ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩   বিকাল ৫:৩৮ 

Home Blog Page 56

আফগানিস্তানে টিভি নাটকে নারীদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তালেবান

0

আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের জারি করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী টেলিভিশন নাটকে নারীদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া টেলিভিশনের পর্দায় হাজির হবার সময় নারী সাংবাদিক এবং উপস্থাপিকাদেরও হিজাব পরতে বলা হয়েছে, তবে কোন ধরনের হিজাব ব্যবহার করতে হবে সে বিষয়ে ওই নির্দেশিকায় সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই।
সাংবাদিকরা বলছেন কিছু নিয়ম অস্পষ্ট এবং ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। চলতি বছরের অগাস্টের মাঝামাঝি সময়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান এবং অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে তারা ধীরে ধীরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
যেদিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রবাহিনীর আফগানিস্তান ছেড়ে যায় তার পরপরই দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এই ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীটি।
প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তারা মেয়ে এবং তরুণীদের স্কুল থেকে ফেরার পর বাড়িতে থাকারই নির্দেশ দেয়।
তালেবান, ১৯৯০-এর দশকে তাদের আগের শাসনামলে, নারীদের শিক্ষা গ্রহণ এবং বাইরে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছিল।
সবশেষ তারা আফগান টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য নতুন যে নির্দেশাবলী জারি করলো, সেখানে মোট আটটি ব্যাপারে বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে।
এর মধ্যে শরিয়া বা ইসলামিক আইন এবং আফগান মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যায় এমন চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া পুরুষদের শরীরের গোপন অংশগুলো প্রকাশ করার ফুটেজও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যে ধর্মের অবমাননা করা হয়েছে বা আফগানদের জন্য আপত্তিকর বলে বিবেচিত হতে পারে এমন কমেডি এবং বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তালেবানের বক্তব্য, বিদেশি সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ প্রচার করে এমন বিদেশি চলচ্চিত্র সম্প্রচার করা উচিৎ নয়।
আফগানিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদেশি নাটক দেখানো হয়। যেগুলোর প্রধান চরিত্রে থাকেন নারী।
আফগানিস্তানে সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন, হুজ্জাতুল্লাহ মুজাদ্দেদির এক সদস্য বলেছেন, নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা অপ্রত্যাশিত।
তিনি বিবিসিকে বলেছেন যে, কিছু নিয়ম বাস্তবসম্মত নয় এবং তা কার্যকর হলে সম্প্রচারকারীরা টেলিভিশন অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারেন।
তালেবান এর আগে মেয়ে এবং তরুণীদের স্কুল থেকে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেন।
এর পরপরই আফগানিস্তান তার অর্ধেক জনসংখ্যাকে শিক্ষা অর্জনে বাধা দেয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়।
রাজধানী কাবুলের মেয়র, নারী পৌর কর্মীদেরও বাড়িতে থাকতে বলেছেন, যতক্ষণ না তাদের চাকরির স্থলে একজন পুরুষকে বসানো হচ্ছে।
তবে তালেবানের দাবি, কর্মরত নারী এবং শিক্ষা গ্রহণকারী ছাত্রীদের ওপর তাদের এসব নিষেধাজ্ঞা “অস্থায়ী”। তাদের জন্য কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষার পরিবেশন পুরোপুরি “নিরাপদ” করার জন্যই এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

চাল কেটে ‘মিনিকেট’ বানানো অটোরাইস মিল মালিকদের তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট

0

মেশিনে সাধারণ চাল কেটে-ছেঁটে মিনিকেট ও নাজিরশাইল নামে সরবরাহ করে, দেশের ৭ জেলার এমন অটোরাইস মিলের মালিকদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
জেলাগুলো হলো-রংপুর, কুষ্টিয়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, যশোর, গোপালগঞ্জ ও নেত্রকোনা।
এসব জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) আগামী ৪ মাসের মধ্যে এ তালিকা তৈরি করে আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
মিলগুলোতে চাল পালিশ করে বাজারজাত করায় মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও খাদ্যের পুষ্টিমান নষ্ট হচ্ছে কি না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিলের (বিসিএসআইআর) চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) মহাপরিচালকদের একই সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে মেশিনে সাধারণ চাল পলিশ করে ‘মিনিকেট’ ও ‘নাজিরশাইল’ চাল বিক্রি বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, ৩ সপ্তাহের মধ্যে তার ব্যাখ্যা চেয়ে একটি রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। আর সরকারের পক্ষে ছিলেন ডিএজি কাজী মাইনুল হাসান।

এটিএম কার্ডের জালিয়াতি ঠেকাতে যা করবেন

0

বর্তমান সময়ে সবকিছু ডিজিটালাইজড হচ্ছে,পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। আর এই সাইবার জালিয়াতির দুনিয়ায় সফ্ট টার্গেট হচ্ছে এটিএম কার্ড। একের পর এক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায় লাখ লাখ টাকা। এটিএম কার্ড জালিয়াতির হাত থেকে বাঁচতে তাই মেনে চলুন কিছু নিয়ম।
বিপদ এড়াতে সবসময় খেয়াল রাখুন এগুলো–
* নির্দিষ্ট সময়ের পর পর এটিএম কার্ডের পিন পরিবর্তন করুন।
* কার্ডে পিন নম্বর লিখে রাখবেন না, কাউকে কার্ড দেবেন না। এমনকি নিজেও পিন নম্বর কাউকে বলবেন না।
* আপনি যখন এটিএমের ভিতরে থাকবেন, তখন অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দেবেন না।
* এটিএম মেশিনে পিন দেয়ার সময় হাত দিয়ে আড়াল করে পিন দিন। যাতে অন্য কারোর নজরে না পড়ে।
* এটিএম থেকে টাকা তোলার পর যে স্লিপ আসে তা কাউন্টারে ফেলে আসবেন না।
* এটিএমের স্ক্রিন যতক্ষন না পুরনো অবস্থায় ফিরে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।
* নতুন কার্ড নেয়ার পর পুরনো কার্ড পুরোপুরি নষ্ট করে ফেলুন।
যা করবেন না–
* ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর, পিন, সিভিভি (কার্ডের পিছনে থাকা তিন সংখ্যার নম্বর, যা নেট-লেনদেনে কাজে লাগে) ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড কাউকে দেবেন না।
* অনেক সময়ে ব্যাংক বা অন্য কোনও বিশ্বস্ত সংস্থার নাম করে ফোন, ই-মেইল ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতারক কার্ডের পিন নম্বর জানার চেষ্টা করে। ভুলেও সেই ফাঁদে পা দেবেন না। মনে রাখবেন, আপনার তথ্য এমনিতেই ব্যাংকের কাছে আছে। তারা তা নতুন করে চাইবে কেন?
* পিন নম্বর মুখস্থ রাখুন। লিখে রাখলে, অবশ্যই সাংকেতিক ভাবে।
* কার্ড ব্যবহারে অপরিচিতের সাহায্য নেবেন না।
* কার্ডে জিনিসপত্র কেনাকাটার সময়ে সাবধান থাকুন। দোকানে কেনাকাটা বা রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়ার পরে কার্ড সোয়াইপ করানোর জন্য তা অন্য কারও হাতে দেবেন না। তথ্য সূত্র: অনলাইন।

ধর্ষকদের খোজা করার বিধান থেকে সরে আসলো পাকিস্তান

0

ধর্ষকদের খোজা করণের বিধান থেকে শেষ মুহুর্তে সরে আসলো পাকিস্তান। তবে গণ-ধর্ষণের দায়ে যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হবে।
এই আইনে বলা হয়েছে, ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের দ্রুত বিচারের জন্য পাকিস্তান সরকার দেশজুড়ে বিশেষ আদালত স্থাপন করবে। চারমাসের মধ্যে এসব বিচার শেষ করার টার্গেট থাকবে।
পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু ধর্ষণ বেড়ে যাবার প্রেক্ষাপটে এই কঠোর আইন পাশ করা হয়েছে।
তবে শরীরে রাসায়নিক প্রয়োগ করে খোজা করে দেবার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছিল, সেটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়।
গত ডিসেম্বর থেকে দেশটির প্রেসিডেন্টের এক অধ্যাদেশ-এর বলে এই শাস্তির বিধান করা হয়েছিল।
কিন্তু এনিয়ে আইন প্রণয়নের জন্য সংসদে উত্থাপন করা হলে সেটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গত বছর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছিলেন, শরীরে রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষকদের খোজা করে দেবার আইন প্রণয়ন করতে চান তিনি।
বিবিসি উর্দু ভাষা সার্ভিসের সাংবাদিক জুবায়ের আজম বলেছেন, পাকিস্তানের ইসলামিক মতাদর্শিক কাউন্সিল মত দিয়েছে রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষকদের খোজা করার বিষয়টি ইসলাম-সম্মত নয়।
যদিও এই কাউন্সিলের মতামত মানতে দেশটির পার্লামেন্ট বাধ্য নয়, কিন্তু ধর্ষকদের খোঁজ করে দেবার বিষয়টি বাদ দেবার ক্ষেত্রে তাদের মতামত হয়তো প্রভাব ফেলেছে।
পাকিস্তানের পার্লামেন্টে আইন বিষয়ক সচিব মালিকা বুখারি বিবিসি উর্দু বিভাগকে বলেন, ইসলামিক মতাদর্শিক কাউন্সিলের আপত্তি পর্যালোচনা করে বিষয়টি বাদ দেয়া হয়েছে।
মালিকা বুখারি বলেন, ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিতর্কিত টু-ফিঙ্গার টেস্টের বিধান বাতিল করা হয়েছে নতুন আইনে।
তবে পাকিস্তানের বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যান্টি-রেইপ ক্রাইসিস সেল স্থাপন করা হবে। সেখানে নারীদের সম্মান রক্ষা করে শারীরিক পরীক্ষা এবং আইনগত সহায়তা দেয়া হবে বলে মালিকা বুখারি উল্লেখ করেন।
এছাড়া নতুন আইনে ধর্ষণের শাস্তি বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে খোজা করে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাও আপত্তি তুলেছিল।

ধর্ষণের শিকার নারীরা বিচার পান না যে সব কারণে
ধর্ষকদের এ ধরণের সাজার পরিবর্তে ধর্ষণের কারণ খুঁজে বের করার আহবান জানিয়েছিল মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, পোল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, চেক রিপাবলিক এবং আমেরিকার কিছু রাজ্যে এ বিধান রয়েছে।
ওয়ার অ্যাগেইনস্ট রেইপ নামের একটি পাকিস্তানী বেসরকারি সংস্থাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স বলছে, দেশটিতে যারা ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হয় তাদের মধ্যে তিন শতাংশেরও আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়। বিবিসি বাংলা।

খালেদার বিদেশ যাওয়া প্রশ্নে সংসদে আইনমন্ত্রীঃ বিএনপি ‘যত খুশি গালি দিক’, কিছু করার নেই

0

দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি নিয়ে আলোচনায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদে বলেছেন, তিনি ‘আইন অনুযায়ীই’ চলবেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি বলেন, “বিএনপি যে দাবি করছে, তা আইনের বইয়ে নেই। উনারা (বিএপি) আমাকে যত খুশি গালি দিতে পারেন। তাতে আমার কিছু আসে যায় না। আমি আইন মোতাবেক চলব।”
বৃহস্পতিবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিএনপির সাংসদ জিএম সিরাজের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।
জিএম সিরাজ তার দলের নেত্রী খালেদা জিয়াকে ‘মানবিক দিক বিবেচনায়’ দুয়েক দিনের মধ্যে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি জানান। তা না হলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করারও হুঁমকি দেন।
বিএনপির এই সাংসদ বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানো না হলে দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির পক্ষে এই সংসদে থাকা ‘হয়ত সম্ভব হবে না’।
“আমরা ছয়জন এই সংসদে আছি। আওয়ামী লীগের বন্ধুরা বলেন, এটা এই পার্লামেন্টের জন্য অলঙ্কার। আজকে তাই বলতে চাই, আমাদের সংসদ নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যদি আমরা সত্যি সত্যি অলঙ্কারই হয়ে থাকি, তাহলে পার্লামেন্ট অলঙ্কারবিহীন করবেন না। এই কারণে, আমাদের দলীয় সিদ্ধান্তে এমনও হতে পারে, ম্যাডামের যদি চরম অবস্থা চলে যায়, তাহলে হয়ত এই পার্লামেন্টে  আমাদের থাকা সম্ভব নাও হতে পারে। আমি এটাকে শর্ত দিচ্ছি না।”
জিএম সিরাজ বলেন, গত এপ্রিলে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে বিএনপির চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা ‘চরম অবনতির দিকে’ যাচ্ছে।
“যা তাকে দিনে দিনে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরিবার থেকে পাঁচবার আবেদন করা হয়েছে। দল থেকে বারবার আবেদন করা হচ্ছে। খালেদা জিয়াকে অতি দ্রুত জামিন দিয়ে দুয়েক দিনের মধ্যে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হোক।”
এ বিষয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সিরাজ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন রাগ বিরাগের বশবর্তী হবেন না। উনার গতকালের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিনয়ের সাথে বলছি, উনার বক্তব্যের সাথে শপথের ভাষা সাংঘর্ষিক। তুমি অধম বলিয়া আমি উত্তম হইব না, এটা কি সঠিক?”
৭৬ বছর বয়েসী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত ১৩ নভেম্বর থেকে তিনি বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি।
তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে আবারও সরকারের কাছে আবেদন করেছে তার পরিবার। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, যেহেতু দণ্ড স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সেহেতু তাকে এখন বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি যদি কারাগারে ফিরে গিয়ে আবেদন করেন, সরকার তখন তা বিবেচনা করতে পারে।
এ নিয়ে এক সাংবাদিক বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করলে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সরকারের নির্বাহী ক্ষমতায় যা করার ছিল, তা তিনি করেছেন, এখন বাকিটা ‘আইনের ব্যাপার’।
তিনি বলেন, “এতবড় অমানবিক যে, তাকে আমি মানবতা দেখিয়েছি। আমার হাতে যেটুকু পাওয়ার সেটুকু আমি দেখিয়েছি। আর কত চান?”
সংসদে জিএম সিরাজ বলেন, “দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে জামিন নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার নজির দেশে আছে। ১৯৭৯ সালে আসম আব্দুর রব সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও চিকিৎসার জন্য জার্মানি গিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ নাসিম দুদকের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য সুযোগ পান।”
খালেদা জিয়া কেন সেই সুযোগ পাবেন না- সেই প্রশ্ন রেখে বিএনপির এই সাংসদ বলেন, “এটা তার মৌলিক অধিকার। দেশের মানুষ মনে করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন তাই করতে পারবেন, করেন। সর্বময় ক্ষমতার মালিক তিনি। এটা পাবলিক পারসেপশন।”
প্রধানমন্ত্রীকে সিরাজ অনুরোধ করেন: “মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে দুয়েক দিনের মধ্যে জামিন দিয়ে বিদেশ পাঠানো হোক। না হলে কিছু একটা হয়ে গেলে এর দায়ভার সারাজীবন আওয়ামী লীগকে বহন করতে হবে।”
জিএম সিরাজের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাংসদরা হইচই শুরু করেন। স্পিকার তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “আইনের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। মানবিক কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে সাজা স্থগিত রেখে ছয় মাস পরে বাড়ানো হয়েছে।”
কিন্তু চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে অনুমতি দেয়ার বিধান ‘আইনে নেই’, মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “আমিতো দেখিয়েছি যে বাংলাদেশের আইনের বইয়ে এটা নাই। উনারা যদি এটা দেখাতে পারেন, তাহলেতো আমরা এটা বিবেচনা করতে পারি। কিন্তু এটা আইনের বইয়ে নাই। উনারও দেখাতে পারবেন না, বিবেচনার প্রশ্ন আসে না।”
সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চপড়ে তার এই বক্তব্যে সমর্থন দেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “২০০৭-০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিদেশ যেতে দেয়া হয়েছে, এটা অসত্য। প্রধানমন্ত্রী কখনো সাজাপ্রাপ্ত হননি। আ স ম আবদুর রবকে যখন পাঠানো হয়েছিল তখন দেশে ছিল মার্শাল ল। মাশাল লর ধারা ফৌজদারি কার্যবিধির ধারার সঙ্গে চলে না। উনারা যথেচ্ছা করেছেন। আজকে আইনের শাসন যেখানে আছে, সেখানে আমি যথেচ্ছা করতে পারি না। এটা হচ্ছে প্রকৃত ঘটনা।”
খালেদা জিয়াকে ‘সঠিকভাবে’ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “একজন সাজাপ্রাপ্ত… ৪০১ ধারায় কোনো সুযোগ নেই নিস্পত্তিকৃত আবেদন আবার বিবেচনা করার।” সূত্র – বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

দুদকের মামলায় কনিষ্ঠ বিচারপতির ভিন্নমত, বেঞ্চ ছেড়ে চলে গেলেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি

0

দুর্নীতির এক মামলায় দুদকের আইনজীবীর উপস্থিত থাকা নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চে দুই বিচারপতি ভিন্নমত দিয়েছেন। এর ফলে ওই বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেছেন। দুই বিচারপতির ভিন্ন ভিন্ন মতের কারণে ওই দ্বৈত বেঞ্চের বিচারকাজ এখন বন্ধ আছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মুজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এমন ঘটনা ঘটে।
বিএনপির সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবদীন ফারকের স্ত্রী কানিজ ফাতেমার মামলায় দুদকের কোনো আইনজীবী না থাকায় দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের একজন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক কোর্টে রাখা যায় কি-না এ নিয়ে দুই বিচারপতির ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবারের (১৮ নভেম্বর) শুনানিতে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম জানান, দুদকে জনবল সংকট রয়েছে। এ কারণে কোর্টে সার্বক্ষণিক একজন অফিসার বসিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
এ সময় বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘দুদকের মামলা যারা ঠিকমতো তদন্ত করতে পারছেন না তাদেরকে কোর্টে এনে বসিয়ে রাখুন।’
তখন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি এস এম মুজিবুর রহমান বলেন, ‘দুদকের কী আর কাজ নেই, একজন অফিসার এখানে এসে বসে থাকবেন।’
এ সময় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেন, ‘বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি এত কথা বললে তো সমস্যা।’
কনিষ্ঠ বিচারপতি বলেন, ‘তাহলে বেঞ্চে দুই বিচারপতি রাখার দরকার কী?’
এরপর কনিষ্ঠ বিচারপতির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে এজলাস ছেড়ে চলে যান জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। এদিন সকাল পৌনে ১১ টার দিকে (১০টা ৪৭ মিনিটে) এ ঘটনা ঘটে।
এরপর ওই দুই বিচারপতি আর একসঙ্গে বেঞ্চে বসেননি।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সরকারি জমি আত্মসাতের ঘটনায় বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুকের স্ত্রী কানিজ ফাতেমার বিরুদ্ধে করা মামলা কেন বাতিল করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর ওই রুল জারি কারেন আদালত। একইসঙ্গে তিন মাসের জন্য মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানাধীন ইয়ারপুর মৌজার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি থেকে ভুয়া দানপত্র দলিলের মাধ্যমে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ সম্পত্তি আত্মসাৎ করার ঘটনা প্রমাণ পায়। এ ঘটনায় জেলা দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে ১৯৯৯ সালের ৩০ মে কানিজ ফাতেমাসহ আটজনকে আসামি করে সেনবাগ থানায় মামলা করেন। মামলায় ঘটনার তারিখ উল্লেখ করা হয় ১৯৯৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর।
মামলাটি তদন্ত করে দুদকের উপপরিচালক নিরাপদ স্বর্ণকার ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি সবার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ১৯ মার্চ বিশেষ দায়রা জজ আদালত, নোয়াখালী সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ মামলায় জামিনে আছেন কানিজ ফাতেমা। সূত্র – জাগো নিউজ/ সময় নিউজ।

সাক্ষ্য আইনের বিতর্কিত দুটি ধারা বাতিল হচ্ছে, হাইকোর্টকে জানিয়েছে সরকার

0

ধর্ষণের শিকার নারীর চরিত্র নিয়ে বিচারের সময় আদালতে প্রশ্ন তোলা সংক্রান্ত সাক্ষ্য আইনের দুটি ধারা (১৫৫ (৪) ও ১৪৬ (৩) বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিগগিরই এ দুটি ধারা বাতিল হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন মঙ্গলবার হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানিতে এ তথ্য জানান। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এই রিটের শুনানি মুলতবি করেন হাইকোর্ট।
গত ১৪ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্নিষ্ট শাখায় ধর্ষণের শিকার নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংক্রান্ত ওই দুটি ধারা বাতিল চেয়ে রিটটি করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), নারীপক্ষ ও ব্লাস্টের পক্ষে এ রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
সাক্ষ্য আইনের ধারা- ১৫৫ (৪)- এ বলা হয়েছে, কোনো লোক যখন বলাৎকার কিংবা শ্নীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে সোপর্দ হয়, তখন দেখানো যেতে পারে যে, অভিযোগকারিণী সাধারণভাবে দুশ্চরিত্রসম্পন্ন রমণী। এ ছাড়া সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারা উপধারা ৩ বলা হয়েছে, সাক্ষীর চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন করা যেতে পারে, যাতে সে এমন তথ্য দেয় যা দোষী বা নির্দোষ সাব্যস্ত করতে সহায়ক হবে।
সাক্ষ্য আইনের এই দুটি ধারা বাতিলে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মানবাধিকার ও নারী অধিকার সংগঠন দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষ্য আইনের ওই দুটি ধারা বাতিলের জন্য উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

অবৈধ সম্পদ: জি কে শামীমের মায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

0
ছবির উৎস গুগল।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার গোলাম কিবরিয়া ওরফে জি কে শামীমের মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
একই সঙ্গে আগামী ১৫ ডিসেম্বর গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এর আগে কারাগারে আটক আসামি জি কে শামীমকে আদালতে হাজির করা হয়।
২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি আট লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ এনে দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর দুদক জি কে শামীম ও তার মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জি কে শামীম ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে আয়কর নথিতে ৪০ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ৭৪৪ টাকার তথ্য উল্লেখ করলেও মোট টাকার বৈধ উৎস পায়নি দুদক।
এ ছাড়া শামীমের বাসা থেকে উদ্ধার নগদ এক কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ও সাত লাখ ৪৭ হাজার টাকার বিদেশি মুদ্রা, শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের নামে ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার এফডিআর, মায়ের নামে আরও ৪৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার ব্যবসার অংশীদার এবং জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানির শেয়ার, গাড়ি ও এফডিআর বাবদ ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের বৈধ উৎস পায়নি দুদক।
অনুসন্ধানে জি কে শামীমের মায়ের কোনো বৈধ আয়ের উৎসও খুঁজে না পাওয়ায় মামলাটি করে দুদক। ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সাত সশস্ত্র দেহরক্ষীসহ রাজধানীর ঠিকাদার জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে তিনটি মামলা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু পরিবারের নিরাপত্তা দেবে এসএসএফ, সংসদে বিল পাস

0

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দৈহিক নিরাপত্তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে সংসদে বিল পাস হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদের কাজে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) বিল-২০২১ সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এর আগে বিলের ওপর দেয়া জনমত যাচাই বাছাই কমিটিতে পাঠান এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়। বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এবং জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারীর দুটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়।
গত ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে তোলেন মন্ত্রী। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
১৯৮৬ সালের একটি অধ্যাদেশ দিয়ে বর্তমানে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সামরিক আমলে প্রণীত ওই আইন বাতিল করে বাংলায় নতুন আইন করতে বিলটি পাস করা হলো।
বিলে জাতির পিতার পরিবারের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা এবং তাদের সন্তানাদি ও ক্ষেত্রমতো ওই সন্তানাদির স্বামী বা স্ত্রী এবং তাদের সন্তানাদি। আগের বিষয়গুলোকে আইনে রাখা হয়েছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্য ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দৈহিক নিরাপত্তা প্রদান। সরকারি গেজেট দিয়ে ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরাও এই আইনের অধীনে নিরাপত্তা পাবেন।
বিলে বলা হয়েছে, এসএসএফের তত্ত্বাবধান ও নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত থাকবে। তল্লাশি, আটক ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসহ থানার একজন ওসির যেসব ক্ষমতা আছে, এসএসএফের একজন কর্মকর্তার এই আইনের অধীনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সারা দেশে সেই ক্ষমতা থাকবে।
বিলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং জাতির পিতার পরিবারের সদস্যরা যেখানেই অবস্থান করুন না কেন এসএসএফ তাদের দৈহিক নিরাপত্তা দেবে। এসএসএফ কাজের প্রয়োজনে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছেও সহায়তা চাইতে পারবে। যাদের কাছে সহায়তা চাওয়া হবে তাদের তা দিতে হবে বলেও বিলে বিধান রাখা হয়েছে।
জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন-২০০৯-এ যাই থাকুক না কেন, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

পরীমনির বিচার শুরু হচ্ছে

0

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেয়া চার্জশিট আমলে নিয়েছে আদালত।
আগামী ১৪ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য তারিখ রাখা হয়েছে।
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ সোমবার এই তারিখ ঠিক করেন।
গত ১৩ অক্টোবর মামলাটি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়। পরীমনি আজ আদালতে হাজির ছিলেন।
মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত অপর দুই আসামি হলেন আশরাফুল ইসলাম ও কবির হোসেন। পরীমনিসহ তাঁরা জামিনে আছেন।
গত ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। পরে গুলশান থানায় করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
৩১ আগস্ট ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার আগপর্যন্ত পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। ১০ অক্টোবর পরীমনি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন।
মামলা হওয়ার দুই মাসের মাথায় গত ৪ অক্টোবর ঢাকার সিএমএম আদালতে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পরীমনির বাসা থেকে জব্দ মাদকদ্রব্যের বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সিআইডিকে জানানো হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পরীমনির নামে মদজাতীয় পানীয় সেবনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের ৩০ জুন ওই লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়। পরীমনি বিভিন্ন স্থান থেকে এ মামলার দুই আসামি আশরাফুল ইসলাম ও কবির হোসেনের মাধ্যমে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে বাসায় রেখেছিলেন। মাদকদ্রব্য রাখার বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরীমনি তাঁর গাড়িটি মাদকদ্রব্য বহনের কাজে ব্যবহার করতেন।