ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩   দুপুর ২:৪৩ 

Home Blog Page 54

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন এবং হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ আইনের খসড়া হচ্ছে, চলতি সংসদেই পাস হবে,জানালেন আইনমন্ত্রী

0

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন আইন এবং হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ আইন দুটোরই খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। চলতি সংসদের আগামী দু অধিবেশনের মধ্যেই বিল দুটি তোলা হবে। সংসদে আলোচনার মাধ্যমে এ আইন পাস হবে। রোববার সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
সংসদে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) বিল-২০২১’ বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেয়ার সময় আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
খালেদা জিয়ার বাসাকে সাব জেল বানিয়ে সেখানে তাকে রাখা হয়েছে বিএনপির এমপিদের এমন বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া সরকারের কাস্টডিতে নেই। খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তিনি দুটো শর্তে সম্পূর্ণ মুক্ত। খালেদা জিয়া আমাদের কাস্টডিতে নেই। মুক্ত বলে তিনি মুক্তভাবে বাসায় থাকতে পারছেন। মুক্ত আছেন বলেই তিনি মুক্তভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন। রোববার জাতীয় সংসদে তিনি এ তথ্য জানান।
আনিসুল হক বলেন, আমি বলেছি একটা বিষয় সিদ্ধান্ত হলে সেখানে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। এটা চাইলে উনাকে আইন অনুযায়ী যেতে হবে। তারপর নতুন সিদ্ধান্ত হয়তো নেয়া যাবে। ৪০১ ধারার বিষয়ে বিএনপি থেকে যে ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে আমার তার সঙ্গে দ্বিমত আছে। আমি আমার অবস্থান থেকে নড়বো না।
‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) বিল-২০২১’ বিলটি বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেয়ার সময় বিএনপির হারুনুর রশীদ ও জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের কথা বলেন। চুন্নু ইসি গঠন আইনের পাশাপাশি উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগেও আইন করার দাবি করেন। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারক নিয়োগ আইন এবং ইসি গঠন আইন- দুটোরই খসড়া করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির হাতে। গেল এক দশকে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটির মাধ্যমে সর্বশেষ দুই নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিয়েছিলেন।
সাংবিধানিক এ সংস্থার সদস্যদের নিয়োগে আইন করার কথা থাকলেও স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে তা হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ আছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়োগ নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে সরকারকে।
৫ সদস্যের বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। সরকারের তরফ থেকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে, পূর্ববর্তী দুই কমিশনের মত আসন্ন নির্বাচন কমিশনও সার্চ কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি গঠন করবেন।
সম্প্রতি সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী সংসদে বলেন, তারা একটা আইনের ড্রাফট (নির্বাচন কমিশন গঠনে) করেছে, সেটা দিতে এসেছিলেন। উনারা বলেছিলেন এটাতে সবই আছে।
এটা অধ্যাদেশ আকারে করে দিলেও তো হয়ে যায়। তখন আমি স্পষ্ট বলেছি, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এই আইন সংসদে আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত আইনটি করা ঠিক হবে না। এতে আমি বোধ হয় সংসদ সদস্যদের সম্মান কমাইনি, বাড়িয়েছি।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি এটা নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। আমার পরিকল্পনা, এর (চলতি সংসদের) পরের অধিবেশন বা তার পরের অধিবেশনে আমরা এটা আলাপ করব। কিন্তু অন্যান্য আনুসাঙ্গিক কাজ তাড়াহুড়া করে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে করা যাবে না বলেই আমি বলেছি। সে জন্য আমি আশ্বস্ত করিনি। তবে দুটো আইনই আমরা করার চেষ্টা করছি।

জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ১শ কোটি টাকার মানহানি মামলা

0

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বরখাস্তকৃত মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ১শ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের হয়েছে। গাজীপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রোববার এই মামলা করেন গাজীপুর মহানগরের নলজানি এলাকার বাসিন্দা মো. আতিক মাহমুদ। (মামলা নং-সিআর ১২১০/২০২১)।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. নুর নবী সরদার জানান, আদালতের বিচারক রোববার মামলাটি আমলে নিয়ে গাজীপুর সদর থানা পুলিশকে তদন্ত করে আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়— গাজীপুর মহানগরের কানাইয়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র হলেও আইনের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন না। তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে কটূক্তি করেন যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। বাদী ক্ষুব্ধ হয়ে অপমান সহ্য করতে না পেরে সম্মানহানি হিসেবে ১শ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন।

মানব পাচার মামলায় কুয়েতে পাপুলের ৭ বছরের কারাদণ্ড

0

মানব পাচারের মামলায় কুয়েতে গ্রেফতার বাংলাদেশের সাবেক এমপি শহিদ ইসলাম পাপুলকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাকে ২৭ লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে গালফ নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি হাই প্রোফাইল মানব পাচার মামলায় পাপুলকে সাজা দিয়েছে কুয়েতের শীর্ষ আপিল আদালত। এ ছাড়া পাপুলের কাজে সহযোগিতা করায় কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাজেন আল জাররাহ, জনশক্তি পরিচালক হাসান আল খিদরকেও সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। কুয়েতের ওই সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষের মামলায় নিজ নিজ পদ থেকে বহিষ্কারেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কুয়েতের সাবেক এমপি সালাহ খুরশিদকেও সাত বছরের কারাদণ্ড এবং প্রায় সাড়ে সাত লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানা করা হয়েছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে অর্থ ও ঘুষের মামলায় পাপুলকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয় কুয়েতের আদালত। ওই সময় তাকে ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানা করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, একটি কোম্পানির মাধ্যমে অবৈধভাবে তিনি বাংলাদেশি শ্রমিকদের কুয়েত পাঠান। তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। গত বছরের ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পাচারের শিকার বাংলাদেশিদের অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়।
জানা যায়, সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানি পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেয়ার কাজ করলেও কুয়েতে অন্যান্য ব্যবসার কাজও করে।

খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস শনাক্ত

0

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসকরা। রোববার সন্ধ্যায় গুলশানে তার বাসভবন ফিরোজায় এক সংবাদ সম্মেলনে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা এ কথা জানান।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শরীরে তিনবার রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিষয়ে ‘হেল্পলেস’ বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. ফখরুদ্দীন জানান, এ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার তিনবার রক্তক্ষরণ হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়ার পর বর্তমানে তিনি স্ট্যাবল আছেন। তবে পুনরায় রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা আগামী ছয় সপ্তাহে ৬০ ভাগ।
শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে তার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। ফলে তিনি দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছেন। শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য দিয়ে জানান, পরিপাকতন্ত্রের চিকিৎসার প্রযুক্তি বাংলাদেশে নেই। তাকে বিদেশের হাসপাতালে নিতে হবে।
এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার প্রস্তুতি শুরু করেছেন তারা। পরিবারের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি হাসপাতালের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।

উচ্চ আদালতের বিচারকদের সুযোগ সুবিধা আরও বাড়ল, সংসদে বিল পাস

0

‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) বিল-২০২১’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (ভ্রমণ ভাতা) বিল-২০২১’ পৃথকভাবে সংসদে পাস হয়েছে।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বিলের ওপর দেয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তির পর বিল দুটি ভোটে দিলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
উচ্চ আদালতের বিচারকদের বেতন সংক্রান্ত সামরিক আমলের অধ্যাদেশ বাতিল করে বাংলায় নতুন আইন করতে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) বিল-২০২১’ পাস হয়।
১৯৭৮ সালের ‘সুপ্রিম কোর্ট জাজেস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অর্ডিন্যান্স’ বাতিল করে নতু্ন আইন করার জন্য বিলটি পাস হয়েছে।
সর্বশেষ ২০১৬ সালে বিচারকদের বেতন ও ভাতা বাড়ান হয়। বর্তমানে প্রধান বিচারপতি এক লাখ ১০ হাজার টাকা, আপিল বিভাগের বিচারক এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা এবং হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক ৯৫ হাজার বেতন পান।
এছাড়া বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বিশেষ ভাতা পান তারা, যা নতুন আইনেও বলবৎ থাকছে।
বিলে প্রধান বিচারপতির ‘নিয়ামক ভাতা’ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রধান বিচারপতি মাসে ১২ হাজার টাকা হারে এই ভাতা পান। নতুন আইনে তা ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
আপিল বিভাগ ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারকরা আগের মতই আট হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা নিয়ামক ভাতা পাবেন। আইনে উচ্চ আদালতের একজন বিচারক তার বাসায় একজন বাবুর্চির পরিবর্তে প্রতি মাসে ১৬ হাজার টাকা করে ‘কুক ভাতা’ পাবেন।
বর্তমান আইনে একজন বিচারক ‘ডমেস্টিক এইড’ ভাতা পান। নতুন আইনে সেটা রাখা হয়নি।
পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, বিচারকরা তাদের তাদের ইয়ারমার্কড, স্বতন্ত্র, একক বাসা, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে একজন করে নিরাপত্তা প্রহরী পদের সুবিধার পরিবর্তে প্রতিমাসে ১৬ হাজার টাকা সিকিউরিটি ভাতা প্রাপ্য হবেন।
‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (ভ্রমণ ভাতা) বিল’ এর ওপর সংশোধনী প্রম্তাব আনার সময় জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বিলটি সংশোধনী কমিটিতে না পাঠানোয় আপত্তি জানান।
তিনি বলেন, “আমি জানি না। বিচারকরা তাদের ভাতার জন্য এতই চাপ দিয়েছেন যে, কমিটিকে বাইপাস করা হল? এতে আইনের ব্যতয় হয়েছে।”
বর্তমানে উচ্চ আদালতের একজন বিচারক সুপ্রিম কোর্ট সদরদপ্তরের বাইরে দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক চারশ টাকা করে ভাতা পান। তা এক হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, কোনো বিচারক দায়িত্ব পালনে সদর দপ্তরের বাইরে থাকলে ছুটির দিনসহ দৈনিক ১৪০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন।
পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, সড়ক পথে ভ্রমণের জন্য একজন বিচারক প্রতি কিলোমিটারে তিন টাকা ৭৫ পয়সা হারে ভাতা পাবেন। বর্তমানে এই ভাতার হার প্রতি কিলোমিটার এক টাকা।
এছাড়া রেলপথ, নৌপথ ও আকাশপথে ভ্রমণের জন্যও বিভিন্ন হারে ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। যেক্ষেত্রে ভ্রমণের জন্য একাধিক যাত্রাপথ রয়েছে, সেক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত এবং স্বল্প ব্যয়ের ভ্রমণ ভাতা দাবি করতে হবে।
কোনো বিচারক ছুটিতে গেলে, ছুটি থেকে ফিরে এলে কিংবা বিদেশে ছুটি কাটিয়ে আবার দায়িত্বে যোগ দেয়ার জন্য ফিরলে, কিংবা অবসরের পর নিজের ঠিকানায় ফেরার সময় কী কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তাও বলা হয়েছে নতুন আইনে।
ট্রেনে, লঞ্চে, জাহাজে বা স্টিমারে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত’ দুই বার্থের প্রথম শ্রেণির একটি কম্পার্টমেন্ট বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচের একটি ক্যুপে কম্পার্টমেন্ট বা প্রথম শ্রেণির কেবিন পাবেন।
আকাশ পথে ভ্রমণ করলে সেই ভাড়া পাবেন।
একজন বিচারক তার দায়িত্বে যোগ দেয়ার সময় ভ্রমণের জন্য স্ত্রী বা স্বামী, সন্তান ছাড়াও তিনজন ব্যক্তিগত পরিচারকের জন্য সর্বনিম্ন হারে সড়ক, রেল বা স্টিমার ভাড়া পাবেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জাতির পিতার প্রতিকৃতি কেন নয়, জানতে চায় হাই কোর্ট

0

অবিলম্বে সব ধরনের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি যুক্ত করার পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সন্নিবেশের নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিটের শুনানি করে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রুল জারি করেন।  
রুলে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সন্নিবেশ করতে বিবাদীদের নিষ্ক্রীয়তা কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি’ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
জন প্রশাসন সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, আইন সচিব, পরিকল্পনা সচিব, মন্ত্রীপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রচার ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও  রংপুরের জেলা প্রশাসককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আতাউল্লাহ নুরুল কবীর নয়ন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
আইনজীবী আতাউল্লাহ নুরুল কবীর নয়ন জানান, সব ধরনের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সন্নিবেশ করতে বিবাদীদের বিভিন্ন সময় উকিল নোটিস পঠানো হয়।
কিন্তু তাদের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে এবং এ সংক্রান্ত দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় রিটটি করেন রংপুরের সদরের বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন মোফা।
রিট আবেদনে সব ধরনের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সন্নিবেশ করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। তিন দিন শুনানির পর রোববার আদালত রুল দিল।
রিট আবেদনে বলা হয়,  “স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক নাগরিকের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মর্যাদাকে আরও উন্নত স্তরে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু এখন পর্যন্ত নন জুডিশিয়াল  স্ট্যাম্পে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সন্নিবেশ করার কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নেয়া অসাংবিধানিক ও বেআইনি।
“সংবিধানের ৪(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতির দপ্তর বা কার্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংস্থা, দূতাবাস, কর্তৃপক্ষের কার্যালয় ও দপ্তরে জাতির পিতার প্রতিকৃতির প্রদর্শন ও সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে এ ধরনের নির্দেশনাও এসেছে। এমনকি জাতির পিতার প্রতিকৃতি দেশের মুদ্রাতেও সন্নিবেশিত রয়েছে। কিন্তু হতাশাজনক বিষয় হচ্ছে, নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এখন পর্যন্ত জাতির পিতার প্রতিকৃতি সন্নিবেশ করার কোনো পদক্ষেই নেয়া হয়নি।”
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৪২ ও ১৯৪৪ সালে ভারতের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তৎকালীন গভর্নরের প্রতিকৃতি সন্নিবেশ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিটে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

শিশু সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিচারাধিন মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

0

পারিবারিক আদালত অবমাননায় শাস্তির বিধান সংশোধন করে আরও কঠোর করতে বলেছেন হাইকোর্ট। এক্ষেত্রে সিভিল জেল ও পর্যাপ্ত জরিমানার বিধান প্রণয়ন সময়ের বাস্তবতা বলেও উল্লেখ করেছেন আদালত।
সন্তানের হেফাজত নিয়ে মায়ের দায়ের করা রিট খারিজ করে দেয়া হাইকোর্টের এক রায়ে এ কথা বলা হয়েছে। শনিবার (২৭ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৫ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন।
রায়ে যা বলা হয়েছে:
রায়ে আদালত বলেছেন, পারিবারিক আদালতসমূহের বিভিন্ন আদেশ, বিশেষত শিশু সন্তানকে দেখা-সাক্ষাতের আদেশ সংশ্লিষ্ট পক্ষ মান্য করছেন না। ফলশ্রুতিতে তারা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস অধিক্ষেত্রে এসে আশ্রয় গ্রহণ করছেন।
পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৮৫ এর ধারা ১৯ অনুযায়ী, পারিবারিক আদালতকে অবমাননা করা হলে অবমাননাকারীকে মাত্র ২০০ টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। সময়ের বাস্তবতায় পারিবারিক আদালত অবমাননায় শাস্তির এই বিধানটি সংশোধন করে আরও কঠোর বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে সিভিল জেল ও পর্যাপ্ত জরিমানার বিধান প্রণয়ন সময়ের বাস্তবতা। আদালত প্রত্যাশা করে সরকারের নীতি নির্ধারক মহল এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা করবেন।
একইসঙ্গে দেশের সকল পারিবারিক আদালতে শিশু সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে থাকা মামলাগুলো ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে আইন সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
রায়ে এ প্রসঙ্গে আদালত বলেন, হাইকোর্টের নজরে এসেছে, ২০১০ সালে থেকে ২০১৪ সাল এবং ২০১৮ সালের দাখিলকৃত মামলাসমূহ এখনো বিচারাধীন। শিশুদের অভিভাবক ও হেফাজত সম্পর্কিত মামলাগুলো এতো দীর্ঘ সময় ধরে চলমান থাকা হতাশাজনক ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়।
হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৯ অনুযায়ী, দেশের সব পারিবারিক আদালতকে শিশু সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত সম্পর্কিত মামলাগুলো যাতে ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মোতাহার হোসেন সাজু। অপরপক্ষে ছিলেন ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।
সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের পারিবারিক আদালতের জন্য এটা একটি যুগান্তকারী রায়। এই রায় বাস্তবায়ন হলে পারিবারিক আদালত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।
মামলার বিবরণ:
রংপুরের মেয়ে ও রাজশাহীর এক ছেলের ২০১১ সালে বিয়ে হয়। ২০১৫ সালে তাদের কন্যাশিশুর জন্ম হয়। ২০১৮ সালে ওই দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর শিশুটি তার বাবার কাছে ছিল।
এ অবস্থায় শিশুটিকে ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন শিশুটির মা। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। এর আগে শিশুটির মা পারিবারিক আদালতে একটি মামলা করেন।
রুলের শুনানি শেষে আদালত উপরোক্ত রায় দেন। পারিবারিক আদালতে শিশুটির মায়ের করা মামলাটি ৩১ মার্চের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন আদালত।

নির্বাচনী সহিংসতা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও জমির বিরোধে : সংসদে আইনমন্ত্রী

0

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতার বেশির ভাগই ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকার প্রশ্নের জবাবে শনিবার সংসদে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে এ মন্তব্য করেন। স্পিকার ড. শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে টেবিলে এটি উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশব্যাপী প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর কয়েকটি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতার খবর প্রচারিত হয়েছে। অনেক সময় ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নির্বাচনের সময় সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা চালানোর অপচেষ্টা চালায়। এ কারণেও নির্বাচনের সময় অনেক ধরনের সহিংসতার উদ্ভব হয়।’
সংসদে মন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নির্বাচন কমিশন চিঠি দিয়ে নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
“নির্বাচনী কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশ এ পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা কমিশনকে অবহিত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণলয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে।”

বিআরটিসির বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হাফ ভাড়া’ ১ ডিসেম্বর থেকে

0

সারাদেশে বিআরটিসির বাসে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামি ১ ডিসেম্বর থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে এই সিদ্বান্তে সম্মতি দিয়েছেন।
শুক্রবার ঢাকায় নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, “শেখ হাসিনা সরকার জনগণের সরকার, জনঘনিষ্ঠ এবং যৌক্তিক কোনো দাবিতে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।
“আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শিক্ষার্থীরা হাফ ভাড়ায় বিআরটিসি বাসে যাতায়াত করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এই সিদ্ধান্ত নিলেও ব্যক্তি মালিকানাধিন বাসের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বাসে অর্ধেক ভাড়া দিতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের অবশ্যই নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ‘বৈধ’ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে, সেখানে ছবিও থাকতে হবে।
সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিআরটিসি বাসে চলাচলে এ সুবিধা পাবে।
“তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির দিনে এ কনসেশন প্রযোজ্য হবে না। শিগগিরই এ বিষয়ে বিআরটিসি প্রজ্ঞাপন জারি করবে।”
ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ানোর পর পরিবহন মালিকদের চাপে সরকার বাসের ভাড়া ২৭ শতাংশ বাড়ায়। এর পর থেকেই বাসে অর্ধেক ভাড়া দেয়ার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার সড়কে সিটি করপোরেশনের গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর সেই আন্দোলন আরও গতি পায়।
সরকার বিআরটিসির বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হাফ’ ভাড়ার ব্যবস্থা করলেও রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানির বাসের সংখ্যা ঢাকার যাত্রীর তুলনায় নগন্য। ফলে বেসরকারি বাসেও একই নিয়ম চালু না হলে শিক্ষার্থীদর উপকার হবে না খুব একটা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বেসরকারি মালিকানাধীন বাস-মিনিবাসেও শিক্ষার্থীদের ‘কনসেশন’ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে শনিবার বিআরটিএতে বৈঠক হবে। পরিবহন মালিক এবং শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা সেখানে থাকবেন।
“আশা করি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংবেদনশীল থেকে পরিবহন মালিকরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।” বিডি নিউজ।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সংসদে প্রধানমন্ত্রী উত্থাপিত প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত

0

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আনীত প্রস্তাব সাধারণ বিধি ১৪৭ সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাব সাধারণ বিধি ১৪৭ এর আওতায় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আলোচনার এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি তাঁর প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন। এর আগে সংসদে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ভাষণ দেন।
প্রস্তাবটির ওপর গত দুই দিনে সরকারি ও বিরোধী দলের মোট ৫৯ জন সংসদ সদস্য ১০ঘন্টা ৪৫ মিনিট আলোচনা করেন। আলোচনার পর পরই স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা কন্ঠ ভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
সুবর্ণ জয়ন্তীর বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের যে ভিত্তি রচিত হয়েছে তাতে অচিরেই বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ আজ আর্থ-সামাজিকসহ সব খাতে অভূতপূর্ব উন্নতি অর্জন করেছে। এক সময়ের সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যার দেশ আজ ১৬ কোটির বেশী জনসংখ্যায় পরিণত হয়েছে। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা আজ স্থানীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে কৃষি উৎপাদনে অভূতপূর্ব সাফল্যের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, অথচ এক সময় বিদেশী বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ স্বনির্ভরভাবে টিকে থাকতে পারবে না বলে মতামত দিয়েছিলেন। আজ তাদের সে মতামত মিথ্যা প্রমাণ করে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।
ড.রাজ্জাক বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শুধু খাদ্যে নয়, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, যোগাযোগ অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান, শান্তি, শৃঙ্খলাসহ সব ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। এসডিজি লক্ষ্যগুলোর বেশ কয়েকটি অর্জনের পথে এগিয়ে চলছে।
ইতিমধ্যে দেশ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অচিরেই বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিনত হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ ও দূরদর্শী পরিচালনায় দেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিনত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভাবে আজ এটা স্বীকৃত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মুজিব বর্ষে পাঠানো বার্তায় বাংলাদেশকে বিশ্বে উন্নয়নের উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টও বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বলে অভিহিত করেছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ আমরা শুধু উন্নত- সমৃদ্ধ দেশ নয়, ৪১’ সাল নাগাদ মেধা মনন, মানবিকতায় উদাহরণ সৃষ্টকারী একটি উন্নত- সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, এ জন্য মেধা, মনন, মানবিকতা, আধুনিক জ্ঞান সম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
ড. হাছান মাহমুদ গত ১৩ বছরে দেশের উন্নয়ন – অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ আজ পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের তুলনায় উন্নয়ন ও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে। এমনকি সমস্ত সূচকে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের আগে বাংলাদেশ কখনো স্বাধীন ছিল না। একমাত্র বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির প্রথম জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনি ১৯৭২ সালে জাতির পিতার ৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কমিউনিষ্ট পার্টির মনিসিংহের উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেন, ‘মনিসিংহ বলেছিলেন, ১৯৫১ সালে বঙ্গবন্ধু তাকে চিঠিতে জানিয়েছিলেন তিনি পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।’ তবে রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার জন্য জাতিকে ধাপে ধাপে প্রস্তুত করতে থাকেন। এরই মধ্যে ৬৬ সালে বাঙালির মুক্তি সনদ খ্যাত ৬ দফা পেশ করে জনগণের মনন তৈরি করেন। এর ধারাবাহিকতায় ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০ এর নির্বাচন, ৭১ এর ৭ মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চে জাতির পিতার স্বাধীনতা ঘোষণায় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালির জাতি রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু উন্নত – সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। কিন্তু ঘাতকরা তা সম্পন্ন করতে দেয়নি। ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট সপরিবারে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালিকে হত্যা করা হয়।
তিনি বলেন, অথচ ১৯৭৪-৭৫ সালে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল শতকরা ৯.৫৯ ভাগ। এ প্রবৃদ্ধি আজ পর্যন্ত কোন সময় অর্জন করা সম্ভব হয়নি। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এ প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব হতো। আর দেশ অনেক আগেই উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিনত হতো। এখন তার সুযোগ্য কন্যার হাতে দেশ সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই উন্নত- সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার যে অমোঘ বাণী অনুরণিত হয়েছে ‘কেউ আমাদের দাবায়া রাখতে পারবেনা’ তা প্রতিটি বাঙালিকে সাহসে বলিয়ান করে তোলে। আর রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু দেশকে সোনার বাংলা নির্মাণে ভিত্তি রচনা করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকরা তা হতে দেয়নি। ৭৫এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার পর দেশের উন্নয়নের গতি থমকে গিয়েছিল, ভূলুন্ঠিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উত্তরাধিকার তাঁর আত্মজা শেখ হাসিনা দেশীয়- আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে অপ্রতিরুদ্ধ গতিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পিতার মতোই কন্যা ‘ কেউ আমাদের দাবাইয়া রাখতে পারবে না’ এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি জাতিকে বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। দেশকে শুধু মধ্যম আয়ের নয়, উন্নয়নশীল দেশে পরিনত করেছেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্য সদস্যরা বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতিকে শুধু স্বাধীনতা উপহার দিয়ে ক্ষ্যান্ত থাকেননি, এ মহান রাষ্ট্রনায়ক যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশকে ধাপে ধাপে ক্ষুধা- দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত করার কাজ শুরু করেছিলেন। দেশকে এগিয়ে নিয়েও যাচ্ছিলেন। কিন্তু ঘাতকরা তা হতে দেয়নি। তবে বঙ্গবন্ধু বাঙালির হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন। তাঁর আদর্শের ভিত্তিতে আজ দেশ পরিচালিত হচ্ছে। আর দেশ এখন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিনত হতে চলেছে।
তারা বলোন, বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির নেতা ছিলেন না, তিনি বিশ্বের সকল নিপীড়িত – নির্যাতিত মানুষেরও নেতা ছিলেন। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার আগে কিংবা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠি হত্যা করতে পারেনি, বাংলাদেশের কিছু কুলাঙ্গার মীরজাফররা এ মহান নেতাকে সপরিবারে হত্যা করেছে। তাঁকে হত্যা করে স্বাধীনতার আদর্শকে এবং দেশের উন্নয়নকে পেছনের দিকে নিয়ে যায়। আজ জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দেশ আবার মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ধারায় ফিরে এসেছে। খুনিদের বিচার হয়েছে। রায় কার্যকর হয়েছে। এমনকি ‘৭১ এর মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার হয়েছে। এখনও চলছে। শেখ হাসিনা দলের পতাকা হাতে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন। সে থেকে তিনি নিষ্ঠার সাথে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। দেশকে বিশ্বে মর্যাদার আসনে আসীন করেছেন।
তারা বলেন, জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর আজীবন স্বপ্ন ছিলো ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ। ঘাতকরা তা হতে দেয়নি। আজ তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা পিতার সে স্বপ্নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশ আজ সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে।
আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, চিফ হুইপ নুর-ই- আলম চৌধুরী, বিরোধী দলের উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, হুইপ ইকবালুর রহিম, সরকারি দলের সদস্য আমির হোসেন আমু, বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আ, ফ, ম রুহুল হক, আ, স, ম ফিরোজ, এ বি তাজুল ইসলাম, মোতাহার হোসেন, প্রাণ গোপাল দত্ত, শাজাহান খান, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, এ, কে এম, রহমতুল্লাহ, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, তানভির শাকিল জয়, মৃণাল কান্তি দাস, সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, বেগম শবনম জাহান, নাহিদ এজাহার খান, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের শিরীন আখতার, জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ফখরুল ইমাম, রুস্তম আলী ফরাজী, মুজিবুল হক, রওশন আরা মান্নান, বিএনপির হারুনুর রশীদ, রুমীন ফারহানা, গণফোরামের মোকাব্বির খান এবং বিকল্পধারা বাংলাদেশের আবদুল মান্নান। বাসস।