স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হারিয়ে যাওয়া ১৭টি নথিসহ ফাইলের সন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটির প্রধান থাকছেন চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. শাহ্ আলম। বাকি দুই সদস্য হলেন- যুগ্ম সচিব মো. আহসান কবীর (চিকিৎসা শিক্ষা, অতিরিক্ত দায়িত্ব ক্রয় ও সংগ্রহ অধিশাখা) এবং উপসচিব (চিকিৎসা শিক্ষা-১) মোহাম্মদ আবদুল কাদের।
থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করার পর শুক্রবার স্বাস্থ্য শিক্ষা ও চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর এই তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মোট ১৭টি নথি পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান মো: শাহ আলম বলেন, “রহস্যটা কোথায়, তা খুঁজে বের করতেই কমিটি। এটা খুব স্পর্শকাতর বিষয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উনাদের মতো করে দেখছে। আমরা আমাদের মতো করে কাজ করছি রোববার থেকেই মূল তদন্ত শুরু হবে।”
বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে ১৭টি নথি হারিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করেন উপসচিব (প্রকল্প বাস্তবায়ন-১ শাখা, অতিরিক্ত দায়িত্ব ক্রয় ও সংগ্রহ-২) নাদিরা হায়দার।
জিডির বরাত দিয়ে ওসি জানান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ক্রয় সংক্রান্ত শাখা-২ এর কম্পিউটার অপারেটর যোশেফ সরদার ও আয়েশা বুধবার কাজ শেষ করে ফাইলটি একটি কেবিনেটে রেখে গিয়েছিলেন। ওই ফাইলের ভেতরেই ১৭টি নথি ছিল।
বৃহস্পতিবার অফিসে এসে কেবিনেটে ওই ফাইলটি আর খুঁজে না পাওয়ায় থানায় জিডি করা হয়। জিডির পর সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় পুলিশের তদন্ত শুরু হয়নি।
শাহবাগ থানার ওসি মওদুত বলেন, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জিডি করা হয়। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববার এবিষয়ে তদন্ত করা হবে।”
যে নথিগুলো খোয়া গেছে সেগুলোর সিংহভাগই স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অধীন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও বিভাগের কেনাকাটা সম্পর্কিত। জিডিতে ১৭টি নথির নম্বর ও বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ অন্যান্য মেডিকেল কলেজের কেনাকাটা সংক্রান্ত একাধিক নথি, ইলেকট্রনিক ডেটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচি, রিপোর্ট অধিদপ্তরের কেনাকাটা, ট্রেনিং স্কুলের যানবাহন বরাদ্দ ও ক্রয় সংক্রান্ত নথি।নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের একাদিক প্রকল্পের নথি খোয়া গেছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হারিয়ে যাওয়া ফাইলের সন্ধানে তদন্ত কমিটি
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির সফল প্রয়োগ হলে, আদালতে মামলার চাপ কমবে: আইনমন্ত্রী
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতিতে দ্রুত বিরোধ নিস্পত্তি হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বাড়ছে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। । বাংলাদেশ সরকারও এডিআর পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। দেশে এডিআর পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে প্রচলিত আদালতের ওপর মামলার চাপ কমবে এবং এতে মামলাজটও কমবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার সরকার গঠন করে আরবিট্রেশন আইন, ২০০১ প্রণয়ন করেন। এছাড়া গত কয়েক বছরেও তাঁর সরকার বেশ কিছু আইনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান সংযুক্ত করেছে। শনিবার
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টার (বিয়াক) আয়োজিত “ভার্চুয়াল বিশ্বে বিরোধ নিষ্পত্তিতে কোভিড-১৯ এর প্রভাব” শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি। বিয়াক এর ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বিয়াকের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতের বাইরেও বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার সকল সরকারি চুক্তিতে আরবিট্রেশন এবং মেডিয়েশনের জন্য উপযুক্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করছে। এছাড়া বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি উভয় আরবিট্রেশনের এওয়ার্ড কার্যকর করার পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের প্রথম এবং একমাত্র বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিয়াক বিগত ১০ বছর যাবৎ সমঝোতার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিয়াকের টিকে থাকার লক্ষ্যে এর অনুকূলে ১০ কোটি টাকা সরকারি অনুদান প্রদানের জন্য তিনি কাজ করছেন, যা এখন অর্থ বিভাগে প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি কোভিড-১৯ এর চলমান সংকটকালীন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির ভার্চুয়াল শুনানিতে বিয়াকের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন। কোভিড-১৯ এর পরেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে এবং এর আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আদালতের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য “আদালত কর্তৃক তথ্য – প্রযুক্তি ব্যবহার আইন ২০২০” প্রণয়ন করেছে এবং বিচার বিভাগ এ আইন ইতোমধ্যে প্রয়োগ করা শুরু করেছে। বলেন, বিচার বিভাগে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প প্রণয়ন করছে। সভাপতির বক্তব্যে বিয়াকের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি প্রসারের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার অনেক আইনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিকে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধন করেছে। বিগত এক দশকে অনেক বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক বিরোধ সংক্রান্ত উদ্যোগে বিয়াকের সেবা প্রদানের মাধ্যমে এর চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির অনুশীলন প্রসারে বিয়াক সক্ষম হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই চাহিদা অব্যাহত থাকবে। তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ. এফ. হাসান আরিফ আলোচনায় অংশ গ্রহণ করে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী বিরোধ নিষ্পত্তিসহ সকল ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সুপ্রীম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও কতিপয় মহলের মানসিকতা পরিবর্তন না হওয়ায় সশরীরে এবং ভার্চুয়াল বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। বিয়াকের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বিয়াকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ এ. (রুমী) আলী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির, এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক আফজাল, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও হুমায়রা আজম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ফারহানা হেলাল মেহতাব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বক্তৃতা করেন।
টাঙ্গাইলে বাসা থেকে শাশুড়ি-পুত্রবধূসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে একই পরিবারের দুই নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকালে উপজেলার দিঘর ইউনিয়নের কাশতলার খামারপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন- ওই এলাকার মৃত হয়রত আলীর স্ত্রী জমেলা বেগম (৬৫), তার ছেলে জয়েন উদ্দিনের স্ত্রী সুমি বেগম (২৬) ও অজ্ঞাত যুবক (৩৫)।
দিঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন বলেন, হামিদপুরের খামারপাড়ায় একই পরিবারের শাশুড়ি, ছেলের বউ ও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় এক শিশুকে (৫) আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা হত্যা না আত্মহত্যা, তা এখনই বলা যাচ্ছে যাচ্ছে না। তদন্তপূর্বক মূল ঘটনা জানা যাবে।
বাংলাদেশ কখনই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রশ্রয় দেবে না: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশ কখনই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রশ্রয় দেবে না।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও বাংলাদেশ যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন আমাদের দেশেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকবে। একটি অপশক্তি তাদের ব্যক্তিস্বার্থে দেশে বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, কিন্তু জনগণ তা গ্রহণ করেনি।
শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের কাছে ভারত সরকারের উপহার দেয়া আধুনিক লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করা হয়। একই দিন কসবায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আরেকটি অনুষ্ঠানে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেকে একটি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়। দুটি অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কে দোরাইস্বামী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হায়াত উদ-দৌলা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. একরাম উল্লাহ ও পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান ।
ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশ ও তার দেশ আজীবন বন্ধু। ‘কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় বাংলাদেশ ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারতও বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ভারতীয় দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্পূর্ণ নতুন ও অত্যাধুনিক জীবন রক্ষাকারী যন্ত্রপাতি দ্বারা সজ্জিত অ্যাম্বুলেন্সগুলো চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগামী রোগীদের মানসম্মত জরুরিসেবা এবং ট্রমা লাইফ সাপোর্ট প্রদান করতে প্যারামেডিক এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করবে।
গত মার্চে বাংলাদেশ সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষিত ১০৯টি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের সামগ্রিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে অ্যাম্বুলেন্সগুলো দেয়া হয়।
দুই মাসের মধ্যে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের নির্দেশ মন্ত্রিসভার
মন্ত্রিপরিষদ আগামী দুই মাসের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার অংশ হিসেবে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে সভায় যোগ দেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘মন্ত্রিসভা আগামী দুই মাসের মধ্যে সকল ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করার নির্দেশ দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, মন্ত্রিসভা ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রয়োজনীয় জামানত জমা দেয়ার ও নির্দেশ দিয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণার চালিয়ে জনগণের মাঝে গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিদেশ দিয়েছে।
বন রক্ষায় ডিজিটাল জরিপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেশের সব বনাঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবিলম্বে ডিজিটাল জরিপ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি এ নির্দেশ দেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে অবিলম্বে সব বনের ডিজিটাল জরিপ করার নির্দেশ দিয়েছেন।” তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বনাঞ্চলের ভেতরে বর্তমানে বসবাসকারী লোকদের স্থায়ী বসতি স্থাপনের জন্য ডিজিটাল জরিপ শেষ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় জনগণকে গাছের মালিকানায় অংশীদার করার মাধ্যমে বনায়নে সম্পৃক্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় লোকজনকে বনভূমিতে বনায়নে নিয়োজিত করতে পারলে তারা বনের ক্ষতি করবে না।
টাঙ্গাইলের মদুবনগর, শেরপুরের গারো পাহাড়, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সুন্দরবনসহ বিভিন্ন বনাঞ্চলে বসবাসকারী অনেক মানুষ বন সংক্রান্ত অনেক মামলায় জড়িয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন, এমনকি একজন ব্যক্তি ৪০ থেকে ৫০ টি মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন।
মামলাগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে স্বস্তি দেয়ার স্বার্থে কোনো যৌক্তিক ভিত্তি না থাকা মামলাগুলো পর্যালোচনা করে অবিলম্বে সেগুলো প্রত্যাহার করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। জনগণ যাতে আর এ ধরণের মামলায় জড়াতে না পারে সে জন্য প্রচারণা চালানোর কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্ত্রীসভা নীতিগতভাবে ৪৫,০০০-৪৬,০০০ একর জমির (ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলায়) আটিয়া বন রক্ষার জন্য আটিয়া বন (সংরক্ষণ) আইন-২০২১ এর খসড়া অনুমোদন করেছে। ‘আটিয়া বন (সুরক্ষা) অধ্যাদেশ ১৯৮২’ এর স্থলে প্রস্তাবিত আইনটি প্রতিস্থাপিত হবে’ উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আতিয়া বনকে প্রথম ১৯২০ এর দশকে একটি আইনের মাধ্যমে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী বনের ক্ষতি করা জামিন অযোগ্য অপরাধ। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে আটিয়া বনে তারপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বনে ডিজিটাল জরিপ করার কথা বলেন।
এছাড়াও মন্ত্রিসভা নীতিগতভাবে কপিরাইট আইন ২০২১ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে, এতে যে কোন কাজের মেধাস্বত্ব অধিকারের মেয়াদ হবে ষাট বছর।
মন্ত্রিসভা অবশ্য ড্রাগস অ্যাক্ট ২০২১ এর খসড়া অনুমোদন করেনি বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো পর্যালোচনা করতে বলেছে।
অন্যদিকে, কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থীদের ১ নভেম্বর থেকে ঢাকায় ১২টি কেন্দ্রে টিকাদান শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ক্যাম্পেইনের অধীনে সারা দেশে কেন্দ্রসংখ্যা বাড়ানোর জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। বাসস।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ইইউ’র আপত্তিতে পাত্তা দিচ্ছে না বাংলাদেশ; জানিয়ে দিলেন মোমেন
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আপত্তিতে বাংলাদেশ পাত্তা দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, বিদেশিরা আমাদের অনেক কিছু নিয়েই আপত্তি করে থাকে। তবে তাদের আপত্তি আমরা গ্রাহ্য করি না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক অনুষ্ঠান শেষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ইইউয়ের আপত্তি বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কে কী আপত্তি করল না করল, তাতে আমাদের কী? তারা আপত্তি করলে আমরা তাদের বোঝাব, আমরা আমাদের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এটা করেছি। অনেক লোকে অনেক আপত্তি করে। আপত্তি ওরা করুক, তারা অনেক সময় বকবক করবে। কিন্তু আমরা আমাদের মঙ্গলের জন্য যা দরকার করব।
এ সময় ড. মোমেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ভর্তুকি ও পদ্মা সেতু নিয়ে বিদেশিদের আপত্তির উদাহরণ টানেন। মন্ত্রী বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভর্তুকির সিদ্ধান্ত নিলে বিদেশিরা অনেক আপত্তি করেছে। আমাদের বড় বড় বন্ধু রাষ্ট্রসহ বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ বলেছিল, আপনারা পারবেন না। এক বছর আইএমএফ আমাদের এফডিআই তুলতে দেয়নি। কিন্তু দেখুন, এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
‘পদ্মা সেতুর কথা বলি, বিশ্ব ব্যাংক আমাদের ওপর ক্ষেপে গেল। কত রকম ঢংঢাং বের করল। পয়সা দেওয়ার আগেই বলে এখানে চুরির মহড়া চলছে। প্রধানমন্ত্রী তা অগ্রাহ্য করে ফল তাদের দেখিয়ে দিয়েছেন।’
গত মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইইউ বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওই দিন ব্রাসেলসে বাংলাদেশ ও ইইউ চতুর্থ কূটনৈতিক পরামর্শ সভা শেষে ইইউ বিবৃতিতে জানায়, এ আইনের কিছু বিধানে ডিজিটাল অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিবৃত উদ্দেশ্যের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা হুশিয়ারি দেয়। তারা যে আমার কাছ থেকে কাপড় নেয়, সেটা কিন্তু দয়া বা বাধ্য হয়ে নয়; সস্তা দরে নেয়। বিশ্ব ব্যাংক যে আমাদের টাকা দেয়, এর অর্থ এই নয় যে তারা আমাদের দয়া করেছে। তারা টাকা দেয়, কারণ টাকা না দিলে তাদের চাকরি চলে যাবে। এ সময় ড. মোমেন দেশের গণমাধ্যমগুলো বিদেশিদের কথায় বেশি হইচই করে বলেও মন্তব্য করেন।
গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, অ্যামাজনের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ হাইকোর্টের
সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব, ইয়াহু, ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়াসহ সব রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এসব অর্থ আদায় করে তা হলফনামা আকারে হাইকোর্টকে জানাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৪৫ পৃষ্ঠার এ সংক্রান্ত রায় প্রকাশ করেন।
রায়ে আদালত বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য পাওনা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ নির্দেশ প্রতিপালন করতে বলা হয়েছে।এর আগে ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর গুগল-ফেসবুক ও অন্যান্য ইন্টারনেট কোম্পানির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার বিষয় এবং বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধনের লক্ষ্যে জনস্বার্থে দায়ের করা রিট পিটিশনের চূড়ান্ত শুনানি করে রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিবাদীদের প্রতি পাঁচটি নির্দেশনা জারি করা হয়।
পাঁচটি নির্দেশনা হলো-
এক. অনতিবিলম্বে সব ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানি যেমন গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, অ্যামাজন মতো কোম্পানিগুলোকে পরিশোধিত অর্থ থেকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সব প্রকার ট্যাক্স, ভ্যাট এবং অন্যান্য রাজস্ব আদায় করতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে এ আদেশ দেয়া হয়েছে।
দুই. ইন্টারনেট ভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ থেকে বিগত পাঁচ বছরে পরিশোধিত অর্থের বিপরীতে আনুপাতিক হারে বকেয়া রাজস্ব আদায় করতে হবে।
তিন. ওই রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর হলফনামা আকারে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে।
চার. এ রায়টি একটি চলমান আদেশ বা কন্টিনিউয়াস ম্যানডেমাস হিসেবে বলবৎ থাকবে।
পাঁচ. এ রায়ের বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক যেকোনো সময় আদালতে আবেদন দাখিল করে প্রতিকার চাইতে পারবেন।
রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল রিট দায়ের করেন হাইকোর্টের ছয় আইনজীবী। রিটকারী ছয় আইনজীবী হচ্ছেন- ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউসার, অ্যাডভোকেট আবু জাফর মো. সালেহ, অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার বিশ্বাস, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মাজেদুল কাদের। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, অ্যাডভোকেট শামীম খালেদ আহমেদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ারেস আল হারুনী।
ওই রিটের শুনানি শেষে ২০২০ সালে ৮ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় প্রদান করেন। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করা হয়।
মাওলানা আজহারীকে ব্রিটেনে ঢুকতে দেয়া হয় নি
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশের আলোচিত, সমালোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী ব্রিটেন যাবার পথে বাধার মুখে পড়লেন কাতারে। তাকে আটকে দেয়া হয়েছে দোহাতে। তবে কি কারণে আটকে দেয়া হলো তা স্পষ্ট করা হয়নি।
জানা গেছে, আজহারী মঙ্গলবার ভোরে মালয়েশিয়া থেকে কাতার বিমানবন্দরে পৌঁছান। বুধবার সকালে লণ্ডনের ফ্লাইটে উঠার জন্য সংশ্লিষ্ট গেটে গেলে তাকে আটকে দেয়া হয়। ব্রিটেনের ফ্লাইটে উঠতে দেয়া হয়নি। মিজানুর রহমান আজহারীকে বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যর কারণে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন থেকে মালয়েশিয়াতে বসবাস করছেন।
মিজানুর রহমান আজহারী মালয়েশিয়া থেকে ব্রিটেন যাচ্ছিলেন আইওন টিভির আমন্ত্রণে। বৃটেনে এই টিভিটি ইসলামিক টিভি হিসেবে পরিচিত। ধর্মবিষয়ক অনুষ্ঠানের কারণে বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও এই টিভিটির একটি অবস্থান রয়েছে। জানা গেছে, লন্ডন যেতে বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর তিনি তাকে আমন্ত্রণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দোহা বিমানবন্দর বসে তিনি ১২ ঘণ্টা চেষ্টা করেন সমস্যা সমাধানের। কিন্তু ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া না পাওয়াতে কাতার এয়ারওয়েজ তাকে ফ্লাইটে উঠার অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে তাকে আমন্ত্রণকারী আইওন টিভিও চেষ্টা করছে সংকট নিরসনের। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীকে ৯৬ ঘণ্টার একটি ট্রানজিট ভিসা দেয়া হয়েছে। তিনি কাতারে অবস্থান নিয়ে আবার চেষ্টা করবেন ব্রিটেনে প্রবেশের।
৩১ অক্টোবর রবিবার থেকে লণ্ডনসহ ব্রিটেনের ৫টি শহরে ইসলামী বক্তব্যের আয়োজন করা হয় ব্রিটেনের আইওন টিভির পক্ষ থেকে। এ উপলক্ষে ১৫ পাউণ্ড থেকে শুরু করে ১০০ পাউণ্ড মূল্যের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। আজহারীর সফরকে ঘিরে কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আয়োজক টিভির ব্যানারে আজহারীর আগমনকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি থেকে শুরু করে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের অনেক মানুষ আজহারীর সফরের বিরোধিতা করছেন।
কমিউনিটির পক্ষ থেকে ব্রিটিশ এমপি থেকে শুরু করে হোমসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে মিজানুর রহমান আজহারীর বিভিন্ন বক্তব্য যেখানে অন্য ধর্মকে আঘাত করা হয়েছে, যেসব বক্তব্য ঘৃণা ছড়ায় এমন সব ভিডিও পাঠানো হয়েছে।
সফর বাতিল হওয়ার বিষয়ে আয়োজক আইওন টিভির সিইও আতাউল্লাহ ফারুক এই বিষয়ে মিডিয়ার কাছে অফিশিয়াল কোন মন্তব্য করতে সম্মত হননি। সূত্র-ভয়েস অব আমেরিকা।
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের
দুর্গাপূজার সময় দেশের বিভিন্ন জেলায় মন্দির, পূজা মণ্ডপ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও রংপুর জেলার মুখ্য মহানগর বা বিচারিক হাকিমকে তদন্ত করে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।
শুনানির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, রিট আবেদনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ও স্থানীয় প্রশাসনকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। আমরা আবেদন থেকে এই শব্দগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানাই। কারণ হামলার ঘটনায় রাষ্ট্র বসে নেই। কুমিল্লা, রংপুরে অনেক দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এ সময় বেঞ্চের কনিষ্ট বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, বাসস্থান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় পুলিশ অ্যাকশন নিয়েছে, মামলা হয়েছে, অনেকে গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এ অবস্থায় আমরা কি রাষ্ট্রকে দায়ী করতে পারি?
পরে আদালত রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়াকে আবেদন সংশোধন করতে বলেন এবং আদেশের জন্য দুপুর ২টা ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করে দেন। পরে হাইকোর্ট আদেশ দেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, বসতি, জীবন ও সম্পত্তির ওপর হামলা ঠেকাতে সরকারের স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিস্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবন, সম্পদ ও উপাসনালয়ের সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের কেন নির্দশ দেয়া হবে না- তাও জানতে চেয়েছে আদালত।

গত ১৩ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম ও রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গা পূজার মণ্ডপ, মন্দির, বসতি, জীবন ও সম্পত্তির ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, ধর্ম সচিব, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি (আইসিটি বিভাগ) সচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও রংপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ২১ বিবাদিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, ২১ অক্টোবর এফিডেভিট করার পর ২৪ অক্টোবর এ আবেদনটি শুনানির তালিকায় ছিল, কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল বিদেশে থাকায় সময় নেয়া হয়। ২৬ অক্টোবর কার্যতালিকায় এলে সেদিনও সময় নেয়া হয়।
“গতকাল (বুধবার) শুনানির জন্য ধার্য ছিল, কিন্তু সিনিয়র আইনজীবী জনাব আব্দুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যুর কারণে আদালত তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা থেকে বিরত থাকেন। আজ শুনানি হয়।”
দুর্গা পূজার সময় কোরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে কুমিল্লা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও রংপুরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয় হিন্দু সম্প্রদায়।
এসব ঘটনায় গত ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অনুপ কুমার সাহা ও মিন্টু চন্দ্র দাস হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন।
ফোনে অন্যায়ভাবে আড়ি পাতা মৌলিক অধিকার খর্বের শামিল: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
পেগাসাস প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফোনে অবৈধভাবে আড়ি পাতার তদন্তে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়ে দিলেন। এ বিষয়ে সরকারের কোনো ওজর আপত্তি আমল দেয়া হলো না। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা বুধবার এ জনস্বার্থ মামলার রায় দিয়ে বলেন, অন্যায়ভাবে আড়ি পাতার অভিযোগ সত্য হলে তা মৌলিক অধিকার খর্বের শামিল, যার প্রতিক্রিয়া মারাত্মক।
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আর ভি রবীন্দ্রন ওই বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান। তাঁকে সহায়তা করবেন একজন আইপিএস কর্মকর্তা ও চার ফরেনসিক, কম্পিউটার, প্রযুক্তিবিদ বিশেষজ্ঞ। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে সুপ্রিম কোর্টের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি দুই মাস পর।
ইসরায়েলের এনএসওর তৈরি পেগাসাস প্রযুক্তির সাহায্যে ভারত সরকার সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতাসহ বহু সাধারণ মানুষের ফোনে আড়ি পেতেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুই বছর আগে, ২০১৯ সালে এই অভিযোগ প্রথমবার ওঠার পর সরকার সংসদে জানিয়েছিল, আইনবহির্ভূত কিছু করা হয়নি।
সম্প্রতি বিশ্বের প্রথম সারির ১৬টি দেশের সাংবাদিকদের এক সংগঠন তদন্ত শেষে জানায়, কীভাবে বিভিন্ন দেশের সরকার এই প্রযুক্তির সাহায্যে সাধারণ নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনে ভারতের অনেক বিচারপতি, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সমাজসেবী, রাজনৈতিক নেতার নাম উল্লেখ করা হয়, যাঁদের ফোনে ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে। এই প্রতিবেদন জানাজানি হওয়ার পর বিভিন্ন সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, এডিটরস গিল্ডের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে বলা হয়, সর্বোচ্চ আদালত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুন। তদন্তের নির্দেশ দিন।
সেই আবেদনে সাড়া দেয়ার আগে সুপ্রিম কোর্ট ভারত সরকারকে অভিযোগ অস্বীকার করার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার বারবার বলেছে, আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করা হয়নি। সরকার যে পেগাসাস প্রযুক্তি কিনেছে, তা–ও স্পষ্ট করে বলেনি। শুনানির সময় শুধু বলেছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, তা বলা যাবে না। কেননা, তাতে সন্ত্রাসীদের সাহায্য করা হবে। অভিযোগের সারবত্তা খতিয়ে দেখতে সরকার নিজে থেকে বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়ার প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টকে দিয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালত তা–ও মানেননি। আজ সেই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, সরকারকে অনেক সুযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা ভাসা ভাসা অস্বীকার ছাড়া কিছুই বলতে পারেনি। বারবার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পার পাওয়া যায় না। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আদালত হস্তক্ষেপ করতে চান না। কিন্তু তাই বলে নীরব দর্শক সেজেও থাকতে পারেন না। প্রধান বিচারপতি এ কথাও বলেন, সরকারকে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের অনুমতি দিলে তা ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী হতো।
প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা, বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি হিমা কোহলির বেঞ্চ এই প্রসঙ্গে নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকার রক্ষার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট বলেন, শুধু রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিক নন, গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে প্রত্যেকের। সেই অধিকার রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। গোপনীয়তার অধিকারে কোনো কোনো সময় রাশ টানা হতে পারে। কিন্তু সরকারের সেই অধিকার সাংবিধানিক বৈধতার ঊর্ধ্বে নয়। এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার সংবাদমাধ্যমের অধিকারের ক্ষেত্রে মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে সরকারকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরযেওয়ালা টুইট করে বলেন, ‘সর্বত্রই ছদ্ম জাতীয়তাবাদ স্বৈরতন্ত্রীদের শেষ আশ্রয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানাই। যদিও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে মোদি সরকার দৃষ্টি ঘোরানোর বৃথা চেষ্টা করেছে। সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী।’











