বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির (এনরোলমেন্ট) মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে ৫ হাজার ৯৭২ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশিত হয়।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা সংশ্লিষ্ট আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করতে পারবেন। এর আগে ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৮ হাজার ৭৬৪ জন। পরে দুই ধাপে লিখিত পরীক্ষায় প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরীক্ষায় অংশ নেন।
৩০ মে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হন ৫ হাজার ৩৩৫ শিক্ষার্থী। পরে তৃতীয় পরীক্ষকের খাতা মূল্যায়নের পর আরও ১৩৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাদের মৌখিক পরীক্ষাও নেয়া হয়।
বার কাউন্সিলের ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৫৯৭২ জন
ছাত্রীদের ‘প্রেমের ফাঁদে’ ফেলে ধর্ষক সাগর গ্রেফতার
কক্সবাজারে ‘আমারী রিসোর্ট’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে এক তরুণীকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. সাগর মিজিকে (২৪) আটক করেছে র্যাব-১০। শনিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানা এলাকার সায়েদাবাদ থেকে তাকে আটক করা হয়।
এ সময় সাগরের কাছে থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। শনিবার কাওরানবাজার বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) মো. মাহফুজুর রহমান।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, সাগর গত ১৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় ‘আমারী রিসোর্টে’ একটি কক্ষ ভাড়া করেন। হোটেল কর্তৃপক্ষকে তিনি জানান, তার স্ত্রী ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে যাবেন, তখন তার ডাবল কক্ষ লাগবে। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর সাগর ওই তরুণীকে স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে নিয়ে যান।
পরদিন সকাল থেকে ৪০৮ নম্বর কক্ষে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে মিস্ত্রির সাহায্যে কক্ষটি খুলে ওই তরুণীর লাশ দেখতে পান হোটেল কর্তৃপক্ষ। এরপর পুলিশে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করা হয়।
সাগরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব জানায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরেই ওই নারীকে স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে নিয়ে যান সাগর। এরপর তাকে ধর্ষণ করার সময় ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে সাগর ওই তরুণীকে ধাক্কা দিলে মেঝেতে পরে যায়। তখন সাগর তার গলাচেপে ধরে পাশে থাকা গ্লাস দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে ঘটনাস্থলে থেকে পালিয়ে যান।
র্যাব আরও জানায়, সাগর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নারীকে মিথ্যা প্রেমের ফাঁদে ফেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করেছে। এ ছাড়া তিনি স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্রীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে নিয়ে কৌশলে ধর্ষণ করতেন।
অপহরণকারীদের মরদেহ ক্রেনে ঝুলিয়ে রাখল তালেবান
আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চার অপহরণকারী নিহত হওয়ার পর তাদের লাশ ক্রেনে ঝুলিয়ে রেখে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়েছে তালেবান। শনিবার এ ঘটনা ঘটে বলে দেশটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান। হেরাতের ডেপুটি গভর্নর মাওলাউই শির আহমেদ মুহাজির বলেন, তাদের মৃতদেহ বিভিন্ন জনসমাগম স্থলে প্রদর্শন করা হয়। অপহরণ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এই শিক্ষা দিতেই এমনটা করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা গ্রাফিক ইমেজে দেখা গেছে, একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে লাশগুলো রাখা। সেখানে ক্রেন দিয়ে একজনের লাশ ঝুলিয়ে রাখা। ট্রাকটির চারপাশে ছিল তালেবানের সশস্ত্র যোদ্ধারা। আর তা দেখতে ভিড় করে সাধারণ মানুষ। আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্রেনে ঝোলানো একজনের বুকে ‘অপহরণকারীদের এমন শাস্তিই হবে’ এমন বার্তা সাঁটিয়ে দেওয়া ছিল।
গত মাসে তালেবানে দেশটির দখল নেয়ার পর এই প্রথম এমন কঠোরতম শাস্তির ঘটনা ঘটল। আর এর মধ্য দিয়ে মনে করা হচ্ছে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাহিনীটি ক্ষমতায় থাকার সময় যে কট্টরপন্থা অবলম্বন করেছিল, তা এখনো তারা বহাল রাখবে।
মুহাজির বলেন, ‘আজ শনিবার একজন ব্যবসায়ী ও তার ছেলেকে অপহরণ করা হয় বলে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে খবর আসে। এরপরই পুলিশ শহর থেকে বের হওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেয় এবং তালেবান একটি তল্লাশিচৌকিতে কয়েকজনকে আটকালে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়।’
মুহাজির এএফপির কাছে পাঠানো এক রেকর্ড বার্তায় বলেন, কয়েক মিনিটের ওই বন্দুকযুদ্ধে আমাদের একজন মুজাহিদীন আহত হন এবং চার অপহরণকারী নিহত হয়। এক ভিডিও ক্লিপে তিনি বলেন, ‘আমরা (আফগানিস্তান) ইসলামি আমিরাত। আমাদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। কাউকে অপহরণ করা যাবে না।’
আফগানিস্তানে ফের ফিরছে মৃত্যুদণ্ড, অঙ্গচ্ছেদের চরম শাস্তি
তালেবানের সাবেক ধর্মীয় পুলিশ প্রধান ও বর্তমান কারাপ্রধান মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবি বলেছেন, আফগানিস্তানে মৃত্যুদণ্ড এবং অঙ্গচ্ছেদের মতো চরম শাস্তির বিধান আবার চালু করা হবে।
বার্তা সংস্থা এপি’কে তুরাবি বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য’ হাত কাটার মতো শাস্তি দেয়া জরুরি। তবে এবারে সেই আগেরবারের তালেবান শাসনামলের মতো প্রকাশ্যে এই শাস্তি দেয়া নাও হতে পারে বলে জানান তিনি।
১৯৯০-এর দশকের শাসনামলে তালেবান অপরাধীদের শাস্তি দিত স্টেডিয়ামে শত শত মানুষের সামনে। অতীতে এমন প্রকাশ্যে মত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন তুরাবি।
তিনি বলেন, “প্রত্যেকেই আমাদের স্টেডিয়ামে শাস্তি দেয়া নিয়ে সমালোচনা করেছে। কিন্তু আমরা তো কখনও তাদের আইন আর শাস্তি দেয়ার পন্থা নিয়ে কিছু বলিনি। আমাদের আইন কেমন হবে, তা কাউকে বলে দিতে হবে না। আমরা ইসলাম অনুসরণ করব এবং কোরআনের ওপর ভিত্তি করে আমাদের আইন তৈরি করব।”
আফগানিস্তানে আগেরবারের তালেবান শাসনামলে খুনিদের মাথায় গুলি করে মত্যুদণ্ড কার্যকর করা হত। আর চুরি করার শাস্তি ছিল হাত কেটে ফেলা। মহাসড়কে ডাকাতি করার শাস্তি হিসাবে ডাকাতিতে জড়িতদের এক হাত ও পা কেটে ফেলা হত।
এবছর তালেবান গত ১৫ অগাস্টে রাজধানী কাবুলের দখল নেয়ার পর থেকেই দেশে আগেরবারের চেয়ে নমনীয় শাসনব্যবস্থা চালুর কথা বলে আসছে। গোটা বিশ্বই তালেবানের কথা নয় বরং কাজ দেখার অপেক্ষায় আছে।
কিন্তু তালেবান যত নরম কথাই বলুক দেশজুড়ে মাঠ পর্যায়ে ভিন্ন চিত্র নজরে আসছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিবিসি জানায়, মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, হেরাত-এ তালেবান নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়ার স্বাধীনতা দিচ্ছে না এবং বাধ্যতামূলক ড্রেস কোড আরোপ করেছে।
অগাস্ট মাসে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছিল, হাজারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৯ সদস্যকে হত্যার নেপথ্যে ছিল তালেবান যোদ্ধারা। অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, ঠান্ডা মাথার নৃশংস এসব হত্যাকাণ্ড তালেবানের অতীত রেকর্ডের কথাই মনে করিয়ে দেয় এবং তালেবান শাসনে কী হতে চলেছে তার এক ভয়াবহ আলামত পাওয়া যায়।
তালেবান এবার কাবুল দখলের দিন কয়েক আগেও বালখ প্রদেশের এক তালেবান বিচারক হাজি বদরুদ্দীন বিবিসি-কে বলেছিলেন, তিনি গোষ্ঠীটির কঠোর সাজার পদ্ধতি এবং ইসলামিক ধর্মীয় আইনের ব্যাখ্যা সমর্থন করেন। আর এখন মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবিরও তালেবানের সেই কঠোর পথে ফেরারই স্পষ্ট আলামত দিলেন।
তুরাবি তালেবানের প্রভাবশালী একজন নেতা এবং গোষ্ঠীটির এক অন্যতম সহপ্রতিষ্ঠাতাও। মানুষকে কঠোর সাজা দেয়ার কারণে তার কুখ্যাতি আছে। ১৯৯০ এর দশকের তালেবান আমলে তুরাবি ছিলেন আইন ও ধর্মীয় পুলিশ মন্ত্রী। অনৈসলামিক সঙ্গীত শোনা কিংবা দাড়ি ছাঁটার জন্য তিনি লোকজনকে ধরে কঠোর সাজা দিতেন।
এবার এপি বার্তা সংস্থাকে তুরাবি বলেছেন, কঠোর সেইসব সাজা চালু থাকবে। তবে এখন মানুষকে টিভি দেখা, মোবাইল ফোন ব্যবহার করা, ছবি এবং ভিডিও তুলতে দেয়া হবে।
অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য তুরাবি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছেন। তিনি জানান, তালেবান মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা এখন সাজা প্রকাশ্যে কার্যকর করা হবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা করছেন। এ ব্যাপারে তারা একটি নীতি নির্ধারণ করবেন।
শেখ হাসিনার সরকার ষড়যন্ত্রকে ভয় পায় না: আখাউড়ায় আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার দুটি দুর্নীতি মামলার একটিতে ৭ বছর, আরেকটিতে ১০ বছর সাজা হয়েছে। মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি শর্তে তাকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি বাসায় চলে এসেছেন, এখন বিলাসবহুল বাসায় থাকেন। কোভিড হওয়ায় তিনি হাসপাতালে গেছেন। যেদিন থেকে হাসপাতালে গেছেন সেদিন থেকে বলা শুরু করেছেন- বিদেশে যেতে দেন, বিদেশে যেতে দেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতির কারণে তখন বিমান চলে না, ট্রেন চলে না, গাড়ি চলে না, জাহাজ চলে না। কিন্ত উনাদেরকে বিদেশ যেতে দিতে হবে। আমরা বললাম চিকিৎসা হচ্ছে, তিনি সুস্থ হয়েছেন। তিনি বাড়ি ফিরে গেছেন। এখনও বলে বিদেশ যেতে দেন। আমরা যদি বাংলাদেশে থেকে মানুষকে সুস্থ করতে পারি, তাহলে বিদেশ যাওয়ার দরকার আছে?’ প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।
এ সময় আনিসুল হক উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারাই বলুন বেগম জিয়ার বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন আছে কি না? আপনারা বললে আমি তাকে বিদেশ যেতে দেবো।
বিএনপির সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা ঢাকা শহরে চিকিৎসা নিতে চায় না। চিকিৎসকেরা ওনাকে ভালো করে দিয়েছেন। এখনো ওনারা বলছে আমরা নাকি ভয় পাই ওনাকে বিদেশ যেতে দিতে। যে লোক, যে দল দেশে থেকে অশ্বডিম্ব পাড়ে, সে বিদেশে গিয়ে কী করতে পারে আপনারা বলেন।
তিনি বলেন, আমি আপনাদেরকে পরিস্কার বলে দিতে চাই, শেখ হাসিনার সরকার ষড়যন্ত্রে ভয় পায় না। ষড়যন্ত্রে একবার জাতির পিতাকে হারিয়েছি। আর ষড়যন্ত্র করতে দেব না। আমরা সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনীতি, নির্বাচন ও গণতন্ত্র একই সূত্রে গাঁথা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কারণ এদেশে গণতন্ত্র আছে। আপনাদেরকে প্রমাণ করে দিতে হবে যে আমাদের মানুষ ভোট দিতে পারে। এ জন্যে তিনি জনগণকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আহবান জানান।
জনগণ চাইলে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আখাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আক্তারসহ স্থানীয় নেতারা। পরে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন আইনমন্ত্রী।
শুধু ঢাকাতেই সাড়ে ৩ হাজার মাদক ব্যবসায়ী
শুধু ঢাকা বিভাগেই সাড়ে তিন হাজার মাদক কারবারি রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। দুই মাস আগে সংস্থাটির করা এক হালনাগাদ তালিকায় এ তথ্য উঠে এসেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, তালিকা ধরে তারা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।

শুক্রবার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রিস্টাল মেথ (আইস) ও ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান।
ফজলুর রহমান বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আগেও মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি করেছিল। সম্প্রতি এ তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। এখন ঢাকা বিভাগের মাদক কারবারিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য লোকবল ও সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে অভিযানের সংখ্যা বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফজলুর রহমান জানান, ২১ আগস্ট বনানী ও উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০০ গ্রাম আইসসহ ১০ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গুলশান, ভাটারা, কুড়িল ও রমনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ৫৬০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস) ও ১ হাজার ২০০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার গ্রেফতার পাঁচ ব্যক্তি হলেন: জাকারিয়া আহমেদ (৩২), তারেক আহম্মেদ (৫৫), সাদ্দাম হোসেন (৩১), শহিদুল ইসলাম খান (৪৮) ও জসিম উদ্দিন (৫০)।
তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর ভাটারা, গুলশান ও রমনা থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
দিল্লির আদালতকক্ষে এলোপাতাড়ি গুলিতে ৪ জন নিহত
দিল্লির একটি আদালতে দুপক্ষের গোলাগুলিতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে নিহতের মধ্যে কুখ্যাত সন্ত্রাসী জিতেন্দ্র গোগী রয়েছেন বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
কয়েকজন দুষ্কৃতকারী আইনজীবীর পোশাক পরে আদালতকক্ষে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
আদালতে দুপক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পাল্টা গুলি চালায় দিল্লি পুলিশ। পুলিশের গুলিতেই ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবারের এই ঘটনায় আদালত চত্বরের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি চলেছে। গোলাগুলিতে সেখানে কর্মরত ১ নারী আইনজীবীও আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গোগীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গত মার্চে তাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশের বিশেষ বিভাগ। আদালতে হাজির করার পর বিরোধীপক্ষের লোকজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জিতেন্দ্র গোগীর ওপর হামলার ঘটনায় ‘টিল্লু’ দলের লোকজন জড়িত বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
রোহিণী শহরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার প্রণব তয়াল বলেছেন, আইনজীবীর পোশাক পরে আততায়ীরা আদালতের মধ্যেই গোগীর ওপর গুলি চালায়। তারপর পুলিশও পাল্টা গুলি চালিয়েছে।
দিল্লির পুলিশ কমিশনার রাকেশ আস্থানা বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের ২ সদস্য আদালতের ভেতরে গোগীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশ পাল্টা গুলি চালিয়ে ২ হামলাকারীকে হত্যা করে।
পুলিশ দ্রুত পাল্টা আক্রমণ করে হামলাকারীদের হত্যা করে জানিয়ে তিনি জানিয়েছেন, গোগিসহ মোট ৩ জন মারা গেছেন।
মুনিয়ার মৃত্যু: হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন বসুন্ধরার এমডি আনভীরের
কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়াকে ‘ধর্ষণ ও হত্যার’ অভিযোগে তার বোনের দায়ের করা মামলায় হাই কোর্টে আগাম জামিন চেয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের হাই কোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আবেদনটি ১৪২৪ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। কার্যতালিকা অনুযায়ী ২৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।
মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া এর আগে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলা করেছিলেন বসুন্ধরার এমডির বিরুদ্ধে। পুলিশ ওই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর ‘ধর্ষণ ও হত্যার’ অভিযোগ এনে আনভীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা করেন তানিয়া।
ঢাকার ৮ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম মাফরুজা পারভীন গত ৬ সেপ্টেম্বর বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
বসুন্ধরার এমডি আনভীরের পাশাপাশি তার বাবা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, মা আফরোজা সোবহান, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা এবং শারমিন, সাইফা রহমান মিম, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং ইব্রাহিম আহমেদ রিপনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
গত ২৬ এপ্রিল রাতে ঢাকার গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ২১ বছর বয়সী মোশারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেছিলেন ওই তরুণীর বোন তানিয়া।
সেখানে বলা হয়, ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে সায়েম সোবহান আনভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন মুনিয়ার সঙ্গে। ওই বাসায় তার যাতায়াত ছিল। কিন্তু বিয়ে না করে তিনি উল্টো ‘হুমকি’ দিয়েছিলেন মুনিয়াকে।
সেই অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কখনো কথা বলেননি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি। মুনিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে তার কোনো ‘সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি’ জানিয়ে গত ১৯ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।
পুলিশের ওই প্রতিবেদনে অনাস্থা (নারাজি) জানিয়ে মুনিয়ার বোন তানিয়া অন্য কেনো সংস্থার মাধ্যমে মামলাটি তদন্তের আবেদন করেছিলেন।
তা খারিজ করে ঢাকার মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী গত ১৮ অগাস্ট চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সায়েম সোবহান আনভীরকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
বাদীর অন্যতম আইনজীবী এম সরোয়ার হোসেন সেদিন বলেছিলেন, এ অব্যাহতি আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন তারা। তবে পরে আদালতে নতুন মামলাটি করেন মুনিয়ার বোন।
মুনিয়া ঢাকার মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার মনোহরপুরে; পরিবার সেখানেই থাকেন। মৃত্যুর মাস দুয়েক আগে এক লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন তিনি।
মুনিয়ার মৃতদেহ উদ্ধারের পর সেখান থেকে তার মোবাইলসহ বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধার করে পুলিশ, যার মধ্যে ছয়টি ডায়েরি ছিল। সিসিটিভির ভিডিও পরীক্ষা করে মুনিয়ার ফ্ল্যাটে আনভীরের যাতায়াতের ‘প্রমাণ পাওয়ার’ কথাও সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল।
তবে তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে মুনিয়ার ‘আত্মহত্যায়’ আনভীরের ‘সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ার’ কথা বলা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।
ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, আসামি আনভীর ২০১৯ সালের জুন মাসে বনানীতে ‘৬৫ হাজার টাকায়’ একটি বাসা ভাড়া নেন এবং ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে’ মুনিয়াকে নিয়ে সেখানে ওঠেন।
“আনভীর ৭/৮ ধরে তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে আনভীরের মা,বাবা ও মডেল পিয়াসা তাদের বাসায় মুনিয়াকে ডেকে নিয়ে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলে এবং তা না করলে হত্যার হুমকি দেয়।”
এরপর মুনিয়া কুমিল্লায় বাবার বাড়িতে চলে যান। কিন্তু পরে চলতি বছরের মার্চে মুনিয়াকে ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে’ আবারও ঢাকায় নিয়ে আসেন আসামি এবং গুলশানের ওই বাসায় তাকে রাখেন বলে আর্জিতে লিখেছেন তানিয়া।
“মুনিয়া ২/৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায়। বিষয়টি আনভীরকে জানিয়ে সে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। বিষয়টি এ মামলার অপর আসামিদের মধ্যে জানাজানি হলে তারা পারিবারিক সুনাম, সুখ্যাতি রক্ষায় মুনিয়াকে হত্যার হুমকি দেয়।”
আরজিতে বলা হয়, “২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল সকাল ৯টায় মুনিয়া তার বোনকে (মামলার বাদী) ফোনে বলে, ‘আপু আমার বিপদ, আনভীর আমাকে ধোঁকা দিয়েছে। সে আমাকে বিয়ে করবে না, ভোগ করেছে মাত্র। তুমি তাড়াতাড়ি এসো, আমার বড় দুর্ঘটনা হয়ে যেতে পার।”
এরপর তানিয়া কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে ওই ভবনের ম্যনেজারের সাহায্যে তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে মুনিয়ার ঝুলন্ত লাশ পান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
শাল্লার ঝুমন দাশের জামিন মিলল হাইকোর্টে
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাশকে এক বছরের জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট।
এই এক বছর সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে পারবেন না।
বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার ঝুমন দাশের জামিন মঞ্জুর করে।
গত সোমবার আবেদনের শুনানিকরে বৃহস্পতিবার বিষয়টি আদেশের জন্য রেখেছিল আদালত।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না। সঙ্গে ছিলেন নাহিদ সুলাতানা যুথি ও মো. আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।
আইনজীবী আশরাফ আলী জানান, “পর্যবেক্ষণসহ শর্তসাপেক্ষে আদালত ঝুমন দাশকে এক বছেরের জামিন দিয়েছে। আদালত তার নিয়মিত জামিন প্রশ্নে রুলও দিয়েছে।”
হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নিয়ে ফেইসবুকে ‘আপত্তিকর পোস্ট’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে গত ১৭ মার্চ শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। সে সময় গ্রামের বাড়িঘর ও মন্দির ভাঙচুর করা হয়। হিন্দুদের অন্তত ৯০টি বাড়িতে হামলা হয় সেদিন।
পরে ওই ফেইসবুক পোস্টের জন্য ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে শাল্লা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। সেই মামলায় গত ছয় মাস ধরে কারাগারে বন্দি এ যুবক।
সুনামগঞ্জের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জামিন না হওয়ায় ঝুমনের আইনজীবীরা জজ আদালতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও জামিন আবেদন নাকচ হয়ে গেলে গত ২২ অগাস্ট হাই কোর্টে জামিন আবেদন করা হয়।
সোমবার শুনানি শেষে আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেছিলেন, “এটা কোনো মামলাই হতে পারে না। মামলা যাদের বিরুদ্ধে হওয়ার কথা তাদের বিরুদ্ধে না হয়ে মামলা করা হয়েছে ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে। ঝুমন দাশের মা যাও একটা মামলা করেছে, সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করার পর জামিনে ছাড়া পেয়ে গেছে।”
জেড আই খান পান্না বলেছিলেন, “একটা মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। মামুনুল হকের কর্মকাণ্ড, বক্তব্য নিয়ে সরকারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অনেক মন্ত্রী এমপি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মামুনুল হকদের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। ঝুমন দাশ বলেছিলেন, মামুনুল হকরা যা করছে তা পাকিস্তানি অ্যাক্টিভিটি। এ কথা সরকারও বলেছে। তাহলে ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে মামলা কেন?”
ঝুমন দাশের গ্রেপ্তার এবং আদালতে হাজির করার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও হাই কোর্টের শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী।
তিনি বলেন, “ঘটনার তারিখ হচ্ছে ১৬ মার্চ। জব্দ তালিকা অনুযায়ী ঝুমন দাশের মোবাইল জব্দ করার তারিখ বলা হয়েছে ১৬ মার্চ, অর্থাৎ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওইদিনই। কিন্তু পুলিশ মামলা করেছে ২২ মার্চ। আর আদালতে হাজির করা হয়েছে ২৩ মার্চ। আসামিকে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার কথা। প্রশ্ন হল এতদিন তাহলে ঝুমন দাশ কোথায় ছিলেন?”
মার্চের ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ঝুমন দাশের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ঝুমন দাশের মুক্তির জন্য সারাদেশে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালন করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে ‘বৈশ্বিক জনস্বার্থ সামগ্রী’ ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রীর আহবান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত কোভিড-১৯ সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে ‘বৈশ্বিক জনস্বার্থ সামগ্রী’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, কার্যকরভাবে বিশ্বব্যাপী টিকা দেয়ার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনগুলিকে ‘বৈশ্বিক জনস্বার্থ সামগ্রী’ হিসেবে ঘোষণা করা দরকার।
প্রধানমন্ত্রী বুধবার ‘হোয়াইট হাউজ গ্লোবাল কোভিড-১৯ সামিট: এন্ডিং দ্যা প্যানডেমিক এন্ড বিল্ডিং ব্যাক বেটার হেলথ সিকিউরিটি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে পূর্বে ধারণকৃত বক্তব্যে একথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেখানে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ভার্চুয়াল এ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সম্মেলনে ভাষণে জো বাইডেন কোভিড-১৯ মহামারী অবসানে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জার্মান চ্যান্সলর এঞ্জেলা মার্কেল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো, আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা এবং জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, টিকা লাভের সার্বজনীন অধিকার নিশ্চিত করা লক্ষ্যে সক্ষমতা রয়েছে এমন উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মাধ্যমে টিকার স্থানীয় উৎপাদনের সুযোগ দেয়া উচিত।
হোয়াইট হাউস আমন্ত্রিতদের জানিয়েছে, এ বছরের শেষের দিকে এবং ২০২২ সালের শুরুতে ফলো-আপ ইভেন্টগুলো অংশগ্রহণকারীদেরকে তাদের প্রতিশ্রুতির জন্য দায়বদ্ধ রাখার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর সরকার কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনধাপ পন্থা অবলম্বন করেছে। ‘প্রথমত, জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা, যন্ত্রপাতি, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এবং সম্পদ বরাদ্দ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে আমাদের নাগরিকদের, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় সহায়তা প্রদান করা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ পুনরুদ্ধার করা।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষা নেট কর্মসূচির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নীতির দিকে মনোনিবেশ করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দ্বিতীয়ত টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করছে, যাতে উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।
তৃতীয়ত, তিনি বলেন যে, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং কম কার্বণ নিঃসরণের দিকে মনোনিবেশ করা হচ্ছে।
কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ১৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ বরাদ্দ করেছি, দরিদ্র, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীসহ ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন সুবিধাভোগীদের ১৬৬ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করেছি।’
তিনি আরো বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৫ মিলিয়নের বেশি টিকা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২২ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে আমাদের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ লোককে টিকা না দেয়া পর্যন্ত আমরা প্রতি মাসে ২০ মিলিয়ন মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা করেছি।’বাসস।











