ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ১:৫২ 

Home Blog Page 62

প্রখ্যাত আইনজীবী সিরাজুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

0

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ,বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলী অ্যাডভোকেট সিরাজুল হকের ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৮ অক্টোবর।
এ উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এবং আখাউড়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রখ্যাত আইনজীবী সিরাজুল হক ১৯২৫ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার পানিয়ারূপ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ২০০২ সালের ২৮ অক্টোবর পরলোক গমন করেন।
সিরাজুল হক ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কসবা-বুড়িচং নিয়ে গঠিত তৎকালীন কুমিল্লা-৪ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং ১৯৭৩ সালের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কসবা-আখাউড়া নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন ।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর সিরাজুল হক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বঙ্গভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে খুনী মোশতাকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। খুনী মোশতাক যে বৈঠক আহবান করেছিলেন সেখানে অন্যান্যদের সঙ্গে যোগ দেন সিরাজুল হকও। তবে তিনি সেখানে হাজির হন ভিন্ন রূপে। মঞ্চে যখন সিরাজুল হককে ডাকা হয়, তখন তিনি ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বললেন “সরি মি. মোশতাক,আমি আপনাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্বোধন করতে পারলামনা। আপনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবৈধ।“ মোশতাকও ঔদ্ধত্য দেখালে সিরাজুল হকের হুংকারে খুনী মোশতাকের সেদিনের বৈঠক ভেস্তে গিয়েছিল।
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ইনেডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিচারের পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, ষড়যন্ত্রের নাগপাশ ভেদ করে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী হিসেবে হাল ধরেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক। দীর্ঘ আইনী লড়াই করে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করেছিলেন। ফাঁসির রজ্জুতে ঝুলিয়েছেন খুনীদের।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পাশাপাশি জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলারও রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলি ছিলেন সিরাজুল হক। তাঁর মৃত্যুর পর এই মামলার হাল ধরেন তাঁর পুত্র বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সিরাজুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা।

ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক কারাগারে

0

ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আলী আকবরের (২৩) বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করে বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার আলী আকবর সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শৌলডুবী গ্রামের হোসেন ঢালীর ছেলে।
সদরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত গোলদার জানান, সোমবার (২৫ অক্টোবর) জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার ১০ বছরের এক ছাত্র প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মাদ্রাসার শিক্ষক আলী আকবর তাকে বলাৎকার করেন। শিশুটি ব্যথায় কান্নাকাটি করলে খবর পেয়ে পরদিন মঙ্গলবার তার মা সেখানে যান। মায়ের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করে শিশুটি।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) রাতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে এ ব্যাপারে সদরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি জানান। সূত্র- _ঢাকা পোস্ট।

সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ২১ কোটি টাকা, মামলা করেছে দুদক

0

‘অবৈধভাবে’ ২১ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল অফিসের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার দুদকের সমন্বিত বরিশাল জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক এদীপ বিল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। দুদকের উপ পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক এ খবর জানিয়েছেন।
মামলায় নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন ও নজরুল ইসলামের ভাই মো. তরিকুল ইসলামকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বেশ কয়েকটি ব্যাংকে হিসাব খুলে টাকা জমা রাখা এবং বরিশাল সদরে এই প্রকৌশলীর নিজের নামে একটি বাড়ি এবং স্ত্রীর নামে বরিশাল সদরে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ জমির তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, আসামি নজরুল ইসলাম ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন। ২০২০ সালের ৫ জুলাই পর্যন্ত তিন বছরে এ হিসাবে চার কোটি ৯৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা জমা হয়। এর মধ্যে তিনি চার কোটি ৯৪ লাখ নয় হাজার টাকা উত্তোলনও করেন।
অন্যদিকে ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নজরুল ইসলামের ভাই তরিকুল ইসলামের নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় আরও একটি হিসাব খোলা হয়।
এ হিসাবেও ২০২০ সালের ৭ জুলাই পর্যন্ত ছয় কোটি এক লাখ টাকা লেনদেন হয়। এছাড়া একই ব্যাংকের বরিশাল শাখায় নজরুল ইসলামের এফডিআর হিসাবে জমা করা ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে এজাহারে বলা হয়।
অন্যদিকে তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীনের নামে ২০১৯ সালের ৩০ মে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় এক বছর মেয়াদি ৭৫ লাখ টাকার এফডিআর পাওয়া যায় উল্লেখ করে মামলায় বলা হয়, এ অর্থ ২০২০ সালের মে মাসে উত্তোলন করা হয়।
এছাড়া ওই ব্যাংকে শাহনাজ পারভীনের নামে এফডিআরসহ পাঁচটি হিসাব পাওয়া গেছে।
অপরদিকে বরিশালের পূবালী ব্যাংক শাখায় ২০১৮ সালে উপ সহকারী প্রকৌশলী নজরুল আরও একটি হিসাব খোলেন। এতে ১০ লাখ টাকা জমা করে তার ভাইয়ের মাধ্যমে উত্তোলন করান।
পাশাপাশি আইডিএলসি ফাইন্যান্সে নজরুল ইসলামের নামে ছয়টি এফডিআর এবং ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৫ বছর মেয়াদি ৮৬ লাখ টাকা ঋণ নেয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা তিনি পরিশোধ করে দেন।
এভাবে নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে মোট ২১ কোটি এক লাখ টাকা জমা ও উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় উল্লেখ করে এজাহারে বলা হয়, এসব অর্থের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন- ২০১২ এর ৪ (২) ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রবীণ আইনজীবী বাসেত মজুমদারকে কুমিল্লার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন

0

হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আর তিনদফা জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লালমাইতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে দেশের প্রবীণ আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদারকে । বুধবার বাদ মাগরিব সর্বশেষ জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় কুমিল্লার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে পুরাতন বিমান বন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে মরদেহ কুমিল্লা আইনজীবী সমিতিতে নেয়া হয়। সেখানে তৃতীয় জানাজা শেষে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়।

সর্বজন শ্রদ্ধেয় এডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার বুধবার সকাল ৮টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লিাহি…রাজিউন)। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। মৃত্যুকালে দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে শোক জানান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, স্পিকার, আইন মন্ত্রী, রেল মন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী, নৌ পরিবহনমন্ত্রী, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং বিভিন্ন ব্যাক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এক শোক বার্তায় বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচার প্রার্থীদের আইনি সহায়তা দিতে আব্দুল বাসেত মজুমদারের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আব্দুল বাসেত মজুমদারের মৃত্যু দেশের আইন অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার মৃত্যুতে দেশ একজন দক্ষ আইনজীবীকে হারালো। রাষ্ট্রপতি প্রয়াত বাসেত মজুমদারের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রবীণ এই আইনজীবীর প্রথম জানাজা বেলা ১১টায় বনানী কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে। বাদ জোহর সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় জাতীয় ঈদগা ময়দানে জানাজার ব্যবস্থা করা হয়। দুপুর ২টায় সুপ্রিম কোর্টের পাশে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান প্রাঙ্গণে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে শেষ বিদায় জানান হাজারো আইনজীবী। কফিনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, স্পিকার, আইন মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি, ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ)সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
আইনজীবীদের প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এজন্য দলমত নির্বিশেষে সবাই অংশ নেন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের জানাজায়। আর কোনোদিন তার দেখা মিলবে না সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, রেল যোগাযোগমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

দু’দফায় ১৫০ জন ইউপি চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত, নজিরবিহীন বলছেন বিশেষজ্ঞরা

0

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের কাঠামো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার হিড়িক পড়েছে। প্রথম দফায় ভোটের আগেই ৬৯ জন চেয়ারম্যান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবার দ্বিতীয় ধাপে ৮শ ৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮১ জন চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দু’দফায় ১শ ৫০ জন ইউপি চেয়ারম্যান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন। নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের সকলেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচনে এতো বিপুল সংখ্যক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়াকে নজিরবিহীন ঘটনা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি অনীহার কারণেই এসব নজিরবিহীন ঘটনা ঘটছে। এতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে এবং জবাবদিহিতা কমে যাবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার শেষ দিনে বাকি প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় এসব জনপ্রতিনিধি একক প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। বর্তমানে চেয়ারম্যান পদে তিন হাজার ৩১০ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে নয় হাজার ১৬১ জন এবং সদস্য পদে ২৮ হাজার ৭৪৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।
১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ৮শ ৪৬ ইউপিতে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষে মাঠ পর্যায়ের একীভূত তথ্য জানায় ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা। এতে জানানো হয়. বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে ৮১জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭৬ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ২০৩ জন নির্বাচিত হয়েছেন। অর্থাৎ এসব পদে আর ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে না।
এর আগে প্রথম ধাপে ৬৯ চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এছাড়া সাধারণ সদস্য ৬৩ জন এবং সংরক্ষিত ৬ জন সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে মঙ্গলবার। বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদিন থেকেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম। আগামী ১১ নভেম্বর এসব ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ধাপে ৮শ ৪৬ ইউনিয়ন পরিষদে চার হাজার ৭৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই ৩১টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে একজন করে প্রার্থী হন। তারা সবাই আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী।
মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৫শ ৭২ জন নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ জনে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৩টি উপজেলার ৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ২১টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৮১টি বাদে বাকি ৭৬৫ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন হাজার ৩১০ প্রার্থী।
ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৯৩ জন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ভোটের মাঠে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন নয় হাজার ১৬১জন প্রার্থী। আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন ৭৬ জন। একইভাবে সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ২৮ হাজার ৭৪৭ জন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এক হাজার ৬৬৪জন। এ পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৩০ হাজার ৮৮৩জন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ২০৩ জন। বাকিদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ইইউ’র উদ্বেগ

0

বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা চলমান কয়েকটি মামলা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
মঙ্গলবার ব্রাসেলসে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে এক বৈঠকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উইগ্যান্ড গুনার এ বিষয়ে জানতে চান। বৈঠকের পর যৌথ এক বিবৃতিতে বলা হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইইউ জানায় ওই আইনের কয়েকটি ধারা ডিজিটাল অপরাধ দমনের থেকে অন্য কাজে বেশি ব্যবহার হচ্ছে। গত ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউতে বাংলাদেশ যেসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছিল সেগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য ইইউ উৎসাহ প্রদান করেছে। এ ছাড়া কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক সুশাসন শক্তিশালীর বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।
সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উভয়পক্ষ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও যেকোনও ধরনের বৈষম্যের প্রতি নিন্দা জানায়।

সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট

0

কুমিল্লা,চাঁদপুর,রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, বাসস্থান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার সাহা ও মিন্টু চন্দ্র দাশ এ রিট দায়ের করেন।
রিটে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ দোষী সরকারি কর্মকর্তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে এমন সব ধরনের পোস্ট ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অপসারণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি সচিব, সমাজ কল্যাণ সচিব, পুলিশের আইজি, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ফেনীর ডিসি-এসপিসহ ১৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে সাম্প্রদায়িক হামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।

সাক্ষ্য অইনের বিতর্কিত ১৫৫(৪) ধারা বাতিল হচ্ছে; নারীর মর্যাদাহানি রোধ করবে, জানালেন আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিদ্যমান সাক্ষ্য অইনের ধারা ১৫৫(৪) এর বিধান নারীর মানবাধিকারের বিরুদ্ধে বিধায় এটি বাতিলকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে যা নারীর মর্যাদাহানি রোধ করবে। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইন সংশোধন ও অধিকতর যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত গ্রহণের জন্য এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। বিদ্যমান সাক্ষ্য আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন ও নতুন ধারা সন্নিবেশ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১৪৯ বছর পূর্বে প্রণীত সাক্ষ্য আইনটি এখনো কার্যকরভাবে প্রাসঙ্গিক। তবে, ডিজিটাইজেশন একটি নতুন বাস্তবতা এবং এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষ্য আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
এরূপ সংশোধনী আনয়নের ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্ষম হয়েছি। আইন-আদালতও এর বাইরে নয়। তাই বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সাক্ষ্য আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি বলেন, এই সংশোধনী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ফ্যাসিলেটেড করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সকল আইনকে ফ্যাসিলেটেড করে বিশ্বায়নের বাস্তবতায় সঠিক সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে বিচারকার্য নিষ্পত্তি করা। বিগত লকডাউন এর সম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল প্লাাটফরম ব্যবহার করে অন্যান্য সকল কাজের মতো বিচারিক কার্যক্রমকেও চলমান রাখা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল বিধান রয়েছে। বাস্তবতা ও সময়ের চাহিদার কারণে উক্ত আইনে কিছু নতুন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে আইন মন্ত্রী বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধি বাংলা ভাষায় করা হলেও সাক্ষ্য আইন ইংরেজিতেই করা হবে। যুক্তিতে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় ইতিপূর্বে কতিপয় আইন ইংরেজিতে থাকা প্রয়োজন মর্মে আলোচনা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়নের পর এটি আদালত কর্তৃক বিভিন্ন সময় প্রদত্ত রায়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যাত হয়ে নজির আকারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ইংরেজিতে প্রণীত রাষ্ট্রপতির আদেশসমূহ এখনো বিদ্যমান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনসহ এসব আইন বাংলায় নতুন করে প্রণয়ন করা হলে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে ব্যবহৃত শব্দসমূহ পুনরায় ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবে। সে কারণে, সাক্ষ্য আইন ইংরেজিতে থাকা সমীচীন হবে। বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক কো-অর্ডিনেটর মিয়া সেপো বলেন, সাক্ষ্য আইন সংশোধনের বিষয়টি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি প্রশংশনীয় উদ্যোগ। উক্ত সংশোধনী মানবাধিকার উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৫ (৪) সংশোধনের মাধ্যমে নারীর মর্যাদাহানির পুনরাবৃত্তি হবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়ায় এ সংশোধনী যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে জাতিসংঘ সর্বাত্মক সহায়তা করবে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভুঁইয়া, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (সিআইডি) ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আব্দুল্লাহ আবু প্রমুখ আইনটির বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের সংশোধন ও পরিমার্জনে উদ্যোগ নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়

0

বৃটিশ আমলে প্রণিত ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের সংশোধন ও পরিমার্জন এবং বাংলাভাষায় প্রণয়ন করে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই কমিটি ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধি (The Code of Criminal Procedure, 1898) আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন এবং এতদ্‌সংক্রান্ত সংস্কার ও গবেষণাপূর্বক যুগোপযোগী, আধুনিকায়ন ও বাংলা ভাষায় প্রণয়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবিরকে চেয়ারপার্সন এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারকে কো-চেয়ারপার্সন করে নয় সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, যুগ্মসচিব বিকাশ কুমার সাহা ও কাজী আরিফুজ্জামান, উপসচিব শেখ গোলাম মাহবুব, যুগ্মসচিব (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর, উপসচিব গাজী কালিমুল্লাহ ও যুগ্মসচিব (চলতি দায়িত্ব) মোঃ মুনিরুজ্জামান।
আইনমন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড.মো.রেজাউল করিম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।
এতে বলা হয়,গত ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন এবং এতদ্‌সংক্রান্ত সংস্কার ও গবেষণাপূর্বক, যুগোপযোগী, আধুনিকায়ন ও বাংলা ভাষায় প্রণয়নের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হককে নির্দেশনা প্রদান করেন। এই নির্দেশনার আলোকেই ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন ও পরিমার্জনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কমিটির কার্যপরিধি হবে: (ক) ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন এবং এতদ্- সংক্রান্ত সংস্কার ও গবেষণা এবং উহা যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক সুপারিশ প্রদান (খ) ফৌজদারী কার্যবিধির বাংলা ভাষায় প্রণয়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান (গ) ফৌজদারী মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বর্তমানে ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগের ক্ষেত্রে কী কী সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে, তদ্‌বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক সুপারিশ প্রদান (ঘ) ফৌজদারী কার্যবিধির এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশের আইন পর্যালোচনাপূর্বক সুপারিশ প্রদান। কমিটি প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্যকে কমিটিতে কো-অপ্ট করতে পারবে। কমিটি যতদ্রুত সম্ভব আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের নিকট উপর্যুক্ত বিষয়ে পর্যালোচনা সংক্রান্ত সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করবে। কমিটি গঠনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত উপর্যুক্ত ফৌজদারী কার্যবিধি দ্বারা বর্তমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিন প্রকৌশল ও ন্যানোপ্রযুক্তির এই যুগে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মামলা পরিচালনা করা দুরূহ ও সময় সাপেক্ষ। এ কারণে ফৌজদারী মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জনগণের আইনি অভিগম্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফৌজদারী কার্যবিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন এবং এতদ্‌সংক্রান্ত সংস্কার ও গবেষণাপূর্বক যুগোপযোগী, আধুনিকায়ন ও বাংলা ভাষায় প্রণয়ন করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পূর্বে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের প্রযোজ্য সকল আইনকে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে জারীকৃত Laws Continuance Enforcement Order দ্বারা একই তারিখে জারীকৃত Proclamation of Independence এর বিধান সাপেক্ষে অব্যাহত রাখা হয়। পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৯ অনুচ্ছেদ দ্বারা অব্যাহত থাকা উক্ত আইনগুলোকে হেফাজত করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পূর্বে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে প্রচলিত ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান আমলে প্রণীত অনেক আইন অদ্যাবধি বিদ্যমান রয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রণীত Bangladesh Laws (Revision and Declaration) Act, 1973 (Act No VIII of 1973) প্রণয়নের মাধ্যমে স্বাধীনতাপূর্ব আইনগুলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও অভিযোজনপূর্বক বহাল রাখা হয়েছে। তন্মধ্যে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) অন্যতম।

নোয়াখালীতে মন্দির-মণ্ডপে হামলা: ৩ আসামির ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি

0

নোয়াখালীতে মন্দির-মণ্ডপে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনিতা গুহ শনিবার রাতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এরা হলেন- রিপন  আহাম্মেদ মাহীর, আরাফাত হোসেন রাজিব ও ইব্রাহিম খলিল রাজিব।
এর আগে বৃহস্পতিবার  আবদুর রহিম নামের আরেক আসামি আদালতে জবানবন্দি দেয়।
চৌমুহনীতে মণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে বুধবার রাতে উপজেলার করিমপুর এলাকা থেকে আবদুর রহিম ওরফে সুজনকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  তার বাড়ি করিমপুর এলাকায়।
পুলিশ সুপার বলেন, ওই হামলা ও ভাঙচুরের ভিডিও ফুটেজ দেখে আরও তিনজনকে শনাক্ত করে শনিবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তাদের আদালতে তোলা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় তারা।
গত ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিনে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে কয়েকটি পূজামণ্ডপ এবং হিন্দুদের বাড়িঘরে দফায় দফায় হামলা-ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলা-ভাংচুরের সময় একজনের মৃত্যুর পরদিন পুকুর থেকে আরেকজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় দায়ের করা ১০ মামলায় ১১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে ৬৩ জন এজাহারভুক্ত এবং ৫৯ জন সন্দেহভাজন আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।