প্রধানমন্ত্রীর তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশে ৫জি সেবা চালু করা হবে।
নিউইয়র্কে বিজনেস রাউন্ড টেবিলে তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের ৫জি প্রযুক্তি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, যেহেতু সরকার শেষ প্রান্তের মানুষের কাছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ সে হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও ব্যান্ডউইথের ঘাটতিও নেই।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রচুর সক্ষমতা ও অপটিকেল ফাইবার রয়েছে।’
জয় আরো বলেন, শেষ প্রান্তের ব্যবহারকারীরা ফিক্সড লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। তারা মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।
তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমরা স্পেকট্রাম ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতির চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি। ঘন-জনবসতির কারণে আমাদের ব্যাপক জায়গায় এই সংযোগ দিতে হবে এবং অতিরিক্ত সংযোগ নিলামের মাধ্যমে দিতে হবে। আর এ জন্য আমরা মোবাইল অপারেটরদের জন্য অধিক স্পেকট্রাম অবাধ করে দিচ্ছি।’
তারা কয়েক বছর আগে ৪জি চালু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে-অতিরিক্ত স্পেকট্রাম ব্যবহার করে মোবাইল অপারেটরগুলো দুর্গম গ্রামীণ এলাকাগুলোতে (শেষ প্রান্তে) ৪জি চালু করতে পারবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘একত্রে ৪জি ও ৫জি’র মাধ্যমে আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শেষ সীমানা পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেহেতু দেশের মধ্যেই প্রচুর সক্ষমতা ও ফাইবার আছে।’
ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে বিজেনস রাউন্ড টেবিলের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।
প্রধানমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড: দি নিউ ফ্রন্টিয়ার ফর গ্রোথ’ শীর্ষক রাউন্ড টেবিলে ভার্চুয়ালি যোগ দেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বিগত দুই বছরে তারা অনলাইন আইডেন্টিটি (কেওয়াইসি) চালু করেছে এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই আরেকটি সেবা চালু করেছে। যার ফলে বাংলাদেশের যে কোন ব্যাংক একাউন্টে তাৎক্ষণিক পেমেন্ট করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা আরো বলেন, এখন পর্যন্ত অর্থাৎ এই সেবা শুরুর আগে, এই পেমেন্ট করতে দুই দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত।
রাউন্ড টেবিলে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জয় বলেন, ‘আপনারা অনলাইনের মাধ্যমে এই সেবা গুলো থেকে বঞ্চিত হবেন না। আপনাদের সিস্টেম এই সেবাগুলোর সাথে সংযোগ ঘটাতে সক্ষম।’
জয় বলেন, আরো কিছু ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমেরও পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এদের মধ্যে একটি হচ্ছে আইডিপিপি-যার ফলে দেশে আন্তসংযোগের জন্য এমএফএস করা সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘তাই আমরা এই সেবাগুলো চালু করার প্রক্রিয়ায় রয়েছি এবং আপনাদের সাথে এ ব্যাপারে কাজ করতে পেরে আনন্দিত। আপনাদের এ ব্যাপারে কোন পরামর্শ থাকলে দিতে পারেন।’বাসস।
চলতি বছরের শেষে ৫জি চালু হবে : সজীব ওয়াজেদ জয়
পরিবারে বাল্যবিবাহ থাকলে ভিজিডি না দেয়ার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
পরিবারে কারও বাল্যবিবাহ হয়ে থাকলে সরকারের দুস্থ মহিলা উন্নয়ন কর্মসূচি (ভিজিডি) সহায়তা না দেয়ার সুপারিশ করেছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ভিজিডি উপকারভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে উপকারভোগীর পরিবারে বাল্যবিবাহ, অর্থাৎ ১৫-১৮ বছরের বিবাহিত মেয়ে থাকলে, সেসব পরিবারকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশনা দিয়ে মাঠপর্যায়ে চিঠি পাঠানোর জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।
কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আবদুল আজিজ, শবনম জাহান, লুৎফুন নেসা খান, সাহাদারা মান্নান ও কানিজ ফাতেমা আহমেদ অংশ নেন।
সিভিল এভিয়েশনের প্রকৌশলী ইউনুস ও তার দুই স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদকের নোটিশ
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), সিভিল এভিয়েশন-২ এর সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউনুস ভূইয়া ও তার দুই স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন সাক্ষরিত এ নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত স্বনামে/বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সিভিল এভিয়েশন-২ এর সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউনুস ভূইয়া, তার দুই স্ত্রী মরিয়ম নেছা ও মারুফা আক্তার এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী নির্ধারিত ছকে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে দুদক।
নোটিশ প্রাপ্তির ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে হবে। এতে ব্যর্থ হলে অথবা মিথ্যা বিবরণী দাখিল করলে আইন মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দুদক।
রেসিডেনসিয়াল ছাত্র রাহাতের মৃত্যু: ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে হাই কোর্টের রুল
প্রথম আলোর সহযোগি প্রকাশনা কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুলছাত্র নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার এবং ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
৫০ কোটি করে মোট ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, বিবাদীদের কাছে সে ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে নিহত ছাত্রের বাবা ও কলেজ কর্তৃপক্ষের রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রুল দেয়।
রিট আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম আব্দুর রউফ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
আইনজীবী রউফ বলেন, “প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে এর আগে উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছিল। প্রথম আলো থেকে সে নোটিসের জবাব দিলেও সেখানে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি। পরে গত জুনে রিট মামলাটি করা হয়। আদালত রুল দিয়েছেন।”
আবরারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কেন ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে এ আইনজীবী বলেন, “ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেশ সুনাম রয়েছে। নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় এ প্রতিষ্ঠানটির সুপ্রতিষ্ঠিত ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে, সুনাম নষ্ট হয়েছে। যে কারণে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জন্য ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।”
প্রথম আলোর প্রকাশক-সম্পাদক, কিশোর আলোর সম্পাদক, স্বরাষ্ট্র, তথ্য জ্বালানি, ও শিক্ষা সচিবসহ মোট ১২ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রায় দুই বছর আগে ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর মোহাম্মদপুরে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ক্যাম্পাসে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যানে নবম শ্রেণির ছাত্র আবরার রাহাত।
ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক কিশোর আলো প্রথম আলোর কিশোর সাময়িকী। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান কিশোর আলোর প্রকাশক; আর কিশোর আলোর সম্পাদক হলেন আনিসুল হক।
রাহাতের মৃত্যুর পর তার বাবা মো. মুজিবুর রহমান প্রথম আলো সম্পাদকসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।
দণ্ডবিধির ৩০৪ এ ধারার দায়ের করা এই মামলায় দোষ প্রমাণে আসামিদের সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।
তদন্ত শেষে গত বছর ১৬ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলিম।
তাতে নাইমুল আবরারের মৃত্যুর পেছনে কিশোর আলো কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার প্রমাণ’ পাওয়ার কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, অনুষ্ঠানের জন্য যে বিদ্যুৎসংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল, তা ‘অরক্ষিত’ ছিল।
অভিযোগপত্রে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। তবে গত বছরের ১২ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের সময় আনিসুল হককে বাদ দেয়া হয়।
পরে প্রথম আলোর সম্পাদক-প্রকাশক মতিউর রহমান মামলা বাতিলের আবেদন করেন হাই কোর্টে।
সেই আবেদনে হাই কোর্ট মতিউর রহমানের ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে। তার বিরুদ্ধে মামলা কেন বাতিল করা হবে না, মেই রুলও দেয়া হয়। বিডি নিউজ।
সাধু বেশে পাকা চোর, গার্মেন্টেস পণ্য চুরি করে শত কোটি টাকার মালিক সাঈদ গ্রেফতার
মৌলভীবাজারে তার আলিশান বাড়ি। আছে বিলাসবহুল গাড়ি। স্ত্রী-সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন লন্ডনে। শত শত ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যানের মালিক। এর সবই হয়েছে গার্মেন্টস পণ্য চুরির টাকায়। তার নাম সাহেদ ওরফে সিলেটি সাঈদ। চোরচক্রের মূলহোতা সাঈদ এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচ হাজার চুরির ঘটনা ঘটিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক হাজার কোটি টাকার রপ্তানিযোগ্য পোশাক। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে ২৪ মামলা। চট্টগ্রামে ছয় মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগও করেছেন সাঈদ। সম্প্রতি বেরিয়ে এসে আবারও সেই পুরনো পেশার নেতৃত্বে বসেন। এবার চক্রের ছয় সহযোগীকে নিয়ে ধরা পড়লেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দাদের জালে। সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার এ তথ্য জানান।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবহনে যুক্ত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের যোগসাজশে গার্মেন্টস পণ্য চুরি করছিল সংঘবদ্ধ চোরাই চক্রটি। বিশ্বে লিডিং রপ্তানিকারক বাংলাদেশের গার্মেন্টসশিল্পকে ঘিরে এই চোরচক্রের কারণে সুনাম নষ্ট হচ্ছে। হাফিজ আক্তার বলেন, নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড নামে একটি গার্মেন্টসের তৈরি পোশাক রপ্তানির উদ্দেশে গত ১৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে নেওয়ার পথে ১৭ হাজার ১৫২ পিস চুরি হয়।
ওই ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা হয়। এর পর গার্মেন্টস পণ্য চুরির সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা সিলেটি সাঈদসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও বিভাগের গোয়েন্দাদের একটি টিম। গত শুক্রবার থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা ও কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- সাঈদের সহযোগী রাজ্জাক, ইউসুফ, মাইনুল, আল আমিন, দুলাল হোসেন ও খায়রুল। এ সময় তাদের কাছ থেকে চার হাজার ৭০৫ পিস তৈরি পোশাকসহ দুটি কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়।
হাফিজ আক্তার আরও বলেন, জয়ন্তী নিটওয়্যার লিমিটেড নামে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক একটি প্রতিষ্ঠান ২৮ হাজার ৮২০ পিস পণ্য শিপমেন্ট করতে গত ১১ মে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে পাঠায়। বিদেশে মালামাল পৌঁছার পর জানা যায়, ওই শিপমেন্টে ১১ হাজার পণ্য কম। এ জন্য বিদেশি বায়ার সেই প্রতিষ্ঠানটিকে ২৮ হাজার ৯০৮ ডলার জরিমানা করে। পরে ওই ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা করে গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইমরান মোবারক ও ইব্রাহিম নামে তিনজনকে প্রথমে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
অন্যদিকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড নামক গার্মেন্টস এক হাজার ৪৩১ কার্টনে করে মোট ১৭ হাজার ১৫২ পিস তৈরি পোশাক রপ্তানির উদ্দেশে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে যায়। শিপমেন্টের সময় গণনায় পাঁচ হাজার পিস পোশাক কম পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা হয়। তেজগাঁও জোনাল টিম তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে উত্তরা এলাকা থেকে চোরাই গার্মেন্টস মালামাল ও একটি কাভার্ডভ্যানসহ রাজ্জাক, ইউসুফ, খায়রুল ও মাইনুলকে গ্রেপ্তার করে।
তাদের তথ্যমতে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার নিমসার এলাকা থেকে চোরাই গার্মেন্টস পণ্য ও একটি কাভার্ডভ্যানসহ আল আমিন ও দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যমতে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের মূলহোতা সিলেটি সাঈদকে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সাঈদ তার নিজস্ব যানবাহনে এসব পণ্য চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন পরিকল্পনা সাজাতেন।
ইভ্যালির রাসেল ফের একদিনের রিমান্ডে, শামীমা কারাগারে
গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ধানমণ্ডি থানার মামলায় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেলকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত
তবে তার স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম হাসিবুল হক মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
রাসেল ও শামীমার পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলেও বিচারক তাতে সাড়া দেননি।
গুলশান থানার প্রতারণার মামলায় তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এদিন রাসেল ও শামীমাকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। তাদের দুজনকেই ধানমণ্ডি থানার মামলায় সাত দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন এসাই নাজমুল হুদা। অন্যদিকে দুই আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা।
রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড আবেদনের শুনানি করেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি সাজ্জাদুল হক শিহাব ও তাপস পাল। অন্যদিকে দুই আসামির পক্ষে আইনজীবী ব্যরিস্টার এম মনিরুজ্জামান আসাদ রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন শুনানি করেন।
শুনানি শেষে বিচারক রাসেলকে এক দিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দিলেও শামীমাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরিফ বাকের নামে এক গ্রাহক গত ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করার পর সেদিনই মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব।
পরদিন পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করলে ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে ওই দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
রাসেল ও শামীমা রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ধানমণ্ডি থানায় তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন কামরুল ইসলাম চকদার নামের এক গ্রাহক। সেই মামলাতেই মঙ্গলবার রাসেলকে নতুন করে রিমান্ডে পাঠাল আদালত।
এ মামলার এজাহারে বলা হয়, চুক্তির মাধ্যমে বাদীর চারটি কোম্পানি থেকে ইভ্যালিকে মোট ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার পণ্য সরবরাহ করা হলেও দাম পরিশোধ করা হয়নি। এসব পণ্যের দাম বাবদ ইভ্যালি চেক দিলেও অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা দুই বার ফেরত আসে।
এদিকে রাসেল ও তার স্ত্রীর মুক্তিসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকার হাকিম আদালতের সামনে মানববন্ধন করেছে একদল লোক, যারা নিজেদের ইভ্যালির গ্রাহক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ই-কমার্স মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে এ মানববন্ধন শুরু করেন তারা। পরে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয়। বিডি নিউজ।
বিচারপতির প্রশংসা করায়, ডা. জাফরুল্লাহর রিটের শুনানিতে অপারগতা
মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দায়ের করা এক রিট মামলা শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ অপারগতা প্রকাশ করেন।
আদালতে এদিন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম শুনানি করেন। পরে তিনি বলেন, ‘আগে গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজে ১১০ শিক্ষার্থীর ভর্তির অনুমতি ছিল। ২০২১ সালে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, ৫০ শিক্ষার্থীর বেশি ভর্তি করা যাবে না। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছিলাম। তখন মাত্র ১০ জন বাড়ানো হয়। অর্থাৎ ১১০ জনের জায়গায় ৬০ জনকে ভর্তির অনুমতি দেয়া হয়।’
ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আমরা হাইকোর্টে রিট করি। যা বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে রিট মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। তখন আদালত বলেন, “যেহেতু জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেব আমাদের বেঞ্চের প্রশংসা করেছেন। তাই এ রিট মামলা অন্য বেঞ্চে হওয়াই ভালো। যদি আমাদের বেঞ্চ থেকে একটি অর্ডার হয়, তাহলে অন্য কেউ বিরূপ মন্তব্য করতে পারেন। তাই আপনারা রিটটি অন্য বেঞ্চে শুনানি করেন’।”
গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের প্রশংসা করেন। জাফরুল্লাহ বলেন, ‘সম্প্রতি একটি খুনের মামলায় দুই বিচারপতি বাংলাতে রায় দিয়েছেন। তাদের অভিনন্দন। একইভাবে যখন পরীমনিকে হয়রানি করা হচ্ছিল, তারা (দুই বিচারপতি) প্রতিকারের চেষ্টা করেছেন। আমাদের যে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুণী ও সজ্জন বিচারপতি হলেন বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম। সবচেয়ে খারাপ হচ্ছেন এ বি এম খায়রুল হক।’
এ বি এম খায়রুল হকের উদ্দেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি আরও বলেন, ‘এ বি এম খায়রুল হক এক রায় লিখলেন তিন মাস পর, আবার বদলালেন। আপনারা, বিচারপতিরা সুয়োমটো করে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে এনে তাকে দাঁড় করান। গণতন্ত্র হত্যার মূল নায়ক এ বি এম খায়রুল হক।’
বিচারপতি ইনায়েতুর রহিমের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি তো জানেন, খুনের আসামিরও জামিন হয়। আপনি যেখানে বসে আছেন, সেখানে রায় হয়। এক রিকশাওয়ালা তার স্ত্রীকে হত্যা করেছিল, নিম্ন আদালতে তার ফাঁসির রায় হয়। যা সব আদালতেই বহাল থাকে। তবে মৃত্যুদণ্ডের আগ পর্যন্ত তিনি জামিনে ছিলেন। এ উদাহরণ তো আপনারাই তৈরি করেছিলেন। তাহলে খালেদা জিয়ার কেন জামিন হবে না?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক মালেকের ৩০ বছর কারাদণ্ড
দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল টাকার মালিক হওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আব্দুল মালেককে অস্ত্র আইনের মামলার দুটি ধারায় ১৫ বছর কনে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগরের ৪ নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনালের বিচারক রবিউল আলম সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।
দুটি ধারায় মালেককে ১৫ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলেও দুই ধারার সাজা একত্রে চলবে বলে তাকে ১৫ বছরই কারাগারে কাটাতে হবে।
বিচারক তার রায় পড়া শেষ করেন মাত্র পাঁচ মিনিটে।
প্রতিক্রিয়া
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ ট্রাইব্যুনালের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সালাহউদ্দিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, “আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি।”
অন্যদিকে মালেকের আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম অনি রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা এই রায়ের মধ্যে দিয়ে ন্যায় থেকে বঞ্চিত হয়েছি।… এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।”
বিচারক সাজা ঘোষণার পর মালেক বলতে থাকেন, “আমাকে মিথ্যাভাবে অস্ত্র ও গুলি দিয়ে ধরা হয়েছে। আমি নির্দোষ, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। র্যাব যখন বাসায় এল, তখন কিছুই পায় নাই। পরে এসব অস্ত্র-গুলি কোথা থেকে এলো?”
“মালেকের স্ত্রী এজলাসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। মালেকের বোন চিৎকার করে বলতে থাকেন, “মিথ্যা মামলায় আমার ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে, আমি আমার ভাইকে না নিয়ে বাসায় যাব না।”
মালেকের ছেলে বলেন, “আমার বাবার নাকি এত টাকা, কোথায় গেলো এসব টাকা? একশ দুইশ কোটি টাকা নাকি আমার বাপের, কোথায় গেল?”
মালেকের স্বজনরা এজলাসের বাইরে এভাবে চিৎকার করে বিলাপ করতে থাকলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এক পর্যায়ে তাদের মহানগর আদালতের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামিয়ে নিয়ে যান।
মামলা বৃত্তান্তঃ
অবৈধ অস্ত্র, জাল নোটের কারবার ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতবছর ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার তুরাগ থানার কামারপাড়া এলাকার বাসা থেকে গাড়িচালক মালেককে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
সে সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি টাকার জাল নোট উদ্ধারের কথা জানানো হয়।
সে ঘটনায় র্যাব-১ এর পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। এরপর মালেককে ১৪ দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
এর মধ্যে অস্ত্র মামলায় গত ১১ জানুয়ারি মালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব -১ এর এসআই মেহেদী হাসান চৌধুরী। আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আদালত গত ১১ মার্চ এ মামলার বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়ি চালক আব্দুল মালেক ওরফে বাদল ‘খুবই প্রভাবশালী’। তিনি বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মচারী সমিতির সভাপতি হিসেবে প্রায় ২০-২৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
কর্মস্থলে সাংগঠনিক পদবি কাজে লাগিয়ে তিনি ‘বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থের’ মালিক হয়েছেন এবং তিনি ‘জাল টাকার কারবারও’ করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার ১ নম্বর মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ১৩ জন সাক্ষীর সবাই আদালতে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেন।
এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলার অবশিষ্ট অংশ বিচারের জন্য ৪ নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনালে পাঠানো হয়। সেখানে ৯ সেপ্টেম্বরে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন আসামি মালেক।
১৩ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।
মালেকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের আরেকটি মামলা রয়েছে বলে তার আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম অনি জানিয়েছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ঢাকার রাজারবাগ পীরের সম্পদ তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের
ঢাকার রাজারবাগ দরবার শরিফ ও এর পীর দিল্লুর রহমানের সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে দরবার শরিফ বা পীরের অনুসারীদের কোনো অংশ জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে। দুটি তদন্তই ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
পীর দিল্লুর রহমানের অনুসারীদের করা মানবপাচারসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় নাকাল আট ভুক্তভোগীর রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন।
এর আগে, রাজারবাগ দরবার শরিফ ও পীর দিল্লুর রহমানের সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে গত বৃহস্পতিবার রিট আবেদনটি করেছিলেন আট ব্যক্তি। তারা হলেন- মো. আব্দুল কাদের, মাহবুবুর রহমান খোকন, ফজলুল করিম, জয়নাল আবেদিন, মো. আলাউদ্দিন, জিন্নাত আলী, আইয়ুবুর হাসান শামীম, নাজমা আক্তার ও নারগিস আক্তার।
তাদের অভিযোগ, পীর দিল্লুর রহমানের অনুসারীরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ ফৌজদারি মামলা করে হয়রানি করছে। এসব মামলা কারা করেছে, তাদের চিহ্নিত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদনটিও ৬০ দিনের মধ্যে দিতে বলেছেন আদালত। এ ছাড়া হয়রানি, অপদস্ত করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফৌজদারি মামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (বিশেষ শাখা), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপরাধ তদন্ত বিভাগ), ঢাকার জেলা প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ মহাপরিদর্শক, গোয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, রাজারবাগ দরবার শরীফের পীর দিল্লুর রহমান ও মামলাগুলোর বাদীসহ ২০ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্দেশনা ও রুল জারির পাশাপাশি আদলত রিট আবেদনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বলেছেন।’
পীর দিল্লুর রহমানের অনুসারী চক্রের অস্তিত্বহীন বাদীর মামলা চ্যালেঞ্জ করে গত ৭ জুন হাই কোর্টে রিট করেছিলেন ঢাকার শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চন। সেই আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর হাই কোর্ট এসব ‘অস্তিত্বহীন’ মামলার বাদীকে খুঁজে বের করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্দেশ অনুযয়ী সিআইডি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দিলে গত ৬ সেপ্টেম্বর সেটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
সে প্রতিবেদনে শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপ, মানবপাচারের মতো নানা অভিযোগ উঠে আসে। ওই প্রতিবেদন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম সেদিন বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে পীর সাহেবের কাণ্ড দেখেন! জায়গা জমি দখলের জন্য পীর সাহেব কী করেছেন দেখেন! সম্পত্তির জন্য তথাকথিত মুরিদ দিয়ে মামলা করিয়েছেন। পীর সাহেবের কেরামতি দেখেন!’
গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার ও স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদকের নোটিস
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খুজিস্তা আক্তার বানুর সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার এই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদেক জানিয়েছেন।
দুদক সূত্র জানিয়েছে প্রাথমিক অনুসন্ধানে কয়েক কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়ে তাদেরকে সম্পদের হিসাব জমা দিতে বলা হয়েছে। তাদেরকে আগামী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্দিষ্ট ছকে সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার ও তার স্ত্রী বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানে ‘অঢেল সম্পদ’ অর্জনের সত্যতা পাওয়ায় এই নোটিস দেয়া হয় বলে দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সূত্রটি জানিয়েছে , জেলা রেজিষ্ট্রার অহিদুল ইসলামের ঢাকা শহরে কয়েকটি ফ্ল্যাট, জায়গা জমি, নামে বেনামে ব্যবসা, ব্যাংকে বুপুল পরিমান অর্থের সন্ধান পেয়েছে দুদক।
অহিদুল ইসলামকে পাঠানো নোটিসে বলা হয়, “প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান করে কমিশনের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, আপনি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত স্বনামে/বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ/সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তাই নোটিস পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে হবে।” দুদক সূত্র জানিয়েছে ঢাকার জেলা রেজিষ্ট্রারসহ আরও কয়েকজন সাব রেজিষ্ট্রারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। তাদেরও সম্পদের হিসাব দাখিলের জন্য নোটিস দেয়া হবে।










