ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ৬:১৯ 

Home Blog Page 65

স্থায়ী হলেন ৯ অতিরিক্ত বিচারপতি

0

হাইকোর্টের ৯জন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে পরামর্শ করে এ নিয়োগ দিয়েছেন। এই বিচারপতিরা হলেন মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম, শাহেদ নূরউদ্দিন, মো. জাকির হোসেন, মো. আখতারুজ্জামান, মো. মাহমুদ হাসান তালুকদার, কাজী ইবাদত হোসেন, কে এম জাহিদ সারওয়ার, এ কে এম জহিরুল হক ও কাজী জিনাত হক। শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে তাঁদের এ নিয়োগ কার্যকর হবে।

শেখ রাসেলের মতো আর কোন মৃত্যু দেখতে চাই না: আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আমরা সবসময় শান্তি ও ন্যায়বিচার চাই। শেখ রাসেলের মতো আর কোন মৃত্যু দেখতে চাই না। শেখ রাসেলের মতো আর কোন প্রতিভা জোর করে নিভিয়ে ফেলতে দিতে চাই না।
সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘শেখ রাসেল দিবস’ উপলক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত কনসার্ট ফর পিস এন্ড জাস্টিস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন বিচারের বাণী নিভৃতে কেঁদেছে। এই হত্যাকাণ্ডের যাতে বিচার না হয় সেজন্য খুনির দল ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নামক কুখ্যাত কালো আইন জারি করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে এই কালো আইন বাতিল করে সাধারণ আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু করেছিলেন। কিন্তু এই বিচারের পথ মোটেই মসৃন ছিল না। হাইকোর্টের সাতজন বিচারপতি আপিল শুনতে বিব্রতবোধ করেছিলেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান খুনিদের বাঁচাতে তাদের বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়োগ দিয়েছিল। যে কারণে এখনো কয়েকজন খুনির মৃতুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয় নি। মন্ত্রী বলেন, খুনিরা যেখানেই পালিয়ে থাক তাদের দেশে এনে আদালতের রায় অবশ্যই কার্যকর করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, শেখ রাসেল তাঁর স্বল্প জীবনে অনেক কিছুই রেখে গেছেন যা সত্যিই অনুকরণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত বক্তৃতা করেন।

হিন্দুদের ওপর হামলা বন্ধের আহবান জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

0

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান হামলা বন্ধ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সোমবার পৃথক বিবৃতিতে এই আহবান জানানো হয়। জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলাগুলো সামাজিক মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থেকে উদ্ভূত, যা সংবিধানের মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং বন্ধ করা প্রয়োজন।
”আমরা সরকারের প্রতি সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছি।”
গত ১৩ অক্টোবর দুর্গাপূজার অষ্টমীতে কুমিল্লার একটি মন্দিরে কথিত ‘কোরআন অবমাননার’ অভিযোগ তুলে কয়েকটি মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর চালানো হয়।

এরপর গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় হিন্দুদের ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়েছে।
সর্বশেষ রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে ফেইসবুকে এক তরুণের ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে সেখানে জেলেপল্লীরে ২৯টি বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
রংপুরের ঘটনায় সম্পৃক্তদের ‘তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত’ করা হয়েছে দাবি করে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪৫ জনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক হামলার মধ্যে এক টুইটে মিয়া সেপ্পো আরও বলেন, “অন্তর্ভূক্তিমূলক ও সহনশীল বাংলাদেশকে শক্তিশালী করতে হাতে হাত রেখে এক হওয়ার জন্য আমরা সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
হিন্দুদের নিরাপত্তা দিন: অ্যামনেস্টি

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রেক্ষাপটে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সোমবার এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা সাদ হাম্মাদি বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবের মধ্যে তাদের উপর হামলার ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে দেখে আসছেন তারা।
“গত কয়েক বছরে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদ হাম্মাদি বলেন, “কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই দ্রুত, পরিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।” বিডি নিউজ।

সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে, শিগগিরই মামলা করছে দুদক

0

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান প্রায় শেষ করে এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন,দুদক। শিগগিরই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হবে। দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রটি জানিয়েছে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়া গেছে। দেশের বাইরে টাকা পাচারের সত্যতাও পেয়েছে দুদক। দুদক সূত্র জানায় সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মেয়র থাকাকালে ফুলবাড়িয়ার সিটি করপোরেশনের মার্কেটে দোকান বরাদ্দের নামে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নেয়া, সিটি করপোরশনের বিভিন্ন কেনা কাটায় দুর্নীতি এবং টেন্ডারে কমিশন গ্রহণের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে দুদক অনুসন্ধানে নামে। প্রায় বছরখানেক ধরে অনুসন্ধান এখন শেষ পর্যায়ে। কমিশন মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেই কয়েকটি মামলা হবে। আর এসব মামলায় আসামী করা হবে সাঈদ খোকন, তার মা ফাতেমা হানিফ, স্ত্রী ফারহানা আলম ও বোন শাহানা হানিফ।

সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেয়র থাকাকালে রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় কয়েক হাজার অবৈধ দোকান স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে। তিনি রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বানানো এসব দোকান থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন, এসব অভিযোগ দুদকের কাছে আছে। সেগুলো নিয়েই দুদক অনুসন্ধান করছে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত বছর ডিসেম্বরে সিটি করপোরেশন টানা ছয় দিনের অভিযানে ৬০০ দোকান উচ্ছেদ করে। এই দোকানদারদের ট্রেড লাইসেন্সসহ সব কাগজপত্র ছিল, সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে স্থাপনা করে ব্যবসা করছিলেন। মেয়রের অনুমতি ছিল এসব দোকান স্থাপনে। এসব বিষয়ে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও দুদক অনুসন্ধান করেছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য গত ২৭ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সাঈদ খোকন ও তার পরিবারের সদস্যদের আটটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করে দুদক। দুদকের আবেদনে বলা হয়েছিল, এই ব্যাংক হিসাবগুলোতে অর্থ লেনদেন অস্বাভাবিক। বিপুল পরিমাণ এই অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেন সন্দেহজনক। সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা হস্তান্তর বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।

প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাঈদ খোকনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ফুলবাড়িয়া সিটি মার্কেটের ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত করছে। এ মামলাটিও তদন্ত শেষ পর্যায়ে।
দুদকের অনুসন্ধানে সাঈদ খোকন বিদেশ ভ্রমণ নিয়েও অর্থ লোপাটের সত্যতা মিলেছে। তিনি বিদেশ ভ্রমণেও রেকর্ড করেছেন। ব্যক্তিগত কাজে ২০১৮ সালেই তিনি ৪৭ দিন বিদেশে থেকেছেন। আর ২০১৯ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এ দুই মাসে ব্যক্তিগত কাজে ১৫ দিন বিদেশে থাকেন। তিনি বিদেশ সফর করেছেন বেশিরভাগ অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানেই তিনি অর্থপাচার করেছেন বলে ধারণা করছে দুদক। অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে, ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত সফরে অস্ট্রেলিয়ায় যান এবং ১৯ দিন কাটিয়ে ১৬ জানুয়ারি ঢাকায় ফেরেন। দেশে ফেরার পর একমাস যেতে না যেতেই আবারও ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত সফরে অস্ট্রেলিয়া যান সেখান থেকে ফেরেন ২৬ ফেব্রুয়ারী। এরপর ব্যক্তিগত সফরে ৭ জুলাই আবার অস্ট্রেলিয়া যান ,ফিরেন থেকে ১৮ জুলাই। এরপর গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটের জন্য ১২ থেকে ১৪ সেপ্টম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে। বিদেশ সফরগুলোর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে প্রশিক্ষণের নামে মাত্র চারদিন ব্যয় করেছেন, আর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ৪৭ দিন বিদেশে ছিলেন বলে অনুসন্ধানে বের হয়।। এছাড়া ২০১৯ সালে ব্যক্তিগত সফরে ২ থেকে ৬ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এবং ২১ থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সফর করেন। দফায় দফায় অস্ট্রেলিয়া ব্যক্তিগত সফর নিয়ে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তদন্ত পর্যায়ে সাঈদ খোকনকে এসব বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের কাছে এসব বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন , দুদক যেহেতু অনুসন্ধান করছে সেটারতো শেষ হবেই। তিনি বলেন,অপেক্ষা করেন সবই জানতে পারবেন।

রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের জন্য বোঝা: প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা এবং আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের জন্য একটি বোঝা হিসাবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর ইতিমধ্যেই তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং তারা আমাদের জন্য একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত অ্যান জিরার্ডভ্যান লিউয়েন রোববার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে পরিবেশ ও বন সম্পদ ধ্বংস করছে।
তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহ্সানুল করিম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি জানান, নেদারল্যান্ডের দূত রোহিঙ্গা ইস্যু সম্পর্কে বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে তিনি উদবাস্তু এবং এনজিও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার কাছে মনে হয়েছে, রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নিজস্ব মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেয়ায় এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।
শেখ হাসিনা তার দেশের উন্নয়ন ও ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়নে নেদারল্যান্ডসের অবদানের প্রশংসা করেন।
এ লক্ষ্যে তিনি নেদারল্যান্ডসের মতো ভূমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থানের কথা স্মরণ করেন।
নেদারল্যান্ডে তার শেষ সফরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রিন হাউস পদ্ধতি ব্যবহার করে সেখানে কৃষি সামগ্রীর উৎপাদন ও সংরক্ষণ দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশও কৃষিভিত্তিক তাই আমরাও এই পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারি।’
ডাচ দূত বলেন, তারা এই লক্ষ্যে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে আগ্রহী।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার পানি সংরক্ষণ বৃদ্ধির পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশে নদী ড্রেজিং করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন বালুকাময় সমুদ্র সৈকতে আরো পর্যটক আকৃষ্ট করতে তার সরকার কক্সবাজার বিমানবন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করছে।
তিনি বলেন, তার সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে গতিশীল করতে দেশের অভ্যন্তরে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে।
ডাচ রাষ্ট্রদূত অ্যান জেরার্ড ভ্যান লিউওয়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেন।
দূত বলেন, তিনি বিমানযোগে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন এবং দেশের দৃশ্যাবলী দেখেছেন, যা তার নিজের দেশের অনুরূপ।
পরে বাংলাদেশে নেপালের রাষ্ট্রদূত ড. বংশীধর মিশ্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলছে। নেপাল বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতে পারে।
তিনি নেপালকে মংলা ও পায়রা বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দেন।
প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের সময় নেপালের সহায়তার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
নেপালের রাষ্ট্রদূত তাদের কৃষি খাতের উন্নয়নে বাংলাশের সহযোগিতা চান।
তিনি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন যে তারা এর উন্নয়নে অভিভূত।
নেপালের রাষ্ট্রদূত প্রয়োজনের সবসময় বাংলাদেশকে কাছে পাওয়া এবং পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং নেপালে ভূমিকম্প আঘাত হানার পর বাংলাদেশের চিকিৎসা সহায়তার কথা স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রদূত হাড়িভাঙ্গা আম পাঠানোর জন্য তার দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রদূত-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও প্রধান সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বাসস।

যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে তারাই কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

0

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, তারাই দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে। রোববার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ বিষয়ে বিএনপি’র মন্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
‘সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে কারা রাজনীতি করে’ প্রশ্ন রেখে ড. হাছান বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে নিয়ে যারা রাজনীতি করে, যারা দেশটাকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়, কথায় কথায় এই দেশকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র করতে চায়, তারা তো বিএনপি জোটের মধ্যে আছে। বিএনপি’র মধ্যে অনেক নেতা আছে যারা এই দেশটাই চায়নি। যারা এই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে তারাই কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে।’
‘কুমিল্লার ঘটনা নিশ্চয়ই বের হবে, দিবালোকের মতো স্পষ্ট হবে এবং কি উদ্দেশ্যে এটি ভিডিও করে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে, সেই উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা-স্থিতিশীলতা আছে, দেশ করোনা মহামারির মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে, মহামারিও নিয়ন্ত্রণে আসছে। সুতরাং তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে মানুষের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। সে কারণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার স্বার্থে বিএনপি-জামাত এবং তাদের দোসর সাম্প্রদায়িক উগ্রগোষ্ঠী মিলেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’
এর আগে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি ফুড পলিসি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট প্রকাশিত বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ২০১৯ সালের তুলনায় ১৩ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৭৫তম, যেখানে ভারতের অবস্থান ৯৮তম, পাকিস্তানের অবস্থান ৮৮তম। আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীতে ৯২তম এবং সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশে মাথাপিছু কৃষিজমির পরিমাণ সর্বনিম্ন। এ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে এবং কৃষি ও কৃষকবান্ধব নানা কর্মসূচি এবং নীতির কারণে আমরা সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, ধান উৎপাদনে তৃতীয়, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং চতুর্থের মধ্যে উঠানামা করে এবং আলু উৎপাদনে ৭ম। এটি বিশ্ব খাদ্য সংস্থার কাছেও বিস্ময় যা প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই সম্ভবপর হয়েছে। আমরা এক বিলিয়ন ডলারের বেশি কৃষিপণ্য রপ্তানি করছি। এটিকে দুই বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগুচ্ছে।’
একইসাথে আইনের শাসক সূচকেও বাংলাদেশ একধাপ এগিয়েছে, বলেন ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সমালোচনার মাধ্যমে কাজ শাণিত হয় কাজ শুদ্ধ হয়, সেটি আমরা চাই। কিন্তু যারা প্রতিদিন টেলিভিশনের পর্দা গরম করেন তারা সরকারের নেতৃত্বে এই অর্জনের পর তারা কি সরকারকে অভিনন্দন জানাবেন, এটি আমার প্রশ্ন। আইনের শাসন নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের প্রশ্নের মধ্যেই আইনের শাসন সূচকে আমরা একধাপ এগিয়েছি, এখন তারা কি বলবেন, সেটি আমার প্রশ্ন।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এসকল অগ্রগতি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের পথে দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে একটি বিরাট মাইলফলক। তিনি এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি দেশের সব মানুষকে এবং সাংবাদিকবৃন্দকেও অভিনন্দন জানান। বাসস।

সহিংসতা রোধে আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল: ওবায়দুল কাদের

0

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দুর্গাপূজা ঘিরে ‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সৃষ্ট সহিংসতা ঠেকাতে’ সরকারের যথেষ্ট সতর্কতার অভাব ছিল বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকারের টানা ১৩ বছরে এর আগে কোনো দুর্গাপূজায় ‘সহিংস ঘটনা ঘটেনি’ দাবি করে তিনি বলেন, “আমাদের অবাক করে দিয়েছে। আমরা ভাবতেই পারিনি।
“এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত ছিল। কারণ, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয় ইউনিভার্সিটি ল‌্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলেল জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, “সাম্প্রদায়িক অপশক্তি কিন্তু তৎপর। তারা বুঝে ফেলেছে, শেখ হাসিনার সরকারকে ভোটে হারানো যাবে না; আন্দোলনেও জনগণ সাড়া দেব না।
“কারণ দেশের মানুষ শেখ হাসিনার ওপর খুশি। তার সাহসী নেতৃত্ব, অর্জন, উন্নয়নে সারা বিশ্ব তাকে সম্মান করে।
আগামী বছর বেশ কয়েকটি ‘মেগা প্রকল্প’ উদ্বোধন হবে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, “এটা বিএনপির অন্তর্জালার কারণ, এটাই সাম্প্রদায়িক শক্তির গাত্রদাহের কারণ।
“এগুলো উদ্বাধন হলে তারা চোখে অন্ধকার দেখবে। বিএনপি এমন এক দল যে দল পূর্ণিমার ঝলমলে আলোয় আমবশ‌্যার অন্ধকার দেখে। তারা সরকারের উন্নয়ন দেখে না।”
বিএনপি ও জামাতের মধ্যে ‘ভেতরে ভেতরে মুধুর বন্ধন’ অটুট রয়েছে বলেও মন্তব‌্য করেন কাদের।
তিনি বলেন, সব সাম্প্রদায়িক শক্তির ঠিকানা এক- বিএনপি। পঁচাত্তরের হত‌্যকাণ্ড একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ ছিল। একাত্তরে যারা পরাজিত হয়েছিল তারাই এই হত‌্যাকাণ্ড করেছিল দেশি-বিদেশি নীলনকশায়।
“সেই শক্তি বঙ্গবন্ধু হত‌্যার পর ২১ বছর বিষবৃক্ষ ডালপালা বিস্তার লাভ করেছে। এদের ডালপালা আজ অনেকদুর চলে গেছে। এদের শেকড়ও অনেক গভীরে চলে গেছে। মাঝে মনে হয় নিস্ক্রিয়, আসলে এরা সক্রিয়; সুযোগ পেলেই ছোবল রাখে। এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিষধর সাপ। সুযোগ পেলেই ছোবল মারবে- তার প্রমাণ এবার দুর্গাপূজা।”
‘স্বপ্ন ও সম্ভবনার স্ফূলিঙ্গ-শেখ রাসেল’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও মেধা বৃত্তি, দরিদ্র তহবিলে বিশেষ অনুদান এবং শিক্ষা উপকরণ প্রদানের এই কর্মসূচির আয়োজন করে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল‌্যাণ বিষয়ক উপ কমিটি।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যবেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল স্বপন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি, ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বক্তব্য দেন।বিডি নিউজ।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টিকারিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, প্রমাণের অপেক্ষায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0

কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
তিনি রোববার সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা অনেক কিছুই দেখছি, অনেক কিছুই অনুমান করছি। প্রমাণের অপেক্ষায় আছি, প্রমাণ পেলেই আপনাদের সামনে তুলে ধরব।”
জড়িতদের গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। আমরা শিগগিরই তাদের অ্যারেস্ট করতে পারব।”
গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা শহরের একটি মন্দিরে কুরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে কয়েকটি মন্দিরে হামলা-ভাংচুর চালানো হয়।
দুর্গাপূজার মধ্যে এরপর চাঁদপুর, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় মন্দিরে হামলা হয়। তাতে নিহত হয় অন্তত ছয়জন।
কুমিল্লার ঘটনার চার দিন পর রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পেয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে তার কাছে নানা প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।
আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, “আপনারা (সাংবাদিক) বলছেন, কুমিল্লার ঘটনার অগ্রগতি কী? কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে, আমরা এটি খুব সিরিয়াসলি দেখছি। একটা নির্ভুল তদন্তের মাধ্যমে সব ঘটনা জানাব। খুব শিগগিরই জানাব বলে আশা করছি।
“বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ, এ ঘটনাটি হঠাৎ করে ঘটার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এটি আমরা আরও ক্লিয়ার করতে পারব।”
এর আগে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলার সঙ্গে কুমিল্লার ঘটনার মিল পাওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।
“সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা করে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল। এ দেশের মানুষ ধর্মভীরু, ধর্মান্ধ নয়। এ রকম পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কাদের লাভ হবে- আপনাদের কাছে সেই জিজ্ঞাসা আমার।”
কুমিল্লার পর আরও জেলায় একই রকম ঘটনা ঘটার মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করেন আসাদুজ্জামান কামাল।
“কুমিল্লার ঘটনার পর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ এবং বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালীতে হয়েছে, ফেনীতে হয়েছে, কক্সবাজারে হয়েছে। নোয়াখালীতে প্রাণহানি হয়েছে। যারা নিহত হয়েছেন, তাদের জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।
“সবকিছু তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা অবশ্যই করব, যাতে এ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার প্রয়াস যেন কেউ না পায়।”
এসব ঘটনার পেছনে দেশের বাইরের কোনো ইন্ধন আছে কি না- প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এ মুহূর্তে কিছুই বলছি না। আমাদের দেশের লোকেরই তো অভাব নেই।
“দেশের বাইরে থেকে কলকাঠি নাড়ছে কি না, সেগুলোও তদন্তে বেরিয়ে আসবে। সত্যিকারে যে ঘটনা ঘটেছে, সবকিছু আমরা শিগগির জানাতে পারব।” বিডি নিউজ।

অবিলম্বে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান

0

অবিলম্বে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। শনিবার বিকেলে ‘বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং পাকিস্তানি গণহত্যাকারীদের বিচার’ শীর্ষক নির্মূল কমিটির এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে এ আহ্বান জানানো হয়।
নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক।
ওয়েবিনারে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘এ বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকালে আমাদের মনে রাখতে হবে ২০২১ সাল বাংলাদেশের গণহত্যারও ৫০ বছর। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির কারণে বর্তমান সরকার ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
নির্মূল কমিটি গত ১৫ বছর ধরে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের গণহত্যার স্বীকৃতি এবং গণহত্যাকারীদের বিচারের জন্য আন্দোলন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালে ভারত ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকার, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশিষ্ট নাগরিকরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় সহযোগীদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যার ভয়াবহতা ও ব্যাপকতা তুলে ধরে এর প্রতিবাদ করেছেন। নির্মূল কমিটি ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে সব সংগঠন ও ব্যক্তি কাজ করছেন তারাও বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের গণহত্যার বিষয়টি তুলে ধরে গণহত্যাকারীদের বিচারের পক্ষে জনমত সংগঠিত করছেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগহীনতা দুর্ভাগ্যজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার প্রায় চার দশক পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ও বিদেশের যাবতীয় বাধা অগ্রাহ্য করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া আরম্ভ করেছিলেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় এই বিচার প্রক্রিয়া এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। কী কারণে দুটি ট্রাইব্যুনালকে কমিয়ে একটিতে নামিয়ে আনা হলো, কী কারণে ট্রাইব্যুনালে এখনও পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী এবং গণহত্যাকারী অন্যান্য সংগঠনের বিচার হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। ৭১ এর গণহত্যার ৫০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার প্রাক্কালে আমরা আবারও দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে ৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং পাকিস্তানি গণহত্যাকারীদের বিচার আরম্ভ করতে হবে।’
ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বাংলাদেশের গণহত্যার স্বীকৃতির মতো বিষয়গুলোতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে আসে। “বাংলাদেশে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি” এখন জাতীয় দাবি। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে নির্মূল কমিটির সহযোগিতায় কাজ করলে এই দাবি পূরণ হবে বলে আমি মনে করি। আমাদের দূতাবাসগুলো বাংলাদেশের একাত্তরের গণহত্যার নৃশংসতা, ভয়াবহতা বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরার কাজে সর্বদা নিয়োজিত।’
সরকারের বিচ্যুতি ও ভুল-ভ্রান্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে নির্মূল কমিটি তার ভূমিকা সাফল্যের সঙ্গে পালন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে জাতি তার ইতিহাসকে লালন করে না, সে জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। যে চার মূলনীতির ভিত্তিতে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এগুলোর একটিও থেকে বিচ্যুত হলে আমরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।’
এতে অংশ নিয়ে নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার নির্বাহী সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলাম বলেন, ‘নির্মূল কমিটি এ বছরকে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের বছর ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। অথচ লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার ছাড়া এ বিষয়ে সরকারের আর কোনও উদ্যোগ আমার চোখে পড়েনি।’
‘কয়েক বছর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করার ঘোষণা এসেছিল। সম্ভবত কোনো কারণে সরকার পাকিস্তানি ঘাতকের বিচার শুরু করতে ইতস্তত করছেন। আমরা আজকের ওয়েবিনারের প্রধান অতিথি মাননীয় মন্ত্রীর মাধ্যমে সরকারের নিকট দাবি জানাই, অবিলম্বে হানাদার পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করুন। বিচারের জন্য পাকিস্তান এই যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশের হাতে তুলে না দিলে পাকিস্তানের সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করুন,’ যোগ করেন তিনি।
মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘ আমাদের স্বাধীনতার পর চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ পাকিস্তানের পক্ষ নেয়ায় বাংলাদেশের গণহত্যা এখনও জাতিসংঘে স্বীকৃতি পায়নি। এখন পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে আমাদের এই দাবি নিয়ে নতুন করে এগুতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক লবি। এখনও নিশ্চয়ই পাকিস্তান এবং সে দেশের ঘনিষ্ঠতম বন্ধু চীন আমাদের দাবির বিরোধিতা করবে। কিন্তু তারপরেও আমরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সমর্থন আশা করতে পারি যদি যথোপযুক্ত লবি চালিয়ে যাওয়া যায়। এ ব্যাপারে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ফলপ্রসূ ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। ভারত এবং অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রের সাহায্যের উপর ভিত্তি করে আমরা এগিয়ে গেলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথ খুলে যাবে। বাংলাদেশে গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানি সেনাসদস্যদের বিচারের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এমন ভূমিকা রাখতে হবে যেন পাকিস্তানের ওপর বিভিন্ন দেশ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’
ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শিক্ষাবিদ শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, প্রজন্ম ৭১ এর সভাপতি শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়, নির্মূল কমিটির সুইজারল্যাণ্ড শাখার সভাপতি মানবাধিকার নেতা খলিলুর রহমান, নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি ডা. একরাম চৌধুরী, নির্মূল কমিটির বেলজিয়াম শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেত্রী আনার চৌধুরী, নির্মূল কমিটি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল প্রমুখ।

গাজীপুরে বিউটিশিয়ানকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’, ২ জন গ্রেফতার

0
গ্রেফতারকৃত দুই ধর্ষক:ছবি-বিডি নিউজ।

গাজীপুরে বিউটিশিয়ানকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলার শ্রীপুর থানার পরিদর্শক গোলাম সারোয়ার জানান, শুক্রবার তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার পর পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আদালতে পাঠিয়েছে। তারা হলেন- শ্রীপুর উপজেলার শিমুলতলী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মো. কামরুজ্জামান (৪০) ও ধামলাই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মো. গোলাপ মিয়া (৩৩)।
এই দুইজন ছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরেকজনকে আসামি করা হয়েছে। পরিদর্শক গোলাম সারোয়ার মামলার নথির বরাতে বলেন, বিউটিশিয়ান ও তার এক বান্ধবী ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকায় বিউটি পার্লারে কাজ করেন। বিউটিশিয়ানের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মোস্তফা নামে একজনের গত আট মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মোস্তফার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে শুক্রবার বিকেলে ভাগ্নির জন্য পাত্র দেখতে ওই বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ এলাকার বেলদিয়া গ্রামে যান। দেখার পর রাত ১০টায় কাওরাইদ বাজার থেকে অটোরিকশায় ত্রিশালের উদ্দেশে রওনা হন। জৈনাবাজার-কাওরাইদ সড়কে বলদীঘাট বাজার এলাকায় পৌঁছালে তিনজন তাদের গতিরোধ করে ভয় দেখিয়ে বান্ধবীকে বাইরে আটকে রেখে বিউটিশিয়ান নারীকে বদলিঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের একটি কক্ষে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়। বিউটিশিয়ান শ্রীপুর থানার টহল পুলিশকে ঘটনার বিস্তারিত জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল এলাকায় অভিযান চালিয়ে কামরুজ্জামান ও গোলাপকে আটক করে। এ সময় অপরজন পালিয়ে যায়।
পরিদর্শক গোলাম সারোয়ার জানান, বিউটিশিয়ানকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুইজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বিডি নিউজ।