ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ৯:৪৬ 

Home Blog Page 59

অসহযোগিতার সঙ্গে যৌন হয়রানিরও শিকার হন নারী ইউএনওরা: টিআইবির জরিপ

0

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) অসহযোগিতা ও প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি যৌন হয়রানিরও শিকার হন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক জরিপে এমন তথ্য ওঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার ‘স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উপজেলা নারী নির্বাহী কর্মকর্তার চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
টিআইবি বলছে, উন্নয়ন কার্যাবলী তদারকিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের সময় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ ইউএনও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে এ জরিপে তারা অভিযোগ পেয়েছে।
ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রাক্তন ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাহিদ শারমীন।
তিনি বলেন, ২০২০ সালের জুন মাসের তথ্যের ভিত্তিতে দেশের ৪৮৫টি উপজেলার মধ্যে ১৪৯টি উপজেলায় কর্মরত নারী ইউএনওকে জরিপের জন্য ই-মেইলে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ৪৫ জন জরিপে অংশ নেন।
এছাড়া, গুণগত তথ্য সংগ্রহ করার জন্য মুখ্য তথ্যদাতা হিসেবে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা পর্যায়ে অন্যান্য সরকারি অফিসের কর্মকর্তা এবং প্রশাসন ক্যাডারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদে সাচিবিক সহায়তা দিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারী ইউএনওরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে আসা ‘অবৈধ আর্থিক সুবিধার’ কারণে অনুমোদন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ ইউএনও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে অনিয়ম করতে চাপের মুখে পড়ার কথা বলেছেন। ২০ শতাংশ ইউএনও বলেছেন, অতিরিক্ত ত্রাণ সামগ্রীর জন্য সুপারিশ করতে তাদের বাধ্য হতে হয়।
এছাড়া, ব্যয়ের যথার্থতা যাচাই না করতে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসার কথা বলেছেন ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা। ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী ইউএনও ভুয়া ব্যয়ের বিল অনুমোদন এবং ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ নারী ইউএনও উপজেলা পরিষদের ক্রয় সংক্রান্ত কাজে অনিয়ম করতে বাধ্য করার কথা বলেছেন।
২৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ নারী ইউএনও দায়িত্ব পালনে সহকর্মীদের পক্ষ থেকে এবং ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে উপজেলা চেয়ারম্যানের ‘অসহযোগিতার’ সম্মুখীন হওয়ার কথা বলেছেন।

৩১ দশমিক ৪ শতাংশ ইউএনও দুর্নীতিবিরোধী কাজের ক্ষেত্রে ‘প্রতিবন্ধকতা’, সমান সংখ্যক ইউএনও বিভিন্ন মহল থেকে ‘অনৈতিক কাজের জন্য চাপ’, ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ এবং ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ ইউএনও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন জনসেবামূলক কাজে বাধার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ দিয়েছেন।
সরকারের বিভিন্ন বিভাগের দপ্তরের সাথে সমন্বয়হীনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে অসহযোগিতার কথা বলেছেন ৩১ শতাংশ ইউএনও।
এছাড়া, ৭ দশমিক ১০ শতাংশ ইউএনও জেলা প্রশাসন থেকে যথাসময়ে সহযোগিতা না পাওয়া ও ১১ দশমিক ৯ শতাংশ ইউএনও স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী বা সচিবের ‘প্রভাব খাটানোর’ কথা জানিয়েছেন।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগ মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন ৯৮ শতাংশ ইউএনও। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ার কথা বলেছেন ৯১ শতাংশ।
যাদের মধ্যে ৭৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রয়োজনীয় বাজেটের অভাব, ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসহযোগিতা, ২২ দশমিক ৯ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণে দুর্নীতি, ২০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের অসহযোগিতা এবং ৫ দশমিক ৭ শতাংশ ইউএনও মেডিকেলের সুরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের দুর্নীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কথা বলেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৮৯ দশমিক ১ শতাংশ নারী ইউএনও পদক্ষেপ নিবলেও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
দুর্নীতির বিরদ্ধে পদক্ষেপ নিতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনীতিবিদদের চাপের মুখে পড়ার কথা জানিয়েছেন ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ ইউএনও।
উল্টো দুর্নীতির বিরদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তাদের বিরদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয় বলে জানিয়েছেন ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা।
৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ ইউএনও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, এমনকি সাংবাদিকের মাধ্যমেও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ার কথা বলেছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসহযোগিতার কারণে ৫০ শতাংশ, স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কারণে ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ , উপজেলা পরিষদের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তার দ্বারা ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ, জেলা প্রশাসকের কারণে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কারণে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ ও সাধারণ জনগণের কারণে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ ইউএনও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন বলে উঠে এসেছে জরিপে।
স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নারী ইউএনওদের ভূমিকা আরও কার্যকর করতে আট দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ইউএনওদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দূর করার জন্য উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা পরিষদের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে নারীর প্রতি সংবেদনশীল আচরণের ওপর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের এসিআরে জেন্ডার সংবেদশীলতাকে একটি সূচক হিসেবে রাখা দরকার।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সাচিবিক সহায়তা দেওয়ার কাজে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইউএনও এবং চেয়ারম্যানদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশনের আয়োজন করার সুপারিশ করা হয়েছে।
টিআইবি বলছে, দুর্নীতি প্রতিরোধে পদক্ষেপের জন্য নারী ইউএনওদের জেলা পর্যায়ে সম্মানিত করা এবং পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সংবাদমাধ্যমগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যথাসাধ্য সঠিক সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে ইউএনওর কার্যক্রম সম্পাদনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিতে হবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশে কর্মরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এক তৃতীয়াংশ নারী। এটা নারীর ক্ষমতায়নের একটি দৃষ্টান্ত। তারপরও নারী পরিচয়ের কারণে কর্মক্ষেত্রে তাদের যে প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ, তা এই ইতিবাচক অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে।
“আমাদের প্রশাসনিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিবেশ জেন্ডার সংবেদনশীল নয়, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক।
”নারী ইউএনওকে একজন মানুষ বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে না দেখে মূলত নারী হিসেবে দেখার প্রবণতা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।”
সাংবাদিকদের কারণেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারী ইউএনওরা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন বলে উঠে এসেছে গবেষণায়।
এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সাংবাদিকতার অনেক ভালো দৃষ্টান্ত রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের সাথে যোগসাজশে স্থানীয় সাংবাদিকরা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে থাকেন।
”এক্ষেত্রে স্থানীয় সাংবাদিকদের পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা বা অন্যান্য সুবিধাদি না পাওয়া, এবং তাদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের মতো বিষয়ও কাজ করে।”বিডি নিউজ।

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিতে ৭২’র সংবিধানে ফিরে যেতে হবে’

0

বাঙালির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য নিশ্চিত করতে হলে ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার ৫০তম সংবিধান দিবস উপলক্ষে নির্মূল কমিটির ভার্চুয়াল আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তারা এ মন্তব্য করেন।
কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এতে আরও অংশ নেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, আরমা দত্ত প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ অবদান স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ অবদান সংক্ষিপ্ততম সময়ে জাতিকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান উপহার দেওয়া। এ সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।’
‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান ও তার উত্তরসূরী জেনারেল এরশাদ সংবিধানের সাম্প্রদায়িকীকরণের মাধ্যমে আলোকাভিসারী একটি জাতিকে ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতার কৃষ্ণ গহ্বরে নিক্ষেপ করেছেন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৭২ এর সংবিধান কার্যকর থাকলে বাংলাদেশে আজ ধর্মের নামে এত নির্যাতন, হানাহানি, সন্ত্রাস, বোমাবাজি, রক্তপাত আমাদের দেখতে হতো না। বাংলাদেশ যদি একটি আধুনিক ও সভ্য রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়, তাহলে ৭২ এর সংবিধানের পুনপ্রবর্তন ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোন পথ খোলা নেই।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘৪ নভেম্বর বাঙালি জাতির জীবনের উজ্জ্বল দিন। ১৯৭২ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান প্রণয়ন করেন। ৭২ এর সংবিধান আমাদের জাতির দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলনের প্রতিফলন। কিন্তু ওই সংবিধানে ৪টি স্তম্ভ যেভাবে ছিল এখন সেভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’
বঙ্গবন্ধুর সংবিধানের লক্ষ্যগুলো অর্জনে অব্যাহতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৭২ এর সংবিধানের মূল ধারণাগুলোকে ধারণ করতে হবে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে।’
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অন্যতম রচয়িতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি দুর্গাপূজায় দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার ভঙ্গ হয়েছে। এ ধরনের শক্তি প্রয়োগ করা সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মূলনীতির পরিবর্তন, রাষ্ট্রীয় ধর্ম সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মাঝে ভেদ সৃষ্টি, অর্পিত ও শত্রু সম্পত্তি আইনকে অব্যাহত রাখার মাধ্যমে নাগরিকদের অধিকারের বৈষম্য সৃষ্টি, অবৈধ ক্ষমতা দখল ও অসাংবিধানিক সকল ক্রিয়া কর্ম ও পরিবর্তনকে বৈধতা দান এসবই সংবিধানের স্খলনের উদাহরণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান রক্ষা করার অঙ্গীকার করে যারা শপথ নিয়েছিল তাদের স্খলন আর সেই সাথে সংবিধানকে রক্ষা করতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ব্যর্থতা এক ধরনের হতাশায় রূপ নিয়েছিল। এই অন্ধকারের অমানিশা থেকে বেরিয়ে এসে সংবিধানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনার দিন বদলের যে আহ্বান, সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছে এদেশের জনগণ। ছিনিয়ে এনেছিল নিরঙ্কুশ বিজয়। তাই বিজয় সংহত করে জনগণের সাংবিধানিক প্রত্যাশার বাস্তবায়ন সময়ের জরুরি দাবি।’

আপিল শুনানির আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংবাদ সঠিক নয়: আইনমন্ত্রী

0
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক-ফাইল ছবি।

আপিল শুনানির আগে চুয়াডাঙ্গায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, তাঁর কাছে যে তথ্যাদি আছে সেটার সাথে প্রকাশিত খবরের মিল নেই। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, আপিল শুনানির আগে তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে, এ কথাটি কিন্তু সঠিক না। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাদেরকে বিচারিক আদালতে মৃত্যুণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছিল। তারপর হাইকোর্ট বিভাগে তাদের মৃত্যুণ্ডাদেশ ‘কনফার্ম’ করা হয়েছিল। এরপর তারা জেল আপিল করেছিলেন। এই জেল আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের রায়কে বহাল রাখেন। সবশেষে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীগণ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান। প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করার পর তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। সুতরাং আপিল শুনানির আগে তাদের মৃত্যুণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে, এ কথাটি কিন্তু সঠিক না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ আইনের অপব্যবহারের ব্যাপারে আমরা বড় কঠোর হবো। যেই এ আইনের ‘মিসইউজ ও অ্যাবিউজ’ করবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থা আমরা করছি। তার কারণ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি আইন। বাক-স্বাধীনতা বা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করার জন্য এ আইন করা হয়নি- আমি বারবার এ কথা বলবো। তিনি বলেন, যারা এ আইনের অপব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। আইনমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে আরও দুটি বিষয়ে কথা হয়েছে। এর প্রথমটি হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করলেই যে মামলা নিয়ে নিবে সেটা হবে না। আইসিটি আইনের একটি ধারা আছে, সে ধারায় একটি সেল আছে, সেখানে সন্তুষ্ট হতে হবে, তারপরে মামলা হবে। আর দ্বিতীয়টি হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে যেন তাদেরকে গ্রেফতার না করা হয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহ প্রকাশ

0

অস্ট্রেলিয়া জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা সৃষ্টি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন মঙ্গলবার কপ-২৬ এর সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি আরো বলেন, উভয় নেতা দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বিশেষভাবে জলবায়ু সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দেশ জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা সৃষ্টি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে বিশেষভাবে সহায়তা করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। অস্ট্রেলিয়ারও দাবানল, বন্যাসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম ক্ষতির অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই উভয় দেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা গঠনে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী নয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবের সম্মুখীন বাংলাদেশ। তিনি বলেন, এ পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে প্রধান প্রধান কার্বন নির্গমনকারী উন্নত দেশগুলোর উচিত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজনে সাড়া দেয়া। উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই তাদের প্রতিশ্রুত ১শ’ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিল ছাড় দেয়া এবং এটি বাস্তবায়ন করা উচিত।
শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব, স্থিতিস্থাপকতা সৃষ্টি এবং কভিড-১৯ উত্তর পুনরুদ্ধারে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতি কার্যকর সাড়া দিয়ে গ্রীন ও ক্লিন প্রযুক্তি স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে অব্যাহত সমর্থনের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান। ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা মিয়ানমারের ওপর আরো আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগে ভূমিকা রাখতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আহ্বান জানান। বাসস।

কলঙ্কময় জেল হত্যা দিবস আজ, নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে কমিশন গঠন হবে কবে ? প্রশ্ন জাতির

0

আজ ৩ নভেম্বর। বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কময় ও বেদনাবিধুর একটি দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। একাত্তরের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন দেশ মাতৃকার সেরা সন্তান জাতীয় এই চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে একাত্তরের পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। প্রগতি-সমৃদ্ধির অগ্রগতি থেকে বাঙালিকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর খুনি মোশতাক গং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। কিন্তু অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর মোশতাক গংকে পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থানের ভয় পেয়ে বসে। যদিও তৎকালীন চারজন সিনিয়র নেতাসহ অনেকেই কারাগারে এবং অনেকে আত্মগোপনে ছিলেন। বাকি নেতারা প্রকাশ্য কিংবা অপ্রকাশ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সাথে সমঝোতা করেন। অনেকে আবার রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান।
কিন্তু সেনাবাহিনীর মধ্যে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা ছিল। সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। একদিকে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং অন্যদিকে মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ। মোশতাক গংরা ভেবেছিলেন খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে সে অভ্যুত্থান আওয়ামী লীগ বা বাকশালের পক্ষে হচ্ছে। ক্ষমতাসীন মোশতাক বা তার সমর্থকরা চাননি যে তাদের বিরোধী আরেকটি শক্তি শাসন ক্ষমতায় পুনর্বহাল হোক। ঐ ধরনের একটা সরকার যদি হতো তাহলে জেলে থাকা সে চারজন ছিলেন সম্ভাব্য নেতা। সেই চিন্তা থেকেই তারা চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তারা বিশ্বাস করতেন যদি এই চার নেতাকে হত্যা করা হয় তাহলে পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান হলেও তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেবার মত কেউ থাকবে না।
মোশতাক গংদের এই নোংরা এবং কুৎসিত চিন্তাই পরবর্তীতে তাদেরকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দিকে ধাবিত করে। রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের নেতৃত্বে তারা ৫ জনের একটি ঘাতক দল গঠন করে। ঠান্ডা মাথায় খুনের ব্যাপারে এ ঘাতক দলের সদস্যরা ছিল বিশেষভাবে পারদর্শী। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন পর মোসলেহ উদ্দিনকে অনারারি লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত করা হয়। ১৫ অগাস্ট শেখ মনির বাসায় হত্যাযজ্ঞে নেতৃত্ব দিয়েছিল এই মোসলেহ উদ্দিন। মোশতাক গং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় চার নেতা হত্যার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে।
মোশতাক গংরা খুনের জন্য বেছে নেয় কারাগারের মত নিরাপদ জায়গাকে। যে কারাগারে প্রত্যেকটি কয়েদী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা হেফাজতে থাকে এবং প্রত্যেক কয়েদীকে কারাগারে যথাযথ নিরাপত্তা দেয়া রাষ্ট্রের অবশ্য কর্তব্য বলে বিবেচিত হয়। খুনিরা সেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে কারাগারে প্রবেশ করে। তারপর সকল আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চার নেতাকে কারাগারের ভিতর ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। খুনিরা শুধু ব্রাশফায়ার করে ক্ষান্ত হয়নি, তারা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে চার নেতার মৃত্যু নিশ্চিত করে বীরদর্পে বেড়িয়ে যায়। পৃথিবীর ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হেফাজত তথা কারাগারের ভেতর এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ বিরল।
শুধু হত্যাকাণ্ড নয় এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রমকেও বন্ধ করে দেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। জেলখানায় প্রতিদিন ভোরে, অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা পর পর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দিতে হয়। জেলহত্যার পর তৎকালীন জেলার মো. আমিনুর রহমান একটি প্রতিবেদন তৈরি করে আইজি (প্রিজন) নুরুজ্জামান হওলাদারকে দেন। পাশাপাশি ৪ নভেম্বর কারা কর্তৃপক্ষ লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, তার নেতৃত্বে চার-পাঁচ সেনাসদস্য কারাগারে ঢুকে চার নেতাকে হত্যা করে। প্রথমে গুলি করে, পরে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা।
মামলা দায়েরের পরদিন (৫ নভেম্বর) আইজি (প্রিজন) নুরুজ্জামান হাওলাদার জেলহত্যার প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে জমা দেন। ৬ নভেম্বর বিচারপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরী, বিচারপতি কে এম সোবহান ও বিচারপতি মোহম্মদ হোসেনের সমন্বয়ে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপটে জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলে তিনি এই তদন্ত কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে জেলহত্যার তদন্ত প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায়। শুধু হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম বন্ধ নয় এই হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন দেশে চাকরী দিয়ে ।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি৷ তৎকালীন শাসকগণ নির্লজ্জের মত বিষয়টিকে এড়িয়ে গেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের ২৩ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে মামলাটি সচল করে এবং ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়৷ ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলার রায়ে আসামি তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন৷ ২০০৮ সালে হাইকোর্ট রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য দুই আসামি মারফত আলী ও হাশেম মৃধাকে খালাস দেন৷ এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেয়া হয়৷ কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ রায়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের দেয়া তিন জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখে৷
সর্বোপরি চরম নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হচ্ছে এই ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর। দেশের আপামর জনতা যাদের নেতৃত্বে ও নির্দেশে মাত্র নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ দেশেকে স্বাধীন করেছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিবনগর সরকারের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে এদেশের জনগণকে একত্রিত করে দেশের বিজয়ের পতাকা উঁচিয়ে ধরেছেন সেই চার নেতাকে চরম নির্মমভাবে এই ৩ নভেম্বরে হত্যা করা হয়। তাই এই ৩ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত এবং কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করছে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে দিবসটি পালন করছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা শহীদ জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

আমাদের বিপদ বাড়াচ্ছে বড় দেশগুলো: প্রধানমন্ত্রী

0

দেশগুলো কার্বন নির্গমন বেশি করছে, ক্ষতি প্রশমনে তারা প্রতিশ্রুতি না রাখায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যে বিপদে পড়েছে, তা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গ্লাসগোয় কপ-২৬ সম্মেলনের পাশাপাশি ফোরামের সভাপতি হিসেবে মঙ্গলবার ৪৮ জাতি সিভিএফ নেতাদের সংলাপে তিনি একথা বলেন বলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কার্বন নিঃসরণকারী গুরুত্বপূর্ণ উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুত তহবিল না দেওয়ায় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দরিদ্র দেশগুলোকে আরও অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। “এটা দুর্ভাগ্যজনক। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক পরিণতি মোকাবেলায় আমাদেরকে নিজেদের মতো করে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।”
ছয় বছর আগে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলেন উন্নত দেশগুলো জলবায়ু ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বছরে ১০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে এখনও তা পুরোপুরি সফল হয়নি।
এই পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক এবং হতাশাব্যঞ্জক’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “পর্যাপ্ত, টেকসই ও সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন ছাড়া কার্যকর কর্মপরিকল্পনা সম্ভব নয়। তাই এটা দুঃখজনক এবং হতাশাজনক যে এখন পর্যন্ত প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুত বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
“সেই কারণেই অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখোমুখি হয়ে আমরা, সিভিএফ সদস্যরা, এই কপ-এ ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই ৫ বছরের অভিযোজন ও প্রশমনের ৫০:৫০ আনুপাতিক হারে প্রতিবছর মোট ৫০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিতরণ পরিকল্পনা মাফিক অর্থায়ন উন্নত দেশগুলোর কাছে দাবি করি।”
‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম লিডার্স ডায়ালগ : ফোর্জিং এ সিভিএফ-কপ-২৬ ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি প্যাক্ট’ শীর্ষক এই সংলাপে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এতে বক্তব্য রাখেন।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেওয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে বাংলাদেশ ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ চালু করেছে। ‘কম কার্বন কৌশল’ অবলম্বনের মাধ্যমে আমাদের উন্নয়নের পথ নির্দেশনা দিতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
৩৭ সিভিএফ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকেও একই নিজ নিজ দেশের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করে এগোনোর আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, সিভিএফ একটি ‘জলবায়ু জরুরি চুক্তি’ নিয়ে এসেছে। এই চুক্তিটি জলবায়ু অর্থ সরবরাহ পরিকল্পনাকে সমর্থন করে।
‘নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে’
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান ভুক্তভোগী হিসেবে নারীরা এই ঝুঁকি মোকাবেলায় বর্ধিত অংশীদারিত্বের দাবিদার এবং তাদের ক্ষমতায়নের জন্য বিশেষ করে সহনশীল উন্নয়নে আরও সাহসী পদক্ষেপের প্রয়োজন।”
কপ২৬ সম্মেলনের ফাঁকে মঙ্গলবার নারী এবং জলবায়ু পরিবর্তনের উপর একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় তিনি একথা বলেন বলে বাসস জানায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বেশ কিছু আর্থ-সামজিক এবং সাংস্কৃতিক কারণে বিশ্বের বেশিরভাগ ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের বেশিরভাগই নারী এবং মেয়ে শিশু।
“জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তাদের (নারী) দুর্বলতা মোকাবেলায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মহিলাদের জন্য অবস্থান তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।”
নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “অনেক সমাজে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই এবং তারা প্রায়ই স্বল্প বেতনের এবং অবৈতনিক চাকরি ও কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকে।
“এ সব কারণে নারীদের ওপর পুরুষদের তুলনায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিররূপ প্রভাব বেশি পড়ে।”
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় নারীদের ‘চরম বিপন্নতা’ স্বীকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিপরীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কঠিন পরিস্থিতিতে নারীরাই যে প্রথম তাদের পরিবার পরিজনের যত্ন নিতে ঘুরে দাঁড়ায়, তাও বলেন শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত নীতি, কৌশল ও পদক্ষেপে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের ‘ন্যাশনাল ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির কথাও বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ‘জেন্ডার রেসপন্সিভ বাজেটিং (জিআরবি)’ চালু করেছে, এতে সকল নীতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মূলধারায় নারীর উন্নয়নে নারীদের জন্য প্রায় ৩০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে ৩১ অক্টোবর গ্লাসগোতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। আগামী ৩ নভেম্বর তিনি লন্ডনে যাবেন। এরপর ৯ নভেম্বর যাবেন প্যারিস সফরে। দুই সপ্তাহের সফর শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সাংবাদিক কনক সারোয়ার ও মেজর (অব.) দেলোয়ারকে গ্রেফতারে পরোয়ানা

0

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আমেরিকায় অবস্থান করা সাংবাদিক কনক সারোয়ার ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। দেলোয়ার হোসেনও দেশের বাইরে থাকেন।
মঙ্গলবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এই আদেশ দেন।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা, মানহানিকর ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগে গত বছরের অক্টোবর মাসে কনক সারোয়ার ও দেলোয়ারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক আসামি কনক সারোয়ার ও দেলোয়ারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত। ওই পরোয়ানা তামিল বিষয়ে ২২ নভেম্বর প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যা, উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার আছেন সাংবাদিক কনক সারোয়ারের বোন নুসরাত শাহরিন সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নুসরাত শাহরিনের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত। ছয় বছর আগে ২০১৫ সালে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন সাংবাদিক কনক সারোয়ার। পরে তিনি জামিনে ছাড়া পান।

মুনিয়া হত্যা : বসুন্ধরার এমডি আনভীরের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২১ নভেম্বর

0

বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরসহ আটজনের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন মোসারাত জাহান মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন আগামী ২১ নভেম্বর ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এদিন প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াছমিন আরা নতুন এ তারিখ ঠিক করেন।
মামলায় মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ২ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরসহ আটজনকে আসামি করে ঢাকার ৮ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলা করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল গুলশান থানার ওসিকে অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্ত ভার দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন-আনভীরের বাবা আহাম্মদ আকবর সোবহান, মা আফরোজা, স্ত্রী সাবরিনা, আনভীরের গার্লফ্রেন্ড সাইফা রহমান মিম, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, মুনিয়ার বাড়িওয়ালা ইব্রাহিম আহমেদ রিপন ও রিপনের স্ত্রী শারমিন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোসারাত জাহান (২১) মিরপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। ঘটনাচক্রে ভিকটিমের ওপর আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) চোখ পড়ে। সে ভিকটিমের রুপ লাবণ্যে মোহিত হয়ে এবং একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ভিকটিম মুনিয়াকে তার কলেজের হোস্টেল থেকে ২০১৯ সালের জুন মানে রাজধানীর বনানীতে ৬৫ হাজার টাকা ভাড়ায় একটি ফ্ল্যাট বাসায় নিয়ে আসে এবং ৭/৮ মাস তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে আসছিল।
গত ১ মার্চ পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মুনিয়াকে কুমিল্লা থেকে গুলশানে মাসিক এক লাখ ৩০ হাজার টাকার ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে আনভীর। বাসায় একা রেখে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিয়ের প্রলোভনে তাকে ধর্ষণ করে। এতে মুনিয়া ২/৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ পর্যায়ে মুনিয়া আনভীরকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর গত ২৬ এপ্রিল দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মুনিয়াকে হত্যা করা হয়। পরে ওড়না পেঁচিয়ে শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা সাজানোর চেষ্টা করা হয়।
উল্লেখ থাকে, এর আগে মুনিয়াকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে আনভীরকে আসামি করে গুলশান থানায় মামলা করেন নুসরাত জাহান। গত ১৯ জুলাই বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত ট্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। গত ১৭ আগস্ট পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দাখিল করলেও গত ১৮ আগস্ট ঢাকার মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী নারাজির আবেদন নাকচ করে আসামি আনভীরকে অব্যাহতির আদেশ দেন।

উন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পরিকল্পনা পেশ করার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

0

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু সম্পর্কিত সম্মেলন কোপ২৬-এর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই তাদের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) জানাতে হবে এবং জাতীয় কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অভিযোজন বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রধান নির্গমনকারীদের অবশ্যই তাদের উচ্চাভিলাষী এনডিসি পেশ এবং সেগুলি বাস্তবায়ন করতে হবে উল্লেখ করে পেন ওয়াই ফ্যানের প্লেনারি-২-তে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) অধীনে কনফারেন্স অব দি পার্টিস (কোপ২৬) সম্মেলনের ২৬তম অধিবেশনে জাতীয় বিবৃতি দেয়ার সময় তিনি চারটি প্রস্তাবের মধ্যে প্রথম প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী নির্গমন হ্রাস করতে বলেন, তাঁর সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যার মধ্যে রয়েছে- দেশের এনডিসি আপডেট, ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশী বিনিয়োগে ১০টি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল এবং ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আমাদের শক্তির ৪০ শতাংশ নেয়া।
যুক্তরাজ্য রোববার থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত কোপ২৬ আয়োজন করছে। রাষ্ট্রপ্রধান, প্রতিনিধি এবং প্রচারকর্মী জলবায়ু জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় বসবেন।
প্রায় ২০০ টি দেশ কোপ২৬-এ অংশ নিচ্ছে এবং দেশগুলোকে তাদের এনডিসি (পরিকল্পনা) জমা দিতে বলা হচ্ছে, যা নির্গমন হ্রাসে প্যারিস চুক্তির মূল বিষয় ছিল।
শীর্ষ সম্মেলনে দ্বিতীয় প্রস্তাবটি উত্থাপন করে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভি২০ (দ্য ভালনারেবল২০) এর সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত দেশগুলোর উচিত অভিযোজন এবং প্রশমনের মধ্যে ৫০:৫০ ভারসাম্য রেখে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা।
তৃতীয়ত, তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর উচিত সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেয়া এবং সিভিএফ দেশগুলোর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাও বিবেচনা করা।
প্রধানমন্ত্রী তার চতুর্থ ও চূড়ান্ত প্রস্তাবে বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদী ভাঙন, বন্যা এবং খরার কারণে বাস্তুচ্যুত জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য বিশ্বব্যাপী দায়বদ্ধতা ভাগ করে নেয়াসহ লোকসান ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অবশ্যই সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নির্গমনের ০.৪৭ শতাংশেরও কম অবদান রাখা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ২০০৯ সালে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেইঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠা করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, গত সাত বছরে আমরা জলবায়ু সম্পর্কিত ব্যয় দ্বিগুণ করেছি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তাঁর সরকার বিভিন্ন যে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে আমরা জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রস্তুত করছি। সম্প্রতি আমরা একটি উচ্চাকাক্সক্ষী এবং যুগোপযোগী এনডিসি জমা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিস্তৃত সৌরশক্তি কার্যক্রম। আমরা আশা করি, ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আমাদের ৪০ শতাংশ জ্বালানি থাকবে। আমরা ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১০টি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল করেছি। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, তাঁর সরকার ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে- এটি জলবায়ুর ঝুঁকি থেকে টেকসই ও জলবায়ু সমৃদ্ধির পথে যাত্রা। তিনি বলেন, জোর পূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ মিয়ানমারের নাগরিক বা রোহিঙ্গাদের কারণে জলবায়ু প্রভাবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জলবায়ু ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভি-২০-র সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ৪৮টি দেশের স্বার্থ প্রচার করছি। গ্লোবাল সেন্টার অফ অ্যাডাপ্টেশনের ঢাকার দক্ষিণ এশিয়া অফিসের মাধ্যমে আমরা আঞ্চলিকভাবে সর্বোত্তম অনুশীলন এবং অভিযোজন অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে চলেছি। তিনি বলেন, সিভিএফের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ একটি জলবায়ু জরুরি চুক্তির চেষ্টা করছে।বাসস।

এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র

0

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলার অভিযোগে করা মামলায় বিএনপির সাবেক নেতা ও মন্ত্রী নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে সম্প্রতি এ অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। ২৪ নভেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
ঘুষ দাবির অভিযোগ এনে বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মামলা করেছিলেন বিএনপির সাবেক নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাজমুল হুদা। তবে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় এস কে সিনহাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয় দুদক। ওই মামলায় গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সিনহাকে অব্যাহতির আদেশ দেন আদালত।
এদিকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলার অভিযোগে নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। এ মামলায় অভিযোগ আনা হয়, মিথ্যা জানার পরও আদালত ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মামলা করেছিলেন নাজমুল হুদা। মামলায় ৭ অক্টোবর নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক।
এদিকে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৯ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।