ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩   সন্ধ্যা ৭:০৪ 

Home Blog Page 57

সাক্ষ্য আইনের ‘বিতর্কিত’ ধারা বাতিলে হাইকোর্টে রিট

0

১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ (৪) ও ১৪৬ (৩) ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্ল্যাস্ট), আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক) ও নারীপক্ষ যৌথভাবে এই আবেদনটি করেছে।
ধারা দুটিকে কেন বাতিল ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না এবং সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সমতার ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না সেই প্রশ্নে রুল চাওয়া হয়েছে। আবেদনে আইন সচিবকে বিবাদি করা হয়েছে।
বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে রিটটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী শারমিন আকতার।
এদিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, রিট আবেদনটি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে রোববার উপস্থাপন করা হয়েছে। ‘কাল বা এই সপ্তাহের যে কোনো’ দিন শুনানি হতে পারে।
এর মধ্যে সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৫(৪) বাতিলের প্রস্তাব আগামী জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদে তোলা হতে পারে শনিবার একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন আইনমন্ত্রী।
এর মধ্যে ঢাকার বনানীর রেইনট্রি হোটেলের ধর্ষণ মামলার রায়ে বিচারক ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর মামলা না নেয়ার পর্যবেক্ষণ দিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এর মধ্যে এই বিচারককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিচারক কামরুন্নাহারকে প্রত্যাহারে প্রজ্ঞাপন জারি

0

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোছা. কামরুন্নাহারকে প্রত্যাহার করে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এটি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার গত বৃহস্পতিবার আলোচিত রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলায় পাঁচ আসামির সবাইকে খালাস দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি পুলিশকে ঘটনার ৭২ ঘণ্টার পর ধর্ষণের মামলা না নেয়ার কথা বলেন। তাঁর এই পর্যবেক্ষণ ন্যায়নীতি ও সংবিধান পরিপন্থী বলে উদ্বেগ জানান আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা। রোববার সকালে ওই বিচারককে আদালতে না বসার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার ৭২ ঘণ্টার পর ধর্ষণ মামলা না নেয়ার যে কথা বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার বলেছেন, তা বিচারকদের জন্য ‘বিব্রতকর’। এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ভুল নির্দেশনা দেয়া। ওই বিচারক আইন ও সংবিধান দুটোই লঙ্ঘন করেছেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল, সে জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

৭২ ঘন্টা পর ধর্ষণ মামলা নেয়া যাবে না, এই পর্যবেক্ষণ মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী: আইনমন্ত্রী

0
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক-ফাইল ছবি।

ঘটনার ৭২ ঘন্টার পরে ধর্ষণ মামলা নেয়া যাবেনা- বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের এমন বক্তব্য বিচারকদের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
রোববার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ভুল নির্দেশনা দেয়া। সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল, সেজন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেটাও সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে কিন্তু এগিয়ে যাবে।’ ‘আইনে তার যা সুবিধা…তাকে শোকজ করা হবে। তিনি কেন বলেছেন তার ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। সেটা আইনিভাবে যে প্রক্রিয়া দেয়া আছে, সেটাই তার ব্যাপারেও প্রযোজ্য।’ আনিসুল হক বলেন, কোন ফৌজদারি অপরাধের মামলা তামাদি হয় না (মানে ইট ইজ নট বার বাই লিমিটেশন)। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর ২১ বছর কোন মামলা হয়নি। ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর এই মামলার প্রথম এফআইআর হয়। মন্ত্রী আরও যুক্তি দেন, সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে পরিস্কারভাবে বলা আছে, বাংলাদেশের কোন নাগরিক বা বাংলাদেশে সাময়িকভাবে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে বা পক্ষে একমাত্র আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। অথচ রেইনট্রি হোটেলে দুই নারীকে ধর্ষণ মামলার বিচারক বলেছেন, ঘটনার ৭২ ঘন্টার পরে মামলা নেয়া যাবেনা। তাঁর এই বক্তব্যটি আইন এবং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে দেয়া মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। ওই বিচারক আইন ও সংবিধান দুটোই ভায়োলেশন (লঙ্ঘন)করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই ভায়োলেশনের তাৎপর্যটা কী? অনেক রায় আছে যেগুলো হয়ত বেআইনি হয়, আপিল বিভাগে গিয়ে স্যাটেসাইড হয়। এখানে তিনি যে কথাটা বলেছেন, সেটার একটা ইপ্লিকেশন আছে, একটা কনিসিকিউয়েন্স আছে। এ কারণেই আজকে বিচার বিভাগের যিনি গার্ডিয়ান, যিনি প্রধান তাঁকে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। ঠিক সে কারণেই আমি আইনমন্ত্রী হিসেবে গতকাল বলেছিলাম, প্রধান বিচারপতির কাছে এ বিষয়ে চিঠি দিবো।’ আনিসুল হক বলেন, ‘এখন কথা হচ্ছে এটা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন- বিজ্ঞ বিচারকগণ প্রতিদিনই কিন্তু রায় দেন। রায়ে কেউ সন্তুষ্ট হয়, কেউ অসন্তুষ্ট হয়। যারা অসন্তুষ্ট হন, আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, সংবিধান অনুযায়ী তারা উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন। সর্বোচ্চ আদালত হচ্ছে আপিল বিভাগ। সেই আপিল বিভাগের সাংবিধানিক কিছু বাড়তি ক্ষমতাও আছে। সেগুলো তারা প্রয়োগ করে। রায় দিলেই যে কোন বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়, তা নয়। তারা মেরিটের উপরে, আইনের উপরে, রায় দেয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ স্বাধীন।’ ‘কিন্তু এখানে যে ঘটনাটা ঘটেছে সেটা হচ্ছে একজন বিজ্ঞ বিচারক তিনি ওপেন কোর্টে রায় দেয়ার সময় তার পর্যবেক্ষণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছেন, ৭২ ঘণ্টা পর কেউ যদি কোন ধর্ষণ মামলা করতে আসে, তাহলে সেই মামলাটা গ্রহণ না করতে। এটাই হচ্ছে আপত্তির জায়গা।’ বিচারক কামরুন্নাহারের দেয়া রায় নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি না হয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা লেখেন বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। কেড়ে নেয়া কথাটার মানে হচ্ছে জোর করে কেড়ে নেয়া। এটা কেড়ে নেয়া হচ্ছে না। এই রকম যদি ঘটনা ঘটে প্রধান বিচারপতির এই ক্ষমতা আছে, তাকে বিচারিক দায়িত্ব থেকে কিছুদিন সরিয়ে রাখা।’ বিচারকের পর্যবেক্ষণের কারণে কোন ভুল ম্যাসেজ যাবে কিনা- এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বা নির্বাহী বিভাগ যদি বিচারকের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পরিস্কার না করতো, বিচার বিভাগ যদি পদক্ষেপ না নিত, তাহলে রং ম্যাসেজ হয়তো যেত কিন্তু এই পদক্ষেপ নেয়ার পর আমার মনে হয় না রং ম্যাসেজ যাওয়ার কোন সম্ভাবনা আছে।

বিচারক কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার

0
ছবির উৎস গুগল।

ধর্ষণের ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে পুলিশকে মামলা না নেওয়ার পর্যবেক্ষণ দিয়ে সমালোচিত বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এই বিচারককে রোববার সকাল থেকে আর আদালতে না বসার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান রোববার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
সেখানে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারকদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
“তার বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে তাকে বর্তমান কর্মস্থল হতে প্রত্যাহার করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হতে অদ্য ৯টা ৩০ ঘটিকায় আইন মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।”
বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার বিচার শেষে বৃহস্পতিবার সব আসামির খালাসের রায় দেন ঢাকার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এই বিচারক।
তার সঙ্গে ধর্ষণ প্রমাণে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফরেনসিক পরীক্ষা করার বাধ্যবাধকতার যুক্তি দিয়ে ওই সময়ের পর মামলা না নিতে পর্যবেক্ষণ দেন তিনি।
এমন পর্যবেক্ষণ নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই শনিবার বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “একটি কথা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমি উনার (বিচারক) রায়ের বিষয়বস্তু নিয়ে এখন কথা বলতে চাই না।
“কিন্তু উনার (বিচারক) অবজারভেশনে ৭২ ঘণ্টা পরে পুলিশ যেন কোনো ধর্ষণ মামলার এজাহার না নেয়, এই যে বক্তব্য উনি দিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক।”
ঢাকার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ২০১৭ সালের ৬ মে বনানী থানায় গিয়ে একটি মামলা করেন। তাতে তিনি অভিযোগ করেন, এক মাসের বেশি সময় আগে ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের এক অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে তাকে এবং আরেক তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল।
ওই তরুণীর মামলার প্রধান আসামি ছিলেন আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ। এছাড়া সাফাতের দুই বন্ধু এবং দেহরক্ষী ও গাড়িচালককেও আসামি করা হয়।
তবে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল শুধু সাফাত ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে। বাকিদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল সহযোগিতার অভিযোগ।
চার বছর পর ২২ জনের সাক্ষ্য নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রায় দেন বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার। তাতে তিনি অভিযোগ ‘প্রমাণিত হয়নি’ সিদ্ধান্ত দিয়ে সব আসামিকে খালাস দেন।
তিনি বলেন, অভিযোগকারী তরুণী ‘স্বেচ্ছায়’ রেইনট্রি হোটেলে গিয়ে আসামির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন, সেখানে ‘ধর্ষণ ঘটেনি’। তদন্ত কর্মকর্তা ‘প্রভাবিত হয়ে’ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছেন।  
ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা না হলে পুলিশকে ধর্ষণের মামলা না নেয়ার ‘নির্দেশ’ দিয়ে পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, “৭২ ঘণ্টা পর মেডিকেল টেস্ট করা হলে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় না। তাতে মামলা প্রমাণ করা দুরূহ হয়ে পড়ে।”
রায় হচ্ছে কোনো একটি মামলায় দণ্ড বা সাজার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত। আর রায়ের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, ওই মামলা প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারকের অভিমত, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ; যা বিচারক প্রত্যাহার বা বাতিল করতে পারেন। নিম্ন আদালতের রায়ের পাশাপাশি পর্যবেক্ষণও উচ্চ আদালত বাতিল করতে পারে।
বিচারকের ওই পর্যবেক্ষণ উচ্চ আদালতের নির্দেশনাই শুধু নয়, সংবিধানের লঙ্ঘন বলে মনে মত দেন অধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা। রায়ের পর বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীতে পদযাত্রা করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধশতাধিক নারী। 
সাক্ষ্য আইনের বিতর্কিত ১৫৫(৪) ধারা বাতিলের পাশাপাশি গৃহ, কর্মস্থল, গণপরিবহনে নারীর জন্যে নিরাপদ বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

আইজিপির স্ত্রী পরিচয়ে এসপিকে ফোন, এক নারী গ্রেফতার

0

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে কনস্টেবল নিয়োগে প্রতারণার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নারীর নাম রুমা আক্তার (৩২)।
পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. কামরুজ্জামান জানান, ওই নারী আইজিপির স্ত্রীর মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ৭ নভেম্বর দুপুর পৌনে ১২টায় মোবাইল ফোন থেকে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপারের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে কল করে একজন প্রার্থীকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দিতে বলেন। এ সময় তিনি এসএমএস করে প্রার্থীর তথ্যাদিও পাঠান পুলিশ সুপারের কাছে।
তিনি আরও জানান,এই বিষয়টি প্রতারণা প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখা গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানার আটিবাজার ঘাটারচর এলাকায় ওই নারী প্রতারকের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে পুলিশ গত ১১ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুমা আক্তারকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। তাকে পরে টাঙ্গাইলের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক শামছুল আলম রুমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, আইজিপির স্ত্রী পরিচয় দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের জন্য তদবির করায় সন্দেহ হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় পরিচয়দানকারী ওই নারী একজন প্রতারক।
পুলিশ জানিয়েছে, রুমা আক্তারের বাড়ি বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানার রহমতপুর গ্রামে। বর্তমানে সে ঢাকা জেলার সাভার থানার লুটেরচর গ্রামে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করেন।

গণজাগরণই পারে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধ করতে: ডিএমপি কমিশনার

0

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন সেটা তরুণরাই বাস্তবায়ন করবে এ বিশ্বাস জানিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, বলেছেন ‘সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে আর একটি প্রাণও না ঝরুক’।
‘গণজাগরণই পারে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধ করতে’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে গণজাগরণ নিয়ে এ ছায়া সংসদ অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি গণজাগরণই পারে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধ করতে, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ছায়া সংসদের মাধ্যমে তরুণ সমাজে একটি অসাম্প্রদায়িক মনোভাব তৈরি হবে”।
উভয় দলের যু্ক্তি-তর্কের উপর আলোকপাত করে কমিশনার বলেন, “এখানে সরকারি দল গণজাগরণের পক্ষে এবং বিরোধী দল আইন প্রণয়নের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু আমরা দেখেছি সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্র নিহত হওয়ার পর গণজাগরণের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন করা হলেও আজও আমরা পিতা-মাতার সাথে স্কুল ছাত্রের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের চিত্র দেখতে পাই। কিন্তু না, আমাদের ভিতর থেকে পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের সন্তানকে ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে”।
এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটবে কি ঘটবে না এটা বলা যেমন অসম্ভব, তেমনি ধারণা করাও খুব কঠিন। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে মাননীয় আইজিপি স্যার কর্তৃক ইতিমধ্যে সকল ওসি, এসপিদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে”।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কোন উস্কানিমূলক বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনে এমন পোস্ট দেখলে লাইক বা শেয়ার না করে সাথে সাথে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন ডিএমপি কমিশনার।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশে সব ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠান যথাযোগ্যভাবে পালনের ঐতিহ্য রয়েছে। চিরায়ত ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার এই ঐতিহ্যের বিচ্যুতি কোনভাবেই কাম্য নয়।
তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার গণজাগরণ। এই গণজাগরণের সম্মুখসারিতে থাকবে আজকের এই তরুণরা। একইসাথে ধর্মীয় সহিংসতা রোধে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, নাগরিক সংগঠন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, ইসলামিক স্কলার, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও জনপ্রতিনিধিসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ-ভারত দুদেশের সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে গণজাগরণের পক্ষে ও বিরোধী দল কুমিল্লা ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা সময়পোযোগী আইন প্রণয়নের পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন। প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল কুমিল্লা ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। সূত্র-ডিএমপি নিউজ।

বিচার বিভাগের কলঙ্কজনক অধ্যায়

0
ছবির উৎস গুগল।

দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো । দুর্নীতির দায়ে সাবেক( পদত্যাগী) একজন প্রধান বিচারপতিকে দণ্ডিত হতে হলো। নজিরবিহীন ঘটনা। আইন ও বিচারাঙ্গনে এ নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। খোদ আইনমন্ত্রীও এ নিয়ে মনোকষ্টে ভুগছেন। বলেছেন, বিচার বিভাগের জন্য এটা নিশ্চয়ই ভাল নজির নয়। তবে কেউই যে আইনের উর্ধে নয় এটাও প্রমাণিত হলো।
বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যিনি এস কে সিনহা নামেই বেশী পরিচিত। মফস্বল জেলা বারের একজন আইনজীবী থেকে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী তারপর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, আপিল বিভাগের বিচারপতি থেকে দেশের প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। বলা যায় ভাগ্যের বরপুত্র। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই ছিলেন প্রথম যিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যিনি অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক তার আমলেই নজির স্থাপন করেছিলেন এস কে সিনহাকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে। সংবিধান অনুযায়ী যদিও প্রধানবিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে হয় না, যেখানে অন্য সকল ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চলতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি ও শাসন ক্ষমতা এবং সংসদীয় পদ্ধতিতে যেহেতু প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই ক্ষমতা ঘুরপাক খায়, ফলে এ ক্ষেত্রেও অর্থাৎ প্রধানবিচারপতি নিয়োগেও রাষ্ট্রপতিকে হয়তো প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ শুনতে হয়েছে। আর এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উদারতার পরিচয় দিয়েছিলেন তা ইতিহাসে প্রথম। কিন্তু প্রধানবিচারপতি নিযুক্ত হয়ে মি. সিনহা সেই উদারতার সম্মান রাখেন নি। নিজে দুর্নীতির জালে জড়িয়েছেন পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ করে বসেন রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নিয়েও। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ে তিনি যে মন্তব্য করেন, মত প্রকাশ করেন তাতে বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ব নিয়েই টান দেন। এতে স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষুব্ধ হন বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা।
কোন মোহে পড়ে বিচারপতি সিনহা এমন আচরণে মেতেছিলেন তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক রহস্য। তবে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার ঘটনা ঘটে। নানামুখি চাপে তিনি দেশ ছাড়েন আর বিদেশে বসেই পদত্যাগ করেন। গুঞ্জন ছিলো তিনি জুডিশিয়াল ক্যু করতে চেয়েছিলেন। এক অলীক স্বপ্নে তিনি বিভোর ছিলেন।
অথচ মি. সিনহা বিচারাঙ্গনের প্রধানের দায়িত্ব পেয়ে ভুলে গিয়েছিলেন তার পথ পরিক্রমার কথা। তিনি কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে কৃতঘ্নতার পরিচয় দেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দুর্ভাগ্যই বলা যায়। বিশ্বাস করে তার উদারতায় যাকে দায়িত্ব দেন তিনিই ক্ষমতায় বসে ভুলে যান কৃতজ্ঞতার কথা। এর আগে বিচারপতি সাহবুদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রপতি বানিয়েছিলেন দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ কী প্রতিদান দিয়েছেন তা সবাই জানি।
একই ভূমিকা রাখলেন বিচারপতি এসকে সিনহা। শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন দেশের ইতিহাসে নজির স্থাপন করতে। সংখ্যালঘু মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোক এস কে সিনহাকে তিনি প্রধানবিচারপতি করলেন। কিন্তু দায়িত্ব পেয়েই চোখ উল্টালেন মি. সিনহা। দুর্নীতিতেও জড়ালেন। এমন আরও নজির দেখি বিভিন্ন ক্ষেত্রে। শেখ হাসিনা বিশ্বাস করে অনেককে মন্ত্রী বানিয়েছেন, পিএস, ডিপিএসসহ বিভিন্ন পদে বসিয়েছেন। কিন্তু দায়িত্ব পেয়ে তারা নিমজ্জিত হয়েছেন দুর্নীতিতে, নানা অনিয়মে।
বিচারপতি সিনহা বিচারাঙ্গনে যে নোংরা ইতিহাস রচনা করে গেলেন এর ঘানি বিচারবিভাগকে টানতে হবে।
শুধু বিচারপতি এস কে সিনহাই নন, উচ্চ আদালতের আরও কয়েকজন বিচারপতির বিরুদ্ধে এমন আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এমন কী হাইকোর্ট বিভাগের কর্মরত তিন জন বিচারপতির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত দুবছর ধরে তাদের বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এটাও এক নজিরবিহীন ঘটনা। কর্মরত তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ দুই বছরেও নিস্পত্তি করা সম্ভব হয় নি। তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিস্পত্তি করা হচ্ছে না, আবার তাদের বিচারকাজ পরিচালনা করতেও দেয়া হচ্ছে না। অথচ প্রতি মাসে রাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ টাকা যা জনগণের করের টাকা তাদের পেছনে খরচ হচ্ছে। এটা শুধু অনৈতিকই নয় এটাও দুর্নীতি। এ ছাড়া এই বিচারকরাও আছেন মানসিক ও সামাজিক অশান্তিতে। এ নিয়ে আদালত পাড়ায় শোনাযায় নানা কানাঘুসা। সর্বোচ্চ আদালত মানুষের বিচার চাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল। নির্বাহী বিভাগের দাপটে মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে,তাদের মৌলিক অধিকার হরণ হয় তখন আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসে মহান আদালতে। আর সেই আশ্রয়স্থল আদালত ও বিচারক সম্পর্কে মানুষের মনে যদি সন্দেহ, আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয় তা হলে মানুষ আর যাবে কোথায়? তাকে নিস্পেষিত হয়ে অধিকারহারা হয়ে থাকতে হবে। কোনো সভ্য সমাজে এটা কাম্য হতে পারে না। মাননীয় বিচারকরা কী এটা বুঝেন না?

প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শি নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে: আইনমন্ত্রী

0

দেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীকে একজন যোগ্য আর্কিটেক্ট (স্থপতি) বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শি নেতৃত্বে দেশ দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) এর অডিটোরিয়ামে সিনিয়র কৃষিবিদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ঢাকা মেট্রোপলিটন শাখা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০১৫ সালে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ উন্নয়শীল দেশের কাতারে যুক্ত হবে। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য ২০৩১ সালের মধ্যে দেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করা এবং ২০৪১ সালে দারিদ্র অবসান করে উচ্চ আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। এমন কোন পরিকল্পনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ নেয়নি। তিনি একটা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা নিয়েছেন যেটা ২০২১ সাল পর্যন্ত। এটি ব্যতিক্রম। এতে বুঝা যায়, তিনি একজন আর্কিটেক্ট।’’ ১২ নভেম্বর দুটি কারণে উল্লেখযোগ্য দিন বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই দিনে ইনডেমনিটির মত কালো আইন বাতিল করে আইনের শাসনের দ্বার উন্মোচন হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে এই কালো আইন বাতিল করা হয়। তার ফলেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও জেল হত্যার বিচার হয়েছে। তিনি বলেন, আজকে দিনটি আরেকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হলো ১৯৭০ সালের এই দিনে ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড় হয়েছিল। সেই ঘুর্ণিঝড়ে বহু মানুষ হতাহত হয়। তখন কিন্তু পাকিস্তান সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বঙ্গবন্ধু সে দিন পদক্ষেপ নেয়ায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তার বেশ প্রভাব পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গবেষণাবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গবেষণায় গুরুত্বারোপ করেন। ২০০৯ সালে তিনি গবেষণার জন্য প্রচুর টাকা দিয়েছেন। মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে আমি দেখেছি, গবেষণার জন্য তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। আইনমন্ত্রী কৃষিবিদদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনারা গবেষণা চালিয়ে যাবেন। সেই জন্য সরকার আপনাদের সব ধরণের সহযোগিতা করবে। ১৯৯৬ সালের ২৬ লাখ টন খাদ্য সংকট থেকে এখন খাদ্য শস্যে উদ্বৃত্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী সারের দাম কমিয়েছেন। তিনি কৃষক বান্ধব নীতি গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ। যেখানে প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বাড়ছে। নগরায়ন হচ্ছে, শিল্পায়ণ হচ্ছে, কৃষি জমি কমছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত প্রভাবও রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে খাদ্য সংকট হওয়া স্বাভাবিক। এটা মোকাবেলা করা আপনাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর দেখানো গবেষণা আপনারা চালিয়ে যাবেন। আপনাদের গবেষণার জন্য যে অর্থ প্রয়োজন হবে, সেই অর্থ সরকার সব সময় দেবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই ,যার জন্য মানুষ গর্ব করবে। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মোঃ লিয়াকত আলী জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শের-ই- বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া, কেআইবি’র মহাসচিব মো. খায়রুল আলম (প্রিন্স), আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. তাসদিকুর রহমান সনেট প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ৯০ দিনের মধ্যে বিচার হবে: প্রধান বিচারপতি

0
ছবি চ্যানেল আই অনলাইনের সৌজন্যে

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার চার্জশিট প্রদানের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে জুডিশিয়ারির অবস্থান জিরো টলারেন্স। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নয়।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত বিজয়া পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন ‘ধর্ম আমাদের শিক্ষা দেয় উদারতা, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সহিষ্ণুতা। আমাদের দীর্ঘকালের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুমহান ঐতিহ্য আমাদের ধারণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘এই দেশ সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে নাকি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে তা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পার্মানেন্টলি সেটেল হয়ে গিয়েছে। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমাদের সংবিধানে মাইনরিটি বলে কোন শব্দ নেই। আসুন আমরা সবাই এটা ভাবি যে, আমরা বাঙালি ও বাংলাদেশের নাগরিক। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বহমান থাকবে ততদিন এদেশে সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিতে পারবে না। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।’
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্ট করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। তিনি যেই হোন না কেন, তাকে নূন্যতম ছাড় দেয়া হবে না। কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করতে পারে, সেটাও সফল হবে না।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন,’ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবার সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আমরা সবাই এটাকে প্রতিহত করবো। এবিষয়ে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ রয়েছে এবং এধরণের কোন মামলার আমরা ছাড়া দেইনি।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সবেক সভাপতি ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ধর্মীয় বক্তা স্বামী পূর্ণতাত্মানন্দজী মহারাজ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি মুহম্মদ শফিক উল্যাহ, বিজয়া পুণর্মিলনী উদযাপন পরিষদের আহবায়ক জয়া ভট্টাচার্য।

তালেবানের সঙ্গে চুক্তিঃ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ডেকে এনে ভর্ৎসনা করলো পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্ট

0

পাকিস্তানি তালেবান নামে পরিচিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে অস্ত্রবিরতি চুক্তি করায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদালতে ডেকে এনে ভর্ৎসনা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নিষিদ্ধ ঘোষিত কট্টরপন্থী সংগঠন টিটিপির সঙ্গে অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে যাওয়ায় এ ভর্ৎসনা করা হয়েছে।  ডন অনলাইনের খবরে বলা হয়, বুধবার ইমরান খানকে তলব করেন সুপ্রিম কোর্ট। এদিন নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পর আদালতে পৌঁছান তিনি।
মঙ্গলবার পাকিস্তানি তালেবান নামে পরিচিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে এক মাসের অস্ত্রবিরতি চুক্তি করেছে ইমরান খান সরকার।  
২০১৪ সালে দেশটির আর্মি পাবলিক স্কুলে হামলা এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সরকারের চলমান আলোচনা নিয়ে ইমরানকে প্রশ্ন করেন আদালত।
পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি গুলজার আহমেদের নেতৃত্বে বিচারপতি কাজী মোহাম্মদ আমিন আহমেদ ও বিচারপতি জিয়াউল হাসানকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চে হাজির হন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। 
প্রধান বিচারপতি গুলজার আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনি বর্তমানে ক্ষমতায় আছেন। দেশের সরকার আপনার নেতৃত্বে চলে। কিন্তু তারপরও কিছু স্বীকৃত অপরাধীকে আপনি আলোচনার টেবিলে নিয়ে এলেন। এটা আপনি কী করলেন? কীভাবে করতে পারলেন? আমরা কি আবারও তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করছি?
বিচারপতি কাজী মোহাম্মদ আমিন আহমেদ ইমরান খানকে স্মরণ করিয়ে দেন, পাকিস্তান কোনো ছোট দেশ নয়। 
তিনি বলেন, আমাদের রয়েছে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ সেনাবাহিনী। কিন্তু তাদের (টিটিপি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন ফের আলোচনার টেবিলে ডাকা হলো?
২০১৪ সালে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের এপিএস ওয়ারসাক স্কুলে হামলা চালিয়ে ১৪৭ জনকে হত্যা করেছিল টিটিপি। নিহতদের ১৩২ জনই ছিল শিশু।
শুনানির পুরো সময়ে ইমরান খানকে একের পর এক প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন তিন সদস্যের ওই বেঞ্চ। একপর্যায়ে সমন জারি করে শুনানি হচ্ছে জানিয়ে ইমরান খানকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বিচারপতিরা সেই সুযোগ না দিয়ে ইমরান খানকে একের পর এক এমন প্রশ্ন করতে থাকেন।
আদালতের প্রশ্নের জবাবে ইমরান বলেন, ২০১৪ সালের হামলা তার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক স্মৃতি, কারণ সে সময় পেশোয়ারে তার দল ক্ষমতাসীন ছিল।
ইমরান খান বলেন, পাকিস্তানের সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) পারভেজ মোশাররফ যখন যুক্তরাষ্ট্রের কথিত সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের সঙ্গে পাকিস্তানকে জড়ান, তখন তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন। 
তিনি উল্লেখ করেন, আর্মি স্কুলে ওই হামলার পর ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের একটি খসড়া হিসাব অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের কারণে পাকিস্তানের ৮০ হাজার প্রাণহানি হয়েছে।  গভীর মানসিক অসুস্থতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল মানুষ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল তারা।
প্রধানমন্ত্রীকে ভর্ৎসনার পাশাপাশি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিও উষ্মা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, যখন নিজের দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্ন আসে, তখন গোয়েন্দা সংস্থা কোথায় থাকে? পেশোয়ারের ঘটনায় সাবেক সেনা প্রধান বা সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কি কোনো মামলা করা হয়েছিল?
জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তদন্তকারী দল ঘটনার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়নি।