ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ১:০৫ 

Home Blog Page 45

ওমিক্রন ঠেকাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা, মানতে হবে সকলকে

0

করোনার নতুন ধরন আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বব্যাপী সতর্ক অবস্থা চলছে। বাংলাদেশেও এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ঠেকাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশব্যাপী ১৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হচ্ছে: :
১.ওমিক্রন আক্রান্ত দেশ হতে আগত যাত্রীদের বন্দরসমূহে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে।

২. সকল ধরনের (সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয়/অন্যান্য) জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে।

৩.প্রয়োজনে বাইরে গেলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে বাড়ির বাইরে সর্বদা সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

৪.রেস্তোরাঁতে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম করতে হবে।

৫.সকল প্রকার জনসমাবেশ, পর্যটন স্থান, বিনোদন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমা হল/থিয়েটার হল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে (বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি) ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম সংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে।
৬. মসজিদসহ সকল উপাসনালয়ে মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

৭. গণপরিবহণে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

৮. আক্রান্ত দেশসমূহ হতে আগত যাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।

৯. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (সকল মাদ্রাসা, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়) ও কোচিং সেন্টারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

১০.সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সেবা গ্রহীতা, সেবাপ্রদানকারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বদা সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

১১.যারা এখনো কোভিড-১৯ এর টিকা গ্রহণ করেননি টিকাকেন্দ্র গিয়ে তাদেরকে কোভিড-১৯ এর ১ম ও ২য় ডোজ নিতে হবে।

১২. করোনা উপসর্গ/লক্ষণযুক্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত করোনা রোগীর আইসোলেশন ও করোনা পজিটিভ রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা অন্যদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. কোভিড-১৯ এর লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা এবং তার নমুনা পরীক্ষার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে সহায়তা করা যেতে পারে।

১৪. অফিস প্রবেশ এবং অবস্থানকালীন সময়ে বাধ্যতামূলকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

১৫. টিকা নেয়া থাকলেও বাহিরে বের হলে অবশ্য মাস্ক পরিধান করতে হবে।

১৬. কোভিড-১৯ রোগ নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাস করার নিমিত্তে কমিউনিটি পর্যায়ে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সচেতনতা তৈরির জন্য মাইকিং ও প্রচারণা চালানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মসজিদ/ মন্দির/ গির্জা/প্যাগোডা এর মাইক ব্যবহার করা যেতে পারে এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর/ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
নির্দেশনাসমূহ দেশব্যাপী কঠোরভাবে পালনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ।

উদ্বেগের সঙ্গে বাড়ছে ওমিক্রন: ইমিউনিটি বাড়াতে সহজ ও জরুরি টিপস বিশেষজ্ঞদের

0

চিকিত্‍সকদের পরামর্শ অনুযায়ী এই নয়া সংক্রামকের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার জন্য প্রত্যেককেই ইমিউনিটি বাড়ানোর সহজ ও জরুরি পদ্ধতিগুলো মেনে চলতে হবে। তবেই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব।
বছর ঘুরতে না ঘুরতে ফের চাঙ্গা হতে শুরু করেছে এই মারণ রোগ। প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ সামলে নেয়ার পর প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড ১৯ -এর নয়া ভেরিয়েন্ট। ওমিক্রন। চিকিত্‍সকদের পরামর্শ অনুযায়ী এই নয়া সংক্রামকের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার জন্য প্রত্যেককেই ইমিউনিটি বাড়ানোর সহজ ও জরুরি পদ্ধতিগুলো মেনে চলতে হবে। তবেই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব। সঠিক খাদ্য, ব্যায়াম, ঘুম এবং আরও সক্রিয় জীবনধারার মাধ্যমে কার্যকরভাবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমাদের শরীরকে প্রস্তুত করার সময় এসেছে। আমাদের ইমিউন আর্মির টি-কোষগুলি ভাইরাস-সংক্রমিত কোষগুলিকে লক্ষ্যবস্তুতে এবং ধ্বংস করতে একটি বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করে । আমাদের গোটা দেহের সুরক্ষা প্রদান করে। কোভিড-১৯-এর নতুন স্ট্রেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেইসব টিপসের ভূমিকা অ্যান্টিবডির চেয়ে বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত।
ভিটামিন ডি এর চাবিকাঠি
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে ভিটামিন ডি ইমিউন ফাংশন, প্রতিরোধ এবং পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যাবশ্যক। পর্যাপ্ত সূর্যালোক থেকে সরাসরি দেহে ভিটামিন ডি সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়া ভিটামিন ডি-যুক্ত খাবার ও শাক-সবজি, ফল খেয়ে শরীরে প্রবেশ করানো যেতে পারে। আর তারফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃ্দ্ধি পায়।
পর্যাপ্ত ঘুমের শক্তি
একটি ভাল ঘুমের শক্তিকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। যার মাধ্যমে শরীর এবং মনকে অন্য কিছুর মতো পুনরুদ্ধার এবং পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন,নিদ্রাহীনতা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, প্রদাহ বাড়ায় এবং আক্ষরিক অর্থে সংক্রমণ, ভাইরাস ইত্যাদিকে আমন্ত্রণ জানায়।
পরিমিত ব্যায়াম করুন, সক্রিয় থাকুন, ভাল খান
নিয়মিত ব্যায়াম করা, ঘোরাফেরা করা এবং সক্রিয় থাকা হল অনাক্রম্যতা উচ্চ রাখার জন্য খুব সহজ কিন্তু খুব কার্যকর উপায়। এছাড়া রসুন, আদা, গরম মশলা, হলুদ, কাঁচা মধু, তুলসি, রঙিন বেল পিপার, আমলা- সহ ভাল স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার এবং জিঙ্ক-সমৃদ্ধ খাবারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম
শান্ত থাকা এবং মানসিক চাপ আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য বিস্ময়কর কাজ করতে পারে।এটি অর্জনের সর্বোত্তম উপায় হল কিছু মৌলিক প্রাণায়াম ব্যায়াম করা। শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনার কোষকে অক্সিজেন যোগান দিতে সাহায্য করে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করে।
শরীরকে হাইড্রেট রাখুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কফি এবং চা নয়, প্রচুর পরিমাণে জল পান করা শরীরে জন্য একান্ত আবশ্যিক। পরিশোধিত চিনি, ময়দা, প্রক্রিয়াজাত এবং জাঙ্ক ফুড এবং বায়ুযুক্ত পানীয় এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিত্‍সক বিজ্ঞানীরা।
জীবনধারা পরিবর্তন করুন
সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করার জন্য অস্বাস্থ্যকর জীবনধারাগুলো পরিবর্তন করুন। তাতে বেশ কিছু মারণ রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে আপনার ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পরিচালনা করুন। মপান এবং জাঙ্ক ফুড খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে।

ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

0

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নতুন গবেষণা জাহাজ ইলিশ উৎপাদনে ব্যাপক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
মন্ত্রী মঙ্গলবার খুলনা শিপইয়ার্ডে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের জন্য শিপইয়ার্ড কর্তৃক নবনির্মিত ইলিশ গবেষণা জাহাজ হস্তান্তর উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। অতীতের চেয়ে এখন বেশি ইলিশ উৎপাদন হচ্ছে। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে ইলিশ যাতে কখনো বিপন্ন না হয়, সেজন্য আমাদের গবেষণা ইনস্টিটিউট রয়েছে, বিভিন্ন ল্যাবরেটরি রয়েছে। ইলিশ গবেষণার ক্ষেত্রে গবেষণা জাহাজ বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর খন্দকার আক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ। খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন, খুলনা নেভাল এরিয়া কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার, বিএফআরআই-এর ইলিশ গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের পরিচালক মো. আবুল বাশার এবং বিএফআরআই ও খুলনা শিপইয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, করোনার সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দরজা একদিনের জন্যও বন্ধ ছিল না। কারণ এ মন্ত্রণালয়ের কাজ স্থবির হয়ে গেলে মানুষের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা মেটানো মাছ, মাংস, দুধ, ডিমের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। এভাবে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে এসেছি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড এ গবেষণা জাহাজ নির্মাণ করেছে। ৮৬ ফুট দৈর্ঘের ও ১৯ দশমিক ৬৮ ফুট প্রস্থের এ জাহাজে ফিশ ফাইন্ডার, ইকো-সাউন্ডার, নেভিগেশন এবং অত্যাধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জামাদি, আধুনিক ইলিশ গবেষণা ল্যাবরেটরি, নেটিং সিস্টেম, পোর্টেবল মিনি হ্যাচারিসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। বাসস।

ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ: আইন প্রণয়নসহ ৫-দফা, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাবনা সাম্যবাদী দলের

0

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাথে সংলাপে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের লক্ষ্যে আইন প্রণয়নসহ পাঁচ-দফা প্রস্তাবনা বামপন্থী সংগঠন বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে রাষ্ট্রপতির চলমান সংলাপের নবম দিনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শাসনতন্ত্র মোতাবেক একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠনেরও প্রস্তাব দেন এই দলটির নেতারা।
সংলাপের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনের দরবার হলে আলোচনায় বসেন।
সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, একটি নিরপেক্ষ, সক্ষম, শক্তিশালী, দক্ষ ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি স্থায়ী আইন প্রণয়নসহ পাঁচ-দফা প্রস্তাবনা দেন রাষ্ট্রপতির কাছে। তারা আইনের অনুপস্থিতিতে সার্চ কমিটি গঠন করতে হলে সাংবিধানিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করেন।
তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
নেতৃবৃন্দকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন যাতে গঠন করা যায় সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সুচিন্তিত মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে তাদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও রাজনীতিতে সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, আর এ কাজটি রাজনৈতিক দলগুলোকেই করতে হবে।
এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
গত ২০ ডিসেম্বর সংলাপের প্রথম দিনে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাথে আলোচনায় বসেন রাষ্ট্রপতি হামিদ। এখন পর্যন্ত মোট ১৩ টি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টা হবে জাতীয় পার্টি (জেপি) এর সাথে সংলাপ এবং সন্ধ্যা সাতটায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সাথে।
৬ জানুয়ারি গণফ্রন্টের সাথে সন্ধ্যা ছয়টায় এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পাটির্র (এলডিপি) সাথে সন্ধ্যা সাতটায় সংলাপের কথা রয়েছে।
এদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাথে আলোচনা হবে ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) এর সঙ্গে ওই দিন সন্ধ্যা সাতটায়।
১০ জানুয়ারি রোজ সোমবার সংলাপ হবে জাতীয় পার্টি (জেপি) এর সাথে সন্ধ্যা ছয়টায় এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সাথে সন্ধ্যা সাতটায়।
মঙ্গলবার ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় সংলাপ হবে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের সাথে এবং ঐদিন সন্ধ্যা সাতটায় বৈঠক হবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) এর সাথে।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এর আগে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতিকে সিইসি এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। গত কয়েকটি মেয়াদে রাষ্ট্রপতি ‘সার্চ কমিটি’র সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন।
বর্তমান ইসির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠন করবেন, যাদের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।বাসস।

কক্সবাজারে পর্যটক নারী ধর্ষণ; সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আইনশৃংখলা বাহিনীর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য কাম্য নয়, বললো হাই কোর্ট

0

কোনো মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার ভিন্ন ভিন্ন বিবৃতি বা বক্তব্য দেয়ার প্রবণতাকে ‘দুঃখজনক’ বলেছে উচ্চ আদালত।
কক্সবাজারে পর্যটক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিট আবেদনের শুনানির এক পর্যায়ে মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ থেকে।
শুনানিতে রিট আবেদনকারী আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূইয়া রাসেল বলেন, কক্সবাজারের ঘটনায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও র‍্যাবের বক্তব্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তাদের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য এসেছে। এ নিয়ে এক ধরনের অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।
“তাছাড়া এ ধরনের স্ববিরোধী বিবৃতি-বক্তব্যের কারণে তদন্তের গ্রহণযোগ্যতাও থাকবে না। সাধারণ মানুষ তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই তারা যে বক্তব্য বা বিবৃতি দিচ্ছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে তারা কী চাচ্ছে।
“মনে হচ্ছে, তারা পণ করে নেমেছে ভুক্তভোগী নারীর চরিত্র তাদের মতো করে প্রতিষ্ঠিত করবে। ফলে তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। এ জন্য গত ২২ ডিসেম্বরের ঘটনার বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশনা চাচ্ছি।”
তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক ইনায়েতুর রহিম বলেন, “একটা অনুসন্ধান চলছে। এর মধ্যে কি আমরা আরেকটা অনুসন্ধানের আদেশ দেব?
“তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার ভিন্ন ভিন্ন বিবৃতি বা বক্তব্য বক্তব্য কাম্য নয়, এটি দুঃখজনক। ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য আসলে পরবর্তীতে সত্য ঘটনা উদঘাটন হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা রকম ধারণা তৈরি হয়।”
বিচারক আরও বলেন, “মিডিয়া তথ্য খুঁজবেই তাই মিডিয়াকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। গ্রেপ্তার-মামলা কিংবা তদন্তের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি এজেন্সি আরেকটি এজেন্সিকে সহযোগিতা করতে পারে। আর তদন্ত চলাকালে তদন্ত কর্মকর্তাদের কথা কম বলাই ভালো।”
এরপর আদালত শুনানি মুলতবি (স্ট্যান্ডওভার) রেখে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমারাকে নির্দেশ দেন, কোনো একটি ঘটনা বা মামলার তদন্ত চলাকালে কে কতটুকু কথা বলবে বা বলতে পারবে, এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলতে।
একই সঙ্গে আদালত রিট আবেদনকারী আইনজীবীকে বলেন, কোনো একটি ঘটনার ‘বিচারিক অনুসন্ধান’ চাওয়ার বিধান কোন আইনে আছে, পরবর্তী শুনানির দিন সে বিষয়ে জেনে আসতে।
আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূইয়া রাসেলের সঙ্গে আদালতে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী রাশিদা চৌধুরী নিলু। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
শুনানির বিষয়ে আইনজীবী রাসেল বলেন, “আদালত শুনানি মুলতবি রেখেছেন এবং তদন্ত কমিশন অ্যাক্টসহ কোন আইনে বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশনা দেয়া যায়, তা জেনে আসতে বলেছেন। আর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথা বলতে বলেছেন।
“শুনানির সময় আদালত বলেছেন, তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন সংস্থার ভিন্ন ভিন্ন বিবৃতি কাম্য নয়। তদন্ত চলাকালে বক্তব্য-বিবৃতি নিয়ে হাই কোর্টের একটি রায় আছে, সেটার বাস্তবায়ন ও নীতিমালা নিয়ে কথা বলেছেন।”
কক্সবাজারে স্বামী ও সন্তানকে আটকে রেখে এক পর্যটককে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগের বিচারিক অনুসন্ধান চেয়ে সোমবার হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী রাসেল।
জেলা ও দায়রা জজ অথবা মুখ্য বিচারিক হাকিমের নেতৃত্বে এ ধর্ষণকাণ্ডের বিচারিক অনুসন্ধান করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি রুল চাওয়া হয় রিট আবেদনে।
এ ধর্ষণকাণ্ডে জড়িত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, জানতে রুল চাওয়া
২৫ বছর বয়সী ওই নারীর অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র গত ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে তাকে তুলে নেয়। তার স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে ‘কয়েক দফা ধর্ষণ করে’ তিনজন।
পরে খবর পেয়ে জিয়া গেস্ট ইন নামের এক হোটেল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে র‌্যাব। পরদিন ওই নারীর স্বামী চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেন।
মামলার প্রধান আসামি আশিকুল ইসলাম আশিক, ২ নম্বর আসামি ইসরাফিল হুদা জয়সহ এজাহারভুক্ত চার আসামি এবং সন্দেহভাজন হিসেবে আরও তিনজনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে আইনশঙ্খলা বাহিনী।
আশিককে ২৬ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করে র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, চাঁদা ‘না দেওয়ার’ কারণে কক্সবাজারে ওই নারী পর্যটককে ধর্ষণ করার কথা এই যুবক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আশিকের সঙ্গে ওই নারীর আগে থেকেই পরিচয় ছিল, যদিও ওই নারী তা অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের সাড়া না পাওয়ার যে অভিযোগ ওই নারী করেছেন, তা অস্বীকার করে কক্সবাজার পর্যটন পুলিশের এসপি জিল্লুর রহমান বলেছেন, ওই অভিযোগ ‘সঠিক নয়’।
র‌্যাবের সহায়তায় উদ্ধার পাওয়ার পর কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হামীমুন তাজনীনের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন সেই নারী। কিন্তু পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ফিরে এসে তার স্বামী দাবি করেন, একটি উড়োচিঠি পেয়ে ভয়ে তিনি তার স্ত্রীকে আদালতে ‘মিথ্যা সাক্ষ্য’ দিতে বলেছিলেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র হুমকিতে: জরিপে তথ্য

0

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন যে দেশটিতে গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন হুমকির মধ্যে রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর চালানো এক জরিপে এ তথ্য ওঠে এসেছে।
রবিবার প্রকাশিত সিবিএস নিউজ এর জরিপটিতে অংশগ্রহণকারীদের ৬৬% শতাংশ বলেন যে গণতন্ত্র হয় কিছু মাত্রায় অথবা অতিমাত্রায় হুমকির মধ্যে রয়েছে। ৩৩% বলেছেন যে গণতন্ত্র নিরাপদ আছে।
গত বছরের ৬ জানুয়ারী যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে আক্রমণের বর্ষপূর্তির মাত্র কয়েকদিন আগে জরিপটি প্রকাশিত হল। সেই ঘটনার সময় আইন প্রণেতারা যখন ক্যাপিটলে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্বাচনী জয়টি প্রত্যয়ন করার জন্য সভায় বসেছিলেন তখন সেখানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা আক্রমণ চালায়।

জরিপে উত্তরদাতাদের মধ্যে ৮৩% জানান যে তারা ক্যাপিটলে জোরপূর্বক প্রবেশেকারীদের সমর্থন করেন না। বেশিরভাগই সেই ঘটনাটিতে জড়িতদের এমন কাজকে একটি বিদ্রোহ, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে উৎখাতের একটি প্রচেষ্টা, ট্রাম্পকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে নির্বাচনের ফলাফল বানচালের চেষ্টা, এবং একই সাথে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া একটি আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
দেশটি যখন এই বছর কংগ্রেসের মধ্যবর্তীকালীন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ৬৮% জানান যে তারা ৬ জানুয়ারীর আক্রমণটিকে দেশটিতে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্কেত বলে মনে করেন। ২০২৪ সালে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে জরিপে উত্তরদাতাদের ৬২% জানিয়েছেন যে তারা নির্বাচনে পরাজিত পক্ষ থেকে সহিংসতার আশঙ্কা করেন।
দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা জানান যে তারা বাইডেনকেই ২০২০ সালের নির্বাচনের বৈধ বিজয়ী মনে করেন। এই সংখ্যাটি শনিবারে প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট-ইউনিভার্সিটি অফ ম্যারিল্যান্ডের জরিপের ফলাফলের সাথে প্রায় মিলে যায়।
পোস্টের জরিপটিতে এটিও উঠে আসে যে ৪৫% উত্তরদাতা মনে করেন আক্রমণের ঘটনাটিতে ট্রাম্পের গুরুতর দায়ভার রয়েছে, অন্যদিকে ২৮% বলেন যে তার মোটেও কোন দায় ছিল না।
জরিপটিতে এটিও দেখা যায় যে দীর্ঘ মেয়াদে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে যারা বলছেন যে কখনও কখনও সরকারের বিরুদ্ধে নাগরিকদের উগ্র কর্মকান্ড যুক্তিযুক্ত। সর্বসাম্প্রতিক জরিপে এই বিষয়ের সাথে সম্মত উত্তরদাতার সংখ্যা ৩৪%, যা ২০১৫ তে ছিল ২৩% এবং ১৯৯৫ তে ছিল ১৩%। খবর ভয়েস অফ আমেরিকা।

কক্সবাজারে সংবদ্ধ ধর্ষণের বিচারিক অনুসন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট

0

কক্সবাজারে শিশু ও স্বামীকে আটকে রেখে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় বিচারিক অনুসন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া এ রিট করেন।
স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন সচিব, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
আবেদনে ওই ঘটনায় কক্সবাজার জেলা জজ বা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে বিচারিক অনুসন্ধান করার এবং দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ায় কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত ২২ ডিসেম্বর শহরের কবিতা চত্বর রোড সংলগ্ন এক ঝুপড়ি চায়ের দোকানে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে সেখান থেকে ওই নারীকে নিয়ে যাওয়া হয় জিয়া গেস্ট ইন নামের আবাসিক হোটেলে। দ্বিতীয় দফায় সেখানেও তিনি ধর্ষণের শিকার হন।
এ ঘটনায় ২৩ ডিসেম্বর চার জনের নাম উল্লেখ করে ও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর স্বামী। এ মামলায় এখন পর্যন্ত প্রধান আসামি আশিকুর রহমানসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভয়েস অফ আমেরিকা।

হামলার মুখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী রেহাম খান

0

বড়সড় হামলার মুখে পড়লেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী রেহাম খান। রবিবার রাতে অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে ফেরার সময় তাঁর গাড়িতে গুলি চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। এমনকী তাঁকে গানপয়েন্টে রেখেই গাড়িতে হামলা চলে বলে অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন সঞ্চালিকা। যদিও তাঁর কোনও ক্ষতি হয়নি। কোনওমতে অন্য একটি গাড়িতে চড়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এহেন হামলার জন্য রেহাম দায়ী করেছেন প্রাক্তন স্বামী তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা নিয়ে। সরকারকে ‘কাপুরুষ’ বলেও আক্রমণ শানিয়েছেন রেহাম খান।
ঘটনা রবিবার রাতের। নিজের আত্মীয়ের বিয়েতে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ বংশোদ্ভুত সঞ্চালিকা রেহাম খান। অভিযোগ, সেখান থেকে রাতে ফেরার সময় আচমকাই জনা দুই দুষ্কৃতী মোটরবাইকে এসে তাঁর গাড়ি থামায়। শুরু হয় ঝাঁকে ঝাঁকে গুলিবৃষ্টি। রেহাম নিজেই টুইট করে গোটা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁর টুইট, ”আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ও চালক ছিল গাড়িতে। বিপদ টের পেতেই ওরা আমায় অন্য একটি গাড়িতে নিয়ে যায়। তাই প্রাণে বেঁচে ফিরেছি।” এরপর তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ”এটাই কি ইমরানের নতুন পাকিস্তান? এই দেশ কাপুরুষ, ঠগ, লোভীদের!”
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে পাকিস্তানে। কে বা কারা রেহাম খানের গাড়িতে হামলা চালাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে খবর। তাতেই আরও ক্ষিপ্ত রেহাম। ইমরানকেই তিনি এর জন্য দায়ী করেছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, এটাই কি নতুন পাকিস্তান?
২০১৪ সালে ইমরান খানের সঙ্গে বিয়ে হয় ব্রিটিশ বংশোদ্ভুত সাংবাদিক ও টেলিভিশন সঞ্চালিকা রেহাম খানের। ২০১৫ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পাকিস্তানের নাম উঠে আসার পর রেহাম খান ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছিলেন, ইমরান খান নিজের আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে দেশের সেনাবাহিনীর ‘হাতের পুতুল’ হয়ে ক্ষমতার মসনদে বসেছেন। ইমরান-রেহামের এই মতান্তরের মাঝেই হামলার মুখে পড়লেন বছর আটচল্লিশের রেহাম খান। আর তাতেই পাক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ আছড়ে পড়ল তাঁর।

মামলাজট কমাতে ৮ বিভাগে বিচারপতির নেতৃত্বে মনিটরিং সেল হবে, দুর্নীতির বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ : প্রধান বিচারপতি

0

মামলাজট নিরসন এবং বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং গতিশীলতা আনতে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। দেশের আট বিভাগে হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারপতির নেতৃত্বে পৃথক আটটি সেল গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার (২ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যলয় কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক নম্বর বিচার কক্ষে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রতিমাসে মনিটরিং সেল থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করবো। পুরাতন মামলা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে নিষ্পত্তির বিষয়ে সুপারভাইস এবং মনিটরিং করা হবে।
সীমিত সম্পদ ও সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারিক সময় ও দক্ষতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রত্যেক বিচারককে মামলা নিষ্পত্তির অভূতপূর্ব অভিযাত্রায় অগ্রসেনানী হওয়ার ইতিবাচক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বিচার বিভাগের জন্য মামলাজট সুখকর নয় উল্লেখ করে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি মামলাজট থেকে মুক্ত হওয়ার যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন কঠোর পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীর প্রতি সমবেদনা ও ভালোবাসা দিয়ে অধিক পরিমাণ মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হই। এটি হবে বিচার বিভাগের জন্য মামলাজট থেকে মুক্তির যুদ্ধ।
হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ন্যায়বিচার জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া জনগণের প্রতি দয়া নয় বরং এটি জনগণের সহজাত অধিকার। এই অধিকারকে কেবল সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে সাব্যস্ত করতে আমি রাজি নই। ন্যাবিচারের সৌকর্য এবং আইনের রাজকীয়তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন বটে। সে কারণে নিরপেক্ষতার সাথে, নির্মোহ হয়ে, নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সহজাত অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেশের সকল বিচারকের।
নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং সুপ্রিমকোর্ট বারের সম্পাদক মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, “প্রায় ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে মাত্র ১ হাজার ৯০০ জন বিচারকের কাঁধে যে বিপুল পরিমাণ মামলা অনিষ্পন্ন অবস্হায় রয়েছে, তা বিচার বিভাগের জন্য কোনোভাবেই সুখকর নয়।”
সেই মামলা জট নিরসনের উপর জোর দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমার দায়িত্বভার গ্রহণের সূচনালগ্নে সকল স্তরের বিজ্ঞ বিচারকদের আহ্বান জানাব, আসুন কঠোর পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার মাধ্যমে বিচার প্রার্থীর প্রতি সমবেদনা ও ভালোবাসা দিয়ে অধিক পরিমাণ মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হই।”
“এটি হবে বিচার বিভাগের জন্য মামলার জট থেকে মুক্তির যুদ্ধ,” ঘোষণা দিয়ে মামলা জট নিরসনে নিজের কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি ।
তিনি বলেন, অধস্তন আদালতে মামলা জট নিরসনে আটটি বিভাগের জন্য হাই কোর্ট বিচাগের একজন করে বিচারপতিকে প্রধান করে আটটি মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। তিনি প্রতি মাসে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রতিবেদন নেবেন। পুরনো মামলাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিষ্পত্তির বিষয়ে তদারক করবেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “যে জাতি তার ৩০ লক্ষ সন্তানের রক্তের বিনিময়ে এবং কোটি কোটি মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশার মধ্য দিয়ে এবং অসীম সাহসিকতার সাথে জীবনকে বাজি রেখে পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করতে পারে, সে জাতি বিচার বিভাগের সমস্যার সমাধান করতে পারবে না, এটা আমার কখনই বিশ্বাস হয় না। আমি বরাবর আশাবাদী একজন মানুষ।”
বিচার বিভাগের ‘গঠনমূলক’ সমালোচনাকে গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিচারপতি হাসান ফয়েজ বলেন, “সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকার কোনো অশুভ ব্যক্তি বা গোষ্ঠির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা কখনই মেনে নেয়া হবে না।
“আমি উদার চিত্তে বিচার বিভাগকে নিয়ে আইনের কাঠামোর মধ্যে যে কোনো গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। কবিগুরুর ভাষায় বলতে চাই, ‘নিন্দা করতে গেলে বাইরে থেকে করা যায়, কিন্তু বিচার করতে গেলে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়’। আপনারা যারা বিচার বিভাগের আলোচক ও সমালোচক বন্ধু রয়েছেন, তারা বিচার বিভাগের সমস্যা উপলব্ধি করবেন, নিঃসংকোচে আলোচনা বা সমালোচনা করবেন রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর কল্যাণকামিতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে।”
রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ আইন সভা, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের সমন্বিত কাজের উপরও জোর দেন প্রধান বিচারপতি।
“রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের একটি অঙ্গ যদি দুর্বল বা সমস্যাগ্রস্ত হয়, তাহলে রাষ্ট্রটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হতে পারে না। সে কারণে আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রের অপর দুটি বিভাগ তাদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে বিচার বিভাগের সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রের সকল বিভাগ ও ব্যক্তিকে অবশ্যই বারবার স্মরণ করতে হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক সভ্যতা পরাজিত হবে।”
আপিল বিভাগের ১ নম্বর বিচার কক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়। রীতি অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতিকে আইন প্রণয়নের দাবি গণফোরামের, বিকল্পধারার তিন প্রস্তাবনা

0

একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে চলমান সংলাপের সপ্তম দিনে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদকে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি গণফোরামের এবং সার্চ কমিটিতে তিনজনের নামের প্রস্তাবনা দিয়েছে বিকল্প ধারা বাংলাদেশ।
রোববার সন্ধ্যায় গণফোরামের কার্যকারী সভাপতি মুকাব্বির খান এমপি নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এবং বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুল মান্নান, এমপি, এর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পৃথক পৃথকভাবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনের দরবার হলে আলোচনায় অংশ নেন।
সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, গণফোরাম নেতৃবৃন্দ সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আইন প্রনয়ণসহ কয়েক দফা প্রস্তাবনা দেন।
গণফোরাম নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য দরকার স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন। তারা আশা প্রকাশ করেন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন ফলপ্রসূ হবে ।
ইসি গঠনে আইন প্রণয়ন এখন একটি গণদাবি উল্লেখ করে গণফোরামের প্রতিনিধি দল বলেন, তারা বিশ্বাস করেন যে, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সরকার নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়ন করবে। তারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব দেন।
পরে সন্ধ্যা সাতটার সংলাপে বিকল্পধারার প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির কাছে আইন প্রণয়নসহ তিন দফা প্রস্তাব পেশ করেন। তারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রেরিত “অনুসন্ধান কমিটি”র কাছে দেয়া নামগুলো থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের নাম প্রস্তাবের সুপারিশ করেন ।

অনুসন্ধান কমিটিতে বিকল্পধারা দেশের তিন জন বিশিষ্ট নাগরিকের নাম সুপারিশ করেন। সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে সংলাপে অংশ নেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মুখপাত্র মাহি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, এমপি।
রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
নেতৃবৃন্দকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন যাতে গঠন করা যায় সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সুচিন্তিত মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য পরামর্শ গ্রহণের যথার্থতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনীতিবিদদের অনুকরণীয় কিছু করে যেতে হবে, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জন্য কিছু করে যেতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
গত ২০ ডিসেম্বর প্রথম দিনে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাথে সংলাপে বসে রাষ্ট্রপতি হামিদ।
এখন পর্যন্ত মোট ১০ টি রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
৩ জানুয়ারি সংলাপে যোগ দিবে গণতন্ত্রী পার্টি সন্ধ্যা ছয়টায়, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি সন্ধ্যা সাতটায় এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। তবে কমিউনিস্ট পার্টি সংলাপে যাবে না বলে জানিয়েছে।
৪ জানুয়ারি সংলাপ হবে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাথে সন্ধ্যা ছয়টায় ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সন্ধ্যা সাতটায়।
৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় হবে জাতীয় পার্টি (জেপি) এর সাথে সংলাপ এবং সন্ধ্যা সাতটায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সাথে।
৬ জানুয়ারি গণফ্রন্টের সাথে সন্ধ্যা ছয়টায় এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সাথে সন্ধ্যা সাতটায় সংলাপের কথা রয়েছে।
এদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাথে আলোচনা হবে ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) এর সঙ্গে ওই দিন সন্ধ্যা সাতটায়।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এর আগে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতিকে সিইসি এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। গত কয়েকটি মেয়াদে রাষ্ট্রপতি ‘সার্চ কমিটি’র সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন।
বর্তমান ইসির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠন করবেন, যাদের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।