ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   সকাল ৯:২৩ 

Home Blog Page 67

ডিজিটাল সুদের কারবার: দুই চীনা নাগরিকসহ ৭ জন রিমান্ডে

0

অ্যাপভিত্তিক ‘ডিজিটাল মাইক্রোফাইন্যান্সের’ নামে অবৈধ সুদের কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার দুই চীনা প্রতারকসহ সাত সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এছাড়া এই চক্রের আরও পাঁচ সদস্যকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস এ আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া সাত আসামি হলেন চীনা নাগরিক হি মিংশি ও ইয়াং সিকি, মজুমদার ফজলে গোফরান, আহসান কামাল, হিমেল অর রশিদ, নাজমুস সাকিব ও জেরিন তাসনিম বিনতে ইসলাম।
কারাগারে যাওয়া পাঁচ আসামি হলেন- ইমানুয়েল এডয়ার্ড গোমেজ, আরিফুজ্জামান, শাহিনুর আলম, শুভ গোমেজ ও আকরাম আলী।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক প্রাণ কৃষ্ণ সরকার রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ১২ আসামিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করেন।
প্রথম সাত জনকে ১০ দিনের জন্য রিমান্ডে নিতে এবং পরের পাঁচ জনকে একদিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাত আসামির দুই দিনের রিমান্ড এবং অপর পাঁচ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সরকারি অনুমোদন ছাড়া থান্ডার লাইট টেকনোলজি লিমিটেড, নিউ ভিশন ফিনটেক লিমিটেড ও বেসিক ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নামে এসব ব্যক্তি আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
তারা টিকালা, ক্যাশম্যান, র‌্যাপিড ক্যাশ, আমার ক্যাশের মাধ্যমে জামানতবিহীন ঋণ দেয়ার নামে অতিরিক্ত হারে সুদের কারবার করে বলে অভিযোগ করা হয়।
এসব অ্যাপের সার্ভার চীনে অবস্থিত এবং সেখানে থেকে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে মামলায় অভিযোগ করা হয়, কিছু চীনা নাগরিক বাংলাদেশি নাগরিককে সহায়তার নামে এসব অ্যাপের মাধ্যমে জামানতবিহীন স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার প্রলোভনে গ্রাহক আকৃষ্ট করে।
তাদের বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে গ্রাহকরা ঋণ নিয়ে স্বল্প সুদের পরিবর্তে উচ্চহারে সুদ দিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন।
এছাড়া আইনগত অনুমোদন ছাড়াই তারা গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ করে। গ্রাহকরা এসব অ্যাপ ইন্সটল করলে তাদের অজান্তে ক্যালেন্ডারের ইভেন্ট পড়া, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া দূর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মোবাইল ক্যামেরা ব্যবহার করে ছবি ও ভিডিও ধারণ, মোবাইলের কন্টাক্ট পড়াসহ মোবাইলের এক্স্যাক্ট লাইভ লোকেশন নির্ণয় হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ফোনের স্ট্যাটাস এবং তথ্য সংগ্রহ, ফোনে সংরক্ষিত মেসেজ পড়া, পরিবর্তন করার অনুমতি নিয়ে নেয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের পারসোনাল ডাটা সিকিউরিটির চরম হুমকিতে পড়ে।
প্রতারণার শিকার একজনের অভিযোগ পেয়ে ধানমণ্ডি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বিডি নিউজ।

কর্মজীবনের কর্মশালাঃ দক্ষতা উন্নয়নে আওয়ামী লীগের এ কর্মসূচিতে প্রশিক্ষিত হচ্ছেন তরুণরা

0

তরুণ প্রজন্মকে ক্যারিয়ার সচেতন করতে আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপ-কমিটির উদ্যোগে, সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর সহযোগিতায় ‘কর্মজীবনের কর্মশালা’র তৃতীয় ব্যাচের প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুতই পরবর্তী ব্যাচ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলছে।
তৃতীয় ব্যাচের কার্যক্রম উদ্বোধনের শুরুতে আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপ-কমিটির সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা বলেন, ‘আগামীদিনের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে আজকের তরুণরাই নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদেরকে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অবশ্যই দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে হবে। নিজের ক্যারিয়ারের পরিকল্পনা করে তারা যাতে এগিয়ে যেতে পারে ও দক্ষ হয়ে নিজের ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে সেই চিন্তা থেকেই তরুণদের জন্য আওয়ামী লীগের এই আয়োজন।

গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর আগের দুই ব্যাচের সফল সম্পন্নকারীদের নিয়ে যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিলো। এই ব্যাচের সকলের কাছ থেকে তাদের দুর্বলতার বিষয়গুলো জেনে সেই বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করা হবে। আওয়ামী লীগ চায় দেশের সকল তরুণ-তরুনী তাদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতন হয়ে, সঠিক পরিকল্পনা করে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের উন্নতির পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করুক। আর তাই দক্ষতা অর্জনে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের সম্পদে রূপান্তরের চেষ্টা করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।’

কর্মজীবনের কর্মশালা’র তৃতীয় ব্যাচ সম্পর্কে তথ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নত অবকাঠামো তৈরী করছেন তার সাথে মানানসই একটি তরুণ সমাজ তৈরী করতেই আমাদের এই প্রয়াস। নিজেদের উন্নত করে, উন্নত অবকাঠামোর সঠিক ব্যবহার করতে পারলেই আমরা উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।’

তৃতীয় ব্যাচের একজন অংশগ্রহণকারী পঞ্চগড় জেলার যুবায়ের হোসেন বলেন, ‘কর্মশালায় সুন্দর করে আমাদের ক্যারিয়ার নিয়ে যে প্রেজেন্টেশন দেয়া হয়েছে তা আমি আগে কখনোই পাইনি। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে যে পরিকল্পনা করতে হয়, কিভাবে পরিকল্পনা করতে হয় তার সঠিক ও সুন্দর দিকনির্দেশনা পেয়েছি এই কর্মশালা থেকে।’

কর্মশালা’র অপর একজন অংশগ্রহণকারী মোঃ আরমান কর্মশালা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, ‘এই কর্মশালা’র উদ্যোগটি একটি অসাধারণ বিষয়। এই কর্মশালা’র বক্তাদের কথা যদি আমরা মেনে চলতে পারি ও সে অনুযায়ী যদি ক্যারিয়ার প্লান করে এগিয়ে যেতে পারি তবে অবশ্যই আমাদের জীবনে দারুণ কিছু হবে, সফলতা আসবে।’
এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন-(সিআরআই)’- এর সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদ। তিনি জানান, ‘গত ৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলে। প্রায় ৬ হাজার তরুণ-তরুণী এ কর্মশালার জন্য নিবন্ধন করেন। উক্ত নিবন্ধনকারীদের মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ৭০ জনকে নিয়ে প্রথম ব্যাচের কর্মশালা গত ১৫ এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে ১ মার্চ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে রেজিস্ট্রেশন উন্মুক্ত করা হলে আরো প্রায় ১ হাজার আগ্রহী তরুণ-তরুণী রেজিস্ট্রেশন করেন। দুই ধাপের রেজিস্ট্রেশনকারীদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ১২৬ জনকে নিয়ে কর্মশালা’র দ্বিতীয় ব্যচের কার্যক্রম চলে ১০ ও ১১ মার্চ, দুইদিন।’

তিনি আরো জানান, ‘গত ১২ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয় যা এখনো চলমান রয়েছে। এর পরপরই ৭ ও ৮ অক্টোবর পর্যন্ত যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ৮০ জনকে নিয়ে কর্মজীবনের কর্মশালা’র তৃতীয় ব্যাচের কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্ব সফলভাবে শেষ হয়েছে।’

উল্লেখ্য যে প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচের সফল সম্পন্নকারীদের নিয়ে ইতোমধ্যে গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ‘যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন’ বিষয়ে একটি কর্মশালা আয়োজন করেছে কর্মজীবনের কর্মশালা আয়োজক কমিটি।
যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম জেলার শ্রীজন পাল আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘কমিউনিকেশন স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্সটি চমৎকার ছিল৷ এরকম শর্টকোর্সগুলো চলমান থাকলে আমরা নানা বিষয় শিখতে পারব যা আমাদের ক্যারিয়ার শিক্ষার পথকে আরও মসৃণ করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।’

অপর একজন অংশগ্রহণকারী, রংপুর জেলার মোঃ আজগর আলী বলেন, ‘কমিউনিকেশন স্কিল ডেভেলপমেন্ট” কোর্সটি ছিল অসাধারণ। বিশেষ করে বিজনেস কমিউনিকেশনের বিষয়গুলো আমাদের পরবর্তী চাকরি জীবনে অনেক কাজে আসবে। পরবর্তীতে এরকম আরো কোর্স আমরা চাই।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে কর্মশালা’র অপর এক অংশগ্রহণকারী আমিনুল ইসলাম জানান, ‘কোর্সটি করার মাধ্যমে নিজের স্কিল লেভেলের আরো একধাপ উন্নতি হয়েছে । যা চাকুরী জীবনে ও ব্যক্তিগত জীবনে কমিউনিকেশন করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে মনে করি।’
এছাড়াও ফেনী জেলা থেকে তানভীর আহমেদ ভুঁইয়া, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, জয়পুরহাট জেলার মারুফ আহমেদ, কক্সবাজার জেলার মোঃ ফারেস উদ্দিন রাশেদ, পঞ্চগড় জেলার বরকত আলী, দিনাজপুর জেলার মিলন কিসকু, মোঃ সোহরাব হোসেন, নাটোর জেলার রাজু শেখ সহ সারাদেশের অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা। অংশগ্রহণকারী সকলেই আয়োজকদের ধন্যবাদ দেয়ার পাশাপাশি এই ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের জন্য আয়োজকদের অনুরোধ জানান।

কর্মজীবনের কর্মশালা’র সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর বলেন, ‘তরুণদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে সার্বিক ধারণা ও দিকনির্দেশনা দিতে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নে ইতোমধ্যে একটি কর্মশালা করা হয়েছে।’ যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে তিনি জানান, ‘যোগাযোগ দক্ষতা তরুণদের ক্যারিয়ার গঠনের একেবারে প্রাথমিক কিন্তু আবশ্যক একটি বিষয়। এই দক্ষতা থাকলে পরবর্তী কাজগুলো সহজ হয়ে যায়। আর সেদিকটি লক্ষ্য করেই তরুণদের যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করতে এই আয়োজনটি করা হয়।’
তৃতীয় ব্যাচের প্রাথমিক পর্বের সমাপ্তিতে অংশগহণকারীদের কাছ থেকে ক্যারিয়ার অ্যাসেসমেন্ট ফর্মের মাধ্যমে ক্যারিয়ার নিয়ে তাদের চিন্তা, তাদের দক্ষতা, দুর্বলতা ইত্যাদি কিছু বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে। তাদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে তাদের দক্ষতার জায়গাগুলোকে আরো ভালো করতে ও দুর্বলতার জায়গাগুলোকে দূর করতে কর্মশালার পরবর্তী বিষয় নির্ধারণ করে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি তরুণদের কর্মদক্ষতা ও কর্ম-পরিকল্পনা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মসূচি ‘কর্মজীবনের কর্মশালা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, এমপি। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দেশে লাখ লাখ তরুণ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। তাদের কর্মজীবন সম্পর্কে ধারণা দেয়া এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শদানের মাধ্যমে তরুণদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি আগামীর সম্ভাবনাময় পেশাগুলো সম্পর্কে ধারণা দিলে তরুণরা নিজেদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।’প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

‘প্রতারণা’র মামলায় আরজে নীরব গ্রেফতার

0

প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত ই-কমার্স কোম্পানি কিউকমের বিপণন বিভাগের প্রধান হুয়ামুন কবির নীরবকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, যিনি আরজে নীরব হিসেবেই পরিচিত।
শুক্রবার ভোরে ঢাকার আদাবর এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শের আলম জানান।
তিনি বলেন, প্রায় ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার এক গ্রাহকের দায়ের করা মামলায় নীরবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হলে বিচারক তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।
ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এক গ্রাহক পণ্য কেনার জন্য ৫৬ লাখ টাকা কিউকমকে দিয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি পণ্যও পাননি, পরে কিউকমের অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে টাকাও ফেরত দেয়া হয়নি।
কিউকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ওই মামলায় নীরবের নাম রয়েছে ৪ নম্বরে।
পুলিশ বলছে, রেডিও জকি হিসেবে পরিচিত পাওয়া আরজে নীরব ছিলেন কিউকমের হেড অব সেলস (কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস)। বিভিন্ন মাধ্যমে কিউকমের প্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে তিনি আকৃষ্ট করতেন। তার কথায় আকৃষ্ট হয়ে কিউকমে টাকা ঢেলে অনেকে এখন প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করছেন।
এর আগে পল্টন থানায় আরেক গ্রাহকের করা প্রতারণার মামলায় কিউকমের সিইও রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

দেশে ই কমার্সের ব্যবসা বেশ কয়েক বছর ধরেই বাড়ছিল, এর মধ্যে মহামারী শুরু হলে নতুন নতুন বেশ কিছু কোম্পানি রাতারাতি ফুলে ফেঁপে উঠতে শুরু করে, এর মধ্যে কিউকম একটি।
বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে এসব কোম্পানি লাখ লাখ গ্রাহকের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে এখন।
অনেকে কম দামে পণ্য কিনে পরে বেশি দামে বিক্রির আশায় এসব কোম্পানিতে লাখ লাখ টাকার অর্ডার করেছেন। কিন্তু তাদের অনেকে মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও পণ্য বুঝে পাননি, কোম্পানি তাদের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।
এসব ঘটনায় ইভ্যালি, ই অরেঞ্জসহ বিভিন্ন ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা হয়েছে। এসব কোম্পানির উদ্যোক্তদের অনেকেই ইতোমধ্যে হয় দেশ ছেড়েছেন, না হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার বা নজরদারিতে আছেন। বিডিনিউজ ।

বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র, সেই তাসনিম খলিলের বিরুদ্ধে সুইডেনে মামলা

0

বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে সুইডেনে কথিত সাংবাদিক তাসনিম খলিলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি, অস্ট্রিয়া প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক এম. নজরুল ইসলাম, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সুইডেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান ভূইয়া, প্রকৌশলী হেদায়েতুল ইসলাম শেলী ও দালিল উদ্দিন এই মামলা করেন।
স্টকহোম থেকে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “তাসনিম খলিল বাংলাদেশবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত।

নজরুল ইসলামসহ মামলার বাদিরা।

এই তথাকথিত সাংবাদিক সুইডেন বসে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সরকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তার ‘নেত্র নিউজ’ নামের অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক, ইউটিউব চ্যানেল, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এইসব অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে।
একটি ঘৃণ্য চক্র অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। তাসনিম খলিল এই চক্রের অন্যতম সদস্য। লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান এই চক্রের প্রধান। তাদের পেছনে আছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা। এই অপপ্রচারের জন্য তারা বিপুল পরিমাণ টাকা ঢালছে।
নজরুল ইসলাম জানান, এ ধরণের অপপ্রচার আর চলতে দেয়া যায় না। আইনগতভাবেই এটা বন্ধ হওয়া দরকার। সুইডেনের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, এটা আমরা এই দেশের আইনের দৃষ্টিতে এনেছি।”

কে এই তাসনিম খলিলঃ

বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত স্বঘোষিত নাস্তিক তাসনিম খলিল। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করাই যেন তার নেশা।
আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের আগেই ২০০৭ সালে তাসনিম খলিল অপকর্মের জন্য দেশ থেকে ‘পাততাড়ি’ গুটিয়েছেন। বিলাসী জীবনের হাতছানিতে বিভোর হয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে আয়েশে বসবাস করছেন সুইডেনে। এক যুগ ধরে সেখানে বসেই বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার যোগসাজশে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন তিনি।
দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অস্থিতিশীল ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টির ‘খোয়াব’ তার চিরায়ত। এ কারণে এরই মধ্যে ‘গুজব গুরু’ হিসেবে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। বিদেশে বসে অনলাইনে দেশের বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে কূটকৌশলই তার নেশা।
তাসনিম খলিল জামাত মতাদর্শে বিশ্বাসী একজন নামসর্বস্ব সাংবাদিক। মূলত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যে বিএনপি-জামাতের ‘গুজব সেলে’র পেইড কর্মী হয়ে কাজ করছেন তিনি। তার মূল কাজ হলো, প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরিতে উসকানি দেয়া।
২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ডেইলি স্টার পত্রিকায় চাকরি করতেন তাসনিম খলিল। কিন্তু বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও পক্ষপাতমূলক সংবাদের কারণে ডেইলি স্টার থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এছাড়াও তিনি সিএনএন-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর একটি প্রকল্পে জড়িত ছিলেন। এসময় তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আক্রমণাত্মক লেখা লিখতে থাকেন।
সেই সময় অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যাদের ব্যক্তিগত ইমেইলে ও মোবাইলে টেক্সট দিয়ে বিভিন্ন তথ্য দিতেন তিনি। পরবর্তীতে ভিনদেশিরা বিপুল পরিমাণে অর্থ সহায়তার প্রলোভন দিলে তাসনিম দেশের নানা গোপন নথি দেশবিরোধী শক্তিকে সরবরাহ করে দেন।
এজেন্ডাভিত্তিক সাংবাদিকতায় নিয়োজিত তাসনিম আসলে জন্মভূমির প্রতি অকৃতজ্ঞ। সেখানেও দেশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছেন। সাংবাদিক নাম নিলেও তিনি মূলত প্রতারক। আবার এগুলোই নিজেদের ভূইফোঁড় অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘নেত্র নিউজ’র প্রধান খোরাকও বটে! এসব গুজবের দৌঁড়ে ‘করিৎকর্মা’ হিসেবেই ক্রমশ নিজেদের মেলে ধরে যুক্তরাজ্যে পলাতক ও দণ্ডিত বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সর্বোচ্চ আস্থাও কুড়িয়েছেন।
তাসনিম খলিলের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে। সিলেট নগরের পৌরবিপনী মার্কেটে কিংশুক মুদ্রায়ণ নামে তাদের একটি পারিবারিক প্রেসের ব্যবসা ছিল। জামাত অনুসারি কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত তাসনিমের বাবা কাসেমি মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদর ছিলেন।
সিলেট নগরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পরিবার হিসেবে তারা চিহ্নিত। তাছাড়া মাওলানা সাঈদীসহ কেন্দ্রীয় জামাত নেতারা সিলেট সফরে গেলে তাসনিমদের বাড়িতে নিয়মিত যেতেন। তাসনিম বর্তমানে সুইডেনের আরেব্রোতে বসবাস করছেন। জানা গেছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন নানা ভুল তথ্য দিয়ে তিনি সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।

অবৈধ টাকায় বাড়ি করায়, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

0
বিচারপতি এস কে সিনহা।

রাজধানীর উত্তরায় `বেআইনিভাবে’ প্লট বরাদ্দ নিয়ে `অবৈধ অর্থের মাধ্যমে’ সেখানে নয়তলা ভবন করার অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বৃহস্পতিবার কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন বলে দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান।
এস কে সিনহা ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে’ ঢাকার উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডে ৫ কাঠার একটি প্লট রাজউক থেকে বরাদ্দ নিয়ে সেখানে নয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
রাজউকে দেওয়া প্লটের মূল্যসহ ভবন নির্মাণে ব্যয় করা সাত কোটি ১৪ লাখ পাঁচ হাজার ৮৬৫ টাকা এস কে সিনহা ‘বৈধভাবে আয় করেননি’ বলেও দুদকের ভাষ্য।
কমিশন সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার নিজের নামে আগেই রাজউক থেকে উত্তরার একটি প্লট বরাদ্দ পেয়েছিলেন।
“পরে তিনি ক্ষমতা অপব্যবহার করে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তার ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে রাজউক পূর্বাচল প্রকল্পে প্লটের জন্য আবেদন করান।

“প্রথমে সেখানে ৩ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ করান সিনহা। পরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিন কাঠার প্লটটিকে ৫ কাঠার প্লটে উন্নীত করান। পরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচল থেকে প্লট স্থানান্তর করে উত্তরার এ প্লটটির জন্য রাজউক থেকে অনুমোদন বের করেন।”

দুদক সচিব বলেন, “সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নিজেই প্লটের ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং পরে সেখানে ৯ তলা ভবন নির্মাণ করেন।”
এজাহারে বলা হয়, নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরার ওই প্লটের জন্য রাজউকের অর্থ পরিশোধসহ ভবনের নির্মাণ করতে সাত কোটি ১৪ লাখ পাঁচ হাজার ৮৬৫ টাকা ব্যয় হয়েছে।
মামলায় বলা হয়, “এই অর্থের কোনো বৈধ উৎস নেই বা তার জ্ঞাত আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থ তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করেন।”
সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৭(১) ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও (৩ ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সময়স্বল্পতার কারণে, রাষ্ট্রপতির সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন হবেঃ আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশনের নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনের সদস্য নিয়োগ হবে, বিকল্প উপায় ভাবার সুযোগ নেই। কোভিড পরিস্থিতি ও সময়স্বল্পতার কারণে আইন করারও সুযোগ নেই।’
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এবং সময়স্বল্পতার কারণে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করার মতো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরে ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টসে (ইউল্যাব) ‘স্মরণে শেখ মুজিব-সহস্রাব্দের শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ স্মারক গ্রন্থের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি নেতারা প্রতিদিনই বলছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সার্চ কমিটি তারা মানেন না। তারা নির্বাচন কমিশন গঠনের চেয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চান।
বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন যে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। এই যে সার্চ কমিটির কথা যেটা বলা হয়েছে, সেটা গঠন করা হয়েছিল সব রাজনৈতিক দলের অভিমত নিয়েই এবং সব রাজনৈতিক দল রাজি হওয়ার পরই গেজেট করা হয়।
‘যদিও সার্চ কমিটির গেজেটটা আইন নয়, কিন্তু এটা যেহেতু সবার কনসেন্সের মাধ্যমে হয়েছিল। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সেটা গেজেট করেছিলেন। সেটা কিন্তু আইনের কাছাকাছি। আমি কিন্তু এখনও বলছি এটা আইন নয়, কিন্তু আইনের কাছাকাছি।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরও এই সার্চ কমিটি দ্বারা কয়েকটি নির্বাচন কমিশনের সদস্য মনোনীত করা হয়েছিল এবং নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। আজকে নতুন করে অন্য কোনো কথা বলার আমার মনে হয় অবকাশ নেই।
‘আমি এমন কথা বলছি না যে নির্বাচন কমিশন গঠনে যে আইনের কথা সংবিধানে বলা হয়েছে তা করা হবে না, কিন্তু কোভিড পরিস্থিতি এবং সব কিছু মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে হতে হবে। তাই এখন এ আইন করাটা সম্ভব না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেছেন সার্চ কমিটির মাধ্যমে করা হবে।’
রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপের কোনো সুযোগ আছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এমন কোনো কথা শুনি নাই’।

পল্লবী থেকে নিখোঁজ কলেজপড়ুয়া সেই ৩ বান্ধবী উদ্ধার

0
উধাও হওয়া তিন বান্ধবী।

রাজধানীর পল্লবী থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও সার্টিফিকেট নিয়ে নিখোঁজ হওয়া কলেজপড়ুয়া সেই তিন বান্ধবীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তারা কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরছিল, তখন তাদের র‌্যাব-৪ এর একটি দল উদ্ধার করে।
আজ বুধবার বিকেলে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছিলাম। তাদের অবস্থান শনাক্তের পর আমাদের একটি টিম কক্সবাজারে যায়। সেখানে আমাদের সদস্যরা তাদের অনুসরণ করেন। গতকাল তারা কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন। আমাদের সদস্যরাও তাদের অনুসরণ করে ঢাকায় আসেন। মিরপুরে প্রবেশের সময় তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। শিগগির তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তারা তিনজনই সুস্থ আছেন।’
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে দিলখুশ জান্নাত নিশা, কানিজ ফাতেমা ও নেহা আক্তার নামে তিন বান্ধবী বাসা থেকে বের হন। তারা কলেজের পোশাক পরে এবং ব্যাগ নিয়ে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু তারা আর বাসায় ফেরেননি। পরে নিখোঁজদের পরিবার জানায়, ওই ছাত্রীরা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নগদ টাকা, স্বর্ণের গহনা, নিজেদের সার্টিফিকেট নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে নিখোঁজ শিক্ষার্থী দিলখুশ জান্নাত নিশার বড় বোন অ্যাডভোকেট কাজী রওশন দিল আফরোজ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলাটি করেন। মামলার আসামিরা হলেন- মো. তরিকুল্লাহ (১৯), মো. রকিবুল্লাহ (২০), জিনিয়া ওরফে টিকটক জিনিয়া রোজ (১৮) ও শরফুদ্দিন আহম্মেদ অয়ন (১৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ কাজী দিলখুশ জান্নাত নিশা (১৬) পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-সি, ১৮ নম্বর রোডের মায়ের সঙ্গে বসবাস করত। সে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। লেখাপড়ার সুবাদে এক নম্বর আসামি তরিকুল্লাহ, রকিকুল্লাহ, জিনিয়া ওরফে টিকটক জিনিয়া রোজ ও শরিফুদ্দিন আহম্মেদ অয়নসহ দিলখুশের বান্ধবী লেহা আক্তার (১৭) ও কানিজ ফাতেমার (১৮) সঙ্গে পরিচয় হয়।
এতে বলা হয়, তিন নম্বর আসামি জিনিয়া প্রায় সময় দিলখুশের বাসায় আসা-যাওয়া করত এবং প্রায় সময়ই তরিকুল্লাহ ও জিনিয়া বাসায় এসে নিশাকে ঘোরাফেরার জন্য বাইরে নিয়ে যেত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে দিলখুশ বাসা থেকে বের হয়।
এজাহারে বলা হয়, নিখোঁজের পর তার পরিবারের সদস্যরা খোঁজ করে দেখতে পান, আলমারির ভেতরে রাখা নগদ ছয় লাখ টাকা, স্বর্ণের গহনা, স্কুল সার্টিফিকেট ও জন্মনিবন্ধনপত্র নেই। তার বান্ধবী নেহা আক্তারের বাবা জানান, বাসা থেকে তার মেয়ে নগদ ৭৫ হাজার টাকা, সার্টিফিকেট ও জন্মনিবন্ধনপত্র নিয়ে গেছে। এ ছাড়া কানিজ ফাতেমার বাবা জানান, তার মেয়েও বাসা থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণের গহনা, স্কুল সার্টিফিকেট ও জন্মনিবন্ধনপত্র নিয়ে গেছে।
এদিকে এ ঘটনায় করা মামলায় গত রোববার রকিবুল্লাহর (২০) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। অন্যদিকে আসামি মো. তরিকুল্লাহ (১৯), জিনিয়া ওরফে টিকটক জিনিয়া রোজ (১৮) ও শরফুদ্দিন আহম্মেদ অয়নকে (১৮) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

৭৫ বিয়ে আর ২০০ নারী পাচারকারী বাংলাদেশি যুবক ভারতে আটক

0
নারী পাচারকারী মুনির।

একটি বা দুটি নয়, ৭৫টি বিয়ে। দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে গরিব পরিবারের মেয়েদের বিয়ে করতেন মুনির। এরপর দালালের হাত ধরে নিজের বিয়ে করা স্ত্রীদেরই অবৈধভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত পার করিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হতো ভারতে। আর অবৈধভাবে সীমান্ত পার করাতে ব্যবহার করা হতো অরক্ষিত সীমান্ত সংলগ্ন ড্রেইনগুলিকে।
বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের পরে তাদের কলকাতায় একটি গোপন ডেরায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানেই চলত একপ্রস্থ প্রশিক্ষণ, সেখানে ওই পাচারকারী নারীদের চৌকশ করার পর মুম্বাইতে নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। সবশেষে চাহিদা অনুযায়ী ভারতের বিভিন্ন শহরে তাদের সরবরাহ করা হতো। কেউ কেউ আবার হাত ঘুরে চলে যেতেন বিভিন্ন নিষিদ্ধপল্লীতে। আর এভাবেই চলে আসছিল দিনের পর দিন, মাসের পর মাস।
সম্প্রতি সেক্স র‍্যাকেট এর চক্রের সন্ধান পেয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য আসে ভারতের মধ্যপ্রদেশ পুলিশের হাতে। যদিও এই চক্রের সন্ধান পেতে গত কয়েক মাস ধরে লাগাতার অভিযান চালাতে হয়েছে পুলিশকে।
ভারতীয় পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১১ মাসে ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ জন বাংলাদেশি নারীসহ ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় সাগর, আফরীন, আমরিন নামে ওই পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকা কয়েকজন ব্যক্তিকে। সেই সময় বিষয়টি সামনে আসে যদিও ওই চক্রের মূল পান্ডা বাংলাদেশি নাগরিক মুনির ওরফে মনিরুলর নাগাল কিছুতেই পাচ্ছিল না পুলিশ। আর মুনিরের খোঁজে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের তরফে ১০ হাজার রুপি আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।
অবশেষে গত বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গুজরাটের সুরাট থেকে যশোরের বাসিন্দা মুনিরকে গ্রেফতার করে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্ডোর পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের সদস্যরা। পরে তাকে ইন্দোরে নিয়ে আসা হয়।
পুলিশি জেরায় বাংলাদেশি তরুণী এবং নারীদের ভারতে পাচার করার কথা স্বীকার করেছে মুনির। পুলিশের কাছে মুনির আরও জানায়- গত ৫ বছর ধরে এই কাজ করে আসছে সে। তার হাত ধরে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক নারী কলগার্লে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে ভারতে পাচারের জন্য সীমান্তে টহলরত বাহিনীর সদস্যের রুপি দিতে বলেও জানায় মুনির।
মুনির এ ও জানায় এখনো পর্যন্ত সে ৭৫টা বিয়ে করেছে এবং তাদের অধিকাংশ গরীব এবং দরিদ্র পরিবারের নারী। আর দারিদ্রতার সেই সুযোগ নিয়েই কাজের লোভ দেখিয়ে নিজের বিয়ে করা স্ত্রীদেরই ভারতে এনে বিক্রি করে দেয়া হতো এবং এই পেশায় ঠেলে দেয়া হতো।
পুলিশের দাবি মুনির জানিয়েছে, দালাল মারফত অরক্ষিত সীমানার ড্রেইন গুলিকে ব্যবহার করে সে বাংলাদেশ থেকে নারীদের ভারতে আনা হত এবং পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদসহ গ্রামীণ এলাকায় সেই সব নারীদের রাখা হতো। এরপর তাদের ভোপাল, ইন্দোরসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো।
গত ১১ মাস ধরে মধ্যপ্রদেশের লাসুদিয়া এবং বিজয়নগর শহরে অভিযান চালিয়ে ১১ জন বাংলাদেশি নারী সহ ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়। এরপর সেক্স র‍্যাকেটের বিষয়টি সামনে আসে। তবে কেবল মুনিরই নয়, এর পিছনে একটি বড় চক্র রয়েছে বলেও অনুমান পুলিশের। তাই মুনিরকে জিজ্ঞেস করেই আরও বড় চক্রের হদিশ পেতে চাইছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ।
বিজয়নগরের সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা তেহজীব কাজী জানান, কয়েকদিন আগে সুরাট থেকে নিষিদ্ধ পল্লী এলাকার এক দালালকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় একটি গেষ্ট হাউসে অভিযান চালিয়ে ২১ জন নারীকেও উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি। বাংলাদেশি নারীদের ভারতে পাচার করে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিষিদ্ধ পল্লী এলাকায় কাজের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হয়। যদিও সেই সময় মূল অভিযুক্ত পালিয়ে যায় এবং তাকে গ্রেফতারের জন্য ১০ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

উইঘুর বন্দীশিবিরে ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন চীনা পুলিশ কর্মকর্তা

0
নির্যাতনের শিকার উইঘুর সম্প্রদায়

এক রাতে হঠাৎ করেই শত শত পুলিশ ঘরে ঘরে গিয়ে উইঘুর সম্প্রদায়ের লোকদের তাদের বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে যায়, হাতকড়া পরিয়ে দেয়, বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে গুলি করা হবে, এমন হুমকিও দেয়- এভাবেই উইঘুরে মুসলিম নির্যাতন শুরুর বর্ণনা দিয়েছেন বর্তমানে ইউরোপে নির্বাসনে থাকা এক চীনা পুলিশ কর্মকর্তা। তার পরিবারের নিরাপত্তার সুবিধার্থে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ওই পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ না করে, তাকে জিয়ান নামে অভিহিত করেছে।
সিএনএনকে দেওয়া তিন ঘণ্টার এক সাক্ষাৎকারে জিয়ান বলেন, সে রাতে তাদের ওপর নির্দেশ ছিল- যদি এই এলাকায় শত শত লোক থাকে, তাহলে সেই শত শত লোককেই গ্রেফতার করতে হবে। সাক্ষাৎকারে জিয়ান কীভাবে উইঘুরদের উপর নিয়মতান্ত্রিক নির্যাতন করা হচ্ছে তাঁর বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন।
তিনি উইঘুরের ডিটেনশান ক্যাম্পে কাজ করাকালীন তার ওপর নির্দেশ ছিল বন্দীদের এমন ভাবে মারতে যাতে তারা ব্যথায় আর উঠে দাঁড়াতে না পারে, তাদের সারা শরীরে যেন কালশিটে পড়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সব বন্দীকে প্রচণ্ডভাবে মারা হতো উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, এই নির্যাতন থেকে পুরুষ, মহিলা এমনকি ১৪ বছরের কোনো শিশুও বাদ যেত না।
নির্যাতনের বেশ ভয়াবহ কিছু বর্ণনা দিয়েছেন জিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, নির্যাতনকারী কারারক্ষীরা একেকজন একেক ধরনের নির্যাতন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। কেউ কেউ লোহার বার বা তালা যুক্ত লোহার শিকল ব্যবহার করেন নির্যাতনের জন্য। আবার অনেকে ধাতু বা কাঠের ‘টাইগার চেয়ার’ ও ব্যবহার করেন, যা এক ধরনের নির্যাতনের উপকরণ। মানুষকে সিলিং থেকে ঝুলিয়ে রাখা, যৌন নির্যাতন করা, বৈদ্যুতিক শক দেয়া সেখানকার নিয়মিত ব্যাপার বলেও জানান তিনি। সেখানকার কয়েদিদের প্রায়ই কয়েক দিন জেগে থাকতে বাধ্য হয় এবং খাবার ও পানি দেয়া হয় না বলেও জানান জিয়ান।
এসব বন্দীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী অপরাধের অভিযোগ আনা হলেও তারা সবাই সাধারণ নাগরিক উল্লেখ করে জিয়ান আরও বলেন, যে শত শত বন্দীকে তিনি গ্রেফতারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে কেউই অপরাধ করেননি।
জিয়ান বলেন, পুলিশের আটক কেন্দ্রগুলোতে নির্যাতন তখনই বন্ধ করা হতো যখন তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো স্বীকার করে নিত। এরপর তাদের পাঠানো হতো কারাগারের রক্ষীদের দ্বারা পরিচালিত একটি অন্তরীণ ক্যাম্পে।
তবে জিয়ানের এইসব স্বীকারোক্তি সিএনএন পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি, যদিও তার অনেক বক্তব্য উইঘুর ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা অনেক বন্দীর কথার সঙ্গে মিলে যায়। সিএনএন এসব অভিযোগের ব্যাপারে চীন সরকারের কাছে বিস্তারিত প্রশ্ন জমা দিয়েছে, যদিও চীন এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি বিএনপি, তবে…..

0
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনার প্রস্তাব দেয়ার আগেই বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সরকার চাইলে বিএনপি আলোচনায় বসতে রাজি । তবে এই আলোচনায় বিএনপি চায় একটি এজেন্ডা, আর সেটি হলো নির্বাচনকালিন নিরপেক্ষ সরকার। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন।
যদিও সরকারের নীতিনির্ধারানী মহল থেকে বলে দেয়া হয়েছে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা আর ফিরবে না এবং এ নিয়ে কোনো আলোচনাও হবে না।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, গত নির্বাচনের আগে যে আলোচনা হয়েছে আর এখন যে আলোচনা হবে- তা এক নয়। নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকার এই একটি এজেন্ডা থাকলে আলোচনা করতে রাজি আছি। আমরা একটা জিনিসই চাই- তা হলো নির্বাচনকালীন সময়ে একটা নিরপেক্ষ সরকার। এটা তো কোনো অন্যায় দাবি নয়।
জাতিসংঘ সফর শেষে সোমবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের নাম নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। যে কোনো নামই হতে পারে। তবে নির্বাচনকালীন সময় যে সরকার থাকবে- তা কোনো দলীয় সরকার হবে না। সরকারকে কোনো রূপরেখা দেওয়ার ব্যাপারে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সার্চ কমিটি ধোঁকাবাজি ছাড়া কিছু নয় মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, সার্চ কমিটি সম্পূর্ণভাবে সরকার তাদের নিজেদের পছন্দের লোকদের দিয়ে তৈরি করে। যে কারণে হুদা কমিশন সরকারের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে আগ বাড়িয়ে দলীয় ভূমিকা পালন করেছে। যেটা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএনপিকে কেন ভোট দেবে প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের হাত থেকে বাঁচার জন্য জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে। তারা দেশের যে অবস্থা তৈরি করেছেন, তাতে মানুষের জীবনে কোনো নিরাপত্তা নেই। জীবিকারও কোনো নিরাপত্তা নেই। চারদিকে ভয় ও ত্রাস, সন্ত্রাস ছাড়া আর কোনো কিছুই নেই। মানুষ অতিষ্ঠ। ১০ টাকা কেজির চাল খাওয়াবেন বলে তারা ক্ষমতায় এসেছিলেন। এখন ৭০ টাকা কেজি চাল। তারা বিনা পয়সায় সার দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- তা দেননি। মানুষ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার জন্য বিএনপিকে ভোট দেবে। মানুষ শেখ হাসিনার সরকার থেকে মুক্তি চায়। বিএনপিই একমাত্র দল যারা অতীতে দেশের মানুষকে শান্তিতে রেখেছিল। এজন্যই জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে।
নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কোনো নির্বাচন কমিশন হোক, নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকার না থাকলে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয় না। এটা আমার মুখের কথা নয়। এটা আগেও অনেকে বলেছেন। নির্বাচন কমিশন খুব ভালো করলেন, সরকার তাদেরকে কাজ করতে দেয়নি তখন নির্বাচন তো সুষ্ঠু হবে না।
আগামীতে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না- এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। এসব খেলা আর জনগণ গ্রহণ করবে না। শুনতে পাচ্ছি আগামীতে ১৫০টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। ইভিএম দিয়ে কারচুপি করবে। সরকার সত্যিকার অর্থেই যদি অর্থবহ নির্বাচন করতে চায় তাদের দায়িত্ব হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলা। আলোচনা করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটা নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে একমত হতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে গঠন করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন হবে সম্পূর্ণভাবে প্রহসন।
ক্ষমতাসীন দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সমস্যা কোথায়? এত উন্নয়নই যদি করে থাকেন তাহলে আত্মবিশ্বাস থাকবে যে আপনারা জিতবেন। তাহলে কেন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে সমস্যা নিরসন করছেন না।
এক প্রশ্নে জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধানের বাইরে যাবে না বললেও তো ভুল বলছে তারা। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, আমরা সেখানে সংযোজন করেছি। তারাই হাইকোর্টে রায়ের দোহাই দিয়ে সেই রায়টারও সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দেয়। সেই রায়েও কিন্তু আছে আরও দুই টার্ম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। সেটাও কিন্তু তারা করেনি। শুধুমাত্র তাদেরই সুবিধার জন্য দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করেছে। সংবিধান কি বাইবেল, যে পরিবর্তন করা যাবে না। জনগণের প্রয়োজনে সেই সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে।
আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন তো হবেই। দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন হবে। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলন হবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের নেতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বেআইনিভাবে আটক রেখেছে। এত বেশি ভয় পায় যে, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পর্যন্ত দিতে চান না। তিনি (খালেদা জিয়া) বেরুলেই যে জনগণের উত্তাল তরঙ্গ তৈরি হবে- সেটা উনি (প্রধানমন্ত্রী) করতে চান না। এটা পরিষ্কার যে, এই দেশে তারা রাজনীতি করতে দেবেন না। রাজনৈতিক চর্চা থাকবে না। গণতন্ত্র থাকবে না। একটামাত্র দল থাকবে, একজন নেতা থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের নেতা খালেদা জিয়া। নির্বাচন করতে না পারলে নেতা থাকবেন না, সেটা তো কোনো কথা নয়।