গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় গুলশান ও ধানমন্ডির অবৈধভাবে দখলকৃত জায়গাগুলো দখলমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় এ সুপারিশ করা হয়।
কমিটি সদস্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বজলুল হক হারুন ও মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় গণপূর্ত অধিদপ্তর, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, চট্রগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর ও হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর চলমান প্রকল্পসমূহের সার্বিক কার্যক্রম ও অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তাারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন নিশ্চিতে বহুতল ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
কমিটি চট্রগ্রামে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং খালে আবর্জনা ফেলা প্রতিরোধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সুপারিশ করে।
সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাসস।
গুলশান ও ধানমন্ডির সরকারি জায়গা দখলমুক্তের সুপারিশ
আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না : প্রধানমন্ত্রী
দুর্ঘটনা ঘটলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে বরং দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। দুর্ঘটনা একটি দুর্ঘটনাই। এর জন্য কে দায়ী তা পরে খুঁজে বের করা যাবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং দুর্ঘটনার জন্য কারা দায়ী তা খুঁজে বের করবে ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিবে।’
শেখ হাসিনা বুধবার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্প গুলোর সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।
প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ‘শাহজালাল বিমান বন্দর সড়কে শহিদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন পথচারী আন্ডারপাস’; ‘সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক ৪ লেন মহাসড়ক’; ‘বালুখালী (কক্সবাজার)-ঘুনধুম (বান্দরবান) সীমান্ত সংযোগ সড়ক’ এবং ‘রাঙ্গামাটি জেলার নারিয়ারচরে চেংগী নদীর ওপর ৫শ’ মিটার দীর্ঘ সেতু’।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ এবং ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন বিগ্রেড এই নির্মাণের সার্বিক তত্বাবধানে ছিল।
গত ২৯ জুলাই ২০১৯ ইং বিমানবন্দর সড়কে শহিদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের নিকট মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় ঝরে যায় শিক্ষার্থী আব্দুল করিম রাজিব ও দিয়া খানম মিম এর প্রাণ। তারই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষনিক নির্দেশে সেখানে অত্যাধুনিক আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী রাজিব ও মিম-এর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে একটা প্রবণতা আছে, কোন ধরণের দুর্ঘটনা ঘটলেই আগে ড্রাইভারকে ধরে পেটানো হয়। অনেক সময় গণপিটুনি দিয়ে তাকে হত্যাই করা হয়।
তিনি বলেন, সকলের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে কোন ধরণের দুর্ঘটনা ঘটলে দুর্ঘটনাটা কেন, কীভাবে, কার কারণে ঘটলো সেটা যেন বিবেচনা করেন। সেখানে আমি পথচারিদেরকে বলবো ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সকলের জ্ঞান থাকা দরকার। সেটা মেনে চলতে হবে। ট্রাফিক আইন সকলে মেনে চলবেন এবং মোবাইল ফোন কানে নিয়ে সড়কের পাশ দিয়ে, বা রেল লাইনের পাশ দিয়ে চলা বা পার হতে যাবেন না। এটা বন্ধ করতে হবে।
সরকার প্রধান বলেন, দ্বিতীয় কথা হলো যেখানে সেখানে দিয়ে হঠাৎ করে দৌঁড়ে রাস্তা পার হবেন না। এভাবে রাস্তা পার হতে গেলেই কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটে। কাজেই এ ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। ফুটপাতে হাঁটলে যেদিক থেকে গাড়ি আসছে তার উল্টো দিকেই হাঁটতে হয়। যাতে সমানে দেখা যায় যে গাড়িটা আসছে। ফুটওভার ব্রীজ এবং আন্ডারপাস বা নির্দিষ্ট স্থান দিয়েই পারাপার হতে হবে। কারণ, একটি যানবাহনে চাইলে অনেক সময় হঠাৎ ব্রেক কষা সম্ভব হয়না, কারণ এটা যান্ত্রিক বিষয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের আমি বলবো রাস্তায় চলাচলের সময় অবশ্যই ট্রাফিক আইন মানতে হবে। আর শিক্ষার ক্ষেত্রেও আমি বলবো আমাদের তরফ থেকে প্রত্যেকটি স্কুল-কলেজে ট্রাফিক রুলস সম্পর্কে থেকে শিক্ষা দেয়া উচিত। প্রত্যেকটি স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়েও এই ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, স্কুল ছুটি এবং শুরুর সময় প্রত্যেকটি স্কুল নিজ উদ্যোগে বিশেষ ট্রাফিকের ব্যবস্থা করবে। ট্রাফিক পুলিশ থাকবে সহযোগিতার জন্য কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে সচেতন হতে হবে এবং তাদেরও লোক রাখতে হবে। যাতে ছেলে-মেয়েরা নিরাপদে রাস্তা পার হতে পারে। কারণ, অনেক সময় অন্যের কথা তারা শুনতে চায়না, কিন্তু যদি স্কুল কর্তৃপক্ষের কেউ থাকে তার কথা ছাত্র-ছাত্রীরা শুনবে। এ ব্যাপারে আমি মনে করি শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রত্যেকটা স্কুলকে নির্দেশ দিতে পারে। একেবারে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যন্ত।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলবো এ ব্যাপারে আপনারা উদ্যোগ নিবেন এবং প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা দিবেন। তাহলেই আমাদের সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে। এ ছাড়া আমাদের ভারি যানবাহনগুলো বিশেষ করে বাস, ট্রাক, লরি সেগুলোরও যান্ত্রিক কোন ত্রুটি আছে কি-না সেটাও সবসময় পরীক্ষা করতে হবে। এ বিষয়টাও সকলে নজর রাখবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা নিছকই দুর্ঘটনা। কাজেই কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। দোষ কার সেটা পরে দেখা যাবে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইভারকে মারা উচিত নয়।
তিনি উদাহারণ দেন, দুর্ঘটনায় কোন গাড়ির ধাক্কায় পথচারি পড়ে গেলে অনেক সময়তেই সে বেঁচে যেতে পারে। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটানোর কারণে প্রাণ ভয়ে ভীত হয়ে ড্রাইভার নিজের প্রাণ বাঁচাতে গাড়ি যখন আবার পুনরায় টান দেয় তখন ঐ দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি চাকার নিচে চলে আসে। তার জীবন চলে যায়। কাজেই কিছু হলেই গাড়ির ড্রাইভারকে ধরে পেটাবেন, আগুন দেবেন, গাড়ি পোড়াবেন এটা কিন্তু ঠিক নয়। কারণ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী আছে তারাই আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টা দেখবেন। কাজেই এ বিষয়ে আমি সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানাচ্ছি।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণভবন প্রান্তে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন, শিক্ষা মন্ত্রী ডা.দীপু মনিসহ উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রকল্প প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং চিফ মেজর জেনারেল ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান স্বাগত বক্তৃতা করেন।
গণভবন প্রান্তে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের সার্বিক দিক তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে সারাদেশে ২০১০ থেকে ২০১২ সালে জাতীয় মহাসড়কে ২০৯টি ব্ল্যাকস্পট বা দূর্ঘটনা প্রবণ স্থান চিহ্নিত করে ব্ল্যাকস্পট গুলোতে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীকালে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে আরও ২৫২টি ব্ল্যাকস্পট চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ১৭২টি ব্ল্যাকস্পটের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৮০টি ব্ল্যাকস্পট উন্নয়ন করা হবে। এর ফলে ঐ সড়ক ও মহাসড়কে দূর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
মহাসড়কে গাড়ি চালাতে গেলে চালকদের যেন ঝিমুনি না আসে সে জন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে বিশ্রামাগার তৈরির পাশাপাশি তাঁর সরকার চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে চালক পথক্লান্তিতে একটু বিশ্রাম নিয়ে নিতে পারে। কিন্তু তাই বলে অদক্ষ হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো ঠিক নয়। কাজেই এই বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। আর পথচারিরা সতর্ক থাকলে দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে।
শেখ হাসিনা বলেন, একটানা গাড়ি চালনা ও অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে দুর্ঘটনা রোধকল্পে ‘টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলার জন্য ৪টি জাতীয় মহাসড়কের পার্শ্বে পণ্যবাহী গাড়ী চালকদের জন্য পার্কিং সুবিধা সম্বলিত বিশ্রামাগার স্থাপন’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রংপুর এবং ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ এবং মাগুরায় পণ্যবাহী গাড়ি চালকদের জন্য ৪টি আধুনিক সুবিধা সম্বলিত বিশ্রামাগার নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রত্যেকটি এলাকা ভিত্তিক ভাবেই এটি আমরা করে যাব।
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মহাসড়ক নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে ইতিমধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্প, বাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে ‘রিভাইসড স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান’ এর আওতায় ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, কম্যুটার রেলওয়ে, ভূগর্ভস্থ টানেল, ঢাকা শহরের চারদিকে রিং রোড, সার্কুলার রেল লাইন এবং ওয়াটারওয়ে নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রাজধানীবাসী নিরাপদে ও দ্রুততম সময়ে যাতায়াত করতে পারবেন।
তিনি বলেন, মহাসড়কে পারাপার নিরাপদ করতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার সেনানিবাস শুটিং ক্লাব পয়েন্টে আন্ডারপাস নির্মাণ ও জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে ১৩টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। আন্ডারপাসের স্থানীয় সুবিধা বিবেচনা করে ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২’ এর আওতায় এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়কে ৩৯টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে।
তাঁর সরকার ইতিমধ্যে ৬৩২ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক ৪-লেন বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ছাড়া ৬৪৭ কিলোমিটার মহাসড়কের উভয়পার্শ্বে পৃথক সার্ভিস লেনসহ ৪-লেনে উন্নীতকরণ এবং ৭৯ কিলোমিটার মহাসড়ককে সার্ভিস লেন ব্যতীত ৪-লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন মহাসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকার ২০০৯ থেকে বর্তমান মেয়াদে ১ হাজার ৪০১টি সেতু ও ৬ হাজার ৩৬০টি কালভার্ট নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ করেছে। প্রায় ৭ হাজার মিটার দৈর্ঘের ১৫টি রেলওয়ে ওভারপাস, ১৪ হাজার ৮৩ মিটার দৈর্ঘের ১৫টি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে।
আরও ১৫ হাজার ১৪২ মিটার রেলওয়ে ওভারপাস এবং ৭ হাজার ৩১২ মিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলমান এবং পরিকল্পনাধীন রয়েছে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ১৩ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই ১৩ বছরে যে আর্থসামাজিক উন্নতি আমরা করতে পেরেছি সেটা আমাদের জাতির প্রতি, দেশের তৃণমূলের মানুষের প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি, সেটারই বাস্তবায়ন।
তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা যে চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন সেই উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্যই আমরা এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। বাসস।
সেই হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন
বিএনপির একসময়ের প্রতাপশালী নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন। যুক্তরাজ্যে প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে তিনি মারা যান। বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচাতো ভাই সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে যুক্তরাজ্যে হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার দাফন যুক্তরাজ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।’
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে হারিছ চৌধুরী ও তার ছবি সংযুক্ত করে আশিক উদ্দিন চৌধুরী লেখেন, ‘ভাই বড় ধন, রক্তের বাঁধন’। তার স্ট্যাটাসের পর বিষয়টি জানাজানি হয়। এর পর থেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ অনেকে মন্তব্যের ঘরে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন জানিয়ে আশিক উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘যে সময় তিনি মারা যান, আমি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলাম। চাচাতো ভাই মারা যাওয়ার বিষয়টি মুঠোফোনে জানতে পারি। ’
তার দাবি, হারিছ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরেন। পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত সেপ্টেম্বর মাসের দিকে তিনি যুক্তরাজ্যের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এতদিন দেরিতে মৃত্যুর খবর প্রকাশের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে আশিক উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘যারা জিজ্ঞেস করেন, তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। হারিছ চৌধুরীর খোঁজখবর রাখার মতো কেউ নেই। এজন্য বিষয়টি এতদিন জানাজানি হয়নি।’
হারিছ চৌধুরীর স্ত্রী জোসনা আরা চৌধুরী, ছেলে নায়েম শাফি চৌধুরী ও মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী যুক্তরাজ্যে অবস্থা করছেন। সিলেটের কানাইঘাটের দিঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের দর্পনগর গ্রামে হারিছ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি। তবে বাড়িতে তারা কেউ থাকেন না।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর হারিছ চৌধুরীর যাবজ্জীবন সাজা হয়। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হারিছ চৌধুরীর ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা হয়। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায়ও তিনি আসামি ছিলো।
মানব পাচার প্রতিরোধে সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার: আইনমন্ত্রী
মানব পাচার মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি জঘন্য রূপ। এটি বিশ্বের সর্বত্রই ঘটে এবং বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। শুধু আইন দিয়ে এ অপরাধ দমন বা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। বুধবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে মানব পাচার, প্রাসঙ্গিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন এবং বিচার নিশ্চিতকরণ বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এসব কথা বলেন। কর্মশালায় মানব পাচার এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ২৩ জন বিচারক অংশগ্রহণ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মানব পাচার সংগঠিত অপরাধের একটি প্রধান রূপ হয়ে উঠেছে এবং তা সমাজের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এটি আধুনিক দাসপ্রথার একটি নতুন ধারা যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুদের নির্যাতন ও শোষণের শিকার করে পাচারকারীরা লাভবান হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার মানব পাচারের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মানব পাচারের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিশেষ আইন ও ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে এবং সেগুলোতে বিচারক এবং প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি কমিটি কাজ করছে। মানব পাচার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য পুলিশ সদর দফতরে একটি মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংস্থা- উইনরক ইন্টারন্যাশনালের ইউএসএআইডি-এর এফএসটিআইপি অ্যাক্টিভিটির চীফ অব পার্টি লিজবেথ জোনেভেল্ড ও বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বক্তৃতা করেন।
ওমিক্রনের প্রভাবে শরীর মাত্রাতিরিক্ত দুর্বল! জেনে নিন নিজেকে চাঙ্গা রাখবেন কীভাবে
দিন সাতেকের নিভৃতবাস। ওমিক্রন কাঁটা মোটামুটি এর মধ্যেই দূর হবে। ডাক্তারবাবুরা সেরকমই বলছেন। তবে ওমিক্রন গেলেও শরীরে থেকে যাচ্ছে মারাত্মক দুর্বলতা। তাই নিভৃতবাস শেষে টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও বেশ কিছু সতর্কতা জরুরি। শরীর তরতাজা রাখতে কি গাদাগাদা মাল্টিভিটামিনস খাবেন, নাকি উপায় অন্য কিছু! আসুন শুনে নেয়া যাক।
করোনার নয়া স্ট্রেন ওমিক্রন প্রায় সবাইকেই কাবু করছে। সংক্রমণ যত বাড়ছে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে উদ্বেগও। তবে সুখের বিষয় এই যে, পাল্টা মাত দিয়ে ওমিক্রনকেও কাবু করছে মানুষ। অর্থাত, ক্রমশ ওমিক্রন কাঁটা সরিয়ে খুলে যাচ্ছে সুস্থতার পথ।
তবে সুস্থ হলেও, রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও, এর জেরে কিছু ভোগান্তি তো থেকেই যাচ্ছে। তার মধ্যে সবথেকে স্পষ্ট যা, তা হল ভীষণ শারীরিক দুর্বলতা। এতটাই দুর্বলতা গ্রাস করছে শরীরকে যে, তা যেন আলাদা একটা অসুখের মতোই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং কয়েকটা নিয়ম মানলেই তা কাটিয়ে ওঠা যাবে।
প্রথমত, করোনামুক্তির পরও খাওয়া-দাওয়ার উপর নজর দিন। স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে তো বটেই। তবে সব হুড়মুড়িয়ে খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। কেননা হজমের দিকটিও খেয়াল রাখতে হবে। তাই খিদে চনমনে হচ্ছে কিনা সেটা আগে খেয়াল করুন। খিদে বুঝে অল্প অল্প করে খাবারের পরিমাণ বাড়ান। হালকা খাবার, বাড়িতে রান্না করা ঘরোয়া খাবার, যেগুলোয় পর্যাপ্ত ফ্যাটের জোগান আছে, সেগুলো খেতে শুরু করুন। অল্প অল্প করে এই ধরনের খাবার খাওয়ার ফলে হজমক্রিয়া ক্রমশ স্বাভাবিক হবে। তাতে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা যাবে দ্রুত। না হয় পুষ্টির খোঁজে একগাদা খাবার একসঙ্গে খেয়ে ফেললে পুষ্টি হোক আর না হোক, হজমের গোলমাল দেখা দিতে পারে। তাতে কাজের কাজ কিছুই হবে না। হিতে বিপরীত হবে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই সময় ভিটামিন সি বা সাইট্রাস-যুক্ত ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই। আমরা তা খাচ্ছিও, এই সময়টায় এই ধরনের ফল খাওয় জরুরি । তবে পরিপাক ক্রিয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের ফলও অতিরিক্ত না খাওয়াই ভাল। বেশি ফল খেলে রাতারাতি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা বেড়ে যাবে, তা তো নয়। তাই এগুলোও খেতে হবে মাত্রা রেখে। মনে রাখতে হবে, দুর্বলতা কাটানোর জন্য তাড়াহুড়োয় একাধিক জিনিস খাওয়া বা বেশি পরিমাণে খাওয়ায় ক্ষতিই হতে পারে। ধীরে ধীরে শরীরকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে, এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
আবার দুর্বলতার কারণে অনেকেই ব্যায়াম করছেন না। করোনা থেকে সেরে ওঠার পর খুব ভারী ব্যয়াম না হলেও হালকা ব্যায়াম করা কিন্তু খুব জরুরি। যোগ ও প্রাণায়াম এই সময় ভীষণ উপকারী। শরীরের পাশাপাশি কোভিড আমাদের মনের উপরও প্রভাব ফেলে। তাই করোনামুক্ত হলেও মনের যত্ন নিতে হবে। তার জন্য দরকার পর্যাপ্ত ঘুম ও মেডিটেশন। ওমিক্রনের সরাসরি প্রভাব দিন সাতেকের চেষ্টায় কাটিয়ে ওঠা গেলেও, করোনা সেরে যাবার পর কিন্তু আরও একটু মনযোগ দিতে হবে শরীরের প্রতি। নইলে শরীরে লং কোভিড বাসা বাঁধার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই ধীরে ধীরে শরীরের অস্বাভাবিতা কাটিয়ে উঠতে করোনামুক্তির পরেও আরও কিছুদিন এই নিয়মগুলো মেনে চলাই ভাল। সপ্লিমেন্ট বা নানারকম এনার্জিবর্ধকের দিকে বেশি না ঝুঁকে শরীরকে স্বাভাবিক করতে তিনটি জিনিসের উপরই জোর দেয়া দরকারি- পরিমিত খাওয়া-দাওয়া, হলাকা ব্যায়াম আর পর্যাপ্ত ঘুম বা মনকে শান্ত রাখা। ব্য়স , এতেই ক্রমে চাঙ্গা হয়ে উঠবেন আপনি।
রোগ থেকে সেরে ওঠার জন্য ওষুধ যেমন দরকার, তেমনই দরকার পথ্য। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় যত্ন আত্তি। কিন্তু মারণ ভাইরাস করোনা সেই পথেই কাঁটা তুলেছে। এ রোগ থেকে আত্মরক্ষার প্রথম শর্তই হল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। তাই রোগ চিহ্নিত হলেই রোগীকে যেতে হচ্ছে আইসোলেশনে। এদিকে খাবার কিংবা ওষুধ দেয়ার প্রয়োজনে কাউকে না কাউকে তাঁর কাছে যেতে হতেই পারে। আর সেই সুযোগে ভাইরাস কিন্তু থাবা বসাতে পারে সেই মানুষটির শরীরেও। তাই প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা। কীভাবে তা সম্ভব?
প্রথমত, রোগীর পরিচর্যা করলেও যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করুন। তাঁর ব্যবহার করা কোনও জিনিস, যেমন থালাবাসন বা তোয়ালে, রুমাল ইত্যাদি অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না। কেবল মানুষে মানুষে নয়, এই সময় ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মধ্যেও সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মেনে চলা জরুরি। রোগী যা কিছু ডিসপোজেবল জিনিস ব্যবহার করছেন, যেমন ওষুধের ফয়েল, সিরিঞ্জ, টিস্যু, মাস্ক, এ ছাড়া জলের বোতল, খাবারের উচ্ছিষ্ট, সেগুলি পরিষ্কার করার সময়েও অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করুন। গ্লাভস পরে জড়ো করুন সবকিছু, এবং প্যাকেটে ভরে নির্দিষ্ট জায়গাতেই ফেলুন, যাতে তার থেকে সংক্রমণ না ছড়াতে পারে। এই কাজটি করার সময় মাস্ক পরতে ভুলবেন না।
দ্বিতীয়ত, করোনা ভাইরাসকে রুখতে মাস্কের বিকল্প যে নেই, সে কথা এতদিনে সকলেরই জানা। রোগীর পরিচর্যার দায়িত্বে যিনি রয়েছেন তাঁকে সব সময় ত্রিস্তরীয় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। তবে যে কোনও মাস্ক নয়, বেছে নিন সঠিক মাস্ক। একটি ডিসপোজেবল মাস্ক রোজ পরে থাকবেন না। মাস্ক মাটিতে পড়ে গেলে বা কোনও কারণে নোংরা হয়ে গেলে অবশ্যই সেটি পালটে নিন। মাস্ক পরে থাকার সময়ে তার বাইরের দিকে বারবার হাত দেবেন না। আর মাস্ক পরার আগে এবং খোলার পর অবশ্যই হাত ভাল করে স্যানিটাইজ করে নিন।
রোগীর পরিচর্যা করতে গেলে মাস্ক ছাড়া যে জিনিসটি সর্বক্ষণের সঙ্গী, তা হল স্যানিটাইজার। রোগী বা তাঁর ব্যবহৃত যে কোনও জিনিস ধরার পর হাত স্যানিটাইজ করতে হবে। হাত ধোয়ার পর একই রুমাল বা তোয়ালে দিয়ে বারবার হাত মোছার বদলে ডিসপোজেবল টিস্যু ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভাল।
রোগকে অতিরিক্ত ভয় পাওয়া যেমন ভাল নয়, তেমনই হেলাফেলা করারও প্রশ্ন নেই। অতএব সবরকম সতর্কতা অবলম্বন করেই এই বিপদের মোকাবিলা করা জরুরি। বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে।
মামলাজট কমাতে যা যা দরকার সরকার করবে: আইনমন্ত্রী
দেশের আদালতে মামলাজট কমাতে যা যা প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার তাই করবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
তিনি বলেন, ‘আদালতের মামলার জট কমাতে পৃথিবীতে যেসব পদ্ধতি আছে, যা যা অনুসরণ করা প্রয়োজন, আমরা তাই করবো।’
রোববার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সহকারী জজ ও সমপর্যায়ের বিচারকদের ৪৩ ও ৪৪তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি যখনই মনে করবেন তখনই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেবেন বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, বিচারকরা হলেন বিচার বিভাগের প্রধান চালিকাশক্তি। তাই তাদের দক্ষতা উন্নয়নে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে আজ এই ইনস্টিটিউটে একই সঙ্গে দুটি ব্যাচের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে ৭০ জন অংশ নিতে পেরেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে এটা সম্ভব হয়েছে। এর আগে অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচার বিভাগের জন্য জেলায় জেলায় সুউচ্চ অবকাঠামো নির্মাণ করছে; বিচারকদের দেশিয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান ও ভারতে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে; নজিরবিহীনভাবে বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে। গাড়ি সুবিধা প্রদান করেছে। এসব কিছু করার উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে সময়মত ন্যায়বিচার প্রদান করা ও জনগণের প্রত্যাশা মিটানো। তিনি বলেন, মামলাজট কমানো এখন বিচারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষুণি এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে ভবিষ্যতে তা আরও জটিল হয়ে দাঁড়াবে। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বক্তৃতা করেন।
শপথ নিলেন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতি
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সদ্য নিয়োগ পাওয়া চার বিচারপতির মধ্যে শপথ নিলেন তিন বিচারপতি। রোববার বেলা পৌনে ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর। শপথ নেয়া তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ। অপর বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি শপথ নিতে পারেননি। এর আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চার বিচারপতি নিয়োগ দেন। রোববার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।
ডিজিটাল যুগে ভূমি মন্ত্রণালয়: ঘরে বসেই মিলবে পর্চা, ম্যাপ, ভূমিকর পরিশোধের সুবিধা
পুরোপুরি ডিজিটাল সেবা নিয়ে মাঠে নেমেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। বাসায় বসে মোবাইল অ্যাপ কিংবা ওয়েব প্ল্যাটফর্মে দৈনন্দিন ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, বই কিংবা খাবারের অর্ডার দেয়া থেকেও জমির খতিয়ান (পর্চা) কিংবা ম্যাপ পাওয়া এখন অনেকটাই সহজ।
সেজন্য জমির খতিয়ান কিংবা ম্যাপ পেতে মোবাইল অ্যাপ কিংবা ওয়েব প্ল্যাটফর্মে ঢুকেও আবেদন করতে হবেনা, ডিজিটাল সার্ভিস গ্রহণে স্মার্ট ফোন থাকার বাধ্যবাধকতাও আর থাকছে না।
যেকোনো ফোন থেকে শুধু ১৬১২২ নম্বরে ফোন করলেই হবে। ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে ভূমিসেবা হটলাইন অপারেটরই গ্রাহকের হয়ে বাকি কাজ করে দেবেন।
চার মিনিটেই খতিয়ান কিংবা মৌজা ম্যাপের আবেদন করা যাবে, দেয়া যাবে এসবের ফিও। একইভাবে ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করা যাবে।
ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেমন নগদ, রকেট, বিকাশ, উপায় এবং যেকোনো ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ফি দেয়া যাবে।
এছাড়াও ১৬১২২ নম্বরে ফোন করা ছাড়াও জমির মালিক নিজেই আবেদন করতে পারেন ল্যান্ড.গভ.বিডি ভূমিসেবা ওয়েব প্ল্যাটফর্মে গিয়ে, মোবাইলের ভূমিসেবা অ্যাপ দিয়ে কিংবা ইউডিসির সহায়তায়।
আবেদনকারী ১৬১২২ ফোন করে এনআইডি সহ জমির তথ্য প্রদান করার পর কল-সেন্টার আবেদনকারীর পক্ষে খতিয়ান কিংবা জমির ম্যাপের আবেদন দাখিল করবে।
এরপর আবেদনকারী তাঁর মোবাইলে একটি টোকেন পাবেন। আবেদনকারী টোকেন নম্বরটি দিয়ে মোবাইলের মাধ্যমে ফি প্রদান করলে তিনি মোবাইলে আবেদনের আইডি ও ডেলিভারির তারিখ পাবেন।
নির্দিষ্ট তারিখে বাংলাদেশ ডাকবিভাগের প্রতিনিধি আবেদনকারীর ঠিকানায় খতিয়ান তথা পর্চা কিংবা জমির ম্যাপ পৌঁছে দিবে।
এছাড়াও ভার্চুয়াল রেকর্ড রুম থেকে যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে যে কোনো নাগরিক খতিয়ান (পর্চা) দেখতে পারবেন। সার্টিফাইড কপি কাউন্টার থেকে ডেলিভারির জন্য কোর্ট ফি ৫০ টাকা। ডাকযোগে নিজ ঠিকানায় খতিয়ান ডেলিভারির জন্য অতিরিক্ত ৪০টাকা প্রদান করতে হবে।
সেভেন মার্ডারের ফাঁসীর আসামী নূর হোসেনের কনডেম সেল থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলায় ফাঁসীর দণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেনের কারাগারের কনডেম সেলের ভেতর থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর কনডেম সেলে বসেই মোবাইল ফোন চালাতেন আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলার ফাঁসির আসামি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন। গত বুধবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর কনডেম সেল থেকে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে কারা কর্তৃপক্ষ।
শনিবার সকালে বিষয়টি জানিয়েছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেল সুপার আব্দুল জলিল। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
জেল সুপার জানান, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে নূর হোসেনসহ তিনজন বন্দী রয়েছেন। নূর হোসেন কনডেম সেলে বসে গোপনে মোবাইলফোন ব্যবহার করছেন বলে আমারা জানতে পারি। পরে তার কনডেম সেলে ৫ জানুয়ারি অভিযান চালানো হয়। এ সময় কনডেম সেল থেকে একটি মিনি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সেভেন মার্ডার মামলায় নূর হোসেন ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
জেল সুপার আরও জানান, কারাগারে মোবাইল ব্যবহারের অপরাধে তার বিরুদ্ধে কারাবিধি আইনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। কীভাবে কারাগারের ভেতর মোবাইল আনা হয়েছে তা বের হয়ে আসবে তদন্তে। কারাগারের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, কারারক্ষীদের হাত করেই কারাগারের ভেতর মাবাইল ফোনসহ মাদকদ্রব্য নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কনেডেম সেলের ভেতর মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া কথা বলা এক নজিরবিহিন ঘটনা।
রাজাকারের বাচ্চারা দেশের স্বাধীনতা নষ্টের চেষ্টায় লিপ্ত : আইনমন্ত্রী
‘যে রাজাকারের বাচ্চারা দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে, তাদেরকে আখাউড়া কেন- বাংলাদেশে থাকতে দেয়া হবে না।’
শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নে অসহায়, দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণকালে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ।
আইনমন্ত্রী নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ৭০০ অসহায়, দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
আনিসুল হক বলেন, রাজাকারের বাচ্চারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা নষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তাদেরকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় না দিয়ে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আমরা স্বাধীন বাংলার নাগরিক। আমরা স্বাধীন বাংলাকে ২০৪১ সালের মধ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।
তিনি আরও বলেন, আমরা আগে ছিলাম গরিব দেশ। এখন মধ্যম আয়ের দেশ ও একটা উন্নয়নশীল দেশ হয়েছি। এর পরে আমরা বাংলাদেশকে ইনশাআল্লাহ, উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।
ধরখার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুল হক বাছিরের সভাপতিত্বে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শাফিকুল ইসলাম শাফিকের সঞ্চালনায় শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও যুবলীগের আহ্বায়ক তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভুঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম ভুঁইয়া, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুরাদ হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাব উদ্দিন বেগ শাপলু।











