ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ৭:৫১ 

Home Blog Page 66

পূজা মণ্ডপে অরাজকতা সৃষ্টিকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে : প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে সবাইকে এক হয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পূজা মণ্ডপে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের তাঁর সরকার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে। সম্প্রতি কুমিল্লার পূজা মণ্ডপে সৃষ্ট গুজবকে কেন্দ্র করে মণ্ডপ ভাংচুর এবং অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে সাথে সাথেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং সার্বক্ষণিকই আমরা যোগাযোগ রাখছিলাম এবং এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এবং যেখানে যেখানে যারাই এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটাবে সাথে সাথে তাদেরকে খুঁজে বের করা হবে। এটা আমরা অতীতেও করেছি এবং সেটা আমরা করতে পারবো।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যথাযথ শাস্তি তাদের দিতে হবে। মানে এমন শাস্তি যেন ভবিষ্যতে আর কেউ সাহস না পায় সেটাই আমরা চাই।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বিকেলে শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কেন্দ্রিয় পূজা মণ্ডপে ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি একে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যায়িত করে বলেন, কিছুদিন আগে কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তার খুব ব্যাপক ভাবেই তদন্ত হচ্ছে অনেক তথ্য আমরা পাচ্ছি এবং অবশ্যই এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে তাদেরকে আমরা খুঁজে বের করবোই এবং আমরা তা করতে পারবো কারণ এখন প্রযুক্তির যুগ। এটা বের করা যাবে এবং সে যেই হোক না কেন যে ধর্মেরই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই নেয়া হবে। আর আমরা তা করেছি এবং করবো।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে সে সময় এই যাত্রাটাকে ব্যাহত করার এবং সাথে সাথে দেশের ভেতরে একটা সমস্যা সৃষ্টি করার এ ধরনের কিছু দুষ্ট লোক দেশে রয়ে গেছে। যারা জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারেনা। রাজনীতি নেই, কোন আদর্শ নেই আসলে তারাই এ ধরনের কাজ করে। এটা তাদের এক ধরনের দুর্বলতা। কিন্তু এর বিরুদ্ধে যদি সকলে সচেতন থাকে তাহলে এগুলো যেমন প্রতিরোধ করা যায় তেমনি এর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং মহানগর পূজা কমিটির সভাপতির আশংকা ব্যক্ত করার প্রসংগ টেনে সকলকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, অবশ্যই এ ব্যাপারে আমরা জানি এবং যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন ঢাকার অধ্যক্ষ স্বামী পূর্নাত্মানন্দ মহারাজ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জীর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার।
জাতির পিতার রেখে যাওয়া অসাম্প্রদায়িক আদর্শ নিয়েই তাঁর সরকার পথ চলবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটা অসম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশে সকল ধর্ম, বর্ণের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করবে এবং যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। অর্থাৎ ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সবার। এটা বাংলাদেশে সবসময় ছিল এবং আছে যে প্রতিটি উৎসবের সময় সকলে একসঙ্গে সামিল হয়ে আনন্দ উপভোগ করে। কিন্তু, মাঝে মাঝে কিছু দুষ্ট চক্র কিছু ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের ভেতরের এই চেতনাটাকে নষ্ট করতে চায়।

জাতির পিতা সাংবিধানিকভাবেই আমাদের যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার নিশ্চিত করে যান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িকতার স্থান নাই। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান বাংলাদেশে যারা বসবাস করেন তারা সকলেই এ দেশের নাগরিক। প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা সমঅধিকার ভোগ করবে।’
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার- এই নীতিতেই আমরা বিশ্বাস করি। কাজেই আমরা সবসময় এটাই চেষ্টা করি যাতে প্রত্যেকেই নিজের ধর্ম কর্ম স্বাধীনভাবে আনন্দের সঙ্গে উদযাপন ও পালন করতে পারেন। ’৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল বিশেষকরে বিএনপি-জামাতের মাধ্যমেই এদেশে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে বিদেশে অবস্থানকারী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দূর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান এবং নিজেরা নিজেদেরকে যেন ক্ষুদ্র সম্প্রদায় বা সংখ্যালঘু না ভাবেন সেজন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সরকার প্রধান বলেন, ‘এই মাটিতে আপনাদের জন্ম। কাজেই আপনারা এই মাটিরই সন্তান। সেখানে আপনারা সবাই নিজ অধিকারে বসবাস করবেন। কাজেই এখানে নিজেদেরকে সংখ্যা দিয়ে বিচার না করাই ভাল। আপনারা স্বাধীন বাংলার একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বসবাস করবেন এবং সেই আত্মবিশ্বাসটা আপনাদের মাঝে থাকতে হবে- এটাই আমি চাই।’ দেশের সকল মানুষ সুন্দরভাবে বসবাস করার সঙ্গে সঙ্গে সকলেই ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে এটাই তাঁর ইচ্ছা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না আমরা আপনাদের নিজেদের আপনজন হিসেবে মানি। আপনারা সমঅধিকার নিয়ে এদেশে বসবাস করবেন, ধর্ম পালন করবেন, উৎসব করবেন সেটাই আমরা চাই। আর এটাই হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশের আসল নীতি এবং আমাদের আদর্শ।’
আমাদের ধর্ম ইসলামেও সকলের ধর্ম পালনের সমঅধিকারের কথা বলা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘সূরা কাফেরুন’ এর আয়াত ‘লাকুম দিনূকুম অলিয়াদীন’ উদ্ধৃত করেন এবং বলেন, আমাদের কিছু লোক ধর্মান্ধতায় ভোগেন এবং তারা সবসময় একটা সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে চায়। এ ধরনের লোক যেমন সকল ধর্মে রয়েছে তেমনি সকল দেশেও এ মতের লোকজন পাওয়া যাবে।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে হিন্দু বাবা-মা’র সম্পত্তিতে সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করাসহ শত্রু সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইন করে দেয়া, ঢাকেশ্বরী কেন্দ্রিয় মন্ডপ এবং সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরসহ সারাদেশে হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, তীর্থ ভ্রমণের সুব্যবস্থা করা, সারাদেশে মসজিদের পাশাপাশি মন্দির বা গীর্জাভিত্তিক গণশিক্ষার ব্যবস্থা করা, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্ট আইন প্রণয়ন করে ১শ’ কোটি টাকা সীড মানি দিয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট চালুতে তাঁর সরকারের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরেন। তিনি এই ট্রাস্টের ফান্ড বৃদ্ধিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিত্তবানদেরকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
৩২ হাজার ১১৮টি মন্ডপে এবার দুর্গাপূর্জা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতবার করোনার কারণে পূজা সীমিত পরিসরে হয়েছিল। এবার করোনার প্রকোপ কমে আসায় মন্ডপের সংখ্যাও বেড়েছে এবং ১ হাজার ৯০৫টি বেশি পূজা মন্ডপে এবার শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হচ্ছে। মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত আছে। তবে, স্থায়ী মন্দির ছাড়া যখন অস্থায়ী মন্দির হয় তখনই কিছু লোক সুযোগ নেয়। তিনি বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদসহ যারা আছেন তারা বিষয়টি যেন মনিটরিং করেন এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের এ ব্যাপারে একটা নীতিমালা থাকা দরকার কোথায় কতগুলো মন্ডপ হবে এ বিষয়টি তারা নির্ধারণ করে দিতে পারেন।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি দলটির সভাপতি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও অনুরোধ করব তারাও যেন নিজ নিজ এলাকার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা করেন। যা তারা করেও থাকেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই দেশের মানুষ সুন্দরভাবে উৎসব উদযাপন করবেন। তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবেন সেটিই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। বাসস।

অ্যাডিশনাল এসপি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়া এক প্রতারক গ্রেফতার

0

রাজধানীতে অ্যাডিশনাল এসপি পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে একজন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেফতারকৃতের নাম জিল্লুর রহমান জেলিন।
১২ অক্টোবর মঙ্গলবার মোহাম্মদপুর থানা এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর তার হেফাজত হতে বাংলাদেশ পুলিশের র‌্যাংক ব্যাজ, পুলিশের লোগো ও পুলিশ মনোগ্রাম সম্বলিত নেভি ব্লু রংয়ের একটি পুলিশের হাফ হাতা শার্ট, নেভি ব্লু রংয়ের পুলিশের একটি ফুল প্যান্ট, বাংলাদেশ পুলিশের মনোগ্রাম সম্বলিত চামড়ার বেল্ট, কালো রংয়ের টিউনিক ক্যাপ একটি, জিল্লুর নামীয় একটি নেইম প্লেট, একটি পুলিশ সার্ভিস টাই, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা এর প্রশিক্ষণ সিডিউল ০২ পাতা, একটি itel it5617 বাটন মোবাইল ও একটি orange B6 মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
ডিবির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, প্রতারক জিল্লুর অ্যাডিশনাল এসপি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে জনৈক শহীদুল ইসলাম এর কাছ থেকে ১০,৬৫,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভিকটিম শহিদুল ইসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ অক্টোবর মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা রুজু হয়। মামলাটি তদন্ত শুরু করে সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মোহাম্মদপুর এলাকা হতে প্রতারক জিল্লুকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত জিল্লুর ১৯৯৯ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানার রায়গঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পাস করেন। সে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্যে নিজেকে অ্যাডিশনাল এসপি হিসেবে পরিচয় দিতো। প্রতারক জিল্লু নিজেকে অ্যাডিশনাল এসপি পরিচয় দিলেও তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া র‌্যাংক ব্যাজ ছিল এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তার। সে নিজেকে অ্যাডিশনাল এসপি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে ভিকটিম শহীদুল ইসলাম এর কাছ থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও পুলিশের কনস্টবলে চাকরি দেয়ার কথা বলে অনেকের নিকট হতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। গ্রেফতারকৃত জিল্লুর নিজেকে পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা করে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম এর তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমানের সার্বিক তদারকিতে ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আশরাফ উল্লাহ এর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। সূত্র -ডিএমপি নিউজ।

কক্সবাজারে প্রশাসন একাডেমির জন্য বরাদ্দ ৭০০ একর বনভূমির লিজ হাইকোর্টে স্থগিত

0

কক্সবাজারের হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানের ৭০০ একর সংরক্ষিত বনভূমি সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের জন্য বরাদ্দ দেয়ার আদেশ তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বনভূমি ইজারা দেয়াকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছন আদালত।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বন ও পরিবেশ সচিব, ভূমি সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (১১ অক্টোবর) জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিঞা ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতের রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
রিটকারী আইনজীবী একেএম মনিরুজ্জামান কবির বলেন, ‘গত মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনে এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়েছিলাম। তখন আদালত কোন আদেশ দেননি। পরে এ বিষয়ে গত ৩ অক্টোবর জনস্বার্থে নিজে বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করি।’
ওই রিটের শুনানি নিয়ে কক্সবাজারের ৭০০ একর বনভূমি ইজারা দেয়ার আদেশ তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বনভূমি ইজারা দেয়ার আদেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

জানা যায়, বন বিভাগ ও সংসদীয় কমিটির আপত্তি উপেক্ষা করে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে শুকনাছড়ির সংরক্ষিত বনভূমির ৭০০ একর জমি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই বনভূমি ‘রক্ষিত ও পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন’ জমি। সংরক্ষিত ওই বনভূমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা হলেও প্রতীকী এক লাখ টাকায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতীকী মূল্য পরিশোধ করায় ইতিমধ্যে ওই জমি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে আরও জানা যায়, ২০১৮ সালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বঙ্গবন্ধু একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্টেশনের (বাপা) কার্যালয় নির্মাণের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদফতরের কাছে অনাপত্তিপত্র চায়। সংস্থাটি ওই বছরই ১৪টি শর্তে অনাপত্তিপত্র দেয়। কিন্তু বন বিভাগ ভূমি মন্ত্রণালয়কে লেখা তাদের চিঠিতে জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড় ও পাহাড়ের ঢাল বন্দোবস্তযোগ্য নয় এবং বন বিভাগের ওই জমি বনায়নের জন্য ব্যবহার করতে হবে। ১৯৯০ সালে জারি করা ভূমি মন্ত্রণালয়েরই একটি পরিপত্রে তা বলা হয়েছে। এ ছাড়া বন আইন অনুযায়ী, এ ধরনের রক্ষিত বনে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা নিষিদ্ধ।
বর্তমানে ওই বনভূমিতে ৫৮ প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে আছে গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, মোস, কড়ই, বাটনা, ভাদি, বহেরাসহ অনেক দুর্লভ প্রজাতি। এ ছাড়া বন্য প্রাণীর মধ্যে আছে এশীয় বন্য হাতি, বানর, বন্য শূকর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখি।
ইতিমধ্যে কক্সবাজারের ৭০০ একর বনভূমির ইজারা বাতিলের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন।

রাজারবাগের পীরের পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গি সংগঠন আছে কি না, তার তদন্ত হবে,হাইকোর্টের আদেশ বহাল

0

রাজারবাগের পীর এবং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় উলামা আঞ্জুমান বাইয়্যিনাত বা ভিন্ন কোনো নামে জঙ্গি সংগঠন আছে কি না, সে বিষয়ে আগামী ৩০ নভেম্বরের আগে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে আদালতে প্রতিবেদন দিতে হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশ বহাল রয়েছে। এটিসহ হাইকোর্টের দেয়া তিন দফা নির্দেশ বহাল রয়েছে।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাজারবাগের পীর দিল্লুর রহমানের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ‘নো অর্ডার’ দেন।

হাইকোর্টের আদেশে রাজারবাগের কথিত পীর দিল্লুর রহমান ও তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব সম্পদ রয়েছে, তা নির্ণয় করে ওইসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে ৩০ নভেম্বরের আগে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।
দেশের ছয়টি জেলায় পৃথক ৩৪টি মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ এনে রাজারবাগের পীর ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে সাত বছর বয়সী শিশু, দুজন নারী, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মাদ্রাসার শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ আট ব্যক্তি রিট করেন।
রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দিয়ে তিন দফা নির্দেশসহ আদেশ দেন। সেখানে রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা দায়েরে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদেশ পাওয়ার ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শককে নির্দেশ দেয়া হয়।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাজারবাগের পীর গত রোববার আপিল বিভাগে আবেদন করেন, যা সোমবার চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জহুরুল ইসলাম মুকুল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির।
উল্লেখ্য, হাইকোর্টের ১৯ সেপ্টেম্বর দেয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে করা এক মামলার বাদী মফিজুল ইসলাম এর আগে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর আবেদনটি চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালত আবেদনটি ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।

মাহবুব তালুকদার যা বললেন…

0

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, নির্বাচন এখন কতিপয় জটিল অসুখে আক্রান্ত। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গণতন্ত্রের অবস্থা সংকটাপন্ন। একক ডাক্তারের পক্ষে তাকে বাঁচিয়ে তোলা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে মেডিকেল বোর্ড গঠনের কোনো বিকল্প নেই। মৃত্যুপথযাত্রী গণতন্ত্রকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো একান্ত অপরিহার্য।
রোববার (১০ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের নিজ কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা গণতন্ত্রহীন নির্বাচন চাই কি না! গত ৭ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের উপ-নির্বাচন আমি নিজে পরিদর্শন করি। ইভিএমে ভোটগ্রহণে এখানে ২০ শতাংশ ভোট পড়ে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু ভোটের টার্ন আউট এত কম হওয়ায় জনগণের নির্বাচনবিমুখতা আমাকে হতাশ করে।
অন্যদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদের উপ-নির্বাচনে ইভিএমে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ বৈষম্য কেন তার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এর প্রতিবন্ধকতা দূর না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ হবে না। ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম নগরের ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে জামানত হারিয়েও একজন প্রার্থী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। স্বভাবতই ওই নির্বাচনে ২১ জন প্রার্থীর সবাই জামানত হারিয়েছেন। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, যা বিশ্বে নজিরবিহীন। আমার মতে এতে নির্বাচনে একটা নতুন ধারা সূচিত হলো।
ওই নির্বাচন নিয়ে তিনি আরও বলেন, নবনির্বাচিত কাউন্সিলর অবশ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য একাধিক মামলায় দুই বছরের অধিককাল জেলে রয়েছেন। এই উপ-নির্বাচনের ফলাফল নির্বাচনের প্রতি জনগণের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ বলা হলেও ইতিবাচকভাবে বলা যায়, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার ব্যক্তি এখন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং জনসমর্থন না থাকলেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিভিন্ন জনের তর্ক-বিতর্ক এখন তুঙ্গে। গত ৫০ বছরে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নিয়োগের আইন প্রণয়ন করা হয়নি। এটা বাধ্যতামূলক হলেও সব ক্ষমতাসীন সরকার এটা লঙ্ঘন করেছে। সর্বজনীন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা থাকলে এ আইন করা অনস্বীকার্য। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সব দলের সমঝোতা ছাড়া এ আইন করা অসম্ভব।
মাহবুব তালুকদার বলেন, আমাদের স্বাধীনতার পূর্বশর্ত ছিল গণতন্ত্র। সংবিধানের চারটি মূলনীতিতে গণতন্ত্র সন্নিবেশিত হয়েছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরেও আমরা যদি অন্ধকার ঘরে একটি কালো বিড়ালের মতো গণতন্ত্র খুঁজে ফিরি, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে? একজন ভোটার বাড়ি থেকে বেরিয়ে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ইচ্ছামতো ভোট প্রদান করে নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসবে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র কি এই আকাঙ্ক্ষাটুকু পূরণ করতে পারবে না?

মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন ৬ সেনা কর্মকর্তা

0

সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার নির্ধারিত পঞ্চম ধাপের প্রথম দিনের সাক্ষ্য দিয়েছেন ৬ সেনা কর্মকর্তা।
রোববার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে হাজির করা হয় বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপসহ এ মামলার ১৫ আসামিকে। এরপর সোয়া ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইসমাঈলের আদালতে ২১তম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচারিক কার্যক্রম। তা শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৫ টায়।
সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিরা হলেন লেফটেন্যান্ট মুনতাসির আরেফিন, সার্জেন্ট মোক্তার হোসেন, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সৈয়দ মইন, আবু জাফর ও কর্পোরাল নুর মোহাম্মদ। এ ছাড়া বেবি বেগমের অসমাপ্ত জেরাও শেষ করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, ১০ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করার পর ৬ জনের জবানবন্দি ও জেরা শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৬ জন।
এর আগে, ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর এ দুই দিনে সাক্ষ্য দেন ছেনুয়ারা বেগম, আলী আহমদ, হাম জালাল, ফরিদুল মোস্তফা, সালেহ আহমদ ও বেবি বেগম। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত চতুর্থ দফায় এ মামলায় ২০ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন। তারও আগে, ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর তিন দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
তৃতীয় ধাপের প্রথম দিন সাক্ষ্য দেন- আব্দুল হামিদ, মোহাম্মদ ফিরোজ ও শওকত আলী নামে তিনজন। দ্বিতীয় দিন সাক্ষ্য দেন মারিশবনিয়া মসজিদের ইমাম হাফেজ জহিরুল ইসলাম ও ডা. রণবীর দেবনাথ।
এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপের চার দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় গত ৮ সেপ্টেম্বর। দ্বিতীয় ধাপের চতুর্থ দিনে সাক্ষ্য দেন ৬ নম্বর সাক্ষী শামলাপুর বায়তুর নুর জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। তার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে পুলিশ আটক করে। এরপর সিনহা যেখানে ছিলেন সেই নীলিমা রিসোর্টে ঢুকে তার ভিডিও দলের দুই সদস্য শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নুরকে আটক করা হয়। পরে তাহসিনকে ছেড়ে দিলেও শিপ্রা ও সিফাতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এই দুজন পরে জামিনে মুক্তি পান।
সিনহা হত্যার ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় টেকনাফ থানায়, একটি রামু থানায়। ঘটনার পাঁচ দিন পর অর্থাৎ ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

প্রতারণার মামলায় আরজে নিরব কারাগারে

0

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকমের হেড অব সেলস, কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন অফিসার হুমায়ুন কবির নিরব ওরফে আরজে নিরব দোষ স্বীকার না করায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এক দিনের রিমান্ড শেষে রোববার তাকে দোষস্বীকারোক্তিমুলক রেকর্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই (নি.) রুহুল আমিন।কিন্তু আদালতে উপস্থাপনের পর তিনি স্বীকারোক্তি দিনে অস্বীকৃতি জানান। ফলে পরে তদন্ত কর্মকর্তা নিরবকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন।
ঢাকা মহানগর হাকিম মোরশেদ আল মামুন ভুইয়া কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত ৮ অক্টোবর এই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
নিরবের পক্ষে তার আইনজীবী শামীম আহম্মেদের দাবি, নিরব প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মচারী মাত্র। হয়রানি করতে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আর গত ২ অক্টোবর তিনি প্রতিষ্ঠানটির এমডি বরাবর অব্যাহতির দরখাস্ত দেন। কর্তৃপক্ষ দরখাস্ত গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর ভোরে রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে আরজে নিরবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পণ্য সরবরাহ না করে ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৯ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে আব্দুল্লাহ খান শৈশব নামে এক শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় কিউকমের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা (সিইও) রিপন মিয়া, তার স্ত্রী সৈয়দা তাসমিনা তারিন, আরজে নিরবসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
গত ৩ অক্টোবর কিউকমের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা (সিইও) রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আর জে নিরব দেশের সুপরিচিত একজন রেডিও জকি। দীর্ঘ ১৫ বছর আরজে হিসেবে রেডিও টুডে, এবিসি রেডিও, রেডিও ধ্বনি, সিটি এফএমে কাজ করেছেন তিনি। এখন তিনি সিটি এফএম রেডিওতে হেড অব প্রোগ্রাম হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানান তার আইনজীবী।

মৃত নারীকে জীবিত দেখিয়ে দলিল জালিয়াতির অভিযোগে সাব-রেজিস্ট্রার কারাগারে

0

প্রায় ৩৫ বছর আগে মারা যাওয়া নারীকে জীবিত দেখিয়ে অন্যের নামে দলিল করে জমি রেজিস্ট্রির অভিযোগে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারসহ দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে কুড়িগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। অভিযুক্তরা হলেন- নজরুল ইসলাম (৫৭) ও জহুরা খাতুন (৬০)। নজরুল রাজীবপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এবং তার বাড়ি জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙা গ্রামে। আর জহুরার বাড়ি রাজীবপুর উপজেলার বদরপুর গ্রামে। এর আগে আদালতে রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ রাজীবপুর থানায় আব্দুল করিম নামে ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি এ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের নহর শেখের স্ত্রী ও মামলার বাদী আব্দুল করিমের দাদি দৌলতন নেছা ৩৫ বছর আগে মারা যান। এরপর তার নামে থাকা ৫৪ শতাংশ জমি তার ওয়ারিশরা দখল ও ভোগ করে আসছিলেন। কিন্তু উপজেলার গোল্ডেন লাইফ একাডেমি নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ইসমাঈল হোসেন তার মা জহুরা খাতুনকে দৌলতন নেছা সাজিয়ে দলিল লেখক নুরুন্নবী সরকারসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জমিটির ৫০ শতাংশ গোল্ডেন লাইফ একাডেমির নামে দানপত্র দলিল রেজিস্ট্রি করেন। সাব-রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম সঠিকভাবে যাচাই না করেই জহুরা খাতুনকে দৌলতন নেছা হিসেবে জীবিত দেখিয়ে দলিল সম্পাদন করেন। এরপর একই বছর ৭ ফেব্রুয়ারি গোল্ডেন লাইফ একাডেমির পরিচালক ইসমাঈল হোসেন জমিটি দখল নিতে গেলে বাদী আব্দুল করিম বাধা দেন। তখন ইসমাঈল হোসেন জাল দলিলটি প্রদর্শন করলে আব্দুল করিম বিষয়টি জানতে পেরে আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত বাদীর আবেদন আমলে নিয়ে রাজীবপুর থানা পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
পরে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে সিআইডিকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়। সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে সাব-রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম, দলিল লেখক নুরুন্নবী সরকার, মৃত দৌলতন নেছা হিসেবে পরিচয় দানকারী জহুরা খাতুন ও গোল্ডেন লাইফ একাডেমির পরিচালক ইসমাঈল হোসেনসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
এ বিষয়ে জিআরও প্রদীপ রায় জানান, আসামিরা এতদিন অন্তর্বতীকালীন জামিনে ছিলেন। রোববার তারা আদালতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর আসামিরা এখনও জামিনে রয়েছেন বলেও জানান জিআরও।

বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে, তদন্ত কমিশন গঠনের কাজ শুরু হয়েছে, জানালেন আইনমন্ত্রী

0

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের উন্মোচন করতে তদন্ত কমিশন গঠনের কাজ ‘শুরু হয়ে গেছে’ বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বঙ্গবন্ধু হত্যামামলার বিচারে রাষ্ট্রপক্ষের এই প্রধান কৌঁসুলি বলেন, তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়ার পরপরই সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ মহামারী দেখা দেয়। এই সময়ে কমিশন নিয়ে ব্যস্ত থেকে কোভিড মোকাবেলা না করলে ’সেটা বোধহয় বিবেচকের কাজ হতো না’।
রোববার ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মিট দ্যা রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে কাজ করা শুরু করেছি। এটার অবকাঠামো কী হবে, এটা কোন আইনের আওতায় থাকবে বা নতুন কোনো আইনের প্রয়োজন হবে কি-না, এটা পরিধি কেমন হবে- এগুলোর খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে।”

তদন্তের আওতার বিষয় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এখন যেটা প্রয়োজন, যারা এই ষড়যন্ত্রের মধ্যে ছিলেন, তারা অনেক অপরাধের সাথে জড়িত। শুধু হত্যার অপরাধের সাথে তারা জড়িত না। তারা হচ্ছে এই ঘটনার পরে বাংলাদেশের ইতিহাস পরিবর্তন বা বিকৃত করার অপরাধ করেছেন।
”তারা এই অপরাধটার যাতে বিচার না হয়, সেই আইন করার অপরাধ তারা করেছে। এজন্য অবশ্যই নতুন প্রজন্ম এবং এখনকার প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাস সঠিকভাবে জানানো প্রয়োজন।”
আইনমন্ত্রী বলেন, “যেটা প্রধানমন্ত্রীর চাওয়া, এই কমিশন কিন্তু কোনো প্রতিহিংসামূলক নয়। এই কমিশন হচ্ছে যে, বিকৃত ইতিহাসকে ফেলে দিয়ে সত্য যে ইতিহাস সেটাকে সঠিক পথে চালিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সেটা সম্পর্কে জ্ঞাত করা।
“এটার পরিধিগত ব্যাপার আছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তিদের নিয়ে এটা করা উচিৎ। সেসব কারণে এটার অবকাঠামোগত আলাপ-আলোচনা সেটার কাজ চলছে।”

সার্চ কমিটি ‘আইনের কাছাকাছি’ঃ

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন এখনও না হওয়ার মধ্যে রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করে যেভাবে নিয়োগ দিচ্ছেন, সে পদ্ধতিটিও ‘আইনের কাছাকাছি’ বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় ঘনিয়ে আসায় তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার মধ্যে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এই মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, “হয়ত বা সার্চ কমিটি গেজেটেড, এটা আইন নয়, যেহেতু সকলের কনসেনসাসের ভিত্তিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এটা করেছেন, এটা আইনের কাছাকাছি। কারণ, এটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে।”
বিএনপির সমালোচনার জবাবে আনিসুল হক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করেছে, করে যাবে, তাদের (বিএনপি) সেটা নিয়ে ভীত হওয়ার কোনো কারণ নাই।

“মহামান্য রাষ্ট্রপতি নাম চান সকল দলের কাছে। তাদের দেওয়া প্রস্তাব থেকেও কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি যে কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে, সেখানে একজন আছেন। সেক্ষেত্রে আমি বলছি, তারা আমার কথায় আশ্বস্ত হবেন কি-না জানি না, বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।”
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আইনটি করা প্রয়োজন, তবে বর্তমান মহামারী পরিস্থিতিতে এত দ্রুত সম্ভবপর নয়।

“কোভিড সিচুয়েশন ইমপ্রুভ করলে আমরা পুরো সংসদে আমরা সাড়ে তিনশ সদস্য বসতে পারব, বসে এই রকম একটা গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করতে পারব। সেই জিনিসটা কিন্তু আমাদের হচ্ছে না। সে কারণে আমি বলেছি, ১৫ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে করা সম্ভব নয়। এই বার সার্চ কমিটি করবে।”

খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে ঃ

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যেতে চাইলে এখন তাঁকে কারাগারে গিয়ে নতুন করে আবেদন করতে হবে। তখন অনুমোদন হবে কি না সেটা সরকারের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আবারো এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। তাঁকে কারাগারে গিয়ে নতুন করে আবেদন করতে হবে। তবে আবেদন করলেই তা অনুমোদন হয়ে যাবে এমন নয়, এটা সরকারের ওপর নির্ভর করবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গঃ

বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যাতে ‘অপব্যবহার’ না হয়, সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
এই আইনের মাধ্যমে সাংবাদিক হয়রানির বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কোনো সাংবাদিককে যাতে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা না হয়, সেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। হয়রানি করতে চাইলে তার বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে পুলিশের বিশেষ সেলের সুপারিশ নেয়ার পদক্ষেপটি জোরদার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন আইনমন্ত্রী।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মামলার রায় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিচারাধীন বিষয় বলে এড়িয়ে যান আইনমন্ত্রী।
খালেদা
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানীর সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। বিডিনিউজ/বাসস।

নির্বাচন কমিশন; আওয়ামীলীগ আমলেই দু’মেয়াদে গঠিত হয় সার্চ কমিটি, যাতে ৪ জন থাকেন সাংবিধানিক পদাধিকারী ব্যক্তি

0

নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধানে যে আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে তা ৫০ বছরে কার্যকর না হলেও, গত দু মেয়াদে রাষ্ট্রপতি যে সার্চ কমিটি গঠন করেছেন, তাতে সাংবিধানিক পদে নিয়োজিতরাই প্রাধান্য পেয়েছেন। আর দুটি সার্চ কমিটিই হয়েছে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য ২০১৭ সালে যে ৬ সদস্যবিশিষ্ট সার্চ কমিটি করা হয়, সেই কমিটির চারজনই থাকেন সাংবিধানিক পদের। কমিটির প্রধান করা হয় আপিল বিভাগের একজন বিচারপতিকে। আর সদস্য থাকেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক , সরকারী কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান এবং দেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক। দুই জন বিচারপতি এবং মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং পিএসসির চেয়ারম্যান সংবিধান অনুসারে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায়, বলা যায় সার্চ কমিটি একটি অলিখিত সাংবিধানিক কমিটি যা অনেক শক্তিশালী ও স্বচ্ছ।

আগামী নির্বাচন কমিশনও সার্চ কমিটির মাধ্যমেই হচ্ছে এটা অনেকটাই নিশ্চিত। আর জানুয়ারীতেই রাষ্ট্রপতি এই সার্চ কমিটি গঠন করবেন। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আছে আগমি ফেব্রুয়ারীর ১৫ তারিখ পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে সার্চ কমিটির বিষয়টি স্পষ্ট করার পর এখন সরকারের নীতি নির্ধারক ও মন্ত্রীরাও বলছেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন হবে। বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, সময় স্বল্পতার কারণেই এখন আইন প্রণয়নের সময় নেই ফলে রাষ্ট্রপতির সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন হবে। তিনি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন, “যদিও সার্চ কমিটির গেজেটটা আইন নয়, কিন্তু এটা যেহেতু সবার কনসেন্সের মাধ্যমে হয়েছিল। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সেটা গেজেট করেছিলেন। সেটা কিন্তু আইনের কাছাকাছি। আমি কিন্তু এখনও বলছি এটা আইন নয়, কিন্তু আইনের কাছাকাছি।’
উল্লেখ্য বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, কয়েকটি বেসরকারী সংস্থা এবং সম্প্রতি ৫৪ জন নাগরিক বিবৃতি দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সংবিধানে প্রদত্ত আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে বিএনপি যতো না চিন্তিত তার চেয়ে বেশি চিন্তিত সুশাসনের জন্য নাগরিক,সুজনসহ এর সংশ্লিষ্ট সুশীল সমাজের একটি অংশ। বিএনপি বরং বলছে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার না হলে শুধু আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় সরকারের সঙ্গে একদফা দাবি অর্থাৎ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার নিয়ে সংলাপে বসার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত সংবিধানে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বলা হয়েছে ১১৮ অনুচ্ছেদে। “১১৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।“
এখানে উক্ত বিষয়ে প্রণীত আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি কোনো সরকার নির্বাচন কমিশন গঠনে এই আইন বাস্তবায়ন করেনি্। সব সরকারই তাদের পছন্দমতো নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। ব্যতিক্রম শুরু হয় ২০১২ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেই। সরাসরি রাষ্ট্রপতির পছন্দমতো নিয়োগ না দিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির প্রধান থাকেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। আর সদস্য হিসেবে থাকেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান। এই সার্চ কমিটির সদস্যরা রাজনৈতিক দল ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে নাম সংগ্রহ করে প্রতি পদে দুটি করে নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রপতি এই তালিকা থেকে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেন। ২০১২ সালে ২৩ জানুয়ারী রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান প্রথম ৪ সদস্য বিশিষ্ট সার্চ কমিটি গঠন করেন। মন্ত্রীপরিষদবিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে এই সার্চ কমিটি গঠন হয়।

দ্বিতীয় সার্চ কমিটি গঠন করেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারী। এই কমিটি হয় ৬ সদস্যের । সার্চ কমিটির প্রধান ছিলেন তৎকালীন আপিল বিভাগের বিচারপতি এবং বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। আর সদস্য ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান , মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম ও অধ্যাপক শিরিন আখতার। এই কমিটি কয়েকদফা রাজনৈতিক দল ও সিভিল সোসাইটির লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করে ১০ জনের নামের তালিকা তৈরী করে পাঠায় রাষ্ট্রপতির কাছে । তাদের মধ্য থেকে একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজনকে কমিশনার নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। যা হলো কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন।
আইন,সংবিধান ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠনে যে আইনের কথা বলা হয়েছে সেটা হলে ভালো। তবে ৫০ বছরেও সেই আইন বাস্তবায়ন হয় নি। কিন্তু এর বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করে যে কমিশন গঠন করেন তাও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং অনেকটাই সাংবিধানিক ভিত্তিতে মজবুত। কারণ সার্চ কমিটিতে যারা থাকেন তাদের ৬ জনের মধ্যে ৪ জনই সাংবিধানিক দায়িত্বে নিয়োজিত। সুপ্রিমকোর্টর দুজন বিচারপতি সংবিধান অনুযায়ি নিয়োগপ্রাপ্ত। আর মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান পদ দুটিও সাংবিধানিক। ফলে বলাই যায় সাংবিধানিক পদে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সুপারিশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করেন।
সংবিধানের ১২৭(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। আর সংবিধানের ১৩৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে সরকারি কর্মকমিশনের সভাপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। কাজেই সার্চ কমিটির ৬ জনের মধ্যে চারজনই সাংবিধানিক পদে নিয়োজিত। আর দুজন থাকেন রাষ্ট্রের বিশিষ্ট নাগরিক। তাদের মাধ্যমেই স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন হতে পারে। আইন করে করলেও এরচেয়ে ভালো কিছু হবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধানে প্রদত্ত বিধান অনুযায়ি একটা স্থায়ী আইনী কাঠামো দরকার। কিন্তু তা না হওয়া পর্যন্ত যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়, তাদের সুপারিশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন গঠন হলে তা শক্তিশালী এবং আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।