবে।
আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত আইনটিতে মন্ত্রীপরিষদের অনুমোদন দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি যত দ্রুত সম্ভব এ আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই আইনেই জনমতের প্রতিফলন ঘটবে।
গত ২০ ডিসেম্বর শুরু হওয়া রাজনৈতিক দলের সাথে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সংলাপের প্রথম দিনে বসে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। সর্বমোট ৩২ টি রাজনৈতিক দলকে বঙ্গভবনে আলোচনার জন্য আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি হামিদ। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সহ সাতটি রাজনৈতিক দল আলোচনায় অংশ নেয়নি।

সার্চ কমিটির মাধ্যমে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ; আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন

0

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যন্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত একটি আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা হবে।
খন্দকার আনোয়ার আরো বলেন, সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে উপযুক্ত প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করবে।
এর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পর রাষ্ট্রপতির গঠিত সার্চ কমিটির মাধ্যমে কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ ও কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে সর্বশেষ দুটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত নাম থেকে রাষ্ট্রপতি ২০১২ ও ২০১৭ সালে সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনারকে বেছে নেন।
এ ছাড়াও মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরো তিনটি আইনের খসড়া অনুমোদিত হয়। এ গুলো হচ্ছে- ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ এর খসড়া, ‘বাংলাদেশ তেল গ্যাস, ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন আইন-২০২২ এবং ‘বৈষম্য বিরোধী আইন-২০২২’। এ ছাড়াও ‘জাতীয় লবন নীতি-২০২২ এর খসড়ারও অনুমোদন দেয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সংবিধানের ১১৮(১)-এ বিধান আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিতে পারেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই আইনটি নিয়ে আসা হয়েছে। খুব বেশি বড় আইন না এটি। এ জাতীয় আইন আমরা হ্যান্ডেল করে আসছি। এছাড়া, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন আছে। মোটামুটি সেই অনুযায়ী এটা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ দিতে একটা সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটি গঠন করা হবে।
ছয় সদস্যের এই সার্চ কমিটির প্রধান হিসেবে থাকবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি।
এ ছাড়া সদস্য হিসেবে থাকবেন হাইকোর্টের একজন বিচারপতি, মহাহিসাবনিরীক্ষক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতির মনোনীত দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিটি যোগ্য ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করবে। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন।
এসব পদের নিয়োগে কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। ওই ব্যক্তিদের কমপক্ষে ৫০ বছর বয়স হতে হবে। এ ছাড়া সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি বা বিচার বিভাগীয় পদে ওই ব্যক্তিদের কমপক্ষে ২০ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘খসড়া আইনে অযোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে,-‘আদালতের মাধ্যমে কেউ অপ্রকৃতিস্থ হিসেবে ঘোষিত হলে, দেউলিয়া ঘোষণার পর দেউলিয়া অবস্থা থেকে মুক্ত না হলে, অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করলে বা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করলে, নৈতিক স্খলন এবং সেক্ষেত্রে যদি ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দু-বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিত হলে, রাষ্ট্রীয় পদে থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার হতে পারবেন না।’
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আইনটি চূড়ান্ত করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। ছোট আইন।’
এছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকারে বৈষম্যবিরোধী আইন, ২০২২-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অনেকগুলো আন্তর্জাতিক কনভেনশনের মাধ্যমে সারা বিশ্বে সব রকমের বৈষম্য নিরসন করা হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বৈষম্য দূরীকরণের বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে। এরই আলোকে এ আইন নিয়ে আসা হয়েছে।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আইনের আলোকে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বিভিন্ন পর্যায়ে যেমন- জাতীয়, বিভাগীয় ও জেলা বা যে পর্যায় পর্যন্ত হিউম্যান রাইটসের কোনো ভায়েলেশন হচ্ছে কিনা তা মনিটর করবে।
তিনি জানান, এখানে একজন সভাপতি থাকবেন। আইনমন্ত্রী কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং লেজিসলেটিং বিভাগের একজন যুগ্মসচিব সেটার সদস্য সচিব হবেন।
বৈষম্যবিরোধী একটা সেল গঠন করা হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যে সেল বৈষম্যবিরোধী কার্যাবলী প্রতিরোধ এবং তাৎক্ষণিক প্রতিকার প্রদানের জন্য বৈষম্যবিরোধী জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা কমিটিসহ অন্যান্য কমিটি গঠন করবে।
‘জাতীয় লবণ নীতিমালা-২০২২’ এর খসড়ার অনুমোদন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এখন লবণ চাষের ক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলোর অনেকগুলোয় ট্রাডিশনাল সিস্টেমে হচ্ছে, সেটার একটা মডিফিকেশন দরকার। মাতারবাড়ি, কক্সবাজার, পায়রায় বেশকিছু জায়গা ডেভেলপমেন্ট করার কাজ হাতে নিয়েছি। সেজন্য নতুন নতুন জায়গা গ্রহন করা এবং নতুন টেকনোলজির মাধ্যমে আরও প্রোডাক্টটিভিটি ইফেকক্টিভ করা এবং বড় করার জন্য নীতিমালা নেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে, ২০২০-২৫ মেয়াদি এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করলে আমরা লবণ উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করবো এবং আমাদের লবণের ঘাটতি হবে না।’ বাসস।

আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি আবার ২১ ফেব্রুয়ারী থেকে

0

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন করে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু করবে বলে জানিয়েছেন মামলার বাদিপক্ষ গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল দাওদা জালৌ। ১৪ জানুয়ারি রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের একজন মুখপাত্রের কাছে শুনানির তারিখ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলেও তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাননি।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রতিনিধিরা শুনানিতে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারিক এখতিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জালৌ বলেন, “২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই হাইব্রিড শুনানি শুরু হবে।” হাইব্রিড শুনানি হলো, মামলার দুই পক্ষের এক পক্ষ সরাসরি আদালতে হাজির থাকেন এবং আরেক পক্ষ করোনা মহামারির কারণে অনলাইনে অংশ নেন।
তিনি আরও জানান, ২০১৯ সালে অং সান সু চি এই মামলার গণশুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষে প্রথম নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যেহেতু সামরিক বাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে তাই সামরিক জান্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলায় সু চির পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করবে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নিধন অভিযানে দেশটির রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের তদন্ত দল তাদের প্রতিবেদনে জানায়, “গণহত্যার উদ্দেশ্যেই” এই হামলা চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি নিজে দ্য হেগে আন্তর্জাতিক আদালতের শুনানিতে হাজির হয়ে মামলা খারিজের আবেদন করেন।
২০২১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এই নেত্রীকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির বর্তমান সামরিক জান্তা। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে।
জোর করে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে এবং জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে নিজেদের মিয়ানমারের বৈধ শাসক হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সামরিক জান্তা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে প্রতি ছয় মাস পর পর রোহিঙ্গা বিষয়ক আদালত নির্দেশিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে আসছে। যদিও এই প্রতিবেদনগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়।
২১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত শুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। এই বিষয়টি নিস্পত্তি হলে গণহত্যার ব্যাপারে শুনানি হবে।

চট্টগ্রামে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ হবে : আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি বলেছেন, এ বছর চট্টগ্রামে হাইকোর্টের একটি সার্কিট বেঞ্চ হবে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘আইনজীবী মিলন মেলা-২০২১’ এর অনুষ্ঠানে শনিবার ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন আইনমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল), আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান, চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল আলম, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক এএইচএম জিয়াউদ্দিন বক্তৃতা করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামে একটা হাইকোর্ট বেঞ্চের দাবী আপনাদের। বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সাথে কথা বলেছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন। আশা করি এ বছর শেষ হওয়ার আগেই চট্টগ্রামে হাইকোর্টের একটি সার্কিট বেঞ্চ হবে। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় শুধু বদ্ধ পরিকরই নয়, এজন্য যা যা করার তাই করা হবে।’
আনিসুল হক বলেন, দেশে যত গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে সেখানে আইনজীবীরা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। জাতি এটা কখনোই ভুলবে না।
শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, ‘আদালত পাড়ায় অনেক মানুষের সমাগম হয়। তাই এই সময়টায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, চট্রগ্রাম আইনজীবী সমিতি অনেক বিশিষ্ট আইনজীবীর জন্ম দিয়েছেন, যারা আইন অঙ্গনের দিকপাল। তাদের ধারাবাহিকতায় এখানকার পরবর্তী প্রজন্মও এই পেশায় সফল হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন এটর্নি জেনারেল।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আইন পেশাটা চ্যালেঞ্জিং একটা পেশা। নবীন আইনজীবীদের এই পেশায় টিকে থাকতে হবে। বাসস।

টাকা লুটতেই রাজমিস্ত্রী শ্বাসরোধে হত্যা করে ঢাবি অধ্যাপককে

0

টাকা লুট করতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাইদা গাফফারকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার কন্ট্রাক্টর আনারুল ইসলাম (২৫) হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ পাইনশাইল এলাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবাসন প্রকল্পের ভেতরে একটি ঝোপ থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনারুল ইসলাম নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ওই অধ্যাপকের নির্মাণাধীন বাড়ির কন্ট্রাক্টর ও রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন নিহত অধ্যাপকের ছেলে সাউদ ইফখার বিন জহির। অধ্যাপক সাইদা গাফফার ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে তার মালিকানাধীন প্লটে বাড়ি করার জন্য প্রকল্প সংলগ্ন দক্ষিণ পানিশাইল মোশারফ মৃধার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। সেখানে থেকেই বাড়ি নির্মাণ কার্যক্রম দেখাশোনা করতেন। সেখান থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে মরদেহ পাওয়া গেছে।
এর আগে গত বুধবার সাইদা গাফফারের নিখোঁজের ঘটনায় তার মেয়ে সাদিয়া আফরিন কাশিমপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শেখ মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আনারুল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি অধ্যাপক সাইদার হাতে টাকা দেখে তা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তিনি চিৎকার শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান আনারুল।
নিহত সাইদা গাফফারের স্বামী মৃত জহিরুল হক। তার ছেলে সাউদ ইফখার বিন জহির ঢাকার উত্তরার পশ্চিম থানার ১২ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর বাড়িতে বসবাস করেন। তার তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এবং একজন দেশে থাকেন।

করোনায় দেড় ইঞ্চি ছোট হয়ে গেছে পুরুষাঙ্গ!

0

করোনা ভাইরাসের ছোবলে ফুসফুস যে মারাত্মক জখম হয়, সে তো জানা কথাই। এছাড়াও শরীরে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গেরও ক্ষতি হওয়ার কথা বারবার বলেছেন গবেষকরা। কিন্তু কোভিড সংক্রমণের ধাক্কায় কি পুরুষাঙ্গ ছোট হয়ে যেতে পারে? সম্প্রতি এমনই দাবি এক মার্কিন যুবকের। যে ঘটনাকে ঘিরে বিস্মিত গবেষকরা।
ঠিক কী ঘটেছে? ৩০ বছরের ওই মার্কিন যুবক কিছুদিন আগে কোভিডে আক্রান্ত হন। হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। যদিও শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু এরপরই তিনি আবিষ্কার করেন লিঙ্গ শৈথিল্যের শিকার হয়ে গিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ তাঁর লিঙ্গ ঠিকমতো দৃঢ় হচ্ছে না। সেজন্য চিকিৎসাও শুরু হয়। আর সেই চিকিৎসা শুরু হওয়ার পরই যুবক লক্ষ্য করেন, তাঁর লিঙ্গ আগের থেকে ছোট হয়ে গিয়েছে অন্তত ৪ সেমি। অর্থাৎ দেড় ইঞ্চি!
‘হাউ টু ডু ইট’ নামের এক যৌনতা বিষয়ক পডকাস্টে এবিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ওই যুবক জানিয়েছেন, ‘‘অসুস্থতার আগে আমার লিঙ্গ খুব বড় না হলেও স্বাভাবিক দৈর্ঘ্যেরই ছিল। কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি এটা প্রায় দেড় ইঞ্চি কমে গিয়েছে। ডাক্তাররা বলছেন, এই পরিবর্তন স্থায়ী। এতে অবশ্য এমনিতে কিছু এসে যায় না। কিন্তু নিঃসন্দেহে বিছানায় আত্মবিশ্বাস কমে যাবে।’’
গত বছর ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্না‌লে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ২৮ দিনের বেশি সময় ধরে করোনায় ভুগতে থাকা ৩ হাজার ৭০০ রোগীর উপরে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে তাঁদের শরীরে নানা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। দেখা গিয়েছিল সব মিলিয়ে ২০০ বা তারও বেশি লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে ছিল পুরুষ লিঙ্গ কিংবা অণ্ডকোষের আকার ছোট হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়ও। মার্কিন যুবকের দাবি আবারও সেই গবেষণার কথা মনে করিয়ে দিল।
সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের করা একটি গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে এই ঘটনার কারণ। ৩ হাজার ৪০০ জনের উপর করা এই গবেষণা বলছে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ২০০ জনের লিঙ্গ শিথিলতার সমস্যা দেখা দিয়েছে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর। পুরুষের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি প্রখ্যাত বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকাতে প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রেও একই দাবি করা হয়েছে বিজ্ঞানীদের তরফ থেকে। তাদের বক্তব্য কোভিডের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এন্ডোথেলিয়াল কোষ। আর তার জন্যই দেখা দিতে পারে লিঙ্গ শিথিলতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা যৌন জীবনে তো বটেই, নেতিবাচক প্রভাব ফেলে আক্রান্তের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও। তবে শুধু লিঙ্গ শিথিলতাই নয়, অনিচ্ছাকৃতভাবে পুরুষাঙ্গ একটানা দৃঢ় হয়ে থাকার ঘটনাও কোভিডে বিরল নয়। বিজ্ঞানের ভাষায় এই উপসর্গকে বলা হয় প্রায়াপিজম।

বরিস জনসন পদত্যাগ করলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত ঋষি সুনক

0

এ যেনো ইতিহাসের প্রতিশোধ! যে ব্রিটিশরা দুশ বছর ভারত শাসন শোষন করে দেশ ভাগ করে রেখে যায় সেই ব্রিটিশ সিংহাসনে এবার বসতে যাচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত একজন। ওয়াইন পার্টি কেলঙ্কারিতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পদত্যাগ করলে সেই পদে বসতে পারেন ব্রিটিশ পার্লামান্টের চ্যান্সেলর ঋষি সুনক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমেও ও নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের উপর ইস্তফার চাপ বাড়ছে ঘরে-বাইরে। লন্ডনের রাজনৈতিক অন্দরে জোরদার গুঞ্জন, খুব শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বরিস। আর তাঁর বদলে ১০, ডাউনিং স্ট্রিটে কে প্রবেশ করবেন, তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। খানিকটা প্রথা ভেঙে এবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে পারেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত ঋষি সুনক। তিনি এই মুহূর্তে সেখানকার চ্যান্সেলর। এ নিয়ে আপাতত সরগরম ব্রিটিশ রাজনীতি।
বছর দুই আগের গ্রীষ্মে, করোনা কালে ওয়াইন পার্টিতে দেখা গিয়েছিল প্রেমিকা-সহ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে। সেসময় ইংল্যান্ডে লকডাউন চলছিল। সেই পরিস্থিতিতেও পার্টি? এই ছবি ভাইরাল হতেই বিতর্কের মুখে পড়েন বরিস জনসন।

শুধু বিরোধীরাই নন, বরিসের কনজারভেটিভ পার্টির অন্দর থেকেই চাপ আসতে থাকে। সকলেই চান, বরিস প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিন। ওয়াইন পার্টি নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিজেও হরেক সাফাই দিয়েছেন। কিন্তু বিরোধীরা সেসব মানতে রাজি নন। বরিসের গদি টলমল হওয়ার সূত্রপাত এখানেই
লকডাউন চলাকালীন ব্রিটেনে যাবতীয় নিয়মভঙ্গের বিষয়টি এই মুহূর্তে তদন্তের আওতাভুক্ত। বর্ষীয়ান আমলা স্যু গ্রে এর তদন্ত করছেন। বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বরিস আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন নিজের কীর্তির জন্য। আর উল্লেখযোগ্যভাবে এই সময় পার্লামেন্টে ছিলেন না ভারতীয় বংশোদ্ভুত চ্যান্সেলার ঋষি সুনক। তা নিয়ে ফিসফাস শুরু হয়। তবে কি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ইতিমধ্যেই বেড়েছে? প্রতিযোগী হয়ে উঠেছেন বলে?

পরে টুইটে পার্লামেন্টে নিজের অনুপস্থিতি নিয়ে জবাবও দিয়েছেন ঋষি। জানিয়েছেন, তিনি দিনভর নানা জায়গা পরিদর্শনে ব্যস্ত ছিলেন। এছাড়া এমপি-দের সঙ্গে বৈঠকও ছিল। একটি প্রকল্প নিয়ে তাঁরা সকলেই ব্যস্ত। এরপর ঋষি লেখেন, ”আমি মনে করি, পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী খুব ভাল করেছেন। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে তো তদন্ত চলছেই।” যদিও প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে যে তাঁকে নিয়ে আলোচনা জোরকদমে চলছে, সে বিষয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি ভারতীয় বংশোদ্ভুত ঋষি সুনক।

‘ভয়ংকর সিরিয়াল খুনি’ হেলাল বাউল সেজেও পার পেলো না

0

ভয়ঙ্কর খুনি হেলাল হোসেন সেলিম একের পর এক খুন করে বাউল ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন মাজারে। এ সময়ে একটি ফোক গানে সে বাউলের মডেল হয়ে অভিনয়ও করেছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি। ধরা পড়তে হলো র‍্যাবের হাতে। সিরিয়াল কিলার খ্যাত ‘ভাঙ্গা তরী ছেড়া পাল” গানের বাউল মডেল মো. হেলাল হোসেন ওরফে সেলিম ফকির ওরফে বাউল সেলিম ওরফে হেলালকে শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে বিস্তারিত জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি জানান, আনুমানিক ৬ মাস আগে এক ব্যক্তি ইউটিউবে প্রচারিত একটি গানের বাউল মডেল সেলিম ফকির সম্পর্কে র‌্যাবের কাছে তথ্য দেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, র‌্যাব তদন্ত শুরু করে এবং এক পর্যায়ে ঘটনার সত্যতা পায়।

গ্রেপ্তারকৃতের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, ১৯৯৭ সালে বগুড়াতে চাঞ্চল্যকর বিষ্ণু হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হেলাল ২১ বছর বয়সে ওই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয় বলে জানা যায়। ২০০০ সালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুইপক্ষের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ধারালো দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তার বাম হাতে মারাত্মক জখম হয় এবং বাম হাত পঙ্গু হয়। এই ঘটনার পর থেকে তিনি বিভিন্ন নামে (দূর্ধর্ষ হেলাল, হাত লুলা হেলাল হিসেবে) এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন।
২০০১ সালে মাহমুদুল হাসান বিদ্যুৎকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা করে। সেই মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেন। এ ছাড়া ২০০৬ সালে বগুড়ায় রবিউল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হেলাল ওই হত্যাকাণ্ডেরও একজন চার্জশিটভুক্ত আসামি।
র‍্যাব আরও জানায়, হেলাল ২০১০ সালে বগুড়া থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে আসেন। এরপর কমলাপুর থেকে চট্টগ্রামে চলে যান এবং সেখানকার আমানত শাহ মাজারে ছদ্মবেশ ধারণ করে বেশ কিছু দিন অবস্থান করেন। সেখান থেকে সিলেটের শাহজালাল মাজারে চলে যান এবং সেখানে ছদ্মবেশ ধারণ করে আরও কিছু দিন অবস্থান করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন রেলস্টেশন ও মাজারে ছদ্মবেশে অবস্থান করতেন। তিনি কিশোরগঞ্জ ভৈরব রেলস্টেশনে নাম-ঠিকানা ও পরিচয় গোপন রেখে সেলিম ফকির নাম ধারণ করেন।
আনুমানিক ৫ বছর আগে হেলাল নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনে কিশোর পলাশ ও গামছা পলাশের একটি গানের শুটিং চলাকালে রেললাইনের পাশে বাউল গান গাচ্ছিলেন। তখন শুটিংয়ের একজন ব্যক্তি তাকে গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিলে বহুল জনপ্রিয় “ভাঙ্গা তরী ছেড়া পাল” শিরোনামের গানের বাউল মডেল হিসেবে তাকে দেখা যায়। তিনি প্রায় ৭ বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ফেরারি জীবনযাপন করছেন এবং গত প্রায় ৪ বছর ধরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশনের পাশে একজন নারীর সঙ্গে সংসার করে আসছেন। বিভিন্ন রেলস্টেশনে তিনি বাউল গান গেয়ে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। র‍্যাব বলছে ভয়ঙ্কর খুনি হেলাল একজন ঠান্ডামাথার সিরিয়াল কিলার। তার বেশভূষা পরিবর্তন করে পুরোদস্তুর বাউল সেজেছিল। কিন্তু ঠিকই তাকে ধরা পড়তে হলো ।

বই পর্যালোচনা : প্রবেশন ও প্যারোল আইন

0

যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ জজ মো. সাইফুল ইসলাম রচিত ‘প্রবেশন ও প্যারোল আইন – আইন, তত্ত্ব ও প্রয়োগ পদ্ধতি’ বইটি পাঠ করার সৌভাগ্য হলো। সহজ প্রাঞ্জল ভাষায় লিখিত সুপাঠ্য বইটি পাঠ করে প্রবেশন এবং প্যারোল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলাম।
শাস্তি প্রদানের বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্যের মধ্যে অপরাধীকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ব্যবস্থা করা অন্যতম প্রধান একটি উদ্দেশ্য। লঘুদণ্ডে দণ্ডিত অপরাধীকে শাস্তি হিসেবে জেলখানায় প্রেরণ না করে দণ্ড স্থগিত রেখে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি প্রদান করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার যে প্রক্রিয়া সেটিই মূলত প্রবেশনের মূল উদ্দেশ্য। জেলখানায় প্রেরণ করা হলে দাগী অপরাধীদের সংস্পর্শে এসে প্রথম বার লঘু অপরাধ করা কোনো ব্যক্তি আরও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশংকা থাকে। সে কারণে প্রবেশনের মাধ্যমে তাকে সংশোধন করে সমাজের মূলস্রোতে নিয়ে আসা আইনের একটি মহৎ উদ্দেশ্য।

কিন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য প্রবেশনের ওপর আইন থাকলেও বাস্তবে এর তেমন দৃশ্যমান প্রয়োগ ছিল না। সম্প্রতি যে কয়জন বিচারক এই আইনের বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে বিচার বিভাগে নবদিগন্তের সূচনা ঘটিয়েছেন, লেখক তাঁদের মধ্যে অগ্রগন্য। তিনি শুধু আইনের তত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আইনের বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে সফল হয়েছেন।

তিনি বইটিতে প্রবেশনের ইতিহাস, প্রেক্ষাপট, প্রয়োগ পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ এবং প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণনা করেছেন। ৬ টি অধ্যায়ে ভাগ করে প্রবেশন এবং প্যারোলের যাবতীয় খুটিনাটি বিষয় এই বইতে পাওয়া যাবে। হাজতি আসামীর নিকটাত্মীয় মারা গেলে কিভাবে পুলিশ প্রহরায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাময়িক প্যারোলে মুক্তির মাধ্যমে জানাজায় অংশগ্রহণ করা যায় তার আবেদনের ও আদেশের নমুনা দেয়া হয়েছে। প্রবেশন সংক্রান্ত সকল ফরম, আদেশ এবং রিপোর্টের নমুনাও সংযোজন করা হয়েছে যা ভালোলাগার আবহটা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

ব্যতিক্রমী এই বইটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গতানুগতিক আইন বইয়ের মত ধারাভিত্তিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা হয়নি। বরং সকল শ্রেণি পেশার মানুষ যাতে প্রবেশন বুঝতে পারে সেজন্য ১ম অধ্যায়ে জীবন থেকে নেয়া গল্পের ছলে ছলে আইনের ধারণা দেয়া হয়েছে। আমি মনে করি বিচারক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আইনজীবী, পুলিশ, প্রবেশন অফিসার, সমাজসেবা অফিসার, জেল সুপার, মানবাধিকার কর্মীসহ আইনের শিক্ষার্থীগণ এই বইটি দ্বারা উপকৃত হবেন। আইন অঙ্গন ছাড়াও যেকোনো পাঠক, যারা এই বিষয়ে পড়াশুনা করতে আগ্রহী তারাও বইটি সংগ্রহ করে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন। আমার জানামতে প্রবেশন এবং প্যারোলের ওপর আমাদের দেশে এটি প্রথম পুর্নাঙ্গ একটি বই, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেস ল, কেস স্টাডিসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

সর্বোপরি বইটি পড়তে গিয়ে দু’একটি মুদ্রণপ্রমাদ চোখে পড়েছে। আশা করি পরবর্তী সংস্করণে লেখক তা সংশোধন করে নেবেন। আমি বইটির বহুল প্রচার এবং সার্বিক সাফল্য কামনা করি। বইটি পাওয়া যাচ্ছে ঢাকাস্থ আমিন বুক হাউজ, ইউনিভার্সেল বুক হাউজ, বুক সিন্ডিকেট, সুপ্রীম কোর্ট বারের লাইব্রেরী, রাজশাহীর বইঘর, কুড়িগ্রামের হাসান বুক ডিপোতে। এছাড়া অনলাইনে একমাত্র পরিবেশক Mbb online marketing সারাদেশে কুরিয়ার খরচসহ ৪৫০ টাকায় বিক্রি করছে।

( মোঃ আব্দুল মালেক)
যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, রংপুর।