ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে মুক্তি ও স্বাধীনতার অধিকারের পক্ষে রুখে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রশংসা করে বলেছেন ১৯৭১ সালে অগণিত মুক্তিযোদ্ধা তাদের মাতৃভূমির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
বুধবার(২৪ নভেম্বর) দিল্লীতে ‘ভারত-বাংলাদেশ: বন্ধুত্বের পঞ্চাশ বছর’ শীর্ষক সেমিনার কাম ওয়েবিনারে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নের জন্ম দিতে সামনে থেকে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশী নেতাদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
সেন্টার ফর ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার স্টাডিজ (সিএলএডব্লিউএস) ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে (আইআইসি) ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ৫০ বছর এবং সেই সাথে ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে নিষ্পত্তিমূলক বিজয়ের স্মরণে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এই মহাকাব্যিক সংগ্রামে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবদানের স্বীকৃতি যা বাংলাদেশের লাখো মানুষের জীবন ও ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন-অর-রশিদ, বীর প্রতীকও আলোচনায় অংশ নেন। তারা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন এবং দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করা হয়। সেমিনারে পর্যটন ও সাধারণ সংস্কৃতির মতো কূটনৈতিক হাতিয়ার, উন্নত অবকাঠামোগত সংযোগের প্রয়োজনীয়তা এবং অর্থনৈতিক সংহতির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে উভয় দেশকেই কাজ করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট জনারেল (অব.) এম হারুন-অর-রশিদ, সশস্ত্র বাহিনীকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
পরে অনুষ্ঠান চলাকালীন ‘‘বাংলাদেশ লিবারেশন আ্যট ৫০ ইয়ার্স: বিজয়’ উইথ সিনার্জি ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ওয়ার ১৯৭১’’ শিরোনামের একটি বইও প্রকাশ করা হয়।
বইটি ১৯৭১ সালের যুদ্ধের ঐতিহাসিক এবং উপাখ্যানের বিবরণের মিশ্রণ এবং এতে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের লেখকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যাদের অনেকেই প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত শমসের চৌধুরী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ এবং সে সময় যুদ্ধবন্দী হওয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বাংলাদেশি সেনাদের যে নৃশংসতা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল তাও প্রকাশ করেন।
বই প্রকাশের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়, যেখানে একজন যোদ্ধা হিসেবে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য সিওএএস ব্রিগেডিয়ার নরেন্দ্র কুমারকে (ভিজিটিং ফেলো, সিএলএডব্লিউএস) ‘স্কলার ওয়ারিয়র অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেন। সিএলএডব্লিউএস ফিল্ড মার্শাল মানেকশ রচনা প্রতিযোগিতা (এফএমএমইসি) বিজয়ীদের পুরষ্কার এবং প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়। বাসস।
বন্ধুত্বের ৫০ বছর: স্বাধীনতার লড়াইয়ে বাংলাদেশের জনগণের প্রশংসা করলেন ভারতের সেনাপ্রধান
পতাকা টানিয়ে অনুশীলন,পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি আদালত
বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি না নিয়ে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের অভিযোগে দেশটির ক্রিকেট দলের ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, এ মামলা করার জন্য সরকারের কোনো অনুমোদন নেই। তাই মামলা নেয়ার আবেদন খারিজ করা হলো।
এ মামলা নেয়ার আবেদনটি করেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আল মামুন। আদালত প্রথমে বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে বাদীর আবেদন খারিজ করে দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আনিস উজ জামান বলেন,বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার প্রতীক। বিদেশি কোনো নাগরিকের তাঁর দেশের জাতীয় পতাকা এ দেশে প্রদর্শন করতে হলে অবশ্যই সরকারের পূর্ব অনুমোদন প্রয়োজন। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সদস্যরা ১৫ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দেশটির জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করেন। কিন্তু তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের কোনো অনুমোদন নেননি। পরবর্তীকালে তাঁরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে পতাকা প্রদর্শনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সদস্যরা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ ১৯৭২ অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। তাই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার আবেদনটি আদালতে করা হয়।
যাঁদের আসামি করার আবেদন করা হয়েছিল, তাঁরা হলেন পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ বাবর আজম, কোচ সাকলায়েন মুশতাক, ব্যবস্থাপক মনসুর রানা, সদস্য শাদাব খান, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান, ফখর জামান, আসিফ আলী, হায়দার আলী, হ্যারিস রউফ, হাসান আলী, ইফতেখার আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, শাহনেওয়াজ দাহানি, ওসমান কাদির, সরফরাজ আহমেদ, শাহিন শাহ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক ও শহীদ আসলাম। সূত্র -প্রথম আলো/বিডি নিউজ।
গাজিপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বরখাস্ত
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো.জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থ পরিপন্থি কাজ, ক্ষমতার অপব্যাবহার, সরকারি সম্পদ আত্মসাতের মত অভিযোগে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত করছে বলে জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জাহাঙ্গীরের কিছু বিতর্কিত মন্তব্যসংবলিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই ৩ অক্টোবর জাহাঙ্গীর আলমকে শোকজ করা হয়। জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বৃহস্পতিবার মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মো. আতাউল্লাহ মণ্ডলকে। তিনি মহানগর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কারের পরপরই তাঁকে মেয়র পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। ১৯ নভেম্বরের বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার বিষয় বিবেচিত হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাঁর দপ্তরে সাংবাদিকদের জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করনে। মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ আছে। এর মধ্যে সরকারি সম্পদ অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদি নানা অভিযোগ আছে। সেগুলো তদন্তের স্বার্থে বলা যাচ্ছে না। গত সেপ্টেম্বর মাসে গোপনে ধারণ করা মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বিচারক কামরুন্নাহার কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলার বিচার করতে পারবেন না: আপিল বিভাগের রায়
আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ থাকার পরও ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে জামিন দেয়া বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলা পরিচালনার ‘উপযুক্ত নন’ বলে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আপিল বিভাগ বলেছে, মামলার সকল নথি পাশ কাটিয়ে ধর্ষণ মামলার আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন কামরুন্নাহার, যা ‘অসৎ উদ্দেশ্যের ইংগিত’ করে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গত ২২ নভেম্বর এ রায় দেন। বুধবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ছয় পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
সম্প্রতি রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় পাঁচ আসামির সবাইকে খালাসের রায়ে ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কামরুন্নাহারের এখতিয়ারবহির্ভূত পর্যবেক্ষণ বিতর্কের জন্ম দেয়।
মৌখিক ওই পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের ক্ষেত্রে ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর পুলিশ যেন মামলা না নেয়। তবে লিখিত রায়ে সে বিষয়টি তিনি রাখেননি।
এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত ১৪ নভেম্বর কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতাসাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে তাকে আর আদালতে না বসার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। আদালত থেকে প্রত্যাহার করে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
তখন জানা যায়, স্থগিতাদেশ থাকার পরও হাতিরঝিল থানার ২০১৮ সালের এক ধর্ষণের মামলায় আসলাম শিকদার নামের এক আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন বিচারক কামরুন্নাহার। কোন এখতিয়ার বা ক্ষমতাবলে ওই আসামিকে তিনি জামিন দিয়েছিলেন, সে ব্যাখ্যাও জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে।
ওই মামলার রায়ে গত বছরের ১৪ অক্টোবর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর বিচারক সামছুন্নাহার আসামি আসলাম শিকদারকে খালাস দেন। সে রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্ট আপিলও করে রাষ্ট্রপক্ষ।
এতদিন পর কামরুন্নাহারের বিষয়টি গত সপ্তাহে আপিল বিভাগে উঠলে ২২ নভেম্বর তিনি সর্বোচ্চ আদালতে সামনে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেন। সেখানে তিনি বলেন, আসলাম শিকদারের জামিন যে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেছে, তা তিনি জানতেন না।
কিন্তু জামিন শুনানির সময় নথিতে অন্যসব কাগজপত্রের সঙ্গে চেম্বার আদালতের ওই আদেশের অনুলিপিও ছিল এবং তার আগের বিচারক পাঁচবার আসলামের জামিন আবেদন নাকচ করেছিলেন- এসব বিষয়ে প্রশ্ন করলে কামরুন্নাহার বলেন, তিনি আগের নথি দেখেননি, যা তার ভুল হয়েছে।
আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে পুরনো নথি না দেখার বিষয়টি কামরুন্নাহারের ‘অসৎ উদ্দেশ্যের’ ইংগিত করে।
সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, আসলাম শিকদারকে জামিন দেয়ার মাধ্যমে মোছা. কামরুন্নাহার আপিল বিভাগের আদেশ লঙ্ঘন করেছেন। কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলা পরিচালনার জন্য তিনি ‘উপযুক্ত নন’।
সুতরাং, মোছা. কামরুন্নাহার বাংলাদেশের কোনো আদালতে কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলার বিচার করতে পারবেন না।” বিডি নিউজ।
মানবতাবিরোধী অপরাধ : বিএনপির সাবেক সাংসদ মোমিনের ফাঁসির রায়
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য বগুড়ার আব্দুল মোমিন তালুকদার ওরফে খোকার ফাঁসির রায় দিয়েছে অান্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম সমন্বয়ে গঠিত তিন বিচারকের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
পলাতক আব্দুল মোমিন তালুকদারের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
চারদলীয় জোট সরকারের আমলের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন আব্দুল মোমিন তালুকদার। তিনি বগুড়া-৩ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন দুইবার।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন মামলাটির শুনানি করেন। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো. আবুল হাসান।
দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ৩১ অক্টোবর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
মোমিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তিন অভিযোগঃ
১. ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে আসামি আব্দুল মোমিন তালুকদারসহ ৫ থেকে ৬ জন স্বাধীনতাবিরোধী ও ২০ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্যকে নিয়ে বগুড়া জেলার আদমদিঘী থানার কলসা বাজার, রথবাড়ী এবং তিয়রপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে হত্যা করতে অপারেশন চালান। ওই দিন আসামি নিজে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কলসা গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ইসলাম উদ্দিন প্রামানিকসহ হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে ১০ জনকে গুলি করে হত্যা করেন।
২. ১৯৭১ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে একই থানার কাশিমালা গ্রামের ১৬ থেকে ১৭টি বাড়ি লুট করেন মোমিন। সেদিন ৫ জনকে গুলি করে হত্যা করে হত্যা করা হয়।
৩.১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর রাতে আব্দুল মোমিন তালুকদার রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনী নিয়ে আদমদিঘী থানার তালশন গ্রামের অভিযান চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেন।
২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে এ মামলাটির তদন্ত কাজ শুরু করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা জেডএম আলতাফুর রহমান।
এ মামলায় জব্দ তালিকা ছাড়াও ২৯ জনকে ঘটনার স্বাক্ষী করা হয়। বিচারের সময় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ১৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে আবদুল মোমিন তালুকদার বিএনপিতে যোগ দেন। পরে আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পান তিনি।
তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালে দুইবার বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেসময় তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং রাজশাহী বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সব মামলায় জামিনে হেলেনা জাহাঙ্গীর
গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে জামিন দিয়েছে আদালত।
ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আবুবকর ছিদ্দিক বুধবার ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় হেলেনার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর মধ্যে দিয়ে হেলেনা তার নামে থাকা চার মামলার সবগুলোতেই জামিন পেলেন জানিয়ে তার আইনজীবী এএইচএম শফিকুল ইসলাম মোল্লা (সোহাগ) বলেন, “তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা রইল না।”
হেলেনার বিরুদ্ধে বাকি মামলাগুলো টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের।
গত ২৯ জুলাই গুলশানের বাসা থেকে হেলেনাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে আলাদা চার মামলায় তার ১৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ গত ২১ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং পল্লবী থানার প্রতারণা মামলায় হেলেনাকে জামিন দেন। আর টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের আরেক মামলায় গত ১৭ আগস্ট তার জামিন মঞ্জুর করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত।
এফবিসিসিআইর পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীর জয়যাত্রা গ্রুপের কর্ণধার এবং জয়যাত্রা টেলিভিশনের চেয়ারপারসন। নিজেকে তিনি আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিতেন।
হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন। কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগেরও উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন তিনি।
‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি ‘ভূইফোঁড়’ সংগঠনে হেলেনা জাহাঙ্গীরের সভাপতি হওয়ার খবর চাউর হলে জুলাই মাসে তাকে দুই কমিটি থেকেই বাদ দেয় আওয়ামী লীগ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
বিচার বিভাগকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিচার বিভাগকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করে দিতে চায়। যাতে জনগণ ন্যায্য বিচার পায় এবং বিচারকরা সঠিকভাবে বিচারকাজ করতে পারেন। বিচারকদের গাড়ি দেয়ার মূল উদ্দেশ্যও তাই। মঙ্গলবার রাজধানীর নিবন্ধন অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে বিচারকদের মাঝে গাড়ির চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে একথা বলেন আইনমন্ত্রী। এসময় মন্ত্রী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইব্যুনাল, মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল, সাইবার ট্রাইব্যুনাল ও চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকদের ব্যবহারের জন্য ২৭টি কার এবং দুটি মাইক্রোবাসের চাবি হস্তান্তর করেন। ১২ কোটি ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে কেনা এসব গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আনিসুল হক বলেন, আমরা দেখেছি বিচার বিভাগের বিচারকগণ রিক্সা করে বা বেবি ট্যাক্সি করে কিংবা মাইক্রোবাসে করে চলাফেরা করতেন। সেই অবস্থা পরিবর্তন করার জন্য সকল জেলা জজদের গাড়ি দেয়া হয়ে গেছে। এরপর অতিরিক্ত জেলা জজদের গাড়ি দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে পৃথকীকরণ করা হয়। এই পৃথকীরণের কারণে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি আলাদা হয়ে যায় এবং বিচার বিভাগে ভৌত অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে পুনর্বিন্যস্ত করতে হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিশ্বাস করে বিচার বিভাগের জন্য সঠিকভাবে অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বিচারকদের স্বাধীনভাবে বিচার করার ভিত্তি তৈরি হবে। সে কারণেই বিচার বিভাগের অবকাঠামো তৈরির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। ৬৪টি জেলায় ১০তলা বিশিষ্ট নতুন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি ভবন তৈরির প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ৩০টি জেলায় ম্যাজিস্ট্রেসি ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। বাকী কিছু আছে যেগুলো শিগগিরই উদ্বোধন করা হবে। এ সময় আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার, যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহাসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিচারকদের মাঝে গাড়ির চাবি হস্তান্তর শেষে আইনমন্ত্রী গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন।
কামরুন্নাহার বিচারিক ক্ষমতা হারালেন
সর্বোচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকার পরও ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে জামিন দেয়ায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর সাবেক বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা সিজ করে নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এর আগে স্থগিতাদেশ থাকার পরও ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে জামিন দেয়ায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর সাবেক বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারকে তলব করেন আপিল বিভাগ।
ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় আপিল বিভাগে সশরীরে উপস্থিত হন ওই বিচারক। আপিল বিভাগের কার্যতালিকার ১ নম্বর ক্রমিকের মামলায় শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক কামরুন্নাহারের ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা সিজ করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদেশের বিস্তারিত প্রকাশিত হবে।’
বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে ধর্ষণের ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর মামলা নেয়া যাবে না মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন বিচারক কামরুন্নাহার। এ অভিযোগে তাকে বিচারকাজ থেকে প্রত্যাহার করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।যদিও লিখিত রায়ে বিতর্কিত পর্যবেক্ষণ বাদ দেন তিনি। এরপরই আলোচনায় আসে তিন বছরের পুরোনো এক ধর্ষণ মামলায় আসামির জামিনকাণ্ড।
এর আগে ১৪ নভেম্বর কামরুন্নাহারের ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। একইসঙ্গে তাকে এজলাসে না বসার নির্দেশ দেয়া হয়।
ধর্ষণের আরেক মামলায় জামিন, আপিল বিভাগে ক্ষমা চাইলেন বিচারক কামরুন্নাহার
ধর্ষণের এক মামলায় আপিল বিভাগের স্থগতাদেশ থাকার পরও এক আসামিকে জামিন দেয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উপস্থিত হয়ে নি:শর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আলোচিত বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার। আপিল বিভাগে রুদ্ধদ্বার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় কোনো সাংবাদিককে আদালত কক্ষে ঢুকতে দেয়া হয় নি।
সোমবার (২২ নভেম্বর) সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে হাজির হয়ে তিনি ক্ষমা চান। তবে শুনানিকালে কোনো সাংবাদিককে কোর্টে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এমনকি আপিল বিভাগের কর্মচারীদেরও কোর্ট থেকে বের করে দেয়া হয়।
এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার শুনানি হয়। তবে এ মামলায় কী আদেশ হয়েছে তা জানা যায়নি।
সম্প্রতি বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় ৭২ ঘণ্টা পর ধর্ষণ মামলা নেয়া যাবে না মর্মে পর্যবেক্ষণ দিয়ে আলোচনায় আসেন বিচারক কামরুন্নাহার। এ অভিযোগে তাকে বিচারকাজ থেকে প্রত্যাহারও করে সুপ্রিম কোর্ট। তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্থ নিযুক্ত) যদিও লিখিত রায়ে বিতর্কিত পর্যবেক্ষণ বাদ দেয়া হয়। এরপরই আলোচনায আসে তিন বছরের পুরনো এক ধর্ষণ মামলায় আসামির জামিনকাণ্ড। যার ধারাবাহিকতায় তাকে তলব করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১ মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি ১৫ মার্চ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১টি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। এসব মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৫ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (২২ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এ তারিখ নির্ধারণ করেন। ধার্য করেন।
আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে সোমবার মামলাগুলোর অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু অধিকাংশ মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত থাকায় শুনানি পেছানোর আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানার নাশকতার আটটি, যাত্রাবাড়ি থানার নাশকতার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা।
২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা করা হয়।
২০১৫ সালে নাশকতার ঘটনায় যাত্রাবাড়ি থানায় দুটি মামলা করে পুলিশ। ওই বছরেই দারুসসালাম থানায় নাশকতার আরও আটটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলীয় নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে খালেদা জিয়া গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।










