ঢাকা   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩   রাত ৯:০৬ 

Home Blog Page 75

কক্সবাজারে সংরক্ষিত বনভূমিতে প্রশিক্ষণ একাডেমি বাতিলের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

0

সমুদ্র সৈকতের পাশে কক্সবাজারের দরিয়া নগরে ৭০০ একরের বেশি সংরক্ষিত বনভূমি উজার করে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি।
রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
সংসদীয় কমিটি বলেছে, কক্সবাজারের সরক্ষিত বিপুল বনভূমি কীভাবে প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলো তা খতিয়ে দেখা হবে।
বন অধিদপ্তরও বলছে, বনভূমির মধ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, “আমরা যেখানে বেদখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার করছি, সেখানে সরকারের আরেকটি সংস্থা জমি যদি নিয়ে নেয়, এটা তো ঠিক নয়।”
তিনি আরও বলেন, “জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে আমরা সমর্থন করি। তবে ওই জায়গায় এটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমাদের বিধি-নিয়ম এমনকি এটা সংবিধান পরিপন্থি। এটা অন্য জায়গায় হোক।”
সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণ করতে সংরক্ষিত কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ঝিলংজা বনভূমির ৭০০ একর জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার খবর বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়। এলাকাটি প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন।
২০১৮ সালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বঙ্গবন্ধু একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নির্মাণের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে অনাপত্তিপত্র চায়; সংস্থাটি ওই বছরই বিভিন্ন শর্তে অনাপত্তিপত্র দেয়।
ওই এলাকাকে ১৯৩৫ সালে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯৮০ সালে এটাকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা ঘোষণা হয়। ২০০১ সালে দেশের বনভূমির যে তালিকা করা হয়, তাতেও ঝিলংজা মৌজা বনভূমি হিসেবে আছে।
সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই জমিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন প্রকল্পের আওতায় সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে ১০০ একর সৃজিত বাগান রয়েছে; ২০-২০০ ফুট পর্যন্ত বিভিন্ন উচ্চতার পাহাড় রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো, গর্জন, চাপালিশ, তেলসুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। ওই এলাকা হাতি, বানর, বন্য শুকর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখির আবাসস্থল।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই এলাকায় প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এ বনভূমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা নিষেধ। তারপরও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই জমি বরাদ্দ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে।
সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, “আমরা বোঝার চেষ্টা করছি এটা কীভাবে হলো। যদি কেবল জমির দাগ ও খতিয়ান দেয়া হয় এবং ভূমির আকার ও প্রকৃত বর্ণনা না করেন, সেটা হতে পারে কী না। আমরা মনে করি সেটাই হয়েছে। এটা আমরা দেখবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে যে অনুমতি এসেছে, সেই দপ্তরও হয়তো এই বিষয়টি পুরোপুরি জানে না।”
তিনি বলেন, “এই জমির বিষয় আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সংরক্ষিত বন হিসেবে এই জমির মালিক জেলা প্রশাসন। আর এ জমি কোনো অবস্থাতেই বন্দোবস্তযোগ্য নয় বলে রিমার্ক থাকে। অর্থাৎ এই জমি কোনো অবস্থাতেই বন্দোবস্ত দেয়া যাবে না। কাজেই এই জমি বন্দোবস্ত দেয়ার সুযোগ নেই।”
ওই প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি এসেছে জানিয়ে সভাপতি বলেন, “আমরা সেই চূড়ান্ত অনুমতি না দিতে বলেছি। পাশাপাশি সঠিক তথ্য তুলে ধরতে বলেছি। আমরা চাই বিষয়টি যেন পুনর্বিবেচনা করা হয়।”
বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভূমি মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠাবে বলে তিনি জানান।
বনভূমির ওই জমি বরাদ্দ দেয়া ‘বিধিসম্মত’ হয়নি উল্লেখ করে সাবের হোসেন বলেন, “যেহেতু বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখন তারা প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র চেয়েছে। আমরা এটা না দিতে বলেছি। পরিবেশমন্ত্রীও আমাদের সাথে একমত।”
বনবিভাগ থেকে আগেই আপত্তি দেয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটা ছাড়পত্র দেয়া হয়েছিল। তবে তারা জানতো না জমির ধরন কী। তাদের কাছে হয়তো দাগ ও খতিয়ান নম্বর দেয়া হয়েছে।”
পরে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কক্সবাজারে ওই বনাঞ্চলের ৭০০ একর জায়গায় জনপ্রশাসন একাডেমি নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে পর্যালোচনা করার সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া কমিটি ২০২১-২০২২ অর্থ-বছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার সুপারিশ করে।
সাবের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি সদস্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল জয়, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এবং মো. শাহীন চাকলাদার বৈঠকে অংশ নেন। বিডি নিউজ।

শেয়ার বাজারে নুতন আইন, আইপিওতে ১০ হাজার টাকার বেশি আবেদন করা যাবে না, ওটিসি বাতিল

0

শেয়ারবাজারে আইপিওতে আবেদনে ফের নিয়ম পাল্টানো হয়েছে। এখন থেকে নতুন আসা আইপিওতে (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১০ হাজার টাকার বেশি শেয়ারের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। চাঁদা গ্রহণের অপেক্ষায় থাকা সেনাকল্যাণ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির আইপিওর মধ্য দিয়ে নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। কোম্পানিটির আইপিওর সম্মতিপত্রে (কনসেন্ট লেটার) বিষয়টি উল্লেখ করে দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বর্তমানে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী আইপিও সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার সমপরিমাণ শেয়ারের জন্য আবেদন করতে পারেন। ফলে আবেদনকারীদের মধ্যে আইপিও শেয়ারপ্রাপ্তিতে কমবেশি হয়। শেয়ারপ্রাপ্তির এ ব্যবধান কমিয়ে আনতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আইপিওতে আবেদন ১০ হাজার টাকায় নির্দিষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। ফলে আবেদনকারী সব বিনিয়োগকারী আইপিওতে সমানসংখ্যক শেয়ার পাবেন।

জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে আইপিওতে বেশি শেয়ার পান, সে জন্য এ বিধান করা হয়েছে। ফলে কেউ চাইলে বেশি টাকার আবেদন করতে পারবেন না, বেশি শেয়ারও পাবেন না। নতুন এ শর্ত কোম্পানিগুলোর আইপিওর সম্মতিপত্রে উল্লেখ করে দেয়া হবে। এরই মধ্যে সেনাকল্যাণ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির আইপিওর সম্মতিপত্রে এ শর্ত যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, সেনাকল্যাণ ইনস্যুরেন্সের আইপিওর চাঁদা গ্রহণ শুরু হবে আগামী ৩ অক্টোবর। আইপিওতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালুতে বিক্রি হবে। কোম্পানিটি ১ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।

এদিকে গত এপ্রিল থেকে শেয়ারবাজারে আইপিওর ক্ষেত্রে লটারি প্রথা তুলে দিয়েছে বিএসইসি। লটারি পদ্ধতির বদলে আবেদনকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এত দিন একজন বিনিয়োগকারী ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা বা তার গুণিতক পরিমাণ হিসাবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার শেয়ারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এখন গুণিতকের বদলে ১০ হাজার টাকা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে
আইপিও আবেদনের নতুন বিধান অনুযায়ী, আইপিওতে আবেদনের আগে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর বা আবেদনকারীর বাজারমূল্যে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা সেকেন্ডারি বাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থাকতে হবে।
ওটিসি বাতিল:
শেয়ারবাজার থেকে ওটিসি (ওভার দ্য কাউন্টার) প্ল্যাটফর্মকে অকার্যকর করা হয়েছে। ওটিসি বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪১টিকে এসএমই প্ল্যাটফর্ম ও বিকল্প লেনদেন (অলটারনেটিভ ট্রেডিং) বোর্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। আর বাকি ২৯টিকে বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে আগামী রোববার থেকে ওটিসি বাজারে কোনো কোম্পানির লেনদেন হবে না। এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে বিএসইসি। আদেশে বলা হয়েছে, ওটিসি বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৩টিকে এসএমই প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ২৩ কোম্পানির মধ্যে ৭টি উৎপাদনে রয়েছে, বাকি ১৬টির উৎপাদন বন্ধ। এ ছাড়া ওটিসিতে তালিকাভুক্ত ১৮টি কোম্পানিকে অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড বা বিকল্প লেনদেন বোর্ডে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি ২৯টিকে নিয়ম অনুযায়ী তালিকাচ্যুত করা হবে। এর ফলে ওটিসি বাজারে লেনদেনযোগ্য আর কোনো কোম্পানি থাকবে না। ফলে ওটিসি বাজারটি অকার্যকরই হয়ে পড়বে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিনিয়োগকারীদের রক্ষার্থে পুঁজিবাজার থেকে ওটিসি মার্কেট আউট করে দিচ্ছি। এ মার্কেটটিতে খারাপ খারাপ কোম্পানিগুলো অবস্থান করছে। যেসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেবে না, উৎপাদনে যাবে না এগুলোকে একেবারে মার্কেট থেকে আউট করে দেব। বিনিয়োগকারীদের পাওনা মিটিয়ে দিয়ে কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করে দেব। যেসব কোম্পানি উৎপাদনে যাবে, তাদের আগামী এক মাসের মধ্যে এটিবি ও এসএমই বোর্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সহিংসতায় জড়িত হেফাজত নেতা গ্রেফতার

0

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে হেফাজত নেতা মুফতি রেজওয়ান রফিকীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, মতিঝিল, পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় তাঁর উসকানি ছিল। সম্প্রতি সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা, মিথ্যা তথ্য প্রচার ও উসকানি দিচ্ছিলেন। এ কারণে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিবি জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর কেন্দ্র করে ঢাকায় যে সহিংসতা হয়েছিল, ওই ঘটনায় মুফতি রেজওয়ান রফিকীর সম্পৃক্ততা ছিল। এ ঘটনায় গত ৮ এপ্রিল করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। ওই সহিংসতায় তিনি উসকানি দেয়ার পাশাপাশি সরাসরি অংশ নেন।

মিয়ানমারের সু কি’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, হতে পারে ২০ বছরের জেল

0

মিয়ানমারে গণতন্ত্রকামীদের উপর ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছে সেনাবাহিনী। এবার নেত্রী আং সান সু কি’র বিরুদ্ধে আরও এক দুর্নীতির মামলা রুজু করল দেশটির সামরিক প্রশাসন। শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন সু কি-র আইনজীবী।
সংবাদ সংস্থা এএফপি সূত্রে খবর, সু কি-র বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা চলছে। এবার ফের একটি নতুন মামলা শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমরের সরকারি সংবাদমাধ্যম। গত জুন মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছিল, রাজধানী নিপোডোর একটি থানায় সু কি’র বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তাঁর দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’র আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে। অভিযোগ, একটি দাতব্য সংস্থার জমি নয়ছয় করেছেন সু কি ও তাঁর সঙ্গীরা। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বলে রাখা ভাল, ২০১২ সালে নিজের মায়ের নামে এই সংস্থাটি তৈরি করেছিলেন দেশটিতে গণতন্ত্রের প্রধান মুখ আং সান সু কি।
উল্লেখ্য, ১ ফেব্রুয়ারি আচমকাই মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সেনা। পতন হয় নির্বাচিত সরকারের। তারপর থেকেই সেনার নির্দেশে গৃহবন্দি মিয়ানমারের নেত্রী আং সান সু কি । তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আর্থিক দুর্নীতি, ভোটে কারচুপি এমনকী ভোটপ্রচারে করোনাবিধি ভাঙারও অভিযোগ রয়েছে নোবেলজয়ী এই নেত্রীর বিরুদ্ধে।
ক্যু-এর প্রায় চার মাস পর গত মে মাসে প্রথমবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়। সেখান থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন তিনি। গত বছর বিরোধীদের পরাজিত করে ক্ষমতা দখল করে সু কি’র দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’। মিয়ানমার সংসদের নিম্নকক্ষের ৪২৫টি আসনের মধ্যে ৩৪৬টিতে জয়ী হয় তারা। কিন্তু, রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে বিগত দিনে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় সু কি সরকারের। তারপর অভ্যুত্থান পালটে দেয় গোটা চিত্র।

ইভ্যালির রাসেল ও শামীমা ৩ দিনের রিমান্ডে

0

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত শুক্রবার এ আদেশ দেন। এমডির পাশাপাশি রাসেল ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদেও আছেন। আর তাঁর স্ত্রী শামীমা ইভ্যালির চেয়ারম্যান।
বেলা দুইটার দিকে রাসেল ও শামীমাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাসেল ও শামীমাকে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল পুলিশ।
আদালত উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে রাসেল ও শামীমাকে তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমাকে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।
র‍্যাব সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন শেষে শুক্রবার রাসেল ও শামীমাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গত বুধবার গভীর রাতে আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন।
র‍্যাব জানায়, ইভ্যালির কারসাজির মূল হোতা রাসেল। স্ত্রী শামীমা তাঁর অন্যতম সহযোগী। গ্রেপ্তারের পর কোম্পানির দায় ও দেনা সম্পর্কে তাঁদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানিয়েছেন, গ্রাহক ও পণ্য সরবরাহকারীদের কাছে ইভ্যালির দেনা বেড়ে এক হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।
র‍্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানান, গত ফেব্রুয়ারিতেও এই দেনার পরিমাণ ছিল ৪০৩ কোটি টাকা। গ্রাহকের টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি রাসেল। সর্বশেষ দায় মেটাতে ব্যর্থ হলে ইভ্যালিকে দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

ঢাকায় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার অপতৎপরতা, দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত

0

আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশ গুলোতে তাদের অপতৎপরতা বাড়িয়েছে। তালেবানকে ক্ষমতায় আনার পেছনে সাহায্য সহযোগিতা করেছে আইএসআই। এখন তারা টার্গেট নিচ্ছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের আগামি নির্বাচনকে সামনে রেখে জঙ্গীসংগঠনগুলোকে মাঠে নামানোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের খবর। হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তানী মানসিকতার লোকজনকে নিয়ে গ্রুপ করে তারা মতবিনিময় ও বার্তা আদান প্রদান করছে। এসব গ্রুপে বর্তমান সরকার বিরোধী লোকজন সংযুক্ত রয়েছেন। বিপুল পরিমান অর্থ খরচ করা হচ্ছে এর পেছনে,যার যোগান দিচ্ছে ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন। বৃহস্পতিবার দেশের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’তে এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, মাঝখানে কয়েক বছর বিরতির পর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ঢাকায় আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে সরকারি সংস্থাগুলো মনে করছে। বিশেষ করে জঙ্গি–সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২০১৫ সালে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে দ্বিতীয় সচিব ফারিনা আরশাদ এবং ২০১৬ সালেজঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে লেনদেনের সময় আটক ভিসা কর্মকর্তা মাযহার খানকে প্রত্যাহারের পর আইএসআই নিজেদের লাগাম টেনে ধরেছিল। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় সারা বিশ্ব যখন ভুল তথ্য ও ভুল খবরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আছে, ঠিক এমন একটা সময়ে আইএসআই এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগাতে তৎপর হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মতো আইএসআই এবার ঢাকায় বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে।
স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরফান রাজাই একমাত্র কূটনীতিক, যাঁকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে ২০০০ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের তখনকার উপহাইকমিশনার ইরফান রাজা ঢাকায় বসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গর্হিত মন্তব্য করেন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পরিবর্তে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপান। একাত্তরের গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিরোধিতা করে ইরফান রাজা সে সময় বলেছিলেন, ‘১৯৭১–এ পাকিস্তানের অর্ধেকটা হারানোর জন্য কি আমাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত?’ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শিষ্টাচারবর্জিত ওই মন্তব্যের জের ধরে ইরফান রাজাকে বাংলাদেশ অবাঞ্ছিত (পারসোনা নন গ্রাটা) ঘোষণা করে। সাধারণত কোনো কূটনীতিককে তাঁর কর্মস্থলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলে তাঁর আর সে দেশে থাকার সুযোগ থাকে না। ফলে বাংলাদেশ ইরফান রাজাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে দ্রুত ঢাকা ছাড়ার নির্দেশ দিলে ২০০০ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি পাকিস্তানে ফিরে যেতে বাধ্য হন। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরফান রাজাই একমাত্র কূটনীতিক, যাঁকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
করোনাভাইরাসের মতো মহামারি মোকাবিলা এবং আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এ অপতৎপরতা উদ্বেগের বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। কারণ, কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তারের ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তালেবানের উত্থান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা। আর ঐতিহাসিকভাবে তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তান সরকার এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) যোগসাজশের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত।
পররাষ্ট্রবিষয়ক মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) গত মাসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাধারণত পাকিস্তানের সরকার এবং সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে তালেবানের বিজয়কে সমর্থন করে। তবে তালেবানের প্রতি পাকিস্তানের অব্যাহত এ সমর্থন ঝুঁকিপূর্ণ।
পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে নিয়ে কাবুলে আইএসআই প্রধান ফাইজ হামিদ। তাঁর এই ছবি টুইট করে আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ
নিউইয়র্কভিত্তিক সিএফআরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তালেবানের আর্থিক এবং রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় উৎস হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তালেবানকে অর্থ, প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্রের জোগান দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা (আইএসআই)। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে আইএসআইয়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। আবার এ হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে তালেবান। পাকিস্তানে তালেবানের মালিকানাধীন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছ থেকে তালেবান বিপুল অঙ্কের চাঁদা নিয়ে থাকে।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করেছে। মূলত আইএসআই নেপথ্যে থেকে ওই গ্রুপের মাধ্যমে ধর্মকে পুঁজি করে প্রতিনিয়ত নানা প্রচারণা চালাচ্ছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাটি কিছু স্বার্থ পূরণের উদ্দেশ্যে ভুল তথ্যের পাশাপাশি বানোয়াট তথ্য প্রচার করছে।
আইএসআইয়ের এ ধরনের কর্মকাণ্ড নতুন নয়। সম্প্রতি কানাডায় আইএসআই বেলুচিস্তানের মানবাধিকারকর্মীদের নিয়ে এ ধরনের অপকর্ম চালিয়েছে। নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আইএসআই এ ধরনের তৎপরতা চালিয়ে থাকে, সেটা বাংলাদেশের অজানা নয়। অতীতেও আইএসআই বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে প্রতিবেশী একটি দেশের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর অপচেষ্টা করেছিল। তবে ২০১৫ সালে ফারিনা আরশাদ এবং ২০১৬ সালে মাযহার খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থানের পর তাদের তৎপরতা কিছুটা কমেছিল।
গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় ইসলামপন্থী বিক্ষোভে মদদ ও সংগঠিত করার সঙ্গে পাকিস্তানের নাম জড়িয়ে পড়ার কথা শোনা যায়। সন্ত্রাসী ও নৈরাজ্যবাদীদের যোগসাজশে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা চালানো হয়। ওই নাশকতায় পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রচার রয়েছে। নাশকতার ওই ঘটনার তদন্তে হেফাজতে ইসলামের একাধিক নেতার সঙ্গে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলোর ঘনিষ্ঠ যোগসাজশের অভিযোগ এসেছে।
ঢাকার বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইএসআই তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্যের ওপর বিশেষভাবে পুঁজি করছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নানা ধরনের ভুল তথ্য, খবর এবং অপপ্রচার সঠিক তথ্যের চেয়ে অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
গত বছর মধ্যপ্রাচ্যে আইএসআইয়ের এ ধরনের প্রোপাগান্ডা চালানোর বিষয়টির তথ্য জানা যায়। এরপরই টুইটারের একটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে দেখা গেছে, ভারতের বিরুদ্ধে আইএসআইয়ের হয়ে টুইটারের অ্যাকাউন্টটি চালানো হতো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মতো নতুন এক মহামারি মোকাবিলায় সারা বিশ্ব যখন হিমশিম খাচ্ছে, এমন এক পর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইএসআইয়ের এ ধরনের তৎপরতা উদ্বেগের। সম্মিলিতভাবে মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় যেকোনো ধরনের ভুল তথ্য, মিথ্যা তথ্যের প্রচার বন্ধুদেশগুলো মধ্যে দূরত্ব ও বিভাজন তৈরি করতে পারে, যা চূড়ান্তভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মঙ্গলজনক নয়।

পদত্যাগে বাধ্য ব্যাংকারদের চাকরিতে ফেরাতে নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

0

ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে, তাদের বিধিমোতাবেক চাকরিতে বহালের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকলে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না। পাশাপাশি করোনাকালীন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা বা অদক্ষতার কারণে চাকরিচ্যুত বা পদত্যাগে বাধ্য করা যাবে না বলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়।
সম্প্রতি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর ফজল কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংক কর্তৃক ইচ্ছামাফিক ঢালাওভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাঁটাই বন্ধ করতে বেশ আগে নির্দেশনা দেয়া হয়। পাশাপাশি করোনার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকতর উজ্জীবিত হয়ে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
কিন্তু সম্প্রতি কিছুসংখ্যক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ পাওয়া গেছে, সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও করেনাকালীন শুধু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না করা বা অদক্ষতার অজুহাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে এবং চাকরি থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদত্যাগ করার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে না, যা নির্দেশনার পরিপন্থী।
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় এবং সংকটময় পরিস্থিতিতে কর্মস্পৃহা অটুট রাখার স্বার্থে তিনটি নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নির্দেশনা তিনটি হলো-
১. সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত না করা।
২. করোনাকালীন শুধু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা বা অদক্ষতার কারণ প্রদর্শন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত অথবা পদত্যাগ করতে বাধ্য না করা।
৩. পয়লা এপ্রিল ২০২০ তারিখ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখ পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও চাকরিচ্যুত হয়েছেন কিংবা চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের (আবেদনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে) বিধিমোতাবেক চাকরিতে বহাল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমা গ্রেফতার

0

ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেলকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। রাসেলের স্ত্রী শামীমা নাসরিন ইভ্যালির চেয়ারম্যান।
র‍্যাবের একটি দল বিকেল থেকে রাসেলের মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান শুরু করে । গ্রেফতারের পর রাসেল ও তাঁর স্ত্রীকে র‌্যাবের সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতারণার অভিযোগে বুধবার গভীর রাতে আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক গুলশান থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এজাহারের বরাত দিয়ে গুলশান থানার পুলিশ জানায়, গ্রাহক আরিফ বাকের ও তাঁর বন্ধুরা ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে কিছু পণ্যের অর্ডার দেন। গত ২৯ মে থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত আরেফ বাকের বিভিন্ন সময় পণ্যের মূল্য বাবদ ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকা অনলাইন ব্যাংকিং ও একটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। পণ্য ৭ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে দিতে ব্যর্থ হলে সম্পূর্ণ টাকা ফেরতের অঙ্গীকার করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। সবশেষ ৫ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির গ্রাহকসেবা শাখায় (কাস্টমার কেয়ার সেন্টার) যোগাযোগ করে পণ্য পেতে ব্যর্থ হন। এর আগে যতবার যোগাযোগ করা হয়, ততবারই তারা দেব-দিচ্ছি বলে টালবাহানা করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর বাকেরসহ তিনজন ধানমন্ডির ১৪ নম্বর রোডে ইভ্যালির অফিসে যান ও প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাঁরা বাধার শিকার হন। পরে বাকের বন্ধুদের নিয়ে ইভ্যালির অফিসে প্রতিনিধিদের সঙ্গে পণ্যের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাঁরা চিৎকার-চেঁচামেচি করেন।
একপর্যায়ে অফিসের ভেতর থেকে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল তাঁকে ভয়ভীতি দেখান ও তাঁদের টাকা দিতে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তিনি তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। তখন ইভ্যালির চেয়ারম্যান সেখানে উপস্থিত হয়ে পণ্য অথবা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। তিনিও তাঁদের ভয়ভীতি, হুমকি দেওয়াসহ চরম দুর্ব্যবহার করেন।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ইভ্যালি পণ্য বিক্রির নামে নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাঁর মতো অসংখ্য গ্রাহকের ৭০০-৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সাড়ে ১২ কোটি টাকার পাচারের সময় শাহজালালে একজন গ্রেফতার

0

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে গার্মেন্টস পণ্য ঘোষিত একটি বাক্স থেকে প্রায় ৫৪ লাখ ৭৫ হাজার সৌদি রিয়াল ও ২০ হাজার ২০০ সিঙ্গাপুর ডলার উদ্ধার করা হয়েছে যা বাংলাদেশি টাকায় ১২ কোটি ৫১ লাখের বেশি।
সোমবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে রপ্তানি কার্গো ভিলেজে সিকিউরিটি স্ক্যানিংয়ের সময় সিঙ্গাপুরগামী একটি কার্টন থেকে এই রিয়েল ও ডলার জব্দ করা হয়।
এভিয়েশন সিকিউরিটর (এভসেক) সদস্য গাজী কাইয়ুম রাতে রপ্তানি কার্গো ভিলেজে সিকিউরিটি স্ক্যানিংয়ের সময় সিঙ্গাপুরগামী এ কার্টন শনাক্ত করেন।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, ‘সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (এসকিউ-৪৪৭) এসব মুদ্রা বিদেশে পাচারের চেষ্টা চলছিল। কার্টনের ভেতরে রিয়ালগুলো কার্বন পেপারে মোড়ানো ছিল।’
তিনি জানান, ফ্রেইটার প্রতিষ্ঠান স্টার এক্সপ্রেস লাইনের চালান থেকে মুদ্রা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মো. হাসান আলী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে, তিনি স্টার এক্সপ্রেসের কর্মী।
প্রায় ৯ ঘণ্টা গণনা শেষে মঙ্গলবার ভোরে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক জানান, সেখানে ৫৪ লাখ ৭৫ হাজার সৌদি রিয়াল ও ২০ হাজার ২০০ সিঙ্গাপুরের ডলার ছিল। যা বাংলাদেশি ১২ কোটি ৫১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৯১ টাকার সমান।
ধারণা করা হচ্ছে পাচারের উদ্দেশ্যে বিদেশি মুদ্রাগুলো সিঙ্গাপুরে পাঠানো হচ্ছিল, তিনি যোগ করেন।

রাজধানীর কমলাপুরে ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু

0

রাজধানীর দক্ষিণ কমলাপুরে ছুরিকাঘাতে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত ১১টার দিকে দক্ষিণ কমলাপুর বাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান জানান, দক্ষিণ কমলাপুর বাজার রোড এলাকার রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল ওই যুবক। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি নিহত যুবক ওই এলাকায় ভাসমান অবস্থায় থাকত। তার সঙ্গে থাকা আরেক যুবক তাকে ছুরিকাঘাত করেছে। নিহতের পেটে, পিঠে ও হাতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে।
এসআই জানান, বিস্তারিত জানতে পুলিশ কাজ করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।